রাক্ষস প্রদর্শিত হবে ৬০টির বেশি শো যুক্তরাষ্ট্রে

রাক্ষস প্রদর্শিত হবে ৬০টির বেশি শো যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া অন্যতম আলোচিত সিনেমা রাক্ষস। মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত রোমন্টিক অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমাটি দেশে আলোচিত হওয়ার পর এখন বিশ্বব্যাপী প্রদর্শিত হচ্ছে। গেল সপ্তাহে ইতালিতে প্রদর্শনীর পর ইন্ডাস্ট্রি হিট ‘বরবাদ’-এর নির্মাতার এই সিনেমাটি আজ মুক্তি পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশক হিসেবে রয়েছে গ্যালাক্সি মিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আজ উত্তর আমেরিকার ৯টি শহরে সিনেমাটি প্রদর্শিত হচ্ছে রাক্ষস। গ্যালাক্সি মিডিয়ার কর্ণধার বদরুদ্দোজা সাগর বলেন, আমরা সবসময়ই ভিন্নধর্মী ও শক্তিশালী গল্পের বাংলা সিনেমা দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। রাক্ষস এমন একটি চলচ্চিত্র, যা শুধু বিনোদনই দেবে না-দর্শকদের ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেবে। উত্তর আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহে এটি হবে একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। আশা করি সিনেমাটি দারুণ সাড়া পাবে দর্শকদের। পরিবেশন প্রতিষ্ঠান বরাতে জানা যায়, মিশিগানের স্টার্লিং হাইটস শহরের একটি এএমসি থিয়েটারে ছবিটির প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার আরও কয়েকটি শহরে প্রদর্শন শুরু হয়েছে। পরিবেশন প্রতিষ্ঠান আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬০টিরও বেশি শো চলবে রাক্ষসের। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রধান প্রধান যে এএমসি সিনেমা হলগুলোতে মুক্তি পাচ্ছে । তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি থিয়েটার হলো কলোরাডো: এএমসি হাইল্যান্ডস র্যাঞ্চ ২৪ এবং এএমসি ফোর্ট কলিন্স ১০; ফ্লোরিডা: এএমসি অ্যাভেন্টুরা মল ২৪ এবং এএমসি সানসেট প্লেস ২৪; নিউ জার্সি: এএমসি জার্সি গার্ডেনস ২০, এএমসি ব্রান্সউইক স্কয়ার ১৩ এবং এএমসি চেরি হিল ২৪; পেনসিলভেনিয়া: এএমসি নেশামিনি ২৪ (এখানে ২২ এপ্রিল থেকে প্রদর্শিত হবে); ম্যাসাচুসেটস: এএমসি বার্লিংটন ১০; মিশিগান: এএমসি ফোরাম ৩০; ওহাইও: এএমসি ইস্টন টাউন সেন্টার ৩০; নর্থ ক্যারোলিনা: এএমসি ক্লাসিক জ্যাকসনভিল ১৬; ওকলাহোমা: এএমসি পেন স্কয়ার মল ১০। সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ, যিনি ‘রাক্ষস’ চরিত্রে এক ভিন্নরূপে হাজির হয়েছেন। রিয়েল এনার্জী প্রোডাকশন-এর ব্যানারে সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন আজিম হারুন ও শাহরীন আক্তার সুমি। এতে সিয়ামের বিপরীতে আছেন সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়। আরও আছেন, আলী রাজ, সোহেল মণ্ডল, মারিয়া শান্তসহ অনেকেই।
পুরস্কার পাওয়ার চিন্তা করে কখনো অনুষ্ঠান করিনি হানিফ সংকেত

পুরস্কার পাওয়ার চিন্তা করে কখনো অনুষ্ঠান করিনি হানিফ সংকেত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে পদক গ্রহণ করছেন হানিফ সংকেত। দেশের সংস্কৃতিতে অবদান রাখার জন্য চলতি বছরে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির উপস্থাপক ও নির্মাতা হানিফ সংকেত। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। পুরস্কার গ্রহণের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন হানিফ সংকেত। তিনি বলেন, “এই অর্জনটা আমার একার নয়; যাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমার এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হয়েছে, এই অর্জন তাদের সবার। আর তাই আমি পুরস্কারটি আমার প্রিয় দর্শকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি। পুরস্কারের আশায় কখনো কোনো অনুষ্ঠান করেননি হানিফ সংকেত। এ তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পুরস্কার পাওয়ার চিন্তা করে কখনো অনুষ্ঠান করিনি, তাহলে এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হতো না। আমি সব সময় দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছি আমার দায়বোধ থেকে। ভবিষ্যতেও আমি দায়িত্ব নিয়েই কাজ করে যাব। এই পুরস্কারটি আমাকে আগামীতে এগিয়ে যেতে আরো অনুপ্রাণিত করবে, উৎসাহিত করবে। বিটিভিতে ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্ব প্রচার হয় ১৯৮৯ সালের মার্চে। এ হিসাব অনুযায়ী অনুষ্ঠানটির বয়স ৩৭ বছর। ইত্যাদির বাইরে হানিফ সংকেত নাটক ও চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য নাটক ‘কুসুম’। এটি পরিচালনা করেন প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ। নাটক পরিচালনাও করেন হানিফ সংকেত। এ তালিকায় রয়েছে‘আয় ফিরে তোর প্রাণের বারান্দায়’, ‘দুর্ঘটনা’, ‘তোষামোদে খোশ আমোদে’, ‘কিংকর্তব্য’, ‘শেষে এসে অবশেষে’ প্রভৃতি। একটি দেশের সংস্কৃতি শুধু মঞ্চে-পর্দায় থাকে না; থাকে ভাষার ব্যবহারেও, হাসির ধরনেও, ব্যঙ্গের ভঙ্গিতেও, আর নৈতিকতার সীমানা আঁকার ক্ষমতাতেও। হানিফ সংকেত চার দশক ধরে সেই সীমানাটাই টেনে চলেছেন-নিজের মতো করে। শুধু পর্দায় নয়, দুই মলাটেও বন্দি করেছেন হাসি, ব্যঙ্গ। তার রচিত রম্য রচনাগুলো হলো‘চৌচাপটে’, ‘এপিঠ ওপিঠ’, ‘ধন্যবাদ’, ‘অকাণ্ড কাণ্ড’, ‘খবরে প্রকাশ’, ‘প্রতি ও ইতি’, ‘আটখানার পাটখানা।
যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ হলে ‘দম’দ্বিতীয় সপ্তাহে

যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ হলে ‘দম’দ্বিতীয় সপ্তাহে উত্তর আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহে সাফল্যের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে রেদওয়ান রনি পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘দম’। দর্শকদের অভূতপূর্ব চাহিদায় যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র এক সপ্তাহেই সিনেমাটির হলসংখ্যা ৭ থেকে বেড়ে ৫০-এ উন্নীত হয়েছে। ১৭ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মোট ৫৮টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে সিনেমাটি। বায়োস্কোপ ফিল্মসের পরিবেশনায় মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী ও পূজা চেরির অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। নির্মাতা রনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে দর্শকদের সরাসরি প্রতিক্রিয়া নিচ্ছেন। তিনি জানান, সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যে ভালোবাসা পেয়েছেন তা অবিস্মরণীয়। এসভিএফ আলফা-আই ও চরকি প্রযোজিত এই সিনেমা পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে উত্তর আমেরিকাজুড়ে বইছে ‘দম’ উন্মাদনা।
ইতালিতে মুক্তি পাচ্ছে প্রিন্সের আপডেট ভার্সন

ইতালিতে মুক্তি পাচ্ছে প্রিন্সের আপডেট ভার্সন দেশের পর এবার বিদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে মেগাস্টার শাকিব খানের ঈদের সিনেমা ‘প্রিন্স’। আগামী শনিবার (১৮ এপ্রিল) ও সোমবার (২০ এপ্রিল) ইতালির ভেনিস ও রোম শহরের দুটি সিনেমা হলে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হবে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মস সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, ইতালিতে শুরু হচ্ছে ‘প্রিন্স’ এর আপডেট ভার্সন। প্রযোজনা সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটিমুক্ত করতে সিনেমাটির ডিজিটাল ফাইল নতুন করে সংস্করণ করা হয়েছে। দেশে মুক্তির সময় সাউন্ড, কালার ও ভিএফএক্স নিয়ে দর্শকদের যে অভিযোগ ছিল, উন্নত সংস্করণে সেসব জটিলতা কাটিয়ে আরও নিখুঁতভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এই অ্যাকশন ঘরানার সিনেমাটি নব্বই দশকের ঢাকার অপরাধজগতকে কেন্দ্র করে নির্মিত। সিনেমার প্রধান চরিত্রে শাকিব খানকে একজন প্রতাপশালী গ্যাংস্টার হিসেবে দেখা গেছে। শাকিবের সঙ্গে এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ, কলকাতার অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু এবং ভারতীয় অভিনেতা দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য। এছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন রাশেদ মামুন অপু ও ইন্তেখাব দিনারসহ একঝাঁক তারকা। ইতালিতে এই প্রদর্শনী শুরুর মাধ্যমে এবারের ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সবকটি সিনেমাই আন্তর্জাতিক বাজারে যাত্রা শুরু করল।
বাহুবলী-পুষ্পাকে পেছনে ফেলে এক নম্বরে রণবীরের ‘ধুরন্ধর’

বাহুবলী-পুষ্পাকে পেছনে ফেলে এক নম্বরে রণবীরের ‘ধুরন্ধর’ ভারতীয় বক্স অফিসের ইতিহাসে এক অনন্য নজির গড়ল রণবীর সিংয়ের লিয়ারি সাগা ‘ধুরন্ধর’। মুক্তির এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র সিরিজ হিসেবে বিশ্বজুড়ে তিন হাজার কোটি রুপির আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এই অভাবনীয় সাফল্যের পথে এসএস রাজামৌলির ‘বাহুবলী’ এবং আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা’র মতো শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজিকেও পেছনে ফেলেছে ছবিটির দুই কিস্তি। বক্স অফিস বিশ্লেষক স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, সিরিজের প্রথম সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ বিশ্বজুড়ে ১,৩০৭.৩৫ কোটি রুপি আয় করেছিল। বর্তমানে প্রদর্শিত হওয়া দ্বিতীয় কিস্তি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ এর আয় দাঁড়িয়েছে ১,৭১২ কোটি রুপিতে। ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩,০১৯.৩৫ কোটি রুপি। এর বিপরীতে ‘বাহুবলী’ এবং ‘পুষ্পা’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মোট আয় যথাক্রমে ২,৪৩৮ কোটি এবং ২,০৯২.২০ কোটি রুপি। প্রতিবেদন অনুসারে, এই মাইলফলক কেবল সংখ্যার বিচারেই বড় নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় চলচ্চিত্র সিরিজের সক্ষমতার এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। গত ১৯ মার্চ বড় বাজেটের এই ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে আসার পর প্রথম সপ্তাহেই দেশীয় বক্স অফিসে ৬৭৪.১৭ কোটি রুপির পাহাড়সম আয় করে। যদিও দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে আয়ের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে এসেছিল, তবু গত মঙ্গলবার ছবিটির অভ্যন্তরীণ আয় ১,০৯৫.৬৭ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ৪১৬.২৫ কোটি রুপির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে এর মোট গ্রস কালেকশন দাঁড়িয়েছে ১,৭২৭.৯৩ কোটি রুপি। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কোনো অবদান ছাড়াই এই রেকর্ড গড়েছে সিনেমাটি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া সিরিজের প্রথম পর্বটি সেই বছরের সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমা হিসেবে নাম লিখিয়েছিল। এবার দ্বিতীয় কিস্তিটি মাত্র ১১ দিনেই সেই আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করল। রণবীর সিং ছাড়াও এই অ্যাকশন-ড্রামায় অর্জুন রামপাল, আর মাধবন এবং সঞ্জয় দত্তের মতো তারকাদের উপস্থিতি দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টানতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে চতুর্থ সপ্তাহে পা রাখা সিনেমাটি এখনো সাফল্যের সঙ্গে বক্স অফিসে টিকে রয়েছে।
অনেক সিনেমা থেকেই বাদ পড়েছি: প্রিয়াঙ্কা

অনেক সিনেমা থেকেই বাদ পড়েছি: প্রিয়াঙ্কা বলিউড থেকে হলিউডে সফল ক্যারিয়ার গড়া অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তাকে বারবার প্রত্যাখ্যান ও নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বলিউডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি তার ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলেছিল এবং কখনো কখনো তিনি মানসিকভাবে ভেঙেও পড়েছিলেন। প্রিয়াঙ্কা জানান, একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও সহ-অভিনেতার আপত্তির কারণে তাকে সেই প্রজেক্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়। শুটিং চলাকালেই সেটে এসে তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। স্বজনপোষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুরুতে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। তার ভাষায়, ‘আমি ভাবতাম সবাই নিজের সন্তানের ভালো চায়, পরে ইন্ডাস্ট্রির বাস্তব রাজনীতি বুঝতে পারি।’ ক্যারিয়ারের শুরুতেই একাধিকবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তিনি একসময় পেশা পরিবর্তনের কথাও ভেবেছিলেন বলে জানান এই অভিনেত্রী। তবে শেষ পর্যন্ত অভিনয়ের প্রতি আগ্রহই তাকে ধরে রেখেছে। তিনি আরও বলেন, এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পরও পরে জানানো হয়েছে, তাকে আর প্রয়োজন নেই।
টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ‘ব্ল্যাকপিঙ্ক’ তারকা জেনি

টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ‘ব্ল্যাকপিঙ্ক’ তারকা জেনি প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম’-এর ২০২৬ সালের বিশ্বের সেরা ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় জায়গা করে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন কে-পপ সেনসেশন ও ব্ল্যাকপিঙ্ক সদস্য জেনি। এ বছর এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় একমাত্র কে-পপ শিল্পী এবং একমাত্র দক্ষিণ কোরীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্থান পেয়েছেন তিনি। জেনির এই অর্জন বিশ্বজুড়ে কে-পপ সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং একক শিল্পী হিসেবে তার অনন্য উচ্চতাকেই পুনর্নিশ্চিত করেছে। টাইম ম্যাগাজিনের ‘আর্টিস্ট’ ক্যাটাগরিতে লুক কম্বস এবং ডাকোটা জনসনের মতো বৈশ্বিক তারকাদের পাশাপাশি জেনির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জেনির এই সাফল্যের নেপথ্যে গত এক বছরে তার অভাবনীয় সব রেকর্ড ও সৃজনশীল কাজ বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রুবি’ বিশ্বজুড়ে মিলিয়ন কপির বেশি বিক্রি হয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এই অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ অ্যালবাম চার্টে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকা কোরীয় একক শিল্পীর মর্যাদা পান। এ ছাড়া একই সময়ে বিলবোর্ড হট ১০০-তে তার তিনটি গান স্থান করে নেওয়া ছিল একটি বিরল ঘটনা। ডেম ইম্পালার সঙ্গে ‘ড্রাকুলা’ রিমিক্স সংস্করণে তাঁর উপস্থিতি তাকে প্রথম নারী কে-পপ একক শিল্পী হিসেবে বিলবোর্ড রক ও অল্টারনেটিভ এয়ারপ্লে চার্টের সেরা দশে জায়গা করে দেয়। টাইম ম্যাগাজিনের এই বিশেষ সংখ্যায় জেনির ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে জনপ্রিয় গায়িকা গ্রাসি আব্রামস তাকে এক জাদুকরী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আব্রামস লিখেছেন যে, লাখো ভক্তের সামনে মঞ্চে পারফর্ম করা হোক কিংবা ঘরোয়া আড্ডায় কথা বলা—জেনি তার চারিত্রিক উষ্ণতা ও মায়াবী আকর্ষণে যে কাউকে মুগ্ধ করতে পারেন। তার মতে, জেনির এই অভ্যন্তরীণ শক্তিই তাকে একজন সত্যিকারের বৈশ্বিক তারকায় পরিণত করেছে। ভক্ত ও সমালোচকদের মতে, জেনির এই স্বীকৃতি কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বিশ্ব পপ সংস্কৃতিতে দক্ষিণ কোরীয় শিল্পীদের দাপটের একটি বড় নিদর্শন। ব্ল্যাকপিঙ্কের সদস্য থেকে শুরু করে ফ্যাশন আইকন এবং এখন একক শক্তিতে বিশ্ব কাঁপানো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে জেনির এই বিবর্তন বর্তমান প্রজন্মের সংগীতশিল্পীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টাইম ১০০-র মতো তালিকায় তার এই অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে, সাংস্কৃতিক প্রভাব ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে জেনি এখন এক অনস্বীকার্য নাম।
নতুন সিনেমা নিয়ে ফিরছে ‘সাইয়ারা’ টিম

নতুন সিনেমা নিয়ে ফিরছে ‘সাইয়ারা’ টিম রোমান্টিক-মিউজিক্যাল ছবিতে মোহিত সুরির সাফল্য ঈর্ষণীয়। গত বছর ‘সাইয়ারা’ বানিয়ে বাজিমাত করেছেন বক্স অফিসে। ছবিটিতে অভিষেক হয় আহান পাণ্ডে ও অনীত পড্ডার। রাতারাতি তারা বনে যান তারকা। বছর না ঘুরতেই ফের মোহিতের ছবিতে আহান ও অনীত। এবারও প্রেমের গল্পই তুলে আনবেন তারা। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে খবরটি জানিয়েছে বলিউড হাঙ্গামা। সূত্রের মতে, প্রেমের গল্প হলেও এটি ‘সাইয়ারা’ থেকে একদমই আলাদা। ফের মোহিতের ছবিতে অভিনয়ের ব্যাপারে আহান ও অনীত দুজনেই ভীষণ আগ্রহী। প্রযোজনায় আছে যশরাজ ফিল্মস। নতুন ছবিটি নির্মাতা মোহিত সূরি বলেন, আমি সবসময় প্রেমের গল্প বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এমন গল্প, যেখানে আবেগ এতটাই তীব্র যে তা উপেক্ষা করা যায় না। এই ছবিতেও সেই গভীর অনুভূতির গল্পই তুলে ধরার চেষ্টা করছি। একই টিম নিয়ে আবার কাজ করতে পারা আমার জন্য বিশেষ কিছু। প্রযোজক অক্ষয় বিধানি বলেন, মোহিতের সঙ্গে আমাদের কাজের সম্পর্ক শুধু সিনেমা বানানো নয়, বরং এমন অনুভূতির খোঁজ করা যা দর্শকের মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়। সাইয়ারা আমাদের জন্য তেমনই একটি অভিজ্ঞতা ছিল। এবার আমরা আরও গভীর, আরও সুন্দর একটি গল্প তুলে ধরতে চাই। বর্তমানে আহান কাজ করছেন আলী আব্বাস জাফরের একটি ছবিতে, যেখানে তাঁকে গ্যাংস্টার চরিত্রে দেখা যাবে। এর শুটিং শেষে আগস্ট নাগাদ মোহিতের নাম চূড়ান্ত না হওয়া ছবিটি শুরু হবে।
সাবানের মোড়কে তামান্নার ছবি, কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি আদালতে খারিজ

সাবানের মোড়কে তামান্নার ছবি, কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি আদালতে খারিজ বিজ্ঞাপন এবং ব্যক্তিগত স্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি লড়াইয়ে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন জনপ্রিয় ভারতীয় অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া। একটি সাবান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করা ১ কোটি রুপির ক্ষতিপূরণ মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট। পাওয়ার সোপস লিমিটেড নামক একটি কোম্পানি তামান্নার ছবি অনুমতি ছাড়াই তাদের পণ্যের প্রচারণায় ব্যবহার করেছে—এমন অভিযোগ তুলেই এই আইনি লড়াই শুরু করেছিলেন অভিনেত্রী। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, তামান্না প্রথমে নিম্ন আদালতে দাবি করেছিলেন যে, সংস্থাটি তার ছবি ব্যবহারের কোনো বৈধ অনুমতি না নিয়েই বিজ্ঞাপন প্রচার করেছে, যা তার ব্যক্তিগত প্রচারণার অধিকার বা ‘পারসোনালিটি রাইটস’ লঙ্ঘন করেছে। কিন্তু সেখানে তার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তিনি মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্ট তার সেই আপিলটিও গুরুত্ব সহকারে বিচার করার পর সম্প্রতি রায় দিয়েছেন যে, নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত কোনো যুক্তি বা তথ্যপ্রমাণ অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে তামান্নার ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সব পথ আপাতত বন্ধ হয়ে গেল। তামিল, তেলেগু ও হিন্দি চলচ্চিত্রের প্রভাবশালী এই অভিনেত্রীর জন্য আদালতের এই রায় বড় এক নেতিবাচক ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তারকাদের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে চুক্তিপত্র কতটা স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন, এই রায় তা আবারও মনে করিয়ে দিল। একইসঙ্গে এই মামলাটি প্রমাণ করেছে যে, কেবলমাত্র অভিযোগ নয়, বরং অননুমোদিত ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট ও জোরালো প্রমাণ ছাড়া আদালতে এমন দাবি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। তবে আইনি জটিলতার এই ধাক্কা কাটিয়ে তামান্না বর্তমানে তার হাতে থাকা একাধিক নতুন প্রজেক্টের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই রায়ের ফলে ভারতের বিনোদনজগতে সেলিব্রিটি ইমেজ রাইটস বা তারকাদের ছবি ব্যবহারের স্বত্ব নিয়ে চলমান বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল।
এক সিনেমায় থেকেও রণবীরের মুখোমুখি হচ্ছে না যশ

এক সিনেমায় থেকেও রণবীরের মুখোমুখি হচ্ছে না যশ বলিউডের অন্যতম প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রামায়ণ’ নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনার শেষ নেই। নীতীশ তিওয়ারি পরিচালিত এই মহাকাব্যে রাম ও রাবণ হিসেবে পর্দায় রণবীর কাপুর এবং যশের রসায়ন দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। তবে ভক্তদের সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষায় কিছুটা জল ঢেলে দিলেন স্বয়ং ‘রাবণ’ অভিনেতা যশ। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, সিনেমার প্রথম পার্টে রাম অর্থাৎ রণবীর কাপুরের সঙ্গে তার কোনো দৃশ্য নেই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে যশ জানান, সিনেমার গল্পকে এমনভাবে ভাগ করা হয়েছে যেখানে চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত যাত্রাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যশ বলেন, ‘মজার ব্যাপার হলো, এই সিনেমার প্রথম পর্বে আমাদের দুজনের একসঙ্গে কোনো দৃশ্য নেই। যেহেতু এটি দুই পার্টের চলচ্চিত্র, তাই প্রথম পার্টে রাবণ হিসেবে আমার নিজস্ব রাজ্য (লঙ্কা) রয়েছে এবং রামের রয়েছে তার নিজস্ব রাজ্য (অযোধ্যা)।’ পরিচালক নীতীশ তিওয়ারি ও প্রযোজক নামিত মালহোত্রার এই কৌশলী পরিকল্পনা এখন স্পষ্ট। তড়িঘড়ি করে দুই মহাতারকাকে মুখোমুখি না দাঁড় করিয়ে, প্রথম পর্বে চরিত্রগুলোর গভীরতা, তাদের প্রেক্ষাপট এবং ব্যক্তিগত লড়াইকে বড় পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। মূলত দ্বিতীয় পর্বের বড় সংঘাতের ভিত্তি হিসেবেই সাজানো হয়েছে প্রথম অংশকে। একই ফ্রেমে দেখা না দিলেও রণবীর কাপুরের প্রতি মুগ্ধতা লুকাননি কন্নড় সুপারস্টার যশ। রণবীরের অভিনয়শৈলীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কয়েকবার দেখা হয়েছে। ও একজন চমৎকার অভিনেতা। আমাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। যখন আমরা ‘রামায়ণ’-এর মতো বিশাল ও উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টে কাজ করি, তখন সবার একটাই লক্ষ্য থাকে নিজেদের সেরাটা দেওয়া।’ উল্লেখ্য, ‘রামায়ণ’ সিনেমাটিতে রাম চরিত্রে রণবীর কাপুর এবং রাবণ চরিত্রে যশ ছাড়াও সীতা হিসেবে থাকছেন সাই পল্লবী। এ ছাড়া সানি দেওল, রবি দুবে, রাকুল প্রীত সিং, বিবেক ওবেরয়, লারা দত্ত ও শিবা চাড্ডার মতো একঝাঁক তারকা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন। বড় বাজেটের এই সিনেমার প্রথম পার্ট ২০২৬ সালে এবং দ্বিতীয় পার্ট ২০২৭ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।