আত্মার শান্তির গানে ফিরতে চান: প্রীতম

আত্মার শান্তির গানে ফিরতে চান: প্রীতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান নিজের ক্যারিয়ারের শুরুতেই ভিন্নধর্মী সলো প্রোজেক্ট দিয়ে দর্শকদের নজর কাড়েন। ‘জাদুকর’, ‘গার্লফ্রেন্ডের বিয়া’, ‘খোকা’একটির পর একটি গানে তৈরি হয় আলাদা পরিচিতি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি বাড়িয়ে চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকেও নিয়মিত হয়ে ওঠেন তিনি। বিশেষ করে আইটেম গানগুলোতে তার কণ্ঠ বেশ পরিচিত হয়ে ওঠে। তবে এবার সেই ধারা থেকে কিছুটা সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন এই শিল্পী। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে প্রীতম জানান, আপাতত সিনেমার ‘হাইপ তোলা’ ড্যান্স ট্র্যাক থেকে দূরে থাকতে চান তিনি। বৈচিত্র্যময় বা নতুন ধরনের কাজের সুযোগ না এলে এই ঘরানায় আর ফিরবেন না বলেও জানিয়েছেন। প্রীতম বলেন, তিনি আবার ফিরতে চান নিজের আগের সুর-ধারায়। “এখন আমি ‘শরতের শেষ থেকে’, ‘মরে যাক’, ‘খোকা’-এর মতো গানে ফিরে যেতে চাই। যেখানে হয়তো হাইপ কম, কিন্তু আত্মার শান্তি বেশি। তবে চলচ্চিত্রে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই শিল্পী। তিনি বলেন, “সিনেমার গান নিয়ে যারা তাকে সমর্থন করেছেন, এমনকি যারা সমালোচনা করেছেন সবাইকে তিনি ধন্যবাদ জানাতে চান। উল্লেখ্য, এবারের ঈদেও সিনেমার আইটেম গান শোনা গেছে প্রীতমের কণ্ঠ। শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স’ সিনেমার ‘জ্বালা জ্বালা’ গানটিতে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন কিংবদন্তি রুনা লায়লা-র সঙ্গে। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রোজেক্টের পরই আইটেম গান থেকে কিছুটা দূরে সরে আসবেন তিনি।সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রীতম হাসান। সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত সিরিজ ‘ক্যাকটাস’। শিহাব শাহীন পরিচালিত এই সিরিজে একজন হ্যাকারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি, যেখানে তার বিপরীতে রয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী।

আমি ধন্য এই সমর্থনই আমার অনুপ্রেরণা: শাকিব খান

আমি ধন্য এই সমর্থনই আমার অনুপ্রেরণা: শাকিব খান ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের জন্মদিন ছিল গত শনিবার (২৮ মার্চ)। বিশেষ এই দিনে দেশ-বিদেশের অগণিত ভক্ত ও সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে চলা উন্মাদনা ও শুভেচ্ছার জোয়ারে অভিভূত হয়ে এবার এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন এই মেগাস্টার। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভক্তদের উদ্দেশে শাকিব খান লিখেছেন, গতকাল আমার জন্মদিনে দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে আসা অগণিত ভালোবাসা এবং আন্তরিক শুভেচ্ছায় আমি এখনও অভিভূত। আমার পাশে থাকার জন্য এবং এই বিশেষ দিনটি এত উষ্ণতার সাথে উদযাপনের জন্য সকল শুভাকাঙ্ক্ষী ও গণমাধ্যমকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। এই ভালোবাসাই আমার শক্তি, এই সমর্থনই আমার অনুপ্রেরণা। আমি কথা দিচ্ছি, আপনাদের সবসময় আমার সেরাটা দিয়ে যাব। কৃতজ্ঞ, বিনম্র এবং সত্যিই ধন্য। বর্তমানে ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রিন্স’ সিনেমা দিয়ে প্রেক্ষাগৃহে রাজত্ব করছেন শাকিব খান। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই ছবিটি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে ‘প্রিন্স’ নিয়ে আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন চমক নিয়ে হাজির হলেন এই নায়ক। তার নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’ এর ফার্স্ট লুক পোস্টার শেয়ার করেছেন তিনি। এর আগে নির্মাতা পক্ষ থেকে কথা দেওয়া হয়েছিল শাকিবের জন্মদিনেই ছবিটির প্রথম ঝলক প্রকাশ করা হবে। সেই কথা রাখতেই মেগাস্টার নিজে সকালে পোস্টারটি ভক্তদের উপহার দেন। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন শাকিব খান। সেখানে সিনেমার কলাকুশলীদের সঙ্গে নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন তিনি। যেখানে তাকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে।

বিনোদন দুনিয়া থেকে কর্পোরেট জগতে মাধুরী

বিনোদন দুনিয়া থেকে কর্পোরেট জগতে মাধুরী রূপালি পর্দার সাফল্যের পর এবার ব্যবসায়িক জগতে পা রাখলেন অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত। মুম্বাইয়ের একটি প্রিমিয়াম এলাকায় ‘ওয়ান লোধা প্লেস’-এ দীর্ঘমেয়াদি কমার্শিয়াল অফিস স্পেস লিজে নিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, অফিস ইউনিটের আয়তন প্রায় ৭৩১ বর্গফুট এবং সঙ্গে রয়েছে একটি পার্কিং স্পেস। চুক্তিতে স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি সিকিউরিটি ডিপোজিটও জমা রাখা হয়েছে। লিজ চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং প্রাথমিক মাসিক ভাড়া ধরা হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। প্রতি বছর ভাড়া বাড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এই অফিস স্পেসে মাধুরী কর্পোরেট উদ্যোগ, নতুন ব্যবসায়িক প্রজেক্ট বা ব্র্যান্ড সংক্রান্ত কাজ শুরু করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই পদক্ষেপটি তার বিনোদন থেকে ব্যবসা জগতে সম্প্রসারণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পূজা দিতে গিয়ে বিপাকে বিজয়-রাশমিকা

পূজা দিতে গিয়ে বিপাকে বিজয়-রাশমিকা ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে উদয়পুরে রাজকীয় পরিবেশে বিয়ে সম্পন্ন করেছেন বিজয় দেবরকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। বিবাহের পর থেকেই তাঁরা বিভিন্ন ধর্মীয় আচার, মন্দির দর্শন এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। কয়েক দিন আগে থাইল্যান্ড ভ্রমণ শেষ করে দেশে ফেরার পর, বিবাহের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে অনন্তপুরের বিখ্যাত অঞ্জনেয় স্বামী মন্দিরে পূজা দিতে যান তারা। রাশমিকা ঐতিহ্যবাহী কুর্তি ও ডেনিম পরেছিলেন, গলায় মঙ্গলসূত্র, আর বিজয় সাদামাটা পাঞ্জাবি-পাজামায় উপস্থিত হন। মন্দিরে তাঁদের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় ক্রমেই বাড়তে থাকে। উত্তেজিত অনুরাগীরা ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তাদের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করেন, যা পরিস্থিতিকে কিছু সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে ভিড় সামাল দেন। কোনও বড় অঘটন ছাড়াই শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন করেন নবদম্পতি।

হলিউডের ডলবি থিয়েটার থেকে সরে আসছে অস্কার আয়োজন

হলিউডের ডলবি থিয়েটার থেকে সরে আসছে অস্কার আয়োজন বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অস্কার ২০২৯ সাল থেকে আর হলিউডে আয়োজন করা হবে না জানিয়েছে আয়োজক সংস্থা। অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস জানিয়েছে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত হলিউডের ডলবি থিয়েটারে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হবে। এরপর ২০২৯ সাল থেকে এটি লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পিকক থিয়েটারে আয়োজন করা হবে। নতুন ভেন্যু পিকক থিয়েটারটি লা লাইভ কমপ্লেক্সের অংশ, যা ক্রিপ্টো ডটকম অ্যারেনার পাশেই অবস্থিত— এটি এনবিএ দল লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের হোম গ্রাউন্ড। অ্যাকাডেমির প্রধান নির্বাহী বিল ক্রেমার এবং প্রেসিডেন্ট লিনেট হাওয়েল টেইলর জানান, ১০১তম অস্কারসহ ভবিষ্যতের আয়োজনগুলো এলএ লাইভকে কেন্দ্র করে আরও বড় পরিসরে উদযাপন করা হবে। তিনি বলেন, ‘১০১তম অস্কার আসর এবং তার পরবর্তী আয়োজনগুলো সামনে রেখে, আমরা অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস-এর পক্ষ থেকে (মালিক) এইজি-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’ তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো— লা লাইভকে এমন এক আদর্শ মঞ্চে রূপ দেওয়া, যেখানে একদিকে সরাসরি হলে উপস্থিত দর্শকরা অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন, অন্যদিকে বিশ্বের নানা প্রান্তের সিনেমাপ্রেমীরাও এই বৈশ্বিক উদযাপনের অংশ হতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আয়োজকরা এএইজির সঙ্গে ১০ বছরের একটি চুক্তি করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত টেলিভিশন সম্প্রচার থেকে সরে এসে ভবিষ্যতে অনুষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী ইউটিউবের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হবে। উল্লেখ্য, ১৯২৯ সালে প্রথম অস্কারের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত হলিউড রুজভেল্ট হোটেলে। এরপর ১৯৬০-এর দশকের বেশিরভাগ সময় এটি সান্তা মনিকা শহরে আয়োজন করা হয়। ২০০২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ডলবি থিয়েটারে অস্কারের আয়োজন হলেও এবার এ ঠিকানাতেও বদল আনছে অস্কারের আয়োজক সংস্থা।

বনলতা এক্সপ্রেস: শুরুতে ধীরগতির ট্রেন, শেষে আবেগের ঝড়

বনলতা এক্সপ্রেস: শুরুতে ধীরগতির ট্রেন, শেষে আবেগের ঝড় একটা চলচ্চিত্র শেষ হওয়ার পর যখন দর্শকরা দাঁড়িয়ে চোখ মুছতে মুছতে হাততালি দেয়, তখন সেই সিনেমা ভালো না খারাপ এই প্রশ্নটা অনেকটাই ছোট হয়ে যায়। বড় হয়ে ওঠে দর্শকের অনুভূতি, ভালো লাগার স্বার্থকতা। বনলতা এক্সপ্রেস দেখার পর ঠিক এমনই একটা অনুভূতি কাজ করে। গত কয়েক বছরে ঈদের সিনেমা মানেই যেন অ্যাকশন, ক্রাইম, থ্রিলার। মারামারি আর উত্তেজনার ভিড়ে পরিবার নিয়ে বসে দেখার মতো গল্প কিছুটা কম ছিল। সেই জায়গা থেকে গত ঈদে উৎসব দিয়ে আলাদা নজর কাড়েন পরিচালক তানিম নূর। এবার তিনি ফিরেছেন বনলতা এক্সপ্রেস নিয়ে, যেখানে ফ্যামিলি অডিয়েন্সকে আবারও নিয়ে আসা হয়েছে সিনেমা হলে। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্র দেখতে বসে অনেক দিন পর মনে হয়েছে, যেন তাঁর চেনা জগতে আবার ফিরে যাওয়া। এক ধরনের নস্টালজিয়া পুরো সময়জুড়ে কাজ করে। তানিম নূর নিজের নির্মাণশৈলী ধরে রেখেই গল্পটা তুলে ধরেছেন। গল্পের দিক থেকে এটি একেবারেই হুমায়ুনীয়। চঞ্চলতা, আবেগ আর একাধিক চরিত্রের ভেতরে আলাদা আলাদা গল্প। পুরো বিষয়টাই যেন এক যাত্রাপথ, যেখানে একসঙ্গে অনেকগুলো জীবনের টুকরো জুড়ে যায়। চিত্রনাট্যের শুরুটা কিছুটা ধীর। চরিত্রগুলোর সঙ্গে পরিচিত হতে সময় নেয়। কিছু সংলাপ একটু দীর্ঘ মনে হয়, কিছু জায়গায় কাটছাঁট করা যেত। তবে ইন্টারভালের পর গতি বদলে যায়। একে একে চরিত্রগুলোর গল্প খুলতে থাকে, আর দর্শক ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকে যায়। শেষটা এসে বরং মনে হয়, আরও কিছুক্ষণ চলতে পারত। অভিনয়ের জায়গায় সিনেমাটি শক্ত অবস্থানে। মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, আজমেরী হক বাঁধন, সাবিলা নূর, শরিফুল রাজ, শ্যামল মাওলা, জাকিয়া বারী মম একসঙ্গে একটি সমৃদ্ধ কাস্ট তৈরি করেছেন। মোশাররফ করিম এই সিনেমার কেন্দ্রবিন্দু, বরং বলা যায় এই গল্পের মূল চালিকাশক্তি। সাবলীল অভিনয়, নিখুঁত ডায়লগ ডেলিভারি, আবেগের জায়গাগুলোতে দখল, আবার প্রয়োজনমতো হালকা হাস্যরস, ইন্টেন্স মুহূর্ত কিংবা রাগ। সবকিছু তিনি এমনভাবে ক্যারি করেছেন, যা আলাদা করে চোখে পড়ে। শুধু নিজের চরিত্রটাকে জীবন্ত করাই না, অনেক জায়গায় অন্য অভিনেতাদেরও টেনে নিয়ে গেছেন। পুরো সিনেমা জুড়ে তাঁর উপস্থিতি একটা শক্ত ভিত তৈরি করে। অভিনয়ের কথা বলতে গেলে শরিফুল রাজকে নিয়ে একটা আফসোস থেকেই যায়। তিনি ভালো করেন, কিন্তু বারবারই দেখা যায় তাঁর পাশেই কেউ না কেউ আরও বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন। এখানে সেই জায়গাটা দখল করে নিয়েছেন মোশাররফ করিম। রাজ নিজের জায়গায় ঠিকই ছিলেন, কিন্তু আলোটা পুরোপুরি নিজের দিকে টানতে পারেননি। চঞ্চল চৌধুরী যতটুকু সময় পেয়েছেন, নিজের মতোই স্বাভাবিক ছিলেন। তবে একটি জায়গায় মনে হয়েছে, কিছুটা জোর করে নৈতিকতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা এসেছে, যা পরিচালনার সিদ্ধান্ত বলেই মনে হয়। জাকিয়া বারী মম আবেগের জায়গাগুলো সুন্দরভাবে ধরে রেখেছেন। শ্যামল মাওলা, সাবিলা নূর এবং ছোট্ট মেয়েটির অভিনয়ও ভালো লেগেছে। শ্যামল মাওলার ছোট কন্যার চরিত্রে তৃধা পাল মান আলাদা করে নজর কাড়ে। শামীমা নাজনীন চরিত্রে আবেগের সঙ্গে হালকা কমিক রিলিফ এনে দিয়েছেন, যা গল্পের ভারসাম্য ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। আজমেরী হক বাঁধন কম স্ক্রিনটাইম পেয়েছেন। কোথাও কোথাও অভিনয়ে কিছুটা চাপানো অনুভূতি এসেছে। মাশা ইসলামের অভিনয় কিছুটা ওভার মনে হয়েছে। এছাড়া বাকি সবাই নিজ নিজ জায়গায় সাবলীল ছিলেন। পুরো গল্পের লোকেশন মূলত একটি ট্রেন, দুই থেকে তিনটি বগির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবুও একঘেয়েমি আসে না, যা পরিচালনার একটি বড় সাফল্য। মিউজিক এই সিনেমার আলাদা একটি শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। অর্থহীন থেকে শুরু করে আইয়ুব বাচ্চুর গান। যারা বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিক ভালোবাসেন, তাদের জন্য এখানে আলাদা এক আবেগ কাজ করবে। বিশেষ করে প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুর গান অনেকের মধ্যেই নস্টালজিয়ার সঙ্গে আবেগ মিশিয়ে দেবে। এর সঙ্গে অর্ণবের গান যোগ হয়ে একটি ভিন্ন মাত্রা তৈরি করেছে। এছাড়াও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর পুরো গল্পের সঙ্গে সাবলীলভাবে মিশে গেছে। শুরুটা স্লো হলেও ইন্টারভালের পর পুরো সিনেমা এক ধরনের ইমোশনাল জার্নিতে পরিণত হয়। শেষটা রেখে যায় একটা শান্ত, ফিলগুড অনুভূতি। পরিবার নিয়ে বসে দেখার মতো গল্প খুঁজছেন যারা, তাদের জন্য বনলতা এক্সপ্রেস হতে পারে স্বস্তির একটি যাত্রা।

জন্মদিনে শাকিব খানের ‘রকস্টার’ লুক প্রকাশ

জন্মদিনে শাকিব খানের ‘রকস্টার’ লুক প্রকাশ ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খানের জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে তার নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’-এর ফার্স্ট লুক। আজ বেলা ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত হয় পোস্টাৃরটি। নতুন লুকে একেবারে ভিন্ন রূপে দেখা গেছে শাকিব খানকে। কালো সানগ্লাস, ক্যাজুয়াল পোশাক ও স্নিকার্স পরিহিত অবস্থায় রাস্তায় বসে থাকা এই চরিত্রে তার শরীরজুড়ে ট্যাটুর উপস্থিতি নজর কেড়েছে সবার। পোস্টারের পেছনে বড় করে লেখা ‘রকস্টার’ নামটিও ভক্তদের কৌতূহল আরও বাড়িয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টারটির মন্তব্যঘরে ভক্তরা শাকিব খানের নতুন লুকের প্রশংসা করার পাশাপাশি জানিয়েছেন জন্মদিনের শুভেচ্ছা। জানা গেছে, নির্মাতা আজমান রুশোর পরিচালনায় সিনেমাটির শুটিং ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ায় শুরু হয়েছে। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিতে শাকিব খানকে এক আধুনিক ও ট্রেন্ডি রক সংগীতশিল্পীর চরিত্রে দেখা যাবে, যিনি নিজেই গান লেখেন ও সুর করেন। আজমান রুশোর গল্পে সিনেমাটির চিত্রনাট্য করেছেন নুসরাত মাটি। সংলাপ লিখেছেন আয়মান আসিব স্বাধীন ও সামিউল ভূঁইয়া। ছবিটি প্রযোজনা করছে সান কমিউনিকেশন।

শেষ হলো হানিয়া-বিলালের ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’

শেষ হলো হানিয়া-বিলালের ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ বর্তমান সময়ের পাকিস্তানি ড্রামা ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম তারকা জুটি হানিয়া আমির-বিলাল আব্বাস খান। ললিউডের এ তারকা জুটির ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’র যাত্রা শেষ হলো। দীর্ঘ চার মাসের সফল প্রচারণার পর গত ২২ মার্চ মুক্তি পেয়েছে নাটকটির অন্তিম পর্ব। ৩৪ পর্বের এই মেগা হিট সিরিজটি বিদায়বেলায় দর্শক হৃদয়ে বড় এক শূন্যতা রেখে গেছে। নাটকটিতে ‘ডা. আয়রা’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন জনপ্রিয় হানিয়া আমির। কাজ শেষ করার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্ট করেছেন তিনি। শুটিং সেটের পর্দার পেছনের কিছু অদেখা মুহূর্ত শেয়ার করে হানিয়া লিখেছেন, ‘সফর কঠিন ছিল, কিন্তু গন্তব্য প্রিয়। বিদায়, প্রিয়রা।’ তার এমন বিদায়ী বার্তায় মন্তব্য ঘরে আবেগ ধরে রাখতে পারছেন না ভক্তরা। ২০২৫ সালের শেষদিকে শুরু হওয়া এই নাটকে হানিয়ার বিপরীতে ‘কামইয়ার’ চরিত্রে দেখা গেছে বিলাল আব্বাস খানকে। রাদান শাহ-এর দুর্দান্ত চিত্রনাট্য এবং মুসাদ্দিক মালেকের সুনিপুণ পরিচালনায় নাটকটি শুধু পাকিস্তানেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। নাটকটির সফলতায় বড় ভূমিকা রেখেছে এর টাইটেল ট্র্যাক বা ওএসটি। অসীম আজহার ও সাবরি সিস্টার্সের কণ্ঠে গাওয়া গানটি মাসজুড়েই ছিল মিউজিক চার্টের শীর্ষে। হানিয়া আমির ও বিলাল আব্বাস ছাড়াও এই সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আলি রেহমান খান, আলী খান, জাভেরিয়া আব্বাসি এবং ওয়ার্দা আজিজ। বর্তমানে নাটকের সবকটি পর্ব ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

৭ দিনে ৫০০ কোটির ক্লাবে ‘ধুরন্ধর ২’, বক্স অফিসে তাণ্ডব

৭ দিনে ৫০০ কোটির ক্লাবে ‘ধুরন্ধর ২’, বক্স অফিসে তাণ্ডব বলিউডের বক্স অফিসে বর্তমানে রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছে রণবীর সিং অভিনীত স্পাই অ্যাকশন ড্রামা ‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’। আদিত্য ধর পরিচালিত এই সিনেমাটি একের পর এক পুরোনো রেকর্ড ভেঙে বক্স অফিসে সাফল্যের নতুন মানদণ্ড তৈরি করছে। মুক্তির মাত্র সপ্তম দিনে অর্থাৎ গতকাল ৪০ কোটি রুপি আয়ের মাধ্যমে সিনেমাটির মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৫২৬ কোটি টাকা (নেট)। এর ফলে হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে ৫০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশের অনন্য নজির গড়ল ‘ধুরন্ধর ২’। যদিও এই অভাবনীয় অর্জনে সিনেমাটির ‘পেইড প্রিভিউ’ বা আগাম প্রদর্শনীর বড় ভূমিকা ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে হিন্দি সংস্করণে দ্রুততম ৫০০ কোটি ছোঁয়ার রেকর্ডটি ছিল আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’-এর দখলে, যা এই মাইলফলক স্পর্শ করতে ১১ দিন সময় নিয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিরিজের প্রথম কিস্তি ‘ধুরন্ধর’ ১৭ দিনে এই রেকর্ড গড়েছিল। জাওয়ান, স্ত্রী ২ কিংবা গদর ২-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমাগুলোকেও এখন আয়ের দৌড়ে পেছনে ফেলে দিয়েছে রণবীরের এই নতুন সিনেমাটি। বর্তমান ধারা বজায় থাকলে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই এটি জাওয়ান এবং ছাভার জীবনকালীন আয়কে ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, সিনেমাটি এখন খুব দ্রুত ৬০০ কোটি ক্লাবের দিকে এগোচ্ছে এবং আগামী রবিবারের মধ্যে এর মোট সংগ্রহ ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। অ্যানিম্যাল কিংবা পাঠানের মতো সিনেমাগুলোকে এরই মধ্যে টপকে যাওয়া ‘ধুরন্ধর ২’ এখন বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সফল স্পাই থ্রিলার হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করে নিয়েছে। বক্স অফিসের এই জয়জয়কার রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ারে এক নতুন উচ্চতা যোগ করল।

প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন মালাইকা, জানালেন সম্পর্কে জড়ানোর ‘শর্ত’

প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন মালাইকা, জানালেন সম্পর্কে জড়ানোর ‘শর্ত’ বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা অরোরার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা যেন থামছেই না। কখনো অর্জুন কাপুরের সঙ্গে বিচ্ছেদ, আবার কখনো কোনো ‘রহস্যময়’ পুরুষের সঙ্গে নাম জড়িয়ে প্রতিনিয়তই খবরের শিরোনাম হচ্ছেন তিনি। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি ‘কার্লি টেলস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই নিরন্তর গুঞ্জনকে ‘বিরক্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন মালাইকা। তিনি জানান, আগে এসব বিষয়ে মেজাজ হারালেও এখন তিনি এবং তার ছেলে আরহান খান এসব খবর পড়ে একসঙ্গে হাসাহাসি করেন। কারও সঙ্গে নাম জড়ালে তা এখন তাদের কাছে স্রেফ একটি কৌতুক ছাড়া আর কিছু নয়। সম্প্রতি ‘স্প্লিটসভিল্লা এক্সসিক্স’ খ্যাত সোরাব বেদীর সঙ্গে একটি পার্টির ছবি ভাইরাল হওয়ার পর মালাইকার নতুন প্রেমের গুঞ্জন তুঙ্গে ওঠে। এ প্রসঙ্গে মালাইকা স্পষ্ট জানান, তিনি বর্তমানে তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দারুণভাবে উপভোগ করছেন এবং নতুন করে কোনো সঙ্গী খোঁজার জন্য মরিয়া নন। মালাইকার ভাষ্যমতে, সঙ্গী বা সাহচর্য অবশ্যই সুন্দর, কিন্তু আমি সক্রিয়ভাবে কাউকে খুঁজছি না। আমি একজন স্বনির্ভর নারী হিসেবে গর্বিত এবং নিজেকে পূর্ণতা দিতে আমার কোনো পুরুষের প্রয়োজন নেই। তিনি আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে যদি কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে হয়, তবে সেটি হবে সম্পূর্ণ তার নিজের শর্তে। দীর্ঘ দুই দশক আরবাজ খানের সঙ্গে সংসার করার পর ২০১৭ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০১৮ সাল থেকে অর্জুন কাপুরের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কে থাকলেও ২০২৪ সালে তাদের পথ আলাদা হয়ে যায়। বারবার বিভিন্ন বন্ধুর সঙ্গে নাম জড়ানো নিয়ে মালাইকা রসিকতা করে বলেন, এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে কোনো দীর্ঘদিনের বন্ধু, বিবাহিত সহকর্মী বা ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা গেলেও তাকে ‘প্রেমিক’ বানিয়ে দেওয়া হয়। পেশাদার জীবনেও মালাইকা বর্তমানে বেশ সফল সময় পার করছেন। গত বছর ‘থাম্মা’ ছবিতে রাশমিকা মান্দানার সঙ্গে তার ‘পয়জন বেবি’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি লেখক হিসেবেও তিনি আত্মপ্রকাশ করেছেন তার নতুন বই ‘ইটস ইজি টু বি হেলদি’-র মাধ্যমে।