৬৫ হাজার এইচ-২বি ভিসা দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের

৬৫ হাজার এইচ-২বি ভিসা দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় ৬৫ হাজার এইচ-২বি মৌসুমি গেস্ট ওয়ার্কার ভিসা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফেডারেল রেজিস্টারের এক নোটিশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংকটে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকা নিয়োগকর্তাদের জন্য এই ভিসাগুলো উন্মুক্ত করা হবে। প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিবছর যে ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসা দেওয়া হয়, তার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এতে স্বীকার করা হয়েছে যে এসব খাতে মার্কিন নিয়োগকর্তারা পর্যাপ্ত শ্রমিক খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। ২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেন এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের অপরাধী ও সমাজের ওপর বোঝা হিসেবে তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তার প্রশাসন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন পর্যালোচনার মাধ্যমে বৈধ অভিবাসনের কিছু পথও কঠোর করেছে। তবে অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা অতীতেও বাড়ানো হয়েছিল, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে এবং ট্রাম্পের ২০১৭ থেকে ২০২১ মেয়াদেও। মৌসুমি ব্যবসার নিয়োগকর্তারা, বিশেষ করে হোটেল খাত, দীর্ঘদিন ধরেই বেশি ভিসার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ট্রাম্পের কড়াকড়ি অভিবাসন নীতির কারণে কিছু নির্মাণ প্রতিষ্ঠান শ্রমিক সংকটের অভিযোগও করেছে। তবে অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা গোষ্ঠীগুলো এই ভিসার বিরোধিতা করে বলছে, এতে মার্কিন শ্রমিকদের মজুরি কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি কর্মী ভিসায় এক লাখ ডলার ফি আরোপ করে প্রযুক্তি খাতের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ আরও কঠিন করেছে, যা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ চলছে। ফেডারেল রেজিস্টারের নোটিশে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকর করতে অস্থায়ী একটি বিধি আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। সূত্র: রয়টার্স
যে কৌশলে ইরানের সরকার পতন ঘটাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

যে কৌশলে ইরানের সরকার পতন ঘটাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সরকারের পতন ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে দেশটির সরকারি অবকাঠামো ও ভবনে হামলা চালাতে পারে মার্কিন সেনারা। এছাড়া দেশটির সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা হতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানান যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। তিনি আরও জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে গতকাল নতুন আরেকটি মিসাইল ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে। এতে সবমিলিয়ে ওই অঞ্চলে এখন মার্কিনিদের ছয়টি মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ অবস্থান করছে। এগুলোর পাশাপাশি আছে রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। রয়টার্সকে কয়েকটি সূত্র বলেছেন, ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন পরিকল্পনা করছেন। ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো ইরানির সেনাবাহিনী ও সরকারি ভবনে হামলা চালিয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যেখানে ইসলামিক সরকারের পতন ঘটে যাবে। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। যা মাত্র কয়েকদিনে সহিংস রূপ ধারণ করে। ওই সময় হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হয়। তাদের সাহায্য করার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের সরকার পতনের পরিকল্পনা করছে।সূত্র জানিয়েছেন, যেসব অবকাঠামো ব্যবহার করে বিক্ষোভ দমন করা হয়েছে এবং যেসব কমান্ডার নির্দেশনা দিয়েছেন তাদের ওপর হামলা চালানোর ব্যাপারেও যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করছে। এর পাশাপাশি মিসাইল ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলাও বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে ৭৫ কংগ্রেসম্যানের চিঠি

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে ৭৫ কংগ্রেসম্যানের চিঠি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নয়েম–কে চিঠি দিয়েছেন ৭৫ জন মার্কিন কংগ্রেসম্যান। গতকাল পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভুক্তভোগী হচ্ছেন। এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান ককাসের চেয়ার কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং–সহ স্বাক্ষরকারীরা অবিলম্বে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্থগিতাদেশের কারণে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি এশিয়ান–আমেরিকান বৈধ ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারছেন না। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন, যা একটি বড় জনগোষ্ঠীকে কার্যত উপেক্ষা করার শামিল। কংগ্রেসম্যানরা বলেন, পারিবারিক, ব্যবসায়িক, বিনিয়োগ ও চাকরির উদ্দেশ্যে যারা প্রচলিত নিয়ম মেনে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, তাদের ‘সঠিক উপায়ে আসতে’ বলা হলেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগেই তাদের সঙ্গে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। চিঠিতে একে ‘নির্দয় আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেও অভিবাসনে আগ্রহীদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় নাইজারে ২০ জন নিহত গ্রেপ্তার ১১

সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় নাইজারে ২০ জন নিহত গ্রেপ্তার ১১ নাইজারের রাজধানী নিয়ামের দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় ২০ হামলাকারী নিহত হওয়ার দাবি করেছে দেশটির সরকার। একইসঙ্গে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় ফ্রান্স, বেনিন এবং আইভরি কোস্টকে দায়ী করা হয়েছে। পাশাপাশি হামলা প্রতিরোধের জন্য রুশ সেনাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে দেশটি। গতকাল পরিদর্শন করার পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই দাবি করেন জেনারেল আবদুরাহমানে তিয়ানি। এছাড়া হামলার জন্য কোন সশস্ত্র গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত দায় স্বীকার করেনি। নাইজারের প্রেসিডেন্টের মহল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। গত বুধবার রাত থেকে গতাল পর্যন্ত বিস্ফোরণ এবং গুলির ঘটনা ঘটেছিল।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হঠকারিতা রুখতে সরব চীন

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হঠকারিতা রুখতে সরব চীন ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যখন মারমুখী, তখন রণংদেহী মেজাজে সতর্ক করলো চীন। জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু চং ইরানের ওপর সামরিক চাপের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে চীনের সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু চং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক দুঃসাহসিকতা বা হঠকারিতার বিষয়ে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নিরাপত্তা পরিষদে কড়া বার্তা দিয়েছেন। নিরাপত্তা পরিষদের ফিলিস্তিন ইস্যুসহ মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক এক বৈঠকে ফু চং বলেন, “ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। যুদ্ধের কালো ছায়া ঘনীভূত হওয়ার সাথে সাথে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।” তিনি আরো বলেন, “শক্তির ব্যবহার কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না। যেকোনো ধরনের সামরিক দুঃসাহসিকতা এই অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত অতল গহ্বরের দিকে ঠেলে দেবে।” ফু চং বলেন, “চীন আশা করে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক দেশগুলোর আহ্বানে সাড়া দেবে। তারা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং উত্তেজনা বাড়িয়ে ‘আগুনে ঘি ঢালা’ থেকে বিরত থাকবে।”তিনি উল্লেখ করেন, ইরান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এর ভবিষ্যৎ ইরানের জনগণকেই স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করতে দেওয়া উচিত। চীন ইরানে স্থিতিশীলতা দেখতে চায় এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার বিষয়টিকে সমর্থন করে। চীনা দূত আরো বলেন, “আমরা সব পক্ষকে জাতিসংঘ সনদের লক্ষ্য ও নীতি মেনে চলার, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ বা শক্তির হুমকি প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানাই।”বক্তব্যের শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য এই অঞ্চলের মানুষের। এটি বড় শক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তারের কুস্তি খেলার ময়দান নয়, কিংবা অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার শিকারও হওয়া উচিত নয়। চীন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে এই অঞ্চলের মানুষের স্বাধীন পছন্দকে সম্মান জানাতে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।
ভারতীয় রুপির রেকর্ড দরপতন, মান নামল সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে

ভারতীয় রুপির রেকর্ড দরপতন, মান নামল সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঐতিহাসিক দরপতন ঘটেছে ভারতীয় রুপির। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে ভারতীয় এই মুদ্রার মান। খবর রয়টার্সের। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ডলারের বিপরীতে রুপির মান কমে দাঁড়িয়েছে ৯১.৯৮৫০, যা গত সপ্তাহে হওয়া সর্বনিম্ন রেকর্ড ৯১.৯৬৫৯-কে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরে রুপির মান এখন পর্যন্ত ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের পণ্য রপ্তানির ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করার পর থেকে রুপির মান প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। অথচ ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া প্রান্তিকে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮.২ শতাংশ। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংকিং কোম্পানি গোল্ডম্যান স্যাকস-এর বিশ্লেষকরা বলেন, “যদিও আমরা আশা করছি যে ভারতীয় রপ্তানির ওপর বর্তমান উচ্চ মার্কিন শুল্ক শেষ পর্যন্ত হ্রাস পাবে, তবে এই মধ্যবর্তী সময়ের বিলম্ব ভারতের বৈদেশিক ভারসাম্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।” সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ মাসের মধ্যে রুপির মান ডলার প্রতি ৯৪-এ নেমে যেতে পারে। ব্যবসায়ীদের মতে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় স্পট মার্কেট খোলার আগেই ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। একজন বিদেশি ব্যাংক ব্যবসায়ী রয়টার্সকে জানান, রুপি যখন মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৯২ স্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছিল, তখন পতনের গতি ধীর করার জন্যই এই হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, চড়া মার্কিন শুল্ক ছাড়াও ব্যাপক সংখ্যক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চলে যাওয়া, সোনার মুদ্রা আমদানি বৃদ্ধি এবং রুপির ভবিষ্যৎ নিয়ে কর্পোরেট উদ্বেগের কারণে মুদ্রাটি চাপের মুখে রয়েছে। এমনকি ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হওয়া এবং সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করা সত্ত্বেও এই চাপ কমছে না। শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইউরো এবং চীনা ইউয়ানের বিপরীতেও রুপির মান ৭.৫ শতাংশ করে কমেছে। ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ডিসেম্বরে রুপির ‘রিয়েল এফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট’ ছিল ৯৫.৩, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। ক্রমবর্ধমান এই প্রতিকূলতা ভারতীয় মুদ্রাকে দিন দিন রিজার্ভ ব্যাংকের বাজার হস্তক্ষেপের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে। গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিট ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলার বিক্রি অব্যাহত থাকলেও রুপিতে সমর্থন দেওয়ার এই প্রচেষ্টা অভ্যন্তরীণ ঋণ বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। কারণ বাজার থেকে তারল্য কমে যাওয়ায় বন্ডের মুনাফা বা ইয়েল্ড বেড়ে যাচ্ছে। বন্ড ইয়েল্ডের ক্রমাগত বৃদ্ধি এবং মুদ্রার ওপর চাপ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে একটি নীতিগত ত্রিমুখী সংকট তৈরি করেছে। যেখানে মুদ্রার মান রক্ষা করা, ঋণের খরচ নিয়ন্ত্রণ করা এবং পুঁজির অবাধ প্রবাহ বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হলেও বিশ্ব রাজনীতির শুল্ক নীতি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চলে যাওয়া রুপির মানকে ঐতিহাসিকভাবে দুর্বল অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।
কলম্বিয়ায় যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, সবাই নিহত

কলম্বিয়ায় যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, সবাই নিহত কলম্বিয়ার উত্তরে যাত্রীবাহী একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ক্রু ও যাত্রীসহ বিমানে থাকা ১৫ জনের সবাই নিহত হয়েছেন। ভেনেজুয়েলা সীমান্তের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা সাতেনা নিশ্চিত করেছে। খবর বিবিসির। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, তাদের একটি বিচক্র্যাফট ১৯০০ মডেলের প্লেন ‘গুরুতর দুর্ঘটনার’ শিকার হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি। পরে একটি পাহাড়ি এলাকায় বিমানটির ধ্বংসাবশেষের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সরকারি যাত্রী তালিকা অনুযায়ী, বিমানে কলম্বিয়ার আইনপ্রণেতা দিয়োজেনেস কুইন্তেরো আমায়া এবং আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী কার্লোস সালসেদোও ছিলেন। সাতেনা জানায়, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১৭টা ৫ মিনিট) ভেনেজুয়েলা সীমান্তবর্তী শহর ওকানিয়ায় অবতরণের কথা থাকলেও তার ১১ মিনিট আগে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এনএসই ৮৮৪৯ নম্বর ফ্লাইটটি কুকুতা শহর থেকে উড্ডয়ন করেছিল। কুকুতা শহরটি ওকানিয়া থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। বিমানে ১৩ জন যাত্রী ও দুইজন ক্রু সদস্য ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সেমানা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নর্তে দে সান্তান্দের প্রদেশের গভর্নর উইলিয়াম ভিয়ামিজার জানান, এখন পর্যন্ত সাতটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। যে এলাকায় বিমানটি নিখোঁজ হয়েছিল, সেখানে কলম্বিয়ার ইএলএন গেরিলা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল রয়েছে। ওই এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সহায়তা করছে। এদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত।
তুষারঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু

তুষারঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলজুড়ে আঘাত হানা শক্তিশালী তুষারঝড়ে এ পর্যন্ত ১৪টি অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংবাদমাধ্যম। তুষারপাত, বরফাচ্ছন্ন রাস্তা ও হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে নিউইউর্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি জানান, আট বছরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটে। এছাড়াও নিহতদের সবাইকে বাইরে পাওয়া গেলেও তারা গৃহহীন ছিলেন কি না তা নিশ্চিত নয় প্রশাসন। একইসাথে নিউইয়র্ক সিটিতে সবচেয়ে বেশি ১০ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন মামদানি। শুক্রবার শুরু হওয়া এই ঝড় সপ্তাহান্তে বড় পরিসরে তুষারপাতে রূপ নেয়। এতে সড়কের যোগাযোগ ব্যাহত হয়, বহু ফ্লাইট বাতিল এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। সোমবার ঝড়ের তীব্রতা কমলেও হাড়কাঁপানো ঠান্ডা রয়ে গেছে, যা আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক ফুটেরও বেশি তুষারপাতের পর সাউথ বোস্টনে গাড়ি তুষারমুক্ত করতে ব্যস্ত বাসিন্দারা। মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশজুড়ে পাঁচ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন ছিল। যার জন্য শহরগুলোতে জরুরি সেবা প্রদানকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে যারা বিশেষ করে গৃহহীনদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে। চরম আবহাওয়ার কারণে নিউইয়র্ক সিটির আবাসন ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের বাধ্যতামূলক গৃহহীন গণনা ফেব্রুয়ারির শুরুতে পিছিয়েছে। মামদানি জানান আউটরিচ কর্মীদের তথ্য সংগ্রহ নয় বরং আমাদের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়াতেই মনোযোগ দেওয়া উচিত। শহরের তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র ও দুটি অতিরিক্ত কেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ গৃহহীন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এই গৃহহীন মানুষদের জন্য পুলিশ, দমকল ও জরুরি সেবা প্রদানকারী কর্মীরা অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন। ন্যাশভিল রেসকিউ মিশনে সাধারণত রাতে ৪০০ জন মানুষ থাকলেও এই শৈত্যপ্রবাহে সংখ্যাটি বেড়ে প্রায় ৭ হাজারে পৌঁছেছে। সারা দেশে তুষারঝড় সম্পর্কিত মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাইপোথার্মিয়া, অতিরিক্ত ঠান্ডায় হৃদরোগজনিত জটিলতা এবং বরফ পরিষ্কার করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। সপ্তাহান্তে টেক্সাসের বোনহ্যামে বরফে জমা একটি পুকুরে পড়ে তিন কিশোরের মৃত্যু হয়। কানসাস, কেনটাকি, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেনেসি ও মিশিগানেও এমন মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে আরেকটি তুষারঝড় আঘাত হানতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করছেন। এখনও অন্তত ২০ কোটি আমেরিকান কোনো না কোনো শীত সতর্কতার আওতায় আছেন, যা ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বিটিএস কনসার্ট চাইলেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট

দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বিটিএস কনসার্ট চাইলেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট চার বছর বিরতির পর মঞ্চে ফিরছে দক্ষিণ কোরিয়ার আলোচিত ব্যান্ড দল বিটিএস। কে-পপ ব্যান্ডটির কনসার্টের টিকিট নিয়ে এমন হাহাকার চলছে যে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম তার দেশে বিটিএসের কনসার্টের শো আরো বাড়ানোর জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম বলেন, “আমি কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে একটি চিঠি লিখেছি… আমি এখনও উত্তর পাইনি, তবে আশা করি এটি ইতিবাচক হবে।” র বছরের বিরতির পর বিটিএস তাদের ৭৯ দিনের বিশ্ব সফরের অংশ হিসেবে মে মাসে মেক্সিকো সিটিতে তিনটি শো করবে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, টিকিট ছাড়ার ৪০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেছে। কিছু ভক্ত টিকিটমাস্টার এবং রিসেলার প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে টিকিটের মূল্য বাড়িয়ে বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। অফিসিয়াল বিক্রয় মাধ্যম টিকিটমাস্টারে টিকিটের দাম ১ হাজার ৮০০ পেসো থেকে ১৭ হাজার ৮০০ পেসো (১০০ ডলার থেকে ১ হাজার ৩০ ডলার) এর মধ্যে থাকলেও, রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী রিসেল প্ল্যাটফর্মগুলোতে সেগুলো ১১ হাজার ৩০০ থেকে ৯২ হাজার ১০০ পেসোতে বিক্রি হয়েছে। টিকিট প্রক্রিয়ায় ‘অসাধু আচরণের’ জন্য মেক্সিকোর ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থা রিসেল প্ল্যাটফর্ম স্টাবহাম ও ভায়াগোগো-কে জরিমানা করেছে। সোমবার মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট শিনবাউম জানান, প্রায় ১০ লাখ তরুণ-তরুণী বিটিএস কনসার্টের দেড় লাখ টিকিটের জন্য লড়াই করেছে। তিনি বলেন, “বিটিএস ব্যান্ড দলটি মেক্সিকান তরুণদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।” স্পটিফাই-এর তথ্যানুযায়ী, মেক্সিকো হলো কে-পপের বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম বাজার। গত পাঁচ বছরে দেশটিতে এই ঘরানার গানের স্ট্রিমিং ৫০০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় কনসার্ট আয়োজক ওসেসা যখন জানায় যে ব্যান্ডের ব্যস্ত সূচির কারণে নতুন শো যোগ করা অসম্ভব, তখন শিনবাউম দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং-এর কাছে চিঠি লেখেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। ২০২২ সালের জুন মাস থেকে বিটিএস দলগতভাবে কোনো গান প্রকাশ করেনি, কারণ তারা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে মনোযোগ দিতে বিরতি নিয়েছিল। সাত সদস্যের ব্যান্ড দলটির কামব্যাক ট্যুর আগামী ৯ এপ্রিল দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াং স্টেডিয়ামে তিন রাতের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হবে। এরপর এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকা মাতাতে বৈশ্বিক সফর শুরু করবে বিটিএস। বিলবোর্ডের তথ্যমতে, এই সফরে মার্চেন্ডাইজ, লাইসেন্সিং, অ্যালবাম বিক্রি ও স্ট্রিমিং রাজস্ব থেকে বিটিএস ও তাদের রেকর্ড লেবেল হাইব ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি আয় করতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডির কারাদন্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডির কারাদন্ড দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিয়ন হিকে ঘুষ গ্রহণের দায়ে এক বছর আট মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। খবর আল-জাজিরার। বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট হিকে শেয়ার বাজার কারসাজি ও রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের অন্যান্য অভিযোগগুলো থেকে খালাস দিয়েছে। দেশটির ক্ষমতাচ্যুত ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্ত্রী হলেন হি। হির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি ইউনিফিকেশন চার্চসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে অন্তত ২ লাখ ডলার মূল্যের ঘুষ ও বিলাসবহুল উপহার গ্রহণ করেছেন। প্রসিকিউশন টিম ইউনিফিকেশন চার্চের নেতা হান হাক-জাকেও অভিযুক্ত করেছে, যার বিচার বর্তমানে চলমান। ধারণা করা হচ্ছে, এই ধর্মীয় গোষ্ঠীটি প্রেসিডেন্টের স্ত্রীর ওপর প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে তাকে ‘শ্যানেল’ ব্র্যান্ডের দুটি হ্যান্ডব্যাগ এবং একটি হীরার নেকলেসসহ মূল্যবান সামগ্রী উপহার দিয়েছিল। গত ডিসেম্বরে প্রসিকিউটররা বলেছিলেন, হি নিজেকে ‘আইনের ঊর্ধ্বে’ মনে করতেন। তিনি ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ করে রাষ্ট্রের ধর্ম ও রাজনীতির সাংবিধানিক পৃথকীকরণকে ক্ষুণ্ণ করেছেন। প্রসিকিউটর মিন জুং-কি জানান, হির ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সাবেক ফার্স্ট লেডি হি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত মাসে তার শেষ সাক্ষ্যে তিনি এই অভিযোগগুলোকে ‘গভীরভাবে অন্যায্য’ বলে দাবি করেন। তবে ‘গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও ঝামেলার সৃষ্টি করার জন্য’ তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। ডিসেম্বরে তিনি বলেছিলেন, “আমার ভূমিকা এবং আমাকে দেওয়া দায়িত্বগুলোর কথা বিবেচনা করলে এটি স্পষ্ট যে আমি অনেক ভুল করেছি।” হির স্বামী, দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল গত বছর ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তার নেওয়া হঠকারী সামরিক আইন জারির পদক্ষেপের জন্য তাকে ইতিমধ্যে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি মামলায় ইওল এমনকি মৃত্যুদণ্ডেরও সম্মুখীন হতে পারেন। ২০২৩ সালে একটি গোপন ক্যামেরায় হিকে ২ হাজার ২০০ ডলার মূল্যের একটি বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ গ্রহণ করতে দেখা যায়। এই ঘটনাটি ‘ডিয়র ব্যাগ কেলেঙ্কারি’ নামে পরিচিতি পায়, যা ইওলের জনপ্রিয়তায় ধস নামিয়েছিল। এই কেলেঙ্কারি ২০২৪ সালের এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনে ইওলের দলের শোচনীয় পরাজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল। ইওল তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তের তিনটি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন। সর্বশেষ ভেটোটি ছিল ২০২৪ সালের নভেম্বরে। এর এক সপ্তাহ পরেই তিনি সামরিক আইন জারি করেন। হির এই সাজা ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি ইওনের সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্তে সহায়তা করেছিলেন।