ভারতে বিমানের ইঞ্জিনে আগুন

ভারতে বিমানের ইঞ্জিনে আগুন দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করার পরেই আগুন ধরে যায় এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের ছোট ইঞ্জিনে। এয়ার ইন্ডিয়ার মুখপাত্র জানিয়েছেন, যাত্রী এবং বিমানের কর্মীরা নিরাপদেই বিমান থেকে নেমেছেন। তাঁরা সকলেই সুরক্ষিত রয়েছেন। আগুন লাগার কারণে বিমানের কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া সূত্রে জানায়, এআই৩১৫ বিমানটি আজ হংকং থেকে দিল্লিতে অবতরণ করে। তার কিছুক্ষণ পরেই বিমানটির অক্সিলিয়ারি পাওয়ার ইউনিট (এপিইউ)-তে আগুন লেগে যায়। তার পরেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। প্রযুক্তিগতভাবে সেই ব্যবস্থাই করা আছে বিমানে। যখন তাতে আগুন লাগে, তখন যাত্রীরা বিমান থেকে অবতরণ করছিলেন। এয়ার ইন্ডিয়ার মুখপাত্র জানিয়েছেন, কী ভাবে আগুন লাগল, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এপিইউ হল একটি ছোট ইঞ্জিন। বিমান যখন রানওয়ে ছুঁয়ে থাকে, তখন তাকে শক্তি জোগায় এটি। সে সময় বিমানের এসি, লাইট জ্বালাতে, প্রধান ইঞ্জিন চালু করতে শক্তির জোগান দেয় এপিইউ। গত মাসে অহমদাবাদের লোকালয়ে ভেঙে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। লন্ডনের অদূরে গ্যাটউইকে যাচ্ছিল সেটি। উড়ানের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। প্রাণ হারান বিমানে সওয়ার ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জন। ওই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬০ জন।
ট্রাম্পের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক করছে ভারত

ট্রাম্পের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক করছে ভারত পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যাহ্নভোজ ও বৈঠকের পর ভারত গোপনে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল। ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, নয়াদিল্লি এখন চীনের সাথে সম্পর্ক পুনর্গঠন করছে, যা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঝুঁকিতে ফেলছে। কয়েক দশক ধরে সমৃদ্ধ সম্পর্কের পর এই বৈঠক এবং মার্কিন-ভারত সম্পর্কের অন্যান্য উত্তেজনা বাণিজ্য আলোচনায় ছায়া ফেলেছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তার অন্যতম প্রধান অংশীদারের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করছে। U.S. তিনজন ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পাকিস্তানকে বিশেষ করে তার সামরিক প্রতিষ্ঠানকে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করার জন্য দোষারোপ করেছে ভারত। ওয়াশিংটনকে দিল্লি জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রশংসা করে ভুল সংকেত পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি একটি বেদনাদায়ক পরিস্থিতি তৈরি করেছে যা ভবিষ্যতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে। পাকিস্তান ভারতীয় লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণকারী জঙ্গিদের সমর্থন করে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নয়াদিল্লি জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ দেয়নি। গত দুই দশকে ছোটখাটো বাধা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক শক্তিশালী হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, অন্তত আংশিকভাবে উভয় দেশই চীনকে মোকাবেলা করার চেষ্টা করছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান এশিয়া প্যাসিফিক ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, “বর্তমান সমস্যাগুলো ভিন্ন। বিশেষ করে পাকিস্তানের সাথে ভারতের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর পাকিস্তানের সাথে আমেরিকা যেভাবে ঘন ঘন ও জোর দিয়ে যোগাযোগ করছে এবং ভারতীয় উদ্বেগগুলোকে বিবেচনায় নিচ্ছে না, সেই কারণে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।” দুই ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৮ জুন মুনিরের সাথে ট্রাম্পের বৈঠকের পরের দিনগুলোতে, প্রধানমন্ত্রী মোদির কার্যালয় এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কার্যালয়ের লোকজন তাদের মার্কিন প্রতিপক্ষদের কাছে প্রতিবাদ জানাতে আলাদা আলাদা ফোন করেছিলেন। একজন জ্যেষ্ঠ ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে আমাদের অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছি, যা আমাদের জন্য একটি রেডলাইর। এখন কঠিন সময় … আমাদের উদ্বেগ ট্রাম্পের বুঝতে না পারাটা সম্পর্কে কিছুটা ভাঁজ ফেলেছে।” ট্রাম্প এবং মুনির সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেছেন, যার অধীনে আমেরিকা পূর্বে ন্যাটো-বহির্ভূত মার্কিন মিত্র পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে। তারা দুজন ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক আরো জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটি নয়াদিল্লিতে উদ্বেগ জাগিয়ে তুলেছে। কারণ ভারতের ভাষ্য, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ আবারো সংঘাতে লিপ্ত হলে এবং পাকিস্তান আমেরিকা থেকে যেকোনো অস্ত্র গ্রহণ করলে তা ভারতের বিরুদ্ধে চালানো হতে পারে। ভারতীয় কর্মকর্তারা এবং একজন ভারতীয় শিল্প লবিস্ট জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রকাশ্যে দেখানো হলেও, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারত আমেরিকার বিরুদ্ধে কিছুটা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর পরিণতিতে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনাও ধীর হয়ে গেছে। জুন মাসে কানাডায় জি সেভেন বৈঠকের পর ট্রাম্পের ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন মোদি। চলতি মাসের শুরুতে, নয়াদিল্লি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছিল। ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান হর্ষ পন্ত জানান, অন্যান্য দেশের মতো ভারতও ট্রাম্পের সাথে মোকাবিলা করার উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে এবং চীনের সাথে সম্পর্ক পুনর্নির্মাণ করছে। তিনি বলেন, “চীনের সাথে অবশ্যই যোগাযোগ রয়েছে এবং আমি মনে করি এটি পারস্পরিক…চীনও যোগাযোগ করছে।”
ত্রাণ নিতে যাওয়া ৯২ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী

ত্রাণ নিতে যাওয়া ৯২ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী ইসরায়েলি বাহিনী গাজাজুড়ে কমপক্ষে ১১৫ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এদের মধ্যে ৯২ জনকে উত্তরে জিকিম ক্রসিং এবং দক্ষিণে রাফাহ এবং খান ইউনিসে ত্রাণ কেন্দ্রে খাবার পেতে চেষ্টা করার সময় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার আল-জাজিরা অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে। রবিবার এই হত্যাকাণ্ড এমন সময় ঘটেছে যখন গাজায় ইসরায়েলিদের অব্যাহত অবরোধের ফলে ক্ষুধা সংকট আরো খারাপ হয়েছে। সেখানকার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ গত দিনে দুর্ভিক্ষে কমপক্ষে ১৯ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে। জিকিমে জাতিসংঘের ত্রাণ কনভয় থেকে আটা পাওয়ার আশায় বিশাল জনতা সেখানে জড়ো হয়েছিল। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনী কমপক্ষে ৭৯ জন ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে। রাফাহের একটি ত্রাণ কেন্দ্রের কাছে আরো নয়জন হত্যার শিকার হয়েছেন। এর আগের ২৪ ঘন্টায় সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মতে, খান ইউনিসে একটি দ্বিতীয় ত্রাণ কেন্দ্রের কাছে আরও চারজন হত্যার শিকার হয়েছেন। জিকিমে হামলায় বেঁচে যাওয়া ফিলিস্তিনি রিজেক বেতার বলেন, “কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই, খাবার নেই, জীবন নেই, আর বাঁচার কোনো উপায় নেই। আমরা খুব কষ্ট করে অপেক্ষা করছি।” আরেকজন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি ওসামা মারুফ গুলিবিদ্ধ ও আহত একজন বৃদ্ধকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন। মারুফ বলেন, “আমরা জিকিম থেকে এই বৃদ্ধকে নিয়ে এসেছিলাম। সে কেবল কিছু আটা আনতে গিয়েছিল। আমি তাকে সাইকেলে করে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি – আমি আর আটা চাই না, সে আমার বাবার মতো, এই বৃদ্ধ। ঈশ্বর আমাকে ভালো করার শক্তি দিন। এবং এই কষ্ট যেন বেশি দিন স্থায়ী না হয়।”
বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ করছে চীন

বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ করছে চীন তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো (ব্রহ্মপুত্র হিসেবে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে) নদীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে চীন। শনিবার (১৯ জুলাই) তিব্বতের মালভূমিতে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। খবর সিনহুয়ার। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, তিব্বতের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের দক্ষিণ-পূর্বে ন্যিংচি শহরে অবস্থিত ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্নপ্রবাহে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন লি কিয়াং। এই ইয়ারলুং সাংপো নদীই তিব্বত ছাড়িয়ে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও আসাম রাজ্যে প্রবেশ করার পর ব্রহ্মপুত্র নাম ধারণ করে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ২০২০ সালে পাঁচ বছরের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা প্রথম ঘোষণা করে চীন। তিব্বতের বিপুল জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এটি তাদের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। গত বছরের ডিসেম্বরে চূড়ান্ত অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বছরে আনুমানিক ৩০ হাজার কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে চীন। এই মুহূর্তে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ থ্রি গর্জেস ড্যামের তুলনায় তিন গুণ বড় এই মেগা প্রকল্পে মোট পাঁচটি ক্যাসকেড জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকবে এবং প্রায় ১৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হবে এটি নির্মাণে। তবে, এই প্রকল্প ঘিরে এরই মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই বাঁধের ফলে নদীর নিম্নপ্রবাহে বসবাসরত কোটি কোটি মানুষের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। হুমকির মুখে পড়বে ভারত-বাংলাদেশের পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা। ভারতের দাবি, এই বাঁধটিকে ‘পানির মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির কৌশল’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে চীন। তাছাড়া এর মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে বন্যা বা খরার সৃষ্টি করতে পারে দেশটি। চীন অবশ্য দাবি করছে, প্রকল্পটি নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে সুপরিকল্পিত মূল্যায়ন করা হয়েছে ও এটি ভাটির দেশগুলোর পরিবেশ, ভূ-প্রকৃতি কিংবা পানির অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। বেইজিং বলেছে, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষতির বিনিময়ে নিজেদের লাভের চেষ্টা করছে না। বরং, প্রকল্পটি দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রশমন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য সহায়ক হবে বলেই দাবি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। অবশ্য, চীনের এই প্রকল্পের প্রতিক্রিয়ায় ভারতও ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর অরুণাচল প্রদেশে নিজস্ব জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে করে পানিসম্পদের ওপর নিজের অধিকার জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।
ভারতীয় এয়ারলাইনসের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালো পাকিস্তান

ভারতীয় এয়ারলাইনসের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালো পাকিস্তান ভারতীয় এয়ারলাইনসের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১ মাস বাড়িয়েছে পাকিস্তান। ফলে আগামী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ভারতীয় কোনও এয়ারলাইনসের প্লেন পাকিস্তানের আকাশ ব্যবহার করতে পারবে না। পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয় এবং এরপর থেকে একাধিকবার নবায়ন করা হয়েছে। বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞাটি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে নেয়া হয়, যা শুরু হয় ভারতের অধীকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে একটি প্রাণঘাতী হামলার পর। ওই ঘটনার জেরে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়, যাতে অনেক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন। এর পাল্টা জবাবে পাকিস্তানও ভারতীয় বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালায়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়।
মার্কিন কৃষি বিভাগে ৭০ জন বিদেশি গবেষককে বরখাস্ত

মার্কিন কৃষি বিভাগে ৭০ জন বিদেশি গবেষককে বরখাস্ত চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে চুক্তিবদ্ধ ৭০ জন বিদেশি গবেষককে বরখাস্ত করেছে মার্কিন কৃষি বিভাগ। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, সরকারি সংস্থাটি বলেছে, চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং ইরানসহ প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ‘মার্কিন খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে’ জাতীয় নিরাপত্তা পর্যালোচনার পর তারা চুক্তিবদ্ধ এসব গবেষককে বরখাস্ত করেছে। একজন মুখপাত্র বলেছেন, মার্কিন কৃষি বিভাগের চুক্তিতে কাজ করার জন্য অনুমোদিত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং উদ্বেগজনক দেশ থেকে প্রায় ৭০ জন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উদ্বেগজনক দেশগুলোর এই চুক্তিতে কর্মরত ব্যক্তিরা আর মার্কিন কৃষি বিভাগের প্রকল্পগুলোতে কাজ করতে পারবেন না। মার্কিন কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স ৮ জুলাই একটি ‘কৃষি সুরক্ষা পরিকল্পনা’ ঘোষণা করেছিলেন। এতে চারটি দেশের নাগরিকদের মার্কিন কৃষিজমি ক্রয় নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা এবং তাদের সঙ্গে বিদ্যমান যে কোনো গবেষণা চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রোলিন্স বলেন, মার্কিন খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপগুলো প্রয়োজনীয়।
ইউক্রেনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সুভরিদেঙ্কো

ইউক্রেনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সুভরিদেঙ্কো রাশিয়ার আগ্রাসনের ৩ বছর পর ইউক্রেনে সবচেয়ে বড় সরকার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য শীর্ষ পদে রদবদল করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গতকাল পার্লামেন্টে অনুমোদনের পর ৩৯ বছর বয়সী ইউলিয়া সুভরিদেঙ্কো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ডেনিস স্যামিহালের স্থলাভিষিক্ত হলেন যিনি ২০২০ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সুভরিদেঙ্কো এর আগে প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সুভরিদেঙ্কো সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানান, তিনি ইউক্রেনের অস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালীকরণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে জোর দেবেন।
থমথমে সিরিয়া, নি*হত ছাড়ালো ৩৫০

থমথমে সিরিয়া, নি*হত ছাড়ালো ৩৫০ সিরিয়ার দক্ষিণের সুবাইদা প্রদেশে গত সপ্তাহের শেষ দিকে থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩৫০ জন ছাড়িয়েছে। বার্তাসংস্থা এএফপি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস নামে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এক যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে। এর আগে নিহতের সংখ্যা ৩০০ বলে জানানো হয়েছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, রোববার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৭৯ জন দ্রুজ যোদ্ধা এবং ৫৫ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সাধারণ মানুষদের মধ্যে ২৭ জনকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদস্যরা। সংঘর্ষে প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৮৯ সদস্য এবং ১৮ জন বেদুইন যোদ্ধাও প্রাণ হারিয়েছেন। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সুবাইদায় নিহতদের মধ্যে একজন মিডিয়া কর্মীও রয়েছেন, তার নাম হাসান আল-যাবি। সিরিয়ান সাংবাদিক ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ‘অবৈধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর’ গুলিতে তার মৃত্যু হয়। তবে তিনি কোন সংবাদমাধ্যমে কাজ করতেন, তা উল্লেখ করা হয়নি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ার ভেতরে তাদের নিজস্ব তথ্যসূত্রের ওপর নির্ভর করে কাজ করে। তারা আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলায় ১৫ জন প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদস্য নিহত হয়েছেন।
ইরাকে শপিংমলে আগুন, নি*হত ৫০

ইরাকে শপিংমলে আগুন, নি*হত ৫০ ইরাকের একটি শপিংমলে আগুন লেগেছে। এতে হতাহত হয়েছে কমপক্ষে ৫০ জন এবং আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আজ ইরাকের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর কুতের একটি শপিংমলে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৬০ জন নিহত হয়েছেন। ওয়াসিত প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ আল-মিয়াহি সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএনএকে জানিয়েছেন, ইরাকি মিডিয়ার শেয়ার করা ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে ৫ তলা একটি শপিং মল বিশাল আগুন এবং ধোঁয়ায় ঢেকে আছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
‘দেশে ভিক্ষুক নেই’ মন্তব্য করে পদ হারালেন কিউবার মন্ত্রী

‘দেশে ভিক্ষুক নেই’ মন্তব্য করে পদ হারালেন কিউবার মন্ত্রী ‘কিউবায় কোনো ভিক্ষুক নেই। কিছু মানুষ ভিখারির ছদ্মবেশে সহজে টাকা আয় করার চেষ্টা করছে।’- এমন মন্তব্যের জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন কিউবার শ্রম ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী মার্তা এলেনা ফেইতো কাবরেরা। বুধবার (১৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি কিউবার পার্লামেন্টে বক্তব্যকালে শ্রমমন্ত্রী মার্তা দাবি করেন, কিউবায় প্রকৃত অর্থে কোনো ‘ভিক্ষুক’ নেই। যারা ময়লার বিন ঘাঁটাঘাঁটি করেন, তারা এটাকে ‘অর্থ উপার্জনের সহজ উপায়’ ভাবেন বলেই এমন করছেন। তার এই মন্তব্যে কিউবার জনগণ ও প্রবাসী কিউবানরা সমালোচনায় ফেটে পড়েন। সমালোচনা বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত হোন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস কানেল। এরপরই শ্রমমন্ত্রী মার্তা পদত্যাগ করেন। ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কিউবা। দেশটিতে চলছে খাদ্য সংকট। দারিদ্রের হার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এমন পরিস্থিতি সত্ত্বেও, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখার সময় মার্তা বলেন, “কিউবায় কোনো ভিক্ষুক নেই। সহজে অর্থ উপার্জনের জন্য ভিক্ষুক হওয়ার ভান করে এমন মানুষ রয়েছে।” কিউবার বাসিন্দারা এই মন্তব্যের জন্য ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়। বলা হয়, সরকার উদাসীন ও মানুষের করুণ অবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন। মানবাধিকার কর্মী ও বুদ্ধিজীবীরা শ্রম মন্ত্রীর অপসারণ দাবি করেন। তারা এ নিয়ে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন। যেখানে বলা হয়, ‘মন্ত্রীর এ মন্তব্য কিউবার মানুষের প্রতি অপমানজনক।’ এরপর কিউবার প্রেসিডেন্ট পার্লামেন্টে শ্রমমন্ত্রী মার্তার নাম উল্লেখ না করেই তার সমালোচনা করে বলেন, “নেতৃত্বকে সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। জনগণের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না।’ মন্ত্রী মার্তার পদত্যাগ কিউবান কমিউনিস্ট পার্টি এবং সরকার গ্রহণ করেছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কিউবার সরকার ভিক্ষুকের সংখ্যা প্রকাশ করে না। তবে দ্বীপদেশটির গভীর অর্থনৈতিক সংকটে ভিক্ষুকের সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করে কিউবার বেশিরভাগ বাসিন্দা।