চূড়ান্ত হলেও নতুন নেতা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে ইরান

চূড়ান্ত হলেও নতুন নেতা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে ইরান আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নেতার নাম নিয়ে খবর প্রচার হয়েছে। ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের এক সদস্যও বলেছিলেন, দ্রুতই নাম ঘোষণা করা হবে। কিন্তু সাতদিনেও তা না হওয়ায় গুজব ছড়ানোর ঘটনা ঘটছে। আলজাজিরাকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহযোগী অধ্যাপক ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্ভবত পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন হয়ে গেছে। কিন্তু নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে তা এখনো ঘোষণা করা হচ্ছে না। জোহরেহ খারাজমি নামের ওই অধ্যাপক আলজাজিরাকে বলেছেন, বিশেষজ্ঞ পরিষদ বা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস -এর আট সদস্য নেতা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া বয়কট করেছেন- এমন খবর গুজব। পরবর্তী নেতার জীবন রক্ষা করা খুবই যৌক্তিক। সম্ভবত এই নিরাপত্তা প্রটোকলের কারণেই নাম ঘোষণা করা হচ্ছে না। অধ্যাপক খারাজমি আরও বলেন, গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কিন্তু বাস্তবে কুর্দিরা ইরানের পক্ষেই আছে। বৃহস্পতিবার ইরানি বাহিনী ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে একটি অভিযান চালিয়েছে। অধ্যাপক খারাজমি বলছেন, এসব খবর মূলত রাজনৈতিক প্রচারণা। ‘আমার মনে হয় এটা রাজনৈতিক প্রচারণা। ইরানিরা তাদের (কুর্দি) দমন করবে এমনটা আমি মনে করি না।’-বলেন অধ্যাপক খারাজমি।

বিশ্ববাজারে তেলের কোনো ঘাটতি নেই

বিশ্ববাজারে তেলের কোনো ঘাটতি নেই বিশ্ববাজারে তেলের কোনো ঘাটতি নেই ও সংকটের আশঙ্কা অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই দাবি করেন তিনি। সাংবাদিকদের বিরোল বলেন, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ‘লজিস্টিক্যাল বিঘ্ন’ অনেক দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কিন্তু বৈশ্বিক বাজারে পর্যাপ্ত ও বিশাল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তেল রয়েছে তেল রয়েছে। জরুরি মজুত তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়টি আইইএ বিবেচনা করছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিরোল বলেন, সব ধরনের বিকল্পই টেবিলে রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি। বিরোল আরও বলেন, আমরা মূলত সাময়িক একটি বিঘ্নের মুখে পড়েছি, এটি একটি লজিস্টিক্যাল বিঘ্ন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ ও এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে তেহরানের পাল্টা হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আবারও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ না করলেও, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা ‘পুড়িয়ে দেওয়া হবে’ বলে হুমকি দিয়েছেন দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক জেনারেল। আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে বুধবার (৩ মার্চ) দেওয়া এক পোস্টে জেনারেল সরদার জব্বারি বলেন, আমরা তেলের পাইপলাইনেও হামলা চালাবো ও এই অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেবো না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাবে। এই হুমকির পরে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস পরিবহন হওয়া এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরপরও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই রয়ে গেছে। সংঘাত শুরু হওয়ার আগের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারির পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বেড়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের পর বড় ধরনের জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের সময় আন্তর্জাতিক সমন্বিত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে আইইএ গঠন করা হয়েছিল। সূত্র: এএফপি

জুমার নামাজে নিষেধাজ্ঞা দিলো ইসরায়েল আল আকসা মসজিদে

জুমার নামাজে নিষেধাজ্ঞা দিলো ইসরায়েল আল আকসা মসজিদে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পবিত্র আল আকসা মসজিদে রমজানের তৃতীয় জুম্মার নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার এক ভিডিওবার্তায় এ সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেয় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী (আইডিএফ)। একইসঙ্গে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে পবিত্র নগরী জেরুজালেমের সকল ধর্মীয় স্থাপনা। জানা গেছে, চলতি রমজানে প্রথমবারের মতো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত দুই জুম্মায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনির অংশগ্রহণে নামাজ অনুষ্ঠিত হয় আল আকসা প্রাঙ্গণে। প্রসঙ্গত, এবারের রমজান মাসে পশ্চিম তীর থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে আল আকসায় নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছিল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, জেরুজালেমে অবস্থিত আল আকসা মসজিদ মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান। ১৯৬৭ সালের ৬ দিনের যুদ্ধের পর জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল।

কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণ

কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণ কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দোহায় অবস্থানরত বার্তা সংস্থা এএফপির একজন প্রতিবেদক এই তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে দোহায় মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের বাসিন্দাদের ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থার’ অংশ হিসেবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছিল কাতার। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনা নিশানা করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব ও কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস হামলার শিকার হয়। এ ছাড়া দুবাইয়ের মার্কিন কনস্যুলেটেও হামলা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে কাতারের দোহায় মার্কিন দূতাবাসের আশপাশে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখন দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেল।

ইরানের সাথে যুদ্ধের মাশুল গুনছে ইসরায়েল, সপ্তাহে ক্ষতি ৯ বিলিয়ন শেকেল

ইরানের সাথে যুদ্ধের মাশুল গুনছে ইসরায়েল, সপ্তাহে ক্ষতি ৯ বিলিয়ন শেকেল ইরানকে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে গত শনিবার থেকে যৌথ হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। পাশাপাশি ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে ইসরায়েল। ৪ মার্চ ইসরায়েলি অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সাথে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের ফলে ইসরায়েলের সাপ্তাহিক অর্থনেতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে নয় বিলিয়ন সেকেলে। বর্তমানে ইসরায়েলে ‘রেড লেভেল’ বা সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত সীমিত করা হয়েছে এবং স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে ইসরায়েল কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে। যদি বিধিনিষেধ ‘রেড লেভেল’ থেকে কমিয়ে ‘অরেঞ্জ লেভেল’ এ আনা হয় তাহলে সাপ্তাহিক অর্থনৈতিক ক্ষতি চার দশমিক তিন বিলিয়ন শেকেলে নেমে আসবে। কারণ ‘অরেঞ্জ লেভেল’ এ ‘রেড লেভেল’ এর তুলনায় কর্মক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ কম। ইরানে হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলার ঢেউ শুরু হয়েছে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। আমেরিকান এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযান কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং জরুরি সেবা ব্যতীত সব ধরনের কর্মক্ষেত্র বন্ধ রাখা হয়েছে; বেশিরভাগ কর্মচারী বর্তমানে বাড়ি থেকে কাজ করছেন। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে নিমূলের নামে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে ইসরায়েল। গাজায় বিশাল অর্থ ব্যয় করে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও ২০২৫ সালে ইসরায়েলের অর্থনীতি ৩.১% বৃদ্ধি পেয়েছিল। গেল অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতির পর ধারণা করা হচ্ছিল ২০২৬ সালে এই প্রবৃদ্ধির হার ৫% ছাড়িয়ে যাবে। প্রসঙ্গত, এক মার্কিন ডলার সমান তিন শেকেলের কিছু বেশি।

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে যুদ্ধ, চোরাবালিতে আটকে গেছেন ট্রাম্প

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে যুদ্ধ, চোরাবালিতে আটকে গেছেন ট্রাম্প ইসরায়েলের সাথে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পেন্টাগন। ওয়াশিংটনের প্রাথমিক ধারণা ছিল এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে কিন্তু সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা বলছে এই লড়াই আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ফ্লোরিডার সদর দপ্তরে অতিরিক্ত গোয়েন্দা কর্মকর্তা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে। অন্তত ১০০ দিন বা তার বেশি সময় ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যেই এই বাড়তি জনবল চাওয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিই গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রথম বড় কোনো পদক্ষেপ। ফলে অনেকেই ধারণা করছেন, ওয়াশিংটন এক দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরুতে এই অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা জানালেও এখন স্বীকার করছেন যে এটি অনেক দীর্ঘ হতে পারে। পেন্টাগনের ভেতরে এই আকস্মিক তোড়জোড় দেখে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ওপর হামলার পরবর্তী ভয়াবহতা সম্পর্কে ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আগে সঠিক ধারণা ছিল না। এদিকে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০০ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অন্যদিকে কুয়েতে ইরানের পাল্টা হামলায় ছয় মার্কিন সেনার মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বীকার করেছেন, ইসরায়েলের পদক্ষেপের কারণেই ওয়াশিংটন এই সংঘাতে সরাসরি জড়াতে বাধ্য হয়েছে। তিনি জানান, ইসরায়েলের হামলার পর মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি আক্রমণ ঠেকাতে তারা আগেই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সামরিক অভিযানকে তার দীর্ঘ ৪০ বছরের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

কেন দূরত্ব বজায় রাখছে রাশিয়া-চীন

কেন দূরত্ব বজায় রাখছে রাশিয়া-চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর তেহরানের ঘনিষ্ঠ দুই কূটনৈতিক মিত্র রাশিয়া এবং চীন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তবে তারা এখন পর্যন্ত ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যাকে “মানবিক ও নৈতিক সব নিয়মের নির্মম লঙ্ঘন” বলে আখ্যা দেন। একই সময়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সারের সঙ্গে ফোনালাপে বলেন, শক্তি প্রয়োগে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না এবং তিনি সব পক্ষকে উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানান। রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানেরও দাবি জানিয়েছে। এসব পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায় যে ইরান, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তিন দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে আসছে এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের সম্পর্ক জোরদার করেছে। কৌশলগত অংশীদার, কিন্তু সামরিক জোট নয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া ও ইরান একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে। এতে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও শিক্ষা খাতে সমন্বয় জোরদারের কথা বলা হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ গোয়েন্দা ও সামরিক সমন্বয়ও বাড়ায় এবং ইরানের মাধ্যমে রাশিয়াকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিবহন করিডর প্রকল্পে কাজ শুরু করে। সম্প্রতি ভারত মহাসাগর এলাকায় দুই দেশ যৌথ নৌ-মহড়াও চালিয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই চুক্তিতে পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষার বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ কোনো এক দেশ যুদ্ধের মুখে পড়লে অন্য দেশকে সরাসরি সামরিকভাবে অংশ নিতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা এতে নেই। রুশ বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া সরাসরি ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না, কারণ এতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মস্কো নতুন কোনো বড় সংঘাতে জড়াতে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। চীন-ইরান সম্পর্কের সীমা ২০২১ সালে চীন ও ইরান ২৫ বছরের একটি সহযোগিতা চুক্তি করে, যার মাধ্যমে জ্বালানি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়ানো হয় এবং ইরানকে চীনের “বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে” যুক্ত করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেও সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে পরিষ্কার সীমা রেখেছে। চীনের নীতিগত অবস্থান হলো অন্য দেশের সংঘাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করা। এ কারণে চীন সম্ভবত কূটনৈতিক উদ্যোগ ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, ইরানের মোট অপরিশোধিত তেলের রপ্তানির প্রায় ৮৭ শতাংশই চীনে যায়। ফলে অর্থনৈতিকভাবে চীন ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। তবে চীনের বিশাল বৈশ্বিক বাণিজ্যের তুলনায় ইরান অপেক্ষাকৃত ছোট অংশীদার। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতা বিবেচনায় বেইজিং মূলত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায়। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিলে চীনের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, রাশিয়া ও চীন ইরানের প্রতি কূটনৈতিক সমর্থন দিলেও সরাসরি সামরিক সহায়তার পথে হাঁটতে চাইছে না। তারা মূলত আন্তর্জাতিক মঞ্চে চাপ সৃষ্টি, মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই এই সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সর্ববৃহৎ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের সর্ববৃহৎ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সর্ববৃহৎ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল-উদাইদতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে একই সময়ে অন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। খবর বিবিসি’র। বুধবার (৪ মার্চ) ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, কাতারের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে তার মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। অন্যটি আল-উদাইদ এলাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। এটি এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কাতার।

খামেনির উত্তরসূরি যে-ই হবেন, তাকেই হত্যা করা হবে : ইসরায়েল

খামেনির উত্তরসূরি যে-ই হবেন, তাকেই হত্যা করা হবে : ইসরায়েল ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেওয়া যেকোনো নেতাকেই হত্যা করা হবে বলে বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তেহরানে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন। তার উত্তরসূরি বেছে নিতে ইরানে প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে বুধবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিখেছেন, ইসরায়েলকে ধ্বংস এবং যুক্তরাষ্ট্র, মুক্ত বিশ্ব ও আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করতে এবং ইরানি জনগণকে দমন-পীড়নের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে ইরানি শাসকগোষ্ঠী যে নেতাই নির্বাচিত করুক, তাকে হত্যার নিশানা বানানো হবে। তার নাম যা-ই হোক বা তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, এটা ঘটবে।’

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা  নিয়ে কড়া বার্তা চীনের

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা  নিয়ে কড়া বার্তা চীনের মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে চীন। এ ছাড়া তারা নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই প্রণালির মধ্য দিয়ে যায়, পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্যও এ পথে পরিবাহিত হয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড শনিবার প্রণালিটি বন্ধ ঘোষণা করে, যার ফলে কয়েকটি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থা এ নৌপথে চলাচল স্থগিত করে। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘চীন সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে, উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি এড়াতে, হরমুজ প্রণালির নৌপথের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরো বড় প্রভাব পড়া প্রতিরোধ করতে আহ্বান জানাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ… চীন তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’ চীন ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা, যার বেশির ভাগই এই প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়।