ভয়াবহ তুষারঝড়ে নিউ ইয়র্ক সিটিতে ঝুঁকিতে ৫ কোটি মানুষ

ভয়াবহ তুষারঝড়ে নিউ ইয়র্ক সিটিতে ঝুঁকিতে ৫ কোটি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ তুষারঝড় আঘাত হানতে শুরু করেছে। এর ফলে প্রায় ৫ কোটি ৯০ লাখ মানুষ আবহাওয়া সতর্কতার আওতায় রয়েছে। ঝড়ের কারণে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং নিউ ইয়র্ক সিটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, নিউ জার্সি এবং রোড আইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। তুষারঝড়ের কারণে বেশ কিছু রাজ্য যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং কানাডার মেরিটাইম অঞ্চলের একটি বড় অংশ এই ঝড়ের কবলে থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি গত এক দশকের মধ্যে এই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘নর’ইস্টার’ ঝড় হতে যাচ্ছে, যা প্রচুর তুষারপাত, তীব্র বাতাস এবং উপকূলীয় বন্যার কারণ হবে। পাওয়ারআউটলেজ ডট ইউএস-এর তথ্যমতে, নিউ জার্সিতে ইতোমধ্যেই ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। ভার্জিনিয়া, ডেলাওয়্যার এবং ম্যারিল্যান্ডেও হাজার হাজার মানুষ অন্ধকারে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
নেপালের নদীতে বাস উল্টে পড়ে ১৮ জন নিহত

নেপালের নদীতে বাস উল্টে পড়ে ১৮ জন নিহত নেপালে একটি যাত্রীবাহী বাস ছিটকে নদীতে পড়ে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল গভীর রাতে নেপালের ধাদিং জেলার গাজুরি এলাকায় ত্রিশুলি নদীতে ঘটেছে এ দুর্ঘটনা। খবর এএফপির। জানা গেছে, মোট ৪৬ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি পোখরা থেকে রাজধানী কাঠমান্ডু’র উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পিৃথ্বী হাইওয়ে দিয়ে চলার সময় দুর্ঘটনা বশত বাসটি পার্শ্ববর্তী ত্রিশুলি নদীতে উল্টে পড়ে। স্থানীয় সময় রাত ১ টা ৩০ মিনিটের দিকে ঘটে এ দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা কবলিত বাস এবং নদী থেকে মোট ১৮ জন যাত্রীর মরদেহ এবং ২৮ জন যাত্রীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের একজন নাগরিক আছেন এবং তিনি পুরুষ। আর আহতদের মধ্যে জাপান এবং নেদারল্যান্ডসের দু’জন নারী আছেন। পর্যটক হিসেবে নেপালে এসেছিলেন তারা। ঠিক কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে পুলিশের ধারণা, দুর্ঘটনার জন্য বাসটির উচ্চগতি দায়ী।
যুক্তরাষ্ট্র সেনা সরিয়ে নিচ্ছে কাতার ও বাহরাইন থেকে

যুক্তরাষ্ট্র সেনা সরিয়ে নিচ্ছে কাতার ও বাহরাইন থেকে ইরানের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত শত শত সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কাতার ও বাহরাইনে থাকা সামরিক ঘাঁটি থেকে এ প্রত্যাহার শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। পেন্টাগনের গোপন সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে ইতোমধ্যে কয়েক শ মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি, যেখানে নিয়মিত প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন থাকেন। বাহরাইন থেকেও সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি আল জাজিরা জানিয়েছিল, সিরিয়ায় অবস্থানরত প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় এসব পদক্ষেপ ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়, তবে তেহরান পাল্টা জবাবে এ অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন এক চিঠিতে সতর্ক করে বলেছে, ইরান আক্রান্ত হলে এ অঞ্চলে থাকা শত্রু বাহিনীর সব ঘাঁটি ও স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায়ভার ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে কাতার ও বাহরাইন থেকে সেনা কমালেও ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন ঘাঁটিতে এখনো মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রশাসন ও পেন্টাগনের কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, প্রস্তুতি এমন পর্যায়ে রয়েছে যে চাইলে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই ইরানে হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সতর্ক করেছেন এই সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বৈশ্বিক শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের

বৈশ্বিক শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের বৈশ্বিক পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। বিবিসি, রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ বাতিল করে রায় দেন। আদালত বলেন, অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা-সংক্রান্ত আইনের আওতায় উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আদালতের এই রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভিন্ন একটি বাণিজ্য আইনে বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। শনিবার এটা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছি যে, আজ থেকেই বিশ্বের সব দেশের ওপর আমাদের আরোপ করা ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হলো। অনেক দেশ বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে আসছিল এবং এর কোনো বিচারও হচ্ছিল না (যতক্ষণ না আমি ক্ষমতায় এসেছি!)। এখন থেকে আইন মেনেই তাদের ওপর এই বাড়তি কর কার্যকর হবে। এর আগে শুক্রবার আদালত কর্তৃক বাতিল হওয়া শুল্কের জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২–এর অধীনে নতুন করে ১৫ শতাংশ কর আরোপের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ কিছু দেশের জন্য প্রশ্ন তৈরি করেছে। কারণ এসব দেশ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১০ শতাংশ শুল্ক চুক্তি করেছিল। আইনে বলা আছে, নতুন এই কর প্রায় পাঁচ মাস পর্যন্ত চালু রাখা যাবে। এরপর এটি চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমতি নিতে হবে। আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকেই তার ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা। এখন সেটি যদি ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয় তাহলে সেটি কখন থেকে কার্যকর হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, গত বছর জরুরি অর্থনৈতিক শক্তি আইন (আইইইপিএ)) এর অধীনে বিশ্বের সব দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। আদালত বলেছেন, ট্রাম্প তার ক্ষমতার অধিক ব্যবহার করেছেন। শুল্ক আরোপের আগে তার কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া উচিত ছিল।
আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর, ঢাকা তৃতীয়

আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর, ঢাকা তৃতীয় বায়ুদূষণের তালিকায় আজ শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা রয়েছে তৃতীয় নম্বরে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বায়ুদূষণের তালিকায় শীর্ষে থাকা লাহোরের দূষণ ৩৯২ স্কোর— অর্থাৎ এখানকার বাতাস বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে। ২১০ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। অপরদিকে, দূষণ তালিকায় ১৯৭ স্কোর নিয়ে তৃতীয় নম্বরে রয়েছে ঢাকা। এই শহরের বায়ুর মান খুবই অস্বাস্থ্যকর। স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। এ ছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়
আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান

আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার জেরে এ হামলা চালিয়েছে পাক বাহিনী। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটি ও গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এসব হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান এবং সহযোগী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ (আইএসকেপি)-এর সাতটি সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির ও আস্তানায় ‘নির্বাচিত লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে কাবুল তিন পাকিস্তানি সেনাকে মুক্তি দেয়। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম সীমান্তজুড়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা করা সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউর ও বান্নু জেলায় সহিংসতা। কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বান্নু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা নিহত হন। এর পরদিন সোমবার বাজাউরে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় ১১ জন সেনা ও এক শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক। এদিকে কাবুলের তালেবান প্রশাসনের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স। তবে আফগানিস্তান বরাবরই পাকিস্তানের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালানোর সুযোগ কোনো গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়নি।
অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার

অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হাঁসখালিতে অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম প্রকাশ টিকাদার। জানা যায়, হাঁসখালি থানার অন্তর্গত বড় চুপায়া এলাকায় প্রকাশ টিকাদারের বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ করা এক বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে গোপন সূত্রে খবর পায় পুলিশ। খবর পাওয়া মাত্রই প্রকাশের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে প্রকাশ এবং কথিত সেই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রের দাবি, কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন ওই নারী। তাকে ভারতে প্রবেশের সাহায্য করেন প্রকাশ টিকাদার। এ কারণে দুজনকেই গ্ৰেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাঁসখালি থানায় সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এর সঙ্গে আর কারা জড়িত তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে হাঁসখালি থানার পুলিশ।
ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগে ‘টেলিগ্রাম’ নিষিদ্ধ করছে রাশিয়া

ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগে ‘টেলিগ্রাম’ নিষিদ্ধ করছে রাশিয়া রাশিয়ার সামরিক বাহিনী, আইনপ্রণেতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘রসকমনডজোর’ অ্যাপটির বিরুদ্ধে নাশকতা ও সন্ত্রাসবাদে সহায়তার অভিযোগ আনে। রুশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সাইবার ক্রাইম বিভাগের মতে, টেলিগ্রামের বিভিন্ন ‘বট’ ব্যবহার করে অবৈধভাবে নাগরিকদের ‘ডিজিটাল প্রোফাইল’ তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর সংগ্রহ করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত এক মাসে এই ধরণের ১৩ হাজারের বেশি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যার ফলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ বিলিয়ন রুবল (প্রায় ১৯ কোটি ডলার)। টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ রাশিয়ার আইনি অনুরোধগুলো উপেক্ষা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল উন্নয়নমন্ত্রী মাকসুত শাদায়েভ জানান, শিশু পর্নোগ্রাফি এবং মাদক সংক্রান্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি কন্টেন্ট সরানোর অনুরোধ উপেক্ষা করেছে টেলিগ্রাম। এই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার থেকে রাশিয়ায় অ্যাপটির গতি কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রসকমনডজোর। ফেডারেশন কাউন্সিলের সাংবিধানিক আইন কমিটির প্রধান আন্দ্রেই ক্লিশাস স্পুটনিক রেডিওকে বলেন, আইন মেনে চলতে ব্যর্থ হলে টেলিগ্রাম রাশিয়ায় সম্পূর্ণ ব্লক বা নিষিদ্ধ হতে পারে। সম্প্রতি মেটা’র মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ-এর ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাশিয়া। এই পরিস্থিতিতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নাগরিকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে তৈরি ন্যাশনাল মেসেঞ্জার ‘ম্যাক্স’ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সাল থেকে রাশিয়ায় নতুন সব ডিভাইসে এই অ্যাপটি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরোভ এর আগে জানিয়েছিলেন, এই ধরনের বিধিনিষেধ মূলত ব্যবহারকারীদের রাষ্ট্রীয় নজরদারিতে থাকা প্ল্যাটফর্মগুলোর দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি চেষ্টা। মেটা কর্তৃপক্ষও এই ধরণের পদক্ষেপকে রাজনৈতিক সেন্সরশিপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ডাইনি অপবাদে ভারতে নারী ও শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে হত্যা

ডাইনি অপবাদে ভারতে নারী ও শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে হত্যা ডাইনি অপবাদে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে এক নারী ও তাঁর ১০ বছর বয়সী শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যের প্রত্যন্ত আদিবাসী জনপদ কুদসাইয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত নারীর স্বামীও হামলার শিকার হন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে তল্লাশি চলছে। গ্রেপ্তাররা পুলিশের হেফাজতে থাকলেও এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভারতে ডাইনি সন্দেহে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী। গত মঙ্গলবার জ্যোতি সিনকু ও তাঁর সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এর কয়েক মাস আগে প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে একই অভিযোগে এক পরিবারের পাঁচ সদস্যকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা সাধারণত পিছিয়ে পড়া আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বেশি ঘটে। কুসংস্কারের প্রভাব এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে অনেকেই হাতুড়ে চিকিৎসকের ওপর নির্ভরশীল। ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে কুদসাই একটি ছোট গ্রাম। সেখানে মাত্র ৫০টি মাটির বাড়ি রয়েছে। সম্প্রতি গ্রামে কয়েকটি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়। একই সময়ে পুসতুন বিরুয়া নামে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে মারা যান। এসব ঘটনাকে ঘিরেই গ্রামে জাদুটোনার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পুসতুন বিরুয়ার অসুস্থতার সময় থেকেই জ্যোতি সিনকুকে দায়ী করা হচ্ছিল। তাঁকে ডাইনিবিদ্যা চর্চার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুসতুন বিরুয়া মারা গেলে উত্তেজিত একদল লোক জ্যোতি সিনকুর বাড়িতে হামলা চালায়। দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোলহান সিনকু বলেন, সেদিন রাতে অন্তত ডজনখানেক লোক তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়, যার মধ্যে পাঁচজন নারীও ছিল। হামলাকারীরা তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। তিনি হাতজোড় করে বিষয়টি গ্রামসভায় মীমাংসার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু কেউ কথা শোনেনি বলেও জানান। পুসতুন বিরুয়ার স্ত্রী জানো বিরুয়া বলেন, তাঁর স্বামী বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্থানীয় এক হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে যান। ওই চিকিৎসক জানান, পুসতুনের কোনো শারীরিক অসুস্থতা নেই। হাসপাতালে না নেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তারা গরিব, এত দূরে নেওয়া সম্ভব ছিল না। কোলহান সিনকু ও পরিবারের আরেক সদস্যের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ হত্যা ও ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের মামলা করেছে। চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে কুসংস্কারবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। সোর্স বিবিসি
ইরানে সীমিত সামরিক হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

ইরানে সীমিত সামরিক হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প ইরানের নেতাদের ওপর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে একটি চুক্তিতে সম্মত হতে চাপ দেওয়ার জন্য সীমিত সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কথা বলেছেন। কর্মকর্তারা হামলার সম্ভাবনার কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আগামী সম্ভবত ১০ দিনের মধ্যে বিশ্ব জানতে পারবে যে, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো হবে নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে। ’ আমেরিকা এই অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে। আমেরিকা এবং তার ইউরোপীয় মিত্ররা সন্দেহ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা ইরান সর্বদা অস্বীকার করে আসছে। মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে এই বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেছেন এবং বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরান ‘সম্ভাব্য চুক্তির একটি খসড়া’ প্রস্তুত করছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করবে। জেনেভায় আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হয় যখন আমেরিকান বাহিনী ইরানের আশেপাশে তাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করে চলেছে। মোতায়েনের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডও রয়েছে, যা এই অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীও মোতায়েনের মধ্যে রয়েছে। ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধ জাহাজ এবং যুদ্ধবিমানের সংখ্যাও বৃদ্ধির পাচ্ছে। স্যাটেলাইট ছবিতেও দেখা গেছে, ইরান সামরিক স্থাপনাগুলোকে শক্তিশালী করেছে এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে হুমকি দিয়ে বার্তা পোস্ট করেছেন। ট্রাম্প সপ্তাহে বেশ কয়েকবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। তবে তার মন্তব্য সবসময় বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয় না এবং অনেক সময় একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়। তিনি সাংবাদিকদের মনে করিয়ে দিতে পছন্দ করেন যে, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা যেন তার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে না পারে, সে কারণে তিনি তার উদ্দেশ্য নিজের ও ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন। বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছি না। আমরা কোনো না কোনোভাবে একটি চুক্তি করব—অথবা কোনো চুক্তিই করব না।’ এমনকি যদি কোনো অভিযান পরিচালিত হয়, তবুও তার সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্য কী হবে, তা তিনি এখনো স্পষ্ট করেননি। জানা গেছে, মার্কিন কর্মকর্তারা তাকে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প উপস্থাপন করেছেন। অতীতে বিস্ময়ের উপাদান ধরে রাখতে ট্রাম্প সময়সীমাকেও কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। গত বছরের জুলাইয়ে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর সময় হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা তখনও সফল আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলছিলেন। মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলার আগের দিন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট ট্রাম্পের একটি বিবৃতি পড়ে শোনান। সেখানে তিনি বলেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বা নাও হতে পারে। তাই আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমি সিদ্ধান্ত নেব যে আমি এগোব কি না।’ নিকট ভবিষ্যতে যেকোনো হামলা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অভ্যন্তরীণভাবে একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ে আসতে পারে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, ক্রমবর্ধমান সংখ্যক আমেরিকান তার অভিবাসন ও অর্থনীতি পরিচালনার ধরন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। সূত্র : বিবিসি।