টি–টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ: শীর্ষে আইপিএল, তালিকার বাইরে বিপিএল

টি–টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ: শীর্ষে আইপিএল, তালিকার বাইরে বিপিএল বিশ্ব ক্রিকেট এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দুনিয়ায় ভাসছে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল), পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল), দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল), সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলটি২০—সবই ভিন্ন ভিন্ন আকর্ষণ নিয়ে মাঠে গড়ায়। এমনকি ব্যতিক্রমী ১০০ বলের ফরম্যাট “দ্য হান্ড্রেড”–ও জায়গা করে নিয়েছে দর্শকদের আলোচনায়।তাহলে প্রশ্ন—কোন লিগই বা সবচেয়ে সেরা? বিবিসি স্পোর্ট ও ক্রিকভিজ একসঙ্গে কিছু মূল পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে চেষ্টা করেছে উত্তর খুঁজতে। শেষ বলের রোমাঞ্চে এগিয়ে আইপিএল শেষ ওভার বা শেষ বল পর্যন্ত গড়ানো ম্যাচের দিক থেকে শীর্ষে আইপিএল। শেষ বলে নিষ্পত্তি হওয়া ম্যাচে আইপিএল কেবল সামান্য ব্যবধানে দ্য হান্ড্রেডকে ছাড়িয়ে গেছে। শেষ ওভারে সিদ্ধান্ত হওয়া ম্যাচের হারেও আইপিএল (২৮.৯ শতাংশ) প্রথম, পিএসএল (২৭.৫ শতাংশ) দ্বিতীয়, দ্য হান্ড্রেড (২৪.৪ শতাংশ) তৃতীয়। হোম অ্যাডভান্টেজে এগিয়ে এসএ২০ ঘরের মাঠে জয়ের শতাংশের দিক থেকে শীর্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ (৬০ শতাংশ), আর সবচেয়ে নিচে আইপিএল (৪৫.৪ শতাংশ)। ছক্কা–চারে রাজত্ব আইপিএলের চারের সঙ্গে ছক্কার বন্যায় আইপিএল সবার ওপরে। দ্বিতীয় পিএসএল, তৃতীয় আইএলটি২০। দ্য হান্ড্রেড এই তালিকায় সবচেয়ে নিচে, যা ব্যাট-বলের মধ্যে ভালো ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়। গড় রান ও উইকেট প্রথম ইনিংসে গড় রান: পিএসএল (১৮০) আইপিএলকে (১৭৯) সামান্য হারিয়েছে। আইএলটি২০ সবচেয়ে কম (১৬১)। দ্য হান্ড্রেডে গড় ১৪৪, যা পূর্ণ ২০ ওভারে আনলে দাঁড়ায় ১৬৭। বোলিং স্টাইলে ক্যারিবিয়ানে সবচেয়ে বেশি উইকেট আসে স্পিনে, আর অস্ট্রেলিয়ায় পেসারদের দাপট। তারকাখ্যাতি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দলের একাদশে গড় আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় শীর্ষে আইএলটি২০ (৪২৩ ম্যাচ), দ্বিতীয় পিএসএল (৩৫১), তৃতীয় আইপিএল (৩৩৫)। বিগ ব্যাশ সবচেয়ে নিচে (১৪৫), যা অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক মৌসুম চলার সময়সূচির কারণে। অর্থ, সময় ও ‘এন্টারটেইনমেন্ট ইনডেক্স’ বেতন কাঠামোয় আইপিএল শীর্ষে, দ্বিতীয় আইএলটি২০। ম্যাচের গড় সময়ের হিসাবে সবচেয়ে ধীর সিপিএল (প্রায় ৪ ঘণ্টা), সবচেয়ে দ্রুত বিগ ব্যাশ (৩ ঘণ্টা ১০ মিনিট)। বিভিন্ন মানদণ্ড যোগ করে তৈরি করা ‘এন্টারটেইনমেন্ট ইনডেক্সে’ শীর্ষে আইপিএল, এরপর পিএসএল, আইএলটি২০, দ্য হান্ড্রেড ও শেষদিকে বিগ ব্যাশ। তাহলে বিপিএল নেই কেন? বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এ তালিকায় না থাকার কারণ বিবিসির ওই রিপোর্টে উল্লেখ নেই। তবে ধারণা করা যায়— এই সূচকের জন্য যত গভীর ও ধারাবাহিক পরিসংখ্যান প্রয়োজন, বিপিএলের ক্ষেত্রে তা তুলনামূলকভাবে কম বা অসম্পূর্ণ। তাছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রচার ও নির্দিষ্ট সময়সূচির ধারাবাহিকতায় বিপিএল এখনো পিছিয়ে। আর বিদেশি তারকার সংখ্যা ও মানে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, এবং জাতীয় দলের সূচির সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে অনেক বড় খেলোয়াড় আসতে পারেন না। সবমিলিয়ে এই গবেষণার লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী, বৈশ্বিক দর্শকপ্রিয় ও বাণিজ্যিকভাবে বড় লিগগুলো তুলনা করা—সেই মানদণ্ডে বিপিএলকে বিবেচনা করা হয়নি।
সাঈদ আনোয়ারের রেকর্ড ছোঁয়ার অপেক্ষায় বাবর

সাঈদ আনোয়ারের রেকর্ড ছোঁয়ার অপেক্ষায় বাবর পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার বাবর আজম ওয়ানডেতে দুইটি বড় মাইলফলকের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন। এর মধ্যে একটি আবার তার স্বদেশী কিংবদন্তি ওপেনার সাঈদ আনোয়ারের সেঞ্চুরির রেকর্ড। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামছেন তিনি। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা ক্রিকেট একাডেমিতে। ৩০ বছর বয়সী বাবর ইতোমধ্যেই ১৯টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেছেন। আর মাত্র একটি সেঞ্চুরি করলেই সাঈদ আনোয়ারের পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ২০টি সেঞ্চুরির রেকর্ডে ভাগ বসাবেন বাবর। সাঈদ আনোয়ার ২৪৭ ম্যাচ ও ২৪৪ ইনিংসে এই কীর্তি গড়েছিলেন, আর বাবর খেলেছেন মাত্র ১৩১ ম্যাচ ও ১২৮ ইনিংস। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ওয়ানডে সেঞ্চুরি সাঈদ আনোয়ার — ২০ সেঞ্চুরি (২৪৭ ম্যাচ) বাবর আজম — ১৯* সেঞ্চুরি (১৩১ ম্যাচ) মোহাম্মদ ইউসুফ — ১৫ সেঞ্চুরি (২৮১ ম্যাচ) ফখর জামান — ১১ সেঞ্চুরি (৮২ ম্যাচ) মোহাম্মদ হাফিজ — ১১ সেঞ্চুরি (২১৮ ম্যাচ) এছাড়া বাবরের সামনে রয়েছে আরেকটি বড় সুযোগ—ওয়ানডেতে দ্রুততম ২০ সেঞ্চুরি করা ব্যাটারদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ওঠা। বর্তমানে এই রেকর্ডটি রয়েছে ভারতের বিরাট কোহলির দখলে, যিনি ১৩৩ ইনিংসে ২০ সেঞ্চুরি করেছিলেন। বাবরের হাতে আছে চার ইনিংস সময়; যদি এই সময়ে একটি সেঞ্চুরি করতে পারেন, তবে কোহলিকে ছাড়িয়ে যাবেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলার (১০৮ ইনিংস) পরেই থাকবেন। ওয়ানডেতে দ্রুততম ২০ সেঞ্চুরি হাশিম আমলা — ১০৮ ইনিংস বিরাট কোহলি — ১৩৩ ইনিংস এবি ডি ভিলিয়ার্স — ১৭৫ ইনিংস রোহিত শর্মা — ১৮৩ ইনিংস
পিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ২০ নারী ক্রিকেটার, বেতন বেড়েছে ৫০ শতাংশ

পিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ২০ নারী ক্রিকেটার, বেতন বেড়েছে ৫০ শতাংশ দুটি বিশ্বকাপ সামনে রেখে আগামী এক বছরের জন্য নারী ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ২০২৫-২৬ মৌসুমের জন্য ঘোষিত এই চুক্তিতে সব ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়েছে ৫০ শতাংশ করে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এই চুক্তি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা টি-টোয়েন্টি বোলার সাদিয়া ইকবাল পেয়েছেন তার প্রাপ্য স্বীকৃতি, উন্নীত হয়েছেন ক্যাটাগরি ‘এ’-তে। বর্তমানে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বোলিং র্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা সাদিয়ার সঙ্গে আরও আছেন ফাতিমা সানা, মুনিবা আলি ও সিদরা আমিন। ক্যাটাগরি ‘বি’-তে উন্নীত হয়েছেন ডায়ানা বেগ (আগে ক্যাটাগরি ‘সি’), আর রামিন শামিম গেছেন ‘সি’ ক্যাটাগরিতে (আগে ‘ডি’)। নতুনভাবে চুক্তিতে যুক্ত হয়েছেন আলিয়া রিয়াজ (বি), সিদরা নবীজ (ডি), নাতালিয়া পারভেজ (ডি) ও ওয়াহিদা আখতার (ডি)। তরুণ প্রতিভা গড়ে তুলতে নতুনভাবে চালু করা হয়েছে ‘উদীয়মান’ বা ক্যাটাগরি ‘ই’। এখানে রয়েছৈন এখনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলা ব্যাটার আইমান ফাতিমা এবং ইতোমধ্যে তিনটি ওয়ানডে ও সাতটি টি-টোয়েন্টি খেলা শাওয়াল জুলফিকার। দুজনই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তান স্কোয়াডে রয়েছেন। পিসিবি জানিয়েছে, নারী ক্রিকেট দলের নির্বাচক প্যানেল ও প্রধান কোচ মোহাম্মদ ওয়াসিমের পরামর্শে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করেই এই চুক্তি দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে দুটি বড় টুর্নামেন্ট খেলবে পাকিস্তান নারী দল। ঘরের মাঠে বাছাইপর্ব জিতে তারা নিশ্চিত করেছে আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট। এর পরের বছর তারা খেলবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও।
ভারতের ঐতিহাসিক জয়ের পর র্যাংকিংয়ে বড় লাফ সিরাজ-কৃষ্ণার

ভারতের ঐতিহাসিক জয়ের পর র্যাংকিংয়ে বড় লাফ সিরাজ-কৃষ্ণার ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর টেস্ট জয়ের পর আইসিসি টেস্ট র্যাংকিংয়ে দারুণ উন্নতি করেছেন ভারতের দুই পেসার মোহাম্মদ সিরাজ ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। দুইজনই পেয়েছেন নিজেদের ক্যারিয়ারসেরা রেটিং ও অবস্থান। মোহাম্মদ সিরাজ ৮ উইকেটের পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হয়ে ১২ ধাপ এগিয়ে এখন ১৫ নম্বরে, রেটিং পয়েন্ট ৬৭৪—যা তার ক্যারিয়ারসেরা। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা উঠেছেন এক লাফে ২৫ ধাপ, এখন ৫৯ নম্বরে, রেটিং পয়েন্ট ৩৬৮—এটাও তার সর্বোচ্চ অবস্থান। ভারতের জয়ের মতোই ইংল্যান্ডের দুই পেসার গাস অ্যাটকিনসন ও জশ টাং-ও তাদের ক্যারিয়ারসেরা অবস্থানে উঠে এসেছেন। অ্যাটকিনসন প্রথমবারের মতো প্রবেশ করেছেন শীর্ষ ১০-এ। জশ টাং উঠেছেন ১৪ ধাপ, এখন ৪৬ নম্বরে। ওভাল টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান যশস্বী জয়সওয়াল টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র্যাংকিংয়ে তিন ধাপ এগিয়ে শীর্ষ পাঁচে ঢুকে পড়েছেন, তার রেটিং পয়েন্ট এখন ৭৯২। অন্যদিকে সেঞ্চুরিয়ান জো রুট ও হ্যারি ব্রুক যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছেন। অন্যকে জিম্বাবুয়ে-নিউজিল্যান্ড সিরিজের মাঝে কিউই ব্যাটার ড্যারিল মিচেল চার ধাপ এগিয়ে টেস্ট ব্যাটসম্যানদের শীর্ষ ১০-এ জায়গা করে নিয়েছেন। ম্যাট হেনরি তিন ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন চতুর্থ স্থানে, রেটিং পয়েন্ট ৮১৭—টেস্ট ক্যারিয়ারে এটাই তার সর্বোচ্চ। টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। অস্ট্রেলিয়ার টিম ডেভিড ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরির সুবাদে দুই ধাপ এগিয়ে এখন ১৬ নম্বরে। পাকিস্তানের সাইম আইয়ুব ২৫ ধাপ লাফ দিয়ে উঠে এসেছেন ৩৭ নম্বরে। বোলারদের মধ্যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডার টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়ে ২৩ ধাপ এগিয়ে ৩২তম স্থানে, যেখানে তিনি এখন কেশব মহারাজের সঙ্গে যৌথভাবে অবস্থান করছেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৩ রানে হারিয়ে সিরিজ পাকিস্তানের

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৩ রানে হারিয়ে সিরিজ পাকিস্তানের ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে পাকিস্তান। ফ্লোরিডার লডারহিলে শেষ ম্যাচে ১৩ রানে জয় তুলে নিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় সালমান আলি আগার দল। দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ বলে বাউন্ডারির সাহায্যে সিরিজে সমতা ফেরালেও নির্ধারণী ম্যাচে শুরু থেকেই পিছিয়ে ছিল ক্যারিবিয়ানরা। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেটে তোলে ১৮৯ রান। জবাবে ৬ উইকেটে ১৭৬ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। পাকিস্তানের হয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ১৩৮ রান তোলেন সাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুব। ফারহান ৭৪ এবং সাইম ৬৬ রান করেন। হাসান নওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে একটি করে উইকেট নেন জেসন হোল্ডার, শামার জোসেফ ও রস্টন চেজ। ওপেনার অ্যান্ড্রু জুয়েল (২৪) ফেরার পর আলিক আথানাজে (৬০) ও শেরফান রাদারফোর্ডের (৫১) ফিফটি সত্ত্বেও হার এড়াতে পারেনি তারা। পাকিস্তানের হাসান রউফ, হাসান আলী, মোহাম্মদ নওয়াজ, সাইম আইয়ুব ও সুফিয়ান মুক্বিম একটি করে উইকেট নেন। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে এবার ওয়ানডে লড়াইয়ে নামবে দুই দল। আগামী ৯ আগস্ট থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।
এশিয়া কাপের ভেন্যু ঘোষনা

এশিয়া কাপের ভেন্যু ঘোষনা আগামী ৯-২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ এশিয়ান কাপের ভেন্যু ঘোষনা করেছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। বি-গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই হবে আবু ধাবীর জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এ সম্পর্কে এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভি বলেছেন আট দলের এই টুর্ণামেন্ট আরব আমিরাতের দুটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে- দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও আবু ধাবীর জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এর মধ্যে আবু ধাবীতে এশিয়া কাপের আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর সুপার ফোরের একটি ম্যাচ রয়েছে। টুর্নামেন্টের বেশীরভাগ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত বনাম পাকিস্তানের মধ্যকার ব্লকবাস্টার ম্যাচটিসহ ২৮ সেপ্টেম্বর ফাইনাল ম্যাচও এখানেই অনুষ্ঠিত হবে। শুধুমাত্র ১৫ সেপ্টেম্বর আরব আমিরাত বনাম ওমানের ম্যাচটি ছাড়া বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে। এশিয়া কাপের আসন্ন এই টুর্নামেন্ট টি২০ ফর্মেটে অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলংকায় যৌথভাবে আয়োজিত টি২০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এবারের এশিয়া কাপ টি২০ ফর্মেটে আয়োজিত হচ্ছে। মোট আটটি দল দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশ নিচ্ছে। চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ও ভারতের সাথে গ্রুপ-এ’তে আরো রয়েছে স্বাগতিক আরব আমিরাত ও ওমান। গ্রুপ-বি’তে আছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, শ্রীলংকা ও হংকং। ১১ সেপ্টেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে টাইগারদের পরের ম্যাচ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩ সেপ্টেম্বর। আর ১৬ সেপ্টেম্বর নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ৯ সেপ্টেম্বর আবু ধাবীতে হংকং বনাম আফগানিস্তানের ম্যাচ দিয়ে আসরের পর্দা উঠবে। গ্রপ পর্ব শেষে প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সুপার ফোরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। সুপার ফোর শেষে শীর্ষ দুই দল ২৮ সেপ্টেম্বর ফাইনালে মুখোমুখি হবে। এশিয়া কাপের পূর্ণাঙ্গ সূচী : গ্রুপ-এ : পাকিস্তান, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান গ্রুপ-বি : বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান, হংকং ৯ সেপ্টেম্বর : আফগানিস্তান বনাম হংকং, আবু ধাবী ১০ সেপ্টেম্বর : ভারত বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাত, দুবাই ১১ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশ বনাম হংকং, আবু ধাবী ১২ সেপ্টেম্বর : পাকিস্তান বনাম ওমান, দুবাই ১৩ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকা, আবু ধাবী ১৪ সেপ্টেম্বর : ভারত বনাম পাকিস্তান, দুবাই ১৫ সেপ্টেম্বর : সংযুক্ত আরব আমিরাত বনাম ওমান, আবু ধাবী ১৫ সেপ্টেম্বর : শ্রীলংকা বনাম হংকং, দুবাই ১৬ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান, আবু ধাবী ১৭ সেপ্টেম্বর : পাকিস্তান বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাত, দুবাই ১৮ সেপ্টেম্বর : শ্রীলংকা বনাম আফগানিস্তান, আবু ধাবী ১৯ সেপ্টেম্বর : ভারত বনাম ওমান, আবু ধাবী সুপার ফোর পর্ব : ২০ সেপ্টেম্বর : বি১ বনাম বি২, দুবাই ২১ সেপ্টেম্বর : এ১ বনাম এ২, দুবাই ২৩ সেপ্টেম্বর : এ২ বনাম বি১, আবু ধাবী ২৪ সেপ্টেম্বর : এ১ বনাম বি২, দুবাই ২৫ সেপ্টেম্বর : এ২ বনাম বি২, দুবাই ২৬ সেপ্টেম্বর : এ১ বনাম বি১, দুবাই ২৮ সেপ্টেম্বর : ফাইনাল, দুবাই
অনূর্ধ্ব-১৯ ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

অনূর্ধ্ব-১৯ ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে অল্প ব্যবধানে হারের পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। আজ হারারের স্পোর্টস ক্লাব মাঠে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে টাইগার যুবারা। এই জয়ে ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নেট রানরেটের ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পেছনে ফেলে আবারও পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। সমান সংখ্যক ম্যাচে প্রোটিয়াদেরও পয়েন্ট ৬। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ে এখনো জয়শূন্য। তারা চার ম্যাচেই হেরে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে। আগামী ১০ আগস্ট হারারেতে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। টস জিতে বোলিংয়ে নামা বাংলাদেশ শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। পেসার ইকবাল হোসেন ইমন ও স্পিনার সানজিদ মজুমদার এবং স্বাধীন ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ২২.৩ ওভারে ৮৯ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। ইমন ৭ ওভারে ২৭ রানে শিকার করেন ৪ উইকেট। সানজিদ ২৬ রানে ২টি ও লেগস্পিনার স্বাধীন ইসলাম মাত্র ১ রানে ২ উইকেট নিয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করেন।
আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে শুরু লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ

আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে শুরু লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ আগামী ২৭ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) ২০২৫ আসর। গতকাল এক বিবৃতিতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। মাসব্যাপী এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের পর্দা নামবে ২৩ ডিসেম্বর। চলতি বছরও তিনটি ভেন্যু- কলম্বো, পাল্লেকেলে ও ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত হবে লিগের সব ম্যাচ। এলপিএলের টুর্নামেন্ট পরিচালক সামান্থা ডোডানওয়েলা জানিয়েছেন, আসরটি এমন সময় আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ২০২৬ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সুনিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘এই সময়টায় এলপিএল আয়োজনের মাধ্যমে আমরা খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্বকাপের আগে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে চাই। সময়সূচিও বিশ্বকাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে।’ ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করা এলপিএল অল্প সময়েই শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া ক্রিকেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। ঘরোয়া এই ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগে অংশ নিচ্ছেন দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা, পাশাপাশি নিয়মিতই দেখা যায় আন্তর্জাতিক তারকাদের অংশগ্রহণ।
৭ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ ‘এ’ দল

৭ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ ‘এ’ দল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে আগামী ৭ আগস্ট দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলবে বাংলাদেশ। আসন্ন টুর্নামেন্টে বিগ ব্যাশের দল, পাকিস্তান ‘এ’ এবং নেপাল জাতীয় দলও অংশ নেবে। অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য নর্দান টেরিটরির রাজধানী ডারউইনে ১৪ আগস্ট থেকে টুর্নামেন্ট শুরু হবে। এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ৯ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ায় উড়ে যাবার কথা ছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দলের। কিন্তু দু’দিন আগেই দেশ ছাড়বে তারা। এজন্য ঘরের মাঠে প্রস্তুতির পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সিরিজের প্রস্তুতির জন্য গত এক মাস ধরে চট্টগ্রামে আছেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ক্রিকেটাররা। চট্রগ্রামে বিসিবি হাই পারফরমেন্স দলের বিপক্ষে তিনটি অনুশীলন ম্যাচ খেলবে তারা। আজ প্রথম ম্যাচ এবং পরের দু’টি ম্যাচ হবে যথাক্রমে- ১ ও ৩ আগস্ট। সবগুলো ম্যাচই হবে ফ্লাইডলাইটের আলোতে। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন সর্ম্পকে ধারণা নিতে এই সিরিজটি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের খেলোয়াড়দের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গত দুই দশকের মধ্যে আগামী বছর প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।
টেস্টের পর টি-টোয়েন্টিতেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাই করল অস্ট্রেলিয়া

টেস্টের পর টি-টোয়েন্টিতেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাই করল অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে মিচেল মার্শ ভাবতেও পারেননি ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতবেন তারা। তবে শেষ পর্যন্ত এটাই হলো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার পাশাপাশি প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে টেস্ট সিরিজও ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে এক সফরে সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড এটি। ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে তারা ৮টি ম্যাচ জিতেছিল বটে, তবে সেখানে একটি ম্যাচ ছিল ড্র। তবে বিশ্বরেকর্ডটি এখনও ভারতের দখলেই রয়েছে। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে ৯টি ম্যাচ জিতেছিল বিরাট কোহলির দল। শেষ টি-টোয়েন্টিতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকালে সেন্ট কিটসে ৩ উইকেটে জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এর আগে তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয় ১৭৩ রানে। রান তাড়ায় বড় কোনো ইনিংস না খেললেও ছোট ছোট ইনিংসের সমন্বয়ে তিন ওভার বাকি থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সফরকারীরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে শিমরন হেটমায়ার লড়াই করেছেন একাই। তার ৩১ বলে ৫২ রানের ইনিংসেই ভর করে স্বাগতিকরা পেরিয়েছে ১৭০ রানের গণ্ডি। তিনটি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন অস্ট্রেলিয়ান বোলার বেন ডোয়ার্শিস। রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল বিপর্যস্ত। মাত্র ২৫ রানে তারা হারায় তিন উইকেট। মিচেল মার্শ ১৪, জশ ইংলিস ১০ এবং আগের ম্যাচের নায়ক গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ফেরেন শূন্য রানে। তবে এরপর থেকেই পাল্টা আক্রমণ শুরু হয় ক্যামেরন গ্রিন ও টিম ডেভিডের ব্যাটে। গ্রিন ১৮ বলে করেন ৩২, আর ডেভিড মাত্র ১২ বলে খেলেন চার ছক্কার ইনিংস। অভিষেকেই ফিফটি করা মিচেল ওয়েন শেষ ম্যাচেও ঝড় তোলেন। তিনটি চার ও তিনটি ছক্কায় ১৭ বলে ৩৭ রান করেন তিনি। লোয়ার অর্ডারে অ্যারন হার্ডির অপরাজিত ২৮ রানে সহজেই জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।