আফগানিস্তানে আজ উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর

আফগানিস্তানে আজ উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আফগানিস্তানে আজ উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তালেবান প্রশাসন গতকাল গভীর রাতে এ ঘোষণা দেয়। আফগান বার্তা সংস্থা খামা প্রেস এজেন্সি জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের হেলমান্দ এবং পশ্চিমাঞ্চলের ফারাহ ও গোর প্রদেশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষ্য যাচাই করে সরকার পরিচালিত চাঁদ দেখা কমিটি এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ আজ ঈদের প্রথম দিন ঘোষণা করে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আফগান সম্প্রচার মাধ্যম তোলো নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আফগান সরকার গতকাল ৪ হাজার ৫৯৬ জন বন্দীকে মুক্তি ও আরও ৪ হাজার ৪০৭ জন বন্দীর সাজা কমানো হয়েছে। এদিকে আফগানিস্তানের এ সিদ্ধান্তের কারণে অন্যান্য মুসলিম দেশের সঙ্গে ঈদের তারিখে পার্থক্য তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, গতকাল চাঁদ দেখা না যাওয়ায় দেশটিতে আগামীকাল ঈদ উদযাপিত হবে। একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও কুয়েত। এছাড়া তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়া জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী আগামীকাল ঈদ নির্ধারণ করেছে। ইয়েমেন, লেবানন, ফিলিস্তিন ও ইরাকেও একই দিনে ঈদ উদযাপন করা হবে।
এবার ভেনেজুয়েলাকে ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বানানোর ইঙ্গিত ট্রাম্পের!

এবার ভেনেজুয়েলাকে ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বানানোর ইঙ্গিত ট্রাম্পের! লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বানানোর ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি বেসবল ম্যাচে ভেনেজুয়েলার জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি এ ধরনের ইঙ্গিত দেন। এর আগে কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড নিয়েও এমন মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়ার্ল্ড বেসবল ক্লাসিকের সেমিফাইনালে ইতালিকে ৪-২ ব্যবধানে হারানোর পর ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ভেনেজুয়েলার প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, “দারুণ! আজ রাতে বেসবলে ইতালিকে হারিয়েছে ভেনেজুয়েলা। তাদের বেশ ফুরফুরে দেখাচ্ছে। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় অনেক ভালো কিছু ঘটছে। আমি ভাবছি এই জাদুর রহস্য কী?” এবং এরপরই প্রশ্ন তোলেন— “৫১তম অঙ্গরাজ্য হলে কেমন হয়?” দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল নিয়ে এমন মন্তব্য আগেও করেছেন। গ্রিনল্যান্ড ও কানাডাকেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এদিকে এই জয়ের ফলে ভেনেজুয়েলা ফাইনালে উঠেছে এবং সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৩ সালে দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্র সহজেই জয় পেয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক অভিযানে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হন। এর আগে ভেনেজুয়েলা থেকে মাদকপাচারের সন্দেহে নৌযানগুলোতে কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলা চালানো হয়। মাদুরো আটক হওয়ার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ বাড়াবে এবং জ্বালানি খাত আধুনিকায়নে কাজ করবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার মনোযোগ বেশি রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায় এবং ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। গ্যাসবাডির তথ্যানুযায়ী, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ২ দশমিক ৮৮ ডলার থেকে বেড়ে তা রবিবার ৩ দশমিক ৬৮ ডলারে পৌঁছায়। ট্রাম্প দাবি করেছেন, জ্বালানির দাম বাড়লেও এতে যুক্তরাষ্ট্র ‘অনেক অর্থ আয় করবে’। যদিও নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি জ্বালানি খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর আগে ইউরোপে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। জাতীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন বলেও দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। একইভাবে কানাডাকেও যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রিয় ৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বানানোর কথা বলেছিলেন তিনি। সম্প্রতি তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে ‘ভবিষ্যৎ গভর্নর’ বলেও উল্লেখ করেন।
হরমুজ প্রণালিতে অভিযানে যোগ দেবে আমিরাত

হরমুজ প্রণালিতে অভিযানে যোগ দেবে আমিরাত তেহরানে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মাঝে হরমুজ প্রণালি সচল করার জন্য ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাত অংশ নিতে পারে বলে নিশ্চিত করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস’ আয়োজিত এক অনলাইন অনুষ্ঠানে তিনি আনোয়ার গারগাশ বলেন, বাণিজ্য প্রবাহ এবং জ্বালানি প্রবাহ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার রয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনায় এখনো সম্মত হয়নি, তবে আলোচনা চলছে। উপদেষ্টা আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে, এমন একটি ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে যাতে তেহরান তার পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন কর্মসূচি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাস ছড়াতে না পারে। এর আগে সোমবার হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। হরমুজ প্রণালি সচল করতে মিত্রদের রাজি করানোর বিষয়ে ম্যাক্রোঁর অবস্থানকে তিনি ‘‘১০-এর মধ্যে ৮’’ নম্বর দেন। একইসঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করতে বিভিন্ন দেশকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের হামলায় আরও ১৯২ জন ইসরায়েলি আহত

ইরানের হামলায় আরও ১৯২ জন ইসরায়েলি আহত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল জোটের বিমান হামলার জবাবে পাল্টা মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। তাদের হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৯২ জন ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়েছেন। আজ ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৯২ জন আহত ইসরায়েলিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা মাঝারি ধরনের গুরুতর। বাকিদের আঘাত তুলনামূলকভাবে কম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৭২৭ জন ইসরায়েলিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে, দখলদার ইসরাইলের ওপর ইরানের মিসাইল হামলা এখনো চলমান রয়েছে। ইরানের মুহুর্মুহু মিসাইল হামলায় ইহুদিবাদী ভূখণ্ডের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ইরান দাবি করেছে, লারিজানির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার পর মধ্য ইসরায়েলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চ্যানেল ১২-এর খবরে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সতর্কতা জারির পর মধ্য ইসরায়েলের গুশ দান এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এ সময় ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে কিছু বিস্ফোরণ ঘটেছে। হোলন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকটিতে আগুন ধরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে, একই গণমাধ্যম জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় মধ্য ইসরায়েলের কাফর কাসেম শহরের অন্তত চারটি স্থানে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে ব্যাপক সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। একটি স্থানে আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়া দু’জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চাইল ইরান

ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চাইল ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজের নিরাপত্তার শর্ত হি„সেবে ভারতের কাছে জব্দ তিন ট্যাংকার ফেরত চেয়েছে ইরান। সেই সঙ্গে ভারতের কাছে জরুরি ওষুধ এবং জরুরি মেডিকেল সরঞ্জামও চেয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। জানা গেছে, বিগত সময়ে অ্যাসফেল্ট স্টার, আল জাফজিয়া এবং স্টেলার রুবি নামে ইরান-সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজ জব্দ করেছে ভারত। এর মধ্যে স্টেলার রুবির মালিক ইরান, বাকি দুই জাহাজ আল জাফজিয়া এবং অ্যাসফল্ট স্টার যথাক্রমে মালি এবং নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী। বিধিবহির্ভূতভাবে জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে আরব সাগরের ভারতীয় সীমানায় এই তিন ট্যাংকার জব্দ করেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। বর্তমানে জাহাজগুলো ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাইয়ের বন্দরে আছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডন জানিয়েছে, নয়াদিল্লিতে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। সেই বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতীয় কর্মকর্তাদের কাছে ওই তিনটি জাহাজ ফেরত চান। এর পাশাপাশি ইরানের জনগণের জন্য জরুরি ওষুধ এবং মেডিকেল সামগ্রী পাঠানোর অনুরোধও জানান তিনি। এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লির ইরানি দূতাবাস এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, কিন্তু এই তিন দফতরের কোনও মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে চায়নি। প্রসঙ্গত, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত জ্বালানি তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেগুলোর ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে। হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রফতানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেত না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। ইরানও তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা হামলা শুরু করে। এর জেরে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে তেহরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে ইরান। বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ট্যাংকার জাহাজে হামলাও চালানো হচ্ছে। এই পথে চলাচলের সময় এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ১২টিরও বেশি ট্যাংকার জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হরমুজে কোনও ভারতীয় ট্যাংকার জাহাজে হামলা হয়নি। বরং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নির্দেশ দিয়েছেন— হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কোনও ভারতীয় জাহাজে যেন হামলা না করা হয়। কী কারণে ভারতকে এই ‘ছাড়’ দিল ইরান— তা জানতে রবিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। জয়শঙ্কর বলেছেন, এখানে ‘লুকোছাপা’-র কোনও ব্যাপার নেই, এবং এটি ঘটেছে ইরানের সঙ্গে ভারতের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই। হরমুজ প্রণালিতে ভারতের চারটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার জাহাজকে নিরাপদ প্যাসেজ দিয়েছে ইরান।
জ্বালানি ঘাটতির শঙ্কায় সাপ্তাহিক ছুটি তিন দিন করল শ্রীলঙ্কা

জ্বালানি ঘাটতির শঙ্কায় সাপ্তাহিক ছুটি তিন দিন করল শ্রীলঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ধাক্কা এবার সরাসরি লেগেছে এশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়। সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা সপ্তাহে আরও একদিন ছুটি ঘোষণা করেছে। এর ফলে দেশটিতে আপাতত সাপ্তাহিক ছুটি দাঁড়াচ্ছে তিন দিনে। শুধু শ্রীলঙ্কাই নয়, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। এতে করে পুরো অঞ্চলে নতুন করে ব্যয়সংকোচনের বাস্তবতা সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় জ্বালানি সাশ্রয়ের পদক্ষেপ হিসেবে শ্রীলঙ্কা সপ্তাহে আরও একদিন ছুটি ঘোষণা করেছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, প্রতি বুধবার এখন থেকে সরকারি ছুটি থাকবে। সোমবার জরুরি বৈঠকে প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে বলেন, “আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, তবে ভালো কিছুর আশা রাখতেও হবে।” যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য ঘাটতির মুখে পড়েছে দেশটি। এই প্রণালি দিয়ে আগে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এশিয়ায় প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হতো। গত বছর এই পথ দিয়ে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশের গন্তব্যই ছিল এশিয়া। অবশ্য যুদ্ধের পর থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যয়সংকোচনমূলক নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। থাইল্যান্ডে মানুষকে স্যুটের বদলে হাফহাতা পোশাক পরার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার কমে। মিয়ানমারে ব্যক্তিগত গাড়ি লাইসেন্স নম্বর অনুযায়ী একদিন পরপর চালানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রমজানের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশজুড়ে নির্ধারিত লোডশেডিং চালু করা হয়েছে। ফিলিপাইনে কিছু সরকারি দফতরে সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র অপ্রয়োজনীয় সরকারি ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছেন। ভিয়েতনাম সরকার নাগরিকদের বেশি সময় বাসায় থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে সাইকেল চালানো, কারপুল করা, গণপরিবহন ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার সীমিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবিসি বলছে, শ্রীলঙ্কায় নতুন চার দিনের কর্মসপ্তাহ স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে স্বাস্থ্য ও অভিবাসনসহ জরুরি সেবা দেওয়া সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এ সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবারের পরিবর্তে বুধবার ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে টানা তিন দিন সরকারি অফিস বন্ধ না থাকে। এছাড়া শ্রীলঙ্কায় এখন থেকে গাড়িচালকদের ‘ন্যাশনাল ফুয়েল পাস’ নিবন্ধন করতে হবে। আর এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি কেনার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তে কিছু মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১৫ লিটার এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৫ লিটার জ্বালানির কোটা খুবই কম। এর আগে ২০২২ সালে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সময় প্রথম এই জ্বালানি রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। তখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফুরিয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি এবং জ্বালানি কেনা সম্ভব হচ্ছিল না। আর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই তেলের দাম বেড়ে গেছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
পাকিস্তানের হামলায় কাবুলে ৪০০ নিহত, দাবি তালেবানের

পাকিস্তানের হামলায় কাবুলে ৪০০ নিহত, দাবি তালেবানের আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। এই ঘটনায় আরও প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে তারা তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, কাবুলের একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা কেন্দ্রে (পুনর্বাসন হাসপাতাল) হামলা চালানো হয়। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেক মানুষ নিহত ও আহত হন। তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামিদুল্লাহ ফিতরাত জানান, হামলায় হাসপাতালের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফাত জামান বলেছিলেন, এই হামলায় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ওই হাসপাতালে প্রায় তিন হাজার মাদকাসক্ত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ জানিয়েছে, কাবুলের নবম পুলিশ জেলায় অবস্থিত একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে কয়েক দফা গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে তীব্র সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পাকিস্তান পুনর্বাসন কেন্দ্রে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বলেছে, কাবুলে কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি। পাকিস্তানের দাবি, ১৬ মার্চ রাতে তারা কাবুল ও নানগারহার এলাকায় নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা এবং সন্ত্রাসীদের সহায়তাকারী অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব স্থাপনা পাকিস্তানের বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে তাদের দাবি। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, হামলার পর সেখানে মজুদ থাকা গোলাবারুদ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের হামলা ছিল অত্যন্ত নির্ভুল এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তালেবান মুখপাত্রের অভিযোগকে ইসলামাবাদ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলেও উল্লেখ করেছে।
প্রবল ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ১২ হাজার ফ্লাইট বাতিল

প্রবল ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ১২ হাজার ফ্লাইট বাতিল যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রবল ঝড়, তীব্র বাতাস ও বজ্রপাতের কারণে বিমান চলাচলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে সাড়ে ১২ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গতকাল দেশটির পূর্ব উপকূলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ওয়াশিংটন ও আটলান্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেএফকে), লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর, হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এসব বিমানবন্দরে অর্ধেকেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। এছাড়া জর্জ বুশ আন্তঃমহাদেশীয় বিমানবন্দর এবং বাল্টিমোর/ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ফ্লাইট বাতিল এবং সাড়ে ৮ হাজারের বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। বড় এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে আমেরিকান এয়ারলাইন্স, সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স ও ডেল্টা এয়ার লাইন্সের প্রায় ৪৫ শতাংশ ফ্লাইট শিডিউল বিঘ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তাদের ৩৬ শতাংশ ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে। মার্কিন পরিবহন সচিব শন ডাফি বলেছেন, শীতকালীন ঝড় ও বজ্রপাতের কারণে সারা দেশজুড়েই বিমান চলাচলে প্রভাব পড়ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুপুর ২টার মধ্যে অফিস ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের দাম

সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের দাম ইরান যুদ্ধের জেরে বন্ধ হয়ে গেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালি। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ফলে বাণিজ্য মন্দা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিছু ব্যবসায়ী যুক্তি দিচ্ছেন যে, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ব্রেন্ট বেঞ্চমার্ক প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। এশিয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানো মধ্যপ্রাচ্যের লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মূল্য নির্ধারণে ব্যবহৃত এই বেঞ্চমার্কের আকস্মিক বৃদ্ধি এশীয় শোধনাগারগুলোর খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা তাদের আগামী মাসগুলোতে বিকল্প খুঁজতে বা উৎপাদন আরও কমাতে বাধ্য করছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটস জানিয়েছে, সোমবার মে মাসের কার্গোর জন্য দুবাইয়ের ক্রুডের স্পট দাম প্রতি ব্যারেল রেকর্ড ১৫৩.২৫ ডলার নির্ধারিত হয়েছে, যা ২০০৮ সালের ব্রেন্ট ফিউচার্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৪৭.৫০ ডলারকে ছাড়িয়ে গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, এর ফলে সোমবার সোয়াপের (মূল্য ঝুঁকি চুক্তি) তুলনায় দুবাইয়ের প্রিমিয়াম দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেলে ৫৬.০১ ডলারে, যা অপরিশোধিত তেলের মোট মূল্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং ফেব্রুয়ারির গড় ৯০ সেন্ট থেকে বেশি। একইভাবে, ওমানের অপরিশোধিত তেলের (ওমান ক্রুড ফিউচার্স) দাম রেকর্ড ব্যারেলপ্রতি ১৪৭.৭৯ ডলার পৌঁছেছে, যার ফলে দুবাই সোয়াপের তুলনায় এর প্রিমিয়াম দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেলে ৫০.৫৭ ডলারে, যা ফেব্রুয়ারির গড় ৭৫ সেন্টের চেয়ে অনেক বেশি। তিনটি বাণিজ্য সূত্র জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুরবান ফিউচার্সের সাথে দামের বিশাল ব্যবধানের কারণে দুবাইয়ের তেলের দাম বিকৃত দেখাচ্ছে, যা সোমবার প্রতি ব্যারেলে ১১১.৭৬ ডলারে স্থির হয়েছিল। অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেপলারের তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় মার্চ মাসে এশিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেল রফতানি কমে দৈনিক ১১.৬৬৫ মিলিয়ন ব্যারেলে (বিপিডি) দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারির প্রায় ১৯ মিলিয়ন বিপিডি থেকে কম এবং মার্চ ২০২৫-এর স্তরের চেয়ে প্রায় ৩২ শতাংশ কম। সরবরাহ ব্যাপক হ্রাস কিছু শোধনাগার সূত্র এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য প্ল্যাটস মার্কেট অন ক্লোজ প্রক্রিয়ার সময় সরবরাহের জন্য উপলব্ধ সরবরাহ কমে যাওয়াকে দায়ী করেছে। কারণ সংস্থাটি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তিনটি অপরিশোধিত তেলের গ্রেড তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। সূত্রগুলোর মধ্যে একজন বলেন, “দুর্বল বাণিজ্যের কারণে এটি একটি অস্বাভাবিক এবং অন্যায্য মূল্য নির্ধারণ।” তিনি আরও বলেন, অবশিষ্ট গ্রেডগুলো- ওমান এবং মুরবান-মধ্যপ্রাচ্যের এবং কিছু রাশিয়ান ব্যারেলের মূল্য নির্ধারণে ব্যবহৃত বেঞ্চমার্কের প্রতিনিধিত্ব করে না। আরেকটি শোধনাগার সূত্র জানিয়েছে, দুবাই এবং ওমানের বেঞ্চমার্ক ভেঙে যাওয়ায় মে মাসের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের বাণিজ্য থমকে গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির একজন মুখপাত্র একটি ইমেইলে বলেছেন, “প্ল্যাটস দুবাই স্পট মার্কেটে লেনদেন হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের সাওয়ার ক্রুডের মূল্যকে প্রতিফলিত করে চলেছে।” তিনি আরও বলেন, এই মাসে প্ল্যাটস এমওসি চলাকালীন কার্যকলাপ বেশ জোরালো ছিল এবং একাধিক কার্গো সরবরাহ করা হয়েছে। তবে, ব্যবসায়ীরা বলেছেন, প্ল্যাটস উইন্ডোতে কার্গো গ্রহণকারী একমাত্র ক্রেতা হলো টোটালএনার্জিস। বাণিজ্য তথ্যানুযায়ী, এই ফরাসি প্রধান সংস্থাটি এই মাসে ওমান এবং মুরবানের ২৪টি ক্রুড কার্গো অর্থাৎ ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল কিনে নিয়েছে। তবে টোটালএনার্জিস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। প্ল্যাটস সোমবার জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের সরবরাহযোগ্যতা এবং প্ল্যাটস দুবাই তেলের বেঞ্চমার্ক পদ্ধতি সম্পর্কে অবিলম্বে মতামত চাইছে। বিকল্প সরবরাহের জন্য আফ্রিকা-আমেরিকা এদিকে, এশীয় শোধনাগারগুলো সরবরাহের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠায় আমেরিকা ও আফ্রিকা থেকে আসা অপরিশোধিত তেলের স্পট দাম বেড়েছে। দু’জন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, আইসিই ব্রেন্টের তুলনায় ব্রাজিলিয়ান স্পট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি রেকর্ড ১২-১৫ ডলার বেড়েছে। অন্যদিকে এপ্রিলে লোড করার জন্য পশ্চিম আফ্রিকার অপরিশোধিত তেলের ফ্রি-অন-বোর্ড ভিত্তিতে প্রিমিয়াম এক মাস আগের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১ ডলার বেড়েছে। তাদের একজন আরও বলেছেন, এরই মধ্যে বেশিরভাগ কার্গো বিক্রি হয়ে গেছে।
আমিরাতের প্রধান বন্দরের কাছে তেলের ট্যাংকারে হামলা

আমিরাতের প্রধান বন্দরের কাছে তেলের ট্যাংকারে হামলা মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান সমুদ্রবন্দর ফুজাইরার কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে জাহাজে হামলা হয়েছে। আজ ভোরের দিকে এ হামলা ঘটে। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন (ইউকেএমটো) এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফুজাইরা ওমান উপসাগরের তীরবর্তী বন্দর। ট্যাংকারটি ওমান উপসাগরের যে এলাকায় হামলার শিকার হয়েছে, সেটি ফুজাইরা থেকে ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে। হামলার সময় সেটি নোঙ্গর করা অবস্থায় ছিল। ইউকেএমটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্যাংকারটিতে বিস্ফোরক কোনও বস্তু আঘাত হেনেছে। সেটি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র নাকি অন্যকিছু— তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই হামলায় ট্যাংকারটির খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং কোনও হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত ফুজাইরা সমুদ্রবন্দর আমিরাতের জ্বলানি বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। দেশটির অধিকাংশ জ্বালানি তেলে এই বন্দর দিয়েই বহির্বিশ্বে যায়। তবে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বন্দরটি বন্ধ আছে।