মনে হচ্ছে কঠিন পথ পার হতে পেরেছি : তৌসিফ মাহবুব

মনে হচ্ছে কঠিন পথ পার হতে পেরেছি : তৌসিফ মাহবুব প্রথম সিজনের ব্যাপক সাফল্যের পর ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে অরিজিনাল ওয়েব সিরিজ ‘চক্র ২’। ভিন্নধর্মী সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার এই সিরিজটি মুক্তির পরপরই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গত ২৬ মার্চ ভিকি জাহেদের পরিচালনায় ৮ পর্বের এই সিরিজটি অবমুক্ত করা হয়। মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ১০ লাখ মিনিটের বেশি দেখার রেকর্ড গড়েছে তারকাবহুল এই সিরিজ। মূলত ১৭ বছর আগে ময়মনসিংহের একটি পরিবারের ৯ সদস্যের আত্মহত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছে ‘চক্র’। প্রথম সিজনের রেশ ধরে এবার আরও টান টান উত্তেজনা নিয়ে এসেছে দ্বিতীয় সিজন। সিরিজটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব বলেন, এটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়েব সিরিজ। সেই হিসেবে মুক্তির আগে কিছুটা নার্ভাস ছিলেন তিনি। তবে দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এখন বেশ স্বস্তিতে। তৌসিফের ভাষ্য, মুক্তির পর দর্শকদের ফিডব্যাকে মনে হচ্ছে পুলসিরাত পার হতে পেরেছি। লন্ডন থেকেও দর্শকরা জানিয়েছেন তারা ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে সিরিজটি উপভোগ করছেন। নির্মাতা ভিকি জাহেদ জানান, বাংলাদেশে এর আগে কোনো ওয়েব সিরিজে এত বেশিসংখ্যক শিল্পী একসঙ্গে কাজ করেছেন কি না তা তার জানা নেই। এতে মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চক্র নির্মাণের পর থেকেই দর্শকরা প্রতিনিয়ত দ্বিতীয় সিজন সম্পর্কে জানতে চাইতেন। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই সিরিজটি নির্মাণ করা এবং দর্শকদের ভালোবাসা আমাদের মুগ্ধ করেছে। তারকাবহুল এই সিরিজে তৌসিফ মাহবুব ছাড়াও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন শাহেদ আলী, নাদের চৌধুরী, এ কে আজাদ সেতু, গাজী রাকায়েত, মেঘলা মুক্তাসহ আরও অনেকে। বর্তমানে আইস্ক্রিনে সিরিজটি দেখা যাচ্ছে।
অনন্যাকে ‘আপত্তিকর’ স্পর্শ, সমালোচনার মুখে করণ জোহর

অনন্যাকে ‘আপত্তিকর’ স্পর্শ, সমালোচনার মুখে করণ জোহর বড় সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে পড়েছেন বলিউড নির্মাতা ও প্রযোজক করণ জোহর। মূলত, অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডেকে ভরা মঞ্চে ‘আপত্তিকর’ভাবে স্পর্শ করার প্রেক্ষিতে নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েছেন এই প্রভাবশালী নির্মাতা। সম্প্রতি ‘কল মি বে’ সিরিজের দ্বিতীয় সিজনের প্রচারণা অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, অনন্যা পাণ্ডে যখন কথা বলছিলেন, তখন করণ জোহর আচমকা তার শরীরের পেছনের অংশে স্পর্শ করেন। আকস্মিক এই ঘটনায় অনন্যা কিছুটা চমকে উঠলেও পরক্ষণেই হাসিমুখে পরিস্থিতি সামলে নেন এবং পাপারাজ্জিদের সামনে একসঙ্গে পোজ দেন। তবে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের একটি বড় অংশ করণের এই আচরণকে ‘অস্বস্তিকর’ ও ‘অনভিপ্রেত’ বলে মন্তব্য করেছেন। করণের মতো একজন সিনিয়র ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয় বলে দাবি করেছেন অনেকে। এর আগেও সামাজিকমাধ্যমে অনন্যাকে করণের ‘আপত্তিকর স্পর্শ’ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। অন্য একটি অনুষ্ঠানে অনন্যার কোমরে করণের হাত দেওয়া এবং অনন্যার তা সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল। বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় করণের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। তবে এই ভাইরাল ভিডিও বা বিতর্ক নিয়ে এখন পর্যন্ত করণ জোহর বা অনন্যা পাণ্ডে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। উল্লেখ্য, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আমাজন প্রাইম ভিডিওতে দারুণ সাড়া ফেলেছিল অনন্যা পাণ্ডের ওয়েব সিরিজ ‘কল মি বে’। বর্তমানে এই সিরিজের দ্বিতীয় সিজনের কাজ চলছে, যেখানে অনন্যার দিদির চরিত্রে অভিনয় করছেন শ্রুতি হাসান। পেশাদার জীবনে অনন্যা ও করণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও জনসমক্ষে এমন আচরণ বিনোদন পাড়ায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সাঁতার জানতেন রাহুল, পাকস্থলিতে মিলেছে বালি

সাঁতার জানতেন রাহুল, পাকস্থলিতে মিলেছে বালি সদ্য়প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক সূত্র থেকে জানা গেছে, এই অভিনেতার পাকস্থলীতে প্রচুর পরিমাণে বালি ও নোনাজল পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার সময় গভীর পানির চাপে ও চোরাবালির কারণে তার শরীরে এই বালি ও পানি প্রবেশ করে। রোববার দিঘার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। রাহুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক জানান, অভিনেতা সাঁতার জানতেন। কিন্তু আকস্মিক পরিস্থিতিতে হয়তো নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন অথবা পানির গভীরতা বেশি থাকায় কুলিয়ে উঠতে পারেননি। ইউনিটের বেশ কয়েকজন কর্মী তাকে বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে ঝাঁপ দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চালকের অভিযোগ, শুটিং স্পটে জরুরি কোনো চিকিৎসকের ব্যবস্থা ছিল না, যা থাকলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। এদিকে আজ সকালে তমলুক হাসপাতালে রাহুলকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢল নামে হাজারো মানুষের। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরাও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন তার সহকর্মী ও স্বজনরা। নাট্যকর্মী জয়রাজ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, রাহুলের মরদেহ কলকাতার বিজয়গড়ে তার বাসভবন সংলগ্ন ভোলা বসু ভবনে রাখা হবে। সেখানে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন। বিকেলের দিকেই কলকাতায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে এই জনপ্রিয় অভিনেতার নিথর দেহের। প্রিয় অভিনেতার এমন বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না টলিপাড়ার শিল্পী ও কলাকুশলীরা।
ফের মা হলেন বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুর

ফের মা হলেন বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুর বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুর ও তার স্বামী আনন্দ আহুজার ঘর আলো করে এলো তাদের দ্বিতীয় সন্তান। ২৯ মার্চ পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে সোনম নিজেই এই খুশির খবর ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন।সোনম লিখেছেন, অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা নিয়ে তারা তাদের দ্বিতীয় ছেলের আগমনের কথা ঘোষণা করছেন। নতুন এই অতিথির আগমনে তাদের পরিবার পূর্ণতা পেয়েছে এবং বড় ভাই বায়ু তার ছোট ভাইকে স্বাগত জানাতে পেরে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। পরিবারের চার সদস্য হিসেবে জীবনের এই নতুন অধ্যায় শুরু করতে পেরে তারা নিজেদের ধন্য মনে করছেন। সোনমের এই ঘোষণার পরপরই বলিপাড়ায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। কারিনা কাপুর খান মন্তব্যের ঘরে দম্পতিকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, অভিনন্দন সোনম ও আনন্দ। এ ছাড়াও রিয়া কাপুর, হুমা কুরেশিসহ অনেক তারকা ও অনুরাগী হার্ট ইমোজি দিয়ে তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মা হতে যাওয়ার খবরটি প্রথম প্রকাশ্যে এনেছিলেন সোনম। ২০১৮ সালে আনন্দ আহুজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর ২০২২ সালের আগস্টে তাদের প্রথম সন্তান বায়ুর জন্ম হয়। চার বছর পর দ্বিতীয় সন্তানের আগমনে এখন কাপুর ও আহুজা পরিবারে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
আত্মার শান্তির গানে ফিরতে চান: প্রীতম

আত্মার শান্তির গানে ফিরতে চান: প্রীতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান নিজের ক্যারিয়ারের শুরুতেই ভিন্নধর্মী সলো প্রোজেক্ট দিয়ে দর্শকদের নজর কাড়েন। ‘জাদুকর’, ‘গার্লফ্রেন্ডের বিয়া’, ‘খোকা’একটির পর একটি গানে তৈরি হয় আলাদা পরিচিতি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি বাড়িয়ে চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকেও নিয়মিত হয়ে ওঠেন তিনি। বিশেষ করে আইটেম গানগুলোতে তার কণ্ঠ বেশ পরিচিত হয়ে ওঠে। তবে এবার সেই ধারা থেকে কিছুটা সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন এই শিল্পী। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে প্রীতম জানান, আপাতত সিনেমার ‘হাইপ তোলা’ ড্যান্স ট্র্যাক থেকে দূরে থাকতে চান তিনি। বৈচিত্র্যময় বা নতুন ধরনের কাজের সুযোগ না এলে এই ঘরানায় আর ফিরবেন না বলেও জানিয়েছেন। প্রীতম বলেন, তিনি আবার ফিরতে চান নিজের আগের সুর-ধারায়। “এখন আমি ‘শরতের শেষ থেকে’, ‘মরে যাক’, ‘খোকা’-এর মতো গানে ফিরে যেতে চাই। যেখানে হয়তো হাইপ কম, কিন্তু আত্মার শান্তি বেশি। তবে চলচ্চিত্রে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই শিল্পী। তিনি বলেন, “সিনেমার গান নিয়ে যারা তাকে সমর্থন করেছেন, এমনকি যারা সমালোচনা করেছেন সবাইকে তিনি ধন্যবাদ জানাতে চান। উল্লেখ্য, এবারের ঈদেও সিনেমার আইটেম গান শোনা গেছে প্রীতমের কণ্ঠ। শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স’ সিনেমার ‘জ্বালা জ্বালা’ গানটিতে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন কিংবদন্তি রুনা লায়লা-র সঙ্গে। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রোজেক্টের পরই আইটেম গান থেকে কিছুটা দূরে সরে আসবেন তিনি।সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রীতম হাসান। সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত সিরিজ ‘ক্যাকটাস’। শিহাব শাহীন পরিচালিত এই সিরিজে একজন হ্যাকারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি, যেখানে তার বিপরীতে রয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী।
আমি ধন্য এই সমর্থনই আমার অনুপ্রেরণা: শাকিব খান

আমি ধন্য এই সমর্থনই আমার অনুপ্রেরণা: শাকিব খান ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের জন্মদিন ছিল গত শনিবার (২৮ মার্চ)। বিশেষ এই দিনে দেশ-বিদেশের অগণিত ভক্ত ও সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে চলা উন্মাদনা ও শুভেচ্ছার জোয়ারে অভিভূত হয়ে এবার এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন এই মেগাস্টার। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভক্তদের উদ্দেশে শাকিব খান লিখেছেন, গতকাল আমার জন্মদিনে দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে আসা অগণিত ভালোবাসা এবং আন্তরিক শুভেচ্ছায় আমি এখনও অভিভূত। আমার পাশে থাকার জন্য এবং এই বিশেষ দিনটি এত উষ্ণতার সাথে উদযাপনের জন্য সকল শুভাকাঙ্ক্ষী ও গণমাধ্যমকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। এই ভালোবাসাই আমার শক্তি, এই সমর্থনই আমার অনুপ্রেরণা। আমি কথা দিচ্ছি, আপনাদের সবসময় আমার সেরাটা দিয়ে যাব। কৃতজ্ঞ, বিনম্র এবং সত্যিই ধন্য। বর্তমানে ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রিন্স’ সিনেমা দিয়ে প্রেক্ষাগৃহে রাজত্ব করছেন শাকিব খান। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই ছবিটি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে ‘প্রিন্স’ নিয়ে আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন চমক নিয়ে হাজির হলেন এই নায়ক। তার নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’ এর ফার্স্ট লুক পোস্টার শেয়ার করেছেন তিনি। এর আগে নির্মাতা পক্ষ থেকে কথা দেওয়া হয়েছিল শাকিবের জন্মদিনেই ছবিটির প্রথম ঝলক প্রকাশ করা হবে। সেই কথা রাখতেই মেগাস্টার নিজে সকালে পোস্টারটি ভক্তদের উপহার দেন। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন শাকিব খান। সেখানে সিনেমার কলাকুশলীদের সঙ্গে নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন তিনি। যেখানে তাকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে।
বিনোদন দুনিয়া থেকে কর্পোরেট জগতে মাধুরী

বিনোদন দুনিয়া থেকে কর্পোরেট জগতে মাধুরী রূপালি পর্দার সাফল্যের পর এবার ব্যবসায়িক জগতে পা রাখলেন অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত। মুম্বাইয়ের একটি প্রিমিয়াম এলাকায় ‘ওয়ান লোধা প্লেস’-এ দীর্ঘমেয়াদি কমার্শিয়াল অফিস স্পেস লিজে নিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, অফিস ইউনিটের আয়তন প্রায় ৭৩১ বর্গফুট এবং সঙ্গে রয়েছে একটি পার্কিং স্পেস। চুক্তিতে স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি সিকিউরিটি ডিপোজিটও জমা রাখা হয়েছে। লিজ চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং প্রাথমিক মাসিক ভাড়া ধরা হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। প্রতি বছর ভাড়া বাড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এই অফিস স্পেসে মাধুরী কর্পোরেট উদ্যোগ, নতুন ব্যবসায়িক প্রজেক্ট বা ব্র্যান্ড সংক্রান্ত কাজ শুরু করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই পদক্ষেপটি তার বিনোদন থেকে ব্যবসা জগতে সম্প্রসারণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পূজা দিতে গিয়ে বিপাকে বিজয়-রাশমিকা

পূজা দিতে গিয়ে বিপাকে বিজয়-রাশমিকা ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে উদয়পুরে রাজকীয় পরিবেশে বিয়ে সম্পন্ন করেছেন বিজয় দেবরকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। বিবাহের পর থেকেই তাঁরা বিভিন্ন ধর্মীয় আচার, মন্দির দর্শন এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। কয়েক দিন আগে থাইল্যান্ড ভ্রমণ শেষ করে দেশে ফেরার পর, বিবাহের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে অনন্তপুরের বিখ্যাত অঞ্জনেয় স্বামী মন্দিরে পূজা দিতে যান তারা। রাশমিকা ঐতিহ্যবাহী কুর্তি ও ডেনিম পরেছিলেন, গলায় মঙ্গলসূত্র, আর বিজয় সাদামাটা পাঞ্জাবি-পাজামায় উপস্থিত হন। মন্দিরে তাঁদের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় ক্রমেই বাড়তে থাকে। উত্তেজিত অনুরাগীরা ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তাদের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করেন, যা পরিস্থিতিকে কিছু সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে ভিড় সামাল দেন। কোনও বড় অঘটন ছাড়াই শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন করেন নবদম্পতি।
হলিউডের ডলবি থিয়েটার থেকে সরে আসছে অস্কার আয়োজন

হলিউডের ডলবি থিয়েটার থেকে সরে আসছে অস্কার আয়োজন বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অস্কার ২০২৯ সাল থেকে আর হলিউডে আয়োজন করা হবে না জানিয়েছে আয়োজক সংস্থা। অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস জানিয়েছে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত হলিউডের ডলবি থিয়েটারে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হবে। এরপর ২০২৯ সাল থেকে এটি লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পিকক থিয়েটারে আয়োজন করা হবে। নতুন ভেন্যু পিকক থিয়েটারটি লা লাইভ কমপ্লেক্সের অংশ, যা ক্রিপ্টো ডটকম অ্যারেনার পাশেই অবস্থিত— এটি এনবিএ দল লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের হোম গ্রাউন্ড। অ্যাকাডেমির প্রধান নির্বাহী বিল ক্রেমার এবং প্রেসিডেন্ট লিনেট হাওয়েল টেইলর জানান, ১০১তম অস্কারসহ ভবিষ্যতের আয়োজনগুলো এলএ লাইভকে কেন্দ্র করে আরও বড় পরিসরে উদযাপন করা হবে। তিনি বলেন, ‘১০১তম অস্কার আসর এবং তার পরবর্তী আয়োজনগুলো সামনে রেখে, আমরা অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস-এর পক্ষ থেকে (মালিক) এইজি-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’ তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো— লা লাইভকে এমন এক আদর্শ মঞ্চে রূপ দেওয়া, যেখানে একদিকে সরাসরি হলে উপস্থিত দর্শকরা অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন, অন্যদিকে বিশ্বের নানা প্রান্তের সিনেমাপ্রেমীরাও এই বৈশ্বিক উদযাপনের অংশ হতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আয়োজকরা এএইজির সঙ্গে ১০ বছরের একটি চুক্তি করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত টেলিভিশন সম্প্রচার থেকে সরে এসে ভবিষ্যতে অনুষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী ইউটিউবের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হবে। উল্লেখ্য, ১৯২৯ সালে প্রথম অস্কারের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত হলিউড রুজভেল্ট হোটেলে। এরপর ১৯৬০-এর দশকের বেশিরভাগ সময় এটি সান্তা মনিকা শহরে আয়োজন করা হয়। ২০০২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ডলবি থিয়েটারে অস্কারের আয়োজন হলেও এবার এ ঠিকানাতেও বদল আনছে অস্কারের আয়োজক সংস্থা।
বনলতা এক্সপ্রেস: শুরুতে ধীরগতির ট্রেন, শেষে আবেগের ঝড়

বনলতা এক্সপ্রেস: শুরুতে ধীরগতির ট্রেন, শেষে আবেগের ঝড় একটা চলচ্চিত্র শেষ হওয়ার পর যখন দর্শকরা দাঁড়িয়ে চোখ মুছতে মুছতে হাততালি দেয়, তখন সেই সিনেমা ভালো না খারাপ এই প্রশ্নটা অনেকটাই ছোট হয়ে যায়। বড় হয়ে ওঠে দর্শকের অনুভূতি, ভালো লাগার স্বার্থকতা। বনলতা এক্সপ্রেস দেখার পর ঠিক এমনই একটা অনুভূতি কাজ করে। গত কয়েক বছরে ঈদের সিনেমা মানেই যেন অ্যাকশন, ক্রাইম, থ্রিলার। মারামারি আর উত্তেজনার ভিড়ে পরিবার নিয়ে বসে দেখার মতো গল্প কিছুটা কম ছিল। সেই জায়গা থেকে গত ঈদে উৎসব দিয়ে আলাদা নজর কাড়েন পরিচালক তানিম নূর। এবার তিনি ফিরেছেন বনলতা এক্সপ্রেস নিয়ে, যেখানে ফ্যামিলি অডিয়েন্সকে আবারও নিয়ে আসা হয়েছে সিনেমা হলে। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্র দেখতে বসে অনেক দিন পর মনে হয়েছে, যেন তাঁর চেনা জগতে আবার ফিরে যাওয়া। এক ধরনের নস্টালজিয়া পুরো সময়জুড়ে কাজ করে। তানিম নূর নিজের নির্মাণশৈলী ধরে রেখেই গল্পটা তুলে ধরেছেন। গল্পের দিক থেকে এটি একেবারেই হুমায়ুনীয়। চঞ্চলতা, আবেগ আর একাধিক চরিত্রের ভেতরে আলাদা আলাদা গল্প। পুরো বিষয়টাই যেন এক যাত্রাপথ, যেখানে একসঙ্গে অনেকগুলো জীবনের টুকরো জুড়ে যায়। চিত্রনাট্যের শুরুটা কিছুটা ধীর। চরিত্রগুলোর সঙ্গে পরিচিত হতে সময় নেয়। কিছু সংলাপ একটু দীর্ঘ মনে হয়, কিছু জায়গায় কাটছাঁট করা যেত। তবে ইন্টারভালের পর গতি বদলে যায়। একে একে চরিত্রগুলোর গল্প খুলতে থাকে, আর দর্শক ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকে যায়। শেষটা এসে বরং মনে হয়, আরও কিছুক্ষণ চলতে পারত। অভিনয়ের জায়গায় সিনেমাটি শক্ত অবস্থানে। মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, আজমেরী হক বাঁধন, সাবিলা নূর, শরিফুল রাজ, শ্যামল মাওলা, জাকিয়া বারী মম একসঙ্গে একটি সমৃদ্ধ কাস্ট তৈরি করেছেন। মোশাররফ করিম এই সিনেমার কেন্দ্রবিন্দু, বরং বলা যায় এই গল্পের মূল চালিকাশক্তি। সাবলীল অভিনয়, নিখুঁত ডায়লগ ডেলিভারি, আবেগের জায়গাগুলোতে দখল, আবার প্রয়োজনমতো হালকা হাস্যরস, ইন্টেন্স মুহূর্ত কিংবা রাগ। সবকিছু তিনি এমনভাবে ক্যারি করেছেন, যা আলাদা করে চোখে পড়ে। শুধু নিজের চরিত্রটাকে জীবন্ত করাই না, অনেক জায়গায় অন্য অভিনেতাদেরও টেনে নিয়ে গেছেন। পুরো সিনেমা জুড়ে তাঁর উপস্থিতি একটা শক্ত ভিত তৈরি করে। অভিনয়ের কথা বলতে গেলে শরিফুল রাজকে নিয়ে একটা আফসোস থেকেই যায়। তিনি ভালো করেন, কিন্তু বারবারই দেখা যায় তাঁর পাশেই কেউ না কেউ আরও বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন। এখানে সেই জায়গাটা দখল করে নিয়েছেন মোশাররফ করিম। রাজ নিজের জায়গায় ঠিকই ছিলেন, কিন্তু আলোটা পুরোপুরি নিজের দিকে টানতে পারেননি। চঞ্চল চৌধুরী যতটুকু সময় পেয়েছেন, নিজের মতোই স্বাভাবিক ছিলেন। তবে একটি জায়গায় মনে হয়েছে, কিছুটা জোর করে নৈতিকতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা এসেছে, যা পরিচালনার সিদ্ধান্ত বলেই মনে হয়। জাকিয়া বারী মম আবেগের জায়গাগুলো সুন্দরভাবে ধরে রেখেছেন। শ্যামল মাওলা, সাবিলা নূর এবং ছোট্ট মেয়েটির অভিনয়ও ভালো লেগেছে। শ্যামল মাওলার ছোট কন্যার চরিত্রে তৃধা পাল মান আলাদা করে নজর কাড়ে। শামীমা নাজনীন চরিত্রে আবেগের সঙ্গে হালকা কমিক রিলিফ এনে দিয়েছেন, যা গল্পের ভারসাম্য ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। আজমেরী হক বাঁধন কম স্ক্রিনটাইম পেয়েছেন। কোথাও কোথাও অভিনয়ে কিছুটা চাপানো অনুভূতি এসেছে। মাশা ইসলামের অভিনয় কিছুটা ওভার মনে হয়েছে। এছাড়া বাকি সবাই নিজ নিজ জায়গায় সাবলীল ছিলেন। পুরো গল্পের লোকেশন মূলত একটি ট্রেন, দুই থেকে তিনটি বগির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবুও একঘেয়েমি আসে না, যা পরিচালনার একটি বড় সাফল্য। মিউজিক এই সিনেমার আলাদা একটি শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। অর্থহীন থেকে শুরু করে আইয়ুব বাচ্চুর গান। যারা বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিক ভালোবাসেন, তাদের জন্য এখানে আলাদা এক আবেগ কাজ করবে। বিশেষ করে প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুর গান অনেকের মধ্যেই নস্টালজিয়ার সঙ্গে আবেগ মিশিয়ে দেবে। এর সঙ্গে অর্ণবের গান যোগ হয়ে একটি ভিন্ন মাত্রা তৈরি করেছে। এছাড়াও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর পুরো গল্পের সঙ্গে সাবলীলভাবে মিশে গেছে। শুরুটা স্লো হলেও ইন্টারভালের পর পুরো সিনেমা এক ধরনের ইমোশনাল জার্নিতে পরিণত হয়। শেষটা রেখে যায় একটা শান্ত, ফিলগুড অনুভূতি। পরিবার নিয়ে বসে দেখার মতো গল্প খুঁজছেন যারা, তাদের জন্য বনলতা এক্সপ্রেস হতে পারে স্বস্তির একটি যাত্রা।