খোঁজ মিলছে না আলভীর !

খোঁজ মিলছে না আলভীর ! স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই অভিনেতা জাহের আলভীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। মামলা দায়েরের পর থেকেই আলভী কার্যত অদৃশ্য হয়ে গেছেন। গত রোববার বিকেলে নেপাল থেকে তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে আসেননি; এমনকি স্ত্রী ইকরার শেষ বিদায়েও ছিল তার অনুপস্থিতি। বর্তমানে আলভীকে নিয়ে শোবিজ অঙ্গনে ধোঁয়াশা ও উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনরা তার তীব্র সমালোচনা করছেন এবং অনেকেই তার বর্তমান অবস্থান জানতে চাইছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলভীর ফেসবুক আইডিটি বর্তমানে ডিজেবল অবস্থায় রয়েছে। এমনকি আজ সকালেও তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে প্রোফাইল পিকচারসহ সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও বর্তমানে সেটি ডিঅ্যাকটিভ দেখাচ্ছে। এছাড়া তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করার চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ইকরার মৃত্যুর সময় আলভী নাটকের শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থান করছিলেন। সেখানে তার সঙ্গে চর্চিত প্রেমিকাও ছিলেন বলেও শোনা গেছে, যাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে তার পারিবারিক কলহ চলছিল। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আলভী জানিয়েছিলেন যে দেশে ফেরার পর তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্তারিত বলবেন। তবে দেশে ফেরার নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তিনি সাংবাদিকদের সামনে আসেননি। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে যে মামলার আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোনো সংবাদ সম্মেলন বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতির খবর পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসে নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করা জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে অভিনেতা আলভীকে। পুলিশ জানিয়েছে, দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
বিয়ের খুশিতে ভারতজুড়ে মিষ্টি খাওয়াবেন বিজয়-রাশমিকা!

বিয়ের খুশিতে ভারতজুড়ে মিষ্টি খাওয়াবেন বিজয়-রাশমিকা! সদ্যই বিয়ের পিঁড়ি থেকে উঠে সুখের দাম্পত্য কাটাচ্ছেন দক্ষিণী তারকা দম্পতি বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। এরই মাধ্যমে আট বছরের সম্পর্কের পরিণয় ঘটল তাদের। কাজেই এই তারকা দম্পতি নিজেরা যেমন একে অপরকে পেয়ে আনন্দে ভাসছেন, তেমনি তাদের অনুরাগীরাও উচ্ছ্বসিত। এবার এই তারকা দম্পতি নিলেন এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত; ভারতের প্রায় সব রাজ্যের মানুষদের মাঝে মিষ্টি ও খাবার বিলিয়ে দিতে চান তারা। ইতোমধ্যে তারা এই কার্যক্রম শুরু করেছেন। গত রোববার ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মন্দিরগুলোতে ট্রাকভর্তি মিষ্টি পাঠানোর মাধ্যমে এই উৎসব পালন করা হয়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাশমিকা ও বিজয় নিজ হাতে তার ভক্তদের মাঝে খাবারের প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন। এরপর এক যৌথ বিবৃতিতে বিজয় ও রাশমিকা জানান, তাদের দীর্ঘ পথচলায় যারা পাশে ছিলেন এবং ভালোবাসা দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই আয়োজন; ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে শুভ কাজ হিসেবে মিষ্টিমুখ করার রীতি মেনেই তারা বিভিন্ন রাজ্যের মন্দিরে সুস্বাদু খাবার ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বিশেষ ‘অন্নদান’ কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে খাবার পরিবেশন করার উদ্যোগ নেন। এই তালিকায় তেলেঙ্গানা, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং কেরালাসহ ভারতের প্রায় ১৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত ছিল। দীর্ঘ আট বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের উদয়পুরে জমকালো আয়োজনে বিয়ে করেন এই তারকা যুগল। সম্পূর্ণ দক্ষিণ ভারতীয় রীতি তথা তেলেগু ও কোডাভা ঐতিহ্য মেনে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন তারা। আগামী ৪ মার্চ হায়দরাবাদে তাদের বিয়ের গ্র্যান্ড রিসেপশন বা বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শত বছরের পুরোনো ওয়ার্নার ব্রাদার্সের মালিকানা বদল, সম্ভাবনার পাশাপাশি জেগেছে শঙ্কাও

শত বছরের পুরোনো ওয়ার্নার ব্রাদার্সের মালিকানা বদল, সম্ভাবনার পাশাপাশি জেগেছে শঙ্কাও বিনোদন জগতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে নেটফ্লিক্সকে টেক্কা দিল প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স। দীর্ঘ টানাপোড়েন আর দর কষাকষির পর অবশেষে ১০০ বছরের পুরোনো ফিল্ম ও টেলিভিশন জায়ান্ট ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি’ (ডব্লিউবিডি) ক্রয়ের দৌড়ে বিজয়ী হয়েছেন প্যারামাউন্ট প্রধান ডেভিড এলিসন। গত বৃহস্পতিবার ওয়ার্নার ব্রাদার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, প্যারামাউন্টের দেওয়া প্রস্তাবটি নেটফ্লিক্সের চেয়ে অনেক বেশি ‘উন্নত এবং আকর্ষণীয়’। এর ফলে নেটফ্লিক্সের সিইও টেড সারানডোস এই বিশাল চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। নেটফ্লিক্স যেখানে কেবল স্টুডিও এবং স্ট্রিমিং ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিল, সেখানে প্যারামাউন্ট পুরো কোম্পানিটিকেই কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বাজিমাত করেছে। প্যারামাউন্টের কর্ণধার ডেভিড এলিসন ওয়ার্নার ব্রাদার্সের প্রতিটি শেয়ারের জন্য ৩১ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা নেটফ্লিক্সের প্রস্তাবিত ২৭.৭৫ ডলারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। নেটফ্লিক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ব্যবসায়িক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চায় এবং অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে এই চুক্তি করতে আগ্রহী নয়। এই সিদ্ধান্তকে বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচকভাবে দেখলেও, নেটফ্লিক্সের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই জয়ের ফলে প্যারামাউন্ট এখন হ্যারি পটার, ব্যাটম্যান এবং এইচবিও-র মতো বিশাল সব ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক হতে চলেছে। তবে এই জয়ের বিনিময়ে প্যারামাউন্টকে প্রায় ৭৮ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ঋণের বোঝা কাঁধে নিতে হবে, যা নিয়ে বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।প্যারামাউন্ট ও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের এই একত্রীকরণ হলিউডের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের ওলটপালট ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সিএনএন, এইচবিও ম্যাক্স এবং প্যারামাউন্ট প্লাসের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে চিন্তা শুরু হয়েছে। তবে এই চুক্তির ফলে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হলিউডের সৃজনশীল কর্মীরা। ডেভিড এলিসনের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা এবং তার রক্ষণশীল রাজনৈতিক ঝোঁক নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একাংশ শঙ্কিত। সিবিএস নিউজে বারি ওয়েইসের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়ার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, ভবিষ্যতে সিএনএন বা বড় বাজেটের সিনেমাগুলোতে মতাদর্শগত সেন্সরশিপ নেমে আসতে পারে। এই চুক্তির ফলে নেটফ্লিক্স সরাসরি মালিকানা না পেলেও লাভবান হয়েছে অন্য এক জায়গায়। চুক্তি ভঙ্গের মাশুল বা ‘ব্রেকআপ ফি’ হিসেবে প্যারামাউন্টকে ২.৮ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে নেটফ্লিক্সকে। বিশ্লেষকদের মতে, নেটফ্লিক্স হয়তো বড় একটি ঝুঁকি এড়িয়ে গেছে, কিন্তু ডেভিড এলিসন হলিউডের সিংহাসনে বসার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখিয়েছেন, তা আগামী দিনে বিনোদন জগতের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দেবে। এখন দেখার বিষয়, বিশাল ঋণের বোঝা সামলে এলিসন কীভাবে এই নতুন মিডিয়া সাম্রাজ্যকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যান।
দুবাইয়ে আটকে পড়েছেন সোনাল চৌহান

দুবাইয়ে আটকে পড়েছেন সোনাল চৌহান মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার জেরে দুবাইয়ে আটকে দুবাইয়ে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত হওয়ায় আটকে পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী সোনাল চৌহান। নিরাপদে ভারতে ফেরার জন্য তিনি ভারতের সরকারের সাহায্য চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আকুতি জানিয়েছেন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। এর ফলে দুবাইসহ একাধিক শহরে বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। সোনাল চৌহান ইনস্টাগ্রামে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ট্যাগ করে লিখেছেন, তিনি দুবাইয়ে আটকে আছেন এবং দেশে ফেরার কোনো পরিষ্কার পথ নেই। নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য তিনি সরকারের দিকনির্দেশনা ও সহায়তা কামনা করেছেন। অভিনেত্রী তার পোস্টে দুবাইয়ে ভারতীয় দূতাবাসকেও উল্লেখ করেছেন এবং দ্রুত সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তার এই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তিনি লিখেছেন, “আমাকে সাহায্য করুন, দয়া করে বাঁচান।” শুধু সোনাল নন, এই পরিস্থিতিতে আরও কয়েকজন ভারতীয় তারকাও উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে রয়েছেন। ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা পি.ভি. সিন্দু এবং দক্ষিণি অভিনেতা অজিত দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। এছাড়া দোহায় থাকা ভারতীয় বাস্কেটবল দলও যাত্রা স্থগিতের কারণে এগোতে পারছে না। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান, ইরাক, কুয়েত, ইসরায়েল ও বাহরাইনের আকাশসীমা প্রায় ফাঁকা। ইসরায়েল ইরানে হামলার কথা নিশ্চিত করার পর যুক্তরাষ্ট্রও দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এর জবাবে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কাতারের দোহা, আবুধাবি ও দুবাইয়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমান চলাচল সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছে ‘শিরোনামহীন’ ব্যান্ড

অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছে ‘শিরোনামহীন’ ব্যান্ড বাংলা নববর্ষের আয়োজন ঘিরে ফের বিদেশ সফরে যাচ্ছে ব্যান্ড ‘শিরোনামহীন’। তাদের এবারের গন্তব্য অস্ট্রেলিয়া। ব্যান্ডটির দলনেতা, বেজ গিটারিস্ট ও গীতিকার জিয়াউর রহমান জিয়া জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে শুরু হবে কনসার্ট। ‘বাংলা নববর্ষ সাংস্কৃতিক উৎসব ও মেলা’ শিরোনামের আয়োজনে ওপেন এয়ার কনসার্ট করবে দলটি। প্রবাসী বাংলাদেশি ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছে সংগীতের মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শিকড়কে পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের লক্ষ্য বলে জিয়া জানিয়েছেন। সিডনির অনুষ্ঠান শেষে ব্যান্ডটি অস্ট্রেলিয়ার একাধিক অঙ্গরাজ্যে পরিবেশনা করবে বলে জানিয়েছেন দলনেতা। দেশ-বিদেশ মিলিয়ে দুই হাজার পাঁচশোর বেশি কনসার্টে অংশ নিয়েছে শিরোনামহীন। আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে এর আগে দলটি পারফর্ম করেছে মালয়েশিয়ার মালায়া বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রীলঙ্কার গল সংগীত উৎসব, ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের আমন্ত্রণে প্যারিসের ‘স্তাদ দ্য স্তেইন স্টেডিয়ামে। এছাড়াও ২০২৩ সালেও দলটি অস্ট্রেলিয়া সফর করেছিল, ২০২৫ সালে তারা প্রথমবারের মত যায় কানাডায়। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় তিন দশক ধরে দর্শক ও শ্রোতাদের জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে আসছে ‘শিরোনামহীন’। ২০০৪ সালে প্রকাশ হয় ‘শিরোনামহীনের’ প্রথম অ্যালবাম ‘জাহাজী’ । এই অ্যালবাম দিয়ে শ্রোতাদের কাছে পরিচিতি পায় ব্যান্ডটি। ‘হাসিমুখ’ ও ‘জাহাজী’ গান দুটি বেশ আলোচিত হয়। এ পর্যন্ত আটটি পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম, একাধিক একক গান ও মৌলিক চলচ্চিত্র সংগীত প্রকাশ করেছে ‘শিরোনামহীন’। সর্বশেষ প্রকাশ হয় তাদের অ্যালবাম ‘বাতিঘর’। ‘শিরোনামহীনের’ লাইনআপে আছেন জিয়াউর রহমান, কাজী আ হমেদ শাফিন, শেখ ইশতিয়াক, সাইমন চৌধুরী এবং সুদীপ্ত সিনহা দীপু।
কেন ঠিকানা বদলে ফেললেন শ্রদ্ধা

কেন ঠিকানা বদলে ফেললেন শ্রদ্ধা বাড়ি আছে, তবু ঠিকানা বদলে ফেললেন শ্রদ্ধা কাপুর। নিজ বাড়ি ছেড়ে হয়ে গেলেন ভাড়া বাড়ির বাসিন্দা। সেই বাড়ির জন্য শ্রদ্ধাকে প্রতি মাসে খরচ করতে হবে ৬ লাখ রুপি! তারচেয়ে বড় বিষয় হলো, মুম্বাইয়ের জুহুতে অবস্থিত সেই বাড়ির এক বছরের ভাড়া বাবদ জমা দিতে হবে ৭২ লাখ রুপি! এমন খবর শুনে নেটিজেনদের অনেকের প্রশ্ন, হঠাৎ এমন কী হলো শ্রদ্ধার? যার কারণে হঠাৎ নিজের ঠিকানা বদলে ফেললেন? এসব প্রশ্নে কোনো উত্তর মেলেনি এই বলিউড তারকার কাছ থেকে। আনন্দবাজারসহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, একান্ত নিজের মতো করে বসবাসের জন্য মুম্বাইয়ের জুহুতে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন শ্রদ্ধা কাপুর। তবে এই ঠিকানা বদলে ফেলায় অভিনেত্রীর পরিবারের তরফ থেকে কোনো আপত্তি বা বাধা আসেনি। বিষয়টি সবাই স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। সংবাদ মাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, এরই মধ্য নতুন বাড়িতে বসবাসের জন্য শ্রদ্ধার সঙ্গে ৭২ লাখ রুপির একটি চুক্তি হয়ে গেছে; যার জন্য প্রতি মাসে ৬ লাখ রুপি করে ভাড়া দিতে হবে অভিনেত্রীকে। তবে ভাড়ার অঙ্ক নিয়ে মোটেও বিচলিত নন শ্রদ্ধা। কারণ, তিনি বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক নিয়ে একেকটি সিনেমায় অভিনয় করে থাকেন। তাই হাত খুলে খরচ করতেও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন না। সে কারণে ৩,৯২৯ বর্গফুটের নতুন বাড়িটির ভাড়া নিয়ে কম নাকি বেশি, তা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবেননি। কিন্তু নিজ বাড়ি ছেড়ে জুহুতে কেন শ্রদ্ধার ছুটে যাওয়া? তা নিয়ে কৌতূহলও তৈরি হয়েছে অনেকের। এ বিষয়ে শ্রদ্ধা নিজ থেকে কিছু না বললেও অনেকের অনুমান, বলিউডের হেভিওয়েট তারকাদের প্রতিবেশী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাতেই জুহুতে বাড়ি ভাড়া নেওয়া। শহরের হেভিওয়েট তারকারা এখানে থাকতে পছন্দ করেন, প্রতিটি বাড়ি সমুদ্রমুখী হওয়ার কারণে। তাই অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার, অজয় দেবগন, বরুণ ধবন ও হৃতিক রোশন বসবাসের জন্য জুহুকে বেছে নিয়েছেন। অভিনেতা ইমরান খান ও তাঁর প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটনও এর আগে ‘লিজ’-এ ফ্ল্যাট নিয়েছেন। তাঁরা মাসে ৯ লাখ টাকা করে ভাড়া দিতেন। রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোনও একটি বাড়ি ভাড়ায় নিয়েছিলেন। মাসে ৭ লাখ টাকা করে ভাড়া দিতেন তাঁরা। এদিকে, ২০২৪ সালে ‘স্ত্রী ২’ সিনেমা মুক্তির পর শ্রদ্ধা কাপুরকে বলিউড সিনেমায় দেখা যায়নি। এই অভিনেত্রীর হাতে তেমন কোনো কাজও নেই বলা শোনা যায়। যশরাজ থেকে শুরু করে করণ জোহরের ধর্মা প্রডাকশনসহ বড় বেশ কিছু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শ্রদ্ধার দিক থেকে নজর ফিরিয়ে নিয়েছেন। একের পর এক হিট সিনেমা দেওয়ার পরও শ্রদ্ধা কেন উপেক্ষিত, তা নিয়ে এখনও কেউ মুখ খোলেননি; যার পরিপ্রেক্ষিতে অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার গ্রাফ ক্রমশ নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। বড় নির্মাতাদের কাছ থেকেও আগের মতো নতুন সিনেমার প্রস্তাব আসছে না। তার ওপর কিছুদিন আগে ২৫২ কোটি টাকার মাদক মামলায় নাম জড়িয়েছিল এই অভিনেত্রীর ভাই সিদ্ধান্ত কাপুরের। মুম্বাই পুলিশ জেরাও করেছিল তাঁকে, যা নিয়ে অনেক জল ঘোলাও হয়েছে। এরপরেই আবার বিপাকে পড়ছিলেন শুটিং করতে গিয়ে আহত হয়ে। ‘ঈথা’ সিনেমার শুটিংয়ে এই ঘটনা ঘটে। সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে মারাঠি লোকশিল্পী বিঠাবাঈ ভাউ মঙ্গ নারায়ণগাঁওকরের জীবনী নিয়ে। যে কারণে শুরু থেকেই এই কাজটি নিয়ে প্রচণ্ড পরিশ্রম করে যাচ্ছেন শ্রদ্ধা। কারণ ‘ঈথা’ সিনেমার সাফল্যের ওপরই নির্ভর করছে তাঁর ক্যারিয়ার।
ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে যুদ্ধের আতঙ্কে নুসরাত ফারিয়া

ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে যুদ্ধের আতঙ্কে নুসরাত ফারিয়া ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক আকাশপথে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে দুবাই যাওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ পরিস্থিতির পরিবর্তনে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে শেষ পর্যন্ত ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিতে বাধ্য হন তিনি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ছবি ও আবেগঘন স্ট্যাটাস শেয়ার করে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন নসুরাত ফারিয়া। এ পোস্টে তিনি জানান, দিনটি তার কাছে ছিল একেবারেই দুঃস্বপ্নের মতো। নুসরাত ফারিয়া লেখেন, “ঘুম থেকে উঠে শুনলাম যুদ্ধ, ইউএই-এর আকাশপথ বন্ধ। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু থেমে গেল। ইস্তাম্বুল থেকে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল চারপাশের পৃথিবীটা বদলে যাচ্ছে, এত অনিশ্চয়তা, এত চাপ, এত ভয়। সংকটকালে নুসরাত ফারিয়ার এক বন্ধু তাকে সহযোগিতা করেন। তা স্মরণ করে এই অভিনেত্রী লেখেন, “এই বিশৃঙ্খলার মাঝেও আল্লাহর রহমত আর মানুষের ভালোবাসা আমাকে ধরে রেখেছে। ইস্তাম্বুলে আমার বন্ধু আর তার পরিবার যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, বারবার খোঁজ নিয়েছে, নিশ্চিত করেছে আমি নিরাপদ আছি, সেটা কোনোদিন ভুলব না। তাদের যত্ন আর ভালোবাসা আজ আমাকে ভেঙে পড়তে দেয়নি। নুসরাত ফারিয়া ১৪ ঘণ্টা আগে তার এই পোস্ট দেন। ঢাকায় ফেরার কথা উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী লেখেন, “এখন প্লেনে বসে ঢাকায় ফিরছি। মনটা ভারী, কিন্তু কৃতজ্ঞ। শুধু চাই, ‘পৃথিবীটা যেন একটু শান্ত হয়। ফেসবুকে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের একটি লাউঞ্জে বসে আছেন ফারিয়া। সামনে রাখা পাসপোর্ট ও বোর্ডিং পাস, পেছনের টেলিভিশন স্ক্রিনে ভেসে উঠছে যুদ্ধসংক্রান্ত সংবাদ। পুরো দৃশ্যেই ধরা পড়ে অনিশ্চয়তা আর ক্লান্তির ছাপ।
মাদ্রাসার সেই ছাত্র এখন নির্মাতা

মাদ্রাসার সেই ছাত্র এখন নির্মাতা প্রেশার কুকার’ সিনেমার পোস্টার। শিক্ষাজীবনটা তিনি শুরু করেছিলেন মাদ্রাসায়। সেখানে থেকেই নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন একদিন বড় নির্মাতা হবেন। সময়ের স্রোতে সেই স্বপ্ন আজ সত্যি করতে পেরেছেন তিনি। বলছি চলচ্চিত্র পরিচালক রায়হান রাফীর কথা। ঢালিউডে গেল কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে সফল নির্মাতা তিনি। তার সিনেমায় তার নামটিই দর্শকের আগ্রহের কারণ। নির্মাণের পর এবার রাফী নাম লিখিয়েছেন প্রযোজনায়। তার প্রযোজিত প্রথম সিনেমার নাম ‘প্রেশার কুকার’। এটি পরিচালনাও করেছেন তিনি। চার নারীর ভিন্ন জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘প্রেশার কুকার’। এতে প্রধান চারটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন চার নায়িকা শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত ও স্নিগ্ধ চৌধুরী। সম্প্রতি প্রকাশিত তৃতীয় পোস্টারে দেখা গেছে পাঞ্জাবি-টুপি পরা এক কিশোর সরিষাখেতে দাঁড়িয়ে আছে, দূরে বোরকা পরিহিতা নারীদের উপস্থিতি। যা তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’র পোস্টারের প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবেই দেখছেন অনেকে। সেটি স্পষ্ট করেছেন ছবির নির্মাতা রায়হান রাফী নিজেই। তার প্রযোজিত প্রথম সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’ কিংবদন্তি নির্মাতা তারেক মাসুদকে উৎসর্গ করলেন তিনি। তারেক মাসুদ রাফী জানান, মাদ্রাসায় পড়ার সময় থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সে সময় পত্রিকায় তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ কান উৎসবে যাওয়ার খবর তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সাক্ষাতে তারেক মাসুদের উৎসাহ পান তিনি। সরাসরি কাজ করার সুযোগ না পেলেও তাকে গুরুর আসনে বসান রাফী। তাই প্রযোজক হিসেবে যাত্রার শুরুতেই প্রথম সিনেমাটি উৎসর্গ করলেন প্রিয় নির্মাতাকে। গত কয়েক বছর কোরবানির ঈদে সিনেমা মুক্তি দিলেও এবার রোজার ঈদকে বেছে নিয়েছেন রাফী। আসন্ন রোজার ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে নারীকেন্দ্রিক গল্পের এই চলচ্চিত্র। রায়হান রাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাফী লেখেন, ‘কোন ‘মাটির ময়না’ গাইবে আমার মুক্তির গান? আ ট্রিবিউট টু তারেক মাসুদ। প্রেশার কুকার আসছে ঈদুল ফিতরে। রাফীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘প্রেশার কুকার’ শুধু একটি রান্নার পাত্র নয়, বরং দ্রুত সাফল্যের চাপের প্রতীক। তার ভাষায়, ‘ঢাকা শহরটা যেন এক প্রেশার কুকার। সেখানে মানুষ অল্প সময়ে বড়লোক ও জনপ্রিয় হতে চায়। বিশেষ করে কয়েকজন নারী চরিত্র এখানে সব সময় চাপের মধ্যে সেদ্ধ হতে থাকে। একসময় তারা মুক্তি খোঁজে, আর তাদের গল্প এক বিন্দুতে এসে মিশে যায়। তারেক মাসুদকে উৎসর্গ করে নিজের সিনেমার পোস্টার প্রকাশ করেছেন রায়হান রাফি প্রযোজক হিসেবে নতুন অধ্যায়ের শুরুতেই প্রিয় নির্মাতাকে স্মরণ করে ‘প্রেশার কুকার’কে নিজের ‘শ্রদ্ধার্ঘ্য’ হিসেবে দেখছেন রায়হান রাফী।
যত বাধাই আসুক, দম থাকলে ঠেকায় কে?

যত বাধাই আসুক, দম থাকলে ঠেকায় কে? আসছে ঈদে নির্মাতা রেদওয়ান রনির পরিচালনায় ‘দম’ সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মাঝে শুরু থেকেই ব্যাপক আগ্রহ। অবশেষে রোববার দুপুরে প্রকাশ্যে এসেছে সিনেমাটির প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার, যা দর্শকের মাঝে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি করেছে। একইসঙ্গে এই সিনেমায় বড় চমক দিতে চলেছেন অভিনেতা আফরান নিশো। সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত সারভাইভাল ঘরানার এই গল্পটি আগামী ঈদুল ফিতরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বলে জানানো হয়েছে। পোস্টারে আফরান নিশোর এক বিধ্বংসী ও রহস্যময় লুক ফুটে উঠেছে। পোস্টারের বাম দিকে দেখা যাচ্ছে নিশোর মুখাবয়ব, যেখানে তার কপালে এবং চোখের পাশে গভীর ক্ষতের চিহ্ন স্পষ্ট। নিশোর এই ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ অবতার সিনেমাটির নাম ‘দম’ এবং এর সারভাইভাল গল্পের সঙ্গে দারুণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। পোস্টারের ডান দিকে মরুভূমি, পাহাড়ি প্রান্তরের আবহ, যেখানে একদল ঘোড়সওয়ার এবং অস্ত্রধারী সৈনিকদের দেখা যাচ্ছে, যা একটি উত্তপ্ত পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। পোস্টারে বড় অক্ষরে লেখা ‘দম’ শব্দের নকশাতেও একটি রাইফেলের অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বাংলা পপ গানের ইতিহাসে সম্রাট আজম খানের জন্মদিন আজ

বাংলা পপ গানের ইতিহাসে সম্রাট আজম খানের জন্মদিন আজ বাংলা পপ গানের ইতিহাসে সম্রাট হিসেবে খ্যাত আজম খান। তরুণ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখানো এই কিংবদন্তি শিল্পীর আজ জন্মদিন। ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বিশেষ এ দিনে তাকে ঘিরে ফিরে আসে অসংখ্য স্মৃতি। একাধারে তিনি পপ গানকে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছে দিয়েছেন নতুন ধারার ব্যান্ডসংগীত। পপ গানের ধারা যেন সময়ের সঙ্গে প্রবহমান থাকে, সেই পথও তৈরি করে দিয়ে গেছেন আজম খান। প্রয়াত এ কিংবদন্তি গুণী শিল্পী ২০১১ সালের ৫ জুন মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মৃত্যুর কাছে হার মানেন। তিনি দেশবাসীকে কাঁদিয়ে পরপারে চলে যান। আজম খানের শৈশব কেটেছে ঢাকার আজিমপুর ও কমলাপুর এলাকায়। কৈশোরেই ভাষা আন্দোলনের আবহ তার মননে প্রভাব ফেলেছিল। জানালার বাইরে মানুষের মাতৃভাষার দাবিতে আন্দোলন, প্রতিবাদী গান—এসবই তার সংগীতচেতনার ভিত গড়ে দেয়। স্কুলজীবনে বিভিন্ন গান শুনে মনে রাখতেন এবং নিজস্ব ভঙ্গিতে গাওয়ার চেষ্টা করতেন। প্রাতিষ্ঠানিক সংগীতশিক্ষা না থাকলেও শ্রবণ ও চর্চার মধ্য দিয়েই তিনি ধীরে ধীরে গানের জগতে নিজেকে গড়ে তোলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বন্ধুদের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আজম খান। পরিবারের সম্মতি নিয়ে ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পেও তার গানের চর্চা চলত; থালা-বাসনই হয়ে উঠত বাদ্যযন্ত্র। সেখানে নতুন গান তৈরি করে সহযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করতেন। স্বাধীনতার পর শুরু হয় তার সংগীতজীবনের নতুন অধ্যায়। বিটলস, রোলিং স্টোনসসহ পাশ্চাত্য ব্যান্ডের সংগীত শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে বন্ধুদের নিয়ে পপ গান পরিবেশন করতে থাকেন। ধীরে ধীরে পাড়া-মহল্লা পেরিয়ে সারা দেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। বঞ্চিত মানুষের জীবন, দেশপ্রেম, সচেতনতা ও তরুণদের প্রেরণাই হয়ে ওঠে তাঁর গানের মূল উপজীব্য। ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’, ‘হাইকোর্টের মাজারে’, ‘এত সুন্দর দুনিয়ায়’, ‘অভিমানী’, ‘অনামিকা’, ‘পাপড়ি’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘আমি যারে চাইরে’, ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘ও চাঁদ সুন্দর’সহ অসংখ্য কালজয়ী গান আজও শ্রোতাদের মনে সমানভাবে অনুরণিত হয়। ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পী ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ২০১১ সালের ৫ জুন মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর সৃষ্ট গান ও প্রভাব আজও বাংলা সংগীতে জীবন্ত—যা তাঁকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্মরণীয় করে