নিজ নাগরিকদের ইরাক ছাড়তে বললো যুক্তরাষ্ট্র

নিজ নাগরিকদের ইরাক ছাড়তে বললো যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছেড়ে যেতে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় এ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাকি দূতাবাস। দূতাবাস জানিয়েছে, ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশজুড়ে—কুর্দি অঞ্চলে, মার্কিন নাগরিক ও যুক্তরাষ্ট্র–সম্পর্কিত লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এ কারণে মার্কিন নাগরিকদের ইরাক ত্যাগ করতে এবং বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা এরবিলে থাকা কনস্যুলেট জেনারেলে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের সতর্কবার্তায় বলা হয়, ইরাকের আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রকেট হামলার ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান। এ কারণে দেশটির আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। যারা দেশ ছাড়তে চান, তাদেরকে আকাশপথের পরিবর্তে জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব ও তুরস্কগামী স্থলপথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় তেল মজুদ ছাড়তে শুরু করেছে জাপান

রাষ্ট্রীয় তেল মজুদ ছাড়তে শুরু করেছে জাপান ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব প্রশমিত করতে নিজেদের কৌশলগত রাষ্ট্রীয় তেল মজুদ থেকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে জাপান। দেশটির অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কানামে মোরিমোতো এক সংবাদ সংস্থাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, টোকিও এক মাসের সমপরিমাণ সরকারি মজুদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এখন বেসরকারি খাতের ১৫ দিনের পেট্রোলিয়াম মজুদ বাজারে ছাড়ার কাজ শুরু করেছেন কর্মকর্তারা। জাপান বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম তেল আমদানিকারক রাষ্ট্র। দেশটির মোট চাহিদার ৯০ শতাংশেরও বেশি তেল আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, যার ফলে এই অঞ্চলের যেকোনো অস্থিতিশীলতা জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। আজ ইরানের সেনাবাহিনী এমন দাবি করেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত মিডিয়া এমন খবর প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, কোস্টাল ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রেস টিভিতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিংকনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ইরনা সংবাদ সংস্থা নৌবাহিনী কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এই অপারেশন পরিচালিত হয়েছে। ইরনার তথ্যানুযায়ী, ইরানি নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি বলেন, শত্রুপক্ষের এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার অ্যাব্রাহাম লিংকনের চলাচল নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সীমায় প্রবেশ করলে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে আঘাত করা হবে। সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, কোস্টাল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন ক্যারিয়ার গ্রুপের দিকে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। যার ফলে ক্যারিয়ারকে অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ২৬তম দিন গড়িয়েছে যুদ্ধ। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এতে সারাবিশ্বে জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সম্পত্তির দাম কমছে দুবাইয়ে

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সম্পত্তির দাম কমছে দুবাইয়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এই যুদ্ধ তিন সপ্তাহ পেরিয়ে চার সপ্তাহে পড়েছে। এ কারণে ইউএইর বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে গড়ে ওঠা ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে দুবাইয়ে প্রোপার্ট মার্কেট বা সম্পত্তির বাজারে লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত কমছে। ইতোমধ্যে কিছু আবাসন এজেন্ট দাম কমানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এদিকে আবাসন কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামও কমেছে। বুর্জ খলিফার নির্মাতা ইমার প্রোপার্টিজের শেয়ার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুবাই শেয়ারবাজারে ২৬ শতাংশের বেশি কমেছে। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকদের এক নোট অনুযায়ী, চলতি মার্চের প্রথম ১২ দিনে ইউএইর আবাসন খাতে লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কমেছে। একইভাবে গত মাসের (ফেব্রুয়ারি) একই সময়ের তুলনায় লেনদেন পরিমাণ ৪৯ শতাংশ কম। ইতিমধ্যে ইউএইর কিছু সম্পত্তি বড় ছাড়ে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের তথ্য ও রয়টার্সের পর্যালোচনা করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা অনুযায়ী, সম্পত্তির দাম কোথাও কোথাও ১২-১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রিয়েল এস্টেট খাতের উত্থান দুবাইয়ের অর্থনৈতিক উত্থানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেছে। তবে টানা পাঁচ বছর দাম বাড়ার পর বাজারে মন্দার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। বর্তমান সংঘাত এই বাজারের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। করমুক্ত নীতির কারণে ধনী অভিবাসীদের ঢলই এত দিন চাহিদা বাড়িয়ে রেখেছিল। সিটি ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই যুদ্ধ দুবাইয়ে ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রত্যাশায় ‘উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি’ তৈরি করেছে। এতে বাড়ির ক্রেতা ও সম্পত্তি বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধসহ ৫ শর্ত ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধসহ ৫ শর্ত ইরানের ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে পৌঁছাতে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে ইরান। সোমবার হিব্রু গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে চলমান যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরান পাঁচটি শর্ত দিয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবে এই সংঘাত নিরসনে ইরান কিছু কঠোর আনুষ্ঠানিক দাবি তুলে ধরেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম শর্ত হিসেবে ইরান চেয়েছে ভবিষ্যতে আর যেন যুদ্ধ শুরু না হয়-এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গঠনের দাবি জানিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ কার্যত তাদের হাতেই থাকতে হবে। তৃতীয় শর্ত হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে ইরান। তাদের মতে, এসব ঘাঁটি থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে। চতুর্থ শর্তে যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান। ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক হামলায় দেশের অবকাঠামো ও অর্থনীতির বড় ক্ষতি হয়েছে, তাই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পঞ্চম শর্ত হিসেবে ইরান অভিযোগ করেছে, কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচার চালাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়া বা তাদের হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে দেশটি। এর আগে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন বেশ কিছুদিন ধরে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান আলোচনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। এরপর থেকে ইরান ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছেই।
৪র্থ বারের মতো ক্ষমতায় আসতে পারে মমতা ব্যানার্জির সরকার

৪র্থ বারের মতো ক্ষমতায় আসতে পারে মমতা ব্যানার্জির সরকার পশ্চিমবঙ্গে আরও একটি মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে পারে মমতা ব্যানার্জি-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে দলটি ১৮৪–১৯৪টি আসন পেতে পারে বলে একটি জনমত জরিপে আভাস মিলেছে। সর্বভারতীয় গণমাধ্যম CNN-News18-এ প্রকাশিত ‘ভোট-ভাইব’ জরিপ অনুযায়ী, প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পেতে পারে ৯৮–১০৮টি আসন। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে তারা অনেকটাই পিছিয়ে থাকবে। জরিপে আরও বলা হয়েছে, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট-সহ অন্যান্য দল মিলিয়ে পেতে পারে মাত্র ১-৩টি আসন। ভোটের হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ৪১.৯ শতাংশ এবং বিজেপি ৩৪.৯ শতাংশ ভোট। জরিপে বলা হচ্ছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রবণতারই প্রতিফলন ঘটতে পারে এবারের বিধানসভা ভোটে। সম্প্রদায়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মুসলিম ভোটারদের মধ্যে তৃণমূলের শক্ত অবস্থান বজায় রয়েছে—৫৭.৬ শতাংশ তাদের সমর্থন করছে। অন্যদিকে তফসিলি উপজাতিদের মধ্যে বিজেপির সমর্থন ৫১ শতাংশ। তফসিলি জাতি ও দলিত ভোটারদের মধ্যে কিছুটা বিভাজন থাকলেও ৪৩ শতাংশ বিজেপি এবং ৩৯.৫ শতাংশ তৃণমূলকে সমর্থন করছে। মুখ্যমন্ত্রী পদের পছন্দের তালিকাতেও এগিয়ে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জি—৪৮.৫ শতাংশ সমর্থন নিয়ে শীর্ষে। তাঁর পরে রয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (৩৩.৪ শতাংশ)। এছাড়া মোহাম্মদ সেলিম পেয়েছেন ৪.৩ শতাংশ এবং অধীর রঞ্জন চৌধুরী পেয়েছেন ৩.৭ শতাংশ সমর্থন। জরিপে উঠে এসেছে, এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু বেকারত্ব—৩৭.২ শতাংশ উত্তরদাতা এটিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা, নারী নিরাপত্তা, মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে জরিপে বলা হয়েছে, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণও প্রভাব ফেলতে পারে নির্বাচনে। বিশেষ করে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (এজেইউপি) এবং অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর জোট তৃণমূলের ভোটব্যাংকে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের কাজকে ৪৩.৩ শতাংশ মানুষ ‘ভালো’ বা ‘খুব ভালো’ বললেও ৩৮.৯ শতাংশ একে ‘খারাপ’ বা ‘খুব খারাপ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। এতে বোঝা যায়, সরকারের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি কিছুটা অসন্তোষও রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের অভাব, দুর্বল সংগঠন ও জনসংযোগের ঘাটতি। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২ আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ৪ মে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, জনসমর্থন নেমেছে ৩৬ শতাংশে

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, জনসমর্থন নেমেছে ৩৬ শতাংশে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধের জেরে ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি আমেরিকানদের কাছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। রয়টার্স/ইপসোস এর সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্পের জনসমর্থন এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবার শেষ হওয়া চার দিনব্যাপী এই জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৬ শতাংশ আমেরিকান ট্রাম্পের কর্মদক্ষতার ওপর আস্থা রেখেছেন। গত সপ্তাহে রয়টার্স/ইপসোস-এর জরিপে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশের অর্থনীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে আমেরিকানদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন; অথচ ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় এই বিষয়টিই ছিল তার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি। দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ট্রাম্পের ওপর আস্থা রেখেছেন মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ। এটি ট্রাম্পের দুই মেয়াদের রাষ্ট্রপতিত্বের মধ্যে সর্বনিম্ন রেটিং। এমনকি তার পূর্বসূরি ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের সর্বনিম্ন অর্থনৈতিক রেটিংয়ের চেয়েও এটি কম। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনগুলোতে ট্রাম্পের সামগ্রিক জনসমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ এবং গত বছরের গ্রীষ্মকাল থেকে এটি মূলত ৪০ শতাংশের আশপাশে ছিল। বর্তমান রেটিং তার প্রথম মেয়াদের সর্বনিম্ন রেটিং (৩৩ শতাংশ) এবং জো বাইডেনের সর্বনিম্ন রেটিংয়ের (৩৫ শতাংশ) চেয়ে কিছুটা উপরে। ক্ষমতায় আসার আগে ট্রাম্প ‘বোকামিপূর্ণ যুদ্ধ’ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিলেও ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি পাল্টে দিচ্ছে। জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৫ শতাংশ আমেরিকান ইরানের ওপর হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৭ শতাংশ। অন্যদিকে, ৬১ শতাংশ মানুষ এই হামলার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, গত সপ্তাহে যা ছিল ৫৯ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যে ১০০০ প্যারাট্রুপার মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে ১০০০ প্যারাট্রুপার মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধে উত্তেজনার বৃদ্ধির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে এক হাজার প্যারাট্রুপার মোতায়েন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের মতে, মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় এক হাজার সৈন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হবে। এর ফলে ওই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি আরও বাড়বে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বলছে- তারা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই দলে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল ব্র্যান্ডন টেগটমায়ার এবং ডিভিশন স্টাফ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়াও রয়েছে ১ম ব্রিগেড কমব্যাট টিমের একটি ব্যাটালিয়ন, যা বর্তমানে ডিভিশনের ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স (আইআরএফ) হিসেবে কাজ করছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে, ডিভিশন স্টাফ এবং ব্যাটালিয়নের প্রাথমিক অংশ এক সপ্তাহের মধ্যে মোতায়েন শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে; ব্রিগেডের অন্যান্য অংশও পরবর্তীতে মোতায়েন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও পরিস্থিতির অগ্রগতির সাথে সাথে এই প্রত্যাশাগুলো পরিবর্তিত হতে পারে। সূত্রটি জানিয়েছে, ব্রিগেডটি মধ্যপ্রাচ্যের ‘প্রস্তুত ইউনিট’ হিসেবে কাজ করবে। যেকোনও সময় প্রয়োজনে তাদের তলব করা হবে। ২০২০ সালে ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। আইআরএফ হলো এমন একটি ব্রিগেড, যা স্বল্প সময়ের নোটিশে স্থানান্তরের জন্য প্রস্তুত থাকে এবং একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী হিসেবে কাজ করে, যা তলব করা হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোতায়েন হতে সক্ষম। সেনাবাহিনীর ব্রিগেডের বিভিন্ন দলের মধ্যে আইআরএফ-এর এই দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে বদল হয়। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ২৬তম দিন গড়িয়েছে যুদ্ধ। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটি হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এতে সারাবিশ্বে জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ২০৮ শিশু নিহত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ২০৮ শিশু নিহত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহত শিশুর সংখ্যা বেড়ে ২০৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ইরানের জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান জাফর মিয়াদফার এ তথ্য জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভেশন চ্যানেল আইআরআইবি কর্তৃক প্রকাশিত এক ভিডিও বিবৃতিতে জাফর বলেন, নিহত ২০৮ জন শিশুর মধ্যে ১৬৮ জনই যুদ্ধের শুরুতে মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছে। মিয়াদফার আরও জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে ১৩ জনের বয়স পাঁচ বছরের কম এবং সর্বকনিষ্ঠ শিশুটির বয়স ছিল মাত্র তিন দিন। ইরান সরকারের তথ্যানুযায়ী, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেশজুড়ে দেড় হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এদিকে, আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনা-তে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ-রেজা জাফরকান্দি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রায় ৩১৮টি স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও জরুরি সেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৯টি জরুরি সেবা কেন্দ্র, ১৮৬টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ৪০টি হাসপাতাল। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতালগুলোর মধ্যে অন্তত ১২টি বর্তমানে সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রায় ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অকেজো হয়ে পড়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৪,৮২৯ জন আহত হয়েছে : ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৪,৮২৯ জন আহত হয়েছে : ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত ইসরায়েলের ৪৮২৯ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেল আবিব। আজ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৪৮২৯ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১১ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং ১২ জনের অবস্থা গুরুতর। উল্লেখ্য-গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে যৌথ হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে ইরান কয়েকটি আরব দেশে যেখানে মার্কিন ঘাঁটিসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আছে সেখানেও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এই সংঘাত এখন ওই অঞ্চলের ১৪ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।