ভারতের অর্থনীতি ট্রাম্পের শুল্কের আঘাতে ধস

ভারতের অর্থনীতি ট্রাম্পের শুল্কের আঘাতে ধস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ভারতীয় পণ্য আমদানিতে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া এ পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে। প্রথমে ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির কারণে তিনি অতিরিক্ত আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক যুক্ত করেন। ফলে মোট শুল্কহার দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। এর প্রভাবে ভারতের ৪৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। তারা মনে করছেন, এই শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য অর্থনৈতিকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি, দেশটির কর্মসংস্থান ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিও কমে যেতে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খাত: গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শুল্কে ভারতের শ্রমনির্ভর শিল্প যেমন টেক্সটাইল, গহনা, চামড়াজাত পণ্য, খাদ্যপণ্য ও অটোমোবাইল খাত সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়বে। বাংলাদেশের কাছে বাজার হারানোর শঙ্কায় ভারতের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা: সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক বাণিজ্য কর্মকর্তা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, হঠাৎ এই শুল্ক বৃদ্ধি ভারতের দীর্ঘদিনের বাজার অবস্থানকে বিপর্যস্ত করবে। এতে রপ্তানিনির্ভর খাতে বেকারত্ব বাড়বে এবং বিশ্বব্যাপী উৎপাদন খাতেও ভারতের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। যদিও ওষুধ ও ইলেকট্রনিকস খাত আপাতত শুল্কের বাইরে থাকায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে ভারত। রপ্তানিকারকদের উদ্বেগ : আগ্রাভিত্তিক চামড়ার জুতার রপ্তানিকারক পুরণ দাওয়ার, যিনি বৈশ্বিক খুচরা বিক্রেতা জারার সরবরাহকারী, এই ঘটনাকে বড় ধাক্কা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশীয় চাহিদা না বাড়লে কিংবা নতুন বাজার না পেলে ভারতের চামড়াশিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক অজয় সাহাইয়ের মতে, এটি একটি জটিল পরিস্থিতি। হয়তো কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে রপ্তানি চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হবে না। মোদীর অবস্থান : যুক্তরাষ্ট্র বারবার ভারতের কৃষি ও দুগ্ধবাজার খুলে দেওয়ার আহ্বান জানালেও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, তিনি চাপের কাছে নত হবেন না। গুজরাটে এক সমাবেশে তিনি বলেন, আমাদের কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দুগ্ধ খাতের কল্যাণই আমার অগ্রাধিকার। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে ষষ্ঠ দফা বাণিজ্য আলোচনার পরিকল্পনা বাতিল করে। ক্ষতি পোষাতে ভারতের উদ্যোগ : শুল্কের প্রভাব সামাল দিতে ভারত কয়েকটি অভ্যন্তরীণ সংস্কারের পরিকল্পনা করছে। দীপাবলির আগে ভোক্তা ব্যয় বাড়াতে বিমা, গাড়ি ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতিতে জিএসটি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। রপ্তানিকারকদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। পাশাপাশি লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো নতুন বাজারে রপ্তানি বাড়াতে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় আরও গতি আনতে পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারত।

টানা ভারী বর্ষণ জম্মু-কাশ্মিরে ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৩১

টানা ভারী বর্ষণ জম্মু-কাশ্মিরে ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৩১ গতকাল দুপুরের দিকে রিয়াসি জেলার কাটরা শহরে বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের যাত্রাপথে অবস্থিত ইন্দ্রপ্রস্থ ভোজনালয় ও আশপাশের এলাকায় হঠাৎ ভূমিধস নামে। টানা ভারী বর্ষণের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। রিয়াসি জেলা পুলিশের প্রধান পরমবীর সিং বার্তাসংস্থা এএনআই-কে জানান, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় ২৩ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ কেয়ার (সিএইচসি) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভূমিধসের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামে মন্দির কমিটি ও নিরাপত্তা বাহিনী। পরে এতে যুক্ত হয় ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) ও আধাসামরিক বাহিনীর (সিআরপিএফ) সদস্যরা। এদিকে, জম্মু-কাশ্মিরের বিভিন্ন জেলায় টানা তিন দিন ধরে ভারী বর্ষণ চলছে। এর জেরে একাধিক এলাকায় ভূমিধস ও হড়পা বানের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পরমবীর সিং জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া, আবহাওয়ার উন্নতির সম্ভাবনাও খুব একটা নেই বলে সতর্ক করেছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী দুই-তিন দিন জম্মু, কাটরা, রিয়াসি, উধমপুরসহ বিভিন্ন জেলায় আরও ভারী বর্ষণ হতে পারে। এসব এলাকায় ভূমিধস ও হড়পা বানের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের যাত্রাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

চীনের প্রতি নরম ট্রাম্প, ভারতের ক্ষেত্রে গরম অবস্থানে

চীনের প্রতি নরম ট্রাম্প, ভারতের ক্ষেত্রে গরম অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির ধারা থেকে সরে এসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এশিয়ার প্রতি আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গিতে এক নাটকীয় পরিবর্তন এনেছেন। এই কৌশলগত পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য। একদিকে ভারত, যাকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অংশীদার এবং ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে দেখা হয়, তার ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আমেরিকার প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী চীন অপ্রত্যাশিতভাবে উষ্ণ সম্পর্ক উপভোগ করছে। ভারতের বেশ কিছু রপ্তানি পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। এই বিশাল শুল্ক বৃদ্ধির পেছনে কারণ হলো ভারতের রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখা। এর আগে ট্রাম্প ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছিলেন, যা চলতি মাসে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দ্বিগুণ করা হয়েছে। এই শুল্ক শুধু অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলছে না বরং এর একটি রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে। এসব কঠোর পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এসেছে যখন ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে গেছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা, বিশেষ করে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ পিটার নাভারোর মতো ব্যক্তিরা তীব্র সমালোচনামূলক মন্তব্য করছেন। মূলত সম্পর্কের সুর অংশীদারিত্ব থেকে শাস্তির দিকে মোড় নিয়েছে, যা উভয় দেশের নীতিনির্ধারক ও পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞদের হতবাক করেছে। এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয় বরং একটি বড় কূটনৈতিক বিঘ্ন। এর সম্পূর্ণ বিপরীতে ট্রাম্প চীনের সঙ্গে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছেন। চীন রাশিয়ান তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়া সত্ত্বেও তাদের ওপর কোনো অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়নি। বরং ১২ আগস্ট ট্রাম্প চীনা আমদানির ওপর শুল্ক আরও ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন, যা মাত্র ৩০ শতাংশ এ রাখা হয়েছে—যা ভারতের ওপর আরোপিত নতুন শুল্ক হারের চেয়ে অনেক কম।এটাই সব নয়। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়াংয়ের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে তিনি ছয় লাখ চীনা শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নের অনুমতি দেবেন, যা বর্তমান সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। এটি ট্রাম্পের আগের নীতির তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, যেখানে তিনি কঠোর ভিসা নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার নামে চীনা নাগরিকদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছিলেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমরা চীনের সঙ্গে খুব ভালোভাবে চলছি। শিক্ষার্থীরা এখানে এখানে আসতে পারবে না—এমন কথা বলা খুবই অপমানজনক। যদি তারা না আসে, তাহলে কী হবে জানেন? আমাদের কলেজ ব্যবস্থা খুব দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাবে। এদিকে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকরে অ্যাপারেল (পোশাক), বস্ত্র, সোনা, চিংড়ি, কার্পেট এবং আসবাবপত্রের মতো পণ্যের রপ্তানি মার্কিন বাজারে তুলনামূলকভাবে অলাভজনক হয়ে পড়বে। এতে ভারতে বহু কম দক্ষ কর্মীর চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া এমনকি চীন ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো এখন ভারতের সম্ভাব্য ক্ষতির সুযোগ নিতে পারে। কারণ এসব দেশের ওপর আরোপ করা শুল্কের হার ভারতের তুলনায় কম হবে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক কার্যকর হলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানির মূল্য আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারতের পণ্য রপ্তানি গত অর্থবছরের প্রায় ৮৭ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২০২৬ অর্থবছরে ৪৯.৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসতে পারে।

১৩ জঙ্গি নিহত ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে

১৩ জঙ্গি নিহত ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির অশান্ত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে ১৩ জন জঙ্গিকে হত্যা করেছে বলে বুধবার জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। নিহতরা সম্প্রতি পুলিশের ওপর প্রাণঘাতী হামলার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত সন্দেহভাজন এক গোষ্ঠীর সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। এএফপি বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস জানিয়েছে, ‘এ পর্যন্ত ১৩ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে ও আরো কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানগুলো সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের ইরানশাহর, খাশ ও সারাভান শহরে পরিচালিত হয়েছে। প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শুক্রবার ইরানশাহরে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ওই হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য নিহত হন। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী সিস্তান-বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের জন্য কুখ্যাত। এখানে মাদক চোরাচালানকারী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়। অধিকাংশ সুন্নি মুসলিম বেলুচ সম্প্রদায়ের আবাস এ প্রদেশটি শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলের একটি। সুন্নি জিহাদি গোষ্ঠী জাইশ আল-আদল (আর্মি অব জাস্টিস) গত সপ্তাহের ওই হামলার দায় স্বীকার করে টেলিগ্রাম বার্তায় জানিয়েছিল। ইরান প্রায়ই এ প্রদেশে পুলিশ বা বিপ্লবী গার্ডদের লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা জানিয়ে থাকে। কর্তৃপক্ষ এসব হামলার জন্য জাইশ আল-আদলসহ বিভিন্ন সুন্নি গোষ্ঠীকে দায়ী করে। ইরানি বাহিনী গত শনিবারও প্রদেশটিতে আরো এক অভিযানে ছয় জঙ্গিকে হত্যা করেছিল। তারা এমন একটি গোষ্ঠীর সদস্য ছিল, যাদের সঙ্গে ইরানের প্রধান শত্রু ইসরায়েলের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

 ক্ষুধা মোকাবেলার বদলে বিলিয়ন ইউরো খরচ অস্ত্রে 

ক্ষুধা মোকাবেলার বদলে বিলিয়ন ইউরো খরচ অস্ত্রে বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা মোকাবেলায় তহবিল ব্যয়ের পরিবর্তে ৮০০ বিলিয়ন ইউরোর সামরিক ব্যয় অনুমোদনের জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা। বুধবার ২৭ আগস্ট মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রদায়ের সকল দেশের পুনঃসামরিকীকরণের জন্য ৮০০ বিলিয়ন ইউরো অনুমোদন করেছে, যেখানে আমরা (উন্নয়নশীল দেশগুলো) অর্থ ব্যবহার করব ক্ষুধা নিবারণ বা বন সংরক্ষণের জন্য। তিনি তার দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, জাতিসংঘ যুদ্ধ প্রতিরোধের মূল লক্ষ্যে ব্যর্থ হচ্ছে। জাতিসংঘের সংকটের প্রমাণ হিসেবে তিনি গাজা সংঘাতের দিকে ইঙ্গিত দেন। লুলা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, জাতিসংঘের কাঠামোতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, যাতে এমন কেউ থাকে যিনি এই গণহত্যা বন্ধ করতে, যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারেন। এই কারণেই আমরা বিশ্বব্যাপী শাসনব্যবস্থার পুনর্নির্ধারণের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। ইউরোপে সামরিক ব্যয়ের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের এই প্রথম মুখ খুললেন না। গত মে মাসে রাশিয়া সফরের পর তিনি ইইউ রাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের – বিশেষ করে জাপানের – সামরিকায়নের গতিকে ‘উন্মাদনা’ বলে বর্ণনা করেন।

আগামীকাল থেকে ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক

আগামীকাল থেকে ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই শুল্ক আগামী ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। আজ যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যা আগামীকাল সরকারি রেজিস্টারে প্রকাশিত হবে বলে জানানো হয়েছে। এতে ভারতের ওপর মার্কিন শুল্কের হার দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এখনো রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি করে যাওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।

১৩৫% বেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ভিসা ফি বিশ্বের সর্বোচ্চ

১৩৫% বেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ভিসা ফি বিশ্বের সর্বোচ্চ   আগামী ১ অক্টোবর ২০২৫ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন ভিসা বি১/বি২ নিতে হলে দিতে হবে বাড়তি ফি। গত মাসে মার্কিন কংগ্রেসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ পাস হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে জানিয়েছে, আগে ভিসা ফি ছিল ১৮৫ ডলার। নতুন আইনে আরও ২৫০ ডলার যোগ হওয়ায় মোট ফি দাঁড়াল ৪৩৫ ডলার। এতে দেখা যাচ্ছে, ভিসার খরচ বেড়েছে ১৩৫ শতাংশেরও বেশি। এমনটি হলে পুরো বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ভিসার ফি হবে সর্বোচ্চ, জানিয়েছে ইউএসএ টুডে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইনি কাঠামো অনুযায়ী নতুন অর্থবছর শুরুর দিন ১ অক্টোবর থেকেই এ ফি কার্যকর হবে। যদিও ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

সৌদি আরবে ২২ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেফতার এক সপ্তাহে

সৌদি আরবে ২২ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেফতার এক সপ্তাহে সৌদি আরবে এক সপ্তাহে ২২ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১৪ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে ২২ হাজার ২২২ জন প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ১৩ হাজার ৫৫১ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনে চার হাজার ৬৬৫ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে চার হাজার ছয়জন রয়েছেন। গ্রেফতারকৃত প্রবাসীদের মধ্যে ২০ হাজার জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর আগে ভ্রমণের প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ১২ হাজার ৯২০ জনকে ইতোমধ্যে সৌদি আরব থেকে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় গ্রেফতার হয়েছেন এক হাজার ৭৮৬ জন। একই সময়ে আবাসন ও কর্মবিধি লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন এবং আশ্রয় দেওয়ায় সৌদিতে বসবাসরত ১৮ ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।  

কম্বোডিয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহে অভিযুক্তদের নাগরিকত্ব বাতিলের আইন পাস

কম্বোডিয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহে অভিযুক্তদের নাগরিকত্ব বাতিলের আইন পাস রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কম্বোডিয়া। সোমবার (২৫ আগস্ট) দেশটির পার্লামেন্ট এ আইন পাস করে। বিশ্লেষকরা এটিকে বিরোধীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা ক্ষমতাসীন কম্বোডিয়ান পিপলস পার্টির অব্যাহত দমন-পীড়নের মধ্যে একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সিপিপি-নিয়ন্ত্রিত জাতীয় পরিষদের ১২৫ জন সদস্যের মধ্যে ১২০ জনের অনুমোদিত এই বিলটি রাষ্ট্রকে ‘বিদেশি দেশের সঙ্গে ষড়যন্ত্র বা কম্বোডিয়ার স্বার্থের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে অভিযুক্ত যে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করার অনুমতি দেবে। সুপ্রিম কোর্ট ২০১৭ সালে কম্বোডিয়ান ন্যাশনাল রেসকিউ পার্টি নিষিদ্ধ করার পর বিরোধীদের দমন করার তীব্র প্রচেষ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কম্বোডিয়া ছেড়ে পালিয়েছেন।

উষ্ণতা ও  ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত ইউরোপ

উষ্ণতা ও  ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত ইউরোপ উষ্ণতা ও ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত গোটা ইউরোপ মহাদেশ। বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় দ্রুততম হারে উষ্ণ হয়ে উঠছে ইউরোপ। ১৯৯৫ সালের পর থেকে প্রতি দশকে এই মহাদেশের গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ০.৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বৈশ্বিক স্থলভাগের গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি। জুনে উত্তর ইউরোপ ও আগস্টে দক্ষিণ ইউরোপে চলা তীব্র তাপপ্রবাহে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে গোটা মহাদেশে। ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেম-এর তথ্যানুযায়ী, ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে, যা ২০০৬ সাল থেকে একই সময়ের গড়-এর চারগুণেরও বেশি। দাবানল ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বলকান, সাইপ্রাস, ফ্রান্স, গ্রিস, পর্তুগাল ও স্পেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। অনেক ক্ষেত্রে আগুন পৌঁছে গেছে মাদ্রিদ, পোর্তো, পোডগোরিকা এবং গ্রিসের তৃতীয় বৃহত্তম শহর পাতরাসের কাছাকাছি পর্যন্ত। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অন্তত ৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইইউ’র সিভিল-প্রোটেকশন মেকানিজম এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো রেকর্ড ১৭ বার সহায়তা চেয়েছে, যা মহামারী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সমন্বয় করার জন্য ব্যবহৃত হয়। ভৌগোলিক আয়তনের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে পর্তুগাল, যেখানে দেশটির মোট ভূখণ্ডের ২.৯ শতাংশ (২৬০০ বর্গকিমি) আগুনে পুড়ে গেছে।যা গত বছর পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে আগুনে পুড়ে যাওয়া মোট এলাকার চেয়েও বেশি। পাশাপাশি স্পেনে ৪ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দাবানলে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ৩০ হাজার বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে অনেক জায়গায় মানবীয় চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব, যা স্বীকার করেছেন স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবলেস। দাবানলের এই ভয়াবহতার পেছনে প্রাকৃতিক কারণ যেমন রয়েছে, তেমনি মানবসৃষ্ট কারণই প্রধান। ইউরোপে দাবানলের কারণ নিয়ে সর্বশেষ গবেষণা অনুযায়ী (২০১৬ সালের তথ্য), মাত্র ৪ শতাংশ দাবানল শুরু হয়েছিল প্রাকৃতিকভাবে, যেমন বজ্রপাত। বিপরীতে ৩৯ শতাংশ ছিল দুর্ঘটনা বা অবহেলা এবং সর্বোচ্চ ৫৭ শতাংশ ছিল ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো আগুন। ২০০১ সালের ইতালির ফরেস্ট পুলিশ বিভাগের একটি গবেষণায় দেখা যায়, ৬০ শতাংশ দাবানল ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়। মানসিকভাবে অসুস্থদের দ্বারা ঘটিত দাবানল ছিল মাত্র ১০ শতাংশ। আবার অনেক সময় পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়, যাতে জমি পরবর্তীতে নির্মাণযোগ্য এলাকা হিসেবে পুনঃশ্রেণীকরণ করা যায়।