ইরানি হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন কার্যক্রম শুরু

ইরানি হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন কার্যক্রম শুরু মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই অঞ্চলের মার্কিন ও ইসরায়েলি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরানের নিজস্ব শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমেরিকান ও ইসরায়েলি ঘনিষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এই হুমকির পর নিরাপত্তার খাতিরে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি (এইউবি) সোমবার ও মঙ্গলবার তাদের সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ রিমোট বা অনলাইনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই পথে হেঁটেছে লেবানিজ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি। তারা তাদের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, পুরো অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আসা ব্যাপক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে তারাও আগামী দুই দিন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এই যুদ্ধের শুরু থেকেই অনলাইনে পাঠদান করছে। কাতার নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার দিনই কাতারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিস্টেন্স লার্নিং বা দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। এই তালিকায় রয়েছে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ইন কাতার, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম এবং ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও চলতি মাসের শুরুর দিকে একই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আইআরজিসির এই সরাসরি হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা এখন এক চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তার সংকটের মুখে পড়েছে। ইরানি হামলার সরাসরি হুমকির মুখে মধ্যপ্রাচ্যের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে লেবানন, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এখন ঘরবন্দি অবস্থায় অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের ডামাডোলে হঠাৎ করে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গবেষণাগারের কাজ এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং শিক্ষাবিদগণ জানিয়েছেন, যুদ্ধের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে শিক্ষাঙ্গনকে টেনে আনা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। অনেক শিক্ষার্থীই এখন নিরাপত্তার অভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন, যা এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাকাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।
তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ছাড়াল ১১৬ ডলার

তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ছাড়াল ১১৬ ডলার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান-কে ঘিরে চলমান সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বমুখী। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়। আজ সকালে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে এই অবস্থানে পৌঁছায়। এর আগে ১৯ মার্চ সাময়িকভাবে দাম ১১৯ ডলার ছুঁয়েছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি এবং সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এই উত্থানের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংঘাতের উত্তাপ আরও বেড়ে যায়, যখন ইরান সম্ভাব্য মার্কিন স্থল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রস্তুতির ঘোষণা দেয়। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন সেনারা প্রবেশ করলে তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দেয়। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান জোরদার করে ইসরায়েল। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে দিলে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ব্যাহত হয়। ফলে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব এশিয়ার শেয়ার বাজারেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক-উভয় সূচকেই ৪ শতাংশের বেশি পতন দেখা যায়, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের প্রতিফলন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক দেশকে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ না ছাড়লে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। যদিও তিনি একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে ১৫ দফা প্রস্তাবও দিয়েছেন এবং পাকিস্তান-এর মধ্যস্থতায় আলোচনা এগোতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে তেহরান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা শর্ত দিয়েছে-ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং প্রণালির ওপর নিজেদের অধিকার স্বীকৃতি দিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল দ্রুত পুনরুদ্ধার না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং তা ১২০ ডলার অতিক্রম করার আশঙ্কাও রয়েছে। জ্বালানি বাজারে বর্তমান সরবরাহ সংকটকে তারা ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। তবে উত্তেজনার মাঝেও সীমিত আকারে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ইরান ধীরে ধীরে তাদের কিছু মিত্র দেশের জাহাজকে প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দিচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, তাদের ২০টি পতাকাবাহী জাহাজকে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম গত সপ্তাহে বলেছেন যে, ইরান মালয়েশীয় জাহাজগুলোকে প্রণালিটি অতিক্রম করার অনুমতি দিয়েছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সাতটি অ-ইরানি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যা বুধবারের পাঁচটি এবং মঙ্গলবারের চারটি জাহাজের চেয়ে বেশি। তবে যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত, এখন সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে এখনো সময় লাগবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কিউবায় রাশিয়ার তেল সরবরাহে আপত্তি নেই ট্রাম্পের

কিউবায় রাশিয়ার তেল সরবরাহে আপত্তি নেই ট্রাম্পের তেহরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই কড়াকড়ির পরও কিউবায় মস্কো তেল পাঠালে কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এমন সময়ে এই মস্তব্য করেছেন, যখন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত একটি রুশ তেল ট্যাঙ্কার কমিউনিস্ট-শাসিত দ্বীপটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। শিপিং ট্র্যাকার মেরিনট্রাফিক জানিয়েছে, ‘আনাতোলি কলোদকিন’ নামের জাহাজটি ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করছে। জাহাজটি গতকাল রোববার সন্ধ্যায় কিউবার উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে অবস্থান করছিল এবং মঙ্গলবারের মধ্যে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় মাতানজাস বন্দরে নোঙর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফ্লোরিডায় তার মার-এ-লাগো এস্টেট থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে বিমানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, কিউবার দিন শেষ, তাদের শাসনব্যবস্থা খারাপ, তাদের নেতৃত্ব খুবই খারাপ ও দুর্নীতিগ্রস্ত এবং তারা এক জাহাজ তেল পাক বা না পাক, তাতে কিছু যায় আসবে না। তিনি আরও বলেন, আমি বরং তেল ঢুকতে দিতে চাই। রাশিয়া হোক বা অন্য কেউ। কারণ, সাধারণ মানুষের গরম, ঠান্ডা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধার জন্য জ্বালানি দরকার। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর কিউবা তাদের প্রধান আঞ্চলিক মিত্র এবং তেল সরবরাহকারীকে হারিয়েছে। এরপর ট্রাম্প কিউবায় তেল সরবরাহকারী যেকোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন এবং দ্বীপটি ‘দখল’ করার কথাও ইঙ্গিত দেন।
ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযান চালোনোর প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযান চালোনোর প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযান চালোনোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। খার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোও অভিযানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে শনিবার ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পোস্ট জানিয়েছে, এই পরিকল্পনায় বিশেষ অভিযানকারী ও প্রচলিত পদাতিক বাহিনীর অভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনাগুলোর কোনোটিতে অনুমোদন দেবেন কিনা তা এখনো অনিশ্চিত। সংবাদমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বৃহত্তম তেল টার্মিনাল যেখানে অবস্থিত সেই খার্গ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী অন্যান্য উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালানোর বিষয়ে আলোচনা করছে। এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এমন ‘অস্ত্র খুঁজে বের করে ধ্বংস করা। এক কর্মকর্তা বলেছেন, বিবেচনাধীন উদ্দেশ্যগুলো সম্পন্ন করতে সম্ভবত ‘কয়েক মাস নয়, বরং কয়েক সপ্তাহ’ সময় লাগবে। তবে অন্য একজন বলেছেন, সম্ভাব্য সময়সীমা ‘কয়েক মাস’ হতে পারে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একজন প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা ব্যাপক। তিনি বলেছেন, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি। এর জন্য যুদ্ধ মহড়াও হয়েছে। এটি শেষ মুহূর্তের কোনো পরিকল্পনা নয়। ওই কর্মকর্তা বলেন , ইরানের ভূখণ্ড দখল করা হলে তা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থাকে ‘লজ্জিত’ করবে এবং ভবিষ্যতের আলোচনায় ‘মূল্যবান দর কষাকষির হাতিয়ার’ তৈরি করবে। তিনি জানান, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভূখণ্ড দখল করে থাকা যেকোনো মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়া। ওই কর্মকর্তা বলেন, “আপনাকে খার্গ দ্বীপের লোকদের জন্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এটাই কঠিন কাজ। দ্বীপটি দখল করা কঠিন নয়। আপনার লোকেরা একবার সেখানে পৌঁছে গেলে তাদের সুরক্ষা দেওয়াটাই আসল।
ইসরায়েলে মধ্যরাতের পর পাঁচ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

ইসরায়েলে মধ্যরাতের পর পাঁচ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে দফায় দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শনিবার মধ্যরাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে অন্তত পাঁচ দফা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। তবে সর্বশেষ দফায় রোববার দুপুরের পর চালানো হামলায় ইসরায়েলে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, জেরুজালেম এবং মধ্য ইসরায়েলে সাইরেন বাজিয়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ইরান থেকে ধেয়ে আসা ওই ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর ইসরায়েলের দিকে ছোড়া আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র জনশূন্য উন্মুক্ত স্থানে আঘাত হেনেছে। সামরিক ‘প্রটোকল’ অনুযায়ী সেটিকে আঘাত হানতে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। একই সময়ে লেবানন থেকেও উত্তর ইসরায়েলে বেশ কিছু রকেট ছোড়া হয়েছে। আইডিএফ বলছে, লেবানন থেকে ছোড়া কয়েকটি রকেট ধ্বংস করা হয়েছে এবং বাকিগুলো খোলা জায়গায় পড়েছে। ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে জেরুজালেম ও মধ্য-ইসরায়েলে সাইরেন বাজানোর কিছুক্ষণ পরই উত্তর-ইসরায়েলে আগাম সতর্কবার্তা জারি করা হয়। আইডিএফ বলেছে, ইরান থেকে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ শনাক্ত করার পর ওই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হামলার আশঙ্কায় মধ্য-ইসরায়েল, জেরুজালেম, শফেলা এবং লোহিত সাগর লাগোয়া ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায়ও সাইরেন বাজানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও সরাসরি আঘাত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল।
কিউবায় ত্রাণ সহায়তা নিয়ে যাওয়া দুই নৌকা নিখোঁজ

কিউবায় ত্রাণ সহায়তা নিয়ে যাওয়া দুই নৌকা নিখোঁজ মানবিক সহায়তা সামগ্রী নিয়ে কিউবার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা দুটি পাল-তোলা নৌকা মেক্সিকো ছাড়ার পর সাগরে নিখোঁজ হয়েছে। নৌকা দুটি খুঁজে বের করতে ক্যারিবিয়ান সাগরে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। মেক্সিকোর নৌবাহিনী জানিয়েছে, নিখোঁজ নৌকাগুলোর নাম ‘ফ্রেন্ডশিপ’ এবং ‘টিগার মথ’। নৌকা দুটিতে অন্তত ৯ জন ক্রু ছিলেন। নৌকাগুলো ২০ মার্চ মেক্সিকোর ইসলা মুহেরেস থেকে কিউবার রাজধানী হাভানা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। মেক্সিকোর নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা আশপাশের দেশগুলোর সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র এবং কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নৌকা দুটি উদ্ধারে কাজ করছে। ক্রুদের মধ্যে পোল্যান্ড, ফ্রান্স, কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা রয়েছেন। ত্রাণবাহী নৌকাগুলোর এক মুখপাত্র জানিয়েছে, ‘ক্যাপ্টেন এবং ক্রুরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ নাবিক। নৌকাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংকেত পাঠানোর আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পুরোপুরি সহযোগিতা করছি এবং বিশ্বাস করি, নাবিকরা নিরাপদে হাভানায় পৌঁছাতে সক্ষম হবেন।’ নৌকাগুলোতে কিউবার জনগণের জন্য খাদ্য, ওষুধ, সোলার প্যানেল, শিশুখাদ্য ও বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা ছিল। যাত্রার সময় ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর ক্যাপ্টেন আদনান স্টুমো বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘আমরা বিপুল পরিমাণ ত্রাণ এবং সংহতি প্রকাশ করা একদল কর্মী নিয়ে সরাসরি কিউবার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছি। কিউবার জনগণের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনকে ধ্বংস করার অবরোধের পাশে আমরা দাঁড়াব না।’ কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ নৌকাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই সহযাত্রী ভাইদের উদ্ধারে আমাদের দেশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটকবাহী হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটকবাহী হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে নিহত ৩ যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের কাউয়াই দ্বীপে একটি পর্যটকবাহী হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। দেশ্টির স্থানীয় সময় গতকাল বিকেলে কালালাউ সমুদ্র উপকূলের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্ট গার্ড। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হেলিকপ্টারটিতে একজন পাইলটসহ মোট পাঁচজন ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এবং কাউয়াই ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান। আহত দুইজনকে দ্রুত উদ্ধার করে উইলকক্স মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। দেশটির কোস্ট গার্ড জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে হেলিকপ্টারটি কালালাউ বিচ থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি বালুচরে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টারটি ছিল একটি হিউজেস ওএইচ-৬ কায়ুজ মডেলের। হেলিকপ্টারটি পরিচালনা করছিল এয়ারবোন এভিয়েশন নামের একটি ট্যুর কোম্পানি। কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা অ্যান্ড্রিউ উইলিয়ামস বলেন, এই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে দুঃখিত। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। এদিকে, এ দুর্ঘটনার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড।
হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঠাট্টা

হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঠাট্টা প্রায় চার সপ্তাহ ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে এবং এ অচলাবস্থা দ্রুতই কাটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পারস্য উপসাগরের জ্বালানি পণ্য পরিবহনের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বলে ঠাট্টা করেছেন তিনি। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে সৌদি আরব সমর্থিত একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনের স্বার্থে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। এসময় তিনি হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বললে উল্লেখ করেন। বক্তৃতার সময় ট্রাম্প বলেন, তাদের ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’- মানে হরমুজ- খুলে দিতে হবে। দুঃখিত, এটা বড় ভুল হয়ে গেছে। পরে নিজেই মন্তব্যটি ঘিরে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, গণমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে সরব হতে পারে, তবে তার ক্ষেত্রে এমন ভুল সচরাচর ঘটে না।
সুয়েজ খাল অচল করে দিতে পারে ইরান সমর্থিত হুথিরা : রিপোর্ট

সুয়েজ খাল অচল করে দিতে পারে ইরান সমর্থিত হুথিরা : রিপোর্ট ইরানের ওপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ২৯তম দিন গড়িয়েছে যুদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে সরাসরি তেহরানের পক্ষে যুদ্ধে নামার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন’কে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে হুথি সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি মোহাম্মদ মনসুর জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের ওপর হামলা আরও জোরালো করে, তবে হুথিরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এদিকে, কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরির মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে তেহরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অংশগ্রহণ বিশ্ব বাণিজ্যের দ্বিতীয় একটি প্রধান নৌপথকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে এলমাসরি বলেন, ‘গত আড়াই বছরে আমরা দেখেছি যে হুথিদের যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। যদি তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এর ফলে লোহিত সাগর ও শেষ পর্যন্ত সুয়েজ খালে প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে আমরা দু’টি প্রধান ‘চোকপয়েন্ট’ বা বাধাগ্রস্ত পয়েন্টের (হরমুজ প্রণালী ও সুয়েজ খাল) সম্মুখীন হব।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই রুটগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য প্রধান বৈশ্বিক নৌপথ। তাই আমি মনে করি সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।’ তার মতে, হুথিদের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন হামলা ইসরায়েলের শক্তিশালী কিন্তু ‘অভেদ্য নয়’ এমন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হিজবুল্লাহর মিসাইল ও রকেট এবং ইরানের মিসাইলগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে। এখন যদি ইসরায়েল ইয়েমেন থেকে আসা মিসাইলগুলো মোকাবিলা করতে বাধ্য হয়, তবে তা তাদের জন্য পরিস্থিতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে আরও জটিল করে তুলবে।’ এলমাসরি জানান, ‘রাজনৈতিকভাবে-এবং হয়তো কিছুটা অদ্ভুতভাবে-ইসরায়েল এটিকে স্বাগত জানাতে পারে। কারণ তারা এই যুদ্ধকে বিস্তৃত ও দীর্ঘায়িত করতে চায়। তারা নিশ্চিত করতে চায় যেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিকট ভবিষ্যতে যুদ্ধের সমাপ্তি না ঘটান। কারণ ইসরায়েলের লক্ষ্যগুলো এখনও অর্জিত হয়নি। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ২৯তম দিন গড়িয়েছে যুদ্ধ। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এতে সারাবিশ্বে জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়নি, এখনও বাকি ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়নি, এখনও বাকি ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু : ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়নি মন্তব্য করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসি„ডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের আরও ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করার বাকি আছে। গ্তকাল ফ্লোরিডার মায়ামি বিচে ফায়েনা ফোরামের ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এফআইআই) ইনস্টিটিউটের সম্মেলনে এমন কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি এবং এখনো ইরানের আরও ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা বাকি রয়েছে। খুব দ্রুতই এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা সম্পন্ন করা হবে। ইরান এর আগে কখনো এমন কিছু দেখেনি বলেও হুঁশিয়ার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘কোনো স্থলবাহিনী ছাড়াই’ তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে এবং এই যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনার সমান্তরালে ইরানে ‘চূড়ান্ত হামলার’ প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে খবর দিয়েছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। সেক্ষেত্রে ইরানে ব্যাপক পরিমাণে বিমান হামলার পাশপাশি স্থলবাহিনী নামানোর চিন্তাও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরো দুইজনের বরাতে এ প্রস্তুতির খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’। খবরে বলা হয়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে মূলত বড় হামলার পথে হাঁটবে মার্কিন বাহিনী। অ্যাক্সিওস লিখেছে, খার্ক, লারাক কিংবা আবু মুসারে মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপে আক্রমণ হতে পারে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে ইরানি তেলবাহী জাহাজে অবরোধ আরোপের মতো পরিকল্পনাও আছে। খবরে বলা হয়, কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, বড় ধরনের হামলা চালালে তা শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। দুই পক্ষের আলোচনায় যুক্ত থাকা এক ব্যক্তি বলেন, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিশর সংলাপ আয়োজনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অ্যাক্সিওস লিখেছে, সম্ভাব্য অনেক বিকল্প মার্কিন প্রশাসন ভেবে রাখলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। এছাড়া হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মকর্তা স্থল অভিযানকে এখনো ‘কাল্পনিক’ হিসেবেই দেখেন। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট, সিএনএন