৯০ মিনিটে সৌদি আরবে ধেয়ে গেলো ৩৭টি ড্রোন

৯০ মিনিটে সৌদি আরবে ধেয়ে গেলো ৩৭টি ড্রোন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে দেড় ঘণ্টায় ৩৭টি ড্রোন ধেয়ে গেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।সৌদি দাবি করেছে যে তারা এসব ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। তবে এসব ড্রোন ঠিক কোথা থেকে এসেছে- তা সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়নি। এর আগে সৌদি আরবে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়েতি রয়টার্সকে বলেছিলেন, সম্প্রতি সৌদির তেল অবকাঠামোগুলোতে হামলার ঘটনায় তেহরান দায়ী নয়। তিনি দাবি করেছেন যে এসব হামলার জন্য ইরান দায়ী নয়। আর ইরান যদি এসব হামলা চালাত, তবে তা অবশ্যই ঘোষণা দিত। তার এই দাবির পরেই সর্বশেষ দেশটির পূর্বাঞ্চলে দেড় ঘণ্টায় ৩৭টি ড্রোন ধেয়ে গেলো। আরব আমিরাতে ইরানের ‘ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা’আরব আমিরাতে ইরানের ‘ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা’ ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সোমবার (১৬ মার্চ) পর্যন্ত টানা ১৭ দিনে গড়ালো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান শর্তহীনভাবে আত্মসমর্পণ না করলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না এবং এই যুদ্ধ বন্ধের অধিকার একমাত্র তাদের। ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি, বিমানবন্দর ও বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে তেহরান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির কাছে আটকা শত শত জাহাজ, তেলের বাজারে অস্থিরতা

হরমুজ প্রণালির কাছে আটকা শত শত জাহাজ, তেলের বাজারে অস্থিরতা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি-র কাছে বর্তমানে প্রায় এক হাজার জাহাজ পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত প্রায় ২০০টি তেলের ট্যাঙ্কারও রয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র ওই অঞ্চলের সংবাদদাতা ইনাজমাম রশিদ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান-এর সামরিক বাহিনী এই অত্যন্ত কৌশলগত জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং জ্বালানি ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাহাজগুলো যখন প্রণালিটি দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করছে বা প্রবেশপথের কাছাকাছি আসছে, তখন কয়েকটি হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সংবাদদাতা জানান, কয়েক দিন আগে দূরে একটি জাহাজকে কয়েক ঘণ্টা ধরে আগুনে জ্বলতে দেখা গেছে। সেটি ইরানি বাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এর আগে ইরান ঘোষণা দেয়, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে এই পথ দিয়ে যেতে দেবে না। যদিও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কহীন কিছু জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, সম্প্রতি থাইল্যান্ড-এর পতাকাবাহী একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় সেটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ওমান-এর নৌবাহিনী প্রায় ২০ জন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করে। তবে এখনও প্রায় তিনজন ক্রু সদস্য সমুদ্রে নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিল ইতালি

ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিল ইতালি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ওপর ইরানের আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। ইতালির সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর ইরাক থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করছে দেশটি। ইরাকি কুর্দিস্তানের এরবিলের ক্যাম্প সিঙ্গারা বিমানঘাঁটিতে রাতভর ড্রোন হামলা হয়। ন্যাটোর প্রায় ৩০০ সেনা এই ঘাঁটিতে অবস্থান করছে। হামলায় একটি রেস্তোরাঁ এবং দুটি যানবাহন ধ্বংস হয়েছে। হামলায় কেউ আহত হয়নি, তবে ইরান এই অঞ্চলে আক্রমণ তীব্র করায় ইতালির প্রায় ১০০ সেনাকে রোমে ফিরে নেওয়া হয়েছে। কুর্দি সেনাদের বিদ্রোহের আশঙ্কায় সরকার কুর্দিস্তান অঞ্চলে বোমাবর্ষণ করেছে। ইরাকি কুর্দিরা সংঘাতের প্রথম দিনগুলোতে তেহরানে স্থল থেকে আক্রমণ শুরু করে বলে জানা গেছে, যদিও পরে কুর্দি নেতারা তা অস্বীকার করেছেন। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে ক্যাম্প সিঙ্গারায় এই আক্রমণ ইচ্ছাকৃত ছিল। কারণ সেখানে ইতালীয় সেনারা কুর্দি পেশমার্গা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। মার্কিন নেতৃত্বাধীন আইসিস-বিরোধী জোটের অংশ হিসেবে ইতালীয় সেখানে অবস্থান করছিল। এটি ইচ্ছাকৃত কি না জানতে চাইলে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেটো বলেন, ‘অবশ্যই হ্যাঁ। এটি অপারেশন ইনহেরেন্ট রেজলভের মধ্যে একটি ন্যাটো ঘাঁটি, তাই এটি একটি আমেরিকান ঘাঁটিও।’ তিনি হামলার জন্য কে দায়ী তা উল্লেখ করেননি তবে বলেছেন, ঘটনাস্থলে থাকা ১৪১ জন ইতালীয় সেনা বাড়ি ফিরে আসবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই সেই মিশন থেকে ১০২ জনকে ফিরিয়ে এনেছি এবং আমরা প্রায় ৪০ জনকে জর্দানে নিয়েছি।’ ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেছেন, ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছে তা স্পষ্ট নয়। এটি সম্ভবত ইরাকে অবস্থিত ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের কাজ। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, ‘আমি আমাদের সেনাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। তারা হামলার পরে অক্ষত আছেন।’ ঘাঁটির কমান্ডার কর্নেল স্টেফানো পিজোত্তি বলেছেন, ‘সামরিক কর্মীদের বিমান হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল এবং হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে তারা বাংকারে আশ্রয় নিয়েছিল।’ পিজোত্তি আরো বলেন, ‘আমরা এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত এবং প্রশিক্ষিত। আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিমান হামলার সতর্কতা শেষ হয়ে গেছে।’ এক বিবৃতিতে কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্সি বলেছে, ‘ইরাকি সরকারকে কূটনৈতিক দূত এবং জোট বাহিনীকে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং অবৈধ গোষ্ঠীগুলোকে আর দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ বিপন্ন করতে দেওয়া উচিত নয়।’ মেলোনি এর আগে বলেছিলেন, ইরানের যুদ্ধে ইতালির যোগদানের কোনো ইচ্ছা তার নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে’ কাজ করার অভিযোগ করেছেন। ইতালি উপসাগরীয় দেশগুলোকে বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে এবং প্রতিরক্ষা জোরদার করতে এই সপ্তাহের শুরুতে একটি ইতালীয় যুদ্ধজাহাজ সাইপ্রাসে পৌঁছেছে। এ ছাড়া জানা গেছে, ইতালি ও ফ্রান্স ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু করেছে, যার মাধ্যমে তাদের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। সূত্র : ডেইলি মেইল।
ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। ইরাকি কর্মকর্তাদের বরাতে এই খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন দূতাবাস থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অপর একটি সূত্রও কূটনৈতিক মিশনে এ হামলার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। দূতাবাসের ভেতরের একটি হেলিপ্যাডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। এদিকে, বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, একটি ড্রোন দূতাবাসে আঘাত হেনেছে। ইরাকের রাজধানীতে হামলায় ইরান-সমর্থিত দুই যোদ্ধা নিহত হওয়ার কিছুক্ষণ পরই এ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনের ভেতরে বাগদাদে অবস্থিত বিশাল এই দূতাবাস প্রাঙ্গণটি প্রায়ই ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের রকেট ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস থেকে সংবাদমাধ্যমগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার দূতাবাসটি ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য লেভেল-৪ নিরাপত্তা সতর্কতা পুনরায় কার্যকর করে। এতে সতর্ক করা হয় যে, ইরান এবং ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এর আগে মার্কিন নাগরিক, স্বার্থ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তারা আবারও এসবকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে অংশ নিচ্ছে না, আবারও নিশ্চিত করলো ন্যাটো

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে অংশ নিচ্ছে না, আবারও নিশ্চিত করলো ন্যাটো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযানে ন্যাটো সরাসরি অংশ নিচ্ছে না। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ন্যাটো জোটের সামরিক কমিটির চেয়ারম্যান ইতালির অ্যাডমিরাল গুয়েসেপ্পি ক্যাভো ড্রাগোন এ তথ্য জানিয়েছেন। ইতালির সংবাদপত্র লা রিপাবলিকা- কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সংঘাত কতদিন চলতে পারে তা নিয়ে তিনি অনুমান করতে চান না।তার ভাষায়, মাঠের পরিস্থিতিতে অর্জিত ফলাফল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কীভাবে মূল্যায়ন করবে, সেটা দেখা দরকার। ন্যাটো সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না এবং তাই তাদের মতো করে পরিস্থিতি বিশ্লেষণের সুযোগও আমাদের নেই। তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জটিল কাজ হলেও তা সম্ভব। এর আগে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ওক রুটে বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই উত্তর আটলান্টিক জোট- ন্যাটোর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে রাজধানী তেহরান বেশ কয়েকটি বড় শহরে হামলা চালানো হয়। হোয়াইট হাউজ দাবি করে, ইরানের কথিত ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকির কারণে এ অভিযান চালানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে রাজধানী তেহরানসহ বেশ কয়েকটি বড় শহরে হামলা চালানো হয়। হোয়াইট হাউজ দাবি করে, ইরানের কথিত ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকির কারণে এ অভিযান চালানো হয়েছে। যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর জবাবে আইআরজিসি পাল্টা সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এ ছাড়া বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েল-মার্কিন হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে ১২০০ এর বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৬০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহত ১,৪৪৪

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহত ১,৪৪৪ ইরানের তেহরানের তেল সংরক্ষণাগার থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখছেন একজন নারী। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ১ হাজার ৪৪৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৮ হাজার ৫৫১জন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। খবর আল-জাজিরার। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। বাদ পড়ছে না বেসামরিক স্থাপনাও। স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। পাশাপাশি কয়েকটি আরব দেশে যেখানে মার্কিন ঘাঁটিসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আছে সেখানেও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ফলে এই সংঘাত এখন ওই অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
মালদ্বীপে প্রবাসী শ্রমিকদের আবাসনে আগুন, প্রাণ গেল পাঁচজনের

মালদ্বীপে প্রবাসী শ্রমিকদের আবাসনে আগুন, প্রাণ গেল পাঁচজনের মালদ্বীপের আলিফ ধাল অ্যাটলের ধিগুরাহ দ্বীপে প্রবাসী শ্রমিকদের একটি আবাসিক ভবনে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোররাতের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় রাত দুইটার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে দগ্ধ আটজনকে দ্রুত উদ্ধার করে ধিগুরাহ হেলথ সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচজন মারা যান। আশঙ্কাজনক দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী মালেতে স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। ধিগুরাহ কাউন্সিলের সভাপতি ইব্রাহিম উসমান স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রবাসী শ্রমিকদের আবাসিক ভবনটিতে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পরপরই এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত করছে। তবে ওই ভবনে মোট কতজন প্রবাসী শ্রমিক বসবাস করতেন বা কোন প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে আবাসনটি পরিচালিত হচ্ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে চিকিৎসকসহ একটি বিশেষ তদন্ত দল ধিগুরাহ দ্বীপে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র: সান এমভি
রাশিয়ার তেলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর কমছে দাম

রাশিয়ার তেলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর কমছে দাম ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ান তেলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইরান যুদ্ধের কারণে ঊধ্বমুখী হওয়া তেলের দামের লাগাম টানার চেষ্টা করছেন। মার্কিন ছাড়ের ঘোষণার পর শুক্রবার সকালে এশিয়ায় তেলের দাম কমেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির দূত কিরিল দিমিত্রিভের মতে, রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলকে প্রভাবিত করবে, যা প্রায় এক দিনের বিশ্বব্যাপী উৎপাদনের সমান। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি ‘অস্থায়ী অনুমোদন’ ঘোষণা করেছেন, যার ফলে দেশগুলোকে ৩০ দিনের জন্য আটকে থাকা রাশিয়ান তেল কিনতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বেসেন্ট বলেছেন, “এই সংকীর্ণভাবে তৈরি, স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা শুধুমাত্র ইতিমধ্যে পরিবহনে থাকা তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং রাশিয়ান সরকারকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা প্রদান করবে না, যা তার জ্বালানি আয়ের বেশিরভাগ অংশ উত্তোলনের সময় নির্ধারিত কর থেকে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই পথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের তেল ও সমুদ্রগামী গ্যাস ট্যাঙ্কারগুলির প্রায় এক পঞ্চমাংশ যাতায়াত করে। ট্রাম্প প্রশাসন বারবার এই প্রণালী দিয়ে জাহাজগুলোকে পাহারা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। ইরানি সরকার ঘোষণা করেছে যে মার্কিন ও ইসরায়েলি আক্রমণ অব্যাহত থাকাকালীন তারা এই অঞ্চল থেকে ‘এক লিটার তেল’ রপ্তানি করতে দেবে না।
হিজবুল্লাহর ১৫০ রকেট, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল; ভয়ংকর রাত দেখল ইসরায়েল

হিজবুল্লাহর ১৫০ রকেট, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল; ভয়ংকর রাত দেখল ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তাপ ছড়িয়ে বুধবার রাতে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। লেবানন সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহ অন্তত ১৫০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে। চলতি মাসে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এটা হিজবুল্লাহর সবচেয়ে বড় আক্রমণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে ইরান থেকে ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এই হামলাকে একটি ‘সমন্বিত অভিযানে’ রূপ দেয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ জানিয়েছে, এই জোরালো আক্রমণের ফলে দেশটির বিশাল এলাকা জুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে এবং লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে আশ্রয় নিতে হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান বাহিনীর মধ্যে শুরু হওয়া প্রচণ্ড লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহ এই নতুন অভিযান শুরু করেছে। মূলত তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানের ওপর চলমান হামলা ঠেকাতেই লেবানন থেকে এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর আইআরজিসি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে তারা হিজবুল্লাহর সাথে একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে গ্যালিলি থেকে শুরু করে হাইফা এবং সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরের জনপদগুলোতেও সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়। ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং হিজবুল্লাহর রকেট রুখে দিতে সক্ষম হলেও বেশ কিছু স্থানে আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। উত্তর ইসরায়েলের বি’ইনা নামক একটি শহরে রকেটের আঘাতে একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর ফলে অন্তত দুজন সামান্য আহত হয়েছেন। মাগেন ডেভিড আদম অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ৩৫ বছর বয়সী এক নারী এবং ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি রয়েছেন যারা বিস্ফোরণের সময় ছিটকে আসা বস্তুর আঘাতে জখম হন। এছাড়া বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে তীব্র আতঙ্কিত অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে উদ্ধারকারী দল নিশ্চিত করেছে। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই তাণ্ডব বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাহারিয়া, একর এবং হাইফার উপকণ্ঠে ড্রোনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বারবার সাইরেন বাজানো হয়। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে তারা তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ইউনিট ৮২০০-এর সদর দপ্তর বা ‘গ্লিলট বেস’ লক্ষ্য করে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ব্যারেজ নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের হোশেল হারনিয়েল এলাকায় একটি বাড়িতে সরাসরি রকেট আঘাত হানার খবর পাওয়া গেলেও সৌভাগ্যবশত সেখানে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। জবাবে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। আইডিএফ জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার এবং অস্ত্র গুদামগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালনা করছে। লেবাননের স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈরুত এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি হামলায় বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, হিজবুল্লাহর হামলা আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবানন সরকার যদি হিজবুল্লাহর এই কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে ইসরায়েল দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা শুরু করতে পারে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ রিপোর্ট করেছিল যে ইরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় ধরনের আক্রমণের আশঙ্কা করছে তেল আবিব। সেই আশঙ্কাই বুধবার রাতে বাস্তবে রূপ নিল যখন ইরান থেকে ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জেরুজালেম এবং ইসরায়েলের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত সতর্কতা সংকেত বাজাতে বাধ্য করল। হিজবুল্লাহ তাদের বিবৃতিতে বলেছে, লেবাননের ডজনখানেক শহর এবং বৈরুতের শহরতলিতে ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই তারা এই রকেট হামলা চালিয়েছে। তারা এই অভিযানকে একটি নতুন পর্যায়ের শুরু হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ ফ্রন্ট কমান্ড উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বোম্ব শেল্টার বা নিরাপদ আশ্রয়ের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দিয়েছে। অনেক স্থানে রকেটের আঘাতে খোলা জায়গায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাতভর সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন।
ইরানের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী: প্রাথমিক তদন্ত

ইরানের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী: প্রাথমিক তদন্ত ইরানের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র, প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। মার্কিন কর্মকর্তা সূত্রে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ইরানের ওই স্কুলে প্রাণঘাতী টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল মার্কিন বাহিনীই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানে হামলার প্রথম দিনেই এই ঘটনাটি ঘটে। ইরানের মিনাবে শাজারা তায়েব প্রাথমিক স্কুলে গিয়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্র। ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ওই প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রী। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও দুই দেশের কেউই এর দায় স্বীকার করেনি। পরে জানা যায়, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছিল ওই স্কুলে। বস্তুত, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করে আমেরিকা। বিশ্বের আরও কিছু দেশের হাতেই এই ক্ষেপণাস্ত্র থাকলেও ইসরায়েলের কাছে তা নেই। বর্তমানে আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর এই হামলার তদন্ত চালাচ্ছে। ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমন তথ্যই উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। জানা গেছে, ‘ভুল’ করেই ওই স্কুলে হামলা করেছিল মার্কিন বাহিনী। ওই স্কুল লাগোয়া এক ইরানি ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছিল মার্কিন বাহিনী। দাবি করা হচ্ছে, যেখানে স্কুল ভবনটি রয়েছে, সেটিও আগে ইরানের সেনাঘাঁটিরই অংশ ছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া সেই পুরনো তথ্যের উপর ভিত্তি করেই নিশানা স্থির করেছিলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারা। যদিও ওই সরকারি সূত্রের দাবি, এগুলো একেবারেই প্রাথমিক তথ্য। পুরনো তথ্য কেন যাচাই করে নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নেরও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও উত্তর মেলেনি বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের পাশাপাশি বেশ কিছু নিরপেক্ষ সংস্থাও নিজেদের মতো করে ইরানের স্কুলে হামলার তদন্ত করছে। তেমন এক সংস্থা ‘বেলিংক্যাট’। তারাও প্রাথমিকভাবে দাবি করছে, হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের স্কুলে আছড়ে পড়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অস্বস্তি বৃদ্ধি পেয়েছে মার্কিন প্রশাসনের। ট্রাম্পকেও এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও তার দাবি, কী হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে তিনি এ-ও স্মরণ করিয়ে দেন যে, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই। অন্য কিছু দেশের হাতেও এটি আছে বলে দাবি ট্রাম্পের। যদিও পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘর্ষে জড়িত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে।