শাকিব খানকে ‘মেগাস্টার’ মানতে নারাজ জাহিদ হাসান!

শাকিব খানকে ‘মেগাস্টার’ মানতে নারাজ জাহিদ হাসান! ঢাকাই সিনেমায় ২৬ বছর ধরে অভিনয় করছেন শাকিব খান। বহু সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়ে ইন্ড্রাস্ট্রিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ভক্তরা তাকে ভালোবেসে কখনও কিং খান, সুপারস্টার, নবাব বিভিন্ন খেতাব দিয়েছেন। ইদানিং দেখা যায় শাকিব খানের নামের আগে ব্যবহার করা হয় ‘মেগাস্টার’ । তবে এ তারকার নামের আগে এই শব্দচয়ন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের লাইভ টক শোতে শাকিব খানকে ঘিরে প্রচলিত বিশেষ ট্যাগ নিয়ে খোলামেলা প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। ওই সাক্ষাৎকারে উঠে আসে আয়ের দিক থেকে ‘উৎসব’ সিনেমা ‘তাণ্ডব’কে ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জাহিদ হাসান শাকিবের নামের আগে ব্যবহার করা ‘মেগাস্টার’  শব্দটি নিয়ে জোরালোভাবেই আপত্তি জানান।  গত কয়েক বছর ধরে যেন একরকম রীতিতে পরিণত হয়েছে ঈদ মানেই শাকিব খানের সিনেমা। আর শাকিবের সিনেমা মানেই সুপারহিট। তবে এবার কোরবানি ঈদে শাকিবের ‘তাণ্ডব’ মাল্টিপ্লেক্সে ব্যবসা করতে পারলেও সিঙ্গেল স্ক্রিনে দর্শক টানতে পারেননি। ই প্রসঙ্গে অভিনেতা জাহিদ হাসান বলেন, শেক্‌সপিয়ারের একটা কথা আছে ‘কোনো কিছু হওয়া বড় ব্যাপার না। কোনো কিছু হয়ে থাকাটা বড় ব্যাপার। ’ আমি বলছি, এতগুলো হল পেয়েছি। শেষ পর্যন্ত সেটি আর থাকছে না। এটা কিন্তু অপমানজনক। যতটা বিনয়ীভাবে এগোনো যায় ততটাই ভালো। সবশেষে জাহিদ হাসান বলেন, “তাণ্ডব’, ‘উৎসব’, ‘এশা মার্ডার’, ‘নীলচক্র’ বা ‘ইনসাফ’ সবগুলোই তো আমাদের সিনেমা। আমরা চাই প্রতিটা সিনেমা ভালো হোক। সিনেমা ভালো হলে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক বাড়বে। আমি মন থেকে চাই দর্শক প্রতিটি সিনেমা দেখুক।

 হৃদয় ভাঙলে আলমারি পরিষ্কার করি-আদিত্য রায় কাপুর

হৃদয় ভাঙলে আলমারি পরিষ্কার করি-আদিত্য রায় কাপুর বলিউড অভিনেতা আদিত্য রায় কাপুর। ক্যারিয়ারের ১ যুগ পার করেছেন এই অভিনেতা। এরই মধ্যে বেশ কটি সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন। কাজের পাশাপাশি প্রেম জীবন নিয়ে বহুবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন ৩৯ বছরের আদিত্য। আদিত্যর পরবর্তী সিনেমা ‘মেট্রো ইন দিনো’। এ সিনেমায় কথিত প্রেমিকা সারা আলী খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন তিনি। এটি পরিচালনা করেছেন অনুরাগ বসু। আগামী ৪ জুলাই মুক্তি পাবে সিনেমাটি। এ উপলক্ষে সিনেমাটির টিম নিয়ে একটি পডকাস্টে হাজির হন আদিত্য। আর সেখানে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন এই নায়ক। এ আলাপচারিতায় সঞ্চালক আদিত্যর কাছে জানতে চান, কেউ হৃদয় ভাঙলে (প্রেম ভেঙে গেলে) কী করেন? জবাবে আদিত্য রায় কাপুর বলেন, “কেউ হৃদয় ভাঙলে আলমারি পরিষ্কার করি।” এ কথা শুনে সঞ্চালক জানতে চান, আপনার আলমারি কী অপরিষ্কার থাকে? এ কথা শুনে হাসতে থাকেন আদিত্যসহ অন্যরা। এ সময় সারা আলী খানের কাছেও একই প্রশ্ন রাখা হয়। তবে সাইফ আলী খানের কন্যা পরিষ্কার জানান, তার কখনো কেউ ভাঙেনি। মাঝে মধ্যে মন খারাপ হয়। একই প্রশ্ন রাখা হয় ‘মেট্রো ইন দিনো’ সিনেমার অন্যতম অভিনেত্রী কঙ্কনা সেন শর্মার কাছেও। কঙ্কনা সেন শর্মা বলেন, “সত্যি বলতে এসব আমি মনে রাখি না। কিছু সময় মন খারাপ থাকে। তখন পরিষ্কার করি। নিজেকে কোনো কাজে ব্যস্ত রাখি।”

পাকিস্তান বিতর্কে নাসিরুদ্দিন শাহ দিলজিতের পাশে

পাকিস্তান বিতর্কে নাসিরুদ্দিন শাহ দিলজিতের পাশে দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ ‘সর্দারজি ৩’ সিনেমায় একাধিক পাকিস্তানি শিল্পীদের সঙ্গে অভিনয় করে ভারতীয়দের রোষানলে পড়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পাননি তিনি। ভারতজুড়ে তার সিনেমা বয়কটের ডাক উঠেছে। বিশেষ করে পহেলগাঁম হামলার পর পাকিস্তানি শিল্পীদের ভারতীয় শোবিজে কাজ করতে দিতে নারাজ সবাই। এ কারণে নতুন সিনেমা নিয়ে ঝামেলায় পড়েছেন দিলজিৎ। এর মাঝেই তার পাশে দাঁড়িয়ে রীতিমতো বোমা ফাটালেন নাসিরুদ্দিন শাহ। এ প্রমঙ্গে নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্য, ‘আমি দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের পাশে রয়েছি। “জুমলা পার্টি”র লোকজন অপেক্ষাই করেছিল, কখন তাকে আক্রমণ করা যায়। ওই দলের লোকেরা হয়তো ভাবছে, অবশেষে দিলজিৎকে আক্রমণ করার জন্য কিছু একটা ইস্যু পাওয়া গেছে। তবে সিনেমার কাস্টিংয়ের দায়িত্ব তো দিলজিতের নয়, ওটা পরিচালকের। যাকে নিয়ে কেউ কথাই বলছেন না। পরিচালককে কেউ চেনেই না। আসলে দিলজিতের গোটা বিশ্বে খ্যাতি রয়েছে। তাই সবাই ওকে আক্রমণের জন্য বেছে নিয়েছে। তার মনে তো বিষ নেই। তাই সিনেমার অভিনেতাদের নিয়ে আগে থেকে ও কিছু ভাবেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা দিলজিতের বিরোধিতা করছে তারা চায়, যে প্রতিটি ভারতীয় তাদের পাকিস্তানি বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করুক। এই গুন্ডাদের মূল উদ্দেশ্য, ভারত-পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া। পাকিস্তানে আমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন এবং কিছু প্রিয় বন্ধুবান্ধব আছেন। তাই কেউ আমাকে তাদের সঙ্গে দেখা করতে বা ভালোবাসা বিনিময়ে বাধা দিতে পারে না। এবং যারা আমাকে “পাকিস্তানে যাও” বলবেন, তাদের প্রতি আমার প্রতিক্রিয়া হল “আপনি কৈলাসে যান”।’ পহেলগাঁমে বৈসরন উপত্যকায় ধর্মের নামে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের ঘটানোর সন্ত্রাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নতুন করে ভারতের মনে ক্ষোভ-বিদ্বেষের সঞ্চার হয়েছে। যার কারণে রোষানলে পড়তে হচ্ছে পাকিস্তানি তারকাদেরও। প্রতিবেশী দেশের তারকাদের শোকপ্রকাশ দেখে নেটপাড়ার একাংশ কঠিন হৃদয়ের বলেও কটাক্ষ করেছেন। শুধু তাই নয়, বারবার বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে পাকিস্তানের কোনো শিল্পীকেই ভারতের আসতে দিতে নারাজ চলচ্চিত্র সংগঠনগুলো। জঙ্গিহামলার কারণে প্রতিবেশী দেশের শিল্পীরা যখন রোষানলে, তখন এমন আবহে পাকিস্তানের সুন্দরী হানিয়া আমিরের সঙ্গে পর্দায় রোম্যান্সে মজেছেন দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ। আর সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিবাদে জ্বলে উঠেছিলেন নেটনাগরিকরা। এবার আপত্তি জানিয়েছে বিজেপিপন্থী চলচ্চিত্র সংগঠন। জানা গেছে, ‘সর্দার ৩’ সিনেমায় হানিয়া আমির, নাসির চিন্যোতি, ড্যানিয়েল খাওয়ার এবং সেলিম আলবেলার মতো একাধিক পাকিস্তানি তারকা রয়েছে। এ কারণেই দিলজিতের কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে ওই চলচ্চিত্র সংগঠনগুলো ক্ষেপেছে।

যারা ইনসিকিউরড তারাই নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন বিক্রি করে : জয়া

যারা ইনসিকিউরড তারাই নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন বিক্রি করে : জয়া নিজের অভিনয় দিয়ে দুই বাংলার অগণিত দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন জয়া আহসান। আজ ঢাকায়, তো কাল কলকাতায়, এ যেন তার এখন চিরচেনা রুটিন। আজ জনপ্রিয় এ তারকার জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে ভক্ত-অনুরাগীদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন জয়া। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভোলেননি তিনি। কাজ নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করলেও নিজের ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখতে চান। এটা তার সচেতন সিদ্ধান্ত বলেই জানিয়েছেন তিনি। জয়া আহসান বলেন, ‘একদমই আমার সচেতন সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি, রিলেশনশিপ, ব্যক্তিগত বিষয় যত বেশি লোকের জানাজানি হবে—তত বেশি সম্পর্ক নষ্ট হয়, এটা আমার বিশ্বাস।’ জয়ার প্রেম নিয়েও প্রায়ই কথা উঠে, এমন প্রসঙ্গে অভিনেত্রী স্পষ্ট বললেন, ‘একা আছি কি না, এটা একমাত্র আমিই বলতে পারব। এটার উত্তর আমি দেব না, একা আছি কি নেই। কিন্তু দর্শক জয়া আহসানের যে ইমেজটা দেখে, তাতে তো ভালো লাগে। কারণ এ ইমেজটাই তো আমি তৈরি করতে চেয়েছিলাম। সেটাই আছে। আমি আমার ব্যক্তিগত জায়গায় অনুপ্রবেশ করতে দিতে চাই না আসলে। ব্যক্তিগত তো আসলে ব্যক্তিগত। ওটা আমার কাজের জীবনে কোনো উপকারে আসবে না। ’তাহলে কেন আমি তা খামোখা প্রকাশ করব? আমি শুধু কাজ দিয়ে দর্শকের খুব আগ্রহের জায়গায় রয়েছি। কাজ দিয়ে যারা আগ্রহের জায়গা নেই, কাজ নিয়ে যারা ইনসিকিউরড তারাই নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন, সংগ্রাম বিক্রি করে—সেগুলো আমার পছন্দ নয়। আমরা সেটা করার প্রয়োজন হয়নি।

‘হেরা ফেরি থ্রি’-তে ফিরছেন বাবু ভাইয়া

‘হেরা ফেরি থ্রি’-তে ফিরছেন বাবু ভাইয়া বলিউডের বহুল প্রতীক্ষিত কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘হেরা ফেরি থ্রি’–তে শেষ পর্যন্ত থাকছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। ‘বাবু ভাইয়া’ চরিত্রে তাকে ছাড়া সিনেমার কল্পনাই যেন করতে পারছিলেন না ভক্তরা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরেশ নিজেই নিশ্চিত করেছেন তার ফেরার কথা। পরেশ বলেন—“না, এখন আর কোনো সমস্যা নেই। সব জটিলতা মিটে গেছে। এমন একটি জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে আমাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। কারণ দর্শকদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে।” তিনি আরও জানান, “আগেও ছবিতে থাকার কথা ছিল, এখনও আছি। আমরা সবাই সৃজনশীল মানুষ— প্রিয়দর্শন, অক্ষয়, সুনীল— সবাই বহুদিনের বন্ধু। শুধু একটু সমন্বয়ের দরকার ছিল, সেটাও হয়ে গেছে।” এর আগে গুঞ্জন ওঠে, অক্ষয় কুমারের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘কেপ অফ গুড ফিল্মস’ ২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে পরেশ রাওয়ালকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিল। যদিও অভিনেতা পরে ১১ লাখ টাকার সাইনিং অ্যামাউন্ট ফেরত দেন ১৫% সুদ-সহ। তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, তিনি আর থাকছেন না সিনেমাটিতে। এদিকে, অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা-ও মন্তব্য করেন—“পরেশ রাওয়ালকে ছাড়া ‘হেরা ফেরি থ্রি’ কল্পনাই করা যায় না।” পরেশ রাওয়ালের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন ভক্তরা। একজন লেখেন, “আজকের সেরা খবর! হেরা ফেরি ৩ আসছে, আর বাবু ভাইয়াও ফিরছেন। অক্ষয়, সুনীল আর পরেশকে একসঙ্গে দেখার অপেক্ষা আর সহ্য হচ্ছে না!” এই ফ্র্যাঞ্চাইজির আগের দুই কিস্তি ‘হেরা ফেরি’ (২০০০) ও ‘ফের হেরা ফেরি’ (২০০৬) দর্শকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

‘বড্ড একা শাহরুখ, সঙ্গে শুধু নিজের ছায়া’-মন্তব্য জ্যাকির

‘বড্ড একা শাহরুখ, সঙ্গে শুধু নিজের ছায়া’-মন্তব্য জ্যাকির   বলিউডে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন শাহরুখ খান ও জ্যাকি শ্রফ। ‘কিং আঙ্কল’, ‘ওয়ান টু কা ফোর’, ‘দেবদাস’-সহ একাধিক ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন দুজন। তবে শুধু পর্দার বন্ধুত্ব নয়, বাস্তব জীবনেও একে অপরের প্রতি রয়েছে গভীর শ্রদ্ধা ও স্নেহ। সম্প্রতি বিকি লালওয়ানির সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে শাহরুখকে নিয়ে স্মৃতি মধুর মন্তব্য করলেন জ্যাকি। বললেন, “আমি ওকে প্রথম দেখি ‘কিং আঙ্কল’-এর সেটে। সে সময় আমার ছোট ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করছিল। ওর মধ্যে ফোকাস ছিল, ক্যারিশমা ছিল, কাজের প্রতি নিষ্ঠা ছিল। কিন্তু সে ছিল একদম একা, নিঃসঙ্গ। আমি যেমন ছিলাম, সে-ও তেমনই ছিল। সেই নিঃসঙ্গতা আমার ভালো লেগেছিল।” জ্যাকি আরও বলেন, “একবার কেউ আমাকে বলেছিলেন, প্রত্যেক অভিনেতার একাকিত্ব অনুভব করা উচিত। আমি দেখেছিলাম, সে এক কোনায় একা বসে রয়েছে। সেই চেহারা, সেই আচরণ—সবটাই যেন নিজেকে একরকম গুটিয়ে রাখা। পরবর্তীতে ‘দেবদাস’-এর সময়ও ওর মধ্যে সেই একই ভাইব দেখেছি। আমার কাছে শাহরুখ তখনও আমার ছোট ভাইই ছিল।” সুপারস্টার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একরকম একাকিত্বও আসে—এমনটাই মনে করেন জ্যাকি শ্রফ। তার কথায়, “যখন কেউ এভারেস্টের চূড়োয় পৌঁছায়, তখন সেখানে থাকে শুধু নিজের ছায়া। ওপরে খুব নিঃসঙ্গ লাগে। শাহরুখও তেমন। বলিউডের শীর্ষে পৌঁছে বড্ড একা। যেন সঙ্গে শুধু নিজের ছায়া।” ২০১৪ সালে ফারাহ খানের ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’-এ ফের একসঙ্গে পর্দা ভাগ করেন জ্যাকি ও শাহরুখ। এবার শোনা যাচ্ছে, শাহরুখের আসন্ন ছবি ‘কিং’-এ ফের একসঙ্গে কাজ করতে পারেন তারা।

আবারো মা হলেন ইলিয়ানা

আবারো মা হলেন ইলিয়ানা দ্বিতীয় সন্তানের মা হয়েছেন ‘বারফি’ খ্যাত বলিউড অভিনেত্রী ইলিয়ানা ডি’ক্রুজ। তার কোলজুড়ে এসেছে একটি ছেলে সন্তান। খবরটি সামাজিক যোগাযোমাধ্যমে নিজেই জানিয়েছেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে তার ছোট্ট সন্তানের একটি মিষ্টি ছবি দিয়ে খুশির খবরটি শেয়ার করেছেন। ইলিয়ানা ডি’ ক্রুজ এবং মাইকেল ডোলান দম্পতি তাদের ছেলের নাম রেখেছেন কিয়ানু রাফে ডোলান। ছবিতে একটি একরঙা পোস্টকার্ড রয়েছে যেখানে কিয়ানু রাফে ডোলান আরামে ঘুমাচ্ছেন, একটি তোয়ালে জড়িয়ে। তিনি একটি সুন্দর টুপিও পরেছেন। ছবির টেক্সট লেআউটে লেখা আছে, ‘কিয়ানু রাফে ডোলানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে  দিচ্ছি। জন্ম ১৯ জুন, ২০২৫। ’ইলিয়ানা পোস্টটি স্বামী মাইকেল ডোলানকেও ট্যাগ করেছেন। তার সাইড নোটে লেখা, ‘আমাদের হৃদয় এত পূর্ণ। ’এমন দারুণ খবরে ইলিয়ানাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া লেখেন, ‘অভিনন্দন সুন্দরী!’ বিদ্যা বালান লেখেন, ‘অভিনন্দন এবং ঈশ্বর তোমাদের মঙ্গল করুণ। ’ইলিয়ানা ডি’ ক্রুজ এবং মাইকেল ডোলান ২০২৩ সালে বিয়ে করেন। একই বছরের এই অভিনেত্রী প্রথম গর্ভাবস্থার ঘোষণা দেন। ২০২৩ সালের আগস্টে ইলিয়ানা তার প্রথম সন্তান কোয়া ফিনিক্স ডোলানের জন্মের খবর জানান। এদিকে ইলিয়ানা ডি’ক্রুজকে শেষ দেখা গিয়েছিল ২০২৪ সালে ‘দো অর দো পেয়ার’ সিনেমায়। শীর্ষা গুহ ঠাকুরতা পরিচালিত এই রোমান্টিক কমেডি সিনেমাতে আরও অভিনয় করেছিলেন বিদ্যা বালান, প্রতীক গান্ধী এবং সেন্ধিল রামমূর্তি।

গোপনে সিনেমার শুটিংও করেছিলেন সাকিব আল হাসান!

গোপনে সিনেমার শুটিংও করেছিলেন সাকিব আল হাসান! এক যুগ আগে ‘সব কিছু পেছন ফেলে’ নামের সিনেমা নির্মাণ শুরু করেন রাজিবুল হোসেন। শহরের পাঁচ তরুণ-তরুণীর গল্প নিয়ে নির্মিতব্য সিনেমাটিতে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের। অভিনয়ে অংশও নিয়েছিলেন এই ক্রিকেটার। জানা যায়, পরবর্তী সময়ে সংবাদ প্রকাশ হলে অভিনয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন সাকিব। এতে বিপদে পড়েন পরিচালক, থেমে যায় শুটিং। শেষ পর্যন্ত সিনেমার কাজই বন্ধ করে দেন নির্মাতা। নির্মাতা জানান, সাকিবের মিথ্যাচারের কারণেই শেষ করা যায়নি সিনেমাটির কাজ। নির্মাতা রাজিবুল হোসেন বলেন, ‘সব কিছু পেছন ফেলে’ সিনেমার শুটিং শুরু হয়েছিল অনেক স্বপ্ন নিয়ে। সাকিব আল হাসান শুটিং করেছেন, ক্যামেরার সামনে অভিনয় করেছেন, ক্ল্যাপস্টিক ও প্রফেশনাল রেকর্ডিংয়ের মধ্য দিয়ে আমরা দৃশ্য ধারণ সম্পন্ন করি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি সিনেমায় অভিনয় করার বিষয়টি অস্বীকার করলে পুরো প্রজেক্টটা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। এই নির্মাতা আরও বলেন, সাকিব আল হাসানের মিথ্যাচার নির্মাতা হিসেবে আমাকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তেমনি এটা ছিল একটি শিল্পভিত্তিক কাজের প্রতি তার অসম্মান। আমি চাইলে তাকে ছাড়া সিনেমাটি শেষ করতে পারতাম, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি একটি অসম্পূর্ণ সত্য দিয়ে পূর্ণ সিনেমা নির্মাণ করা যায় না। পরিচালনার পাশাপাশি সিনেমার প্রযোজকও ছিলেন রাজিবুল হোসেন। স্পনসর করেছিল ফুজিফিল্ম বাংলাদেশ। তাদের মাধ্যমেই সাকিব এই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হন বলে জানান নির্মাতা। শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার পরেও সাকিব আল হাসান কেন অস্বীকার করেন জানতে চাইলে নির্মাতা বলেন, প্রথম লটেই আমরা তাকে নিয়ে শুটিং করি। এরপর তার অভিনয় নিয়ে একটা সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর তিনি বেঁকে বসেন। কী কারণে তিনি এমনটা করেছেন তা আমার জানা নেই।   এত দিন পর কেন এই অভিযোগ- এমন প্রশ্নের উত্তরে নির্মাতা রাজিবুল হোসেন বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে সাকিব আল হাসান কাজটি সে সময় ঠিক করেননি। এটা সবাইকে জানানোর জন্যই এ বিষয় নিয়ে কথা বলা। এ ছাড়া অনেকেই সিনেমা বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে নানা কথা বলত। তাদের সত্যিটা জানানো দরকার।

না ফেরার দেশে ‘কাঁটা লাগা গার্ল’ শেফালি জারিওয়ালা

না ফেরার দেশে ‘কাঁটা লাগা গার্ল’ শেফালি জারিওয়ালা না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ‘কাঁটা লাগা’ খ্যাত মডেল ও অভিনেত্রী শেফালি জারিওয়ালা। শুক্রবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় তার, এরপর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪২ বছর। জানা গেছে, হঠাৎ করে শেফালি অসুস্থতা বোধ করলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যান তার স্বামী, অভিনেতা পরাগ ত্যাগী। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ১৯৮২ সালের ১৫ ডিসেম্বর গুজরাটের আহমেদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন শেফালি জারিওয়ালা। আহমেদাবাদেই প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য মুম্বাই পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে শোবিজে যাত্রা শুরু করেছিলেন- মডেল হয়েছিলেন ‘কাঁটা লাগা’ মিউজিক ভিডিওতে। এই গান তাঁকে এতটাই জনপ্রিয়তা দিয়েছিল যে, তিনি ‘কাঁটা লাগা গার্ল’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন। রুপালি দুনিয়ায় যাঁরা কম বয়সেই নিজেদের জায়গা পাকা করে নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শেফালি। এক গানেই বদলে যায় তার ক্যারিয়ার। একাধিক টিভি শো-এ কাজ করেছেন। নাচের রিয়েলিটি শো ‘বুগি উগি’, ‘নাচ বালিয়ে ৫’ এবং ‘নাচ বালিয়ে ৭’-এ যোগ দিয়েছিলেন শেফালি। এর পাশাপাশি ‘বিগ বস ১৩’-এও অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। ‘মুঝসে শাদি করোগি’ (২০০৪) এবং ‘হুডুগারু’ (২০১১) ছবিতেও অভিনয় করতে দেখা গেছে শেফালিকে। সম্প্রতি একাধিক ওয়েব সিরিজেও দেখা গেছে। ‘শয়তানি রাশমেন’ নামে একটি শোয়েও কাজ করেছেন। কাজের বাইরে শেফালির ব্যক্তিগত জীবনও ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। ভালোবেসে সঙ্গীত পরিচালক হরমীত সিংয়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন শেফালি। কিন্তু ২০০৯ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর তার জীবনে আসে অভিনেতা পরাগ ত্যাগী। ২০১৪ সালে সাত পাক ঘুরেন পরাগ এবং শেফালি। এরপর তারা মুম্বাইয়ে সংসার পাতেন।

কিংবদন্তি সৌরভের বাড়িতে নৈশভোজে সারা-আদিত্য

কিংবদন্তি সৌরভের বাড়িতে নৈশভোজে সারা-আদিত্য ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের কিংবদন্তি অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর জীবনী দেখা যাবে বড়পর্দায়। দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিল মহারাজার বায়োপিকের পরিকল্পনা। জানা গেছে, সৌরভের বায়োপিকে দেখা যাবে সারা আলি খান-আদিত্য রায় কাপুরকে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সারা-আদিত্য জুটির নতুন সিনেমা ‘মেট্রো ইন দিনো’র প্রোমোশনের জন্য কলকাতায় এসেছিলেন। ছবির প্রোমোশন শেষে রাতে সৌরভ গাঙ্গুলীর বাড়িতে জমে নৈশভোজ। মেনুতে ছিল মাছ, সঙ্গে আলুপোস্ত আর আমের বিশেষ আয়োজন। রাত সোয়া ৯টার দিকে, বেহালার বীরেন রায় রোডে সাংবাদিকদের ভিড়। বৃষ্টিও রুখতে পারেনি মিডিয়া কর্মীদের উৎসাহ। প্রথমে কালো গাড়িতে পৌঁছান সৌরভ। কিছুক্ষণ পরেই সাদা বিএমডব্লিউ চড়ে হাজির সারা-আদিত্য। গেটের সামনে নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আর প্রশ্নের ঝড়। নৈশভোজ শেষে রাত ১১টার দিকে হাসিমুখে বেরিয়ে এলেন সারা আলি খান আর আদিত্য রায় কাপুর। সারা বললেন,দাদার বাড়ির রান্নার কথা তো আলাদা করে বলতেই হয়। আর পরিবারটাও ঠিক ততটাই অসাধারণ। দাদার কাছ থেকে শুনলাম আমার ঠাকুমা শর্মিলা ঠাকুর আর দাদু মনসুর আলি খানের স্মৃতির গল্প। বক্তব্যের ফাঁকে সৌরভের পাশে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আদিত্য। সৌরভের বাড়ির আড্ডায় কী কী গল্প হল? আদিত্য বললেন, “দাদা মানেই ক্রিকেট। তার মুখে ২২ গজের এত গল্প শুনলাম, শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠছিল।” তার কথা শেষ হওয়ার আগেই সারা হেসে যোগ করলেন, “আমার তো ক্রিকেট রক্তে। ঠাকুরদা ছিলেন ক্রিকেটার। আজ ইডেনে গিয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আমৃত্যু মনে থাকবে।” পরিচালক অনুরাগ বসুর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও দুই তারকার উচ্ছ্বাস। “অনুরাগদার মতো মাপের পরিচালক যখন আমাদের বেছে নিয়েছেন, সেটা বড় সম্মানের ব্যাপার,”—বললেন সারা আর আদিত্য। আড্ডার একপর্যায়ে উঠে এল সৌরভের আসন্ন বায়োপিক ‘মহারাজ’-এর প্রসঙ্গও। আদিত্য কি সুযোগ পেলে করবেন? হাসিমুখে সৌরভ জানালেন, “কাজ এগোচ্ছে। দেখা যাক, পরিচালক বিক্রম মোতওয়ানে কী বলেন।” আদিত্য জানালেন, “এই ছবির কথা আগেই শুনেছি। সুযোগ পেলে দারুণ লাগবে।” সারাও মিষ্টি হেসে জানালেন, “আমি তো আছিই!” গল্প শেষে রাতের শহরের বুকে দ্রুত ছুটল তাঁদের গাড়ি। সৌরভের বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাঁরা রওনা দিলেন পরবর্তী গন্তব্যের দিকে।