প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই

প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার মারা গেছেন। বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আজ শুক্রবার রাত আনুমানিক ৪টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সুনীল কর্মকার ১৯৫৯ সালে ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কেবল কণ্ঠ নয়, বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়াম-একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী ছিলেন এ শিল্পী। বিখ্যাত বাউলশিল্পী ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান শুনেই গানের জগতে নিজেকে সঁপে দেন বালক সুনীল। ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। এর মধ্যে বহু জনপ্রিয় ও খ্যাতনামা গান রয়েছে। এছাড়াও তার নিজের লেখা গানের সংখ্যাও কম নয় প্রায় দেড়শো থেকে দুইশোর কাছাকাছি গান রচনা করেছেন তিনি। ময়মনসিংহ বিভাগীয় বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো.নজরুল ইসলাম বলেন, উনি দীর্ঘকাল ধরে বাউল ও লোকসংগীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক চেতনার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। সুনীল কর্মকার শুধু একজন গায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন গ্রাম বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের ধারক। একতারা ও দোতারার ছন্দে তার কণ্ঠে সেই বিশেষ আবেদন শ্রোতাদের মুগ্ধ করতো। সুনীল কর্মকারের কাছে সংগীতই ছিল একমাত্র ধ্যান ও জ্ঞান। ওস্তাদ জালাল উদ্দীন খাঁর ‘মানুষ ধরো, মানুষ ভোজ’ বিখ্যাত গান গেয়ে ভীষণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তিনি ।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন, ডিপজল

আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন, ডিপজল এক সময়ের জনপ্রিয় খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল উপহার দিয়েছেন দর্শকপ্রিয় ও ব্যবসাসফল অনেক সিনেমা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় না করলেও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনে তাকে তেমন দেখা যায় না। যদিও চলচ্চিত্র অঙ্গনে সরব না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত সক্রিয় ডিপজল। আজ (৬ ফেব্রুয়ারি) শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পবিত্র জুম্মা উপলক্ষে তিনি সবার জন্য দোয়া ও শুভেচ্ছা জানান। পোস্টে ডিপজল লেখেন, “পবিত্র জুম্মার দিনে আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন, হেদায়েত দিন এবং শান্তিতে রাখুন। জুম্মা মোবারক। তার এই বার্তাটি মুহূর্তের মধ্যেই ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই লাইক ও মন্তব্যের মাধ্যমে ‘আমিন’ জানিয়ে জুম্মার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ১৯৬২ সালের এইদিনে জন্মগ্রহণ করেন ডিপজল। ‘সতী কমলা’ সিনেমায় প্রথম নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। ‘টাকার পাহাড়’, ‘হাবিলদার’, ‘ডাকাত’সহ বেশ কিছু সিনেমায় নায়কের ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘তেজী’ সিনেমায় প্রথম খল চরিত্রে অভিনয় করেন এ অভিনেতা। এরপর অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ডিপজল অভিনীত ও প্রযোজিত বেশ কয়েকটি সিনেমা বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

সংসার জীবন নিয়ে গায়িকা সিঁথি

সংসার জীবন নিয়ে গায়িকা সিঁথি ভালোবেসে নিউজিল্যান্ড প্রবাসী এক তরুণকে বিয়ে করেছিলেন সংগীতশিল্পী সিঁথি সাহা। এ সংসারে তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। তবে এ সংসার সুখের হয়নি শিল্পীর। কয়েক দিন আগে একটি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। সংসার জীবনের অজানা অধ্যায় ভাগ করে নেন। সিঁথি সাহা জানান একজন রাক্ষস পাশে নিয়ে ঘুমাতেন তিনি। এ আলাপচারিতায় সঞ্চালক জানতে চান, প্রেম-বিয়ে নিয়ে আপনার একটা খামখেয়ালিপনা ছিল। আপনার কি মনে হয় এটা অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত ছিল? জবাবে সিঁথি সাহা বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই তাই মনে হয়। কারণ আমার বিয়েটাই ভুল ছিল। যে বিয়ের কারণে আমার ক্যারিয়ার নষ্ট হলো। ২০১০-১১ সাল আমার উঠতি ক্যারিয়ার ছিল। আমি রাইজিং সুপারস্টার ছিলাম। ওই সময়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া, পাগলের মতো প্রেমে পড়ে নিউজিল্যান্ড চলে যাওয়া, অবশ্যই একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এটা কোনো হ্যাপি ম্যারেজ ছিল না। আমার জীবনটা ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রেম করে বিয়ের পরও এমনটা কেন হলো? এ প্রশ্নের উত্তরে সিঁথি সাহা বলেন, “এ বিয়েতে আমার বাবা-মা কেউই রাজি ছিলেন না। আমার পাগলের মতো প্রেম, তারপর বিয়ে। ছেলেও আমাকে বিয়ে করার জন্য মরিয়া ছিল। আমাকে বিয়ে করার জন্য নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে চলে আসে। তারপর বিয়ে হয়। এটা একটা অসম সম্পর্ক ছিল। খানিকটা ব্যাখ্যা করে সিঁথি সাহা বলেন, “শুরুতে তাদের (শ্বশুরবাড়ির লোকজন) কাছে আমার গান ভালো লাগত। বিয়েটা হয়ে যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়িতে নিয়ম করা হলো রাত ৯টার পর আমি বাড়ির বাইরে থাকতে পারব না। সুতরাং আমি আর রাতে কোনো শো করতে পারতাম না। আমার বন্ধুরা দাওয়াত দিলেও যেতে পারতাম না। আর যদি যেতামও তাড়াতাড়ি চলে আসতাম। এমনকি, এখনো সেই আতঙ্ক কাজ করে; আমাকে রাত ৯টার মধ্যে বাসায় ফিরতে হবে। ওই বাসার মধ্যে অসুস্থ একটা পরিবেশ ছিল, আমি অ্যাবিউজড হয়েছি। প্রেম পবিত্র জিনিস। বিয়ের আগে তো ক্যারিয়ার নিয়েও কথাবার্তা হয়, সেরকম কিছু আপনাদের হয়নি? জবাবে সিঁথি বলেন, “প্রেম তো মানুষ অন্ধভাবে করে। বিয়ের আগে এতসব বুঝতে পারি নাই। তখন ওরা যথেষ্ট বিনয়ী ছিল। একটি ঘটনা বর্ণনা করে সিঁথি সাহা বলেন, “বিয়ের পর যেদিন আমি ওদের বাড়ি গেলাম। বিয়ের পরের দিন ওর বাবা-মা-বোন সবাই মিলে একটা গোল মিটিং করছিল। সেখানে আমাকে ডেকে নিয়ে বলল, ‘গীতা ছুঁয়ে বলো তুমি আর তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে পারবে না।’ বিয়ের দিন একটা সমস্যা হয়েছিল, সেটা নিয়ে এমন বক্তব্য আসে। কিন্তু তাই বলে এটা তো হতে পারে না! এটা একটা ছোট ঘটনা। যাইহোক, বাসাটার মধ্যে একটা অসুস্থ পরিবেশ ছিল; আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। কারণ আমি মানসিক-শারীরিকভাবে অ্যাবিউজড ছিলাম।” সিঁথিকে তার স্বামী নির্যাতন করতেন। এ তথ্য স্মরণ করে এই শিল্পী বলেন, “আমি ছোটবেলায় ভূত খুব ভয় পেতাম। আমি ওয়াশরুমে গেলেও মা দাঁড়িয়ে থাকতেন। যেদিন আমার বিয়ে হয়েছে, তারপর থেকে আমি আর ভূত ভয় পাই না। কারণ আমি আমার পাশে একজন রাক্ষস নিয়ে ঘুমাতাম। দেখা যেত, রাতে কোথাও থেকে ফিরল, এসেই আমাকে টর্চার করা শুরু করল। একপর্যায়ে আমার জীবন হুমকির মুখে পড়ে গেল। ওর বাবা-মা থানায় জিডি করতে গেল। এটা বাংলাদেশের ঘটনা, নিউজিল্যান্ডেও এরকম হয়েছে। সংসার টিকানোর চেষ্টা করেছেন সিঁথি। সবশেষে তা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সিঁথি সাহা বলেন, “আমরা তো বাবা-মাকে দেখেই বড় হই। আমাদের হিন্দু ধর্মে বলা হয়, একটাই স্বামী। বিয়ে একবারই হয়। একটু সহ্য করো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। ওর মা-ও বলত, বাবু (সিঁথির স্বামী) ছোট মানুষ, একটু ধৈর্য ধরো সব ঠিক হয়ে যাবে। এই ঠিক হয়ে যাওয়ার চক্করে আমার জীবন থেকে ১০টি বছর নাই হয়ে গেছে। শেষ অধ্যায়ে কী পেলাম? কিছুই না। চেষ্টা করলাম সংসার টিকানোর, সংসারও টিকলো না, ক্যারিয়াও নষ্ট হয়ে গেল। আর এই যে ট্রমা নিলাম, এই ট্রমার কারণে এখনো রাতেরবেলায় মনে হয়, কেউ আমার উপরে হামলে পড়বে! শৈশবে মায়ের কাছ থেকে সংগীতের হাতেখড়ি সিঁথি সাহার। তারপর শাস্ত্রীয়, লোক ও আধুনিক সংগীত রপ্ত করেন ছায়ানট ও সম্মেলন পরিষদ থেকে। রবীন্দ্রসংগীতের জন্য চারটি জাতীয় পুরস্কারসহ অনেক সম্মাননা পেয়েছেন এই শিল্পী। এরই মধ্যে তার শরীরে ক্যানসার বাসা বেঁধেছিল। তবে এই যুদ্ধে জয়ী হয়ে সুস্থ হয়েছেন। এখন সন্তান ও গান নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন এই শিল্পী।

সাবেক ও বর্তমান প্রেম নিয়ে অজানা কথা শোনাবেন মিথিলা

সাবেক ও বর্তমান প্রেম নিয়ে অজানা কথা শোনাবেন মিথিলা মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ বিজয়ী ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করা মডেল তানজিয়া জামান মিথিলা এবার বড় পর্দায় অভিষেক ঘটাতে যাচ্ছেন। জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’-র নতুন এক পর্বে অতিথি হয়ে নিজের সাবেক ও বর্তমান প্রেম নিয়ে বেশ কিছু অজানা তথ্য শেয়ার করেছেন তিনি। একইসঙ্গে বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবে আসার খবরটি। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’-এ সেরা ৩০-এর মধ্যে ১২তম স্থান অধিকার করে আলোচনায় আসা এই তারকা জানান, সিনেমার জন্য সব কথাবার্তা চূড়ান্ত। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে আসবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। আগে ওটিটির জন্য নির্মিত ‘রোহিঙ্গা’ সিনেমায় কাজ করলেও অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে আরও ভাঙতে চান মিথিলা। পডকাস্টে নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়ে অকপটে তিনি বলেন, অভিনেত্রী হিসেবে আমার অনেক ধরনের সীমাবদ্ধতা আছে। আমি এখনো নায়িকাদের মতো নাচতে পারি না। তবে আমি একজন অভিনেত্রী হওয়ার জন্য যা যা জানা দরকার, সব কিছুই জানতে চাই, শিখতে চাই। মডেলদের অভিনয় দক্ষতা নিয়ে প্রচলিত ধারণা প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, অনেকে বলেন, মডেলরা অভিনয় পারেন না। কিন্তু যারা আজ সুপ্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী, তাদের মধ্যেও অনেকে শুরুতে অভিনয় পারতেন না। তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে দীর্ঘ সময় পাড়ি দিতে হয়েছে। মডেলরাও লেগে থাকলে ভালো অভিনয় করতে পারবে। জেড আই ফয়সাল প্রযোজিত এবং রুম্মান রশীদ খানের সঞ্চালনায় এই পর্বটি আগামী শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় মাছরাঙা টেলিভিশন এবং রেডিও দিনরাত ৯৩.৬ এফএম-এ প্রচারিত হবে।

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপা-তেলের দামে ধস

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপা-তেলের দামে ধস বিশ্ববাজারে সোনা, রুপা, তামা, অপরিশোধিত তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ফোনালাপের পর বৈশ্বিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া এবং একই সঙ্গে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে ঝুঁকি কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে পণ্যমূল্যে, আর শক্তিশালী হয়েছে মার্কিন ডলার। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রুপার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। একই দিন সোনা, অপরিশোধিত তেল ও তামার দাম কমেছে গড়ে প্রায় দুই শতাংশ করে। এদিন ডলারের সূচক প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর ফলে অন্য মুদ্রাধারীদের কাছে ডলারে মূল্যায়িত সোনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। আইজি ব্রোকারেজের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, চলতি সপ্তাহে মূল্যবান ধাতু ও অন্যান্য পণ্যে চরম অস্থিরতা দেখা গেছে। আজকের দরপতন মূলত সেই অস্থিরতার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া। তিনি আরও বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা আবারও পথে ফিরছে এমন ইঙ্গিত পাওয়ায় পণ্যবাজার থেকে বিশেষ করে তেলের ক্ষেত্রে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত দাম সরে যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ফোনালাপের পর যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য উত্তেজনাও কিছুটা কমেছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা এই দামে সোনা বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন বলে মন্তব্য করেন সাইকামোর। এশীয় বাজারে দিনের শুরুতে ডলার স্থিতিশীল থাকলেও পরে এর সূচক প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। শক্তিশালী ডলার সাধারণত পণ্যমূল্যের ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে। সোনা-রুপা-তেলের দামে ধস গত সপ্তাহে স্পট সোনার দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলার প্রতি আউন্সে এবং রুপার দাম ১২১ দশমিক ৬৪ ডলারে উঠেছিল। বৃহস্পতিবার সেখান থেকেই বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এদিন স্পট মার্কেটে সোনার দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৩৮ দশমিক ৮১ ডলারে। এপ্রিল ডেলিভারির যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসও ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৫৫ দশমিক ৬০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। রুপার বাজারে দরপতন আরও তীব্র। স্পট রুপার দাম একদিনে প্রায় ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৭৪ দশমিক ৯৪ ডলারে। ওসিবিসির কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, প্রায় সব ধরনের সম্পদ শ্রেণিতে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব দুর্বল হয়ে পড়েছে। কম তারল্যের বাজারে একটির ক্ষতি অন্যটির ক্ষতিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে মূল্যবান ধাতু, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও আঞ্চলিক শেয়ারবাজারে। এদিন তেলের দামও প্রায় দুই শতাংশ কমেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার ওমানে আলোচনায় বসতে সম্মত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন অঞ্চল থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, তামার দামে চাপ বাড়িয়েছে চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ এবং লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত গুদামগুলোতে মজুত বৃদ্ধির খবর। যদিও এর আগে চীন তামার কৌশলগত মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনার কারণে দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তবে সব পণ্যের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিল সয়াবিন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও সয়াবিন কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তার এমন মন্তব্যের পর সয়াবিনের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স

১০ বছরের ছোট ছেলেকে বিয়ে, কেন ইন্ডাস্ট্রি ছেড়েছিলেন ঊর্মিলা?

১০ বছরের ছোট ছেলেকে বিয়ে, কেন ইন্ডাস্ট্রি ছেড়েছিলেন ঊর্মিলা? একটা সময়ে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে একের পর এক সুপারহিট সিনেমায় অভিনয় করে দশর্কদের মাতিয়ে রেখেছিলেন অভিনেত্রী ঊর্মিলা মাতন্ডকর। সিনেমায় তার অভিনয়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছিলেন সবাই। অসংখ্য হিট সিনেমা উপহার দেওয়ার পরও একটা সময়ে অভিনয় থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন অভিনেত্রী। যে সময়ে তার ক্যারিয়ার ছিল তুঙ্গে। খুব অল্প বয়সেই ক্যামেরার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। মাত্র তিন বছর বয়সে ‘কর্মা’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন ঊর্মিলা। এর পর ‘মাসুম’ সিনেমায় অভিনয় করেন। পড়াশোনার পাশাপাশিই অভিনয় চালিয়ে গিয়েছিলেন ঊর্মিলা। কিন্তু হঠাৎ করেই কেন ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকে ইন্ডাস্ট্রি ছেড়েছিলেন অভিনেত্রী? ১৯৯৫ সালে ‘রঙিলা’ সিনেমার মাধ্যমে সবার মন ছুঁয়েছিলেন ঊর্মিলা মাতন্ডকর। যে সিনেমা তার ভাগ্য সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছিল। অভিনেতা আমির খান ও জ্যাকি শ্রফের মতো বড় তারকাদের মধ্যেও ঊর্মিলা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছিলেন। তার নাচ, আত্মবিশ্বাস ও স্টাইল সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। এরপর তিনি ‘রঙিলা গার্ল’ নামে পরিচিত হন। এরপরেই পরিচালক রাম গোপাল ভার্মার সঙ্গে প্রেম চর্চা শুরু হয়েছিল ঊর্মিলার। পরিচালকের সাবেক স্ত্রী রত্না সেই প্রেমের গুজবের মধ্যেই একদিন শুটিং সেটে এসে ভীষণ তর্কবিতর্কের মাঝেই কষিয়ে চড় মারেন ঊর্মিলাকে। রত্নার দাবি, এ সম্পর্কের গুঞ্জনের প্রভাব পড়েছিল তাদের বিবাহিত জীবনেও। তবে সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো যখন ঊর্মিলা তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে, তখনই সিনেমা জগৎ থেকে সরে যান। যে বয়সে অভিনেত্রীরা সাধারণত তাদের ক্যারিয়ার আরও ভালোভাবে শুরু করেন, সেই সময়ে তিনি ক্যামেরা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্ত কোনো বাধ্যবাধকতা বা ব্যর্থতার জন্য নয়। বরং নিজের ইচ্ছায় সে কাজ করেন ঊর্মিলা মাতন্ডকর। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সিনেমা জগৎ থেকে দূরে থাকার পর অভিনেত্রী হিন্দু রীতি অনুসারে কাশ্মীরি ব্যবসায়ী মহসিন আখতার মীরকে বিয়ে করেন। তার মুম্বাইয়ের বাড়িতে একটি মণ্ডপ তৈরি করা হয় এবং সেখানেই বিয়ে করেন। স্বামী তার চেয়ে প্রায় ১০ বছরের ছোট ছিলেন। আট বছরের বিবাহিত জীবন কাটানোর পর ২০১৪ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। যদিও তাদের কোনো সন্তান নেই।

বিয়ে প্রসঙ্গে যা বললেন সাফা কবির

বিয়ে প্রসঙ্গে যা বললেন সাফা কবির ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শোবিজে কাজ করছেন। অভিনয় দিয়ে জয় করেছেন দর্শকদের মন। চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে বারবার ভেঙেছেন আবার গড়েছেন। সাফা কবিরের সমসাময়িক অভিনেত্রীদের মধ্যে মেহজাবীন চৌধুরী, মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া, শবনম ফারিয়া, সাবিলা নূর, শেহতাজ মুনিরা হাশেম ইতিমধ্যেই সংসারী। তাই প্রায়ই সাফাকে শুনতে হয়- কবে বিয়ে করছেন? এ বিষয়ে সাফা কবির বলেন, ‘আমার পরিবার থেকে কোনো তাড়াহুড়া নেই। আব্বু-আম্মু সব সময় আমাকে নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন। তারা সব সময় বলেছেন, সাফা যেটা চাইবে সেটাই হবে। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি এমন একটা সময়ে বিয়ে করতে চাই, যখন আমার জীবনে এমন একজন মানুষ আসবে, যার সঙ্গে সারা জীবন দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই থাকা যাবে। হুটহাট বিয়ে করে কিছুদিন পর ভেঙে যাওয়ার চেয়ে, আস্থার সঙ্গে বিয়ে করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাফার কথায়, সে রকম কাউকে এখনও খুঁজে পাননি। তার ভাষ্য, ‘আমি অনেক কাজ নিয়ে ব্যস্ত। সামনে হয়তো হবে। দোয়া করি, আল্লাহ একজন ভালো মানুষ দেবেন। আমার বিশ্বাস আছে। এদিকে, সম্প্রতি কক্সবাজারে ‘মৎস্যকন্যা’ নাটকের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন সাফা। সেখান থেকে ঢাকায় ফিরেই শুরু হয়েছে নতুন কাজের ব্যস্ততা। পাশাপাশি ঈদ সামনে রেখে প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তিনি।

দ্বীনের পথে অভিনেত্রী নওবা তাহিয়া, অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা

দ্বীনের পথে অভিনেত্রী নওবা তাহিয়া, অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা অভিনয় জগৎ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তরুণ অভিনেত্রী নওবা তাহিয়া। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শোবিজ ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। ফেসবুক পোস্টে অভিনয় ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নওবা তাহিয়া লেখেন, “এই মুহূর্তে আমি আমার দ্বীনের মধ্যে, নিজের ভেতরে, শেখার মধ্যে এবং যাদের সঙ্গে থাকলে ঘরের মতো অনুভূতি হয় তাদের সঙ্গেই শান্তি খুঁজে পাচ্ছি। শোবিজে চারটি সুন্দর বছর কাটানোর পর এখন থামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নওবা তাহিয়া। এই সময়টা তার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ছিল উল্লেখ করে এতদিন পাশে থাকা সবাইকে ধন্যবাদ জানান এই অভিনেত্রী। পোস্টে নওবা তাহিয়া স্পষ্ট করে জানান, এখন থেকে তার আর কোনো নতুন কাজ আসবে না না নাটক, না টিভিসি, না ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। তবে আগে করা কিছু কাজ ভবিষ্যতে প্রকাশ পেতে পারে, যদিও সেগুলোর সঙ্গে তিনি আর সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবেন না। দর্শক-ভক্তদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নওবা তাহিয়া লেখেন, “এতদিন যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন, তার জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞ। ছোটবেলায় শিশুদের অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে মিডিয়ায় পথচলা শুরু করেন নওবা তাহিয়া। পরে নাটক ও ওটিটিতে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের নজর কাড়েন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে টিভি নাটক‘চুপি চুপি’, ‘প্রথম প্রেমে বানান ভুল’, ‘মায়াপূরাণ’, ‘শুধু তুমি’, ক্লোজআপ কাছে আসার গল্প ‘কন্ট্রোল প্লাস জেড’ এবং চরকির ওয়েবফিল্ম ‘পুনর্মিলন’। পড়াশোনার কারণে আগেও কয়েক মাস অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন নওবা তাহিয়া। তবে এবার শোবিজকে একেবারেই বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন এই অভিনেত্রী।

ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে নতুন ভুবনে বালাম

ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে নতুন ভুবনে বালাম গায়কি একান্তই তাঁর মতো। তাই কারও সঙ্গে তুলনা করতে যাওয়া বৃথা। কিন্তু গায়কি নিয়ে ক্ষণে ক্ষণে নিজেকে বদলে দেওয়া যায়, ভিন্ন অবয়বে বারবার ফিরে আসা যায় দর্শক-শ্রোতার মাঝে। এর একাধিক উদাহরণ দেওয়া যায় বালামের বেলায়। পুরো নাম বালাম জাহাঙ্গীর। নামের প্রথম অংশ তাঁর পরিচিতির জন্য যথেষ্ট এবং সেই ‘বালাম’ শব্দটি অগণিত সংগীতপ্রেমীর ভীষণ প্রিয়। অনেকে জানান, বালাম শুধু সময়ের আলোচিত শিল্পীই নন, একাধারে সুরকার ও সংগীত পরিচালক। তাই কখন কোন সুরে গাইতে হবে, কোন মূর্ছনায় সংগীতপ্রেমীদের হৃদয় স্পন্দনের উঠানামা করে– তা বালামের খুব ভালোভাবেই জানা। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, যে শিল্পী, সুরকার ও সংগীতায়োজক সহজেই শ্রোতার পাল্স বুঝতে পারেন; তাঁর সম্পর্কে শ্রোতারা খুব বেশি কিছু জানার সুযোগ পান না। এই যেমন কদিন আগে ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার ‘ও প্রিয়তমা’ গানের জন্য শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পেলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, অথচ এ নিয়ে বালামের অনুভূতি কী? তা জানার সুযোগ হলো ভক্তদের। বালামের কথা থেকে কেবল এটুকু জানা গেছে, এই স্বীকৃতি নিয়ে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা সবাই আনন্দিত। রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতির জন্য ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার টিম ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন। তারপরও এত বড় একটি অর্জন নিয়ে অনেকে যেভাবে উচ্ছ্বাস উল্লাস প্রকাশ করেন, তেমন কিছুই চোখে পড়েনি বালামের বেলায়। আসলে বালামের বেলায় এটাই স্বাভাবিক। কারণ, বরাবরই তিনি নিভৃতচারী; কিছুটা অন্তর্মুখী। সামাজিক মাধ্যমেও সক্রিয় নন বালাম। তাই কখন কী করছেন, সংগীত নিয়ে নতুন পরিকল্পনা, ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনা, এমন অনেক বিষয় অজানা থেকে যায়। তবে এটাও সত্যি, প্রতিটি সৃষ্টির পেছনে নিজেকে তিনি উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর গায়কি আর সংগীতায়োজন থেকে তারই প্রমাণ মেলে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা দেখা গেছে বহুবার। সে কারণেই রেনিগেডস ব্যান্ডের বালামের সঙ্গে ওয়াফেইজের বালামকে কখনও মেলানো যায়নি। একইভাবে একক ক্যারিয়ার গড়ার পরও এই শিল্পী ও সংগীতায়োজককে নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ পেয়েছেন শ্রোতারা। ‘ভুবন’ এরপর আরও তিনটি একক অ্যালবামের পাশাপাশি মিশ্র অ্যালবাম ‘প্রেম শিকারি’, ‘আঁধার’, ‘দ্য গুরুস অব লাভ’, ‘ছায়াশিকারি’, দ্বৈত অ্যালবাম ‘বালাম ফিচারিং জুলি’, একক গান ‘চুপচাপ চারিদিক’সহ তাঁর আরও বেশ কিছু আয়োজন সংগীতপ্রেমীদের মনে আজও অনুরণন তুলে যাচ্ছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, যার একের পর এক সৃষ্টি শ্রোতাদের মাঝে সাড়া জাগিয়ে যাচ্ছিল, সেই বালাম হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গিয়েছিলেন গানের ভুবন থেকে। দীর্ঘদিন সেভাবে দেখা মেলেনি নন্দিত এই শিল্পীর। কী হলো, কেন আড়ালে চলে গেলেন বালাম? এই প্রশ্ন যখন অনেকের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল তখনই জানা যায়, গুরুতর অসুস্থ স্ত্রীকে সময় দিতেই সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। এরপর অনেক ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে কয়েক বছরের বিরতি ভেঙে নতুনভাবে ফিরলেন বালাম। ‘ও প্রিয়তমা’ গানের মধ্য দিয়ে তুলছেন আলোড়ন। ‘প্রিয়তমা’ ছবির এই গানটি স্বল্প সময়ে শুধু ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে জায়গা করে নেয়নি, কোটি কোটি দর্শক-শ্রোতার হৃদয়ও জয় করেছে। কোনালের সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে গাওয়া এবং আসিফ ইকবালের লেখা ও আকাশ সেনের সুরের এই গানটি বালামকে এনে দিয়েছে পুনর্জন্মের স্বাদ। সবশেষে এই গানে এনে দিয়েছে সেরা শিল্পীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অথচ এমন সাফল্যের পরও বালাম শুধু এটুকুই বলেন, ‘শ্রোতা আমার গান শুনেছেন, ভালো লাগার কথা প্রকাশ করছেন, ভালোবাসা দিচ্ছেন– এটা পরম পাওয়া। আসলে হঠাৎ করেই ‘ও প্রিয়তমা’ গানটি গাওয়ার সুযোগ এসেছে। নিজেকে উজাড় করে গেয়েছি। এরপর যা হয়েছে, সেটাকে ম্যাজিক ছাড়া আর কিছু বলার নেই।’ বালামের এ কথা যে একটুকু ভুল নয়, তার প্রমাণ মেলে ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার পর প্লেব্যাকে নিয়মিত ব্যস্ত হয়ে ওঠায়। ‘প্রিয়তমা’র পর ‘রাজকুমার’ সিনেমায় প্লেব্যাক করে দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছেন তিনি। যার সুবাদে তাঁর শ্রোতার প্রত্যাশা বেড়ে গেছে আরও কয়েক গুণ। আর সেটি বুঝতে পেরে বালামও দীর্ঘ এক যুগ পর অ্যালবাম প্রকাশের ঘোষণাও দিয়েছেন। জানিয়েছেন, আসছে ঈদে পূর্ণাঙ্গ একক অ্যালবাম প্রকাশ করতে যাচ্ছেন তিনি। শিরোনাম ‘মাওলা’। এর প্রতিটি গানের সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন এই শিল্পী নিজেই। তাঁর এই কথা থেকে এটাও অনুমান করতে কষ্ট হয় না যে, পঞ্চম এই একক অ্যালবামের সূত্র ধরে শ্রোতারা বালামকে আরও একবার নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ পাবেন। কেননা, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আনকোরা সংগীতায়োজন তুলে ধরাই নন্দিত এই শিল্পীর লক্ষ্য, যার প্রমাণ মিলেছে বহুবার।

‘বর্ডার টু’ সিনেমার আয় ৫২৮ কোটি টাকা ছাড়িয়ে

‘বর্ডার টু’ সিনেমার আয় ৫২৮ কোটি টাকা ছাড়িয়ে জে পি দত্ত নির্মিত বলিউড সিনেমা ‘বর্ডার’। ২৯ বছর পর নির্মিত হয়েছে সিনেমাটির সিক্যুয়েল। ‘বর্ডার টু’ শিরোনামে এ সিনেমা পরিচালনা করেছেন অনুরাগ সিং। পূর্বের মতো এ সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন ববি দেওল। তবে সুনীল শেঠি নেই, কিন্তু তার পুত্র আহান শেঠি যুক্ত হয়েছেন। তাছাড়া নতুন করে যুক্ত হয়েছেন—বরুণ ধাওয়ান, দিলজিৎ দোসাঞ্জে, মোনা সিং প্রমুখ। গত ২৩ জানুয়ারি ৪ হাজার ৮০০ পর্দায় মুক্তি পেয়েছে ‘বর্ডার টু’ সিনেমা। মুক্তির পর থেকে দর্শক-সমালোচকদের কাছ থেকে ভূয়সী প্রশংসা কুড়াচ্ছে। তরন আদর্শ সিনেমাটির অত্যন্ত ইতিবাচক রিভিউ দিয়েছেন। পাঁচে রেটিং দিয়েছেন সাড়ে ৪। কেবল তাই নয় এটিকে ‘আউটস্ট্যান্ডিং’ বলেও মন্তব্য করেছেন। বলিউড হাঙ্গামা সিনেমাটিকে পাঁচে রেটিং দিয়েছেন সাড়ে ৪। চিত্রনাট্য, পরিচালনা, আবেগের গভীরতা, অভিনয় এবং অ্যাকশন দৃশ্যের প্রশংসা করেছে। যদিও কিছু ভিজ্যুয়াল এফেক্ট আরো ভালো হতে পারত, সিনেমার দৈর্ঘ্য কিছুটা কম হলে ভালো হতো বলে মত দিয়েছে। ডেইলি নিউজ অ্যান্ড অ্যানালিসিসের সিমরান সিং সিনেমাটিকে পাঁচে রেটিং দিয়েছেন সাড়ে ৪। এটিকে যুদ্ধের সেরা চলচ্চিত্রগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কেবল দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসাই কুড়াচ্ছে না, বক্স অফিসেও বেশ সাড়া ফেলেছে সিনেমাটি। যদিও সময়ের সঙ্গে বক্স অফিসে আয় ওঠানামা করছে। বলি মুভি রিভিউজের তথ্য অনুসারে, মুক্তির প্রথম দিনে ‘বর্ডার টু’ সিনেমা আয় করে ২৮ কোটি রুপি (নিট), দ্বিতীয় দিনে আয় করে ৩৫ কোটি রুপি (নিট), তৃতীয় দিনে আয় করে ৪৯ কোটি রুপি (নিট), চতুর্থ দিনে আয় করে ৫৩ কোটি রুপি (নিট), পঞ্চম দিনে আয় করে ১৯.৫ কোটি রুপি (নিট)। ৬ষ্ঠ দিনে আয় করে ১৩ কোটি রুপি (নিট), সপ্তম দিনে আয় করে ১১.২৫ কোটি রুপি (নিট), অষ্টম দিনে আয় করে ১০.২৫ কোটি রুপি (নিট), নবম দিনে আয় করে ১৬.৫ কোটি রুপি (নিট), দশম দিনে আয় করে ২০ কোটি রুপি (নিট), ১১ দিনে আয় করে ৫.৫ কোটি রুপি (নিট), ১২ দিনে আয় করে ৫.৫ কোটি রুপি (নিট)। যার মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৬৬ কোটি রুপি (নিট)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ৩৫৮ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৮১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। স্যাকনিল্কের তথ্য অনুসারে, ‘বর্ডার টু’ সিনেমা ১২ দিনে ভারতে আয় করেছে ২৮৬ কোটি রুপি (নিট)। ভারতে গ্রস আয় ৩৪২.৫০ কোটি রুপি। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটি আয় করেছে ৩৯২.৫০  কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫২৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ‘বর্ডার টু’ সিনেমায় যুদ্ধের ভয়াবহতা ও সৈন্যদের বীরত্বের গল্প বলেছেন নির্মাতারা। সিনেমাটির নারী চরিত্রে রয়েছেন—মোনা সিং, অন্যা সিং, সোনম বাজওয়া ও নবাগত মেধা রানা। সিনেমাটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি রুপি।