মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ : আইজিপি

মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ : আইজিপি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি সিআইডি সদর দপ্তর, ঢাকায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আইজিপি বলেন, নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করতে। তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একটি সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নতুন করে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে এবং জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছে। আইজিপি বলেন, সিআইডি দেশের অপরাধ তদন্ত ব্যবস্থায় এপেক্স সংস্থা হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সিআইডির সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, আইনগত ক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ দেশের বিচার ও আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করে তুলছে। তিনি সকল সদস্যকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক কর্মকর্তা-সদস্যকে নিজ কর্মক্ষেত্রকে দায়িত্ব ও সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অত্যন্ত উচ্চ। তাই তদন্তের গতি, গুণগত মান ও সময়মতো নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে আরও পেশাদার ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ কর্তৃক মামলার অগ্রগতি তদারকির পাশাপাশি তদন্তকারী কর্মকর্তারাও দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন-এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। পুলিশ বাহিনীর নৈতিকতা ও সততা প্রশ্নবিদ্ধ হলে পুরো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অনিয়ম থেকে সম্পূর্ণ বিরত থেকে পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। আইজিপি অপরাধের মূল কারণ বিশ্লেষণ করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে রেসপন্স টিম সর্বদা প্রস্তুত রাখতে হবে। পুলিশকে জনগণের আস্থা ও সম্মানের জায়গায় আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সিআইডির প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, গত দুই দিনের ক্রাইম কনফারেন্সে জেলা পর্যায়, বিশেষায়িত ইউনিট ও সদর দপ্তরের সকল ইউনিট তাদের কার্যক্রম, অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। আলোচনা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে একটি বাস্তবসম্মত ফলো-আপ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগামী তিন মাসে বাস্তবায়ন করা হবে। সিআইডি প্রধান আরও বলেন, পুলিশ বাহিনী সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জিং সময় সফলভাবে অতিক্রম করেছে, সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পাদন তার একটি প্রমাণ। অতীতের চ্যালেঞ্জিং সময়কে পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। ক্রাইম সিন ব্যবস্থাপনায় কুইক রেসপন্স টিম গঠন, বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত পদ্ধতি অনুসরণ করার নির্দেশনাও দেন তিনি। অনুষ্ঠানের শেষে সিআইডির বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের কৃতিত্বপূর্ণ ও সাহসী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার প্রদান করা হয়। সভায় সদর দপ্তরের বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও জেলা ইউনিটসমূহের কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত হয়ে অংশগ্রহণ করেন।

দেশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত

দেশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত সাতসকালে মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। ভারতের মণিপুর রাজ্যে সৃষ্ট এই ভূকম্পন আজ ভোর ৬টা ৩১ মিনিটে বাংলাদেশে অনুভূত হয়। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোররাত ভারতীয় সময় ৫টা ৫৯ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৬টা ২৯ মিনিট) মণিপুরের কামজং এলাকায় ৫.২ মাত্রার এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬২ কিলোমিটার গভীরে। অন্যদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ এবং এর গভীরতা ছিল ১০০.৬ কিলোমিটার। প্রাথমিকভাবে এই ভূমিকম্পে বাংলাদেশে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে রাজধানী ঢাকা ও সীমান্তবর্তী সিলেট অঞ্চলে কম্পনটি তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। ভূ-তাত্ত্বিকরা বলছেন, মাঝারি গভীরতার এই ভূকম্পনের উৎসস্থল বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে কাছে হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে এটি অনুভূত হয়েছে।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু সারাদেশে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আজ সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নিচ্ছে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। জানা যায়, সারা দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি স্কুল-মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাড়ে ১৮ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া পরীক্ষা দুপুর ১টায় শেষ হবে। এদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। অধিকাংশ কেন্দ্রের প্রবেশপথে পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র ও প্রয়োজনের বাইরে বাড়তি কোনো কাগজপত্র সঙ্গে আছে কি না, তা দেখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী- ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে প্রথম দিনে কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা হচ্ছে। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিতে তৎপর রয়েছে শিক্ষাপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ করে নকল ও ডিভাইস ব্যবহার করে ডিজিটাল জালিয়াতি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন ন্যায়পরায়ণ বিচারক: প্রধানমন্ত্রী

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন ন্যায়পরায়ণ বিচারক: প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র ও সমাজে শুধু আইনের শাসন থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া জেলা আদালতে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। জামিন পাওয়ার পর দাপ্তরিক জটিলতার কারণে কারামুক্তিতে বিলম্ব হওয়াকে ন্যায়বিচার বলা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর আদালতের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে জামিননামা হাতে পৌঁছাতে কয়েকদিন সময় লাগার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কারামুক্তি হতে দেরি হয়। এটি আইনের শাসন হলেও ন্যায়বিচার কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে আমরা দেখেছি আইনের দোহাই দিয়েই রাতে আদালত বসিয়ে ভিন্ন মতের মানুষের ওপর অবিচার করা হয়েছিল। সেগুলো কখনোই ন্যায়বিচার ছিল না, বরং আইনি বিচারে আইনের অবিচার চালানো হয়েছিল। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন ন্যায়পরায়ণ বিচারক।” বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবং জামিন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ই-বেইলবন্ড’ বা ইলেকট্রনিক জামিননামা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বগুড়া ছাড়াও ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়ায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একজন বিচারক অনলাইনে জামিন আদেশ সরাসরি কারা প্রশাসনের কাছে পাঠাবেন। ফলে কারা প্রশাসন দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে পারবে। এই ব্যবস্থা বিচার ব্যবস্থায় জনগণের অহেতুক হয়রানি ও দুর্নীতির পথ বন্ধ করবে।” বিচার বিভাগকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ই-বেইলবন্ড সিস্টেমকে পুলিশের সিডিএমএস (ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম), আদালতের কেস ম্যাজিস্ট্রেট সিস্টেম এবং ন্যাশনাল আইডি কার্ড ভেরিফিকেশনের সাথে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে বিচার ব্যবস্থার পুরো প্রক্রিয়াকে কম্পিউটারাইজড করার ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

চা, সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ টিসিবি’র জন্য কিনছে সরকার

চা, সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ টিসিবি’র জন্য কিনছে সরকার সরকার ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য বিতরণের লক্ষ্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে স্মার্ট কার্ডধারীদের জন্য বিপুল পরিমাণ পণ্য কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় সরকার মোট ৮০ লাখ পিস টয়লেট সাবান, ৮০ লাখ পিস লন্ড্রি সাবান, ৮০ লাখ প্যাকেট ডিটারজেন্ট এবং ৮০ লাখ প্যাকেট আয়োডিনযুক্ত লবণ কিনছে। এছাড়া একই প্রকল্পের অধীনে ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চিনিও সংগ্রহ করা হচ্ছে। টিসিবির নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কার্ডধারীদের মাঝে এসব পণ্য বিতরণ করা হবে। টিসিবি জানায়, আগে নির্দিষ্ট পণ্যগুলোর বাজারের চাহিদার মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ পণ্য টিসিবির মাধ্যমে সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে তা অনেক বেড়েছে। কার্যক্রম সম্প্রসারিত হওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ওঠানামা করায় ভর্তুকির চাপ বাড়ছে।

এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডার দাম ১৯৪০ টাকা

এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডার দাম ১৯৪০ টাকা দেশের বাজারে এবার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়িয়েছে সরকার। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন এই দাম আজ রবিবার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে।

ডিসি-এসপিদের নির্দেশ মজুদদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে

ডিসি-এসপিদের নির্দেশ মজুদদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে ভোক্তা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার নিশ্চিত করতে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি মজুদদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রবিবার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, এলপিজির নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সুপারদের আইনি পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও মজুদদারির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাসহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।   সংসদকে মন্ত্রী জানান, সারা দেশে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নিবিড় তদারকি ও বাজার মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অধিদপ্তরের বিশেষ টিম নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এ ছাড়া এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন লোয়াবকেও নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রির বিষয়টি সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশে এলপিজির চাহিদার প্রায় ৯৮.৬৭ শতাংশই আমদানি নির্ভর। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ যেন বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম’ থেকে আমদানির তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আমদানিতে কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে বিইআরসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

আইএমএফের চাপে তেলের দাম বাড়ানো হয়নি অর্থমন্ত্রী

আইএমএফের চাপে তেলের দাম বাড়ানো হয়নি অর্থমন্ত্রী আইএমএফের চাপে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক নিয়ে সচিবালয়ে নিজ দফতরে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন করছেন কেন তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না বা বাড়ানো হয়েছে কি না, সরকারের তহবিলের বিষয় নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। এসব বিবেচনায় বৈশ্বিক পরিস্থিতির আলোকে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর সঙ্গে আইএমএফের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষা খাত নিয়ে দাতা সংস্থাদের আগ্রহের জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণের বাইরে গিয়ে আইএমএফ ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কাছে কোনো ঋণ নেবে না সরকার। মেনে নেয়া হবে না চাপিয়ে দেয়া কোন শর্ত। আইএমএফ-এর সঙ্গে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন, এমনকি এক মাস পর্যন্ত আলোচনা চলতে পারে এবং বিশ্বব্যাংক ও এডিবির সঙ্গে আলোচনায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সচিব পদমর্যাদায় তিন কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ

সচিব পদমর্যাদায় তিন কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ওয়াকফ প্রশাসক পদে তাদের নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, সাফিজ উদ্দিন আহমেদকে বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ের ওয়াকফ প্রশাসক এবং মো. আব্দুল্লাহ আল বাকীকে ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী এ কর্মকর্তাদের অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছর মেয়াদে এ সব পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো।

এবারও হরমুজ পার হতে পারল না বাংলার জয়যাত্রা

এবারও হরমুজ পার হতে পারল না বাংলার জয়যাত্রা এবারও হরমুজ পাড়ি দিতে পারল না বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেতারবার্তায় ইরানের বাহিনী জাহাজটি পারস্য উপসাগরে ফেরত যাওয়ার নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনা পেয়ে আবারও পারস্য উপসাগরে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাচ্ছে জাহাজটি। জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান শুক্রবার রাত পৌনে একটায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে আমরা শুক্রবার রাতে হরমুজ পাড়ি দিতে রওনা হয়েছিলাম। তবে ইরানের বাহিনী জাহাজটি হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি। জাহাজটি ফেরত নেওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা আগের জায়গায় অর্থাৎ পারস্য উপসাগরে ফেরত যাচ্ছি।’ জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে শুক্রবার রাত ১১টায় দেখা যায়, ইরানের কর্তৃপক্ষ এই প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণার পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা একের পর এক জাহাজ নোঙর তুলতে শুরু করে। শতাধিক জাহাজ পূর্ণ গতিতে হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে রাত পৌনে একটায় মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সব কটি জাহাজ আবার পারস্য উপসাগরে ফেরত যাচ্ছে। এই তালিকায় বাংলার জয়যাত্রাও রয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছিলেন, পারস্য উপসাগর থেকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। রাত তিনটা নাগাদ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে।