অপরাজিত থেকে সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকা

অপরাজিত থেকে সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকা গ্রুপ পর্বে উড়ন্ত পথচলা অব্যাহত রেখে আরেকটি জয় তুলে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। অপরাজিত থেকেই সুপার এইট নিশ্চিত করেছে গত বিশ্বকাপের রানার্স-আপরা। শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সহজেই হারিয়েছে তারা। আজ দিল্লিতে দিনের প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৬ উইকেটে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আগে ব্যাট করে আমিরাত ৬ উইকেটে তোলে ১২২ রান। জবাবে মাত্র ১৩.২ ওভারে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে প্রোটিয়ারা। ডি গ্রুপে চার ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে চার ম্যাচে মাত্র এক জয় নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে আমিরাত। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ঝড় তোলেন আমিরাত অধিনায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম। তবে ১২ বলে ২২ রানের বেশি এগোতে পারেননি তিনি। এরপর ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৫ রান করেন আলিশান শরাফু। দলের আর কোনো ব্যাটার ১৫ রান ছুঁতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা ছিলেন নিয়ন্ত্রিত। ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন করবিন বশ। ১৭ রানে ২ উইকেট শিকার করেন জর্জ লিন্ডা। রান তাড়ায় বড় ইনিংস না খেলেও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচ একপেশে করে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। এইডেন মার্করাম ১১ বলে ২৮, রায়ান রিকেলটন ১৬ বলে ৩০ এবং ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ২৫ বলে ৩৬ রান করেন। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ হিসেবে অপেক্ষা করছে ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে।
বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত ম্যাচে সুপার এইটে জিম্বাবুয়ে, বিদায় অস্ট্রেলিয়ার

বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত ম্যাচে সুপার এইটে জিম্বাবুয়ে, বিদায় অস্ট্রেলিয়ার 02/17/2026 পাল্লেকেলেতে টানা বৃষ্টির কারণে আয়ারল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল ও জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল–এর মধ্যকার ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এক বলও মাঠে গড়ায়নি। ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় দুই দলই এক পয়েন্ট করে পায়, আর তাতেই সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করে জিম্বাবুয়ে। ফলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল–এর। আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ–এর ‘বি’ গ্রুপে টানা তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে আগেই সুপার এইট নিশ্চিত করেছিল শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দল। জিম্বাবুয়ে দুই জয়ের সঙ্গে এই পরিত্যক্ত ম্যাচ থেকে পাওয়া ১ পয়েন্ট যোগ করে মোট ৫ পয়েন্ট অর্জন করে এবং গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে পরের পর্বে ওঠে। অন্যদিকে তিন ম্যাচে মাত্র একটি জয় পাওয়া অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচে জয় পেলেও তাদের সর্বোচ্চ পয়েন্ট হবে ৪, যা সুপার এইটে ওঠার জন্য যথেষ্ট নয়। ৩ পয়েন্ট পাওয়া আয়ারল্যান্ডের বিদায়ও নিশ্চিত হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে ম্যাচ শুরু সম্ভব না হওয়ায় আম্পায়াররা ম্যাচ রেফারির সঙ্গে আলোচনা শেষে খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। সিদ্ধান্ত মেনে নেন দুই দলের অধিনায়ক। ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা বলেন, এই পর্যায়ে পৌঁছানো দলের জন্য বড় অর্জন। তবে সুপার এইটে ওঠাই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, সামনে আরও কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক লরকান টাকার বলেন, বৃষ্টি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। টুর্নামেন্টে দল দেরিতে ছন্দে ফিরেছে, যা শেষ পর্যন্ত প্রভাব ফেলেছে। তবে ভবিষ্যতের জন্য দল আরও শক্তভাবে প্রস্তুতি নেবে বলেও জানান তিনি। ২০২৪ আসরে জায়গা না পাওয়া জিম্বাবুয়ের জন্য এবারের সুপার এইটে ওঠা নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৃষ্টিভেজা ম্যাচই তাদের স্বপ্নপূরণের পথ খুলে দিয়েছে।
বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ, অস্ট্রেলিয়ার বিদায়

বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ, অস্ট্রেলিয়ার বিদায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’ থেকে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার পর দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে জিম্বাবুয়ে। বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচ থেকেই প্রয়োজনীয় এক পয়েন্ট পেয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেয় তারা। ফলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় অস্ট্রেলিয়ার। আজ পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে টানা বৃষ্টির কারণে টসও করা সম্ভব হয়নি। ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করলে দুই দলই পায় ১ পয়েন্ট করে। এই এক পয়েন্টেই জিম্বাবুয়ের মোট পয়েন্ট দাঁড়ায় ৫। সুপার এইটে উঠতে তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র এক পয়েন্ট। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ২ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচ জিতলেও সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্টে পৌঁছাতে পারত তারা। ফলে জিম্বাবুয়ের পয়েন্ট প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই অজিদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। গ্রুপে ইতোমধ্যেই সুপার এইট নিশ্চিত করেছিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে তারাও শেষ আটে খেলবে। আয়ারল্যান্ডের পয়েন্ট দাঁড়ায় ৩, তারাও ছিটকে গেছে প্রতিযোগিতা থেকে। এবারের বিশ্বকাপে চোটে জর্জরিত অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই সংগ্রাম করেছে। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে কঠিন সমীকরণে পড়ে যায় তারা। শেষ ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে জিতলেও আর কোনো লাভ হতো না। উল্লেখ্য, গ্রুপের তলানিতে থাকা ওমান এখনো কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। বৃষ্টির বাধায় মাঠে বল না গড়ালেও গ্রুপ ‘বি’-র সমীকরণ বদলে গেছে নাটকীয়ভাবে শেষ পর্যন্ত সুপার এইটে জায়গা পেল জিম্বাবুয়ে, আর অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা থেমে গেল গ্রুপ পর্বেই।
বিশ্ব ক্রিকেটে সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়লেন কানাডার যুবরাজ

বিশ্ব ক্রিকেটে সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়লেন কানাডার যুবরাজ বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লিখলেন কানাডার তরুণ ব্যাটার যুবরাজ সামরা। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রেকর্ডবুকে নাম লেখালেন ১৯ বছর বয়সী এই ডানহাতি ব্যাটার। চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৬৫ বলে ১১০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন সামরা। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৬টি ছক্কা। মাত্র ৫৮ বলেই পূর্ণ করেন শতক। টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে—দুই ফরম্যাট মিলিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে তিনিই এখন সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হলেও, পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে শতক হাঁকানো প্রথম কনিষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে গড়েছেন অনন্য নজির। পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো সহযোগী দেশের ব্যাটারের এটিই প্রথম সেঞ্চুরি।
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন বুলবুল

পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেটে আপাতত ব্যস্ততা নেই। ফাঁকা এই সময়ে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে দেশ ছাড়লেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আজ দুপুরে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিসিবির একটি সূত্র। সপ্তাহখানেক পরই দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার। গতকাল (শনিবার) বিসিবির অন্য পরিচালকদের খুদে বার্তায় বিষয়টি জানিয়েছেন বুলবুল।
সুপার এইটে ওঠার কঠিন সমীকরণে অস্ট্রেলিয়া

সুপার এইটে ওঠার কঠিন সমীকরণে অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হারের পর সুপার এইটে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে কঠিন সমীকরণের মুখে অস্ট্রেলিয়া। বাকি ম্যাচগুলোতে শুধু জিতলেই চলবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের ফলের দিকেও। আজ কলকাতায় বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ‘সি’ গ্রুপের ইংল্যান্ড-ইতালি ম্যাচ। সুপার এইটের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ইতালিকে জিততেই হবে। একই দিনে ‘বি’ গ্রুপের অপর ম্যাচে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামবে অস্ট্রেলিয়া। ইতালিকে আজ হারালে ইংল্যান্ড জিতলে সুপার এইটে উঠবে। হ্যারি ব্রুকের দলের পয়েন্ট হবে ৬। যদি ইতালি অঘটন ঘটায়, তাহলে সুপার এইটে ওঠা ইংল্যান্ডের জন্য একটু কঠিনই হয়ে যাবে। স্কটল্যান্ড-ইতালি দুই দলেরই পয়েন্ট এখন ২। স্কটল্যান্ড ও ইতালির নেট রানরেট +০.৩৫৯ ও -০.৩৫২। ৪ পয়েন্ট পাওয়া ইংল্যান্ডের নেট রানরেট -০.১৪৩। তখন ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটা ইতালির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হবে। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিত করা উইন্ডিজকে তখন ইতালির হারাতে হবে নেট রানরেটের কথা হিসেব করে। অস্ট্রেলিয়ার জন্য সবচেয়ে স্বস্তির সমীকরণ—শ্রীলঙ্কা যেন জিম্বাবুয়ের কাছে হারে অথবা জিম্বাবুয়ে যেন আয়ারল্যান্ডের কাছে হারে। সে ক্ষেত্রে ছয় পয়েন্ট পেলেই অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিতভাবে অন্তত দ্বিতীয় স্থানে থাকতে পারবে। আজ শ্রীলঙ্কার কাছে হারলেও অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে না। সে ক্ষেত্রে ওমানকে হারিয়ে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৪। তখন জিম্বাবুয়েকে বাকি দুটি ম্যাচ—আয়ারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে—হারতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা ৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে এবং অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানের জন্য লড়বে, যেখানে নেট রান রেট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। শ্রীলঙ্কার অবস্থান তুলনামূলক ভালো। দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ২ হলেও নেট রান রেট ৩.১২৫। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতলেই তারা সুপার এইট নিশ্চিত করবে। হারলেও সুযোগ থাকবে, যদি তারা জিম্বাবুয়েকে হারায় এবং পরে জিম্বাবুয়ে আয়ারল্যান্ডের কাছে হারে কিংবা অস্ট্রেলিয়া ওমানের কাছে হেরে যায়। অন্যথায় ছয় পয়েন্ট নিয়ে তিন দলের মধ্যে হিসাব-নিকাশ শুরু হবে। শ্রীলঙ্কা যদি দুই ম্যাচই হেরে যায়, তাহলে জিম্বাবুয়ে সরাসরি পরের রাউন্ডে উঠবে। সে ক্ষেত্রে চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে অস্ট্রেলিয়াকে ওমানের কাছে হারতে হবে—যা সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে। জিম্বাবুয়ের সামনে সবচেয়ে সহজ পথ—শ্রীলঙ্কাকে হারানো। সে জয় তাদের সুপার এইটে তুলে দেবে। তবে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে আয়ারল্যান্ডকে হারালে ছয় পয়েন্ট নিয়ে তাদেরও নেট রান রেটের লড়াইয়ে নামতে হবে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। জিম্বাবুয়ে যদি দুটি ম্যাচই হারে, তবুও সুযোগ থাকবে—শর্ত একটাই, অস্ট্রেলিয়া যেন বাকি দুই ম্যাচের মধ্যে একটির বেশি না জেতে। আয়ারল্যান্ডের সমীকরণ সবচেয়ে কঠিন। তিন ম্যাচে ২ পয়েন্ট ও ০.১৫০ নেট রান রেট নিয়ে তাদের শেষ ম্যাচ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। জিতলে তারা ৪ পয়েন্টে শেষ করবে। তবে তখন প্রয়োজন হবে—আর মাত্র একটি দল যেন চার পয়েন্টের বেশি পায়। যদি শ্রীলঙ্কা দুই ম্যাচ জিতে ৮ পয়েন্টে শেষ করে, তাহলে অস্ট্রেলিয়া ওমানকে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট পাবে। সে ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ে সমান পয়েন্টে লড়বে। কিন্তু জিম্বাবুয়ে যদি শ্রীলঙ্কাকে হারায়, তাহলে তিন দলের সমান পয়েন্টের লড়াই সম্ভব কেবল তখনই, যদি অস্ট্রেলিয়া ওমানের কাছে হারে। অস্ট্রেলিয়া শেষ দুটি ম্যাচ জিতলে আয়ারল্যান্ডের বিদায় নিশ্চিত। সব মিলিয়ে ‘বি’ গ্রুপে শেষ ম্যাচগুলো হয়ে উঠেছে অঘোষিত নকআউট। অস্ট্রেলিয়ার জন্য সমীকরণ পরিষ্কার—নিজেদের কাজ আগে শেষ করতে হবে, এরপর অপেক্ষা অন্যদের ফলের।
নিউজিল্যান্ডের নতুন অধিনায়ক অ্যামেলিয়া

নিউজিল্যান্ডের নতুন অধিনায়ক অ্যামেলিয়া নারী ক্রিকেটের তরুণ অলরাউন্ডার অ্যামেলিয়া কারকে সব সংস্করণের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। তিনি সোফি ডিভাইনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ২০২৫ সালের বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছেন সোফি ডিভাইন। এছাড়া টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্বও ছেড়ে দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই তারকা। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ৮৪ ওয়ানডে ও ৮৮ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন অ্যামেলিয়া। ওয়ানডেতে তার রান ২ হাজার ৩০৪, গড় ৪১.১৪ ও উইকেট নিয়েছেন ১০৬টি। টি-টোয়েন্টিতে ১ হাজার ৪৫৩ রান করেছেন ১০৯.৭৪ স্ট্রাইক রেটে, সঙ্গে ৯৫ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৬.০৯ ইকোনমি রেটে। তিনি ইতিমধ্যেই দেশের তৃতীয় সর্বকালের শীর্ষ উইকেট শিকারী এবং চতুর্থ সর্বকালের শীর্ষ রান সংগ্রাহক। চলতি মাসের শেষের দিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে সিরিজে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্যে দিয়ে কারে নতুন দায়িত্ব শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অ্যামেলিয়া। দায়িত্ব পাওয়ার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যামেলিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকে নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন নিয়ে বড় হয়োিছ। দেশের অধিনায়কত্বের সুযোগ পাওয়া একটি বিশাল সুযোগ। অধিনায়কত্ব আমাকে বদলে দেবে না। আমি যেমন ছিলাম, তেমনই থাকব। দলকে নেতৃত্ব দিতে এবং দেশের জন্য সাফল্য আনতে সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করব। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার নেতৃত্বের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ মৌসুমের সুপার স্ম্যাশ টুর্নামেন্টে ওয়েলিংটন ব্লেজকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন অ্যামেলিয়া।
এক হারে শেষ সব স্বপ্ন পাকিস্তানের

এক হারে শেষ সব স্বপ্ন পাকিস্তানের ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর সুপার এইটের সমীকরণে জটিল অবস্থায় পড়ে গেছে পাকিস্তান। শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে জয় ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই সালমান আলী আঘাদের দলের সামনে। গ্রুপ এ এর সুপার এইটের সমীকরণ এখন অনেকটাই পরিষ্কার। তবু শেষ ম্যাচের আগে কয়েকটি দলের ভাগ্য এখনো ঝুলে আছে। ভারত ইতোমধ্যে সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করেছে। তারা নেদারল্যান্ডসের কাছে বড় ব্যবধানে হারলেও কোনো সমস্যা নেই। তিন ম্যাচ শেষে ভারতের পয়েন্ট ৬। এই গ্রুপ থেকে আর দুটি দলের একসঙ্গে ৬ পয়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফলে ভারতের পরের পর্ব নিশ্চিত। শীর্ষস্থান হারানোর সম্ভাবনা থাকলেও এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপে সেটার তেমন কোনো গুরুত্ব নেই। কারণ আগেই সুপার এইটের গ্রুপ নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। পাকিস্তান চাইলে গ্রুপের শীর্ষেও উঠতে পারে, তবে সেটিও বাস্তবে বাড়তি সুবিধা দেবে না। ভারতের কাছে ৬১ রানের হারের পর পাকিস্তানের সামনে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। কাজটা একদিকে সহজ, আবার কঠিনও। নিজেদের শেষ ম্যাচে নামিবিয়াকে হারাতেই হবে। হারলেই বিদায়। জয়ের ব্যবধান কোনো বিষয় নয়। এমনকি ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেও পাকিস্তান এগিয়ে যাবে। কাগজে কলমে নামিবিয়া দুর্বল দল হলেও তারা মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। চমক দেখানোর ক্ষমতা আছে তাদের। এই হারের ফলে পাকিস্তান নেমে গেছে পয়েন্ট তালিকার তিন নম্বরে। কারণ তাদের নেট রান রেট এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে খারাপ। যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সব ম্যাচ খেলে ফেলেছে। তাই তাদের নেট রান রেট আর বদলাবে না। পাকিস্তান হারলে তাদের নেট রান রেট আরও খারাপ হবে। ফলে হার মানেই সালমান আলী আঘাদের দলের বিদায়। নেদারল্যান্ডসের পথ সবচেয়ে কঠিন। তাদের আগে ভারতকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে। একই সঙ্গে নামিবিয়াকে পাকিস্তানকে হারাতে হবে। এই দুই শর্তই কঠিন। এমনকি সব কিছু পক্ষে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রকে নেট রান রেটে ছাড়িয়ে যেতে হবে, যেটা মোটেও সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। পাকিস্তান যদি নামিবিয়াকে হারায় কিংবা ম্যাচ ভেসে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ছিটকে যাবে। তবে নামিবিয়া জিতলে তাদের আশা থাকবে। তারপরও নেদারল্যান্ডস যদি ভারতকে বড় ব্যবধানে হারায়, তাহলে হিসাব বদলে যেতে পারে। সম্ভাবনা কম, তবে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ব্যাংককে আজ হাত মেলাননি ভারত-পাকিস্তানের মেয়েরা

ব্যাংককে আজ হাত মেলাননি ভারত-পাকিস্তানের মেয়েরা কলম্বোয় ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তাপ ছড়ালো মেয়েদের এশিয়া কাপ। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আজ ‘রাইজিং স্টারস’ টুর্নামেন্টে পাকিস্তান ‘এ’ দলকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ভারত ‘এ’ দল। তবে মাঠের একপেশে লড়াই ছাপিয়ে আবারও আলোচনায় সেই পুরনো ‘হাত না মেলানো’র সংস্কৃতি। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১৮.৫ ওভারে মাত্র ৯৩ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। শাওয়াল জুলফিকার (২৩) ও গুল রুখ (২১) ছাড়া কেউ দাঁড়াতে পারেননি। জবাবে দীনেশ ভৃন্দার ২৯ বলে অপরাজিত ৫৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসে মাত্র ১০.১ ওভারেই জয় তুলে নেয় ভারত। ম্যাচের শুরুতে টসের সময় পাকিস্তান অধিনায়ক হাফসা খালিদ ও ভারত অধিনায়ক রাধা যাদব হাত মেলাননি। ম্যাচ শেষেও দুই দলের খেলোয়াড়দের করমর্দন করতে দেখা যায়নি। গত এশিয়া কাপ থেকেই দুই দেশের ক্রিকেটে এই বৈরী রেওয়াজ চলছে। আইসিসির নিয়মে হাত মেলানো বাধ্যতামূলক না হলেও এটি সৌজন্যের প্রতীক। আজ সন্ধ্যায় কলম্বোয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তানের ছেলেরা। ব্যাংককের এই ঘটনার পর কলম্বোতেও সৌজন্যের ব্যত্যয় ঘটবে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। দুই দলের অধিনায়করাও সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি।
ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়ের সুযোগ আছে?

ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়ের সুযোগ আছে? ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার বহুল আলোচিত মহারণ আজ। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ম্যাচের আগে ও পরে ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রায় ১৬ হাজার ভারতীয় সমর্থক, যারা বিশেষভাবে এই ম্যাচ দেখতে শ্রীলঙ্কায় এসেছেন। ম্যাচটি হওয়ার কথা ২৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষম প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। এই মাঠে গ্যালারি ভরার পাশাপাশি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ টেলিভিশন ও অনলাইনে ম্যাচটি দেখার অপেক্ষায় আছেন। পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আঘা বলেছেন, এই ম্যাচ সব সময়ই বড় গুরুত্ব বহন করে। তার ভাষায়, বৃষ্টি হলে তাদের কিছু করার নেই। ওভার কমে গেলে সে অনুযায়ী খেলতে প্রস্তুত দল। এই মাঠের উইকেট সাধারণত ধীরগতির এবং স্পিনারদের সহায়তা করে। ফলে ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় রান করা সহজ হয় না। ঠিক একারণেই উসমান তারিক পাকিস্তানের জন্য ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে একজন গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। তার বোলিং অ্যাকশন ও ভ্যারিয়েশন ব্যাটসম্যানদের জন্য বেশ অস্বস্তিকর। ডানহাতি অফস্পিনার হিসেবে তিনি নিচু আর্ম অ্যাঙ্গেল ও থেমে থেমে বল করার কৌশল ব্যবহার করেন, যা সাধারণ স্পিনারদের থেকে আলাদা। এই অপ্রচলিত স্টাইলের কারণে পাকিস্তান তাকে মিডল ওভারে উইকেট নেওয়ার বড় ভরসা হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, বিশেষ করে এই সময়েই ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করে। শুরুর দিকে ধারণা করা হয়েছিল, এটি হবে ব্যাটিং সহায়ক উইকেট। কিন্তু টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত এখানে খেলা তিনটি ম্যাচে রান হয়েছে তুলনামূলক কম। সাধারণত স্কোর ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ এর মধ্যে। তবে এবারও কী হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। ভারতের অধিনায়ক সুরিয়াকুমার দুবাইয়ে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তৃতীয় ম্যাচ জয়ের পর জানিয়ে দেন, এই মুহূর্তে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখেন না তিনি। তবু দর্শকরা এখনও সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখায় এই ম্যাচে। স্টেডিয়াম সবসময় পূর্ণ থাকে, আর টিভি বা অনলাইন দর্শক সংখ্যা অন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার তুলনায় বেশি থাকে। পাকিস্তান কখনোই অস্বীকার করেনি যে ভারতের বিরুদ্ধে জয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গত ১০ বছরে তারা ভারতের বিরুদ্ধে মাত্র তিনটি ম্যাচ জিতেছে। তবে বাকি ১৭টি ম্যাচেই পরাজয় বরণ করেছে পাকিস্তান। টুর্নামেন্টের দিক থেকে এই ম্যাচের প্রভাব খুব বেশি নয়। উভয় দলই তাদের কম পরিচিত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথম দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে রেকর্ড গড়েছে। কোনো দল হারলেও পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রগতি প্রায় নিশ্চিত। এই ম্যাচ, আসলে, টুর্নামেন্টের প্রেক্ষাপট ছাড়াই, তাদের নিজের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। মাঠের মধ্যে ভারত পাকিস্তানের ওপর স্পষ্টভাবে আধিপত্য দেখাচ্ছে। এশিয়া কাপে তিনটি ম্যাচই তারা তিনভাবে জিতেছে, প্রথমে বল, দ্বিতীয়তে ব্যাট, শেষ ম্যাচে মানসিক কৌশল। এতে পাকিস্তানের জন্য জেতার পথ আরও কঠিন হয়ে গেছে। ভারতের টপ অর্ডার টি-২০তে ভীষণ শক্তিশালী, মিডল অর্ডারে রয়েছে ভার, স্পিনারদের ভ্যারাইটি বিশ্বমানের, এবং ফাস্ট বোলিংয়ে আছে জসপ্রিত বুমরাহ। ভারতের দলে হয়তো হার্দিক পান্ডিয়া পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেন। ই দলের বিপক্ষে তার বোলিং গড়, ইকোনমি রেট এবং স্ট্রাইক রেট তার সাধারণ টি২০ আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানের চেয়ে ভালো। ব্যাটিংয়ে যদিও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তার গড় খুব বেশি ভালো নয়, তবুও ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ৪৩ বলের ৭৬ রান হারলেও সবাই এখনও মনে রাখে।