নায়ক ফেরদৌসকে ছাড়াই আসছে ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’

নায়ক ফেরদৌসকে ছাড়াই আসছে ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ আজও এই ছবি মানেই নব্বই দশকের এক সমুদ্র নস্টালজিয়া, রোমান্টিকতার প্রতীক। ফেরদৌসের পাশাপাশি সিনেমাটির অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদীও কলকাতার গন্ডি পেরিয়ে বাংলার ভাষার সিনেমাপ্রেমীদের স্বপ্নের নায়িকাতে পরিণত হয়েছিলেন। কণ্ঠশিল্পী নচিকেতা জয় করে নিয়েছিলেন দুই বাংলার শ্রোতাদের মন। দীর্ঘ ২৭ বছর পর এবার আসছে ছবিটির সিকুয়েল। এর নাম রাখা হয়েছে ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’। আজ সোমবার রাজধানীর উত্তরার আনন্দবাড়ি শুটিং হাউসে মহরত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন এ সিনেমার শুটিং শুরু হচ্ছে। এমন তথ্যই নিশ্চিত করেছে ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। ইমপ্রেসের সঙ্গে নতুন সিনেমাটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছে বাংলাদেশের আশীর্বাদ চলচ্চিত্র। পরিচালনা করবেন কামরুজ্জামান। জানা গেছে, এই সিনেমায় অভিনয় করবেন আজাদ আবুল কালাম, ফারজানা ছবিসহ আরও বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ শিল্পী। কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে একঝাঁক নতুন অভিনয়শিল্পীদের। তাদের নাম পরিচয় জানা যাবে আজ মহরতে। তবে এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে এই সিনেমায় থাকছেন না ফেরদৌস। থাকছেন না ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র নায়িকা প্রিয়াঙ্কাও। নচিকেতার গান কি থাকবে? এমন প্রশ্নের জবাবে ইমপ্রেস জানায়ে, সেটিও নিশ্চিত নয়।

২৯ বছরের বড় টাবুর সঙ্গে অন্তঃরঙ্গ দৃশ্য, মুখ খুললেন ইশান

২৯ বছরের বড় টাবুর সঙ্গে অন্তঃরঙ্গ দৃশ্য, মুখ খুললেন ইশান বলিউড অভিনেতা শহিদ কাপুরের ভাই ইশান খাট্টার। বেশ আগে রুপালি জগতে পা রেখেছেন। বেশ কটি সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে কাজ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই তরুণ অভিনেতা। ২০২০ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত ‘আ সুটেবল বয়’ ওয়েব সিরিজ। এ সিরিজে ইশান যখন অভিনয় করেন, তখন তার বয়স ২৪ বছর। সিরিজটিতে বলিউডের দাপুটে অভিনেত্রী টাবুর সঙ্গে ইশানের অন্তঃরঙ্গ দৃশ্য রয়েছে। ২৯ বছরের বড় টাবুর সঙ্গে ইশানের চুম্বন দৃশ্য নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল। এই দৃশ্যের শুটিং কীভাবে করেছিলেন, তা নিয়ে নীরবতা ভেঙেছেন ইশান। জুম-কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইশান। এ আলাপচারিতায় ইশান খাট্টার জানান, দৃশ্যটির শুটিং নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে টাবু তাকে নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করান।  শুটিং সেটে টাবুর পাশে যতক্ষণ ছিলেন, ততক্ষণ ভীত ছিলেন না ইশান। বরং নিরাপদ বোধ করেছিলেন। অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ের আগে এ বিষয়ে কোনো প্রস্তুতি বা কথাও বলেননি তারা। ইশান খাট্টার বলেন, “টাবু এলোমেলো বিষয় নিয়ে কথা বলতেন। যেমন: দুপুরের খাবারে তুমি কী খাও, অথবা এমন কিছু। টাবু খুব দুষ্টু, শুটিং সেটে সে বাচ্চাদের মতো করে।” অন্তঃরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ের স্মৃতিচারণ করে ইশান খাট্টার বলেন, “শুটিং সেটে টাবু হয়তো রসিকতা করছে। হঠাৎ সে তার চরিত্রের মতো হতে পারে। আমার মনে হয়, এটি মজার। তার সঙ্গে কাজ করা খুবই আনন্দের। সাধারণত, বেশির ভাগ সময় আমরা একটি মুহূর্তকে গম্ভীর করে তুলি। টাবু দৃশ্যটি নির্বিঘ্নে করেছেন। এটিকে মনে হয়েছে, আমরা চোখে চোখে কথা বলছিলাম।” ২০১৭ সালে ‘বিয়ন্ড দ্য ক্লাউডস’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনেতা হিসেবে রুপালি পর্দায় হাজির হন ইশান। মাজিদ মাজিদি নির্মিত এ সিনেমায় ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। পরের বছরই ‘ধড়ক’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে পর্দায় পা রাখেন। এ সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেন শ্রীদেবী কন্যা জাহ্নবী কাপুর। বক্স অফিসের পাশাপাশি এই দুই তারকা সন্তান দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান।

বলিউড অভিনেতা মুকুল দেব আর নেই

বলিউড অভিনেতা মুকুল দেব আর নেই না ফেরার দেখে পাড়ি জমালেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা মুকুল দেব। শুক্রবার (২৩ মে) মৃত্যু হয় এ অভিনেতার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। হিন্দি, পাঞ্জাবি, দক্ষিণ ভারতীয় ছবি ও টেলিভিশনেরও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন মুকুল দেব। শনিবার (২৪ মে) অভিনেতার মৃত্যুর খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন মুকুল দেব। ভর্তি ছিলেন আইসিইউ-তে। মনোজ বাজপেয়ী টুইট করেন, ‘আমার এই মুহূর্তে ঠিক কী অনুভূতি হচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। মুকুল ছিলেন আমার আত্মিক ভাই। শিল্পী হিসাবে ওর উষ্ণতা ও আবেগ ছিল অতুলনীয়। খুব তাড়াতাড়ি চলে গেল, খুব অল্প বয়সে। ওর পরিবারের এই ক্ষতিতে শোকাহত। প্রত্যেকের জন্য প্রার্থনা করছি। মিস ইউ মেরি জান… যতক্ষণ না আমাদের আবার দেখা হয়, ওম শান্তি।’ ‘সন অফ সর্দার’ সিনেমায় মুকুল দেবের সঙ্গে কাজ করা অভিনেতা বিন্দু দারা সিং মুকুলের মৃত্যুর খবরটি ইন্ডিয়া টুডে-কে নিশ্চিত করেছেন। তিনি শোকপ্রকাশ করে বলেন, ‘মুকুলকে আর বড় পর্দায় অভিনয় করতে দেখা যাবে না- এটা খুব কষ্টের। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই মুকুল নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল। সে বাড়ি থেকে বের হতো না, বা কারও সঙ্গে দেখা করত না। শেষ কয়দিনে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। তার ভাই ও যারা তাকে ভালোবাসতেন, তাদের প্রতি আমার সমবেদনা। মুকুল এক অসাধারণ মানুষ ছিলেন। আমরা সবাই তাকে ভীষণ মিস করব।’ মুকুলের বন্ধু এবং অভিনেত্রী দীপশিখা নাগপালও তার সঙ্গে একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে শ্রদ্ধা জানান। ইন্ডিয়া টুডে-কে তিনি বলেন, ‘মুকুল কখনোই নিজের অসুস্থতা নিয়ে কারও সঙ্গে কিছু বলত না। আমাদের একটা বন্ধুদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছিল, যেখানে আমরা প্রায়ই কথা বলতাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে ওর মৃত্যুর খবর পাই। তখন থেকেই ওর নম্বরে বারবার ফোন করছি, ভাবছি যদি ধরেই ফেলে!’ প্রসঙ্গত, মুকুল দেব-এর জন্ম ১৯৭০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এক পাঞ্জাবি পরিবারে। তিনি একজন ভারতীয় অভিনেতা ছিলেন যিনি হিন্দি, পাঞ্জাবি, তেলুগু, তামিল, কন্নড়, বাংলা এবং মালয়ালম ছবিতে অভিনয় করেছেন। আবার একই সঙ্গে টেলিভিশনেও কাজ করেছেন। ১৯৯৬ সালে টিভি সিরিজ ‘মুমকিন’ দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। আবার ওই একই বছর ‘দাস্তাক’ ছবিতে সুস্মিতা সেনের সঙ্গে অভিনয় করে তিনি বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’, ‘সন অফ সর্দার,’ ‘আর… রাজকুমার’, ‘ডন’ এবং ‘জয় হো’-র মতো ব্যবসাসফল ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। আবার তিনি ‘আওয়ারা’, ‘বচ্চন’, ‘সুলতান: দ্য স্যাভিয়ার’-এর মতো বাংলা ছবিতে জিৎ-এর সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। দিল্লির সেন্ট কলম্বাস স্কুল থেকে পড়াশোনা করেন মুকুল দেব। ইন্দিরা গান্ধী ইনস্টিটিউট অফ অ্যাভিয়েশন থেকে বিমান চালনাও শিখেছিলেন তিনি। মুকুল ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল দেবের ভাই।

আমি আর প্রসেনজিৎ যখন পর্দায় থাকি,সবকিছু ভুলে যাই

আমি আর প্রসেনজিৎ যখন পর্দায় থাকি,সবকিছু ভুলে যাই ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় জুটি প্রসেনজিৎ ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এই জুটির প্রথম চলচ্চিত্র ‘নাগপঞ্চমী’ মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে। তারপর অনেক জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা উপহার দিয়েছেন রোমান্টিক এই জুটি। ২০০২ সালে এই জুটির অভিনীত ‘প্রতিহিংসা’ সিনেমা মুক্তি পায়। তারপর সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই বদলে যায়। মাঝে ১৪ বছর একসঙ্গে কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি তাদের। দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতি ভেঙে ‘প্রাক্তন’ সিনেমার মাধ্যমে একসঙ্গে ফেরেন তারা। নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখার্জি পরিচালিত এ সিনেমাটি ২০১৬ সালের ২৭ মে মুক্তি পায়। এ সিনেমা মুক্তির পর ভূয়সী প্রশংসা কুড়ান তারা। ‘প্রাক্তন’ মুক্তির পর আরো দুটো সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেন প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা। প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা অভিনীত ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ সিনেমা। ২০০০ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এটি। এ সিনেমার ‘চোখ তুলে দেখো না’ গানটি এখনো দর্শক হৃদয়ে দোলা দেয়। ২৫ বছর পর ফের সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। আগামী ৩০ মে কলকাতায় মুক্তি পাবে এটি। এ সিনেমা মুক্তির পর কীভাবে ২৫ বছর কেটে গেল, তা নিয়ে বিস্মিত ঋতুপর্ণা। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, “আমার কাছে খুব বিস্ময়ের ব্যাপার, কীভাবে ২৫ বছর কেটে গেল বুঝতে পারলাম না। ২৫ বছর ধরে একটা সিনেমাকে আমরা বয়ে নিয়ে এসেছি। আজও সব বিয়েবাড়িতে এই গানটা বাজে। জীবনে কিছু জিনিস থেকে যায়।” ২৫ বছর কেটে গেলেও প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণার রসায়ন এখনো তেমনি আছে। যদিও মাঝে দীর্ঘ সময় এ জুটিকে একসঙ্গে দেখা যায়নি। তবে তাদের প্রত্যাবর্তন মাঝের বিরতি ভুলিয়ে দিয়েছে। ঋতুপর্ণা বলেন, “আমি আর প্রসেনজিৎ যখন পর্দায় থাকি তখন সবকিছু ভুলে যাই। আমাদের কাছে তখন ওই চরিত্রগুলোই বাস্তব হয়ে ওঠে। ওর বাইরে কোনো জীবন আছে, সেটা ভুলে যাই। আমাদের তখন ওই মুহূর্তগুলো হয়ে ওঠে আপসহীন।” রোমান্টিক সিনেমায় দারুণ জীবন্ত ঋতুপর্ণা-প্রসেনজিৎ। এ জুটি অনেকগুলো রোমান্টিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। অভিনয় করতে গিয়ে কখনো পরস্পরের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েননি? এমন প্রশ্নের জবাবে ঋতুপর্ণা বলেন, “আমাদের কাছে প্রেমটা অন্যরকম। দু’জন দু’জনের প্রতি রয়েছে আস্থা, নির্ভরতা ও ভরসা। সেটা এতটা সুন্দর যে আমরা বছরের পর বছর কথা না বললেও সেই জায়গা রয়ে যাবে।” ভারতীয় বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের কাছে প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা জুটির দর্শকপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। দীর্ঘ দিনের গুঞ্জন, ব্যক্তিগত জীবনে এ জুটি প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। সত্যি কী প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণার মাঝে প্রেম ছিল বা আছে? গত বছর এই প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন তারা। প্রথমে এ প্রশ্নের উত্তর দেন প্রসেনজিৎ। তিনি বলেছিলেন, “আপনি বলতে পারবেন, উত্তম-সুচিত্রার কি প্রেম ছিল? কিছু জিনিস অজানা থাকুক। যখন আমরা থাকব না, তখনো যাতে এই আলোচনাটা চলে।” একই প্রশ্নের জবাবে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত তখনো রহস্য করে বলেছিলেন, “পরবর্তী প্রজন্মে যেন এটাই হাতড়ে যায়, ওদের মধ্যে কী ছিল!” ঋতুপর্ণার এ বক্তব্যের পর প্রসেনজিৎ বলেছিলেন, “আসলে কিছু সম্পর্ক বিশ্লেষণের বাইরে; সেটাকে ওরকমভাবেই রাখা ভালো।” প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে আলাদা আলাদাভাবে অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার মধ্যে ৫০টি সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন তারা। তাদের অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘অযোগ্য’। গত বছর মুক্তি পায় এটি।

 গুরুতর অসুস্থ নুসরাত ফারিয়া চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে

গুরুতর অসুস্থ নুসরাত ফারিয়া চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে গেল রোববার (১৮ মে) সকালে থাইল্যান্ডে যাওয়ার সময় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন নুসরাত ফারিয়া। পরের দিন আদালত থেকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। তবে মঙ্গলবার (২০ মে) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। কারাগার থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি এই অভিনেত্রী। তবে এই সময়ে যারা পাশে ছিলেন, তাদের উদ্দেশে ফেসবুক পেজের এক স্ট্যাটাসে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই নায়িকা। এরপর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে আবারও নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন তিনি। এরপর ফারিয়ার আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শুক্রবার (২৩ মে) এক ফেসবুক পোস্টে এ চিত্রনায়িকা জানিয়েছেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ, চিকিৎসার অংশ হিসেবেই সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন। ফারিয়া লেখেন, আমি জানি, আপনারা অনেকেই আমার খোঁজ-খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আপনাদের ভালোবাসা ও উদ্বেগ আমাকে সত্যিই ছুঁয়ে যাচ্ছে। তবে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে, বর্তমানে আমি গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছি। চিকিৎসার অংশ হিসেবে এখন কিছু সময়ের জন্য বাইরের সঙ্গে সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফোন ব্যবহারের ওপরও রয়েছে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা। যোগ করে ঢাকাই সিনেমার এই অভিনেত্রী লেখেন, এই পরিস্থিতিতে কারো সঙ্গে কথা বলতে না পারার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আশা করি, আপনারা বিষয়টি বুঝবেন। আমি বিশ্বাস করি, এই কঠিন সময়টা দ্রুতই পেরিয়ে আবার সুস্থভাবে আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পারব। গত কয়েকদিনকে দুঃসহ সময় উল্লেখ করে ফারিয়া লেখেন, গত কয়েকদিন ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে দুঃসহ ও সংবেদনশীল সময়। মানসিক ও শারীরিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও সাহচর্য আমাকে এগিয়ে চলার শক্তি দিয়েছে। আপনাদের সকলের প্রতি- আপামর জনসাধারণ, প্রতি আমি হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞ। গণমাধ্যমের বন্ধুদের ধন্যবাদ জানিয়ে এই চিত্রতারকা লেখেন, বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের বন্ধুদের, যাদের মানবিকতা ও ইতিবাচক ভূমিকাটি এই সময়ে আমার জন্য ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক। আপনারা পাশে না থাকলে হয়তো এত দ্রুত নিজের ভেতরের সাহস খুঁজে পেতাম না। আমি আজীবন মনে রাখব এই ভালোবাসা ও নিরন্তর সহমর্মিতার কথা। সবার প্রতি রইল আন্তরিক ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। খুব শিগগিরই আবার দেখা হবে। উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর ভাটারা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন এনামুল হক (৩৫)। চলতি বছরের ৩ মে এনামুল হক ঢাকার সিএমএম আদালতে ২৮৩ জনের বিরুদ্ধে নালিশি মামলা করেন। মামলার দুই সপ্তাহ পর গ্রেপ্তার করা হয় নুসরাত ফারিয়াকে।

 ১৫ দিনে ওজন কমাতে পারি-ভালো আছি- ঐশ্বরিয়া

১৫ দিনে ওজন কমাতে পারি-ভালো আছি- ঐশ্বরিয়া একজন নারীর শরীরে মাতৃত্বের পর যে পরিবর্তন আসে, তা খুবই স্বাভাবিক। মা হওয়ার পর শরীরের গঠন বদলানো, ওজন বেড়ে যাওয়া- এসবকে এখনও অনেকেই নেতিবাচকভাবে দেখে থাকেন। সাধারণ নারী থেকে শুরু করে তারকারাও এর ব্যতিক্রম নন। সন্তান জন্মের পর থেকে প্রায়ই চেহারা আর গড়ন নিয়ে কটাক্ষের শিকার হয়ে আসছেন বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। বিশ্বসুন্দরী খেতাব জয়ী এই অভিনেত্রীকে গেল কয়েক বছর ধরেই সামাজিকমাধ্যমে ওজন বৃদ্ধি, সাজপোশাক, এমনকি চুলের স্টাইল নিয়েও নানা রকম মন্তব্য শুনতে হয়েছে। অনেকেই বলছেন, মুখে ফোলাভাব এসেছে- অবধারিতভাবে ধারণা করছেন, হয়তো কোনও রকম অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। সম্প্রতি বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসবে ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতি নজর কেড়েছে। তার ঝলমলে লুক মুগ্ধ করলেও, ওজন নিয়ে বিদ্রূপ করতে ছাড়েননি অনেকেই। কারও মন্তব্য, ‘চেহারায় আগের সেই লাবণ্য নেই’, আবার কেউ লিখেছেন, ‘মুখ ফুলে গিয়েছে, আর ভালো লাগে না। ’ এসব নেতিবাচক মন্তব্য নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ঐশ্বরিয়া নিজেই। সরাসরি জানিয়ে দিলেন, “আমি মোটা হয়েছি তো আপনাদের কী সমস্যা হয়েছে? আমার চেহারা নিয়ে আপনাদের এত আগ্রহ কেন?” তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে আমি আমার মেয়ে আরাধ্যার বিষয়েই সবচেয়ে বেশি ভাবি। আমার ওজন নিয়ে আমি চিন্তিত নই। চাইলে ১৫ দিনের মধ্যেই ওজন কমিয়ে ফেলতে পারি। কিন্তু আমি যেমন আছি, তাতেই ভালো আছি। অন্যরা কী ভাবল, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। ” নিজের মত প্রকাশে দ্বিধাহীন এই অভিনেত্রী আরও একবার প্রমাণ করলেন, শরীর নয়, ব্যক্তিত্বই একজন নারীর সবচেয়ে বড় শক্তি।

কানের লাল গালিচায় অন্য ঐশ্বরিয়া

কানের লাল গালিচায় অন্য ঐশ্বরিয়া ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের শহর কানে বসেছে চলচ্চিত্রজগতের সম্মানজনক আসর কান চলচ্চিত্র উৎসব। গত ১৩ মে এ উৎসবের ৭৮তম আসরের পর্দা উঠেছে। বরাবরের মতো এবারের আসরে হাজির হয়ে নজর কাড়লেন প্রাক্তন বিশ্ব সুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। তবে ওয়েস্টার্ন লুকে নয়, শাড়ি পরে লাল গালিচায় হেঁটে প্রশংসায় ভাসছেন এই তারকা। কান চলচ্চিত্র উৎসবের রেড কার্পেটে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন পরেন সাদা রঙের বেনারসি। শাড়ির সঙ্গে পেয়ারআপ করেন এমেরাল্ড পিঙ্ক জুয়েলারি। ঐশ্বরিয়া রাইয়ের শাড়ির ডিজাইন করেন মণীশ মালহোত্রা। তবে বচ্চন-বধূর যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তা হলো— সিঁথি ভরা সিঁদুর, যা পুরো সাজটাই বদলে দিয়েছে। ঐশ্বরিয়া শাড়ির সঙ্গে বেছে নিয়েছেন সাদা রঙের ফুল স্লিভ ব্লাউজ। একই সঙ্গে শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং ওড়নাও বয়ে বেড়ান। মেকআপও একেবারে সামান্য রেখেছিলেন অভিনেত্রী। ন্যুড মেকআপের সঙ্গে ব্রাউন লিপস্টিক ঠোঁটে লাগান। ঐশ্বরিয়ার গলার হারটি ২৯০ ক্যারেটেরও বেশি মোজাম্বিক রুবি দিয়ে তৈরি করা। এটি ডিজাইন করেছেন মণীশ মলহোত্রা। এই স্টেটমেন্ট পিসটির সঙ্গে ৩০ ক্যারেটেরও বেশি রুবি দিয়ে তৈরি একটি নেকলেস ব্যবহার করেছেন, যাতে হীরা বসানো। সঙ্গে নজর কাড়ে রাই-সুন্দরীর রেনেসাঁ অফ রুবিস স্টেটমেন্ট আংটিটি। কানের লাল গালিচায় ঐশ্বরিয়ার হাঁটার নানা মুহূর্ত ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যা দেখে ভূয়সী প্রশংসা করছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। আশু মিশ্রা লেখেন, “আমাদের রানি এখানে।” আরশাদ লেখেন, “অবশেষে কানের রানি।” কাজল লেখেন, “ঐশ্বরিয়াকে ছাড়া কান অসম্পূর্ণ।”একজন লেখেন, “উফ এই সিঁদুরটা! সবটা বদলে দিল।” অন্য একজন লেখেন, “আসল রানি, কোনো তুলনা হয় না।” প্রগতি সিনহা লেখেন, “সাদা শাড়িতেও কীভাবে কাউকে এত সুন্দর লাগতে পারে। ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।” এমন অসংখ্য মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে।

আদালত চত্বরে মমতাজের ওপর ডিম-জুতা নিক্ষেপ

আদালত চত্বরে মমতাজের ওপর ডিম-জুতা নিক্ষেপ মানিকগঞ্জের সিংগাইরে চারজনকে হত্যা এবং হরিরামপুরে হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর ও হরিরামপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আদালতের কার্যক্রম শেষে প্রিজন ভ্যানে নেওয়ার সময় বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীরা তাকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতা নিক্ষেপ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আদালত-১ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুন নূর সিংগাইর উপজেলার হত্যা মামলায় মমতাজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় চিফ জুডিশিয়াল আদালত-৩ এর বিচারক আইভি আক্তার হরিরামপুর থানার হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।  এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় মমতাজ বেগমকে মামলার শুনানির জন্য গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মানিকগঞ্জ আদালতে আনা হয়। মমতাজ বেগমকে আদালতে ওঠানোর সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবী ও নেতাকর্মীরা তার শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা মধ্যে রিমান্ড শুনানি শেষে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় আসামি মমতাজ বেগমের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীরা ডিম ও জুতা নিক্ষেপ করেন। কোর্ট ওসি আবুল খায়ের জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে সিঙ্গাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় হরতালের সমর্থনে করা মিছিলে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালে ২৫ অক্টোবর মমতাজ বেগমকে তিন নম্বর আসামি করে সিঙ্গাইর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের মো. মজনু মোল্লা। এর পর তার নির্বাচনি এলাকা হরিরামপুর থানায় হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগে আরেকটি মামলা হয়। গত ২৯ অক্টোবর হরিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন মামলাটি দায়ের করেন।  ওসি আরো জানান, বৃহস্পতিবার পৃথক দুটি আদালতে রিমান্ড শুনানি হয়। একটি আদালতে দুই দিন ও অন্য আদালতে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। আসামিকে গাজীপুর কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ঢাকায় বেশকিছু থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় মমতাজ বেগম চার দিনের রিমান্ডে ছিলেন। রিমান্ড শেষে মমতাজ বেগমকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হয়েছিল।

আবারো পৃথিবীর মুখোমুখি হব আরও শক্তিশালী হয়ে: নুসরাত ফারিয়া

আবারো পৃথিবীর মুখোমুখি হব আরও শক্তিশালী হয়ে: নুসরাত ফারিয়া জামিনে মুক্তির পর সামাজিকমাধ্যমে সরব হয়েছেন নুসরাত ফারিয়া। মঙ্গলবার (২০ মে) কারামুক্ত হওয়ার পর ফেসবুক পেজে এক পোস্টে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান এই অভিনেত্রী। এরপর এদিন রাতে ইনস্টাগ্রাম পোস্টে আবারও নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে ফারিয়া বলেন, জীবনের এই ঝড়-ঝঞ্ঝাটে আমি জেনে গেছি, কারা আমার জীবনের অটুট সঙ্গী। আমার পরিবার- তোমাদের ভালোবাসা আমার শক্তি। আমার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা- তোমাদের প্রার্থনাই আমাকে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। আর আমার পুরো দেশ- তোমাদের সমর্থনে আমি বাকরুদ্ধ, হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। এ সময় ফারিয়া বলেন, এই যাত্রা আমাকে নাড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু ভাঙতে পারেনি। ক্ষত গভীর, তবে ন্যায়ের ওপর এবং মানুষের ভালত্বের ওপর আমার বিশ্বাসও ততটাই গভীর।ইনস্টাগ্রামে পোস্টটির শেষে ফারিয়া বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষত সেরে যাবে, আর আমি আবারও পৃথিবীর মুখোমুখি হব আরও শক্তিশালী, আরও প্রজ্ঞাময় হয়ে এবং প্রতিটি আত্মার প্রতি কৃতজ্ঞতা নিয়ে, যারা আমার পাশে থেকেছেন। এর আগে মঙ্গলবার ফেসবুক পোস্টে ফারিয়া বলেছিলেন, জীবনের সবচেয়ে মুমূর্ষু সময় পার করেছি এই দুইটা দিন। মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পড়েছিলাম। এসময় যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান। ধন্যবাদ জানান শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির মানুষ থেকে তার ভক্ত অনুরাগীদেরও। গেল রোববার সকালে থাইল্যান্ড সফরে যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। জানা যায়, গত মার্চ মাসে এনামুল হক নামের এক ব্যক্তি ঢাকার একটি আদালতে ২৮৩ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে নুসরাত ফারিয়াসহ আরও কয়েকজন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বও রয়েছেন।

ক্ষুব্ধ হানিফ সংকেত, নিচ্ছেন আইনি ব্যবস্থা

ক্ষুব্ধ হানিফ সংকেত, নিচ্ছেন আইনি ব্যবস্থা দেশের তুমুল জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক হানিফ সংকেত। দেশের কিংবদন্তি এই উপস্থাপক এবার সরব হয়েছেন নিজের কণ্ঠস্বর নকল করে প্রচার চালানোর বিরুদ্ধে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ভুয়া বিজ্ঞাপনে তার কণ্ঠ নকল করায় তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে হানিফ সংকেত লেখেন, প্রযুক্তির এই যুগে সুবিধার পাশাপাশি অপব্যবহারও বেড়েছে। এখন এমন এক সময়, যেখানে প্রযুক্তি দিয়ে প্রতারণাও সম্ভব। আমি লক্ষ্য করেছি, একটি প্রতারক চক্র ইত্যাদি অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার ভঙ্গি ও আমার কণ্ঠ অনুকরণ করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ডায়াবেটিসবিষয়ক ভুয়া বিজ্ঞাপন চালাচ্ছে। কণ্ঠ শুনলেই বোঝা যায়, এটা আসল নয়, বিদেশি উচ্চারণে নকল কণ্ঠ। তিনি লেখেন, আমি কখনোই কোনো বিজ্ঞাপনে অংশ নেইনি। অনেকবার প্রস্তাব পেয়েছি, তবুও রাজি হইনি। তাই কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন। এই প্রতারণার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি এই প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। ফেসবুক পোস্টে হানিফ সংকেত আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার থেকে শিল্প-সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে এখনই নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। তিনি লেখেন, ব্রিটেনের অনেক শিল্পী, সাহিত্যিক এআই-এর অপব্যবহার ঠেকাতে কপিরাইট আইন হালনাগাদ করার দাবি তুলেছেন। ডুয়া লিপা, এলটন জন, ডেভিড হেয়ার, কাজুও ইশিগুরোর মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আমিও একমত। সবশেষে হানিফ সংকেত মন্তব্য করেন, এআই প্রযুক্তি যেন মানুষের অধিকার হরণ না করে, সেটা নিশ্চিত করতে সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর এখনই নীতিমালা করা উচিত।