ভারতে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে শঙ্কা!

ভারতে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে শঙ্কা! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। এবারের আসরের প্রধান আয়োজক ভারত, সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা। তবে ভারতে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে নিপা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এশিয়ার একাধিক দেশ ভারতফেরত যাত্রীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং চালু করেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে পুনরায় কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা চালুর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসা ক্রিকেটার, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও দর্শকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ভারতে নিপা ভাইরাসের বিস্তার নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার, খাইবার নিউজসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। নিপা ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক এবং প্রাণঘাতী। সাধারণত কাঁচা খেজুরের রস পানসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এটি মানবদেহে সংক্রমিত হয়। একবার মানবদেহে প্রবেশ করলে দ্রুত অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা কার্যকর টিকা এখনো নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নিপা ভাইরাসকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও মহামারি সৃষ্টির সম্ভাবনাসম্পন্ন ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সিজিটিএনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ইতোমধ্যে চিকিৎসাকর্মীসহ অন্তত পাঁচজন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। জনবহুল দেশ হওয়ায় সবার কার্যকর স্ক্রিনিং করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, নিপা ভাইরাসে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। যারা সুস্থ হন, তাদের অনেকের মধ্যেও পরবর্তীতে স্নায়ুবিক জটিলতা দেখা যায়।
রেকর্ড দামে বিক্রি হলো ব্র্যাডম্যানের ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ

রেকর্ড দামে বিক্রি হলো ব্র্যাডম্যানের ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্যাটার হিসেবে পরিচিত স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের ব্যবহৃত একটি বিরল ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ নিলামে রেকর্ড দামে বিক্রি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তির এই ঐতিহাসিক ক্যাপটি সম্প্রতি ৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এটি ব্র্যাডম্যানের কোনো ব্যাগি গ্রিন ক্যাপের জন্য এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্য। অস্ট্রেলিয়া ডে উপলক্ষে গোল্ড কোস্টে লয়েডস অকশনসে অনুষ্ঠিত নিলামে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অস্ট্রেলিয়ান সংগ্রাহক এই ক্যাপটি কিনে নেন। নিলাম কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্রেতা নিশ্চিত করেছেন এই মূল্যবান স্মারকটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাদুঘরে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে সাধারণ দর্শনার্থীরা এটি দেখতে পারেন। নিলামে বিক্রি হওয়া ব্যাগি গ্রিন ক্যাপটি ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালে ব্র্যাডম্যান নিজ হাতে সতীর্থ ক্রিকেটার এস ডব্লিউ সোহোনিকে উপহার দিয়েছিলেন। এটি ছিল ঘরের মাঠে ব্র্যাডম্যানের শেষ টেস্ট সিরিজ। ১৯৪৮ সালে অবসর নেওয়ার আগে টেস্ট ক্রিকেটে তিনি রেখে যান অবিশ্বাস্য ৯৯.৯৪ গড়, যা আজও ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ। নিলাম তালিকায় লয়েডস উল্লেখ করে, ‘ফার্মার্স সিডনি নির্মিত এবং ক্রিকেট কোট অব আর্মস সংবলিত ১৯৪৭-৪৮ সালের এই ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ ক্রিকেট ইতিহাসের এক অনন্য স্মারক। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সংগ্রহে থাকা এই ক্যাপটি ডন ব্র্যাডম্যানের অজেয় যুগ এবং ভারতীয় দলের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক বিনিময়ের স্মৃতি বহন করে।’ উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ক্যাপটি ৭৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই পরিবারের কাছে সংরক্ষিত ছিল এবং এর আগে কখনো জনসমক্ষে প্রদর্শন বা নিলামে তোলা হয়নি। ব্র্যাডম্যানের যুগের ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ অত্যন্ত দুর্লভ; হাতে গোনা কয়েকটিই টিকে আছে। ফলে এগুলো ক্রিকেট স্মারক জগতের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম।
বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ‘সুুসংবাদ’ দিলো আইসিসি

বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ‘সুুসংবাদ’ দিলো আইসিসি নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে না। ফলে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই টাইগারদের বাদ দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি (অ্যাক্রেডিটেশন) নিয় জটিলতা সৃষ্টি হয়। বিসিবি এই ঘটনার ব্যাখ্যা চায় আইসিসির কাছে। তারপরই সুর বদল করে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাংলাদেশের সাংবাদিকদের নতুন করে সুযোগ দেয়ার কথাও জানানো হয়। বাংলাদেশ জাতীয় দল ভারত সফর থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়াতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনে আইসিসি। ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরের জন্য প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন বাংলাদেশি সাংবাদিক আবেদন করেছিলেন। যাদের অনেকের আবেদনই প্রাথমিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। তবে আইসিসি জানিয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং সূচি অনুযায়ী তারা এখন পুরো প্রক্রিয়াটি পুনরায় মূল্যায়ন করছে এবং সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন করে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আইসিসি সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য অ্যাক্রেডিটেশনের একটি নির্ধারিত কোটা থাকে, যা সর্বোচ্চ ৪০ জনের মতো হতে পারে। এই কোটা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সুপারিশকে প্রধান্য দেওয়া হয়। এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের আবেদন কেন বাতিল করা হয়েছিল সে বিষয়ে তারা আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। অনেক অভিজ্ঞ সাংবাদিক, যারা এর আগে একাধিক বিশ্বকাপ কাভার করেছেন তারাও এবার প্রথমবারের মতো প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে আইসিসি এখন বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং নতুন করে আবেদন করার পর প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশ খেলতে আগ্রহ না দেখানোয় পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে মূল টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে আসতে পারে কঠিন সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে আসতে পারে কঠিন সিদ্ধান্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তান কঠোর অবস্থান নিতে পারে। তারা এই সিদ্ধান্তকে আইসিসির বৈষম্যমূলক ও অন্যায় আচরণ হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এজন্য আজ প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বৈঠক করবে। পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, ফেডারেল সরকার ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত আসন্ন বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে দল পাঠানোর অনুমতি নাও দিতে পারে। পিসিবি এই পরিস্থিতি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশ নিরাপত্তার কারণে ভারতের ভেন্যুতে খেলার পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ জানায়। আইসিসি নিরাপত্তার বিষয়ে কোন হুমকি না দেখায় বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের নির্দেশ দেয় এবং স্কটল্যান্ডকে তাদের স্থলে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ক্রিকেটাররা চেয়ারম্যানের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন। পাকিস্তান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিমুখী নীতি মেনে চলতে চায় না এবং বাংলাদেশকে বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদ করছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের সম্ভাব্য বিশ্বকাপ বয়কট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, যা প্রশাসন, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুতর প্রশ্ন তুলবে।
বিশ্বকাপ বর্জনের গুঞ্জনের মধ্যেই দল ঘোষণা পাকিস্তানের

বিশ্বকাপ বর্জনের গুঞ্জনের মধ্যেই দল ঘোষণা পাকিস্তানের বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের আলোচনা চলমান। পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি আসন্ন টুর্নামেন্টে নিজেদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন করে ভাবার কথা জানিয়েছিলেন। তার একদিন পর অবশ্য টুর্নামেন্টে খেলার জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ঘোষিত দলে বড় চমক হিসেবে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অলরাউন্ডার সালমান আলি আগাকে। সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম থাকলেও অভিজ্ঞ উইকেটকিপার ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান বাদ পড়েছেন। রিজওয়ানের অনুপস্থিতিতে উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে দেখা যাবে তরুণ খাজা নাফেকে। কোচ মাইক হেসন ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্যাটিং অর্ডারে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন কৌশলে এগোতে চাইছে পাকিস্তান। পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি আগেই জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারের ওপর নির্ভর করছে। এদিকে বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তান এই টুর্নামেন্ট বর্জনের হুমকি দিয়ে আসছিল। ভারতীয় মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান অংশ না নিলে আইসিসি তাদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে দল ঘোষণা করাকে পিসিবির ‘কৌশলগত অবস্থান’ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। পাকিস্তান স্কোয়াড: সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, খাজা নাফে (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নেওয়াজ, সালমান মির্জা, নাসিম শাহ, শাহিন শাহ আফ্রিদি, সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, শাদাব খান, উসমান খান ও উসমান তারিক।
যে রিপোর্টের কারণে ভারতে দল পাঠায়নি বাংলাদেশ

যে রিপোর্টের কারণে ভারতে দল পাঠায়নি বাংলাদেশ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ চেয়েছিল ভেন্যু পরিবর্তন করে ভারতের পরিবর্তে শ্রীলংকায় গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সাবেক সচিব ও বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সভাপতি জয় শাহর নেতৃত্বাধীন বোর্ড। নিরপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ করে দিয়েছে আইসিসি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘরে বাইরে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। এব্যাপারে বিসিবির বর্তমান পরিচালক ও জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী আসিফ আকবর জানিয়েছেন, গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিসিবি পরিচালক বলেন, ‘গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের নিজস্ব প্রশ্ন ছিল এখানে। তাদের একটা গোয়েন্দা প্রতিবেদন থাকে যে আমাদের ক্রিকেটার, সাংবাদিক, দর্শক বা ট্যাকটিকাল লোকজন যাবে, তাদের নিরাপত্তা ইস্যু ও সেখানে যে ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে, সেগুলোকে মাথায় রেখেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মুহূর্তে যদি কোনো নাশকতামূলক ঘটনাও ঘটে, সেটার দায়দায়িত্ব আমরা নিতে পারি না। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। বিসিবি পরিচালক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বকাপে যাচ্ছে না নিরাপত্তার হুমকির কারণে। সরকারের সঙ্গে যখন সরকারের আলোচনা হয়, সবার আগে নিরাপত্তা দেখা হয়। ক্যাবিনেটে রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিরাপত্তার কারণে যাব না। সেখানে অনেক কিছু ঘটতে পারে। আইসিসি একটি সংস্থা, বিসিবিও সংস্থা। তবে তারা রাষ্ট্র না। একটা রাষ্ট্র যখন নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলে, তখন সব দিক বিবেচনা করেই কথা বলে। আমাদের সরকার নিরাপত্তাঝুঁকির কথা জানানোর পর তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া, আইন এই চার মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভায় বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আমরা ঝুঁকি নেব না।
চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করলো রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। শুরুতে নেমে ২০ ওভারে ১৭৪ রান করে রাজশাহী। জবাবে ১১১ রানে থামে চট্টগ্রামের ইনিংস। এটা রাজশাহীর দ্বিতীয় বিপিএল শিরোপা। এর আগে বিপিএলের ২০১৯-২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস নামে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এদিকে, বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তিনবার শিরোপা জিতেছে ঢাকা। রাজশাহীর সমান দুবার করে চ্যাম্পিয়ন হয় বরিশাল। আর একবার শিরোপা জিতেছে রংপুর রাইডার্স। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় রাজশাহী। তানজিদের ঝড় ও সাহিবজাদার ধৈর্য্যশীল ব্যাটিংয়ে ওপেনিং জুটিতে আসে ৮৩ রান। ৩০ বলে ৩০ রান করে আউট হন ফারহান। দ্বিতীয় উইকেটে খেলতে নামা কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে ৪৭ রানের জুটি গড়েন তানজিদ। শরিফুল ইসলামের বলে আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে ২৪ রান করেন উইলিয়ামসন। এদিকে আপনতালে খেলতে থাকেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ফিফটির পূরণের পর সেঞ্চুরিও তুলে নেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। বিপিএলের এবারের আসরে এটা চতুর্থ সেঞ্চুরি। আর বিপিএলের ফাইনালে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন তানজিদ। এর আগে ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছিলেন ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত তানজিদের ইনিংস থামে ১০০ রানে। মাত্র ৬২ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি ছয়টি চার ও সাতটি ছয়ে সাজানো। আর দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। এদিকে ৭ রানে অপরাজিত থাকেন জিমি নিশাম। চট্টগ্রাম রয়্যালসের সফল বোলার শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম। দুজনই দুটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস। দলীয় ১৮ রানের মাথায় সাজঘরের ফেরেন দুই ব্যাটার। ১০ বলে ৯ রান করেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ। আর ২ বল খেলে রানের খাতায় খুলতে পারেননি মাহমুদুল হাসান জয়। এরদিকে হাসান নেওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে ১১ রান। চতুর্থ উইকেটে ব্যাট করতে নামেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার জাহিদুজ্জামান। তাকে নিয়ে কিছুক্ষণ লড়াই চালিয়ে মির্জা বেগ। কিন্তু দুজনের ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে ম্যাচটি চট্টগ্রামের হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। ১৩ বলে ১১ রান করে আউট হন জাহিদুজ্জামান। আর আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ৩৯ রান করেন মির্জা বেগ।
আপিল বাতিল: বিসিবির সামনে এখন যে পথ খোলা
আপিল বাতিল: বিসিবির সামনে এখন যে পথ খোলা বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তন চেয়ে আইসিসির ডিসপিউট রেজ্যুলেশন কমিটি বা বিবাদ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) কাছে করা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আপিল বাতিল হয়ে গেছে। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই এমন তথ্যই জানিয়েছে। বিসিবি অবশ্য শুধু আইসিসির দিকেই তাকিয়ে নেই। তারা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাওয়ার কথাও ভাবছে। বিসিবির এক কর্তা সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘বিসিবি আইসিসির ডিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমরা বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা এবং পথগুলি খোলা রাখতে চাইছি। ডিআরসিও বিসিবির বিরুদ্ধে রায় দিলে আমাদের সামনে একটিই পথ থাকবে। আমরা সুইজারল্যান্ডের কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসের (সিএএস) সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি।’’ আইসিসির সংবিধান অনুযায়ী, বিসিবি ডিআরসির কাছে আবেদন করতে পারে। কিন্তু আইসিসি বোর্ডের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুনানির এখতিয়ার নেই ইংল্যান্ডের মাইকেল বেলের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির। ডিআরসির শর্তাবলীর ১.৩ ধারা অনুযায়ী, তারা আইসিসির সিদ্ধান্ত বা আইসিসির বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করতে পারে না। ডিআরসি আইসিসির কোনও নিয়ম বা বিধি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোনও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কমিটি হিসাবেও কাজ করবে না। ডিআরসি একটি স্বাধীন সালিশি সংস্থা, যা আইসিসির সদস্য বোর্ড, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তি করে থাকে। সাধারণত অভ্যন্তরীণ সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলে এই কমিটি হস্তক্ষেপ করে। বাংলাদেশের টি ২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলংকায় সরানোর অনুরোধ নিয়ে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে চলমান অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ডিআরসির কথা সামনে এসেছে। সরকার নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ভারতে টি ২০ বিশ্বকাপে খেলতে চায় না। আইসিসি ভোটাভুটির মাধ্যমে বাংলাদেশের দাবি নাকচ করে দিয়েছে। ১৫ সদস্যের মধ্যে একমাত্র পাকিস্তান ছাড়া আর কেউ বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয়নি। এরপর আর আইসিসির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
সুপার সিক্সে উঠতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০০ রান

সুপার সিক্সে উঠতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০০ রান সুপার সিক্সে উঠতে হলে আজ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জয়ের কোনো বিকল্প নেই। হারারের তাকাশিঙ্গা স্পোর্টস ক্লাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে আজিজুল হাকিম তামিমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সেরে ফেলেছে অর্ধেক কাজ। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্কোরবোর্ডে ২০০ রানও তুলতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। বুলাওয়েতে ১৭ জানুয়ারি ভারতের বিপক্ষে হাতের নাগালে থাকা ম্যাচ ডাকওয়ার্থ লুইস ও স্টার্ন (ডিএলএস) মেথডে ১৮ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। একই মাঠে ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ খেলতে নেমেছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। তবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়ে গেলে পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়ে যায়। দুই ম্যাচে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র উভয়েরই পয়েন্ট ১। যেখানে তিনে থাকা বাংলাদেশের নেট রানরেট -০.৬২১ ও -৩.১৪৪ নেট রানরেট নিয়ে চারে যুক্তরাষ্ট্র। আজ যুক্তরাষ্ট্রকে হারালে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সুপার এইটে উঠবে বাংলাদেশ। তামিমের দলকে ২০০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম। আগে ব্যাটিং পাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ২.৫ ওভারে ২ উইকেটে ৬ রানে পরিণত হয় যুক্তরাষ্ট্র। টপ অর্ডারের দুই ব্যাটার অমরিন্দর গিল, অর্জুন মহেশ দুজনেই ১ রান করে আউট হয়েছেন। তৃতীয় উইকেটে ৯০ বলে ৫১ রানের জুটি গড়েন উৎকর্ষ শ্রীবাস্তব ও সাহিল গার্গ। ১৮তম ওভারের পঞ্চম বলে সাহিলকে (৩৫) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন শাহরিয়ার আহমেদ। সাহিলের ফেরার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র একপর্যায়ে ৩৯.৪ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৮ রানে পরিণত হয়। ১৫০ রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা যখন কাজ করছিল, তখন আদনিত ঝাম্ব ও আদিত কাপ্পা প্রতিরোধ গড়েন। ঝাম্ব-কাপ্পা অষ্টম উইকেটে ৯০ বলে ৫১ রানের জুটি গড়েন। যদিও পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করে ২০০ রান স্কোরবোর্ডে জমা করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। সব উইকেট হারিয়ে করেছে ১৯৯ রান। ইনিংস সর্বোচ্চ ৬৮ রান করে অপরাজিত থাকেন ঝাম্ব। ৭ নম্বরে নেমে ৬৯ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৬৮ রান।
বল হাতে উজ্জ্বল রিশাদ, তবুও হারলো হোবার্ট

বল হাতে উজ্জ্বল রিশাদ, তবুও হারলো হোবার্ট বিগ ব্যাশের চ্যালেঞ্জার ম্যাচে সিডনি সিক্সার্সের হেরেছে রিশাদ হোসেনের হোবার্ট হারিকেন্স। ৫৭ রানের জয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনালে উঠেছে সিডনি সিক্সার্স। দল হারলেও বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন রিশাদ। ২ উইকেট শিকার করেন এই টাইগার লেগ স্পিনার। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন হোবার্টের অধিনায়ক বেন ম্যাকডারমোট। আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়ে ১৯৮ রান করে সিডনি সিক্সার্স। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৫ রানের ইনিংসটি খেলেন স্টিভেন স্মিথ। জোয়েল ডেভিস করেন ২৭ রান। এছাড়া ড্যানিয়াল হিউজ ১৩, জশ ফিলিপস ১৫, মোজেস হেনরিকস ১৯ ও জ্যাক এডওয়াডর্স ১৫ রান করেন। হোবার্টের হয়ে তিনটি উইকেট নেন রিলে মেরেডিথ। এছাড়া ৪ ওভার বোলিং করে ৩৩ রান খরচায় ২ উইকেট নেন রিশাদ। রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে হোবার্ট। উইকেটের ধারা থামাতে পারেনি দলটি। এতে করে ১৭ ওভার ২ বলে ১৪১ রানেই গুটিয়ে যায় হোবার্ট। ব্যাট হাতে ৮ বলে ১১ রান করেন রিশাদ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক ম্যাকডারমোট।