যুক্তরাষ্ট্রে আবারও সাময়িক সরকারি কার্যক্রম শাটডাউন শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও সাময়িক সরকারি কার্যক্রম শাটডাউন শুরু তহবিল আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত জটিলতার জেরে মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে আজ থেকে সাময়িকভাবে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ বা শাটডাউন শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এর আগে, গত অক্টোবরে একবার শাটডাউনে পড়েছিল দেশটি। গতকাল মধ্যরাতের সময়সীমার আগে সিনেটে একটি অর্থায়ন প্যাকেজ পাস হয়। তবে সেটি কার্যকর হতে প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) অনুমোদন প্রয়োজন যা আগামী সোমবারের আগে পাওয়া যাচ্ছে না। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি খাতগুলোতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ প্যাকেজ সময়মতো পাস না হওয়ায় শুরু হয়েছে এই জটিলতা। যুক্তরাষ্ট্রের রীতি অনুযায়ী, যে কোনো বিল দেশটির পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্ন ও উচ্চ- উভয়পক্ষে পাস হওয়ার পর তা প্রেসিডেন্টের দপ্তরে যায়। সেখানে প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করার পর তা আইন হিসেবে কার্যকর হয়।

গাজায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি হত্যার কথা স্বীকার করলো ইসরায়েল

গাজায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি হত্যার কথা স্বীকার করলো ইসরায়েল গাজায় গত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে ইসরায়েল। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াাইনেট নিউজসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি গণমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিহতের পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসলেও, এখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিজেই প্রায় একই ধরনের একটি হিসাব মেনে নিয়েছে। এর আগে তেল আবিব দাবি করেছিল যে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের দেওয়া তথ্য বিশ্বাসযোগ্য নয়, যদিও জাতিসংঘ শুরু থেকেই ওই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছিল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে জানিয়েছেন যে, তাদের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার গাজাবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। তবে এই সংখ্যার মধ্যে নিখোঁজ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি আরও জানান যে, এই বিপুল সংখ্যক নিহতের মধ্যে কতজন সশস্ত্র যোদ্ধা ছিলেন এবং কতজন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ছিলেন, তা নিরূপণ করতে বর্তমানে সেনাবাহিনী কাজ করছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে যে, চূড়ান্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরে প্রকাশ করা হবে। ইসরায়েলের এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক মহলে গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৭১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নতুন করে আরও ৪৮০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।  গাজা কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহতদের একটি বড় অংশই নারী ও শিশু। এছাড়া উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়া অসংখ্য ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের এই নিহতের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে নিহতদের নাম ও বয়সের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে আসছে। বর্তমানে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি সেনাদের দ্বারা গাজায় শত শত কবর ধ্বংস করার মতো ঘটনার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে খোদ ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিশাল সংখ্যক প্রাণহানির এই তথ্যটি বেরিয়ে এল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে। গাজার ধ্বংসস্তূপের মাঝে আটকা পড়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও জরুরি মানবিক সহায়তার অভাব এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সূত্র: রয়টার্স

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা বোকামি: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা বোকামি: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গ্রিনল্যান্ড এবং শুল্ক ইস্যুতে মার্কিন চাপের মুখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা বোকামি হবে। স্থানীয় সময় শুক্রবার চীনের সাংহাইয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। চীন সম্পর্কিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে স্টারমার বলেন, আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ সরাসরি দেশের অভ্যন্তরে প্রভাব ফেলছে। তাই অস্থির বিশ্বে যুক্ত থাকতে হবে। এর আগে চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা করাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিক্রিয়ায় স্টারমার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য আমি দেখেছি। এই সফরের আগে আমরা তার টিমের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ট্রাম্প নিজেও এপ্রিলে চীন সফরে আসতে পারেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যা ঘটছে, তার প্রভাব সরাসরি আমাদের ঘরোয়া পরিস্থিতিতে পড়ছে। তাই আমাদের যুক্ত থাকতে হবে। বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা- সমন্বয় জরুরি বলে মনে করেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার পিসারিদিস। সূত্র: বিবিসি

৬৫ হাজার এইচ-২বি ভিসা দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের

৬৫ হাজার এইচ-২বি ভিসা দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় ৬৫ হাজার এইচ-২বি মৌসুমি গেস্ট ওয়ার্কার ভিসা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফেডারেল রেজিস্টারের এক নোটিশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংকটে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকা নিয়োগকর্তাদের জন্য এই ভিসাগুলো উন্মুক্ত করা হবে। প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিবছর যে ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসা দেওয়া হয়, তার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এতে স্বীকার করা হয়েছে যে এসব খাতে মার্কিন নিয়োগকর্তারা পর্যাপ্ত শ্রমিক খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। ২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেন এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের অপরাধী ও সমাজের ওপর বোঝা হিসেবে তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তার প্রশাসন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন পর্যালোচনার মাধ্যমে বৈধ অভিবাসনের কিছু পথও কঠোর করেছে। তবে অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা অতীতেও বাড়ানো হয়েছিল, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে এবং ট্রাম্পের ২০১৭ থেকে ২০২১ মেয়াদেও। মৌসুমি ব্যবসার নিয়োগকর্তারা, বিশেষ করে হোটেল খাত, দীর্ঘদিন ধরেই বেশি ভিসার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ট্রাম্পের কড়াকড়ি অভিবাসন নীতির কারণে কিছু নির্মাণ প্রতিষ্ঠান শ্রমিক সংকটের অভিযোগও করেছে। তবে অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা গোষ্ঠীগুলো এই ভিসার বিরোধিতা করে বলছে, এতে মার্কিন শ্রমিকদের মজুরি কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি কর্মী ভিসায় এক লাখ ডলার ফি আরোপ করে প্রযুক্তি খাতের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ আরও কঠিন করেছে, যা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ চলছে। ফেডারেল রেজিস্টারের নোটিশে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকর করতে অস্থায়ী একটি বিধি আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। সূত্র: রয়টার্স

যে কৌশলে ইরানের সরকার পতন ঘটাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

যে কৌশলে ইরানের সরকার পতন ঘটাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সরকারের পতন ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে দেশটির সরকারি অবকাঠামো ও ভবনে হামলা চালাতে পারে মার্কিন সেনারা। এছাড়া দেশটির সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা হতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানান যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। তিনি আরও জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে গতকাল নতুন আরেকটি মিসাইল ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে। এতে সবমিলিয়ে ওই অঞ্চলে এখন মার্কিনিদের ছয়টি মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ অবস্থান করছে। এগুলোর পাশাপাশি আছে রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। রয়টার্সকে কয়েকটি সূত্র বলেছেন, ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন পরিকল্পনা করছেন। ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো ইরানির সেনাবাহিনী ও সরকারি ভবনে হামলা চালিয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যেখানে ইসলামিক সরকারের পতন ঘটে যাবে। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। যা মাত্র কয়েকদিনে সহিংস রূপ ধারণ করে। ওই সময় হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হয়। তাদের সাহায্য করার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের সরকার পতনের পরিকল্পনা করছে।সূত্র জানিয়েছেন, যেসব অবকাঠামো ব্যবহার করে বিক্ষোভ দমন করা হয়েছে এবং যেসব কমান্ডার নির্দেশনা দিয়েছেন তাদের ওপর হামলা চালানোর ব্যাপারেও যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করছে। এর পাশাপাশি মিসাইল ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলাও বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে ৭৫ কংগ্রেসম্যানের চিঠি

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে ৭৫ কংগ্রেসম্যানের চিঠি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নয়েম–কে চিঠি দিয়েছেন ৭৫ জন মার্কিন কংগ্রেসম্যান। গতকাল পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভুক্তভোগী হচ্ছেন। এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান ককাসের চেয়ার কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং–সহ স্বাক্ষরকারীরা অবিলম্বে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্থগিতাদেশের কারণে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি এশিয়ান–আমেরিকান বৈধ ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারছেন না। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন, যা একটি বড় জনগোষ্ঠীকে কার্যত উপেক্ষা করার শামিল। কংগ্রেসম্যানরা বলেন, পারিবারিক, ব্যবসায়িক, বিনিয়োগ ও চাকরির উদ্দেশ্যে যারা প্রচলিত নিয়ম মেনে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, তাদের ‘সঠিক উপায়ে আসতে’ বলা হলেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগেই তাদের সঙ্গে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। চিঠিতে একে ‘নির্দয় আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেও অভিবাসনে আগ্রহীদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় নাইজারে ২০ জন নিহত গ্রেপ্তার ১১

সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় নাইজারে ২০ জন নিহত গ্রেপ্তার ১১ নাইজারের রাজধানী নিয়ামের দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় ২০ হামলাকারী নিহত হওয়ার দাবি করেছে দেশটির সরকার। একইসঙ্গে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় ফ্রান্স, বেনিন এবং আইভরি কোস্টকে দায়ী করা হয়েছে। পাশাপাশি হামলা প্রতিরোধের জন্য রুশ সেনাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে দেশটি। গতকাল পরিদর্শন করার পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই দাবি করেন জেনারেল আবদুরাহমানে তিয়ানি। এছাড়া হামলার জন্য কোন সশস্ত্র গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত দায় স্বীকার করেনি। নাইজারের প্রেসিডেন্টের মহল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। গত বুধবার রাত থেকে গতাল পর্যন্ত বিস্ফোরণ এবং গুলির ঘটনা ঘটেছিল।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হঠকারিতা রুখতে সরব চীন

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হঠকারিতা রুখতে সরব চীন ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যখন মারমুখী, তখন রণংদেহী মেজাজে সতর্ক করলো চীন। জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু চং ইরানের ওপর সামরিক চাপের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।  বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে চীনের সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু চং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক দুঃসাহসিকতা বা হঠকারিতার বিষয়ে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নিরাপত্তা পরিষদে কড়া বার্তা দিয়েছেন।  নিরাপত্তা পরিষদের ফিলিস্তিন ইস্যুসহ মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক এক বৈঠকে ফু চং বলেন, “ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। যুদ্ধের কালো ছায়া ঘনীভূত হওয়ার সাথে সাথে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।” তিনি আরো বলেন, “শক্তির ব্যবহার কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না। যেকোনো ধরনের সামরিক দুঃসাহসিকতা এই অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত অতল গহ্বরের দিকে ঠেলে দেবে।” ফু চং বলেন, “চীন আশা করে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক দেশগুলোর আহ্বানে সাড়া দেবে। তারা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং উত্তেজনা বাড়িয়ে ‘আগুনে ঘি ঢালা’ থেকে বিরত থাকবে।”তিনি উল্লেখ করেন, ইরান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এর ভবিষ্যৎ ইরানের জনগণকেই স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করতে দেওয়া উচিত। চীন ইরানে স্থিতিশীলতা দেখতে চায় এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার বিষয়টিকে সমর্থন করে। চীনা দূত আরো বলেন, “আমরা সব পক্ষকে জাতিসংঘ সনদের লক্ষ্য ও নীতি মেনে চলার, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ বা শক্তির হুমকি প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানাই।”বক্তব্যের শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য এই অঞ্চলের মানুষের। এটি বড় শক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তারের কুস্তি খেলার ময়দান নয়, কিংবা অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার শিকারও হওয়া উচিত নয়। চীন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে এই অঞ্চলের মানুষের স্বাধীন পছন্দকে সম্মান জানাতে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।

ভারতীয় রুপির রেকর্ড দরপতন, মান নামল সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে

ভারতীয় রুপির রেকর্ড দরপতন, মান নামল সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঐতিহাসিক দরপতন ঘটেছে ভারতীয় রুপির। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে ভারতীয় এই মুদ্রার মান। খবর রয়টার্সের। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ডলারের বিপরীতে রুপির মান কমে দাঁড়িয়েছে ৯১.৯৮৫০, যা গত সপ্তাহে হওয়া সর্বনিম্ন রেকর্ড ৯১.৯৬৫৯-কে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরে রুপির মান এখন পর্যন্ত ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের পণ্য রপ্তানির ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করার পর থেকে রুপির মান প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। অথচ ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া প্রান্তিকে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮.২ শতাংশ। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংকিং কোম্পানি গোল্ডম্যান স্যাকস-এর বিশ্লেষকরা বলেন, “যদিও আমরা আশা করছি যে ভারতীয় রপ্তানির ওপর বর্তমান উচ্চ মার্কিন শুল্ক শেষ পর্যন্ত হ্রাস পাবে, তবে এই মধ্যবর্তী সময়ের বিলম্ব ভারতের বৈদেশিক ভারসাম্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।” সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ মাসের মধ্যে রুপির মান ডলার প্রতি ৯৪-এ নেমে যেতে পারে। ব্যবসায়ীদের মতে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় স্পট মার্কেট খোলার আগেই ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। একজন বিদেশি ব্যাংক ব্যবসায়ী রয়টার্সকে জানান, রুপি যখন মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৯২ স্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছিল, তখন পতনের গতি ধীর করার জন্যই এই হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, চড়া মার্কিন শুল্ক ছাড়াও ব্যাপক সংখ্যক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চলে যাওয়া, সোনার মুদ্রা আমদানি বৃদ্ধি এবং রুপির ভবিষ্যৎ নিয়ে কর্পোরেট উদ্বেগের কারণে মুদ্রাটি চাপের মুখে রয়েছে। এমনকি ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হওয়া এবং সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করা সত্ত্বেও এই চাপ কমছে না। শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইউরো এবং চীনা ইউয়ানের বিপরীতেও রুপির মান ৭.৫ শতাংশ করে কমেছে। ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ডিসেম্বরে রুপির ‘রিয়েল এফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট’ ছিল ৯৫.৩, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। ক্রমবর্ধমান এই প্রতিকূলতা ভারতীয় মুদ্রাকে দিন দিন রিজার্ভ ব্যাংকের বাজার হস্তক্ষেপের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে। গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিট ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলার বিক্রি অব্যাহত থাকলেও রুপিতে সমর্থন দেওয়ার এই প্রচেষ্টা অভ্যন্তরীণ ঋণ বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। কারণ বাজার থেকে তারল্য কমে যাওয়ায় বন্ডের মুনাফা বা ইয়েল্ড বেড়ে যাচ্ছে। বন্ড ইয়েল্ডের ক্রমাগত বৃদ্ধি এবং মুদ্রার ওপর চাপ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে একটি নীতিগত ত্রিমুখী সংকট তৈরি করেছে। যেখানে মুদ্রার মান রক্ষা করা, ঋণের খরচ নিয়ন্ত্রণ করা এবং পুঁজির অবাধ প্রবাহ বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হলেও বিশ্ব রাজনীতির শুল্ক নীতি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চলে যাওয়া রুপির মানকে ঐতিহাসিকভাবে দুর্বল অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।

কলম্বিয়ায় যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, সবাই নিহত

কলম্বিয়ায় যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, সবাই নিহত কলম্বিয়ার উত্তরে যাত্রীবাহী একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ক্রু ও যাত্রীসহ বিমানে থাকা ১৫ জনের সবাই নিহত হয়েছেন। ভেনেজুয়েলা সীমান্তের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা সাতেনা নিশ্চিত করেছে। খবর বিবিসির। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, তাদের একটি বিচক্র্যাফট ১৯০০ মডেলের প্লেন ‘গুরুতর দুর্ঘটনার’ শিকার হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি। পরে একটি পাহাড়ি এলাকায় বিমানটির ধ্বংসাবশেষের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সরকারি যাত্রী তালিকা অনুযায়ী, বিমানে কলম্বিয়ার আইনপ্রণেতা দিয়োজেনেস কুইন্তেরো আমায়া এবং আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী কার্লোস সালসেদোও ছিলেন। সাতেনা জানায়, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১৭টা ৫ মিনিট) ভেনেজুয়েলা সীমান্তবর্তী শহর ওকানিয়ায় অবতরণের কথা থাকলেও তার ১১ মিনিট আগে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এনএসই ৮৮৪৯ নম্বর ফ্লাইটটি কুকুতা শহর থেকে উড্ডয়ন করেছিল। কুকুতা শহরটি ওকানিয়া থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। বিমানে ১৩ জন যাত্রী ও দুইজন ক্রু সদস্য ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সেমানা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নর্তে দে সান্তান্দের প্রদেশের গভর্নর উইলিয়াম ভিয়ামিজার জানান, এখন পর্যন্ত সাতটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। যে এলাকায় বিমানটি নিখোঁজ হয়েছিল, সেখানে কলম্বিয়ার ইএলএন গেরিলা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল রয়েছে। ওই এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সহায়তা করছে। এদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত।