‘রাক্ষস আবার হতে হবে’

‘রাক্ষস আবার হতে হবে’ ঈদুল ফিতরের আমেজ আর প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় সব মিলিয়ে দেশের সিনেমা অঙ্গনে এখন উৎসবের হাওয়া। এই খুশির জোয়ারে শামিল হয়েছেন চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদও। ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পেয়েছে তার বহুল প্রতিক্ষীত সিনেমা ‘রাক্ষস’। সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ এবং প্রথম দিনের অভাবনীয় প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা। এক সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সিয়াম আহমেদ বলেন, ‘আমরা এই দিনটার জন্য ওয়েট করি কারণ সিনেমা অডিয়েন্সের জন্য বানানো। অডিয়েন্সের ভালো লাগা, অডিয়েন্সের যত ধরনের রিঅ্যাকশন এটাই হচ্ছে আমাদের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। সো ইটস আ ফ্যান্টাস্টিক ডে ফর আস যে আমরা যে রাক্ষসটা যেটা ভেবে বানাচ্ছিলাম, অডিয়েন্স আসলে সেটার সাথে রিলেট করতে পারছেন।’ সিনেমাটি নিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে সিয়াম বলেন, ‘আমি বারবার বলছিলাম যে এটি শুধু আরেকটি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নয়, এটি হতে চলেছে একটি নতুন মানদণ্ড, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের জন্য একটি নতুন সূচনা। সো আলহামদুলিল্লাহ ইটস হ্যাপেনিং। এতদিন তো আমরা জিনিসটা জানতাম, আমাদের মাঝখানে ছিল। বাট আজকে থেকে রাক্ষস আপনাদের হয়ে গেছে। অ্যান্ড থ্যাংক ইউ সো মাচ ফর লাভিং রাক্ষস অন দ্য ফার্স্ট ডে।’ তার কথায়, ‘কারণ যারা প্রথম দিন এসেছেন, তারা কিন্তু কোন ধরনের রিভিউ ছাড়া, রিঅ্যাকশন ছাড়া এসেছেন। তার মানে ইউ হ্যাড দ্যাট কনফিডেন্স ইন রাক্ষস। সো ইনশাআল্লাহ আপনাদের এই কনফিডেন্স থাকলে আমার মনে হয় যে আমাদের এই টিম আপনাদেরকে সামনে ইনশাআল্লাহ আরো বেটার কিছু দেওয়ার চেষ্টা করবে। বাট থ্যাংক ইউ সো মাচ ফর দ্য ফার্স্ট ডে রিঅ্যাকশন।’ শুটিং সেটের পরিবেশ এবং টিমের সাথে সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে সিয়ামের ভাষ্য, ‘আমার টিমের মানুষজন, দ্য হোল এনভায়রনমেন্ট দ্যাট ওয়াজ সো সাপোর্টিভ। উই অলওয়েজ হ্যাড আ ভেরি হেলদি এনভায়রনমেন্ট। এখানে আসলে আমার রাক্ষস হয়ে থাকার কোন মানে হয় না। তবে ইনশাআল্লাহ রাক্ষস আবার হতে হবে যখন মেহেদী হাসান হৃদয়ের গল্প সেই রাক্ষসকে ডিমান্ড করবে, রিয়েল এনার্জি আবার যখন রাক্ষসকে ডিমান্ড করবে ইনশাআল্লাহ তখন আমরা আবার রাক্ষস হব।’ ‘ততক্ষণ পর্যন্ত আই অ্যাম দ্যাট ওল্ড সিয়াম। তো আমাদের কাজ করতে করতে আমরা এতটা বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছি ইনফ্যাক্ট এই যে ফিল্ম রিলিজ করতে গিয়েও হচ্ছি। তাতে আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের সম্পর্কগুলো আসলে প্রডিউসার-অ্যাক্টরের বাইরে চলে গেছে। নাউ উই আর আ বিগ ফ্যামিলি অ্যান্ড দিস ফ্যামিলি ইজ কমিটেড টু গিভ ইউ দ্য ভেরি বেস্ট ইন বাংলাদেশি কমার্শিয়াল ফিল্ম মার্কেট ইনশাআল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘যে পাইরেটেড কোনো কপি দেখবেন আসলে তিনি কখনোই চান না যে বাংলাদেশের ফিল্ম অথবা কোনো ফিল্ম ভালো করুক। তো এটা সবসময় তো আমরা বলি, এখন যাকে সারা জীবন বলবো এটা বলে মাঝে মাঝে লাভও হয় না, আপনারাও জানেন। স্কুল লাইফ থেকে যদি কেউ শিখাতে না পারে, আজকের আমাদের এই স্টেটমেন্ট তাকে কিছু শেখাবে না। তো এটা তাদের থেকে বেশি রেসপন্সিবল আসলে আমাদের অডিয়েন্স যারা দেখেন, যারা সিনেমাকে ধারণ করেন, যারা চান যে বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ভালো কিছু হোক।’ সবশেষে নিজের পরিবার ও দর্শকদের দোয়ার কথা স্মরণ করে সিয়াম বলেন, ‘টেনশনে থাকি, তো এবার আব্বা-আম্মার দোয়া, আব্বা-আম্মার ভালোবাসাটাও একটু বেশি থাকে। লাস্ট ইয়ারের ‘জংলি’র জন্য ছিল, ‘তাণ্ডব’-এর কথা তাদেরকে জানাইনি বিকজ ইট ওয়াজ আ সারপ্রাইজ। আর এইবার তারা ‘রাক্ষস’ নিয়ে তো দেখছেন যে আমরা কী চেষ্টা করেছি। সো বাবা-মার সাথে, আমার সন্তানের সাথে, আমার ওয়াইফের সাথে এই ছোট্ট পরিবার নিয়ে আমাদের শুরু হয়েছে। আর এখন আলহামদুলিল্লাহ এখন বড় পরিবারের কাছে এসেছি, দর্শকদেরকে দেখব আমরা।’
‘আমি দমদার অ্যাকশন ফিল্ম করবো’

‘আমি দমদার অ্যাকশন ফিল্ম করবো’ ঈদুল ফিতর মানেই বড় পর্দায় নতুন চমক, আর বর্তমান সময়ে সেই চমকের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আফরান নিশো। ‘সুড়ঙ্গ’ দিয়ে বড় পর্দায় রাজকীয় অভিষেকের পর এবারের ঈদে নিশো হাজির হয়েছেন ‘দম’ নিয়ে। রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম: আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ’ সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে, প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরীর একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা এই সিনেমাকে নিয়ে গেছে অন্য উচ্চতায়। কাজাখস্তানের হাড়কাঁপানো শীত থেকে পাবনার মেঠোপথ ‘শাহজাহান ইসলাম নূর’ চরিত্রের মধ্য দিয়ে একজন সাধারণ মানুষের অসাধারণ টিকে থাকার লড়াই বা সারভাইভাল ড্রামা ফুটিয়ে তুলেছেন নিশো। তবে কেবল অভিনয় নয়, দেশের সিনেমার অ্যাকশন ঘরানা নিয়েও নিজের স্পষ্ট দর্শনের কথা জানিয়েছেন এই অভিনেতা। প্রচলিত ধারার মারপিট বা অ্যাকশন নিয়ে নিজের অনীহার কথা লুকিয়ে রাখেননি নিশো। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বাংলা অ্যাকশন কি কম ফাটাফাটি হইতে পারে নাকি? কিন্তু এই যে কিছু কনভেনশনাল ওয়েতে করা অ্যাকশন আমার কাছে খুব বোরিং লাগে। ভালো লাগে না। আর এগুলো আমি বললেও অনেক সময় হয় কি আমি একটা কথা বললাম সেটা আরেকজনের উপর নিয়ে ফেলে নেয়। উনি কি বললেন উনাকে নিয়ে আমি কাউকে নিয়ে বলি না। যার যার পারপাস শেষে ডান করবে। একেকজনের সমসাময়িক সময় আমাকে অনেকের সাথে মিলানো হয়। অনেকের সাথে প্রতিযোগী হিসেবে দেখানো হয়। আমি কারো প্রতিযোগী না।’ তার কথায়, ‘অবশ্যই যোগ্য মানুষের সাথে আমার কম্পারিজন করলে আইশুড এনজয় দশট শুডবি। আমি বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আমি খুবই নিউ কামার আমার সবে মাত্র তিন নাম্বার ছবি রিলিজ হলো হ্যা এখনো অনেকদিন বাকি তবে হ্যাঁ নাটকের সুবাদে আমি অভিনয়ের সাথে সম্পৃক্ত আছি অনেকদিন ধরে এজন্য অনেক কিছু শিখতে পারছি। তো আমার কাছে মনে হয় যে আমার ফিল্ম নিয়ে আমার একটা ইমপ্রেশন আছে একটা ভিশন আছে আমি ওরকম দেখতে চাই। তো এমন কোন কিছু করতে চাই না যেটা আমার না এক আবার এমন কোন কিছু করতে চাই না যেটা লাস্ট করবে না।’ নতুন প্রজন্মের জন্য উদাহরণ তৈরি করতে চান নিশো। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এমন অ্যাকশন ফিল্ম করতে চান যা দেখে মনে হবে এটি খাঁটি বাংলাদেশি সিনেমা। তিনি বলেন, ‘সো ওইটার মধ্যেও কষ্টটা আপনাদের রিফ্লেক্ট করবে। আমি কথা দিচ্ছি আমি একশন করলেও সেটার মধ্যে আপনারা দেখবেন ওইটার মধ্যে অন্য এফর্ট আছে। সেটা শারীরিক কষ্ট হোক, শারীরিক শ্রম হোক। এরকম আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে দেখে মনে হবে এটা বাংলাদেশি সিনেমা। অ্যাকশন ওরিয়েন্টেড যে সিনেমা এটা আমাদের বাংলাদেশের সিনেমা মনে হতে হবে। বাংলাদেশি হ্যা বাংলাঅকশন কি কম ফাটাফাটি হইতে পারে নাকি এটা তো এমন না কিন্তু এই যে কিছু কনভেনশনাল ওয়েতে করা অকশন আমার কাছে খুব বোরিং লাগে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এজ এ অডিয়েন্স আমার কাছে খুবই ভালো লাগে না হতে পারে একটা ট্রেন্ডি বা একটা ফর্মে এটা আমার ব্যক্তিগত পছন্দ হয়তোবা পূজার সেটা নাও একমত হতে পারে হয়তোবা রনি সেটার একমত না হতে পারে কিন্তু আমার দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমি বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি অর মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির একজন মানুষ হিসেবে আমারও কিছু ব্যক্তিগত ইচ্ছা আছে সেই ইচ্ছার উপরেই কাজ করে আমার পরপর এই তিনটা সিনেমা এরকম আসা।’ নিশোর ভাষ্যে, ‘আমি অবশ্যই একশন করব একশনকে আমি ছোটবেলা থেকে একশন সিনেমা দেখে বড় হইছি বিশেষ করে যুদ্ধের সিনেমা দেখে তো এখন সাপোজ ধরেন যে একটা যুদ্ধের সিনেমা হার্ডকোর যুদ্ধ হচ্ছে সেটা তো একশন এটা তো অভিয়াস না যে মানে আমাকেই তুলে নিতে হবে একটা গান সেটা দিয়ে পৃথিবী উজার করে গুলি করব আমি এরকম তো না বিষয়টা এরকম না তো উজার করে গুলি করব পৃথিবী উজার করে আমার কাছে অনেক সময় এগুলা করো একটা স্বপ্নের দৃশ্য থাকুক স্বপ্নদৃশ্য কর অবশ্যই অবশ্যই আমি প্লান করে ফেলছি আমার তো প্লান অনেক আগের থেকে হয়তোবা আপনাদেরকে জানাই না লুকিং ফরওয়ার্ড ঈদ ছাড়াও সিনেমা করা হবে।’
রণবীরের সাফল্যে দীপিকার ‘নীরবতা’, সমালোচনার মুখে অভিনেত্রী

রণবীরের সাফল্যে দীপিকার ‘নীরবতা’, সমালোচনার মুখে অভিনেত্রী রণবীর সিংয়ের নতুন ছবি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। প্রথম সপ্তাহের শেষে বিশ্বজুড়ে ৫০০ কোটি রুপির ব্যবসা করে ছবিটি যখন সাফল্যের শিখরে, ঠিক তখনই আলোচনায় উঠে এসেছে একটি অপ্রত্যাশিত বিষয়—দীপিকা পাডুকোনের নীরবতা। স্বামীর এমন বিশাল সাফল্যে দীপিকা কেন কোনো ইনস্টাগ্রাম পোস্ট বা স্টোরি শেয়ার করলেন না, এমনকি রণবীরের পোস্টে একটা ‘লাইক’ পর্যন্ত দিলেন না—এই নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল ট্রোলিং। সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশ ও ‘অনলাইন সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা’ দাবি করছেন, এই নীরবতা আসলে বিপদের সংকেত। তাদের মতে, তারকা দম্পতির সম্পর্কে হয়তো ফাটল ধরেছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। রণবীরের অভিনয় যখন এসএস রাজামৌলির মতো নির্মাতারাও প্রশংসা করছেন, তখন দীপিকার প্রিমিয়ারে না যাওয়া বা পোস্ট না করাটাকেই অনেকে ‘উদাসীনতা’ হিসেবে দেখছেন। এদিকে দীপিকার ভক্তদের মতে, ভালোবাসা মানেই পাবলিক পোস্ট করা নয়। এর আগেও দীপিকা রণবীরের বিভিন্ন কাজে (যেমন: ‘৮৩’ বা ‘রকি অউর রানি’) পাশে থেকেছেন। ২০১৮ সালে বিয়ের পর থেকেই তিনি রণবীরের চড়াই-উতরাইয়ের সঙ্গী। ইন্ডাস্ট্রি যখন রণবীরকে পুরোপুরি গ্রহণ করেনি, দীপিকা তখনও তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন। মজার বিষয় হলো, রণবীর সিং যখন দীপিকার কোনো প্রজেক্ট নিয়ে পোস্ট করেন না, তখন তাকে নিয়ে তেমন সমালোচনা হয় না। কিন্তু দীপিকার ক্ষেত্রে নিয়মটা যেন আলাদা। দীপিকা বরাবরই মানসিক স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে সোচ্চার। অথচ আজ সেই গোপনীয়তা বজায় রাখতেই তাকে ডিজিটাল কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। বলিউড মানেই চাকচিক্য আর প্রচার। কিন্তু ডিজিটাল এই যুগে আমরা হয়তো ভুলে যাচ্ছি যে, সাফল্যের উদ্যাপন ব্যক্তিগতভাবেও হতে পারে। এক টেবিলে বসে খাবার খাওয়া বা ফোনে অভিনন্দন জানানোটাও ভালোবাসার অংশ হতে পারে। দীপিকা ও রণবীরের দাম্পত্য জীবন তাদের ব্যক্তিগত বিষয়, এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘লাইক’ না দেওয়া মানেই সম্পর্কে ফাটল নয়—বরং এটি হতে পারে সুস্থ ব্যক্তিগত জীবনেরই প্রতিফলন। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
শাকিবের ‘প্রিন্স’ কত আয় করল

শাকিবের ‘প্রিন্স’ কত আয় করল চারদিকে বইছে ঈদ উৎসবের আমেজ, আর সেই আমেজে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’। নব্বই দশকের আলোচিত আন্ডারওয়ার্ল্ড ফিগার কালা জাহাঙ্গীরের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি নিয়ে মুক্তির আগে থেকেই দর্শকদের মাঝে ছিল তুঙ্গে থাকা কৌতূহল। বিএমআরের দেওয়া তথ্যমতে, দেশের জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সে শো না থাকলেও ই-টিকেটিং সুবিধা সম্বলিত অন্যান্য প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি ভালোই সূচনা করেছে। প্রথম দিনেই ডাবল ডিজিট কালেকশন তুলে নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ‘প্রিন্স’। প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, গতকাল লায়ন সিনেমাস (৫টি শো), গ্র্যান্ড সিলেট মুভি থিয়েটার (২টি শো), মন ইন (৪টি শো), মনিহার সিনেপ্লেক্স (৪টি শো), মধুবন সিনেপ্লেক্স (৪টি শো), শ্যামলী (৪টি শো), সিনেস্কোপ (৪টি শো) এবং গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্স (৪টি শো) মিলিয়ে সিনেমাটির মোট ৩১টি শো প্রদর্শিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি শো’র মধ্যে ২৬টি শো-ই ছিল পুরোপুরি ‘হাউজফুল’। এছাড়া একটি শো ছিল অলমোস্ট ফুল। দিন শেষে সিনেমাটির মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬.১৯ লাখ টাকা। শিরিন সুলতানা প্রযোজিত এই সিনেমাটি কেবল মারপিট বা অ্যাকশন নির্ভর নয় বরং মেজবাহ উদ্দিন সুমনের চিত্রনাট্যে এটি তৎকালীন ঢাকার রাজনীতি ও অপরাধ জগতের এক গভীর আখ্যান হিসেবে ফুটে উঠেছে। শাকিব খান তার চেনা ছক ভেঙে কালা জাহাঙ্গীর চরিত্রে অভিনয় করে ক্যারিয়ারে নতুন এক মোড় নিয়েছেন। বৈচিত্র্যময় লোকেশনে চিত্রায়িত এই সিনেমায় শাকিবের বিপরীতে দেখা গেছে তসনিয়া ফারিণকে। ওপার বাংলার জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর পাশাপাশি এতে আরও অভিনয় করেছেন ইন্তেখাব দিনার, রাশেদ মামুন অপু ও ড. এজাজের মতো শক্তিমান অভিনেতারা।
দর্শকদের প্রশংসায় ভাসছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’

দর্শকদের প্রশংসায় ভাসছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এবারের ঈদুল ফিতরে দেশের সিনেমা অঙ্গনে বইছে উৎসবের হাওয়া। প্রতি বছরের মতো এবারও দর্শকদের ঢল নেমেছে প্রেক্ষাগৃহে। তবে এবারের সমীকরণটা একটু ভিন্ন। কেবল তারকাখ্যাতি নয়, গল্পের শক্তিতেই সিনেমা বাছাই করছেন দর্শকরা। ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত পাঁচটি সিনেমা- ‘প্রিন্স’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’ ও ‘প্রেশার কুকার’ নিয়ে এখন মুখরিত সিনেমা পাড়া। তবে এই পাঁচের ভিড়ে দর্শকদের বিশেষ আগ্রহ ও প্রশংসায় ভাসছে পরিচালক তানিম নূরের সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই সিনেমাপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনেমাপ্রেমীরা এ সিনেমার বেশ প্রশংসা করছেন। হুমায়ূন আহমেদের গল্পের এক অদ্ভুত জাদু থাকে, যেখানে মানুষের সূক্ষ্ম অনুভূতি এবং নিঃশব্দ যন্ত্রণাগুলো খুব সহজেই দর্শকের হৃদয়ে গেঁথে যায়। সেই চিরচেনা জাদুকে সেলুলয়েডে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তানিম নূর। পরিচালক জানিয়েছেন, তিনি ২০০৭ সালের সেই প্রেক্ষাপটকে বজায় রেখেই সিনেমার ভিজ্যুয়াল বয়ান তৈরি করেছেন। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মূলত একটি ট্রেন যাত্রাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। এই সিনেমার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর কাস্টিং। বর্তমান সময়ের দুই শক্তিমান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও মোশাররফ করিমকে একসাথে পর্দায় দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা, যা এবারের ঈদের সবচেয়ে বড় উপহারগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় আরও রয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম এবং শরীফুল রাজের মতো তারকারা। তাদের নিপুণ অভিনয় চরিত্রগুলোকে প্রাণদান করেছে। ট্রেনের সেই চিরচেনা নস্টালজিয়া আর গভীর মানবিক সম্পর্কগুলো নিয়ে নির্মিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দর্শকদের এক অন্য জগতে নিয়ে যাচ্ছে। প্রেক্ষাগৃহ থেকে বের হওয়া দর্শকদের মতে, নিটোল গল্প আর শক্তিশালী অভিনয়ের সংমিশ্রণে এটি এই ঈদের অন্যতম সেরা নির্মাণ।
ভারতে নিষিদ্ধের মুখে নোরার নতুন গান

ভারতে নিষিদ্ধের মুখে নোরার নতুন গান ভারতে নিষিদ্ধের মুখে পড়েছে ‘সরকে চুনর তেরি সরকে’ গানটি। এতে অভিনয় করেছেন বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি ও সঞ্জয় দত্ত। শুরু থেকেই গানটি ঘিরে বিতর্ক চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে গড়ায়। জানা গেছে, ‘কেডি : দ্য ডেভিল’ সিনেমার এই গানটির কথা ও দৃশ্যায়ন নিয়ে দর্শকদের একাংশের তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখনই এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন নোরা ফাতেহি। তিনি দাবি করেন, গানটির হিন্দি সংস্করণ সম্পর্কে আগে থেকে তার কোনো ধারণা ছিল না। নোরার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে তিনি কন্নড় ভাষার একটি গান ‘সারসি নিন্না’-এর জন্য শুটিং করেছিলেন। বড় বাজেট ও সহশিল্পী হিসেবে সঞ্জয় দত্ত থাকায় কাজটি করতে রাজি হন তিনি। তবে পরে সেই গানই ‘সরকে চুনর’ নামে হিন্দিতে প্রকাশ পাবে এবং এর লিরিকস নিয়ে বিতর্ক তৈরি হবে এটি তার জানা ছিল না। তিনি বলেন, ‘গানটির উপস্থাপন ও কথার কারণে এত বড় বিতর্ক তৈরি হবে, তা ভাবিনি। আমি চাই না কেউ মনে করুক, আমি কুরুচিপূর্ণ বা বিতর্কিত বিষয়কে সমর্থন করি। জনরোষের মুখে নির্মাতারা গানটি বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। এ অবস্থায় ভক্তদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে নোরা বলেন, ‘গানের আসল প্রেক্ষাপট বুঝুন। ভুল-বোঝাবুঝি এড়িয়ে চলুন এবং দয়া করে গানটি আর শেয়ার করবেন না।’ যদিও নোরার এই ব্যাখ্যা কিছুটা বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করেছে, তবু গানটি নিয়ে সমালোচনার রেশ এখনো কাটেনি।
বিশেষ অতিথির জন্য যে আয়োজন করল বিজয়-রাশমিকা

বিশেষ অতিথির জন্য যে আয়োজন করল বিজয়-রাশমিকা দক্ষিণী মেগাস্টার বিজয় দেবরকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার বিয়ের রেশ এখনো কাটেনি। রাজস্থানের উদয়পুরে রাজকীয় বিয়ে আর হায়দরাবাদের জমকালো রিসেপশনের পর এবার নিজেদের বাড়িতে এক ‘বিশেষ’ অতিথির জন্য এলাহি আয়োজন করে আলোচনায় এই তারকা দম্পতি। তবে এই বিশেষ অতিথি বিনোদন জগতের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি নন, বরং এক একরত্তি খুদে ভক্ত। মাসখানেক আগেই পরিবারের উপস্থিতিতে চার হাত এক হয়েছে বিজয়-রাশমিকা। তাদের বিয়ের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই খুশিতে ভাসছেন অনুরাগীরা। কিন্তু একরত্তি সেই খুদে ভক্তের মনে ছিল বিষাদ। প্রিয় তারকাদের বিয়ের খবর যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না সে। ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল তার কান্নার দৃশ্য। সেই খুদে অনুরাগীর মান ভাঙাতেই এবার অভিনব উদ্যোগ নিলেন নবদম্পতি। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বিজয়ের হায়দরাবাদের বাসভবনে সেই ছোট্ট ভক্তকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তারা। সেখানে তার সঙ্গে খুনসুটিতে মেতেছেন রাশমিকা। কখনো বিজয় তাকে কোলে নিয়ে পুরো বাড়ি ঘুরে দেখাচ্ছেন, আবার কখনো তার পাতে তুলে দিচ্ছেন লাড্ডু ও পোলাওয়ের মতো সুস্বাদু সব খাবার। শুধু আপ্যায়নই নয়, খুদে অতিথিকে স্নেহের চুম্বনেও ভরিয়ে দিয়েছেন এই তারকা জুটি। বিজয়-রাশমিকার এমন মানবিক ও অমায়িক আচরণ ভক্তদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। একজন জনপ্রিয় তারকা হয়েও সাধারণ এক ভক্তের আবেগ মূল্যায়ন করে তাকে নিজেদের ঘরে আপ্যায়ন করার বিষয়টি এখন নেটদুনিয়ায় টক অব দ্য টাউন।
ঈদে নচিকেতার নতুন গান ‘ভালো থেকো’

ঈদে নচিকেতার নতুন গান ‘ভালো থেকো’ ঈদের আনন্দে শ্রোতাদের বাড়তি বিনোদন দিতে প্রতিবারের মতো এবারও গান নিয়ে হাজির হচ্ছেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় শিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী। কবির বকুলের কথায় এবং বেলাল খানের সুরে ‘ভালো থেকো’ শিরোনামের এই গানটি শ্রোতাদের ঈদ আয়োজনে যোগ করবে ভিন্ন মাত্রা। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন শোভন রায়। নচিকেতা জানান, বাংলাদেশে অনেক সুরকারের সঙ্গেই কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার, তবে এই গানটির সুরে তিনি বিশেষ এক আমেজ পেয়েছেন। তার বিশ্বাস, গানটির কথা ও সুর শ্রোতাদের মনের তালিকায় জায়গা করে নেবে। সুরকার বেলাল খান বলেন, নচিকেতা চক্রবর্তী দুই বাংলাতেই সমান জনপ্রিয়। বর্তমান প্রজন্মের (জেন-জি) শ্রোতারাও তার গানের মাঝে নিজেদের খুঁজে পান। এমন একজন কিংবদন্তি শিল্পীর জন্য সুর করা আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। গানটির মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করেছেন চন্দন রায় চৌধুরী। ভিডিওতে অভিনয় করেছেন তাপস রায় চৌধুরী ও প্রথমা দাস। নির্মাতা জানান, গানের কথার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি মানসম্মত ভিডিও নির্মাণ করা হয়েছে, যা দর্শকদের হতাশ করবে না।
‘বিলেত রাজা’তে ঝড় তুললেন সিয়াম

‘বিলেত রাজা’তে ঝড় তুললেন সিয়াম ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান বরাবরই পর্দায় নতুনত্বের ছাপ রেখে চলেছেন। তবে এবার যেন তাকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন এই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা সিয়াম আহমেদ। আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘রাক্ষস’ সিনেমার আইটেম গান ‘বিলেত রাজা’ প্রকাশ হতেই সিয়ামের নতুন রূপ দেখে তাজ্জব বনে গেছেন দর্শকরা। ‘বিলেত রাজা’ গানে সিয়াম আহমেদ এবং আন্তর্জাতিক মডেল নাতালিয়া জানোশেক এক প্রাণবন্ত এবং সাহসী পারফরম্যান্সে ড্যান্স ফ্লোর মাতিয়েছেন। সিয়ামের গ্ল্যামারাস লুক এবং নাতালিয়ার আবেদনময়ী উপস্থিতি গানটিতে যোগ করেছে বাড়তি উন্মাদনা। পুরো ট্র্যাকটির মিক্স ও মাস্টারিংয়ের দায়িত্বে ছিল বুকশেলফ স্টুডিওস। রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশনের পরিবেশনায় গানটি মুক্তির পর থেকেই সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার ‘রাক্ষস’ সিনেমায় সিয়ামের এমন ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ ড্যান্স অবতার ভক্তদের জন্য এবারের ঈদে সেরা উপহার হতে যাচ্ছে।
বলিউড অভিষেকেই ট্রেন্ডিংয়ে ঢাকার আরিফিন শুভ!

বলিউড অভিষেকেই ট্রেন্ডিংয়ে ঢাকার আরিফিন শুভ! বলিউডে বাংলাদেশের কোনো অভিনেতার কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাওয়ার নজির নেই—সেই শূন্যস্থানে এবার নিজের নাম লেখালেন আরিফিন শুভ। সনি লিভের ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’তে লিড চরিত্রে বলিউডে অভিষেক হলো ঢাকার এই চিত্রনায়কের। আজ (১৯ মার্চ) সিরিজটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো এই যাত্রা। সর্বমোট ১০ পর্বের, প্রায় ১১ ঘণ্টার এই সিরিজের পুরো গল্প আবর্তিত হয়েছে জিমি রয়কে কেন্দ্র করে। আর সেই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। এই সিরিজে শুভ ৪টি ভাষায় অভিনয় করেছেন—বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি। আজ (১৯ মার্চ) মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সনি লিভে ট্রেন্ডিংয়ে ২ নম্বরে অবস্থান করেছে আরিফিন শুভর এই সিরিজ। হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি এবারই প্রথম বাংলা ভাষায় মুক্তি পেয়েছে প্ল্যাটফর্মটির কোনো সিরিজ। ‘জ্যাজ সিটি’ পরিচালনা ছাড়াও গল্প ও চিত্রনাট্য করেছেন সৌমিক সেন। যিনি এর আগে আলোচিত ‘জুবিলি’ সিরিজের সহ-স্রষ্টা হিসেবে বলিউডে খ্যাতি পেয়েছেন। সিরিজে আরিফিন শুভর বিপরীতে দেখা যাবে সৌরসেনী মিত্রকে। এ ছাড়াও শান্তনু ঘটক, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, সায়নদীপ সেন, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, শতফ ফিগার, অ্যালেক্সান্দ্রা টেলর ও অমিত সাহাসহ বলিউড ও টলিউডের আরো কয়েকজন পরিচিত মুখকে দেখা যাবে এই সিরিজে। ‘জ্যাজ সিটি’ নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সত্তরের দশকের পটভূমিতে। সেই সময়ের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা, মানুষের টানাপোড়েন এবং পরিবর্তনের গল্পই উঠে এসেছে সিরিজটিতে।