বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেত্রী এখন জোয়ি সালডানা

বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেত্রী এখন জোয়ি সালডানা বৈচিত্রময় সব চরিত্রের মাধ্যমে তিনি দর্শকের মন জয় করে চলেছেন। এবার লিখলেন দারুণ এক ইতিহাস। সবশেষ জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ দিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন অভিনেত্রী জোয়ি সালডানা। তিনিই এখন বিশ্বের সবচেয়ে ব্যবসাসফল অভিনয়শিল্পী প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের তিনটি সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমায় অভিনয় করেছেন সালডানা। সেগুলো হলো- ২০০৯ সালের ‘অ্যাভাটার’, ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ও ২০২২ সালের ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’। এছাড়া তিনি প্রথম নারী অভিনেত্রী যিনি চারটি ছবিতে দুটি বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে ২০১৮ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়্যার’ ছবিটি। মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে গ্যামোরা চরিত্রে তিনটি ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি’ ছবিতে অভিনয় করেছেন জোয়ি সালডানা। পাশাপাশি ‘স্টার ট্রেক’ ট্রিলজিতে তিনি অভিনয় করেছেন নিয়োটা উহুরা চরিত্রে, যে সিরিজের মোট আয়ও এক বিলিয়ন ডলারের বেশি। ২০২৪ সাল পর্যন্ত সালডানার সিনেমাগুলোর মোট আয় ছিল ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি, তখন তিনি ছিলেন স্কারলেট জোহানসন ও স্যামুয়েল এল জ্যাকসনের পর তৃতীয় স্থানে। কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ একাই আয় করেছে ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার, যা তাকে একলাফে শীর্ষে তুলে এনেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালডানা একটি ভিডিও পোস্ট করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‌‘আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ, এই অসাধারণ যাত্রার জন্য যা আমাকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেত্রী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এই অর্জন সম্ভব হয়েছে আমি যেসব প্রকল্পে কাজ করেছি সেগুলোর অসাধারণ টিম এবং পরিচালকদের জন্য। ‘স্টার ট্রেক’ পরিচালক জে. জে. অ্যাব্রামস, ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ পরিচালক জো ও অ্যান্থনি রুসো, ‘গার্ডিয়ানস’ পরিচালক জেমস গানের এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ‘অ্যাভাটার’-এর জেমস ক্যামেরনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আপনাদের বিশ্বাস এবং দিকনির্দেশনা কেবল এই ছবিগুলোকেই নয়, আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছে।’ভক্তদের উদ্দেশ্যে সালডানা বলেন, ‘আপনারা ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। এই সাফল্য আমাদের সকলের। আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’একইসঙ্গে পরবর্তী রেকর্ড ভাঙার ব্যক্তি আবার একজন নারীই যেন হন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। ২০২৫ সাল জোয়ি সালডানার ক্যারিয়ারে ছিল স্মরণীয়। মার্চে তিনি ‘এমিলিয়া পেরেজ’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জেতেন। এর মাধ্যমে তিনি হন প্রথম ডোমিনিকান-আমেরিকান অভিনেত্রী, যিনি একাডেমি পুরস্কার জিতেছেন।জাক অদিয়ার পরিচালিত এই সংগীতধর্মী ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়। এরপর সালডানা জিতে নেন স্যাগ অ্যাওয়ার্ড, বাফটা, গোল্ডেন গ্লোব ও ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ড-পুরো মৌসুমেই ছিল তার একচ্ছত্র দাপট। ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এ সালডানা আবার ফিরেছেন নাভি যোদ্ধা নেইতিরি চরিত্রে। মানব থেকে নাভি হয়ে ওঠা নেতা জেক সালির (স্যাম ওয়ারথিংটন) সঙ্গে নেইতিরির সম্পর্কই এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল আবেগ। নীল রঙের, আট ফুট লম্বা এই চরিত্রে রূপ দিতে ব্যবহৃত হয়েছে জেমস ক্যামেরনের উদ্ভাবিত পারফরম্যান্স ক্যাপচার প্রযুক্তি। সালডানা বলেন, ‘এই জগৎ এত বাস্তব মনে হয়, কারণ অভিনয়টাই জিমের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পারফরম্যান্স ক্যাপচার আমাদের সব মনোযোগ আর আবেগ দৃশ্যের ভেতর ঢেলে দেওয়ার সুযোগ দেয়। জোয়ি সালডানাকে আবার দেখা যাবে ‘অ্যাভাটার ৪’ (ডিসেম্বর ২০২৯) ও ‘অ্যাভাটার ৫’-এ (ডিসেম্বর ২০৩১)। অর্থাৎ বক্স অফিসে তাঁর আধিপত্য আরও বাড়বে-এটা বলাই যায়। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির প্যাসাইকে জোয়ি সালডানার জন্ম। তার শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে নিউ ইয়র্কের কুইন্সে। পুয়ের্তো রিকান মা ও ডোমিনিকান বাবার ঘরে জন্ম নেওয়া তিনি ও তার দুই বোন ঘরে স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে বড় হয়েছেন। তবে তার বয়স যখন মাত্র ৯, তখন এক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবার মৃত্যু হয়। এরপর পরিবারসহ তিনি ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে চলে যান। সেখানে ইকোস এস্পাসিও দে দান্সা নৃত্যশালায় নৃত্যের প্রশিক্ষণ নেন। ১৭ বছর বয়সে তিনি আবার নিউ ইয়র্কে ফিরে আসেন এবং যুব থিয়েটার দলগুলোর সঙ্গে অভিনয় শুরু করেন। ২০০৯ সালটা ছিল জোয়ি সালডানার ক্যারিয়ারে মোড় ঘোরানো বছর। ওই বছরই তিনি একসঙ্গে দুটি আইকনিক চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। প্রথমত, জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজের চরিত্রগুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা সিনেমা ‘স্টার ট্রেক’-এ তিনি লেফটেন্যান্ট উহুরার চরিত্রে অভিনয় করেন। একই বছরে মোশন ক্যাপচার প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি জেমস ক্যামেরনের বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘অ্যাভাটার’-এ নেইতিরি চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। এরপর কেবলই নতুন নতুন সাফল্যে নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।  

‘কিং’ মুক্তির আগেই আইএমডিবির শীর্ষে

‘কিং’ মুক্তির আগেই আইএমডিবির শীর্ষে তিন বছর পর সিনেমায় প্রত্যাবর্তন করতে যাচ্ছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। চলতি বছরেই এ অভিনেতার বহুল আলোচিত ছবি ‘কিং’ মুক্তি পেতে চলেছে। তবে প্রেক্ষাগৃহে আসার আগেই নতুন করে কীর্তি গড়ল সিনেমাটি। সেটা হল, চলতি বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সিনেমাগুলো নিয়ে একটি তালিকা করেছে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তথ্যভাণ্ডার ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজ (আইএমডিবি)। এই তালিকারই শীর্ষস্থান দখল করেছে ‘কিং’। আইএমডিবি থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বব্যাপী দর্শকদের প্রকৃত আগ্রহ ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রতি মাসে প্ল্যাটফর্মটিতে আসা প্রায় ২৫ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীর পেজভিউ বিশ্লেষণ করে এই র‍্যাংকিং করা হয়, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভারতীয় সিনেমার প্রতি দর্শকের বাড়তি আগ্রহকেই প্রতিফলন করে। ২০২৬ সালের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমার যে তালিকা আইএমডিবি প্রকাশ করেছে সেখানে মোট ২০টি ছবি জায়গা করে নিয়েছে। মোট পাঁচটি ভাষায় নির্মিত এই ছবিগুলোর মধ্যে অর্ধেকই আবার হিন্দি ভাষার। আর তেলেগু ভাষার সিনেমা রয়েছে পাঁচটি, তামিল ভাষার তিনটি এবং মালয়ালম ও কন্নড় ভাষার একটি করে সিনেমা স্থান দখল করেছে। তালিকায় সবার উপরে রয়েছে শাহরুখ খানের ‘কিং’। এরপর দ্বিতীয় স্থানে আছে নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত ও রণবীর কাপুর অভিনীত ‘রামায়ণ পার্ট ১’। তৃতীয় স্থানে আছে এইচ ভিনোথ পরিচালিত থালাপতি বিজয় অভিনীত মুক্তির শঙ্কায় থাকা আলোচিত ছবি ‘জন নায়াগন’। চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে প্রভাস অভিনীত ও সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা পরিচালিত ‘স্পিরিট’। আর পঞ্চম স্থানে গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’, যেখানে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন যশ। এ সিনেমাটি ইতোমধ্যেই প্রকাশিত টিজার দিয়েই নেটদুনিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এদিকে, ২০২৩ সালের দুই ব্লকবাস্টার সিনেমা মুক্তির পর আবারও বিগ বাজেটের ছবি দিয়ে রুপালি পর্দায় ফিরতে যাচ্ছেন শাহরুখ। তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে ভক্ত-অনুরাগীরাও কতটাও উচ্ছ্বসিত সেটা আইএমডিবির তালিকা থেকেই স্পষ্ট। এবারও কি বক্স অফিসে ঝড় তুলবেন বলিউডের কিং? সেটা সময়ই বলে দিবে।

‘সুলতানাস ড্রিম’ সিনেমায় কী আছে

‘সুলতানাস ড্রিম’ সিনেমায় কী আছে বাঙালি মুসলমান নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তার কালজয়ী রচনা ‘সুলতানার স্বপ্ন’ অবলম্বনে নির্মিত অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘সুলতানাস ড্রিম’ এবার বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে আসছে। নারী অধিকার, কল্পনা ও মুক্তচিন্তার এক অনন্য ভুবন নিয়ে তৈরি সিনেমাটি আগামী ১৬ জানুয়ারি স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাবে। অনগ্রসর বাঙালি সমাজে নারীদের অবহেলার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বেগম রোকেয়া যে স্বপ্ন দেখেছিলেন-নারীরা নিজেদের অধিকারে মাথা তুলে দাঁড়াবে-সেই ভাবনাকেই গল্পের মূল উপজীব্য করেছেন স্প্যানিশ নির্মাতা ইসাবেল হারগুয়েরা। স্প্যানিশ ভাষায় নির্মিত ৮৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই অ্যানিমেশন সিনেমার মূল নাম ‘এল সুয়েনো দে লা সুলতানা’, যার ইংরেজি শিরোনাম ‘সুলতানাস ড্রিম’। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ সান সেবাস্তিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়। এরপর ইউরোপিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, গোয়া ফেস্টিভ্যাল, ফিল্মফেস্ট হামবুর্গ, লিডস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রশংসা কুড়িয়েছে সিনেমাটি। উল্লেখ্য, ১৯০৫ সালে ইংরেজিতে প্রকাশিত ‘সুলতানাস ড্রিম’ তৎকালীন ভারতবর্ষে, বিশেষ করে বাংলায় নারীবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ ও একটি বৈপ্লবিক কল্পকাহিনি হিসেবে পরিচিতি পায়। পরে ১৯২২ সালে বেগম রোকেয়া নিজেই কিছু পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে গ্রন্থটি ‘সুলতানার স্বপ্ন’ নামে বাংলায় অনুবাদ করেন। এই গল্পের সঙ্গে নিজের পরিচয়ের কথাও জানিয়েছেন নির্মাতা ইসাবেল হারগুয়েরা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০১২ সালে দিল্লি সফরের সময় প্রবল বৃষ্টিতে একটি আর্ট গ্যালারিতে আটকে পড়েন তিনি। সেখানেই তার হাতে আসে ‘সুলতানাস ড্রিম’ বইটি। ইসাবেলের ভাষায়, ‘এত বছর আগে লেখা একটি বই, যেখানে নারীদের জন্য কল্পিত এক ভিন্ন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখানো হয়েছে-পড়ে আমি বিস্মিত হই। প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ার মতো। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, এটা নিয়ে সিনেমা বানাবো। সুলতানাস ড্রিম’ ইসাবেল হারগুয়েরার প্রথম ফিচার ফিল্ম। জিয়ানমার্কো সেরার সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এর চিত্রনাট্য লিখেছেন। সিনেমাটিতে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ ও বাস্কসহ একাধিক ভাষার ব্যবহার রয়েছে। এতে কলকাতার সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের লেখা একটি গানও রয়েছে, যার সংগীতায়োজন করেছেন তাজদির জুনায়েদ এবং কণ্ঠ দিয়েছেন দীপান্বিতা আচার্য। স্পেন ও জার্মানির পাঁচটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রে বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন, সাহস ও প্রত্যয়ের গল্প নতুন প্রজন্মের দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে ভিন্নমাত্রিক শিল্পভাষায়।

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শাড়ি মায়ের শাড়িগুলো : ফারিণ

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শাড়ি মায়ের শাড়িগুলো : ফারিণ মায়ের প্রতি সন্তানের আবেগ-দুর্বলতা ব্যাখ্যাতীত। বিশেষ করে মায়ের শাড়ির সঙ্গে কন্যার নানারকম স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। শোবিজ অঙ্গনের অনেক অভিনেত্রী তার মায়ের পুরোনো শাড়ি পরে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। এবার মায়ের শাড়ি নিয়ে আবেগময় গল্প শুনালেন অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ফারিণ তার ফেসবুকে বেশ কটি ছবি পোস্ট করেছেন। এসব ছবিতে দেখা যায়, শাড়িতে সেজেছেন এই আলোচিত অভিনেত্রী। কেবল তাই নয়, ছবির ক্যাপশনে মায়ের প্রতি প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে ফারিণ বলেন, “প্রত্যেকটা মেয়ের শাড়ি পরার শখ জন্মায় মাকে দেখে। ছোটবেলা থেকে আম্মুর আলমারি ভর্তি শাড়ি দেখতাম আর ভাবতাম কবে বড় হবে। কবে বড়দের মতো শাড়ি পরে বিয়ে খেতে যাব মজার মজার। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শাড়ি তাসনিয়া ফারিণের মায়ের সংগ্রহে রয়েছে; যা তার ভীষণ প্রিয়। তার ভাষায় “এখনো আম্মু কোনো শাড়ি কিনলে আম্মুর আগে আমার-ই পরা হয়। কিছু শাড়ি তো আমার মা কখনো পরেই নাই। আমি নিয়ে রেখে দিছি। আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শাড়ি হচ্ছে আমার মায়ের শাড়িগুলো। মায়ের ভালোবাসায় অভিভূত হয়ে তাসনিয়া ফারিণ বলেন, “আমার তো মনে হয়, আম্মু আসলে কিছু শাড়ি আমার পরার জন‍্য ইচ্ছা করে কিনে আলমারিতে উঠায় রাখে। মায়েরা হয়তো এমনই। মায়ের শাড়িতে তাসনিয়া ফারিণকে দেখে দর্শকরা যেমন মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন, তেমনিই ‘মা ও শাড়ি’ নিয়ে ফারিণের বক্তব্য নেটিজেনদের মনে নাড়া দিয়েছে। অন্তরা নামে একজন লেখেন, “হ্যাঁ দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর মায়ের শাড়ি, মায়ের শাড়ি পরে বড় হই আমরা, আবার আমরাও মা হয়ে ওঠি।” কৌশিক বাবু লেখেন, “বাহ কি চমৎকার বাংলা লেখা। নিজের অনুভূতিগুলি শেয়ার করলেন ফারিণ। ভালো থাকুন আর সবসময় মায়ের শাড়িগুলি পরার চেষ্টা করবেন।” এমন অসংখ্য মন্তব্য ভেসে বেড়াচ্ছে কমেন্ট বক্সে।

মুক্তি পেল ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’

মুক্তি পেল ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’ দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) থেকে প্রদর্শিত হচ্ছে এই চলচ্চিত্রটি। রাজনৈতিক আলোচনা নিয়ে সমাজে থাকা ‘ট্যাবু’ ভাঙার গল্প নিয়ে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন সংগীতশিল্পী আহমেদ হাসান সানি। জানা গেছে, স্টার সিনেপ্লেক্সের পাঁচটি শাখায় দেখা যাচ্ছে সিনেমাটি। এর মধ্যে সিনেপ্লেক্সের বসুন্ধরা শাখা, ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভার, মিরপুরের সনি স্কয়ার, উত্তরার সেন্টার পয়েন্ট এবং চট্টগ্রামের বালি আর্কিডে মোট ১৪টি শোতে প্রদর্শিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ঘিরে চলচ্চিত্রটির পটভূমি; পাশাপাশি এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসও তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমা নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে আহমেদ হাসান সানি সংবাদমাধ্যমে বলেন, এটি নির্মাণ করা ছিল এক অদ্ভুত, কঠিন কিন্তু সুন্দর অভিজ্ঞতা। ভিন্ন ধরনের কিছু দেখানোর চেষ্টা করেছি, আশা করছি দর্শক সিনেমাটির সঙ্গে আবেগী সংযোগ খুঁজে পাবেন। এর আগে এই সংগীতশিল্পী বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে এটি তার প্রথম কাজ। সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। আরও অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, তানভীর অপূর্ব, এ কে আজাদ সেতু, কেয়া আলমসহ অনেকে। ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন খালিদ মাহমুদ।

বচ্চন পরিবারে বিদ্যার দৌড়ে কে এগিয়ে?

বচ্চন পরিবারে বিদ্যার দৌড়ে কে এগিয়ে? ভারতের বিখ্যাত বচ্চন পরিবারের সবাই সুপারস্টার। দেশের অধিকাংশ মানুষই বচ্চন পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে অনেক তথ্য জানেন। বলি শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন ও বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জয়া বচ্চন, অভিষেক বচ্চন ও সাবেক বিশ্বসুন্দরী অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই এবং অগস্ত্য নন্দা। বিগবি অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের প্রেমের গল্প যেভাবে শুরু হয়েছিল, তা কারও অজানা নেই। অন্যদিকে অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের বিয়ে, সন্তান ও ডিভোর্স-চর্চা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে জল্পনা-কল্পনার কোনো অন্ত নেই। কিন্তু আপনি কি জানেন? বচ্চন পরিবারের কোন সদস্য বেশি শিক্ষিত? নিখিল নন্দা ও তার স্ত্রী শ্বেতা বচ্চন পরিবারের সবচেয়ে শিক্ষিত। দুজনেরই বিজনেস ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি রয়েছে। অমিতাভ বচ্চন এলাহাবাদের বয়েজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর নৈনিতালের শেরউড কলেজে ভর্তি হন। এরপর তিনি কিরোরী মাল কলেজ থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। অন্যদিকে জয়া বচ্চন ভোপালের সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট স্কুল এবং পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এফটিআইআই) থেকে পড়াশোনা করেছেন। তিনি ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আর অভিষেক বচ্চন মুম্বাইয়ের বোম্বে স্কটিশ স্কুল শেষে সুইজারল্যান্ডের এগলন কলেজ থেকে স্কুল এডুকেশন শেষ করেছেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস নিয়ে লেখাপড়া করছিলেন। তবে অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেন। অন্যদিকে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন মুম্বাইয়ের আর্য বিদ্যা মন্দির হাই স্কুল থেকে দশম শ্রেণি পাশ করেছিলেন। এরপর তিনি জয় হিন্দ কলেজ ও ডিজি রুপারেল কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। পরে তিনি রচনা সংসদ একাডেমি অব আর্কিটেকচারের ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার কোর্সে ভর্তি হন, কিন্তু মডেলিং ও অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেন। অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের মেয়ে শ্বেতা বচ্চন নন্দা নয়াদিল্লির মডার্ন স্কুলে পড়ার পর দেরাদুনের বিখ্যাত দুন স্কুল থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করেন। এরপর তিনি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের নাতনি নভ্যা নাভেলি নন্দা নিউইয়র্কের ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি ডিজিটাল টেকনোলজি ও ইউএক্স ডিজাইনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের নাতি অগস্ত্য নন্দা লন্ডনের সেভেনোয়াকস স্কুলে পড়াশোনা করেন। তবে তাদের কোন কোর্সের ডিগ্রি রয়েছে, সে সম্পর্কে তথ্য ইন্টারনেটে পাওয়া যায় না। নিখিল নন্দা বচ্চন পরিবারের জামাই এবং এসকর্টস কুবোটা লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর (সিএমডি), শ্বেতা বচ্চনের স্বামী। তিনি দেরাদুনের দুন স্কুলে পড়েন এবং তারপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্টন স্কুল থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি অর্জন করেন। সবকিছু বিশ্লেষণ করে জানা যায়, নিখিল নন্দা ও তার স্ত্রী শ্বেতা বচ্চন পরিবারের সবচেয়ে শিক্ষিত। দুজনেরই বিজনেস ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি রয়েছে।

বোনের বিয়েতে কৃতির আবেগঘন স্মৃতিচারণ

বোনের বিয়েতে কৃতির আবেগঘন স্মৃতিচারণ বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননের ছোট বোন নূপুর শ্যানন। দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর নূপুরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সংগীতশিল্পী স্টেবিন বেন। দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে হিন্দু ও খ্রিস্টান উভয় রীতিতেই সম্পন্ন হয়েছে এই জমকালো আয়োজন। বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা ও আনন্দঘন মুহূর্ত শেষ হলেও বিদায়ের ক্ষণে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কৃতি শ্যানন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শৈশব থেকে বর্তমান পর্যন্ত বোনের সঙ্গে কাটানো নানা স্মৃতির ছবি শেয়ার করে নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। এক আবেগঘন পোস্টে কৃতি লেখেন, ‘আমি বলে বোঝাতে পারব না ঠিক কী অনুভব করছি। আমার ছোট্ট বোনটার নাকি বিয়ে হয়ে গেল! যখন আমার বয়স মাত্র পাঁচ বছর, তখন ওকে প্রথম কোলে নিয়েছিলাম। আর আজ সেই হাত দিয়েই ওর বিয়ের গাঁটছড়া বেঁধে দিলাম। নূপুর, তুই আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী কনে। ভগ্নিপতি স্টেবিন বেনকে উদ্দেশ করে কৃতি লেখেন, ‘গত পাঁচ বছর ধরেই তুমি আমাদের পরিবারের অংশ। আজ তা পূর্ণতা পেল। পোস্টের শেষাংশে কৃতি আরও লেখেন, ‘আমি সারাজীবনের জন্য কেবল একজন ভাই নয়, বরং একজন ভালো বন্ধুও পেলাম। তোমাদের দু’জনের বিয়ের মুহূর্তটা আমার জীবনের সবচেয়ে আবেগপ্রবণ স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে থাকবে। তবে মনে রেখো স্টেবিন, নূপুর আমার জান। আমি ওকে তোমার হাতে তুলে দিচ্ছি না, বরং তোমাকে আমাদের শ্যানন পরিবারে স্বাগত জানাচ্ছি। কৃতির এই আবেগঘন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়েছে। শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় ভাসছেন নবদম্পতি নূপুর শ্যানন ও স্টেবিন বেন।

মত প্রকাশে কখনোই রাখঢাক করেন না আসিফ

মত প্রকাশে কখনোই রাখঢাক করেন না আসিফ   স্পষ্টভাষী হিসেবে শিল্পীসমাজে আলাদা পরিচিতি রয়েছে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের। নিজের ভাবনা কিংবা মতামত প্রকাশে তিনি কখনোই রাখঢাক করেন না। এ কারণেই প্রশংসার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় তাকে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে হাজির হন আসিফ আকবর। অনুষ্ঠানে উপস্থাপক দেশের কয়েকজন তারকার নাম উল্লেখ করে জানতে চান—তাদের সামনে পেলে কী প্রশ্ন করতে চান এই সোজাসাপ্টা গায়ক। এ সময় চিত্রনায়িকা পরীমণিকে নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান আসিফ। তিনি বলেন, ‘পরীমণিকে যতটুকু দেখি, সে একটু খামখেয়ালী। তাকে আমি প্রশ্ন করতে চাই—তুমি আমাদের মুক্তি দেবে কবে? তুমি একটা কিছু করো, সেটেল ডাউন হও। কীভাবে করবে, সেটাও আমাকে বলো।’ পরীমণির ব্যক্তিত্ব প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘পরীমণির সঙ্গে এ নিয়ে আগেও কথা হয়েছে। সে সবসময় হাসিখুশি থাকে, সবকিছু খুব ক্যাজুয়ালি নেয়। এটা ওর একটা দারুণ দিক।’ শুধু তাই নয়, ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানকে নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে আসিফ আকবরের। তিনি বলেন, শাকিব খানের সঙ্গে দেখা হলে জানতে চাইবেন—‘আপনি যখন ডায়লগ দেন, তখন একরকম শোনায়। কিন্তু গানের সময় হঠাৎ গলা চিকন, একটু মেয়েলি হয়ে যায়। যেখানে এন্ড্রু কিশোর, মিলু ভাই, সৈয়দ আব্দুল হাদীর মতো কিংবদন্তিরা কণ্ঠ দিয়েছেন, সেখানে এখন যাদের সঙ্গে আপনি ঠোঁট মেলাচ্ছেন, সেই টোনটা আপনার সঙ্গে ঠিক যাচ্ছে না। আপনি এটা কীভাবে এনজয় করছেন?’ এ প্রসঙ্গে আসিফ আরও বলেন, ‘প্লেব্যাকের নিজস্ব একটা ব্যাকরণ আছে। সেটার দিকেও শিল্পীদের নজর দেওয়া জরুরি।’ এখানেই থেমে থাকেননি এই গায়ক। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা মাহফুজ এনাম জেমসকেও প্রশ্ন করতে চান তিনি। আসিফের ভাষায়, ‘আপনি এত বড় একজন শিল্পী। কিন্তু দেশের কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে আপনাকে দেখা যায় না। আপনার ফেসবুক আছে, নানা বিষয় শেয়ার করেন। কিন্তু শিল্পীদের সমস্যা বা দেশের সংকট নিয়ে কিছু বলেন না। আপনার মুখ থেকে কিছুই বের হয় না!’ সব মিলিয়ে আবারও নিজের স্পষ্টভাষী অবস্থানের মাধ্যমে আলোচনায় উঠে এলেন আসিফ আকবর। তার এমন খোলামেলা মন্তব্যে নেটিজেনদের মধ্যেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

অভিমান করেই সিনেমা ছেড়েছিলাম: ডলি জহুর

অভিমান করেই সিনেমা ছেড়েছিলাম: ডলি জহুর   নন্দিত অভিনেত্রী ডলি জহুর পর্দায় যার উপস্থিতি মানেই মায়ের চরিত্রে এক আলাদা আবেশ। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেত্রী দীর্ঘ ১৫ বছর বড় পর্দা থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন। অবশেষে বিরতি ভেঙে আবারও সিনেমায় ফিরছেন তিনি। জানা গেছে, ২০১০ সালে অভিমান করেই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন ডলি জহুর। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি তিনি অভিনয় করেছেন ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ শিরোনামের একটি কাজে। বর্তমানে রেদওয়ান রনি পরিচালিত সিনেমা ‘দম’-এর শুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন এই অভিনেত্রী। কাজে ফেরার অভিজ্ঞতা জানিয়ে ডলি জহুর বলেন, “অভিমান করেই সিনেমা ছেড়েছিলাম। কমার্শিয়াল সিনেমা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। একই ধরনের চরিত্র, একই গল্প আর কত ভালো লাগে? কিন্তু এবার রেদওয়ান রনির অনুরোধ ফেলতে পারিনি। ও খুব যত্ন নিয়ে কাজ করে। আগামীকাল পর্যন্ত পাবনায় শুটিং চলবে। সবাই খুব খেয়াল রাখছে, ভালো লাগছে। চলনবিলের শুটিং সেট থেকে নিজের অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী বলেন, “চলনবিলের ওপর দিয়ে জীবনে কতবার গিয়েছি, কিন্তু এবার এখানে শুটিং করছি এটাই আলাদা অনুভূতি। একটু ঠান্ডা লেগেছে, ওষুধ খাচ্ছি। তারপরও মনটা খুব ভালো। তাহলে কি এখন থেকে নিয়মিত বড় পর্দায় দেখা যাবে তাকে এমন প্রশ্নের উত্তরে বাস্তবসম্মত জবাব দেন ডলি জহুর। তিনি বলেন, “সেই বয়স কি আর আছে? আর এখন তো আমাদের কেন্দ্র করে গল্প লেখা হয় না। একই ধরনের চরিত্রে বারবার কাজ করার ইচ্ছাও নেই। উল্লেখ্য, এসভিএফ ও আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড প্রযোজিত এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি সহপ্রযোজিত সিনেমা ‘দম’ মুক্তি পাবে ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরে। সিনেমাটিতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে দেখা যাবে আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরীকে। প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করছেন পূজা চেরি।

সবাইকে খুশি করা যাবে না : হিমি

সবাইকে খুশি করা যাবে না : হিমি ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি আবারও আলোচনায়। অভিনয়ের ব্যস্ততার মাঝেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকেন তিনি। সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এক দর্শকের নেতিবাচক মন্তব্যের জবাব দিয়ে নেটিজেনদের দৃষ্টি কাড়েন এই অভিনেত্রী। ঘটনার সূত্রপাত হিমির একটি ফেসবুক লাইভকে কেন্দ্র করে। লাইভ চলাকালীন এক অনুরাগী তার চোখের মেকআপ নিয়ে মন্তব্য করেন। ওই দর্শক লেখেন, ‘চোখে মেকআপ না করলে আপনাকে আরও ভালো লাগত।’ এমন অযাচিত মন্তব্যে কিছুটা বিরক্ত ও হতাশ প্রতিক্রিয়া জানান হিমি। সরাসরি জবাবে অভিনেত্রী বলেন, ‘আপনাদের কিছু না কিছু বলতেই হবে! মেকআপ না করলে বলেন মেকআপ করলে ভালো হতো, আবার করলে বলেন না করলেই ভালো হতো। আসলে কোনোভাবেই সবাইকে খুশি করা যাবে না।’ নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও বলেন, ‘আজকের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে একটু সাজগোজ করেছি। করতে দেন না কেন? সমস্যাটা কোথায়?’ পরবর্তীতে ওই লাইভ ভিডিওর একটি অংশ নিজের ফেসবুক পেজে রিলস আকারে শেয়ার করেন হিমি। মুহূর্তেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেক ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী অভিনেত্রীর স্পষ্টবাদী বক্তব্যের প্রশংসা করেন এবং তার পক্ষ নিয়ে মন্তব্য করেন। ভক্তদের মতে, তারকাদের ব্যক্তিগত সাজগোজ কিংবা রুচি নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সংযম থাকা উচিত। তারা মনে করেন, শিল্পীদের নিজস্ব পছন্দ ও স্বাধীনতাকে সম্মান জানানোই হওয়া উচিত। উল্লেখ্য, অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মতামত স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্যও পরিচিত জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। তার এমন সাহসী ও সোজাসাপ্টা অবস্থান আবারও প্রশংসিত হচ্ছে ভক্তদের মাঝে।