যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টিও মারা গেছেন

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টিও মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর তথ্য জানাল তার পরিবার। এর আগে জামিল আহমেদ লিমনের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার (২৫ এপিল) সকালে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত ফেসবুকে এ তথ্য জানান। বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। এদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। এর আগে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে জামিল আহমেদ লিমন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জামিল একই ইউনিভার্সিটিতে জিওগ্রাফি, এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড পলিসি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়াহ (২৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি জামিলের রুমমেট ছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, জামিল ও নাহিদাকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছিল। ওই দিন সকাল ৯টার দিকে জামিলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের তার ছাত্রাবাসে এবং সকাল ১০টার দিকে নাহিদাকে ক্যাম্পাসে শেষবার দেখা যায়। এদিকে, দুই শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সেখানে অধ্যায়নত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এছাড়া, বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে ও জামিলের গ্রামের বাড়ি জামালপুরেও চলছে মাতম।
খাদ্য সংকটে পড়া বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষই বাংলাদেশসহ ১০ দেশের

খাদ্য সংকটে পড়া বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষই বাংলাদেশসহ ১০ দেশের বিশ্বে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ হিসেবে এবারও সংঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে জাতিসংঘ সমর্থিত একটি প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটে পড়া মানুষের দুই-তৃতীয়াংশই মাত্র ১০টি দেশে বাস করে। এই ১০টির মধ্যে বাংলাদেশও আছে। চলতি বছরও দেশগুলোতে পরিস্থিতি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’ শিরোনামের বার্ষিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে শুক্রবার। এতে বলা হয়েছে, সংঘাত ও চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে অনেক দেশে সংকট বজায় থাকবে বা আরও খারাপ হবে। তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা যে ১০টি দেশে কেন্দ্রীভূত সেগুলো হলো- আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, কঙ্গো, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও সিরিয়ার মতো কিছু দেশে পরিস্থিতি উন্নতি হলেও আফগানিস্তান, কঙ্গো, মিয়ানমার ও জিম্বাবুয়েতে উল্লেখযোগ্য অবনতি দেখা গেছে। বার্ষিক প্রতিবেদনটিতে আন্তর্জাতিক সাহায্য দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চলমান সংকটগুলোকে আরও গভীর করতে পারে। কারণ, একদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে চাষের মৌসুমে সার উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের প্রধান আলভারো লারিও এএফপিকে বলেন, ‘রোপণের মৌসুমে জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধি খাদ্য উৎপাদনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।’ তিনি ক্ষুদ্র কৃষকদের আরও বেশি সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি পানি ও জলবায়ু সহনশীল ফসলে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন। আলভারো লারিও বলেন, স্থানীয়ভাবে সার উৎপাদন এবং মাটির গুণগত মান উন্নয়নের ওপর জোর দিলে সার আমদানির প্রয়োজন কমবে।
ঠোঁট-মুখ পুড়ে গেছে মোজতবা খামেনির

ঠোঁট-মুখ পুড়ে গেছে মোজতবা খামেনির ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিনেই আহত হয়ে এখন কথা বলতে সমস্যায় ভুগছেন। এমনকি, তার প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হবে বলে জানা গেছে। সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি খামেনিকে। তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলা থেকে বেঁচে যাওয়ার পর কৃত্রিম পা লাগানোর অপেক্ষায় আছেন। ওই হামলায় তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের এই সর্বোচ্চ নেতা এখনো যোগাযোগ গ্রহণ করতে ও সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। তবে কণ্ঠ দুর্বল শোনাতে পারে- এমন আশঙ্কায় তিনি কোনো অডিও বা ভিডিও বার্তা রেকর্ড করছেন না। ধারণা করা হচ্ছে, খামেনির মুখমণ্ডল ও ঠোঁট গুরুতরভাবে পুড়ে গেছে, যার ফলে কথা বলতে তার কষ্ট হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে প্লাস্টিক সার্জারি করাতে হবে। ওই মার্কিন কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একটি পায়ে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এছাড়া তার একটি হাতেও অস্ত্রোপচার হয়েছে, যা ধীরে ধীরে আবার সচল হচ্ছে বলে জানা গেছে। মানসিকভাবে তিনি এখনো সচেতন থাকলেও যুদ্ধ শেষের চলমান আলোচনার সময় তিনি ইরানের জেনারেলদের সঙ্গে খুবই সীমিত যোগাযোগ রাখছেন। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, স্বল্প সময়ের এই সংঘাতের কারণে যুদ্ধ শেষ করতে তার প্রশাসনকে তাড়াহুড়া করা উচিত নয়। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাকে তাড়া দেবেন না, তাড়া দেবেন না। আমরা ভিয়েতনামে ১৮ বছর ছিলাম, ইরাকে ছিলাম আট বছর। আমি মাত্র ছয় সপ্তাহ ধরে এটি করছি।
ভারতকে ‘নোংরা জায়গা’ বললেন ট্রাম্প

ভারতকে ‘নোংরা জায়গা’ বললেন ট্রাম্প ভারতকে নোংরা জায়গা হিসেবে অভিহিত করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরমধ্যে তার এ মন্তব্যে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। দেশটি বলেছে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের যে সম্পর্ক এরসঙ্গে এ ধরনের মন্তব্য যায় না। গত বুধবার রাত ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ভারত ও চীনকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “একজন শিশু এখানে তাৎক্ষণিকভাবে নাগরিক হয়ে যায়। এরপর তারা চীন ও ভারতসহ অন্যান্য নোংরা জায়গা থেকে পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে। ট্রাম্পের এমন বর্ণবৈষম্যমূলক বক্তব্যের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল বলেছেন, “এগুলো স্পষ্টতই তথ্যহীন, অনুপযুক্ত এবং কুরুচিপূর্ণ। এগুলো কোনোভাবেই ভারত-মার্কিন সম্পর্কের প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত করে না, যে সম্পর্কটি দীর্ঘকাল ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে। গত বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চারদিনের যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধ ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শেষ হয়। তবে ভারত সরাসরি তার অবদানকে স্বীকৃতি দেয়নি। এরপর থেকেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক খারাপ হয়। অপরদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরের সঙ্গে তার সম্পর্ক বেশ ভালো হয়। তিনি অসিম মুনিরকে ব্যক্তিগতভাবে সফরের আমন্ত্রণ জানান।
চীনের সঙ্গে বিমান বিক্রিতে বোয়িংয়ের ভরসা ট্রাম্প

চীনের সঙ্গে বিমান বিক্রিতে বোয়িংয়ের ভরসা ট্রাম্প বোয়িংয়ের বিশাল এক ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ভরসা করছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কেলি ওর্টবার্গ। সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চীনের এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে খুচরা যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিনের যে জটিলতা ছিল, তার একটি সম্মানজনক সমাধান খুঁজে পেয়েছে বোয়িং। তবে এই বিপুল পরিমাণ উড়োজাহাজ বিক্রির বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে মার্কিন প্রশাসনের সরাসরি সহযোগিতার ওপর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের অংশ হিসেবে এর আগে খুচরা যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিনের সরবরাহ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিলেন, যা বোয়িংয়ের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ওর্টবার্গ মনে করেন, বর্তমান প্রশাসনের সক্রিয় সমর্থন ছাড়া অদূর ভবিষ্যতে চীনের কাছ থেকে বড় কোনো ক্রয়াদেশ পাওয়া প্রায় অসম্ভব। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সব ঠিক থাকলে চীন প্রায় ৫০০টি ৭৩৭ ম্যাক্স জেট এবং কয়েক ডজন ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে। যদি এই চুক্তিটি সফল হয়, তবে ২০১৭ সালের পর এটিই হবে চীনের পক্ষ থেকে বোয়িংয়ের জন্য প্রথম কোনো বড় ধরনের অর্ডার। মূলত ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে স্থগিত হওয়া ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের আগামী মে মাসের বৈঠকটিই এখন এই চুক্তির মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মিলিয়ন ডলার জালিয়াতির অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার ধনকুবেরের ব্যক্তিগত সহকারি গ্রেফতার

মিলিয়ন ডলার জালিয়াতির অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার ধনকুবেরের ব্যক্তিগত সহকারি গ্রেফতার অস্ট্রেলিয়ার বিশিষ্ট ধনকুবের ও সমাজসেবী জুডিথ নেলসনের ব্যক্তিগত সচিব অ্যানালুইস স্পেন্সের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যবহার করে তিনি নিজের জন্য বিলাসবহুল পোশাক, শিল্পকর্ম এবং দামি গহনা কিনেছেন বলে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ এই ঘটনাকে একটি বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণা হিসেবে দেখছে। ৫০ বছর বয়সী অ্যানালুইস স্পেন্সের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার মোট ৬৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার সকালে সিডনির এরসকিনভিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তার বাড়ি এবং ক্যাম্পবেল টাউনের একটি স্টোরেজ ইউনিটে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রী জব্দ করা হয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে নামি ব্র্যান্ডের হ্যান্ডব্যাগ, গহনা এবং দামি পোশাক। গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে এই চিপেনডেল ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত শুরু করেছিল প্রশাসন। দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে বুধবার এই গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হয়। তদন্তে জানা গেছে যে স্পেন্স ২০১৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অফিসের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত কেনাকাটা চালিয়ে গেছেন। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিনি প্রায় ১০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারেরও বেশি অর্থ খরচ করেছেন যা প্রতিষ্ঠানের নথিপত্রে অনুমোদিত ছিল না। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বৃহস্পতিবার একটি ভার্চুয়াল বেল কোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে। অ্যানালুইস স্পেন্স ২০১৭ সাল থেকে জুডিথ নেলসনের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে গত বছর নেলসনের কার্যালয়ে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের পর স্পেন্স তার পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপরই নতুন আসা একজন নির্বাহী সহকারী নেলসনের হিসাবপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে অসংগতিগুলো লক্ষ্য করেন। আর সেখানেই এই বড় জালিয়াতির প্রমাণ মেলে। হিসাব পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায় লন্ডন সফরের একটি বিলে ৫৬ হাজার ৬০০ ডলারের একটি দুর্লভ গোলাপি স্বর্ণের রোলেক্স ঘড়ি এবং হ্যারডস ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে ২১ হাজার ডলারের কেনাকাটা করা হয়েছে। অথচ জুডিথ নেলসন সেই সময় লন্ডনে ছিলেন না এবং তিনি সাধারণত এই ধরনের দামি গহনা ব্যবহার করেন না। এই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা গভীর অনুসন্ধানে নামেন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী স্পেন্স ভ্রমণের পেছনে প্রায় ৪ লাখ ডলার, ফ্যাশন আইটেমে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ডলার এবং গহনার পেছনে ১ লাখ ৮৪ হাজার ডলার ব্যয় করেছেন। শুধু তাই নয় তিনি জুডিথ নেলসনের প্রায় ১০ লাখ কোয়ান্টাস ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার পয়েন্টও নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জুডিথ নেলসন অস্ট্রেলিয়ার একজন অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি যার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২০ কোটি ডলার। তিনি হোয়াইট র্যাবিট আর্ট গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা এবং মানসম্পন্ন সাংবাদিকতার প্রসারে ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি ইনস্টিটিউট তৈরি করেছেন। বর্তমানে এই জালিয়াতি মামলার অধিকতর তদন্ত চলছে এবং স্পেন্সের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।
মাস না পেরোতেই দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ, সংকটে নেপালের নতুন সরকার

মাস না পেরোতেই দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ, সংকটে নেপালের নতুন সরকার নেপালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাস না পেরোতেই বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। জেনারেশন-জেড বা তরুণ প্রজন্মের সমর্থনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসা র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ৩৫ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহর প্রশাসনে এখন অস্থিরতা তুঙ্গে। গত ২৬ দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভা থেকে দুজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর পদত্যাগ শাহর সংস্কারবাদী ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির স্বচ্ছ শাসনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা নিয়ে এখন খোদ জনমনেই সংশয় দেখা দিচ্ছে। সরকারের এই টালমাটাল অবস্থায় সবশেষে পদত্যাগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং। তার ব্যক্তিগত বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠায় নৈতিকতার দায়বদ্ধতা থেকে তিনি পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন। গুরুং তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, পদের চেয়ে নৈতিকতা অনেক বড় এবং জনজীবনে স্বচ্ছতা থাকা বাধ্যতামূলক। এর মাত্র কয়েক দিন আগে শ্রমমন্ত্রী দীপক কুমার শাহ দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগে বাধ্য হন। নিজের পদের অপব্যবহার করে স্ত্রীকে স্বাস্থ্য বিমা বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। শপথ নেওয়ার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় নিজ দলের চাপের মুখে তাকে বিদায় নিতে হয়। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ নিজেই সামলাচ্ছেন। রাজনৈতিক এই অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি ভারত-নেপাল সীমান্ত নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নেপাল সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভারত থেকে ১০০ নেপালি রুপির বেশি মূল্যের পণ্য আনলেই এখন শুল্ক দিতে হবে। সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করে পণ্য বাজেয়াপ্ত করার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সীমান্ত এলাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষ এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন। এ ছাড়া এই নির্দেশনার কোনো আনুষ্ঠানিক নথি আছে কি না, তা নিয়েও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। একইসঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার জেরে নেপালে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫০ থেকে বেড়ে ২২৫ রুপি হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি আর একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির সূচকে ১০৯তম অবস্থানে থাকা নেপালের বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ এখন গভীর পর্যবেক্ষণের অধীনে রয়েছে।
মালয়েশিয়ায় বিনোদন কেন্দ্রে অভিযানে চালিয়ে বাংলাদেশিসহ আটক ৩৭

মালয়েশিয়ায় বিনোদন কেন্দ্রে অভিযানে চালিয়ে বাংলাদেশিসহ আটক ৩৭ মালয়েশিয়ার জোহর বারুর স্তুলাং লাউত এলাকায় একটি বিনোদন কেন্দ্রে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ৩৭ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে পরিচালিত এই অভিযানে জোহর অভিবাসন বিভাগের একটি বিশেষ দল অংশ নেয়। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা তথ্য এবং নজরদারির ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয় বলে আজ আজ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন জোহর অভিবাসন পরিচালক দাতুক মোহাম্মদ রুশদি মোহাম্মদ দারুস। বিবৃতিতে জানানো হয়, মূলত অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ এবং আশ্রয় দেওয়ার সন্দেহে ওই কেন্দ্রটিতে তল্লাশি চালানো হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১৬ জন থাই নারী, ৩ জন ভিয়েতনামি নারী, ২ জন ফিলিপিনো নারী এবং ১ জন ফিলিপিনো পুরুষ রয়েছেন। এ ছাড়া আটক পুরুষদের মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশি, ৩ জন পাকিস্তানি, ৩ জন ইন্দোনেশীয়, ৪ জন চীনা এবং ২ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। আটককৃতদের বয়স ২০ থেকে ৫৩ বছরের মধ্যে এবং ধারণা করা হচ্ছে তারা ওই বিনোদন কেন্দ্রে কাস্টমার সার্ভিস অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। অভিযান চলাকালে ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বরত এক মালয়েশীয় নাগরিককেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মোহাম্মদ রুশদি জানান, এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্যদের খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে জনসাধারনের তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চলতি সপ্তাহে চার ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মিজানের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। মঙ্গলবার মেহেদি ফারিদ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি মোসাদের কাছে ইরানের স্পর্শকাতর জাতীয় তথ্য পাচার করেছেন। এর আগে, সপ্তাহের শুরুতেই একই অভিযোগে আমির আলি মিরজাফারি, হামিদ ওয়ালিদি এবং মোহাম্মদ মাসুম শাহী নামে আরও তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ইরানে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমনেই ইরান এই পথ বেছে নেয়। বিশেষ করে চলতি বছর রাজনৈতিক বন্দি এবং গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপরও এই কঠোর সাজা প্রয়োগ করা হয়েছে। নরওয়ে-ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) এবং প্যারিস-ভিত্তিক টুগেদার অ্যাগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টি (ইপিসিএম)-এর একটি যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালে ইরান তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। ওই বছর অন্তত ১,৬৩৯ জনের সাজা কার্যকর করা হয়েছে, যা ১৯৮৯ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইপিসিএম-এর নির্বাহী পরিচালক রাফায়েল শেনুইল-হাজান জানান, ইরানে মৃত্যুদণ্ডকে মূলত রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
নিরাপত্তা খাতে সম্পর্ক জোরদার, রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সমঝোতা

নিরাপত্তা খাতে সম্পর্ক জোরদার, রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সমঝোতা রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়াতে সম্মত হয়েছে। আজ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার পিয়ংইয়ংয়ের অ্যাসেম্বলি হলে উত্তর কোরিয়ার জননিরাপত্তামন্ত্রী পাং টু-সপ এবং রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকলৎসেভ মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি। বৈঠকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অর্জন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ক সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে বৈঠকটি “বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে” অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর আগে সোমবার কর্মসূচিভিত্তিক সফরে পিয়ংইয়ং পৌঁছান রুশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোলোকলৎসেভ। গত এক দশকে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে। ২০২৪ সালে একটি চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ “সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব” প্রতিষ্ঠা করে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো তৃতীয় পক্ষের হামলার শিকার হলে একে অপরকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। এদিকে, ২০২৫ সালের আগস্টে ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে মাইন অপসারণে সহায়তার জন্য প্রায় এক হাজার সামরিক প্রকৌশলী পাঠায় উত্তর কোরিয়া। এর আগে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিতে আনুমানিক ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের তথ্যমতে, ওই যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার প্রায় দুই হাজার সেনা নিহত হয়েছে।