আমি লজ্জিত, আহত, কম্পিত: ঋতুপর্ণা

আমি লজ্জিত, আহত, কম্পিত: ঋতুপর্ণা কলকাতার নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় ‘রাত দখল’ কর্মসূচি। অন্য সবার মতো তাতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। শ্যামবাজারে যাওয়ার পরই তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। তাকে উদ্দেশ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন আন্দোলনকারীরা; তার গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা চলছে। এবার নীরবতা ভাঙলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, ‘আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিহত চিকিৎসক-পড়ুয়ার জন্য সুবিচার চেয়ে ৪ সেপ্টেম্বর শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ের প্রতিবাদী জমায়েতে উপস্থিত হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, এত মানুষের প্রতিবাদ বৃথা যাবে না। আমিও সুবিচারের আশায় রয়েছি। জমায়েতে যোগ দিয়ে মোমবাতি জ্বালাই। কিন্তু, কিছুক্ষণের মধ্যেই চিত্র বদলে গেল। আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভের মুখে পড়লাম। আমার উদ্দেশে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। চারপাশ থেকে উলুধ্বনি এবং শঙ্খ বাজিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়। এতেও কিছু মনে করেছি, এমন নয়। কিন্তু তারপর গাড়িতে জুতা ছোড়া হয়। তখন আমি দরজা খুলে বলি আপনারা এমন করবেন না। আপনাদের সঙ্গে কথা বলতেই এসেছি, বসতে এসেছি। কিন্তু কেউ কোনো কথাই শুনলেন না। আসলে আমার মনে হয়, কিছু মানুষ প্রতিবাদের কথা মাথায় না রেখে, হুজুগে চলে গিয়েছিলেন।’ গতকাল মারাও যেতে পারতেন— এ আশঙ্কা প্রকাশ করে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, ‘বুঝতে পারছি, সকলেই ক্ষুব্ধ। তবে, কলকাতার প্রতিবাদী চেহারার মধ্যে এই চেহারাটা দেখে আমি লজ্জিত, আহত, কম্পিত। বুধবার রাতে আমার প্রাণটাও চলে যেতে পারত। আমি একজন অরাজনৈতিক, নিরপেক্ষ মানুষ হিসেবে, একজন নারী হিসেবে অন্য নারীর পাশে দাঁড়াতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিরাট সংখ্যক মত্ত এই ঘটনা ঘটায়। আচমকাই একটা জনস্রোত ধাক্কা দিতে শুরু করে। এত চিৎকার হচ্ছিল যে, কারো কোনো কথা শুনতে পাচ্ছিলাম না। আমি তো কাল কোনো তারকা হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে গিয়েছিলাম। যেখানে ঘটনাটা ঘটল, সেখানে নিহত চিকিৎসকের বাবা-মাও এসেছিলেন। ভেবেছিলাম, উনাদের সঙ্গে একবার দেখা করব। বলতাম, উনাদের লড়াইয়ের সঙ্গে আমিও রয়েছি। কিন্তু তা হলো কই!’ এতকিছু ঘটে গেলেও এই প্রতিবাদ থেকে সরে যাবেন না ঋতুপর্ণা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তবে এই ঘটনার পর আমি থেমে যাব, এমন নয়। আমার মনের মধ্যে প্রতিবাদ থাকবে। আমিও একইভাবে সুবিচার চাইব। সেটা থামবে না।’ অপমানিত হলেও তা নিয়ে আক্ষেপ নেই ঋতুপর্ণার। তা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি যে এমন হতে পারে, আমি ভাবিনি। এ তো আমার চেনা কলকাতা। আবেগের, প্রতিবাদের জনসমুদ্র। কিন্তু, বাড়ি ফিরে দেখি গাড়িতে শুধুই আঙুলের ছাপ। শুধু হাত দিয়ে মেরে মেরেই তুবড়ে দিয়েছে গাড়িটা। সত্যি বলছি, আমার তাতে কোনো আক্ষেপ নেই। কিন্তু আমার মনে হয়, যারা এটা করলেন তারা নিজেরাও জানেন না কী করছেন! সবাই চিৎকার করছিলেন, তারাও চিৎকার করেছেন। একটা বর্বরতার সাক্ষী থাকলাম। ওই রাতে আমি একা তো নই, সোহম-শোলাঙ্কিরাও ছিল। গান গাইছিল ওরা। আমি ওদের সঙ্গে মিশে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এমন কিছুর সাক্ষী হব, ভাবতে পারছি না।’ ঋতুপর্ণা জানেন না কেন তার সঙ্গে এমন ব্যবহার করা হয়েছে। তা জানিয়েছে তিনি বলেন, ‘বুঝতে পারলাম না কেন এই আক্রোশ। আমি তো রাজনৈতিক ব্যক্তি নই। আমি এই শহরের সকলের সঙ্গে রাত জাগতে গিয়েছিলাম। ওই ভিড়ের মাঝে আমাকে ‘চটিচাটা’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। এমন অসভ্যতা। আসলে যারা এটা করলেন তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য আন্দোলন নয়। একজন তারকাকে হেনস্তা করা। কাউকে পাচ্ছেন না, সামনে ঋতুপর্ণা ছিল ব্যস, ঝাঁপিয়ে পড়লেন। আমাকে অনেকেই বলেছিলেন জমায়েতে শামিল না হতে। কিন্তু আমি ভেবেছিলাম মানুষ হিসেবে সঙ্গে থাকব। এমন নিকৃষ্ট ঘটনা ঘটল, এখনও ঘোর কাটছে না।’ হামলাকারীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, ‘আমি প্রশ্ন করতে চাই, আমার সমবেদনা জানানো কি অন্যায়? একটি মেয়ের হয়ে তারা আন্দোলন করছেন আর অন্য একজন নারীকেই হেনস্তার শিকার হতে হলো! আসলে হয়তো এই মানসিকতা আমাদের বর্বরতার দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।’
শুভর প্লট যে দুই কারণে বাতিল হচ্ছে

শুভর প্লট যে দুই কারণে বাতিল হচ্ছে ঢালিউড অভিনেতা আরিফিন শুভকে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ দেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশে সংরক্ষিত কোটায় বরাদ্দ প্লটটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কেন? গত বছরের ২৭ নভেম্বর রাজউকের বোর্ডসভায় শুভসহ আরও কয়েকজনকে প্লট বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ওই প্লটের বিপরীতে শুভ সরকার নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে একটি চুক্তিপত্রও গ্রহণ করেন। কিন্তু সময়ের অভাবে তিনি এ প্লট রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন করতে পারেননি। গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় বদলে যায় অনেক হিসাব-নিকাশ। রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ প্লটগুলো নিয়ে নতুন চিন্তাভাবনা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। তারই অংশ হিসেবে অভিনেতা আরিফিন শুভ ও চলচ্চিত্র প্রযোজক লিটন হায়দারের প্লট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজউক। আরিফিন শুভর প্লট বাতিলের বিষয়টি নিয়ে রাজউকের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকার জাগো নিউজকে বলেন, বিভিন্ন সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংরক্ষিত কোটায় বরাদ্দ করা প্লট বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমা করে আলোচনায় আসা অভিনেতা আরিফিন শুভকে বরাদ্দ দেওয়া রাজউকের প্লটটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সাধারণ নিয়মে বরাদ্দ কোনো প্লট বাতিল হচ্ছে না।’ ভারতীয় উপমহাদেশের খ্যাতিমান নির্মাতা শ্যাম বেনেগালের নির্দেশনায় কাজ করেছিলেন আরিফিন শুভ। ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ ছবির পর্দায় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ছবিতে অভিনয়ের জন্য পারিশ্রমিক হিসেবে মাত্র ১ টাকা নিয়েছিলেন তিনি। তবে চরিত্রটি পর্দায় ফুটিয়ে তোলার পুরস্কার হিসেবে তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় দেওয়া হয় ১০ কাঠা প্লট, যার বাজারমূল্য ১০ কোটি টাকারও বেশি। একইভাবে ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ সিনেমার প্রযোজক লিটন হায়দারও পূর্বাচলে ৩ কাঠা প্লট পেয়েছিলেন। প্লট বাতিল ঠেকাতে আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না জানতে যোগাযোগ করা হলে সাড়া দেননি শুভ। এখন পর্যন্ত আরিফিন শুভ অভিনীত ও মুক্তিপ্রাপ্ত শেষ ছবি ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’। বাংলাদেশে ‘নূর’, ‘নীলচক্র’সহ শুভর বেশ কয়েকটি ছবি রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। এছাড়া বেশ কয়েকটি ভারতীয় সিরিজ ও সিনেমায় তার অভিনয়ের কথাও জানা গিয়েছিল, যেগুলোর কোনো কোনোটার শুটিং শিগগির শুরু হবে আবার প্রস্তুত হয়ে থাকা ছবি মুক্তিও পাবে।
‘আলো আসবেই’ গ্রুপের শিল্পীদের বিচার চান ফারুকী

‘আলো আসবেই’ গ্রুপের শিল্পীদের বিচার চান ফারুকী সাবেক তথ্যপ্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত ও সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদের নেতৃত্বে ‘আলো আসবেই’ নামক একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কিছু স্ক্রিনশট সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া কিছু স্ক্রিনশটে দেখা গেছে দলীয় ট্যাগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে কথা বলেছেন কয়েকজন শিল্পী। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই সামাজিকমাধ্যমে ঝড় উঠেছে। এই গ্রুপে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে নিয়েও কথা হয়। ফলে ফারুকী বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেননি। এটিকে মানবতাবিরোধী আখ্যা দিয়ে তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেসবুকে এর বিচার চেয়েছেন। বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের শিল্পীদের সমালোচনা করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এসময় তিনি তাদের গণহত্যায় প্রত্যক্ষ উস্কানিদাতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফারুকী লেখেন, এটা নিশ্চয়ই বেদনার যে আমাদের দেশে শিল্পীর সাইন বোর্ড নিয়ে এমন লোকজন ঘুরে বেড়াতো যারা গণহত্যায় প্রত্যক্ষ উস্কানিদাতা অথবা কেউ কেউ নিরব সমর্থক ছিলো। এরা শুধু শিল্পী হিসাবে না, মানুষ হিসাবেও নীচু প্রকৃতির। একাত্তরে জন্ম নিলে এরা রাজাকারের দায়িত্ব পালন করতো। ফলে এদের এযুগের রাজাকার বলতে পারেন। নিশ্চয়ই এদের বিচার হবে গণহত্যায় সমর্থন এবং উস্কানী দেয়ার অপরাধে। তিনি আরো বলেন, আশার দিকটা আপনাদের বলি। দেখবেন এই গ্রুপের বেশিরভাগই আসলে কোনো শিল্পচর্চার সঙ্গে সেই অর্থে জড়িত না। আমাদের মেইনস্ট্রিম (মানে টেলিভিশন, ওটিটি, এবং ফিল্মে যারা প্রধান শিল্পী; তথাকথিত এফডিসি বোঝানো হয়নি মেইনস্ট্রিম শব্দটা দিয়ে) অভিনয় শিল্পী বা ফিল্মমেকারদের কেউই এদের সঙ্গে নাই। এরাই আমাদের প্রেজেন্ট অ্যান্ড ফিউচার। ‘আলো আসবেই’ নামক সেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী এ আরাফাত ও সংসদ সদস্য ফেরদৌসসহ ছিলেন অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি, চিত্রনায়ক রিয়াজ, সাজু খাদেমসহ অনেকেই। তবে প্রকাশিত স্ক্রিনশটে সক্রিয় ছিলেন অভিনেত্রী তানভীন সুইটি, সোহানা সাবা, অরুণা বিশ্বাসসহ কয়েকজন।
মুক্তির আগেই ‘পুষ্পা টু’ সিনেমার আয় ৩৮৫ কোটি টাকা

মুক্তির আগেই ‘পুষ্পা টু’ সিনেমার আয় ৩৮৫ কোটি টাকা সুকুমার পরিচালিত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘পুষ্পা’। ২০২১ সালের ১৭ ডিসেম্বর মুক্তি পায় তেলেগু ভাষার এ সিনেমা। এতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন আল্লু অর্জুন ও রাশমিকা মান্দানা। সিনেমাটির গল্প, আইটেম গান ঝড় তুলেছিল ভক্তদের মনে; মুক্তির পর দাপিয়ে বেড়ায় বক্স অফিস। এখন নির্মিত হচ্ছে ‘পুষ্পা’ সিনেমার দ্বিতীয় পার্ট। প্রথম পার্টের মতো দ্বিতীয় পার্টে জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন আল্লু অর্জুন-রাশমিকা। ‘পুষ্পা’ সিনেমায় এসপি ভানুয়ার সিং শেখওয়াত চরিত্রে অভিনয় করেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল। ন্যাড়া মাথার এই আইপিএস অফিসারের পারফরম্যান্স মুগ্ধ করে দর্শকদের। ‘পুষ্পা টু’ সিনেমায়ও একই চরিত্রে দেখা যাবে ফাহাদ ফাসিলকে। ‘পুষ্পা টু’ সিনেমার কাজ নানা কারণে পিছিয়েছে। কখনো আল্লু অর্জুনের শিডিউল সংকট, কখনো ফাহাদ ফাসিলের শিডিউল সংকট। গুঞ্জন শোনা গেছে, পরিচালক সুকুমার-আল্লু অর্জুন-ফাহাদ ফাসিলের দ্বন্দ্বের কথাও। এ কারণে আটকে ছিল শুটিং, বার বার পিছিয়েছে সিনেমাটির মুক্তি। হতাশ হয়েছেন ‘পুষ্পা’ ভক্তরাও। সব সংকট কাটিয়ে চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। মুক্তির আগেই মোটা অঙ্কের অর্থ আয় করলো রবি শঙ্কর প্রযোজিত এই সিনেমা। আকাশবানীর বরাত দিয়ে স্যাকনিল্ক ডটকম জানিয়েছে, তেলেগু সুপারস্টার আল্লু অর্জুনের অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার ‘পুষ্পা টু’ সিনেমার ওটিটি স্ট্রিমিং সত্ত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি করেছেন নির্মাতারা। নেটফ্লিক্স সমস্ত ভাষার সত্ত্ব কিনে নিয়েছে। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর ওটিটিতে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। এজন্য নেটফ্লিক্সকে গুনতে হয়েছে ২৭০ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৮৫ কোটি ৯ লাখ টাকার বেশি)। এটিকে সব ভাষার ভারতীয় চলচ্চিত্রের মধ্যে সবচেয়ে বড় একক স্ট্রিমিং চুক্তি বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথমটির চেয়ে ‘পুষ্পা টু’ সিনেমা আরো বেশি চমকপ্রদ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন নির্মাতারা। বাজেটও রয়েছে প্রথম সিনেমার তুলনায় দ্বিগুণ। ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’ সিনেমার বাজেট ছিল ১৯৩ কোটি রুপি। এবার বাজেট ৪০০ কোটি রুপি। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন— ‘পুষ্পা টু’ বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলবে।
উত্তাল কলকাতা: তোপের মুখে কাঞ্চন মল্লিক

উত্তাল কলকাতা: তোপের মুখে কাঞ্চন মল্লিক গত মাসের শুরুর দিকে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালের নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এরপর থেকে উত্তাল কলকতা। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজপথে নেমেছেন অভিনয়শিল্পীরাও। চিকিৎসকরা বিক্ষোভ করছেন, কর্মবিরতি পালন করছেন। কর্মবিরতিতে থাকা চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তৃণমূলের বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক বলেন— ‘সরকারি বেতন-বোনাস নেবেন তো?’ আর এতেই ক্ষুব্ধ কাঞ্চনের সহশিল্পী ও সাধারণ মানুষ। অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীর সঙ্গে অনেক কাজ করেছেন কাঞ্চন মল্লিক। ব্যক্তিগত জীবনেও তাদের মাঝে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। তারপরও কাঞ্চনের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সুদীপ্তা চক্রবর্তী তার ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে বন্ধুত্ব ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। এতে সুদীপ্তা লেখেন, ‘এক সময়ের বন্ধু/ সহকর্মী কাঞ্চন মল্লিক তোকে ত্যাগ দিলাম। অনুপ্রেরণার লকারে চোখ, কান, মাথা, মনুষ্যত্ব, বিবেক, বুদ্ধি, বিবেচনা, শিক্ষা সব ঢুকিয়ে রেখে চাবিটা হারিয়ে ফেলেছিস মনে হয়। চাবিটা খুঁজে পেলে খবর দিস বন্ধু। তখন আবার কথা হবে, আড্ডা হবে।’ বন্ধুত্বে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সুদীপ্তা লেখেন, ‘কথাগুলো ফোন করে বা মেসেজ করেও বলতে পারতাম হয়তো, যদি তোর বলা কথাগুলো ফোনেই শুনতাম। তুই যেহেতু নিউজ মিডিয়াকে বললি, তাই আমিও তাই সোশ্যাল মিডিয়াতেই লিখলাম।’ অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন, যা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এ অভিনেতা লেখেন, ‘ঘাঁটা মল্লিক, চাটা মল্লিক, ফাটা মল্লিক, টা টা মল্লিক।’ ঋত্বিকের এমন ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের সঙ্গে নেটিজেনদের বড় অংশ সহমত পোষণ করেছেন। শর্মিলা লেখেন, ‘এরা বর্জ্যও চেটে নিতে পারে।’ প্রিয়াঙ্কা দাস লেখেন, ‘সত্যি চাটতে চাটতে বাংলাও ভুলে গেছে সব। অনুদান আর বেতনের তুলনা টানছে।’ প্রশান্ত মন্ডল লেখেন, ‘মাদারবোর্ড মল্লিক।’ অন্যদিকে সোশাল মিডিয়া পোস্ট দিয়েছেন অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তী। তিনি লেখেন ‘ছি! কাঞ্চন মল্লিক ছি!’ এ পোস্টেও নেটিজেনরা সহমত প্রকাশ করেছেন। দেবজিৎ লেখেন, ‘ও (কাঞ্চন) ভেবেছে মাইনে দেয় মমতা ব্যানার্জির বাবার টাকা থেকে।’ অভি সরকার লেখেন, ‘চাটা মল্লিক ছি!’ অঞ্জনা রায় লেখেন, ‘নির্লজ্জ।’ এমন অসংখ্য মন্তব্য ভেসে বেড়াচ্ছে কমেন্ট বক্সে। এ পরিস্থিতিতে নিজের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে মুখ খুলেছেন কাঞ্চন মল্লিক। ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে কাঞ্চন মল্লিক বলেন, ‘আমি শুধু এটুকুই বলেছিলাম, চিকিৎসকেরা তো বেতন পান। মুমূর্ষু রোগীরা কি পরিষেবা পাবেন না? আমি আন্দোলন করছি বলে যদি কাজ না করি, আমাকে কি আমার প্রযোজক টাকা দেবেন? পেশাদার হিসেবে আমাকে পরিষেবা দিতেই হবে। তিনি চিকিৎসক হতে পারেন, আমার মতো অভিনেতা বা সাংবাদিকও হতে পারেন।’ সুদীপ্তা বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন, তা জানেন কাঞ্চন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এই কমেডিয়ান বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কী আর বলব! সুদীপ্তার মনে হয়েছে, বলেছেন। যে যার ব্যক্তিগত মত জানাচ্ছেন। আমিও আমার ব্যক্তিগত মতই প্রকাশ করেছিলাম।’ কাঞ্চনের যে প্রশ্ন নিয়ে তোলপাড় চলছে, সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন কর্মবিরতিতে থাকা একজন জুনিয়র ডাক্তার। অরুণাংশু পাল বলেন, ‘আমরা যারা কর্মবিরতি করছি, তারা সবাই জুনিয়র ডাক্তার। আমরা সরকারের কাছ থেকে বেতন পাই না, স্টাইপেন্ড পাই। বোনাস-প্রফিডেন্ট ফান্ড কিছুই নাই।’
প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়েছিলাম, সবাই ভীষণ কষ্টে আছেন: বুবলী

প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়েছিলাম, সবাই ভীষণ কষ্টে আছেন: বুবলী ভয়াবহ বন্যায় অসহায় হয়ে পড়েছেন বানভাসি মানুষ। সময় যত গড়াচ্ছে, বন্যার পানিও ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে বিশুদ্ধ পানি, ঔষুধ, খাবার খুব জরুরি। এই সংকটকালে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের মানুষ। চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ছুটে গিয়েছেন নোয়াখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে ত্রাণ ভর্তি পিকআপ নিয়ে বুবলী ছুটে যান নোয়াখালীর বন্যা কবলিত প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এ জেলার সেনবাগ, বাংলাবাজার, চাটখিল, বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ি ও ছাতারপাইয়াসহ বেশ কিছু এলাকায় নৌকাযোগে ত্রাণ বিতরণ করেন বুবলী। এ বিষয়ে শবনম বুবলী বলেন, ‘বন্যার শুরু থেকে নিজের সাধ্যমতো বন্যার্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এই কয়দিন ঢাকা থেকে সাপোর্ট দিলেও পরিকল্পনা ছিল বানভাসিদের পাশে সশরীরে দাঁড়ানোর। বন্যার পানিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক ছিল, তাই একটু অপেক্ষায় ছিলাম। পরিকল্পনা অনুযায়ী গতকাল নোয়াখালীর অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়েছিলাম। যেখানে সবাই ভীষণ কষ্টে আছেন। চেষ্টা করেছি নিজের সাধ্যমতো তাদের পাশে থাকার।’ত্রাণ বিতরণের অভিজ্ঞতা জানিয়েছে বুবলী বলেন, ‘বন্যার্ত মানুষগুলোকে কাছ থেকে দেখে কষ্টগুলো আরো দ্বিগুণ অনুভব হলো। আমার মতো করে আমি সবসময় চেষ্টা করি এই ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছাকাছি থাকতে। কারণ এটা আমার মানসিক শান্তি।’ ‘সত্যিকার অর্থে সবার একাত্মতা ও ভালোবাসায় বন্যায় বিপদগ্রস্ত মানুষগুলোর জন্য ঢাকায় প্রচুর উপহার সামগ্রী জমা হয়েছে। কিন্তু তাদের কাছে এসব পৌঁছানো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ বন্যার পানিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার খুব নাজুক অবস্থা গ্রামের দিকে।’ বলেন বুবলী। বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের সময়ে তোলা কিছু ছবি নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেছেন শবনম বুবলী। ফেসবুকে ছবি পোস্ট করার কারণ ব্যাখ্যা করে বুবলী বলেন, ‘বন্যার্তদের কাছে ছুটে যাওয়ার কিছু ছবি ইচ্ছা করেই ফেসবুকে শেয়ার করেছি। যাতে আমাকে দেখে অন্যরা উৎসাহিত হন। অনেকে অনেক কথা বলতে পারেন যে, শো অফের জন্য ছবি দিয়েছি। কিন্তু আসলে তা নয়। আমি চেষ্টা করেছি একটা ভালো কাজ সবার সঙ্গে শেয়ার করার, যা দেখে আরো অনেকে উৎসাহিত হন। এই মুহূর্তে মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো সবচেয়ে বেশি জরুরি।’
‘পুষ্পা টু’: মুক্তিতে আর নয় নয়ছয়

‘পুষ্পা টু’: মুক্তিতে আর নয় নয়ছয় সুকুমার পরিচালিত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘পুষ্পা’। ২০২১ সালের ১৭ ডিসেম্বর মুক্তি পায় তেলেগু ভাষার এ সিনেমা। এতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন আল্লু অর্জুন ও রাশমিকা মান্দানা। সিনেমাটির গল্প, আইটেম গান ঝড় তুলেছিল ভক্তদের মনে; মুক্তির পর দাপিয়ে বেড়ায় বক্স অফিস। এখন নির্মিত হচ্ছে ‘পুষ্পা’ সিনেমার দ্বিতীয় পার্ট। প্রথম পার্টের মতো দ্বিতীয় পার্টে জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন আল্লু অর্জুন-রাশমিকা। ‘পুষ্পা’ সিনেমায় এসপি ভানুয়ার সিং শেখওয়াত চরিত্রে অভিনয় করেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল। ন্যাড়া মাথার এই আইপিএস অফিসারের পারফরম্যান্স মুগ্ধ করে দর্শকদের। ‘পুষ্পা টু’ সিনেমায়ও একই চরিত্রে দেখা যাবে ফাহাদ ফাসিলকে। ‘পুষ্পা টু’ সিনেমার কাজ নানা কারণে পিছিয়েছে। কখনো আল্লু অর্জুনের শিডিউল সংকট, কখনো ফাহাদ ফাসিলের শিডিউল সংকট। গুঞ্জন শোনা গেছে, পরিচালক সুকুমার-আল্লু অর্জুন-ফাহাদ ফাসিলের দ্বন্দ্বের কথাও। এ কারণে আটকে ছিল শুটিং, বার বার পিছিয়েছে সিনেমাটির মুক্তি। হতাশ হয়েছেন ‘পুষ্পা’ ভক্তরাও। অবশেষে সিনেমাটি মুক্তির চূড়ান্ত তারিখ জানালেন এর প্রযোজক রবি শঙ্কর। পরিচালক-অভিনেতাদের দ্বন্দ্বের গুঞ্জন সত্য নয় বলে দাবি করেছেন প্রযোজক রবি শঙ্কর। পাশাপাশি মুক্তির চূড়ান্ত তারিখ জানিয়ে এই প্রযোজক বলেন, “অসাধারণভাবে আসছে ‘পুষ্পা টু’। সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিনেমাটির দ্বিতীয়ার্ধের কাজ সম্পন্ন হবে। নভেম্বরে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে পাঠাব। ৬ ডিসেম্বর থেকে ‘পুষ্পা টু’ প্রদর্শিত হবে।” প্রথমটির চেয়ে ‘পুষ্পা টু’ সিনেমা আরো বেশি চমকপ্রদ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন নির্মাতারা। বাজেটও রয়েছে প্রথম সিনেমার তুলনায় দ্বিগুণ। ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’ সিনেমার বাজেট ছিল ১৯৩ কোটি রুপি। এবার বাজেট ৪০০ কোটি রুপি। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন— ‘পুষ্পা টু’ বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলবে।
বিব্রতকর পরিস্থিতে দীপিকার পাশে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা

বিব্রতকর পরিস্থিতে দীপিকার পাশে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন রণবীর কাপুরের প্রেমে মজেছিলেন— সে কথা কারও অজানা নয়। ভালোবেসে নায়কের নামে নিজের শরীরে ট্যাটু করিয়েছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুইজনের পথ দুই দিকে বেঁকে যায়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন দীপিকা। একই নামের আরেক নায়কের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে দীপিকার। প্রথম প্রেমের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই হয়তো এই নতুন প্রেমের গল্প গোপন রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ‘কফি উইথ করণ’ শোতে এসে বিপদে পড়ের দীপিকা। তাদের প্রেমের কথা অন স্ক্রিন প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন আলোচিত-সমালোচিত উপস্থাপক করণ জোহর। ‘রামলীলা’ সিনেমায় দীপিকা-রণবীর সিং জুটির রসায়ন দর্শকদের মাত করে দিয়েছিল। একই সিনেমায় আইটেম গানে পারফর্ম করেছিলেন বলিউডের আরেক অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। করণ জোহরের শোতে দীপিকা আর প্রিয়াঙ্কা একই সঙ্গে হাজির হওয়ায়— করণ জোহরের বিব্রতকর প্রশ্নের জবাব দিতে হয়নি দীপিকার। করণ জোহর নিজের শো-তে সরাসরি দীপিকাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘রণবীর সিংয়ের সঙ্গে প্রেম চলছে?’ দীপিকাকে কিছু বলতে না দিয়েই প্রিয়াঙ্কা বলেছিলেন, ‘দীপিকার জীবনের ৯০ শতাংশই মানুষ জানে। বাকি ১০ শতাংশ সে যদি গোপন রাখতে চায়, তাহলে ক্ষতি কী?’ সঙ্গে সঙ্গে দীপিকার চোখে মুখে মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রিয়াঙ্কা প্রমাণ করেছিলেন, সুযোগ থাকলে মানুষকে বিপত্তিকর অবস্থা থেকে বাঁচানো উচিত। করণ জোহরও প্রশ্নটি দ্বিতীয়বার করেননি ওই শোতে।
বন্যায় শাকিবের ভূমিকা নিয়ে ভক্তদের প্রশ্ন

বন্যায় শাকিবের ভূমিকা নিয়ে ভক্তদের প্রশ্ন দেশে ঘটে যাওয়া যে কোনো ঘটনায় অন্তত ফেসবুকে সরব থাকেন ঢালিউড তারকা শাকিব খান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রহস্যময় নিরবতা ভর করেছিল তার ওপর। এবার ভয়াবহ বন্যায় দেশ ভেসে গেলেও তিনি নিরব ভূমিকা পালন করছেন। বরং গত ২০ আগস্ট ফেসবুকে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় তার সিনেমা ‘তুফান’ মুক্তির খবর। সেখানে ভক্তরা দেশের বন্যাকবলিতদের জন্য তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দেশের বন্যা পরিস্থিতিতে সক্রিয় বিনোদন অঙ্গনের তারকারা। কেউ কেউ বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন দুর্গত মানুষের কাছে। এ রকম সময়ে ঢালিউডের প্রধানতম তারকা শাকিব খােনর নিরবতায় বিস্মিত হয়েছেন অঙ্গনের অনেকে। শাকিব কি কোনো জটিলতায় পড়েছেন? জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। তার এই নিরবতায় কটাক্ষ করেছেন নেটিজেনদের অনেকে। একজন লিখেছেন, ‘দেশের চরম দুঃসময়ে ঘুমিয়ে আছেন শাকিব খান। এভাবে সবসময় দেশের বিপদে ঘুমিয়ে থাকুন।’ শাকিবের সর্বশেষ পোস্ট মালয়েশিয়ায় ‘তুফান’ ছবির প্রচারণা। সেখানে ইমদাদ মিলন লিখেছেন, ‘প্রিয় খান সাহেব, বন্যা বা বানভাসিদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করছি, ভক্ত হিসেবে এইটুকু অনুরোধ।’ এম এ মাসুদ লিখেছেন, ‘তুফান পরে নিয়ে আসেন, আগে বন্যায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। আপনার কাছে জাতি এটা আশা করে। চুপচাপ থাকলে আপনাকে এ জাতি ছাড়বে না। সময়ের ব্যবধানে তা দেখতে পাবেন।’ মির্জা এম ইসলাম মউদুদ লিখেছেন, ‘ভাই, বন্যার্ত মানুষের জন্য আপনার পক্ষ থেকে ত্রাণ-সাহায্য দিন।’ এমডি আনিস বিডি নামের একটি আইডি থেকে লেখা হয়েছে, ‘খান সাহেব, আপনি কোথায় আছেন। পারলে বন্যায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। আপনাকে এই কয়েক দিন ধরে দেখা যায় না কেন?’ প্রসঙ্গত ২০২২ সালেও বন্যায় ডুবেছিল সিলেট-সুনামগঞ্জ। সেবার নিউইয়র্ক থেকে অফিসিয়াল ফেসবুকে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন শাকিব। বাস্তবে সেই ত্রাণ পৌঁছেছিল কি না তা জানা যায়নি। তবে অসমর্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে, শাকিব খানের কোম্পানির পক্ষ থেকে এবারের বন্যায় সহযোগিতা পাঠানো হয়েছে। এ কারণে ব্যক্তিগত অংশগ্রহণ নিয়ে সরব নন এই তারকা। গত ঈদুল আজহায় দেশে মুক্তি পায় শাকিব অভিনীত ছবি ‘তুফান’। পরে এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ছবিটি মুক্তির খবর শোনা যায়। গত ২৩ আগস্ট মালয়েশিয়ার কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে বলে জানা গেছে। স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ এই বন্যায় শাকিব নিরব থাকলেও সরব ছিলেন তার দুই নায়িকা ও সাবেক দুই স্ত্রী অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলী। বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন তারা। ভক্তদের প্রত্যাশা শাকিবও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুপ্রাণিত করবেন সবাইকে। এই মুহূর্তে তিনি অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। জানা গেছে, শিগগিরই ভারতে নতুন সিনেমার শুটিংয়ে যাবেন তিনি।
মাহিকে দেড় ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ!

মাহিকে দেড় ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ! আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বিদেশে পাড়ি দিতে বিমানবন্দরে গিয়ে আটক হয়েছেন অনেক নেতাকর্মী। সেই ধারাবহিকতায় এবার চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বিমানবন্দরে। জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন মাহি। সেখানে এই নায়িকাকে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষায় রেখে বিশেষভাবে চেক করা হয় তার নথিপত্র। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে তার নাম আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। সামাজিকমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন মাহি। ওই ভিডিওতে মাহি বলেন, এক থেকে দেড় ঘণ্টা হবে, আমি জাস্ট বসেছিলাম। কারণ, কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে চাইছিল আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কি না। ডিজিএফআই, এনএসআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ভালোভাবে চেক করার পরই ফ্লাই করতে পেরেছি। মূলত একদিনের জন্য দেশের বাইরে গিয়েছিলেন মাহি। এরপর সেখানের কাজ সেরে আবারও ঢাকায় ফিরেছেন এই নায়িকা। অভিনেত্রী পরিচয়ের বাইরেও রাজনীতিতে বেশ সরব ছিলেন মাহি। আওয়ামী লীগের হয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দলের সমর্থন না পাওয়ায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি এই চিত্রনায়িকা। ষেণ পর্যন্ত নির্বাচনে বড় ব্যবধানেই হেরেছেন তিনি।