‘যুদ্ধ-আলোচনা-যুদ্ধবিরতির দুষ্টচক্র’ সহ্য করব না: ইরান

‘যুদ্ধ-আলোচনা-যুদ্ধবিরতির দুষ্টচক্র’ সহ্য করব না: ইরান ইরান ‘যুদ্ধ, আলোচনা, যুদ্ধবিরতি এবং তারপর আবার যুদ্ধ’ এই দুষ্টচক্র সহ্য করবে না বলে সতর্ক করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ কথা বলেন। ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অত্যন্ত কঠোরভাবে এবং সম্ভবত একই সঙ্গে আঘাত হানা হবে। ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘যুদ্ধ, আলোচনা, যুদ্ধবিরতি এবং তারপর আবার একই ধারা পুনরাবৃত্তি—এই দুষ্টচক্র আমরা সহ্য করব না।’ তিনি চলমান সংঘাতকে ‘শুধু ইরানের জন্য নয়, পুরো অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য বিপর্যয়কর’ বলে উল্লেখ করেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা চলতে থাকলে ইরান পাল্টা প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে। তেহরান উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের শত্রু হিসেবে দেখে না—এ অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা বারবার বলেছি, তাদের সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমস্যা হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে। ইসমাইল বাঘাই আরও বলেন, এটি একটি অন্যায্য যুদ্ধ, যা ইরানের জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। শক্তভাবে প্রতিরোধ করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। সূত্র: আল-জাজিরা
ইসরায়েলে ইরানের বিমান হামলা, আহত ১৬

ইসরায়েলে ইরানের বিমান হামলা, আহত ১৬ ইসরায়েলের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। বুধবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব এবং নিকটবর্তী বনেই ব্রাক শহরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডোম (এমডিএ) জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। গোলার আঘাতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এমডিএ আরও জানিয়েছে, বাকি আহতদের আঘাত তুলনামূলকভাবে মাঝারি বা সামান্য এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বুধবারের এই আকস্মিক হামলায় ওই এলাকাগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিতে দেখা যায়। ঘটনার পর থেকেই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: সিএনএন
ইরানের নিশানায় এবার অ্যাপল-গুগলের অফিস, কর্মীদের দ্রুত কর্মস্থল ছাড়ার নির্দেশ

ইরানের নিশানায় এবার অ্যাপল-গুগলের অফিস, কর্মীদের দ্রুত কর্মস্থল ছাড়ার নির্দেশ ইরানের ভেতরে মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সহায়তার অভিযোগে ১৮টি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন সংস্থাকে সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, অ্যাপল, গুগল, মেটা এবং মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টসহ এইচপি, ইনটেল, আইবিএম ও সিস্কোর মতো হার্ডওয়্যার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই তালিকায় টেসলা, এনভিডিয়া, ওরাকল এবং বোয়িংয়ের মতো বড় নামও রয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এই সংস্থাগুলোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ইন্টারনেট যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে গুপ্তহত্যা ও নাশকতামূলক হামলার ছক তৈরি করছে। ইরান সময় ১ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে এই প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা এসব কোম্পানির আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো ‘ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরান এই কঠোর অবস্থান নিল। সম্ভাব্য এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আইআরজিসি ওইসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অবিলম্বে কর্মস্থল ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনো দেশে থাকা এই কোম্পানিগুলোর অফিসের এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকেও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বারবার সতর্ক করার পরেও তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করেনি, যার সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে মঙ্গলবারও বেশ কয়েকজন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সূত্র: প্রেস টিভি
শর্ত মানলে সংঘাত অবসানের সদিচ্ছা আছে ইরানের

শর্ত মানলে সংঘাত অবসানের সদিচ্ছা আছে ইরানের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরানের ‘সদিচ্ছা’ রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের মধ্যে ফোনালাপের সময় এ মন্তব্য করেন পেজেশকিয়ান। বিবিসির সিনিয়র নিউজ করেসপন্ডেন্ট জন সাডওয়ার্থ জানিয়েছেন, ওই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তা মার্কিন শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে বাজার এ মন্তব্যে আশার আলো দেখলেও ইরানের অবস্থান নিয়ে পরিষ্কার আশাবাদ দেখছেন না অনেকে। জন সাডওয়ার্থ বলছেন, যুদ্ধ শেষ করার ‘সদিচ্ছার’ দাবির সঙ্গে কঠোর শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেজেশকিয়ান নিশ্চয়তা দাবি করেছেন যে, ভবিষ্যতে পুনরায় কোনো সংঘাত শুরু হবে না।গত সপ্তাহে আমেরিকার ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনার জবাবে ইরান যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল, তাতেও আগ্রাসনবিরোধী নিশ্চয়তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এদিকে, প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর আইআরসিজি পাল্টা আঘাতের পরিধি বাড়িয়ে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এর অন্তর্ভুক্ত করার নতুন হুমকি দিয়েছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা
ইসরায়েলে আহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ হাজার ছাড়িয়েছে

ইসরায়েলে আহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ হাজার ছাড়িয়েছে ইসরায়েলে যুদ্ধকালীন আহতের সংখ্যা বেড়ে ছয় হাজার ২৮৬ হয়েছে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্য ইসরায়েলের সর্বশেষ আহতদের বাদ দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৪ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে যুদ্ধে আহত ইসরায়েলিদের মোট সংখ্যা বেড়ে ছয় হাজার ২৮৬ হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০০ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর তথ্য মতে, মধ্যাঞ্চলীয় বনি ব্রাক এলাকায় ১৪ জন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন ১১ বছর বয়সী মেয়ে এবং একজন ১৩ বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে দেশটির দিকে ধেয়ে আসা আরো ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ের মধ্যে এটি ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ছোড়া তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় ইরান থেকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র খোলা জায়গায় পড়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ওয়াইনেটের তথ্য মতে, এই হামলাগুলো দেশের মধ্য, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলসহ সমগ্র ইসরায়েলজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংবাদে আরো বলা হয়েছে, উত্তর ইসরায়েলের পশ্চিম গ্যালিলি অঞ্চলে একটি ড্রোন অনুপ্রবেশের বিষয়েও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এর আগে মধ্য ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে চালানো একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেন্দ্রীয় বনি ব্রাকে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। সূত্র : আলজাজিরা
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানাল আমিরাত, বাংলাদেশে সম্ভাব্য ২৮ মে?

ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানাল আমিরাত, বাংলাদেশে সম্ভাব্য ২৮ মে? মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা ২০২৬ সালের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আগামী ২৭ মে পালিত হতে পারে পবিত্র ঈদুল আজহা। দেশটির জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্বাভাসের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে গালফ নিউজ। জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৬ মে (মঙ্গলবার) পবিত্র আরাফাত দিবস পালিত হতে পারে। এর ধারাবাহিকতায় ২৭ মে দেশটিতে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার প্রথা অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাধারণত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এক দিন পর ঈদ পালন করা হয়। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশে ২৮ মে বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান পাস ইসরায়েলের পার্লামেন্টে

ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান পাস ইসরায়েলের পার্লামেন্টে প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য ফাঁসিকে স্বাভাবিক শাস্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কট্টর-ডানপন্থী মিত্রদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে সোমবার এই আইন পাস করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই আইন ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে। কিন্তু একই ধরনের অপরাধে জড়িত ইহুদি ইসরায়েলিদের জন্য তা প্রযোজ্য হবে না। এই আইনে দণ্ডাদেশের ৯০ দিনের মধ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রয়েছে, যেখানে বিলম্বের জন্য কিছু সুযোগ রাখা হলেও ক্ষমার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এতে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আরোপের বিকল্প রাখা হয়েছে, তবে তা কেবল অনির্দিষ্ট ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে।’ ইসরায়েল ১৯৫৪ সালে হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করে। ইসরায়েলে বেসামরিক বিচারের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন নাৎসি হলোকাস্টের অন্যতম স্থপতি অ্যাডলফ আইখম্যান, যাকে ১৯৬২ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পশ্চিম তীরের সামরিক আদালতগুলো ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিনি দণ্ডিতদের মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে। কিন্তু তারা তা করেনি। এই আইনটি প্রচার করেন কট্টর-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির, যিনি ভোটের আগে ফাঁসির দড়ির আকৃতির ল্যাপেল পিন পরতেন। পার্লামেন্টে বেন-গাভির বলেন, “আজ নিহতদের জন্য ন্যায়বিচারের দিন, শত্রুদের জন্য প্রতিরোধের দিন। যে সন্ত্রাস বেছে নেয়, সে মৃত্যুকে বেছে নেয়।”
ইরানের শর্ত-জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হলেই যুদ্ধ শেষ : পেজেশকিয়ান

ইরানের শর্ত-জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হলেই যুদ্ধ শেষ : পেজেশকিয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরানের দেওয়া শর্ত এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হলেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি শাসনের চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সোমবার (৩০ মার্চ) প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সভাপতিত্বে ইরানের মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এই সংকটময় মুহূর্তে জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার জন্য সকল খাতের প্রশংসা করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আগ্রাসন মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং সেবাপ্রদান অব্যাহত রাখা জাতীয় সক্ষমতার প্রধান স্তম্ভ।’ ‘শত্রু’র ওপর চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত এই ধারা বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত কেবল ইরানের সম্মান, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার মাধ্যমেই নেওয়া হবে।’
ইরানে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১১

ইরানে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১১ ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, গত রাতে মারকাজি প্রদেশের মাহাল্লাত শহরে এক হামলায় ১১ জন নিহত এবং আরো ১৫ জন আহত হয়েছেন। সংবাদ সংস্থাটি জানায়, মাহাল্লাত শহরের তিনটি আবাসিক ইউনিটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তেহরান এবং মধ্য ইসফাহানজুড়েও মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা সংঘটিত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানের কেন্দ্রস্থলে ইরানি সরকারি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তেহরানের পশ্চিম উপকণ্ঠে অবস্থিত ভার্দাভার্দ এলাকার বাসিন্দাদের আগামী চার ঘণ্টার মধ্যে আসন্ন হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
ইরানি হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন কার্যক্রম শুরু

ইরানি হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন কার্যক্রম শুরু মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই অঞ্চলের মার্কিন ও ইসরায়েলি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরানের নিজস্ব শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমেরিকান ও ইসরায়েলি ঘনিষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এই হুমকির পর নিরাপত্তার খাতিরে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি (এইউবি) সোমবার ও মঙ্গলবার তাদের সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ রিমোট বা অনলাইনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই পথে হেঁটেছে লেবানিজ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি। তারা তাদের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, পুরো অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আসা ব্যাপক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে তারাও আগামী দুই দিন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এই যুদ্ধের শুরু থেকেই অনলাইনে পাঠদান করছে। কাতার নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার দিনই কাতারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিস্টেন্স লার্নিং বা দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। এই তালিকায় রয়েছে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ইন কাতার, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম এবং ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও চলতি মাসের শুরুর দিকে একই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আইআরজিসির এই সরাসরি হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা এখন এক চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তার সংকটের মুখে পড়েছে। ইরানি হামলার সরাসরি হুমকির মুখে মধ্যপ্রাচ্যের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে লেবানন, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এখন ঘরবন্দি অবস্থায় অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের ডামাডোলে হঠাৎ করে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গবেষণাগারের কাজ এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং শিক্ষাবিদগণ জানিয়েছেন, যুদ্ধের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে শিক্ষাঙ্গনকে টেনে আনা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। অনেক শিক্ষার্থীই এখন নিরাপত্তার অভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন, যা এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাকাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।