বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে অন্ধ কল্যাণ সমিতির র‌্যালি ও আলোচনা সভা 

বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে অন্ধ কল্যাণ সমিতির র‌্যালি ও আলোচনা সভা  চাঁপাইনবাবগঞ্জে আজ বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হয়েছে। ‘আপনার সন্তানের চোখকে ভালোবাসুন’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে সকালে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি পরিচালিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষ হাসপাতাল এ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী একেএম খাদেমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন- সমিতির সহসভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি ফারুক আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম। সভায় সূচনা বক্তব্য দেন চক্ষু হাসপাতালের ডা. ইমরান জাভেদ। সঞ্চালনা করে সমিতির নির্বাহী সদস্য এম কোরাইশী মিলু। এসময় উপস্থিত ছিলেন- সমিতির নির্বাহী সদস্য আব্দুল হান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান টুলু, নবাবগঞ্জ জেলা আদর্শ স্কুলের প্রধান শিক্ষক হারুন আর রশিদ, চক্ষু হাসপাতালের ডা. তৌহিদুল ইসলাম সুজন, চক্ষু হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলীসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। এর আগে সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাহমুদুর রশিদের অংশগ্রহণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতাল থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে শেষ হয়। পরে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে হাসপাতালে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিভিন্ন বয়সী চক্ষু রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া হয়।

৩১টি পূজাম-পে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নগদ আর্থিক সহায়তা

৩১টি পূজাম-পে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নগদ আর্থিক সহায়তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার পক্ষ হতে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৩১টি মন্দির ও পূজাম-প কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুকূলে নগদ ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় চরজোতপ্রতাপ শিবতলা দূর্গামাতা ঠাকুরানী মন্দির চত্বরে নগদ টাকা বিতরণ করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও সরকারের উপসচিব দেবেন্দ্রনাথ উরাঁও এর সভাপতিত্বে আয়োজিত নগদ টাকা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নগদ টাকা বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহমেদ মাহবুব উল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইকতেখারুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন, সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা তাছমিনা খাতুন, জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটমীর আল মনসুর শোয়াইব, আব্দুল্লাহ আল মামুন , জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার রায়।

কূখ্যাত কিশোর গ্যাং লিডার ককটেল রাব্বিসহ ২ সহযোগি আটক

কূখ্যাত কিশোর গ্যাং লিডার ককটেল রাব্বিসহ ২ সহযোগি আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জের কূখ্যাত কিশোর গাং লিডার ও একাধিক মামলার আসামী রাব্বি ওরফে ককটেল রাব্বিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রেলগেইট বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। সে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নিমতলা ফকিরপাড়া এলাকার মৃত শহিদের ছেলে। একই সাথে গ্রেপ্তার হয়েছে একই এলাকার মৃত লালচানের ছেলে জাকির হোসেন ও মৃত মনির ছেলে জিঞ্জির সোহেল। র‌্যাব জানায়, গতকাল সকাল ৭টার দিকে দূর্গাপুজায় নাশকতা করতে পারে এমন গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব আরও জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ষ্টেডিয়ামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ষ্টেডিয়ামের অদূরে দু’গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারি হয়। এ সময় দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ হয়। এতে একজন গুরুতর আহত হয়। ঘটনাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সেনাক্যাম্পের পাশেই ঘটে। এ ঘটনায় এক আহতের অভিভাবক চাঁপাইনববাবগঞ্জ সদর থানায় হত্যা চেষ্টা সহ বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। এরপর যৌথ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ৫ জনকে গ্রেপ্তার করলেও রাব্বি পলাতক থাকে। পরে গত ৩ অক্টোবর রাব্বির ভাই শিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব স্থানীয়দের বরাতে আরও জানায়, ভাই গ্রেপ্তারের পর দিন গত ৪ অক্টোবর রাব্বি সহ গ্রেপ্তার তার সহযোগিরা শহরে দু’দফায় ৪টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তাদের নামে আরও একটি মামলা হয়। এর পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তারের অব্যহত চেষ্টা করলেও অতি ধুর্ত রাব্বি পলাতক থাকে। অবশেষে গতকাল সকালে সে সহযোগিদের সাথে গ্রেপ্তার হয়। রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‌্যাব ক্যাম্প থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালানোর সময় স্থানীয়দের গণপিটুনিতে মিজানুর রহমান মিজু (৩২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি জেলার সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শিমুলতলা বালুচর গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে। এর আগে মিজানুর রহমান মিজুর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন দুজন। তারা হলেন- একই গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মসজিদের ইমাম মো. হোসেন আলী ও মৃত মসিদুর রহমানের ছেলে হারুণ অর রশিদ। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে উপস্থিত থাকা সদর থানার এসআই জুবায়ের হোসেন ও বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মেহেদি হাসান জানান, মারা যাওয়া মিজানুর রহমান মিজু একজন মাদকাসক্ত ছিলেন। ওয়ার্ড সদস্য মেহেদি হাসান জানান, এর আগে মাদক সেবনে হোসেন আলীসহ গ্রামবাসী মিজুকে বাধা প্রদান করেন। মিজু এতে ক্ষপ্ত হন। তারই জের ধরে মিজু আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শিমুলতলা বালুচর গ্রাম সংলগ্ন মহানন্দা নদীর পাড়ে হোসেন আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আহত করেন। এসময় তাকে বাধা দিতে গেলে হারুণ অর রশিদকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সোয়া ৯টার দিকে তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। অন্যদিকে স্থানীয়রা মিজানুর রহমান মিজুকে ধরে গণপিটুনি দেন। এত তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। সদর থানার এসআই জুবায়ের হোসেন বলেন, খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মিজুকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফরহাদ আলী সুইট বলেন- “আজ সকাল ১০টার দিকে মিজানুর রহমান মিজুকে আমরা মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত রয়েছে। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম জাকারিয়া ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মিজানুর রহমান মিজুর মরদেহ হাসপাতালে রাখা ছিল।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শন আনসার ব্যাটালিয়নের উপঅধিনায়কের

পূজামণ্ডপ পরিদর্শন আনসার ব্যাটালিয়নের উপঅধিনায়কের আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনী রাজশাহী ১৯ ব্যাটালিয়নের উপঅধিনায়ক বিকাশ চন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও শিবগঞ্জের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। বুধবার দুপুর থেকে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়া বাইশপুতুল সর্বজনীন দুর্গা মন্দির, শিবতলা শিবকালি মন্দির, স্কুল-কলেজ রোডস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গা মন্দির, হুজরাপুর গুড়িপাড়া দুর্গা মন্দির এবং শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর, পুকুরিয়া, জোহরপুর সর্বজনীন দুর্গা মন্দির ও ধোবড়া যুব সংঘ সর্বজনীন দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পূজা উদযাপন পরিষদ ও মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করে পরিপূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। বিকাশ চন্দ্র বলেন, এবার দুই দিন আগে থেকেই সার্বিক নিরাপত্তায় আনসার বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। সনাতন সম্প্রদায়ের বড় ধমীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় আনসার বাহিনী ৬ দিন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রদান করবে। যাতে দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে পূজামণ্ডপ দর্শন করার পাশাপাশি নির্বিঘ্নে  তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন। তিনি পূজামণ্ডপে নিয়োজিত আনসার ও ব্যাটালিয়ন সদস্যদের উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সম্পর্কে দিকনির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সঠিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি উপস্থিত সদস্যদের সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমান্ড্যান্ট আরিফুর রহমান, সহকারী জেলা কমান্ড্যান্ট হুমায়ূন কবীর, সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট সেলিম রেজা।

৬৪টি পূজামণ্ডপে জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তা

৬৪টি পূজামণ্ডপে জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের পক্ষ হতে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে জেলার ৬৪টি মন্দির ও পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুকূলে ২ লাখ ৪ হাজার টাকা অনুদানের চেক প্রদান করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় জেলা পরিষদের বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দিন মন্ডল সম্মেলন কক্ষে এই চেক বিতরণের আয়োজন করা হয়। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারের উপসচিব মো. আফাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে চেকগুলো বিতরণ করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শারদীয় শুভেচ্ছা জানান জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ রোবেল, জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল ওয়াহিদ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি, জাগরণী সংঘ হুজরাপুর পশ্চিমাপাড়া মন্দির কমিটির সভাপতি অর্জুন বাবুসহ বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দ।

তোমাদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে : স্কাউটারদের জেলা প্রশাসক

তোমাদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে : স্কাউটারদের জেলা প্রশাসক চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা স্কাউটসের সভাপতি মো. আব্দুস সামাদ স্কাউটারদের বলেছেন, ভালো পড়াশোনার পাশাপাশি স্কাউটসের মতো সহশিক্ষাগুলো অর্জন করে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। তোমাদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ভালো মানুষ হতে হবে। তোমরা দেশের ক্রান্তিকালে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করেছ, বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণসহ দেশের প্রতিটি দুর্যোগে তোমরা দায়িত্ব পালন করে আসছ। তোমরা একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন বলেই এটা সম্ভব। আমি আশ করি, তোমাদের এই অগ্রযাত্রা তোমরা অব্যাহত রাখবে। বুধবার সকালে জেলা মুক্ত মহাদলের সম্মেলন কক্ষে প্রেসিডেন্ট স্কাউট ও শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা কমিশনার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন জেলা স্কাউটস সম্পাদক গোলাম রশিদ। এসময় অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পাঠানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফুল হক। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩৪ জনকে সনদ ও মেডেল প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রহনপুর গাজী শিশু শিক্ষা নিকেতন কাব স্কাউট গ্রুপের কামরান আসিফ রক্তিম। প্রেসিন্ডেট’স স্কাউট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত মহাদল গার্ল-ইন-স্কাউট গ্রুপের গোলাম রাদিয়াহ তাসনিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত মহাদল স্কাউট গ্রুপের মোহা. আতিকরাইহান, মোসাদ্দেক হোসেন, সাব্বির হোসেন, মো. নুর ইসলাম, কালেক্টরেট গ্রিনভিউ উচ্চ বিদ্যালয় স্কাউট গ্রুপের মো. আবিদুর রহমান ইশা ও মো. সেলিম রেজা, রহনপুর মুক্ত মহাদল স্কাউট গ্রুপের মো. আব্দুল অহাব ও মুনেম শাহরিয়ার ফেরদৌস, গোমস্তাপুর উপজেলার আলিনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় গার্ল-ইন-স্কাউট গ্রুপের ইসরাত জাহান ও মোসা. তাসমিনা খাতুন। এছাড়া এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১২ জনকে এবং ২ জনকে উড ব্যাচ প্রদান করা হয়। এছাড়াও জেলা কমিশনার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলামকে জেলা কমিশনার সনদ; বাংলাদেশ স্কাউটস, ভোলাহাট উপজেলা কমিশনার মুহা. তৌফিকুল ইসলামকে ন্যাশনাল সার্টিফিকেট ও ফাউন্ডেশন সদস্য সনদ; চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সহকারী কমিশনার মো. নুরুল ইসলামকে মেডেল অব মেরিট; চরমোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামকে ন্যাশনাল সার্টিফিকেট; নামোশংকরবাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসলাম কবীরকে মেডেল অব মেরিট; আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. খসরু পারভেজকে মেডেল অব মেরিট এবং মুশরীভুজা ইউসুফ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মোহা. রাকিবুল ইসলামকে মেডেল অব মেরিট প্রদান করা হয়।

কানসাটে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ৬৬টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন আটক

কানসাটে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ৬৬টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ৬৬টি ভারতীয় বিভিন্ন মডেলের ব্যবহৃত চোরাই মোবাইল ফোন আটক করেছে বিজিবি। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ৫৯ বিজিবির মহানন্দা ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মো. বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এ সংখ্যক মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৫৯ বিজিবি জানায়, মহানন্দা ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী পরিচালক বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবির একটি টহল দল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৬৬টি ভারতীয় বিভিন্ন মডেলের ব্যবহৃত চোরাই মোবাইল ফোন আটক করা হয়। চোরাই মোবাইল ফোনগুলো কাস্টমসে জমা দেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বারঘরিয়ায় খরা সহিষ্ণু ফসলের চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ

বারঘরিয়ায় খরা সহিষ্ণু ফসলের চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বারঘারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে বুধবার খরা সহিষ্ণু ফল ও ফসলের চাষাবাদ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদান করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বারঘরিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ও মোসা. নুরজাহান খাতুন এবং উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই। প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির ‘এক্সটেনডেড কমিউনিটি ক্লাইমেট চেঞ্জ-ড্রাউট’ (ইসিসিসিপি-ড্রাউট) প্রকল্পের সিসিএজি সদস্যদের নিয়ে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)’র সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন- ইসিসিসিপি-ড্রাউট প্রকল্পের সমন্বয়ক বকুল কুমার ঘোষ, মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসার সোহেল রানা। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন কমিউনিটি মবিলাইজেশন অফিসার মাহমুদুল হাসান। কর্মশালায় জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর লক্ষে টেকসই কৃষি অনুশীলনের ওপর আলোকপাত করা হয়। প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো, অংশগ্রহণকারী সদস্যদের জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা এবং প্রশমন ব্যবস্থার ওপর ধারণা দেওয়া। খরা সহিষ্ণু ফল ও ফসলের জাত নির্বাচন, চাষ পদ্ধতি, বসতবাড়ির আশপাশ বা আঙ্গিনায় বাগান করার কৌশল, মাটির গুণাগুণের উন্নতি, পানি সংরক্ষণ এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে কার্যকর ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির প্রক্রিয়া বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা প্রদান করা। কর্মশালায় ২০ জন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপ্টেশন-সিসিএজি গ্রুপের সদস্য অংশ নেন। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের আওতায় গত ৭ অক্টোবর সোমবার বারঘরিয়া ইউনিয়নের আরো ২০ জন সিসিএজি গ্রুপের সদস্যদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি প্রাথমিকের শিক্ষকদের

১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি প্রাথমিকের শিক্ষকদের চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। আজ সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিকেলে ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়। প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্মারকলিপিতে বলা হয়, স্নাতক সমমান (২য় বিভাগ) বেতন গ্রেড ১৩তম, যেখানে অষ্টম শ্রেণী পাস ড্রাইভার ভাইদের বেতন গ্রেড ১২তম। সমযোগ্যতাসম্পন্ন অন্যান্য বিভাগে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক সমমান, বেতন গ্রেড ১০ম। পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান, বেতন গ্রেড ১০ম। নার্সদের নিয়োগ পদে যোগ্যতা এইচএসসি (ডিপ্লোমা ইন নার্সিং), বেতন গ্রেড ১০ম। উপ-সহকারী কৃষি অফিসার পদে নিয়োগ যোগ্যতা এসএসসি (৪ বছর কৃষি ডিপ্লোমা), বেতন গ্রেড ১০ম। ইউনিয়ন পরিষদ সচিব পদে (প্রশাসনিক কর্মকর্তা) নিয়োগ যোগ্যতা আগে ছিল এইচএসসি বর্তমানে স্নাতক সমমান, বেতন গ্রেড ১০ম (প্রস্তাবিত), বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক সমমান, বেতন গ্রেড ১০ম ও ৯ম। এছাড়া একই কারিকুলাম, একই সিলেবাস ও একই শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা পিটিআইসংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক (দ্বিতীয় শ্রেণী), দেড় বছরের ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন (ডিইনএড), বেতন গ্রেড ১০ম। অথচ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (২য় বিভাগ) সমমান হলেও ১০ম গ্রেড দেয়া হয়নি। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের এক দফা দাবি ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানান তারা। এই কর্মসূচির সভাপতি ও চরজোতপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- পাঠানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজিফা সামসাদ, চামাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল ইসলাম, রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আহাদ রেজা, হোসেনডাঙ্গা হাজি তাবারক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বায়জিদ ইসলাম, নামোসুন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল আলিম রায়হান, ঘোড়াপাখিয়া-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুমানা ইয়াসমিন, তেররশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নার্গিস জাহানসহ অন্যরা। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন রামচন্দ্রপুরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুস সামাদ। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধান উপরদষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. তাছমিনা খাতুন বলেন- আপনাদের এই দাবি সংবলিত স্মারকলিপিটি কালকের মধ্যেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়ে দেয়া হবে।