যেসব মৌলিক শর্তে ঝুলে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

যেসব মৌলিক শর্তে ঝুলে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা প্রায় দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও বেশ কিছু মৌলিক শর্তে দুপক্ষের বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। রোববার (২৬) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। চলুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত চুক্তিতে রয়ে যাওয়া কিছু প্রধান অমীমাংসিত বিষয় দেখে নেওয়া যাক: পারমাণবিক কর্মসূচি: যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দিক, কিন্তু তেহরান বলছে, এ ধরনের যেকোনো নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই সীমিত সংখ্যক বছরের জন্য হতে হবে। ইউরেনিয়ামের মজুদ: ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। তেহরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। হরমুজ প্রণালি: ইরান জোর দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তারা এই জলপথে জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখবে। কিন্তু ট্রাম্প বলেছেন, একটি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে। জব্দকৃত সম্পদ: যেকোনো স্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানি কর্মকর্তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি করছেন। যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ: মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানও প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।
ইসলামাবাদে ইরান ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক

ইসলামাবাদে ইরান ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক ইসলামাবাদে ইরান ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন এবং দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা করছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি তার এই সফরকে একটি সময়োপযোগী সফর হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। এই সফরে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা নিরসন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সময়ে মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনার পরিকল্পনা তাদের নেই। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ইরানের অবস্থান এবং উদ্বেগগুলো সরাসরি নয় বরং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হবে। ওয়াশিংটন এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদী হলেও তেহরান নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন অবরোধ বা নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সরাসরি আলোচনায় বসার কোনো সম্ভাবনা নেই। মূলত পাকিস্তান বর্তমানে এই দুই দেশের মধ্যে একটি কূটনৈতিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে, যার লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে আনা। সূত্র: আলজাজিরা।
আইআরজিসির অভিযানে গ্রেফতার ২৪০ সন্দেহভাজন

আইআরজিসির অভিযানে গ্রেফতার ২৪০ সন্দেহভাজন ইরানের কুর্দিস্তান ও কেরমানশাহ প্রদেশে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৪০ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস-আইআরজিসি| ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি কুর্দিস্তান প্রদেশে ১১ জনকে গ্রেফতার এবং একটি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীর এক সদস্যকে হত্যা করার দাবি করেছে| অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে| এছাড়া পৃথক অভিযানে আরও প্রায় ৭০ জনকে গ্রেফতার করেছে আইআরজিসি| অপরদিকে, কেরমানশাহ প্রদেশে ১৫৫ জনকে গ্রেফতার করেছে আইআরজিসি|
৫৬ দিন পর ইরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু

৫৬ দিন পর ইরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বন্ধ করা তেহরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর খুলে দিয়েছে ইরান। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা মেহের নিউজের বরাতে বিষয়টি জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। মেহের নিউজ বলছে, তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শনিবার সকালে কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, তেহরান থেকে প্রথম যাত্রীবাহী ফ্লাইটগুলো মাস্কাট, ইস্তাম্বুল এবং সৌদি আরবের মদিনার উদ্দেশে যাত্রা করেছে। দেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদ বিমানবন্দরটি এই সপ্তাহের শুরুতে পুনরায় চালু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে যৌথ বিমান অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ। যুদ্ধ শুরুর দিনই, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজেদের আকাশসীমা এবং বিমানবন্দরগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। এর আগে এই সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন, যাতে আলোচনা অব্যাহত রাখা যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার নিজেদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর খুলল ইরান। এদিকে শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে শুক্রবারই (২৪ এপ্রিল) পাকিস্তানে পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে ইরানের প্রতিনিধিদল।
মণিপুরে থামছে না সংঘর্ষ গোলাগুলিতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

মণিপুরে থামছে না সংঘর্ষ গোলাগুলিতে আরও ৩ জনের মৃত্যু ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জাতিগত সহিংসতা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) গভীর রাতে রাজ্যের উখরুল জেলার মুল্লাম গ্রামে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলিতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। মণিপুর পুলিশ এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, উখরুল জেলায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গোলাগুলি চলে। এতে তিনজন ঘটনাস্থলেই গুলবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। তবে নিহতরা কোন সম্প্রদায়ের, তা এখনো স্পষ্ট করেনি প্রশাসন। নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানো এড়াতে ওই এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে চিরুনি অভিযান চলছে। প্রায় তিন বছর ধরে মণিপুরে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মেইতেই এবং প্রধানত খ্রিস্টান কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ২৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। এই দ্বন্দ্বের মূল কারণ ভূমি ও সরকারি চাকরিতে আধিপত্য নিয়ে প্রতিযোগিতা। মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য স্থানীয় নেতারা এই জাতিগত বিভাজন আরও উসকে দিচ্ছেন। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া সহিংসতায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় বলে সরকারি তথ্য জানায়। কিছুটা শান্ত হলেও চলতি মাসের শুরুতে আবার সহিংসতা বাড়ে। একটি হামলায় দুই শিশুসহ চারজন নিহত হন এবং পরে মেইতেই সম্প্রদায়ের একদল মানুষ একটি আধাসামরিক ক্যাম্পে হামলা চালায়। এদিকে, বৃহস্পতিবার মণিপুর ও মিজোরাম থেকে ২৪৯ জন ভারতীয় তেল আবিব-এ পৌঁছেছেন। তারা বনেই মেনাশে সম্প্রদায়ের সদস্য, যারা নিজেদের ইসরায়েলের ‘হারিয়ে যাওয়া গোত্র’-এর বংশধর বলে দাবি করেন। ইসরায়েল সরকার গত নভেম্বরে এই সম্প্রদায়ের প্রায় ছয় হাজার সদস্যকে সেখানে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টিও মারা গেছেন

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টিও মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর তথ্য জানাল তার পরিবার। এর আগে জামিল আহমেদ লিমনের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার (২৫ এপিল) সকালে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত ফেসবুকে এ তথ্য জানান। বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। এদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। এর আগে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে জামিল আহমেদ লিমন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জামিল একই ইউনিভার্সিটিতে জিওগ্রাফি, এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড পলিসি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়াহ (২৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি জামিলের রুমমেট ছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, জামিল ও নাহিদাকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছিল। ওই দিন সকাল ৯টার দিকে জামিলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের তার ছাত্রাবাসে এবং সকাল ১০টার দিকে নাহিদাকে ক্যাম্পাসে শেষবার দেখা যায়। এদিকে, দুই শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সেখানে অধ্যায়নত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এছাড়া, বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে ও জামিলের গ্রামের বাড়ি জামালপুরেও চলছে মাতম।
খাদ্য সংকটে পড়া বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষই বাংলাদেশসহ ১০ দেশের

খাদ্য সংকটে পড়া বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষই বাংলাদেশসহ ১০ দেশের বিশ্বে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ হিসেবে এবারও সংঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে জাতিসংঘ সমর্থিত একটি প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটে পড়া মানুষের দুই-তৃতীয়াংশই মাত্র ১০টি দেশে বাস করে। এই ১০টির মধ্যে বাংলাদেশও আছে। চলতি বছরও দেশগুলোতে পরিস্থিতি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’ শিরোনামের বার্ষিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে শুক্রবার। এতে বলা হয়েছে, সংঘাত ও চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে অনেক দেশে সংকট বজায় থাকবে বা আরও খারাপ হবে। তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা যে ১০টি দেশে কেন্দ্রীভূত সেগুলো হলো- আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, কঙ্গো, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও সিরিয়ার মতো কিছু দেশে পরিস্থিতি উন্নতি হলেও আফগানিস্তান, কঙ্গো, মিয়ানমার ও জিম্বাবুয়েতে উল্লেখযোগ্য অবনতি দেখা গেছে। বার্ষিক প্রতিবেদনটিতে আন্তর্জাতিক সাহায্য দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চলমান সংকটগুলোকে আরও গভীর করতে পারে। কারণ, একদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে চাষের মৌসুমে সার উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের প্রধান আলভারো লারিও এএফপিকে বলেন, ‘রোপণের মৌসুমে জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধি খাদ্য উৎপাদনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।’ তিনি ক্ষুদ্র কৃষকদের আরও বেশি সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি পানি ও জলবায়ু সহনশীল ফসলে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন। আলভারো লারিও বলেন, স্থানীয়ভাবে সার উৎপাদন এবং মাটির গুণগত মান উন্নয়নের ওপর জোর দিলে সার আমদানির প্রয়োজন কমবে।
ঠোঁট-মুখ পুড়ে গেছে মোজতবা খামেনির

ঠোঁট-মুখ পুড়ে গেছে মোজতবা খামেনির ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিনেই আহত হয়ে এখন কথা বলতে সমস্যায় ভুগছেন। এমনকি, তার প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হবে বলে জানা গেছে। সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি খামেনিকে। তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলা থেকে বেঁচে যাওয়ার পর কৃত্রিম পা লাগানোর অপেক্ষায় আছেন। ওই হামলায় তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের এই সর্বোচ্চ নেতা এখনো যোগাযোগ গ্রহণ করতে ও সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। তবে কণ্ঠ দুর্বল শোনাতে পারে- এমন আশঙ্কায় তিনি কোনো অডিও বা ভিডিও বার্তা রেকর্ড করছেন না। ধারণা করা হচ্ছে, খামেনির মুখমণ্ডল ও ঠোঁট গুরুতরভাবে পুড়ে গেছে, যার ফলে কথা বলতে তার কষ্ট হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে প্লাস্টিক সার্জারি করাতে হবে। ওই মার্কিন কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একটি পায়ে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এছাড়া তার একটি হাতেও অস্ত্রোপচার হয়েছে, যা ধীরে ধীরে আবার সচল হচ্ছে বলে জানা গেছে। মানসিকভাবে তিনি এখনো সচেতন থাকলেও যুদ্ধ শেষের চলমান আলোচনার সময় তিনি ইরানের জেনারেলদের সঙ্গে খুবই সীমিত যোগাযোগ রাখছেন। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, স্বল্প সময়ের এই সংঘাতের কারণে যুদ্ধ শেষ করতে তার প্রশাসনকে তাড়াহুড়া করা উচিত নয়। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাকে তাড়া দেবেন না, তাড়া দেবেন না। আমরা ভিয়েতনামে ১৮ বছর ছিলাম, ইরাকে ছিলাম আট বছর। আমি মাত্র ছয় সপ্তাহ ধরে এটি করছি।
ভারতকে ‘নোংরা জায়গা’ বললেন ট্রাম্প

ভারতকে ‘নোংরা জায়গা’ বললেন ট্রাম্প ভারতকে নোংরা জায়গা হিসেবে অভিহিত করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরমধ্যে তার এ মন্তব্যে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। দেশটি বলেছে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের যে সম্পর্ক এরসঙ্গে এ ধরনের মন্তব্য যায় না। গত বুধবার রাত ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ভারত ও চীনকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “একজন শিশু এখানে তাৎক্ষণিকভাবে নাগরিক হয়ে যায়। এরপর তারা চীন ও ভারতসহ অন্যান্য নোংরা জায়গা থেকে পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে। ট্রাম্পের এমন বর্ণবৈষম্যমূলক বক্তব্যের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল বলেছেন, “এগুলো স্পষ্টতই তথ্যহীন, অনুপযুক্ত এবং কুরুচিপূর্ণ। এগুলো কোনোভাবেই ভারত-মার্কিন সম্পর্কের প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত করে না, যে সম্পর্কটি দীর্ঘকাল ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে। গত বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চারদিনের যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধ ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শেষ হয়। তবে ভারত সরাসরি তার অবদানকে স্বীকৃতি দেয়নি। এরপর থেকেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক খারাপ হয়। অপরদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরের সঙ্গে তার সম্পর্ক বেশ ভালো হয়। তিনি অসিম মুনিরকে ব্যক্তিগতভাবে সফরের আমন্ত্রণ জানান।
চীনের সঙ্গে বিমান বিক্রিতে বোয়িংয়ের ভরসা ট্রাম্প

চীনের সঙ্গে বিমান বিক্রিতে বোয়িংয়ের ভরসা ট্রাম্প বোয়িংয়ের বিশাল এক ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ভরসা করছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কেলি ওর্টবার্গ। সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চীনের এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে খুচরা যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিনের যে জটিলতা ছিল, তার একটি সম্মানজনক সমাধান খুঁজে পেয়েছে বোয়িং। তবে এই বিপুল পরিমাণ উড়োজাহাজ বিক্রির বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে মার্কিন প্রশাসনের সরাসরি সহযোগিতার ওপর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের অংশ হিসেবে এর আগে খুচরা যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিনের সরবরাহ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিলেন, যা বোয়িংয়ের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ওর্টবার্গ মনে করেন, বর্তমান প্রশাসনের সক্রিয় সমর্থন ছাড়া অদূর ভবিষ্যতে চীনের কাছ থেকে বড় কোনো ক্রয়াদেশ পাওয়া প্রায় অসম্ভব। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সব ঠিক থাকলে চীন প্রায় ৫০০টি ৭৩৭ ম্যাক্স জেট এবং কয়েক ডজন ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে। যদি এই চুক্তিটি সফল হয়, তবে ২০১৭ সালের পর এটিই হবে চীনের পক্ষ থেকে বোয়িংয়ের জন্য প্রথম কোনো বড় ধরনের অর্ডার। মূলত ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে স্থগিত হওয়া ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের আগামী মে মাসের বৈঠকটিই এখন এই চুক্তির মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।