বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হতে কর্মকর্তাদের যেসব নির্দেশ দিল ইসি

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হতে কর্মকর্তাদের যেসব নির্দেশ দিল ইসি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ ইসি কর্মকর্তারা জানান, মাসিক সমন্বয় সভায় ইসি সচিব আখতার আহমেদ সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তাকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য অফিসে ব্যবহৃত এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রাখতে হবে। পাশাপাশি জ্বালানি তেল সাশ্রয়ে প্রয়োজন ছাড়া সরকারি গাড়ির ব্যবহার পরিহার করতে বলা হয়েছে। সরকারের সাম্প্রতিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ইসি এ নির্দেশনা জারি করেছে।

২৫-২৬ মার্চ আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত সরকারের

২৫-২৬ মার্চ আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত সরকারের দেশে জ্বালানি সংকট এড়াতে ও সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে এবারের স্বাধীনতা দিবসে সারা দেশে আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ২৫ মার্চ রাতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন ও স্থাপনায় কোনো আলোকসজ্জা করা যাবে না। এ ছাড়া ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসেও দেশব্যাপী আলোকসজ্জা করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে রবিবার

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে রবিবার পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরের উপলক্ষে টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিকের সব প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৪০ দিনের লম্বা এই ছুটি শেষ হচ্ছে আগামী ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার)। তবে পরপর দুইদিন শুক্রবার (২৭ মার্চ) ও শনিবার (২৮ মার্চ) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী রবিবার (২৯ মার্চ) থেকে। সংশোধিত বার্ষিক ছুটির তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সংশোধিত ছুটির তালিকায় পবিত্র রমজান ও ঈদের ছুটি শুরু হয় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে এবং সেখানে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার কথা বলা হয়। এদিকে, গত ৮ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ঈদের ছুটি এগিয়ে এনে পরদিন সোমবার (৯ মার্চ) থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঈদের ছুটি শেষে আগামী রবিবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে। গত ৯ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাবি প্রশাসন বলেছিল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার (৯ মার্চ) থেকে ২৮ মার্চ (শনিবার) ঈদের ছুটি পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।

সন্ধ্যার মধ্যে যেসব অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

সন্ধ্যার মধ্যে যেসব অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা দেশের তিনটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর পুনঃ ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এদিকে আবহাওয়ার ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপের বর্ধিতাংশ অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে সিলেটসহ রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। একই সঙ্গে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

ইরানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের, কমলো তেলের দাম

ইরানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের, কমলো তেলের দাম ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সামরিক হামলা স্থগিত করার বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১৩ শতাংশেরও বেশি কমেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৭ ডলার বা ১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩ ডলার বা ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে প্রণালিটি তারা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। কখনো কখনো তা যুদ্ধের আগের তুলনায় ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

তিন বিভাগে বৃষ্টির আভাস

তিন বিভাগে বৃষ্টির আভাস দেশের তিন বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানান আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এতে আরও বলা হয়, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রাও সামান্য বাড়তে পারে। এ ছাড়া ঢাকায় দক্ষিণ-পশ্চিম বা পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। ভোর ৬টায় ঢাকায় আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ। দ্বিতীয় দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। তৃতীয় দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে ৮ মিলিমিটার। একই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা টেকনাফে ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দিনাজপুর ও শ্রীমঙ্গলে ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

বিশ্ববাজারে ৪ মাসের মধ্যে সোনার দামে সবচেয়ে বড় পতন

বিশ্ববাজারে ৪ মাসের মধ্যে সোনার দামে সবচেয়ে বড় পতন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় পতন দেখা গেছে। এক দিনেই ২ শতাংশের বেশি কমে এটি প্রায় চার মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। সংঘাতের বিস্তার, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনাই এই ধসের প্রধান কারণ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার (২৩ মার্চ) স্পট গোল্ডের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৭২ দশমিক ৮৬ ডলারে নেমে এসেছে। টানা নবম দিনের মতো এ ধাতুর দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহেই স্বর্ণের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বেড়েছে। এর প্রেক্ষাপটে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে। এ পদক্ষেপ সাধারণত সোনার মতো বিনিয়োগকে কম আকর্ষণীয় করে তোলে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, এমন কোনো হামলা হলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করবে। একই প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে সোনারবাজারে অস্থিরতা আরো বাড়তে পারে। অন্যদিকে, এই প্রভাব পড়েছে অন্যান্য ধাতুতেও। স্পট রুপার দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৬১ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৬৬ দশমিক ৬৫ ডলার, আর প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৯৭ দশমিক ২৫ ডলারে নেমেছে।

মুক্তিযুদ্ধ-জুলাই গণ-অভ্যুত্থান গবেষণায় ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান

মুক্তিযুদ্ধ-জুলাই গণ-অভ্যুত্থান গবেষণায় ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে গবেষণায় অনুদান দিতে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক গবেষণা কার্যক্রমের জন্য সম্প্রতি ‘গবেষণা (পরিচালনা, অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনা) নির্দেশিকা ২০২৬’ প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। নির্দেশিকায় গবেষণার ধরন অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি নিশ্চিতের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, গবেষণাকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ক-শ্রেণির দলীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণায় ১০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে। খ-শ্রেণির একক গবেষণায় ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং গ-শ্রেণির একক গবেষণায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। গবেষণার গুরুত্ব ও ব্যাপ্তি বিবেচনায় প্রয়োজনে এই আর্থিক সীমা পুনর্নির্ধারণ করা যাবে। গবেষণার মেয়াদ যথাক্রমে সর্বোচ্চ ১২, ৯ ও ৬ মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। গবেষণার অনুদান ধাপে ধাপে ছাড় করা হবে। প্রারম্ভিক প্রতিবেদন (ইনসেপশন রিপোর্ট) গ্রহণের পর প্রথম কিস্তিতে ৪০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে। গবেষণার অন্তত অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হলে মধ্যবর্তী প্রতিবেদন (মিড-টার্ম রিপোর্ট) উপস্থাপনের ভিত্তিতে আরও ৪০ শতাংশ এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা ও অনুমোদনের পর বাকি ২০ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হবে। পূর্ববর্তী কিস্তির অর্থের হিসাব সমন্বয় না করা পর্যন্ত পরবর্তী কিস্তি দেওয়া হবে না বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গবেষণার মোট বাজেটের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ সম্মানী হিসেবে গবেষণা পরিচালক, সহ-গবেষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে। এর মধ্যে গবেষণা পরিচালক সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ, সহ-গবেষকরা ১৫ শতাংশ এবং গবেষণা সহযোগী ও সহকারীরা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত সম্মানী পাবেন। বাকি অর্থ তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, প্রতিবেদন প্রণয়ন, মুদ্রণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা যাবে। নির্দেশিকায় গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, ইতিহাস-ইতিবৃত্ত, সংগ্রাম, প্রভাব ও ফলাফল; গণমানুষের অংশগ্রহণ; বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ তালিকার যাচাই এবং প্রশাসনিক সংস্কার; ১৯৭১ সালের গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও শরণার্থী বিষয়ক পরিসংখ্যান ও দলিলায়ন; শহীদ বুদ্ধিজীবী, বধ্যভূমি ও শহীদদের নিয়ে গবেষণা; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক শিক্ষা, পাঠ্যক্রম ও জনসচেতনতা; নারী, শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভূমিকা, আত্মত্যাগ ও অভিজ্ঞতা; ডিজিটাল আর্কাইভ, জিআইএস ম্যাপিং ও স্মৃতিভিত্তিক প্রামাণ্য সংরক্ষণ; পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও কারণ, প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও চ্যালেঞ্জ; শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন; রাষ্ট্র সংস্কারে এর চেতনার বাস্তবায়ন; গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা—এছাড়াও মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও গবেষণা পরিচালনা করা যাবে। অর্থ ব্যবস্থাপনায় কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গবেষণা শেষ না হলে বা প্রতিবেদন বাতিল হলে গৃহীত অনুদানের অর্থ ফেরত দিতে হবে। একইভাবে ব্যয় শেষে কোনো অর্থ উদ্বৃত্ত থাকলে তা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। সব ধরনের ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভাউচার, রশিদ ও ব্যয় বিবরণী জমা দিয়ে হিসাব সমন্বয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, গবেষণার অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে আসবে। ব্যয় নির্বাহে সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান ও অডিট ব্যবস্থার অনুসরণ নিশ্চিত করা হবে। গবেষণা কার্যক্রম বাংলা এবং ইংরেজি মাধ্যমে সম্পাদন করা যাবে। এতে আরও বলা হয়েছে, গবেষণায় গুণগত মান, নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কোনো ধরনের চৌর্যবৃত্তি প্রমাণিত হলে গবেষণা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গবেষণার ফলাফল নীতিনির্ধারণ, আইন সংস্কার, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক ফোরামে ব্যবহারের কথাও উল্লেখ আছে।

ঈদের ছুটি শেষে ব্যাংক-অফিস-আদালত খুলছে কাল

ঈদের ছুটি শেষে ব্যাংক-অফিস-আদালত খুলছে কাল পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষ হতে যাচ্ছে আজ সোমবার (২৩ মার্চ)। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) খুলছে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা ও শেয়ারবাজার। চলতি সপ্তাহের শনিবার (২১ মার্চ) দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। ঈদ উপলক্ষে গত ১৭ মার্চ থেকে ছুটি শুরু হয়। আজ সোমবার (২৩ মার্চ) মোট সাত দিনের নির্ধারিত সরকারি ছুটি শেষ হচ্ছে। আগামীকাল খুলবে ব্যাংক-বিমা, শেয়ারবাজার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও। তবে ঈদের পর অফিস খোলার মাত্র এক দিন পরে আবারও ছুটি পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা। আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসের ছুটি আছে। এরপরের দুদিন যথাক্রমে শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে অফিস খোলার পরের দিনই আবারও তিন দিনের ছুটি পেতে যাচ্ছেন চাকরিজীবীরা। এদিকে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা পাঁচ দিন ছুটিতে আছেন সংবাদপত্রে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। আজ সোমবার তাদের ছুটিও শেষ হতে যাচ্ছে। আগামীকাল তারা কর্মস্থলে যোগ দেবেন। সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ১৯ থেকে আজ ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ছুটি ঘোষণা করে।

ফিলিং স্টেশন মালিকদের জন্য সতর্কবার্তা, ডিসি-এসপিদের চিঠি

ফিলিং স্টেশন মালিকদের জন্য সতর্কবার্তা, ডিসি-এসপিদের চিঠি দেশের জ্বালানি তেল পাম্পগুলোতে তেল সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটি শেষে ব্যাংক খুললে পে-অর্ডারের পর তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। এদিকে তেল না পেয়ে পাম্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন গ্রাহকরা। অনেক এলাকায় স্টেশন স্টাফদের মারধরের তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস ও বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। স্টেশনের স্টাফদের মারধরসহ ফিলিং স্টেশন ভাঙচুরের ঘটনা রোধে পেট্রল পাম্প মালিকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে অ্যাসোসিয়েশন থেকে। সোমবার (২৩ মার্চ) ঢাকা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস ও বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ইরানের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ডিপোসমূহ থেকে আমাদের অস্বাভাবিক চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করতে পারছে না বা আপাতত তা সরবরাহ করতেও পারবে না। অন্যদিকে মোটরসাইকেল ও সাধারণ ভোক্তাদের ফিলিং স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ ভোক্তা ও মোটরসাইকেল চালকরা ফিলিং স্টেশনের স্টাফদের মারধরসহ ফিলিং স্টেশন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং যা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে। এমতাবস্থায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে ফিলিং স্টেশন চালু রাখতে হবে। অন্যথায় কারো আদেশের অপেক্ষায় না থেকে ফিলিং স্টেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিয়ে চলতে হবে বলেও জানানো হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পাম্পের সব কর্মচারীদের নিরাপত্তা দিয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। যাতে কোনোভাবে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। এমনটা চিঠিতে জানানো হয়।