ঈদে আসছে আদর-পূজার ‘নাকফুলের কাব্য’ আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘নাকফুলের কাব্য’। আলোক হাসান পরিচালিত এই সিনেমায় প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন আদর আজাদ ও পূজা চেরি। বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটির গল্প ও সংলাপ লিখেছেন ফেরারী ফরহাদ। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, সমাজের রক্ষক বা মোড়লদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এক অমর প্রেম ও বিরহের গল্প উঠে এসেছে সিনেমাটিতে। যদিও এটি আদর-পূজা জুটির প্রথম কাজ হিসেবে প্রচারিত হচ্ছে, এর আগে তাদের অভিনীত ‘লিপস্টিক’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। ২০২২ সালে শ্রীমঙ্গলে শুরু হয় সিনেমাটির শুটিং, যেখানে টানা ২০ দিন চিত্রধারণ চলে। পরবর্তীতে ঢাকায় বাকি কাজ সম্পন্ন করা হয়। এতে আরও অভিনয় করেন গাজী রাকায়েত, লুৎফর রহমান জর্জ, আলী রাজ, এল আর খান সীমান্ত ও শিখা মৌ। প্রেম, সামাজিক বাধা ও মানবিক টানাপোড়েনের গল্পে নির্মিত ‘নাকফুলের কাব্য’ ঈদে দর্শকদের জন্য একটি আবেগঘন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে এমনটাই আশা নির্মাতাদের।

দর্শককে বিশেষ বার্তা শাকিবের

দর্শককে বিশেষ বার্তা শাকিবের কোরবানির ঈদে মুক্তি পাচ্ছে শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’। আর এ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ অনেকটাই। এমন সময়ে চমকে দিলেন নায়ক। শনিবার (২ মে) নিজের ফেসবুক পেজে মাত্র ৫৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন শাকিব খান; সেখানেই দেখা যায় ‘রকস্টার’ সিনেমার মোশন পোস্টার। সঙ্গে দিলেন সিনেমাটি নিয়ে এক বিশেষ বার্তাও। ভিডিওর শুরুতে দেখা যায় ঝড়-বৃষ্টি, সঙ্গে বাজছে ইলেক্ট্রিক গিটারের ঝংকার। এরপর আসে একটি কনসার্টের আবহ, যেখানে হাজির হয় রকস্টার শাকিবের অ্যানিমেটেড অবয়ব। কনসার্টে উপস্থিত হওয়া অসংখ্য দর্শকের মাঝে গান গাইছেন রকস্টার। গানের কথায় শোনা যায়, ‘আমাকে পুড়িয়ে দেও, আমাকে ভাসিয়ে দেও’। এরপরই আসে মোশন পোস্টার। যেখানে উল্লেখ করা হয়, আগামী ৫ মে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ‘রকস্টার’ সিনেমার টিজার। সঙ্গে লেখা ওঠে, জ্যামিং ড্রপিং অন ফিফথ মে। যে কোন মুল্যে খাল খনন কর্মসুচি বাস্তবায়ন করা হবে’‘যে কোন মুল্যে খাল খনন কর্মসুচি বাস্তবায়ন করা হবে’ সান কমিউনিকেশনের প্রযোজনায় আয়মান আসিব স্বাধীনের চিত্রনাট্যে নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’ পরিচালনা করছেন আজমান রুশো। এ সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করছেন সাবিলা নূর। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগী তানজিয়া জামান মিথিলাকে।

যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুদান ও দুই পুরস্কার পেলেন নির্মাতা শামস

যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুদান ও দুই পুরস্কার পেলেন নির্মাতা শামস যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুদান ও দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন গবেষক ও নির্মাতা আহমেদ তাহসিন শামস। সম্প্রতি তাঁর প্রামাণ্যচিত্র ‘দ্য ওয়াটার রিডার্স’ যুক্তরাষ্ট্রের ‘লিফ্ট’ (LIFT) প্রোগ্রামে নির্বাচিত হয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘কজিতো, এরগো সুম’-এর জন্য তিনি মন্টাজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা পরিচালক ও সেরা ননফিকশন বিভাগে দুটি পুরস্কার পেয়েছেন। জানা গেছে, ‘দ্য ওয়াটার রিডার্স’ নির্মাণের জন্য লিফ্ট প্রোগ্রামের আওতায় নির্বাচিত পাঁচ নির্মাতার একজন আহমেদ তাহসিন শামস। ইন্ডিয়ানার স্থানীয় বাস্তব গল্প তুলে ধরতে নির্বাচিত প্রত্যেক নির্মাতাকে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান ও মেন্টরশিপ দেওয়া হচ্ছে। আগামী জুলাইয়ে ইন্ডি শর্টস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে চলচ্চিত্রটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। চলচ্চিত্রটিতে ইন্ডিয়ানার ছোট নদী ও খালকে কেন্দ্র করে জলজ প্রাণী এবং কমিউনিটি সায়েন্সের মাধ্যমে নদীর স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও দূষণের ইতিহাস তুলে ধরা হবে। এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত মন্টাজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘কজিতো, এরগো সুম’ চলচ্চিত্রের জন্য আহমেদ তাহসিন শামস সেরা পরিচালক ও সেরা ননফিকশন বিভাগে দুটি পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি জানান, চলচ্চিত্রটি সেন্টার ফর রিসার্চ অন রেস অ্যান্ড এথনিসিটি ইন সোসাইটি (CRRES) অ্যাওয়ার্ড এবং ফ্রান্সেস গোইন্স উইলহয়েট রিসার্চ অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডসের অনুদান সহায়তায় নির্মিত। আন্তর্জাতিক পথচলায় নিজের এ সকল অর্জন প্রসঙ্গে শামস বলেন, “নির্মাণই যখন মূল লক্ষ্য, তখন এসব অনুদান ও পুরস্কার দারুণ অনুপ্রেরণা দেয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ নামটির উপস্থিতিও আমাকে গর্বিত করে। বর্তমানে শামস যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটনের মিডিয়া আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস বিভাগে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র পরিবেশভিত্তিক মিডিয়া, পরিবেশকেন্দ্রিক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ এবং সমালোচনামূলক শিক্ষাপদ্ধতি। গবেষণার অংশ হিসেবেই, বাংলাদেশকে কেন্দ্র করেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করছেন শামস। ‘লোটাস ইন দ্য ওয়েস্টল্যান্ড’ শিরোনামের এই চলচ্চিত্রটি ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার বৃহত্তর আর্ট ফাউন্ডেশন এবং শিল্পী-শিক্ষক বিশ্বজিৎ গোস্বামীকে ঘিরে নির্মিত হচ্ছে। এতে সহ-পরিচালক হিসেবে রয়েছেন ঢাকাভিত্তিক নির্মাতা সাদ্দাম হোসেন। নির্মাতা জানান, হাজারীবাগের পুরোনো ট্যানারি ভবনের ছাদে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আর্ট ফাউন্ডেশনকে কেন্দ্র করে বিশ্বজিৎ গোস্বামীর ‘গঙ্গাবুড়ি’, ‘পদ্ম’ এবং ‘হাজারীবাগ’ প্রকল্পগুলো নতুন মাত্রা পেয়েছে। এসব প্রকল্পে বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ, নগর জীবনের সংকট এবং প্লাস্টিক বাছাই করে জীবিকা নির্বাহ করা নারীদের জীবনসংগ্রাম উঠে এসেছে। শামস বলেন, “এই প্রকল্পগুলোতে বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণের বাস্তবতা, নগর জীবনের সংকট এবং প্লাস্টিক বাছাই করে জীবিকা নির্বাহ করা নারীদের জীবন অভিজ্ঞতা একসূত্রে যুক্ত হয়েছে। যা আমার গবেষণার সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত। তাই এই বিষয়গুলো নিয়েই আমি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে উদ্যোগী হয়েছি। তিনি জানান, আগামী ৩ মে বিশ্বজিৎ গোস্বামীর উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে একটি আন্তর্জাতিক আয়োজনে ‘লোটাস ইন দ্য ওয়েস্টল্যান্ড’ প্রামাণ্যচিত্রের অবশিষ্ট অংশের শুটিং সম্পন্ন হবে। এর আগে আহমেদ তাহসিন শামস নির্মাণ করেছেন দু’টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দেহস্টেশান’ ও ‘আর্শিনগর’। ২০২২ সালে চলচ্চিত্র দু’টি অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পায়। ‘আর্শিনগর’ চলচ্চিত্রটি স্যামুয়েল বেকেটের ‘ওয়েটিং ফর গডো’ অবলম্বনে নির্মিত। এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন শাহাদাৎ হোসেন এবং প্রয়াত অভিনেতা আহমেদ রুবেল। অন্যদিকে একজন যৌনকর্মী এবং তার মেয়ের জীবন ও সমাজে তাদের টিকে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘দেহস্টেশান’ চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন মৌমিতা মিত্র (কলকাতা), শাহাদাত হোসেন, প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা এস এম মহসিনসহ অনেকে।  

কেন প্লেনে উঠলে আতঙ্কে ভোগেন আমির

      কেন প্লেনে উঠলে আতঙ্কে ভোগেন আমির বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আমির খান পর্দায় যতটাই আত্মবিশ্বাসী, বাস্তব জীবনে ততটা নন। একটি বিষয়ে তিনি আজও ভীষণ আতঙ্কে ভোগেন, সেটি হলো বিমানযাত্রা। ব্যক্তিগত কিংবা পেশাগত কারণে প্রায়ই উড়োজাহাজে ভ্রমণ করতে হলেও, প্লেনে উঠলেই অদ্ভুত এক ভয় গ্রাস করে তাকে। এমনকি কখনো কখনো মৃত্যু আতঙ্কও তাড়া করে বেড়ায় এই অভিনেতাকে। এই ভয় কাটাতে কিংবা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে একটি বিশেষ অভ্যাস গড়ে তুলেছেন আমির। প্রতিবার বিমানযাত্রার আগে তিনি নিজের মনের কথা লিখে রাখেন একটি চিঠিতে। আর সেই চিঠি লেখেন তাঁর বহুদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মনসুর খানকে উদ্দেশ করে। মনসুর খান শুধু বন্ধু নন, আমিরের অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন একজন মানুষ। ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জোশ’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তারা। এরপর একসঙ্গে কাজ না করলেও তাদের বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে আমির জানান, বিশেষ করে যখন কোনো সিনেমার কাজ চলাকালীন বা শেষ পর্যায়ে থাকে, তখন এই ভয় আরো তীব্র হয়ে ওঠে। তাঁর আশঙ্কা, যদি কোনো দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়, তাহলে অসমাপ্ত থেকে যাবে সিনেমার কাজ। এই কারণেই তিনি মনসুরকে চিঠি লিখে রেখে যান, যাতে প্রয়োজনে তার বন্ধু ছবির বাকি কাজ সামলে নিতে পারেন।  আমির বলেন, ‘শুটিং শেষ হওয়ার পর যখন পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ হয় তখন আমি সব সময় মনসুরকে চিঠি লিখে রাখি। আমার চিন্তা হয় যে যদি আমি প্লেন এক্সিডেন্টে মারা যাই তাহলে আমার গোটা সিনেমা নষ্ট হয়ে যাবে। আমি চাই না সেটা হোক। তখন যাতে মনসুর গোটা ব্যাপারটা দেখে তার জন্যই আমি ওকে চিঠি লিখে রাখি।  এমনকি নিজের পরিবারকেও তিনি আগেই জানিয়ে রেখেছেন, কোনো অঘটন ঘটলে যেন মনসুর খানের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মনসুর সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি আর মনসুর এক সঙ্গে বেশ কিছু সিনেমায় কাজ করেছিলাম। ও এমন একজন মানুষ যার ওপর আমি সম্পূর্ণ ভরসা করতে পারি। আমি আমার পরিবারের মানুষকেও বলেছি যে আমার যদি কিছু হয় তাহলে মনসুরের সঙ্গে আলোচনা করে নিও।’ সব মিলিয়ে, উড়োজাহাজে ওঠার ভয় কাটাতে এবং নিজের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই ব্যতিক্রমী অভ্যাস গড়ে তুলেছেন আমির। 

‘হেরা ফেরি ৩’ নিয়ে ফের জটিলতা, এবার পাল্টা মামলা প্রযোজকের

‘হেরা ফেরি ৩’ নিয়ে ফের জটিলতা, এবার পাল্টা মামলা প্রযোজকের বলিউডের জনপ্রিয় কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘হেরা ফেরি’ আবারও আইনি জটিলতায় জড়িয়েছে। বহু প্রতীক্ষিত ‘হেরা ফেরি ৩’-এর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। এবার সিনেমাটির স্বত্ব নিয়ে নতুন করে বিরোধে জড়িয়েছেন প্রযোজক ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালা এবং দক্ষিণী প্রযোজনা সংস্থা সেভেন আর্টস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি প্রথমে নাদিয়াদওয়ালার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। তাদের অভিযোগ ছিল, ছবিটির স্বত্ব নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। তবে এবার সেই অভিযোগের জবাবে পালটা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন নাদিয়াদওয়ালা।  প্রযোজকের দাবি, তার বৈধভাবে কেনা স্বত্ব জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চলছে। নাদিয়াদওয়ালার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০০ সালে ‘মেসার্স কমপ্যাক্ট ডিস্ক ইন্ডিয়া লিমিটেড’-এর সুরেশ কুমার সিংঘলের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে চার লাখ রুপির বিনিময়ে তিনি ‘হেরা ফেরি’ গল্পের হিন্দি ও অন্যান্য ভাষায় পুনর্নির্মাণের স্বত্ব আইনিভাবে কিনে নেন। কিন্তু ছবিটি মুক্তির মাত্র সাত দিন আগে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। সে সময় ছবিটিতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ হয়ে যাওয়ায় এবং আইনি জটিলতা এড়াতে বাধ্য হয়ে তিনি অর্থ পরিশোধ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, ‘হেরা ফেরি’ নির্মিত হয়েছিল মালয়ালাম ছবি ‘রামজি রাও স্পিকিং’-এর গল্প অবলম্বনে। ফলে মূল গল্পের স্বত্ব ও পুনর্নির্মাণ অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এদিকে ‘হেরা ফেরি ৩’-এর কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়ার পরই পুরোনো এই স্বত্বসংক্রান্ত জটিলতা আবার সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সিনেমাটির সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সাফল্য এবং বিপুল আর্থিক লেনদেনের কারণেই একাধিক পক্ষ এখন নিজেদের অধিকার দাবি করছে। সব মিলিয়ে, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ‘হেরা ফেরি ৩’-এর নির্মাণ ও মুক্তি—দুটোই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়ে গেল। এখন দেখার বিষয়, এই আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।

বিমান থেকে উধাও রুশ পরিচালকের ‘অস্কার’ মূর্তি

বিমান থেকে উধাও রুশ পরিচালকের ‘অস্কার’ মূর্তি অস্কার জয়ের আনন্দ বিষাদে রূপ নিল রুশ পরিচালক পাভেল তালানকিনের জন্য। নিউইয়র্ক থেকে জার্মানি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়ে গেছে তার জিতে নেওয়া সেরা তথ্যচিত্রের অস্কার মূর্তিটি। ‘মিস্টার নোবডি এগেইনস্ট পুতিন’ সিনেমার জন্য এ বছরই তিনি এই সম্মাননা পেয়েছিলেন। পরিচালক পাভেল তালানকিন লুফথানসা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে ফ্রাঙ্কফুর্টে যাচ্ছিলেন। সাধারণত অস্কার বিজয়ীরা মূর্তিটি নিজেদের কাছেই রাখেন। কিন্তু বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সংস্থা টিএসএ জানায়, ৮.৫ পাউন্ড ওজনের এই শক্তপোক্ত মূর্তিটি বিমানে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সহ-পরিচালক ডেভিড বোরেনস্টাইন জানান, নিরাপত্তা কর্মীরা অস্কারটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পাভেলের কাছে আলাদা কোনো ব্যাগ না থাকায় বাধ্য হয়ে মূর্তিটিকে একটি বাক্সে ভরে বিমানের নিচের মালামাল রাখার স্থানে (হোল্ড লাগেজ) পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ফ্রাঙ্কফুর্ট পৌঁছানোর পর দেখা যায়, সেই বাক্সটি আর নেই। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পাভেল তালানকিন বলেন, ‘অস্কারকে কিভাবে অস্ত্র হিসেবে দেখা হতে পারে, তা ভেবে আমি অবাক হচ্ছি। এর আগে অনেকবার তিনি বিমানে করে এটি নিজের কাছে রেখেই ভ্রমণ করেছেন, কিন্তু কখনো এমন সমস্যায় পড়েননি।’ লুফথানসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে এটি খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা পরিচালককে আশ্বস্ত করে বলেছে যে, দ্রুততম সময়ে অস্কারটি খুঁজে পেতে তারা সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে।

অন্তঃসত্ত্বা দীপিকার হাত ধরে শুটিং ফ্লোরে শাহরুখ

অন্তঃসত্ত্বা দীপিকার হাত ধরে শুটিং ফ্লোরে শাহরুখ চলতি বছরের বড়দিনে পর্দায় আসছে শাহরুখ খানের নতুন সিনেমা ‘কিং’। গত বছর ছবিটির নাম ঘোষণার পর থেকেই দর্শক মহলে শুরু হয়েছে প্রবল উত্তেজনা। প্রিয় তারকার নতুন কাজের প্রতিটি খবরের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বিশ্বজুড়ে থাকা শাহরুখ-ভক্তরা। এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোনের একটি ভিডিও এবং কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। যা ভক্তদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, শাহরুখের হাতে হাত রেখে হাসিমুখে হাঁটছেন দীপিকা। এদিকে চোখে সানগ্লাস, মৃদু হাসির শাহরুখকে দেখে মুগ্ধ ভক্তরা। ভক্তদের ধারণা, এটি সিনেমার কোনো ফ্ল্যাশব্যাকে বা বিশেষ দৃশ্যের অংশ হতে পারে।বর্তমানে প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় থাকা দীপিকার এমন প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং শাহরুখের সঙ্গে তার রসায়ন ভক্তদের মাঝে সিনেমাটি নিয়ে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সঙ্গে নেটিজেনরা তাদের সাজ-পোশাকের প্রশংসাও করেছেন। আবার কেউ কেউ আশা করছেন, এটি বলিউডের আরও একটি ব্লকবাস্টার হতে যাচ্ছে। জানা গেছে, ৪০০ কোটি রুপির বিশাল বাজেটে নির্মিত হচ্ছে অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘কিং’। ২০২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর বড়দিন উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে সিনেমাটি মুক্তির কথা রয়েছে। সম্প্রতি প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে একটি ঝলক প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, ‘কিং আসছে ২০২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর’। ইতোমধ্যে সিনেমাটির প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের স্বত্ব প্রায় ৩৫০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। পর্দার এই জনপ্রিয় জুটি এর আগেও ‘ওম শান্তি ওম’, ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ এবং ‘পাঠান’-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দিয়েছেন।

জুবিনের মৃত্যু নিয়ে নতুন মোড়

জুবিনের মৃত্যু নিয়ে নতুন মোড় গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে মৃত্যুবরণ করেন জনপ্রিয় ভারতীয় গায়ক জুবিন গার্গ। নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে তিনি সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকেই আর ফেরা হয়নি তার। সময় গড়ালেও তার মৃত্যু ঘিরে রহস্য ও আলোচনা থামেনি। ঘটনার পর আসাম সরকারের নির্দেশে তার মৃত্যুর তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে জুবিনের ঘনিষ্ঠরা, যার মধ্যে তার ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা-ও ছিলেন। সাম্প্রতিক ঘটনায় গুয়াহাটির ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট সিদ্ধার্থ শর্মার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘মহাবীর অ্যাকুয়া’র সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে তার নিয়ন্ত্রণাধীন ছয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ শর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ-তিনি গায়কের অর্থ আত্মসাৎ করে তা ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। প্রায় ১ দশমিক ১০ কোটি রুপি ওই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রয়াত গায়কের অর্থ সুকৌশলে ব্যবহার করে শর্মা নিজের সম্পদের পরিমাণ বাড়িয়েছেন। তবে আয়ের বৈধ উৎস সম্পর্কে তিনি কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা বা প্রয়োজনীয় আর্থিক নথি-যেমন আয়কর রিটার্ন- উপস্থাপন করতে পারেননি। আদালত আরও জানায়, মামলার তদন্তে এমন একাধিক নথি পাওয়া গেছে, যেখানে অর্থ আত্মসাৎ, তহবিল স্থানান্তর এবং অর্থপাচারের ইঙ্গিত রয়েছে। বিচারক শর্মিলা ভূইয়া উল্লেখ করেন, তদন্ত কর্মকর্তাদের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী শর্মার আয়ের উৎস স্পষ্ট নয় এবং তা যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়নি। এ ঘটনায় জুবিন গার্গের মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্য আরও গভীর হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেট গালার রেড কার্পেটে হাঁটবেন করণ জোহর

মেট গালার রেড কার্পেটে হাঁটবেন করণ জোহর বলিউডে এখন জোর গুঞ্জন করণ জোহর কি তবে এবারের মেট গালার রেড কার্পেটে পা রাখতে চলেছেন? শাহরুখ খান ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া-র পর এবার নজর যেন তার দিকেই। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও নানা সূত্র বলছে, ৪ মে নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্ট-এ বসতে চলা মেট গালা-তেই হাঁটতে দেখা যেতে পারে করণ জোহরকে। ফ্যাশন সেন্সের জন্য বরাবরই আলোচনায় থাকা করণের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে কৌতূহলও তুঙ্গে। শোনা যাচ্ছে, এই বিশেষ সন্ধ্যার জন্য তিনি বেছে নিতে পারেন মণীশ মলহোত্রা-র ডিজাইন করা অনন্য পোশাক যা স্বাভাবিকভাবেই নজর কাড়তে বাধ্য। তবে শুধু করণ নন, এ বছরের মেট গালায় ভারতীয় উপস্থিতি আরও জোরালো হতে পারে বলেই জল্পনা। সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকায় ঘুরছে ঈশা আম্বানি ও নাতাশা পুনাওয়ালা-র নামও। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মেট গালা ভারতীয়দের জন্য ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সেই বছর প্রথমবার আমন্ত্রিত হয়েছিলেন শাহরুখ খান এবং দিলজিৎ দোসাঞ্জ। শাহরুখ লাল গালিচায় হেঁটেছিলেন সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়-এর ডিজাইন করা কালো পোশাকে, যা আন্তর্জাতিক ফ্যাশন দুনিয়ায় প্রশংসা কুড়িয়েছিল। ২০২৬ সালের মেট গালার থিম ‘কস্টিউম আর্ট’, আর ড্রেস কোড ‘ফ্যাশন ইজ আর্ট’ অর্থাৎ পোশাকই হবে শিল্পের প্রকাশ। গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতীয় ফ্যাশনের যে প্রভাব বেড়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় করণের সম্ভাব্য অভিষেক ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।এখন দেখার, গুঞ্জন কতটা সত্যি হয় আর সত্যিই যদি হয়, তাহলে করণ জোহর কীভাবে নিজের স্টাইল স্টেটমেন্টে মেট গালার মঞ্চ কাঁপান!

‘আলোর পথ’ পেলেন অভিনেতা সিদ্দিক

‘আলোর পথ’ পেলেন অভিনেতা সিদ্দিক এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান দীর্ঘ কারাবাসের পর যেন নতুন এক জীবন নিয়ে ফিরেছেন! দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১১ মাস কারাভোগ করেন তিনি। এর পর গত ১৮ মার্চ মুক্তি পান। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের জেলজীবন এবং ভেতরের আমূল পরিবর্তনের গল্প শুনিয়েছেন এই অভিনেতা। সিদ্দিক জানান, ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল গ্রেপ্তার হওয়ার পর টানা ১০ মাস ২২ দিন তিনি কারাগারে ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়কে কেবল বন্দিদশা হিসেবে না দেখে বরং নিজেকে পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন তিনি। অভিনেতার ভাষ্য, জেলে প্রচুর চিন্তা করার সময় পাওয়া যায়। আগে দ্বীনের কাজে সেভাবে লিপ্ত ছিলাম না, কিন্তু সেখানে নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করি। আল্লাহই আমাকে ভেতর থেকে বদলে দিয়েছেন। কারাগারের দেয়ালে লেখা ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’, এই স্লোগানটি তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। সিদ্দিক বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ আমাকে নিরাপদে রেখেছে আর আমি নিজেই নিজের আলোর পথ খুঁজে নিয়েছি। বন্দি থাকা অবস্থায় এই অভিনেতা তার সৃজনশীলতাকে থামিয়ে রাখেননি। জেলে বসেই তিনি ১৫টি নাটক ও ৩টি চলচ্চিত্রের গল্প লিখে ফেলেছেন। এমনকি নিজের জীবন ও কারাজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বইও লিখেছেন তিনি। তবে মুক্তি পেলেও এখনো কারাজীবনের সেই ‘ট্রমা’ কাটিয়ে উঠতে পারেননি সিদ্দিক। জানান, শারীরিক ও মানসিকভাবে এখনো সেই নিয়মের মধ্যেই নিজেকে আবিষ্কার করেন তিনি। আপাতত পরিবারকে সময় দিচ্ছেন এবং জেলে লেখা গল্পগুলো নিয়ে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।