বিশ্ববাজারে সোনা-রুপা-তেলের দামে ধস

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপা-তেলের দামে ধস বিশ্ববাজারে সোনা, রুপা, তামা, অপরিশোধিত তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ফোনালাপের পর বৈশ্বিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া এবং একই সঙ্গে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে ঝুঁকি কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে পণ্যমূল্যে, আর শক্তিশালী হয়েছে মার্কিন ডলার। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রুপার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। একই দিন সোনা, অপরিশোধিত তেল ও তামার দাম কমেছে গড়ে প্রায় দুই শতাংশ করে। এদিন ডলারের সূচক প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর ফলে অন্য মুদ্রাধারীদের কাছে ডলারে মূল্যায়িত সোনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। আইজি ব্রোকারেজের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, চলতি সপ্তাহে মূল্যবান ধাতু ও অন্যান্য পণ্যে চরম অস্থিরতা দেখা গেছে। আজকের দরপতন মূলত সেই অস্থিরতার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া। তিনি আরও বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা আবারও পথে ফিরছে এমন ইঙ্গিত পাওয়ায় পণ্যবাজার থেকে বিশেষ করে তেলের ক্ষেত্রে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত দাম সরে যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ফোনালাপের পর যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য উত্তেজনাও কিছুটা কমেছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা এই দামে সোনা বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন বলে মন্তব্য করেন সাইকামোর। এশীয় বাজারে দিনের শুরুতে ডলার স্থিতিশীল থাকলেও পরে এর সূচক প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। শক্তিশালী ডলার সাধারণত পণ্যমূল্যের ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে। সোনা-রুপা-তেলের দামে ধস গত সপ্তাহে স্পট সোনার দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলার প্রতি আউন্সে এবং রুপার দাম ১২১ দশমিক ৬৪ ডলারে উঠেছিল। বৃহস্পতিবার সেখান থেকেই বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এদিন স্পট মার্কেটে সোনার দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৩৮ দশমিক ৮১ ডলারে। এপ্রিল ডেলিভারির যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসও ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৫৫ দশমিক ৬০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। রুপার বাজারে দরপতন আরও তীব্র। স্পট রুপার দাম একদিনে প্রায় ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৭৪ দশমিক ৯৪ ডলারে। ওসিবিসির কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, প্রায় সব ধরনের সম্পদ শ্রেণিতে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব দুর্বল হয়ে পড়েছে। কম তারল্যের বাজারে একটির ক্ষতি অন্যটির ক্ষতিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে মূল্যবান ধাতু, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও আঞ্চলিক শেয়ারবাজারে। এদিন তেলের দামও প্রায় দুই শতাংশ কমেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার ওমানে আলোচনায় বসতে সম্মত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন অঞ্চল থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, তামার দামে চাপ বাড়িয়েছে চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ এবং লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত গুদামগুলোতে মজুত বৃদ্ধির খবর। যদিও এর আগে চীন তামার কৌশলগত মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনার কারণে দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তবে সব পণ্যের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিল সয়াবিন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও সয়াবিন কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তার এমন মন্তব্যের পর সয়াবিনের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স
১০ বছরের ছোট ছেলেকে বিয়ে, কেন ইন্ডাস্ট্রি ছেড়েছিলেন ঊর্মিলা?

১০ বছরের ছোট ছেলেকে বিয়ে, কেন ইন্ডাস্ট্রি ছেড়েছিলেন ঊর্মিলা? একটা সময়ে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে একের পর এক সুপারহিট সিনেমায় অভিনয় করে দশর্কদের মাতিয়ে রেখেছিলেন অভিনেত্রী ঊর্মিলা মাতন্ডকর। সিনেমায় তার অভিনয়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছিলেন সবাই। অসংখ্য হিট সিনেমা উপহার দেওয়ার পরও একটা সময়ে অভিনয় থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন অভিনেত্রী। যে সময়ে তার ক্যারিয়ার ছিল তুঙ্গে। খুব অল্প বয়সেই ক্যামেরার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। মাত্র তিন বছর বয়সে ‘কর্মা’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন ঊর্মিলা। এর পর ‘মাসুম’ সিনেমায় অভিনয় করেন। পড়াশোনার পাশাপাশিই অভিনয় চালিয়ে গিয়েছিলেন ঊর্মিলা। কিন্তু হঠাৎ করেই কেন ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকে ইন্ডাস্ট্রি ছেড়েছিলেন অভিনেত্রী? ১৯৯৫ সালে ‘রঙিলা’ সিনেমার মাধ্যমে সবার মন ছুঁয়েছিলেন ঊর্মিলা মাতন্ডকর। যে সিনেমা তার ভাগ্য সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছিল। অভিনেতা আমির খান ও জ্যাকি শ্রফের মতো বড় তারকাদের মধ্যেও ঊর্মিলা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছিলেন। তার নাচ, আত্মবিশ্বাস ও স্টাইল সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। এরপর তিনি ‘রঙিলা গার্ল’ নামে পরিচিত হন। এরপরেই পরিচালক রাম গোপাল ভার্মার সঙ্গে প্রেম চর্চা শুরু হয়েছিল ঊর্মিলার। পরিচালকের সাবেক স্ত্রী রত্না সেই প্রেমের গুজবের মধ্যেই একদিন শুটিং সেটে এসে ভীষণ তর্কবিতর্কের মাঝেই কষিয়ে চড় মারেন ঊর্মিলাকে। রত্নার দাবি, এ সম্পর্কের গুঞ্জনের প্রভাব পড়েছিল তাদের বিবাহিত জীবনেও। তবে সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো যখন ঊর্মিলা তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে, তখনই সিনেমা জগৎ থেকে সরে যান। যে বয়সে অভিনেত্রীরা সাধারণত তাদের ক্যারিয়ার আরও ভালোভাবে শুরু করেন, সেই সময়ে তিনি ক্যামেরা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্ত কোনো বাধ্যবাধকতা বা ব্যর্থতার জন্য নয়। বরং নিজের ইচ্ছায় সে কাজ করেন ঊর্মিলা মাতন্ডকর। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সিনেমা জগৎ থেকে দূরে থাকার পর অভিনেত্রী হিন্দু রীতি অনুসারে কাশ্মীরি ব্যবসায়ী মহসিন আখতার মীরকে বিয়ে করেন। তার মুম্বাইয়ের বাড়িতে একটি মণ্ডপ তৈরি করা হয় এবং সেখানেই বিয়ে করেন। স্বামী তার চেয়ে প্রায় ১০ বছরের ছোট ছিলেন। আট বছরের বিবাহিত জীবন কাটানোর পর ২০১৪ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। যদিও তাদের কোনো সন্তান নেই।
বিয়ে প্রসঙ্গে যা বললেন সাফা কবির

বিয়ে প্রসঙ্গে যা বললেন সাফা কবির ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শোবিজে কাজ করছেন। অভিনয় দিয়ে জয় করেছেন দর্শকদের মন। চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে বারবার ভেঙেছেন আবার গড়েছেন। সাফা কবিরের সমসাময়িক অভিনেত্রীদের মধ্যে মেহজাবীন চৌধুরী, মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া, শবনম ফারিয়া, সাবিলা নূর, শেহতাজ মুনিরা হাশেম ইতিমধ্যেই সংসারী। তাই প্রায়ই সাফাকে শুনতে হয়- কবে বিয়ে করছেন? এ বিষয়ে সাফা কবির বলেন, ‘আমার পরিবার থেকে কোনো তাড়াহুড়া নেই। আব্বু-আম্মু সব সময় আমাকে নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন। তারা সব সময় বলেছেন, সাফা যেটা চাইবে সেটাই হবে। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি এমন একটা সময়ে বিয়ে করতে চাই, যখন আমার জীবনে এমন একজন মানুষ আসবে, যার সঙ্গে সারা জীবন দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই থাকা যাবে। হুটহাট বিয়ে করে কিছুদিন পর ভেঙে যাওয়ার চেয়ে, আস্থার সঙ্গে বিয়ে করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাফার কথায়, সে রকম কাউকে এখনও খুঁজে পাননি। তার ভাষ্য, ‘আমি অনেক কাজ নিয়ে ব্যস্ত। সামনে হয়তো হবে। দোয়া করি, আল্লাহ একজন ভালো মানুষ দেবেন। আমার বিশ্বাস আছে। এদিকে, সম্প্রতি কক্সবাজারে ‘মৎস্যকন্যা’ নাটকের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন সাফা। সেখান থেকে ঢাকায় ফিরেই শুরু হয়েছে নতুন কাজের ব্যস্ততা। পাশাপাশি ঈদ সামনে রেখে প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তিনি।
দ্বীনের পথে অভিনেত্রী নওবা তাহিয়া, অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা

দ্বীনের পথে অভিনেত্রী নওবা তাহিয়া, অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা অভিনয় জগৎ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তরুণ অভিনেত্রী নওবা তাহিয়া। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শোবিজ ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। ফেসবুক পোস্টে অভিনয় ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নওবা তাহিয়া লেখেন, “এই মুহূর্তে আমি আমার দ্বীনের মধ্যে, নিজের ভেতরে, শেখার মধ্যে এবং যাদের সঙ্গে থাকলে ঘরের মতো অনুভূতি হয় তাদের সঙ্গেই শান্তি খুঁজে পাচ্ছি। শোবিজে চারটি সুন্দর বছর কাটানোর পর এখন থামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নওবা তাহিয়া। এই সময়টা তার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ছিল উল্লেখ করে এতদিন পাশে থাকা সবাইকে ধন্যবাদ জানান এই অভিনেত্রী। পোস্টে নওবা তাহিয়া স্পষ্ট করে জানান, এখন থেকে তার আর কোনো নতুন কাজ আসবে না না নাটক, না টিভিসি, না ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। তবে আগে করা কিছু কাজ ভবিষ্যতে প্রকাশ পেতে পারে, যদিও সেগুলোর সঙ্গে তিনি আর সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবেন না। দর্শক-ভক্তদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নওবা তাহিয়া লেখেন, “এতদিন যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন, তার জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞ। ছোটবেলায় শিশুদের অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে মিডিয়ায় পথচলা শুরু করেন নওবা তাহিয়া। পরে নাটক ও ওটিটিতে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের নজর কাড়েন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে টিভি নাটক‘চুপি চুপি’, ‘প্রথম প্রেমে বানান ভুল’, ‘মায়াপূরাণ’, ‘শুধু তুমি’, ক্লোজআপ কাছে আসার গল্প ‘কন্ট্রোল প্লাস জেড’ এবং চরকির ওয়েবফিল্ম ‘পুনর্মিলন’। পড়াশোনার কারণে আগেও কয়েক মাস অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন নওবা তাহিয়া। তবে এবার শোবিজকে একেবারেই বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন এই অভিনেত্রী।
ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে নতুন ভুবনে বালাম

ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে নতুন ভুবনে বালাম গায়কি একান্তই তাঁর মতো। তাই কারও সঙ্গে তুলনা করতে যাওয়া বৃথা। কিন্তু গায়কি নিয়ে ক্ষণে ক্ষণে নিজেকে বদলে দেওয়া যায়, ভিন্ন অবয়বে বারবার ফিরে আসা যায় দর্শক-শ্রোতার মাঝে। এর একাধিক উদাহরণ দেওয়া যায় বালামের বেলায়। পুরো নাম বালাম জাহাঙ্গীর। নামের প্রথম অংশ তাঁর পরিচিতির জন্য যথেষ্ট এবং সেই ‘বালাম’ শব্দটি অগণিত সংগীতপ্রেমীর ভীষণ প্রিয়। অনেকে জানান, বালাম শুধু সময়ের আলোচিত শিল্পীই নন, একাধারে সুরকার ও সংগীত পরিচালক। তাই কখন কোন সুরে গাইতে হবে, কোন মূর্ছনায় সংগীতপ্রেমীদের হৃদয় স্পন্দনের উঠানামা করে– তা বালামের খুব ভালোভাবেই জানা। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, যে শিল্পী, সুরকার ও সংগীতায়োজক সহজেই শ্রোতার পাল্স বুঝতে পারেন; তাঁর সম্পর্কে শ্রোতারা খুব বেশি কিছু জানার সুযোগ পান না। এই যেমন কদিন আগে ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার ‘ও প্রিয়তমা’ গানের জন্য শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পেলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, অথচ এ নিয়ে বালামের অনুভূতি কী? তা জানার সুযোগ হলো ভক্তদের। বালামের কথা থেকে কেবল এটুকু জানা গেছে, এই স্বীকৃতি নিয়ে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা সবাই আনন্দিত। রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতির জন্য ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার টিম ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন। তারপরও এত বড় একটি অর্জন নিয়ে অনেকে যেভাবে উচ্ছ্বাস উল্লাস প্রকাশ করেন, তেমন কিছুই চোখে পড়েনি বালামের বেলায়। আসলে বালামের বেলায় এটাই স্বাভাবিক। কারণ, বরাবরই তিনি নিভৃতচারী; কিছুটা অন্তর্মুখী। সামাজিক মাধ্যমেও সক্রিয় নন বালাম। তাই কখন কী করছেন, সংগীত নিয়ে নতুন পরিকল্পনা, ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনা, এমন অনেক বিষয় অজানা থেকে যায়। তবে এটাও সত্যি, প্রতিটি সৃষ্টির পেছনে নিজেকে তিনি উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর গায়কি আর সংগীতায়োজন থেকে তারই প্রমাণ মেলে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা দেখা গেছে বহুবার। সে কারণেই রেনিগেডস ব্যান্ডের বালামের সঙ্গে ওয়াফেইজের বালামকে কখনও মেলানো যায়নি। একইভাবে একক ক্যারিয়ার গড়ার পরও এই শিল্পী ও সংগীতায়োজককে নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ পেয়েছেন শ্রোতারা। ‘ভুবন’ এরপর আরও তিনটি একক অ্যালবামের পাশাপাশি মিশ্র অ্যালবাম ‘প্রেম শিকারি’, ‘আঁধার’, ‘দ্য গুরুস অব লাভ’, ‘ছায়াশিকারি’, দ্বৈত অ্যালবাম ‘বালাম ফিচারিং জুলি’, একক গান ‘চুপচাপ চারিদিক’সহ তাঁর আরও বেশ কিছু আয়োজন সংগীতপ্রেমীদের মনে আজও অনুরণন তুলে যাচ্ছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, যার একের পর এক সৃষ্টি শ্রোতাদের মাঝে সাড়া জাগিয়ে যাচ্ছিল, সেই বালাম হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গিয়েছিলেন গানের ভুবন থেকে। দীর্ঘদিন সেভাবে দেখা মেলেনি নন্দিত এই শিল্পীর। কী হলো, কেন আড়ালে চলে গেলেন বালাম? এই প্রশ্ন যখন অনেকের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল তখনই জানা যায়, গুরুতর অসুস্থ স্ত্রীকে সময় দিতেই সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। এরপর অনেক ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে কয়েক বছরের বিরতি ভেঙে নতুনভাবে ফিরলেন বালাম। ‘ও প্রিয়তমা’ গানের মধ্য দিয়ে তুলছেন আলোড়ন। ‘প্রিয়তমা’ ছবির এই গানটি স্বল্প সময়ে শুধু ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে জায়গা করে নেয়নি, কোটি কোটি দর্শক-শ্রোতার হৃদয়ও জয় করেছে। কোনালের সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে গাওয়া এবং আসিফ ইকবালের লেখা ও আকাশ সেনের সুরের এই গানটি বালামকে এনে দিয়েছে পুনর্জন্মের স্বাদ। সবশেষে এই গানে এনে দিয়েছে সেরা শিল্পীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অথচ এমন সাফল্যের পরও বালাম শুধু এটুকুই বলেন, ‘শ্রোতা আমার গান শুনেছেন, ভালো লাগার কথা প্রকাশ করছেন, ভালোবাসা দিচ্ছেন– এটা পরম পাওয়া। আসলে হঠাৎ করেই ‘ও প্রিয়তমা’ গানটি গাওয়ার সুযোগ এসেছে। নিজেকে উজাড় করে গেয়েছি। এরপর যা হয়েছে, সেটাকে ম্যাজিক ছাড়া আর কিছু বলার নেই।’ বালামের এ কথা যে একটুকু ভুল নয়, তার প্রমাণ মেলে ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার পর প্লেব্যাকে নিয়মিত ব্যস্ত হয়ে ওঠায়। ‘প্রিয়তমা’র পর ‘রাজকুমার’ সিনেমায় প্লেব্যাক করে দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছেন তিনি। যার সুবাদে তাঁর শ্রোতার প্রত্যাশা বেড়ে গেছে আরও কয়েক গুণ। আর সেটি বুঝতে পেরে বালামও দীর্ঘ এক যুগ পর অ্যালবাম প্রকাশের ঘোষণাও দিয়েছেন। জানিয়েছেন, আসছে ঈদে পূর্ণাঙ্গ একক অ্যালবাম প্রকাশ করতে যাচ্ছেন তিনি। শিরোনাম ‘মাওলা’। এর প্রতিটি গানের সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন এই শিল্পী নিজেই। তাঁর এই কথা থেকে এটাও অনুমান করতে কষ্ট হয় না যে, পঞ্চম এই একক অ্যালবামের সূত্র ধরে শ্রোতারা বালামকে আরও একবার নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ পাবেন। কেননা, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আনকোরা সংগীতায়োজন তুলে ধরাই নন্দিত এই শিল্পীর লক্ষ্য, যার প্রমাণ মিলেছে বহুবার।
‘বর্ডার টু’ সিনেমার আয় ৫২৮ কোটি টাকা ছাড়িয়ে

‘বর্ডার টু’ সিনেমার আয় ৫২৮ কোটি টাকা ছাড়িয়ে জে পি দত্ত নির্মিত বলিউড সিনেমা ‘বর্ডার’। ২৯ বছর পর নির্মিত হয়েছে সিনেমাটির সিক্যুয়েল। ‘বর্ডার টু’ শিরোনামে এ সিনেমা পরিচালনা করেছেন অনুরাগ সিং। পূর্বের মতো এ সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন ববি দেওল। তবে সুনীল শেঠি নেই, কিন্তু তার পুত্র আহান শেঠি যুক্ত হয়েছেন। তাছাড়া নতুন করে যুক্ত হয়েছেন—বরুণ ধাওয়ান, দিলজিৎ দোসাঞ্জে, মোনা সিং প্রমুখ। গত ২৩ জানুয়ারি ৪ হাজার ৮০০ পর্দায় মুক্তি পেয়েছে ‘বর্ডার টু’ সিনেমা। মুক্তির পর থেকে দর্শক-সমালোচকদের কাছ থেকে ভূয়সী প্রশংসা কুড়াচ্ছে। তরন আদর্শ সিনেমাটির অত্যন্ত ইতিবাচক রিভিউ দিয়েছেন। পাঁচে রেটিং দিয়েছেন সাড়ে ৪। কেবল তাই নয় এটিকে ‘আউটস্ট্যান্ডিং’ বলেও মন্তব্য করেছেন। বলিউড হাঙ্গামা সিনেমাটিকে পাঁচে রেটিং দিয়েছেন সাড়ে ৪। চিত্রনাট্য, পরিচালনা, আবেগের গভীরতা, অভিনয় এবং অ্যাকশন দৃশ্যের প্রশংসা করেছে। যদিও কিছু ভিজ্যুয়াল এফেক্ট আরো ভালো হতে পারত, সিনেমার দৈর্ঘ্য কিছুটা কম হলে ভালো হতো বলে মত দিয়েছে। ডেইলি নিউজ অ্যান্ড অ্যানালিসিসের সিমরান সিং সিনেমাটিকে পাঁচে রেটিং দিয়েছেন সাড়ে ৪। এটিকে যুদ্ধের সেরা চলচ্চিত্রগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কেবল দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসাই কুড়াচ্ছে না, বক্স অফিসেও বেশ সাড়া ফেলেছে সিনেমাটি। যদিও সময়ের সঙ্গে বক্স অফিসে আয় ওঠানামা করছে। বলি মুভি রিভিউজের তথ্য অনুসারে, মুক্তির প্রথম দিনে ‘বর্ডার টু’ সিনেমা আয় করে ২৮ কোটি রুপি (নিট), দ্বিতীয় দিনে আয় করে ৩৫ কোটি রুপি (নিট), তৃতীয় দিনে আয় করে ৪৯ কোটি রুপি (নিট), চতুর্থ দিনে আয় করে ৫৩ কোটি রুপি (নিট), পঞ্চম দিনে আয় করে ১৯.৫ কোটি রুপি (নিট)। ৬ষ্ঠ দিনে আয় করে ১৩ কোটি রুপি (নিট), সপ্তম দিনে আয় করে ১১.২৫ কোটি রুপি (নিট), অষ্টম দিনে আয় করে ১০.২৫ কোটি রুপি (নিট), নবম দিনে আয় করে ১৬.৫ কোটি রুপি (নিট), দশম দিনে আয় করে ২০ কোটি রুপি (নিট), ১১ দিনে আয় করে ৫.৫ কোটি রুপি (নিট), ১২ দিনে আয় করে ৫.৫ কোটি রুপি (নিট)। যার মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৬৬ কোটি রুপি (নিট)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ৩৫৮ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৮১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। স্যাকনিল্কের তথ্য অনুসারে, ‘বর্ডার টু’ সিনেমা ১২ দিনে ভারতে আয় করেছে ২৮৬ কোটি রুপি (নিট)। ভারতে গ্রস আয় ৩৪২.৫০ কোটি রুপি। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটি আয় করেছে ৩৯২.৫০ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫২৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ‘বর্ডার টু’ সিনেমায় যুদ্ধের ভয়াবহতা ও সৈন্যদের বীরত্বের গল্প বলেছেন নির্মাতারা। সিনেমাটির নারী চরিত্রে রয়েছেন—মোনা সিং, অন্যা সিং, সোনম বাজওয়া ও নবাগত মেধা রানা। সিনেমাটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি রুপি।
দেবের নায়িকা হচ্ছেন তাসনিয়া ফারিণ!

দেবের নায়িকা হচ্ছেন তাসনিয়া ফারিণ! দেশের শীর্ষ চিত্রনায়ক শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয়ের পর এবার ওপার বাংলার সিনেমায় কাজ করার গুঞ্জনে আলোচনায় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। গুঞ্জন উড়ছে, ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা দেবের বিপরীতে নতুন একটি চলচ্চিত্রে তাকে দেখা যেতে পারে। এর আগেও দেব অভিনীত ‘প্রজাপতি টু’ সিনেমায় ফারিণের কাজ করার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রজেক্টটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। কলকাতায় কাজের প্রসঙ্গে তাসনিয়া ফারিণ বলেন, “ওপারে কাজ করার আগ্রহ অবশ্যই আছে। বেশ কিছু প্রস্তাব নিয়ে কথা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলতে ভয় লাগে। কারণ আগের অভিজ্ঞতা আমাকে সতর্ক করেছে।” কোনো প্রজেক্ট বাতিল হলে দর্শক ও অনুরাগীরা কষ্ট পান। তাই কোনো প্রজেক্ট নিশ্চিত হওয়ার আগে কিছু প্রকাশ করতে চান না। পরিচালক অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরীর সম্ভাব্য একটি সিনেমার শুটিং নিয়েও আপাতত মন্তব্য করতে নারাজ এই নায়িকা। বলে রাখা ভালো, ২০২২ সালে অতনু ঘোষ পরিচালিত ‘আরো এক পৃথিবী’ সিনেমার মাধ্যমে টালিউডে অভিষেক হয় তাসনিয়া ফারিণের। প্রথম কাজেই সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান তিনি। এরপর ‘প্যাট্রি চাই’ নামে আরেকটি কলকাতার সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হলেও পরবর্তীতে সেই প্রজেক্ট থেকে সরে আসেন। এদিকে, শাকিব খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন ফারিণ। তার ভাষ্য, “এত বড় তারকার বিপরীতে অভিনয় করা নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে চরিত্রের গুরুত্ব আর অভিনয়ে নতুনত্ব দেখে কাজটি করতে রাজি হয়েছিলাম।” সব মিলিয়ে দেবের সঙ্গে তাসনিয়া ফারিণের সম্ভাব্য জুটি এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায়। তবে গুঞ্জন যে দর্শকের কৌতূহল বাড়াচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।
আমি ভীষণ মিথ্যেবাদী ছিলাম: জয়া আহসান

আমি ভীষণ মিথ্যেবাদী ছিলাম: জয়া আহসান দুই বাংলা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী জয়া আহসান। আজ ঢাকা তো কাল কলকাতা—এভাবেই চলছে তার দিনকাল। নতুন কাজের জন্য এখন কলকাতায় অবস্থান করছেন জয়া। বেশ সময় ঢাকায় অবস্থান করে এবার কলকাতায় গিয়েছেন এই অভিনেত্রী। ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাজ নিয়ে যেমন কথা বলেছেন, তেমনই ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করেছেন জয়া। এ আলাপচারিতায় জানতে চাওয়া হয়, জয়া আহসানের ভালো থাকার চাবিকাঠি কী? এ প্রশ্নের জবাবে জয়া আহসান বলেন, “আমি তো বরাবরই প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা মানুষ। আমার নিজের একটা জগৎ আছে, আমার পোষ্যদের নিয়ে দিনের অনেকটা সময় কাটে। ওগুলোই আমাকে ভালো রাখে। পাশাপাশি বোধহয় আমি ব্যক্তিগত বিষয়টা ব্যক্তিগত রাখতে চাই বলে জীবনে জটিলতা কম। আমাকে বাইরে থেকে মানুষ যেভাবে চেনেন, সেটা জয়া আহসানের ইমেজ, ভেতরের মানুষটা সম্পূর্ণ আলাদা।” ছোটবেলার এমন কোনো স্মৃতি আছে, যা এখনো আপনার মনে ছাপ রেখেছে? জবাবে জয়া আহসান বলেন, “আমি ছোট থেকেই একটু অন্যরকম ছিলাম। একা থাকতে ভালো লাগত, আর কল্পনা প্রবণতা তো আমার শুরু থেকেই ছিল। এখন বললে অনেকে ভুল বুঝবেন, আমি ভীষণ মিথ্যেবাদী ছিলাম। নিজের মনে যা বিশ্বাস করতাম, তাই বলতাম। আর সবাই সেটা বিশ্বাসও করে নিত। এখনো অনেক সত্যি উদঘাটন হলে সবাই চমকে ওঠে। এই সমস্যার উৎপত্তির কারণ আমার জানা নেই। কিন্তু একটা সমস্যা যে ছিলই সেটা বুঝেছি। নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।” জয়া আহসানের পরবর্তী সিনেমা ‘ওসিডি’। সিনেমাটিতে জয়া আহসান অভিনয় করেছেন শ্বেতা নামে একজন চিকিৎসকের চরিত্রে। অতীতের ধূসর ছায়া যেন তার পুরো জীবন জুড়ে লেপ্টে আছে। মনের গভীরে জমে থাকা অন্ধকার তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়ায়। একসময় তার অতীত সম্পর্কে এক রোগী জেনে যাওয়ার পর শ্বেতার জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ পরিণতি। আশপাশের মানুষজন এবং যারা তার বিরুদ্ধাচরণ করে, তাদের প্রতি ক্রমশ বিতৃষ্ণ হয়ে ওঠে সে। শেষ পর্যন্ত শ্বেতার পরিণতি কী, তার উত্তর মিলবে ‘ওসিডি’ সিনেমার গল্পে। সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত এ সিনেমা আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। জয়া আহসান ছাড়াও সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন—কৌশিক সেন, ফজলুর রহমান বাবু, অনসূয়া মজুমদার, কনীনিকা ব্যানার্জি প্রমুখ।
শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই: চিত্রনায়ক সিয়াম

শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই: চিত্রনায়ক সিয়াম ঈদুল ফিতরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স’ সিনেমা। চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদের ‘রাক্ষস’ সিনেমাও ঈদে দেখতে পাবেন। ফলে ঈদে বক্স অফিসে মুখোমুখি লড়াই করবেন এই দুই তারকা। ওপার বাংলার দর্শকদের দাবি- সিয়াম আহমেদ শাকিব খানের ঘাড়ে শ্বাস ফেলছেন। ভারতীয় একটি গণমাধ্যম সিয়ামের কাছে এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ বিষয়ে সিয়াম আহমেদ বলেন, সত্যিই যদি লোকে এমনটা বলে, তাহলে আমার দায়িত্ব আরো বাড়ল। ঘষেমেজে নিজেকে আরো তৈরি করতে হবে, আরো ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। আসলে সেরকম কিছুই না। ২৬ বছর ধরে বাংলাদেশের বিনোদনদুনিয়াকে কাঁধে নিয়ে বয়ে চলেছেন। উনার (শাকিব খান) সমতুল্য হওয়া সহজ নয়, আর সেই চেষ্টাও করি না। বরং নিজের কাজটা করে যাই। ঈদে সিনেমা মুক্তির বিষয়ে সিয়াম আহমেদ বলেন, ঈদ আমাদের বড় উৎসব। এ সময় সবার সেরা কাজগুলো পর্দায় জায়গা করে নেয়। শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আমিও জায়গা পাই, এটা ভেবেই আনন্দ লাগে। শাকিব খানের সঙ্গে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই? এ প্রশ্নের জবাবে সিয়াম আহমেদ বলেন, শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। নিজের সঙ্গে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কাজ করে। দর্শক নতুন সিনেমা কতটা ভালোবাসল, তাদের নতুন কী দিতে পারলাম; আগের সিনেমা থেকে নিজেকে কতটা নিয়ে যেতে পারলাম, এটাই। বিনোদনধর্মী সিনেমায় সিয়াম আহমেদকে ভালো মানায়। দর্শকও সেভাবেই তাকে দেখতে চান। তাই কোনোভাবেই দর্শককে নিরাশ করতে চান না সিয়াম আহমেদ। পরিচালক হৃদয়ের ‘রাক্ষস’ সিনেমাও সেই ঘরানার। এতে সুস্মিতা চ্যাটার্জির সঙ্গে তাকে প্রেম করতে দেখা যাবে।
৪৮ ঘণ্টা কারাগারে নুসরাত ফারিয়া: লতি দিয়ে খেয়েছেন ভাত, ভেঙে গেছে প্রেম
৪৮ ঘণ্টা কারাগারে নুসরাত ফারিয়া: লতি দিয়ে খেয়েছেন ভাত, ভেঙে গেছে প্রেম বিদেশ যাবার সময় ২০২৫ সালের মে মাসে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেফতার হয়েছিলেন অভিনেত্রী নুমরাত ফারিয়া। এরপর কয়েকদিনের কারাভোগ করতে গিয়ে জীবনের বৈচিত্রময় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। অচেনা মানুষদের কাছ থেকে পাওয়া মানবিকতা তাকে অবাক করেছিল। সেইসঙ্গে তিনি এও জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়ার পর তার প্রেমও ভেঙে গেছে। ভয়ে তার সঙ্গে আর যোগাযোগই করেনি তার প্রেমিক। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক পডকাস্টে তিনি সেইসব অভিজ্ঞতার জানান। জেলে থাকার সময়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ফারিয়া বলেন, ‘জেলার থেকে শুরু করে সেখানকার সবাই এত সহানুভূতি ও ভালোবাসার সঙ্গে ব্যবহার করেছে, যেটা ভাবতে পারিনি। সবাই আমাকে যথেষ্ট সম্মান দিয়েছে। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা না খেয়েই ছিলাম। আমি দেখেছি, মানুষজন আমাকে লতি দিয়ে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে, সকালে দেখেছি রুটি ছিঁড়ে মিষ্টিকুমড়া দিয়ে খাইয়ে দিচ্ছে। আমার যতটুকু মনে আছে, আমার চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে, আর ওরা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। তাদের আমি চিনিও না। জীবনে আর কখনো তাদের সঙ্গে দেখা হবে কি না, তাও জানি না।’ ফারিয়ার ভাষ্য, ‘কারাগারে কাটানো ৪৮ ঘণ্টা তাকে নতুনভাবে মানুষ চিনতে শিখিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এটা থেকে অনেক কিছু শিখেছি। সবাইকে বদলে যেতে দেখেছি। ওই সময়ে একজনের সঙ্গে আমি সম্পর্কে ছিলাম। জেল থেকে বের হওয়ার পর সে আমার সঙ্গে আর কখনো যোগাযোগ করেনি। মানুষের ওপর থেকে আস্থা-ভালোবাসা উঠে গেছে এরপর থেকে। কাছের বন্ধুরা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আমার সঙ্গে তোলা ছবি মুছে দিয়েছে। আমি বিপদে পড়েছি বুঝতে পেরে অনেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ওই ৪৮ ঘণ্টায় আমি বুঝে গেছি, কে আমার আপন, আর কে নয়।’ ২০২৫ সালের ১৮ মে গানের ভিডিওর শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ড যাচ্ছিলেন নুসরাত ফারিয়া। সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছান। কিন্তু ফারিয়া জানতেন না, তার জন্য অপেক্ষা করছিল অন্য কিছু। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ১৯ মে ফারিয়ার জামিন নামঞ্জুর হলে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। পরদিন ২০ মে জামিন হয় নুসরাত ফারিয়ার। জেল থেকে ফিরে এসে মানসিক অবসাদে ভোগার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই অবস্থা দ্রুত কাটিয়ে ওঠেন। এত দিন গ্রেফতার ও জেলের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খোলেননি ফারিয়া। সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের এক পডকাস্টে সেই অভিজ্ঞতা জানালেন তিনি। ফারিয়া জানান, মামলার বিষয়টি অত গুরুত্ব দেননি সে সময়। কারণ, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তিনি ছিলেন কানাডায়। ফারিয়া বলেন, ‘আমি শুনেছিলাম আমার নামে একটা মামলা হয়েছে। কিন্তু আমি যেহেতু সে সময় দেশে ছিলাম না, তাই এটা নিয়ে সিরিয়াস ছিলাম না। সেদিন থাইল্যান্ডে যাচ্ছিলাম আমার গানের শুটিংয়ে। এয়ারপোর্টে যাওয়ার আগেও ভাবিনি, এ রকম কিছু হতে পারে। ইমিগ্রেশন শেষ করে লাউঞ্জে বসে আলু ভাজি আর রুটি খাচ্ছিলাম। এরপর কী হয়ে গেল বুঝতে পারছিলাম না। তাৎক্ষণিক আমার মা ও শিক্ষককে ফোন করি। আটকের পর আমাকে অনেক প্রশ্ন করা হয়। একসময় তারা বুঝতে পারেন, আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। পরদিন সকালে প্রথমবারের মতো আমি এজলাসে দাঁড়াই; যেটা এত দিন শুধু সিনেমায় দেখে এসেছি।’ ফারিয়াকে গ্রেফতারের পর শোবিজের সহকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ অনেক মানুষ, যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ফারিয়া। অভিনেত্রী আরও জানান, এখনো সেই মামলা শেষ হয়নি। প্রতি মাসে আদালতে হাজিরা দিতে হয় তাকে। এ ঘটনার পর অনেকে তাকে নিয়ে কাজ করতে ভয় পান বলেও জানান ফারিয়া।