ফের আকাশসীমা চালু করল ইরান

ফের আকাশসীমা চালু করল ইরান হঠাৎ করেই আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। ফলে শুরু হয়েছিল নতুন গুঞ্জন। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো আসন্ন মার্কিন হামলা রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। তবে কয়েক ঘণ্টা যেতেই আবারও নিজেদের আকাশসীমা চালু করেছে ইরান। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অচলাবস্থা কাটিয়ে স্থানীয় সময় আজ ভোররাতে আকাশসীমায় বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয় দেশটি। সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় বুধবার গভীর রাতে হঠাৎ করেই আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তেহরান। মার্কিন ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নোটিশ অনুযায়ী, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় রাত দশটা পনেরো মিনিট থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। সে সময় আন্তর্জাতিক আগমন ও প্রস্থানকারী বিশেষ অনুমোদিত ফ্লাইট ছাড়া সব ধরনের বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে গ্রিনিচ মান সময় বৃহস্পতিবার রাত তিনটার কিছু আগে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সার্ভিস ফ্লাইটরাডার-টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে, আকাশসীমা খোলার পরপরই ইরানের অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু ফ্লাইট পুনরায় যাত্রা শুরু করেছে।
ইরানে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২,৬০০ জন: মানবাধিকার সংস্থা

ইরানে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২,৬০০ জন: মানবাধিকার সংস্থা ইরানে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান দেশব্যাপী বিক্ষোভে অন্তত ২,৬০০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী, সাধারণ বেসামরিক নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে। এইচআরএএনএ জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২,৪০৩ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য তারা যাচাই করেছে। এ ছাড়া সরকার সংশ্লিষ্ট অন্তত ১৪৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, দেশজুড়ে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা অস্থিরতায় প্রায় ২,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর জন্য ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ নাগরিক এবং কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। এদিকে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির শাসকদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের অভিযোগ তুলে ইরানের বিরুদ্ধে একাধিকবার সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। গত বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পর দেশটির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে ‘সব ধরনের বিকল্প’ খোলা রয়েছে। দ্রুত বিচার চায় ইরানের প্রধান বিচারপতি তেহরানের একটি কারাগার পরিদর্শনের সময়, যেখানে গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীদের রাখা হয়েছে, ইরানের প্রধান বিচারপতি বলেন—যারা মানুষকে শিরচ্ছেদ করেছে বা পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত বিচার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে। এইচআরএএনএ আরও জানিয়েছে, এ পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ১৮,১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার তেহরানে অস্থিরতার সময় নিহত ১০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মীর স্মরণে একটি জানাজা মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানি কুর্দি মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও (Hengaw) জানিয়েছে, কারাজ শহরে বিক্ষোভসংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বুধবার কার্যকর করার কথা ছিল। হেঙ্গাও রয়টার্সকে জানায়, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সোলতানির সাজা কার্যকর হয়েছে কি না, তা তারা নিশ্চিত করতে পারেনি। রয়টার্সও স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।
গ্রিনল্যান্ডে দূতাবাস খুলবে ফ্রান্স

গ্রিনল্যান্ডে দূতাবাস খুলবে ফ্রান্স গ্রিনল্যান্ডে দূতাবাস খুলবে ফ্রান্স। বুধবার এক বিবৃতিতে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট বলেছেন, ফ্রান্স আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি গ্রিনল্যান্ডে একটি দূতাবাস খুলবে। তিনি এই পদক্ষেপকে ডেনিশ ভূখণ্ডের ওপর একটি কৌশলগত ‘রাজনৈতিক সংকেত’ বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়ার পর এমন পদক্ষেপের কথা জানালো ফ্রান্স। খবর এএফপির।প্রায় এক বছর আগে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা বলে আসছেন। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট ফরাসি আরটিএল সম্প্রচারককে বলেন, গত গ্রীষ্মে যখন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গ্রিনল্যান্ড সফরে এসেছিলেন, তখন সমর্থন প্রকাশের জন্য সেখানে দূতাবাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, আমি আগস্টের শেষে সেখানে গিয়েছিলাম দূতাবাসের বিষয়ে পরিকল্পনা করার জন্য, যা আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি খোলা হবে। এটি একটি রাজনৈতিক সংকেত যা বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রসহ গ্রিনল্যান্ডে আরও বেশি উপস্থিতির আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড মালিকানাধীন, শাসিত… অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত হতে চায় না। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক, ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বেছে নিয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের নেতারা বলেছেন যে, দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবেই থাকতে পছন্দ করবে। অপরদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া বা চীনের দখলের হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডকে দখল করা প্রয়োজন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিত্যক্ত কয়েকটি বিমানঘাঁটি চালু করছে ভারত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিত্যক্ত কয়েকটি বিমানঘাঁটি চালু করছে ভারত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটির একটি নেটওয়ার্ক পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত। মূলত নিরাপত্তা ও কৌশলগত বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নিয়েছে নয়াদিল্লি। দেশটির সরকারি সূত্র টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদার করা এবং এমন এক সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে কার্যকর প্রস্তুতি নিশ্চিত করা, যখন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। চিকেন নেকের কাছে অবস্থিত রংপুরের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ ঘিরেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। ‘চিকেনস নেক’ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে। ইতোমধ্যে ভারত এই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া, বিহারের কিশানগঞ্জ এবং আসামের ধুবরি জেলায় লাচিত বরফুকান এলাকায় নতুন সেনা ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। যেসব বিমানঘাঁটি সংস্কারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে জলপাইগুড়ির আম্বারি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদহের ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবরি। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার এবং আসামের কোকরাঝাড় জেলার রুপসি বিমানঘাঁটি ইতোমধ্যে চালু রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চল জাপানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) অঞ্চলে মিত্রবাহিনীর অভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রসদঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। ত্রিপুরা, আসাম ও বাংলায় বহু বিমানঘাঁটি ছিল, যেগুলো বার্মা অভিযান, চীন–বার্মা–ভারত থিয়েটার এবং লেডো (স্টিলওয়েল) সড়কের মতো সরবরাহ রুটকে সমর্থন জুগিয়েছিল।
থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২

থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২ থাইল্যান্ডে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। নির্মাণাধীন একটি ক্রেন ভেঙে চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে রাজধানী ব্যাংককের উত্তর-পূর্বে নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের শিখিও জেলায় ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। থাই পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে ব্যাংকক থেকে উবন রাতচাথানি প্রদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি। পথে নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের শিখিও এলাকায় একটি উচ্চগতির রেল প্রকল্পের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ক্রেন হঠাৎ ভেঙে পড়ে চলন্ত ট্রেনটির একটি বগির ওপর আঘাত হানে। এতে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয় এবং কিছু সময়ের জন্য আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত ট্রেনের বগি থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসন বিন্যাস অনুযায়ী দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে মোট ১৯৫ জন যাত্রী ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। আহতদের নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মাচাদোকে জরুরি বৈঠকে বসার জন্য ডেকেছেন ট্রাম্প

মাচাদোকে জরুরি বৈঠকে বসার জন্য ডেকেছেন ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জরুরি বৈঠকে বসার জন্য ওয়াশিংটনে ডেকে পাঠিয়েছেন ভেনেজুয়েলার শান্তিতে নোবেলজয়ী বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে। আজ বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে হোয়াইট হাউসে। নিকোলাস মাদুরো মার্কিন বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার পর থেকে ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়া মাচাদোর এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন কারাকাসের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই ট্রাম্প এই ‘বিকল্প কার্ড’ ব্যবহার করছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। গত ৩ জানুয়ারি মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনী ও আদালতের সমর্থনে ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান এবং ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুতই তাকে সমর্থন জানায়। তবে গত কয়েক দিনে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে যখন স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকা মাচাদো নিজের নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এর পরপরই ওয়াশিংটন মাচাদোকে আলোচনার টেবিলে আমন্ত্রণ জানায়। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এখনো দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করে গেলেও তাকে কড়া হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুত সংক্রান্ত বিষয়ে ওয়াশিংটনের ইচ্ছা-অনিচ্ছার সঙ্গে তাল মিলিয়ে না চললে দেলসিকেও চরম পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে রিপাবলিকান এই নেতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে ইরান

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে ইরান ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ হঠাৎ করেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। তবে ইরান সরকারের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের উসকানি ও মদত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এদিকে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে ইরান। গ্তকাল দুটি মানবাধিকার সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। ইরান হিউম্যান রাইটস এবং ন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ডেমোক্রেসি ইন ইরান জানিয়েছে, ২৬ বছর বয়সী ইরফান সোলতানি গত সপ্তাহে কারাজ থেকে গ্রেপ্তার হন। সংস্থাগুলো বলেছে, ইরফান সোলতানির পরিবারকে জানানো হয়েছে, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং আগামীকাল তার দণ্ড কার্যকর হবে। ইরান হিউম্যান রাইটসের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোঘাদ্দাম এক বিবৃতিতে বলেন, ১৯৮০-এর দশকে ইরান সরকার যেভাবে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করত, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার মিল রয়েছে। সেসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। ন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ডেমোক্রেসি ইন ইরান জানায়, সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। তার একমাত্র অপরাধ ছিল ইরানের স্বাধীনতা চাওয়া। তাকে কোনো বিচার প্রক্রিয়ায় আইনজীবী নিয়োগের সুযোগও দেওয়া হয়নি। সংবাদমাধ্যম ইউএস সান জানিয়েছে, সোলতানির বিরুদ্ধে ‘আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার’ অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ইরানে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ জানিয়েছে, ইরানের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া এবং তা কার্যকর হতে যাওয়ার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সরকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, বিক্ষোভের নামে যারা সরকারি সম্পদের ক্ষতি করেছে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এদিকে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের বদলে নির্বিচারে সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। এছাড়াও তারা দেশটির অন্তত অর্ধশতাধিক মসজিদে আগুন দিয়েছে। ধ্বংস করেছে ১৮০ অ্যাম্বুলেন্স। সোমবার তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে মোট ৫৩টি মসজিদ ও ১৮০টি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়া হয়েছে। তার মতে, কোন ইরানি কখনও মসজিদে হামলা চালাতে পারে না। গত সপ্তাহে তেহরানের আবুজার মসজিদের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরা প্রায় এক ডজন ব্যক্তি মসজিদটি তছনছ করছে, বইপত্র মেঝেতে ছুড়ে ফেলছে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, গত ৯ জানুয়ারি মসজিদটিতে আগুন দেওয়া হয়। সূত্র: রয়টার্স, ফক্স নিউজ, এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কেভিন রাড তিন বছরের দায়িত্বকাল শেষে পদত্যাগ করছেন। আজ আজ এ তথ্য জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড ৩১ মার্চ নিউ ইয়র্কের এশিয়া সোসাইটি থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সভাপতি হওয়ার জন্য তার পদ ছেড়ে দিচ্ছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ক্ষমতার বাইরে ছিলেন তখন ট্রাম্পকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন রাড। পরে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার ওই রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন ‘আমি আপনাকে পছন্দ করি না’। গত বছরের অক্টোবর মাসে হোয়াইট হাউসে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত মার্কিন-অস্ট্রেলিয়া বৈঠকে ট্রাম্প এভাবে রাডের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। যার ফলে অস্ট্রেলিয়ার কিছু বিরোধী দল তার পদত্যাগের দাবি জানায়। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, এক বছর আগে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত রাডের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। উল্লেখ্য, ট্রাম্পকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক প্রেসিডেন্ট’ এবং ‘পশ্চিমাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতক’ হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন রাড। যদিও ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে নির্বাচনে ট্রাম্প জয়লাভের পর রাড অনলাইনে মন্তব্যগুলো মুছে ফেলেন।
এক দশক পর জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু

এক দশক পর জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের গণহত্যা মামলার বিচার শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজি)। জাতিসংঘের এই আদালত ‘বৈশ্বিক আদালত’ (ওয়ার্ল্ড কোর্ট) নামেও পরিচিত। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে জাতিসংঘের আদালতের অবস্থান। আজ দেশটির স্থানীয় সময় বেলা ১০টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা) মামলার শুনানি শুরু হবে। আগামী ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে এই শুনানিপর্ব। জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত যে মামলাটি নথিবদ্ধ করা হয়েছিল, সেই মামলার তদন্তকারী দল ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে বাংলাদশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে বোমা হামলা হয়েছিল। সশস্ত্র রোহিঙ্গাগোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-কে এই হামলার জন্য দায়ী করে মিয়ানমারের সরকার। পরে এ হামলার জের ধরে ওই মাসেই বাংলাদেশ- মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে সাধারণ রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে বর্মী সেনাবাহিনীর লাগাতার হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের সামনে টিকতে না পেরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশে পালাতে শুরু করে। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন সে সময়। তারা এখনও বাংলাদেশেই আছেন। ২০১৭ সালে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের পরপরই জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী দল এ ঘটনার তদন্ত করেছিল। সেই দলের তদন্ত প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দলের সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৯ সালে বৈশ্বিক আদালতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা করেছিল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিায়া। সেই মামলারই শুনানি শুরু হচ্ছে সোমবার। মিয়ানমারে যখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছিল, সে সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অং সান সুচি। জাতিসংঘের অনুসন্ধানি দলের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। গাম্বিয়া যখন মামলা করে, তখনও সেই মামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সুচি বলেছিলেন, গাম্বিয়ার অভিযোগ ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’। ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন সুচি এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকার। বর্তমানে মিয়ানমারের কারাগারে আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে সেনাবাহিনীর আদালতে তার বিচার চলছে। বৈশ্বিক আদালতে দায়ের কৃত রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা নিকোলাস কৌজিমান রয়টার্সকে বলেন, “গণহত্যার প্রকৃত সংজ্ঞা কী, কীভাবে গণহত্যা সম্পর্কিত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করা যায়ে এবং কীভাবে এ ধরনের অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়— এসবের নিষ্পত্তিতে এই মামলা একটি নজির হয়ে থাকবে।”
গভীর সমুদ্রে বিরল খনিজ উত্তোলনের ঐতিহাসিক উদ্যোগ জাপানের

গভীর সমুদ্রে বিরল খনিজ উত্তোলনের ঐতিহাসিক উদ্যোগ জাপানের চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে গভীর সমুদ্রে বিরল খনিজ উত্তোলনের লক্ষ্যে আজ এক ঐতিহাসিক অভিযানে যাত্রা শুরু করেছে জাপানের একটি গবেষণা জাহাজ। বৈজ্ঞানিক খনন জাহাজ ‘চিকিউ’ স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শিজুওকার শিমিজু বন্দর ত্যাগ করে প্রশান্ত মহাসাগরের দূরবর্তী দ্বীপ মিনামি তোরিশিমার উদ্দেশে রওনা দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, দ্বীপটির আশপাশের জলসীমায় বিপুল পরিমাণ মূল্যবান খনিজ রয়েছে। টোকিও থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। এই পরীক্ষামূলক অভিযানটি এমন এক সময়ে শুরু হলো, যখন জাপানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিরল খনিজ সরবরাহকারী চীন। গত নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ানে হামলা হলে সামরিক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই টানাপোড়েন তীব্র হয়। চীন স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে বিরল খনিজে নিজের আধিপত্য দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধেও এই খাতটি চীনের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার ছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে একদিন দেরিতে শুরু হওয়া ‘চিকিউ’-এর এই যাত্রা ভবিষ্যতে দেশে বিরল খনিজ উৎপাদনের পথ খুলে দিতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ দপ্তরের কর্মসূচি পরিচালক শোইচি ইশি। বন্দরেই সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করার কথা ভাবছি এবং নির্দিষ্ট কোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়াতে চাইছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিরল খনিজের দেশীয় উৎপাদন নিশ্চিত করার একটি প্রক্রিয়া গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।’ বিরল খনিজ বলতে পৃথিবীর ভূত্বক থেকে উত্তোলনে জটিল ১৭ ধরনের ধাতুকে বোঝায়। এগুলো বৈদ্যুতিক যান, হার্ড ড্রাইভ, বায়ু টারবাইন থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। জাপান এজেন্সি ফর মেরিন-আর্থ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (জ্যামস্টেক) জানিয়েছে, ৬ হাজার মিটার গভীরতায় এ ধরনের পরীক্ষামূলক খনন বিশ্বে এই প্রথম।জাপানের অর্থনৈতিক জলসীমায় অবস্থিত মিনামি তোরিশিমার আশপাশে ১ কোটি ৬০ লাখ টনের বেশি বিরল খনিজ মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিক্কেই বিজনেস ডেইলির তথ্য অনুযায়ী, এটি বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম মজুত। নিক্কেই জানিয়েছে, এই সমৃদ্ধ স্তরে রয়েছে প্রায় ৭৩০ বছরের জন্য প্রয়োজনীয় ডিসপ্রোসিয়াম, যা মোবাইল ফোন ও বৈদ্যুতিক গাড়ির উচ্চক্ষমতার চুম্বকে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ৭৮০ বছরের জন্য প্রয়োজনীয় ইট্রিয়াম, যা লেজার প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস)-এর গবেষণা সহযোগী তাকাহিরো কামিসুনা এএফপিকে বলেন, ‘মিনামি তোরিশিমার আশপাশে যদি জাপান নিয়মিতভাবে বিরল খনিজ উত্তোলনে সফল হয়, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতের জন্য একটি নিরাপদ দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত হবে।’ এই গবেষণা অভিযান চলবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সাম্প্রতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে দুই মাস ধরে চলা উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে বেইজিং জাপানি পণ্য আমদানিতে বিলম্ব ঘটাচ্ছে ও টোকিওতে বিরল খনিজ রফতানির গতিও শ্লথ হয়েছে। চলতি মাসে চীন জাপানের কাছে ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ কিছু পণ্যের রফতানি বন্ধ করেছে, যেগুলোর সামরিক ব্যবহার সম্ভব। এতে বেইজিং বিরল খনিজ সরবরাহও আটকে দিতে পারার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে জাপানের, কারণ এর কিছু চীনের দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।