বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে ব্রিটেনের রাজার শুভেচ্ছা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে ব্রিটেনের রাজার শুভেচ্ছা বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। আজ এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন। রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো চিঠিতে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস বলেন, আপনাদের জাতীয় দিবসের এই আনন্দময় মুহূর্তে আমি ও আমার স্ত্রী রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আমাদের দুদেশের মধ্যকার সেই চিরস্থায়ী অংশীদারিত্বের কথা স্মরণ করছি, যা আমাদের কমনওয়েলথকে সংজ্ঞায়িত করে এমন অভিন্ন মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। ব্রিটেনের রাজা বলেন, যুক্তরাজ্যজুড়ে ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করেন, যারা আমাদের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, আমাদের সমাজকে সমৃদ্ধ করছেন এবং আমাদের দুদেশের মধ্যকার চিরস্থায়ী সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছেন। বিশ্বজুড়ে বোঝাপড়া, সহযোগিতা এবং সুযোগ তৈরিতে আমাদের কমনওয়েলথ পরিবার যে ভূমিকা পালন করে, তার জন্য আমি গভীরভাবে গর্বিত। কমনওয়েলথের সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য এবং এর তরুণ প্রজন্মের উদ্যম আশা ও অগ্রগতির অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছে। এই বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে, আমাদের সম্মিলিত শক্তি ও ঐক্য আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমি নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে আমাদের দেশগুলোর একত্রিত হওয়ার সুযোগের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি, যেখানে আমরা আমাদের যৌথ অঙ্গীকারগুলো পুনর্ব্যক্ত এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে পারব। জলবায়ু কার্যক্রমে আমাদের সহযোগিতা আমাদের সম্পর্কের একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য হিসেবেই রয়েছে। আমি স্থিতিস্থাপকতা তৈরিতে ও টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় নেতৃত্বের অত্যন্ত প্রশংসা করি। কারণ আমরা একসঙ্গে আমাদের পরিবেশ রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য আরও টেকসই ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কাজ করে চলেছি। রাজা তৃতীয় চার্লস বলেন, আমার স্ত্রী ও আমি আপনার এবং বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য আগামী বছরটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ হোক এই কামনায় আমাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

স্বাধীনতা দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা

স্বাধীনতা দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। আজ পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারতের সরকার, জনগণ ও আমার নিজের পক্ষ থেকে, আপনাদের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আপনাকে এবং বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণকে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ একটি অভিন্ন ইতিহাস, সুগভীর সাংস্কৃতিক সংযোগ ও দীর্ঘস্থায়ী ভাষাগত ঐতিহ্যের মাধ্যমে আবদ্ধ, যা আমাদের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের ভিত্তিটিকে রূপদান করে। বছরের পর বছর ধরে, আমরা সংযুক্তি, বাণিজ্য, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ ও শিক্ষাসহ প্রধান খাতগুলোতে জনগণ-কেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রসর করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে সীমান্তের উভয় পাশের নাগরিকদের কাছে বাস্তবিক সুফল পৌঁছে দিয়েছি। ভারত আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করার জন্য এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আগ্রহী। অনুগ্রহ করে পুনরায় আমার সর্বোচ্চ বিবেচনার আশ্বাস এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি আমার আন্তরিক শুভকামনা গ্রহণ করুন।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আগামীকাল ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে ঢাকা ফেরার সময় সকাল ৭টার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে’ মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

দেশে ফুরিয়ে আসছে অকটেন-পেট্রোলের মজুত

দেশে ফুরিয়ে আসছে অকটেন-পেট্রোলের মজুত ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো তেল দিতে না পারায় দেশের জ্বালানির মজুতে টান পড়তে শুরু করেছে। একদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপ, অন্যদিকে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় কনডেনসেট সংকট এবং বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজি- সব মিলিয়ে চরম জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর গড়ে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়। তেলের লাইনে দীর্ঘ অপেক্ষা, সংকটের নেপথ্যে কী? দেশে বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা ডিজেলের মজুত ক্ষমতা ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা ছিল ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। সেই হিসেবে মাসিক চাহিদা ৩ লাখ ৬০ হাজার টন এবং দৈনিক গড় চাহিদা ১২ হাজার টন। অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ভারত ও চীন থেকে বছরে প্রায় ৪৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে বাংলাদেশ। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহকারী এই রিফাইনারিগুলোও সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, ভারত ও চীনের এসব রিফাইনারির একটি বড় অংশ ইরান থেকে স্বল্পমূল্যে তেল আমদানি করে। এরপর পরিশোধন করে তারা বাংলাদেশে সরবরাহ করে। বর্তমান মজুত পরিস্থিতি কী? বিপিসি সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা ডিজেলের মজুত ক্ষমতা ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা ছিল ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। সেই হিসেবে মাসিক চাহিদা ৩ লাখ ৬০ হাজার টন এবং দৈনিক গড় চাহিদা ১২ হাজার টন। চলতি মার্চ মাসে ডিজেলের চাহিদা বেড়ে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫০ টনে দাঁড়িয়েছে। গত ২১ মার্চ পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৩৯ টন ডিজেল মজুত ছিল। দৈনিক ১২ হাজার ৭৭৭ টন সরবরাহ অনুযায়ী বর্তমানে এই মজুতে আর মাত্র ১২ দিন চলা সম্ভব। অন্যদিকে, দেশে অকটেনের মজুত সক্ষমতা ৫৩ হাজার ৩৬১ টন। মার্চ মাসে এর গড় চাহিদা ছিল ৩৬ হাজার ৭০০ টন। বর্তমানে অকটেনের মজুত ৯ হাজার ৮২৯ টনে নেমে এসেছে। দৈনিক ১ হাজার ১৯৩ টন সরবরাহ বিবেচনায় দেশে এখন মাত্র ৮ দিনের অকটেন মজুত রয়েছে। গত এক বছরে দেশে গ্যাসের সামগ্রিক উৎপাদন প্রতিদিন গড়ে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমেছে। বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি মালিকানাধীন ২২টি গ্যাসফিল্ড থেকে দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এমনকি দেশের বৃহত্তম গ্যাসফিল্ড তিতাসের ২৬টি কূপ থেকে এ বছর দৈনিক ৩১৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, গত বছর যা ছিল ৩৭৮ মিলিয়ন ঘনফুট।  দেশে পেট্রোলের মজুত সক্ষমতা ৩৭ হাজার ১৩ টন। চলতি মার্চ মাসে পণ্যটির গড় চাহিদা দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ১০০ টনে। বর্তমানে পেট্রোলের মজুত রয়েছে ১৬ হাজার ২২৫ টন। দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৪৯৬ টন সরবরাহ বিবেচনায় এই মজুতে আর মাত্র ১১ দিন চলা যাবে। অন্যান্য জ্বালানির মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের মজুত সক্ষমতা ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৬৯ টন। বর্তমানে দেশে ৪৪ হাজার ৪১৪ টন ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে। দৈনিক ২ হাজার ৪১৯ টন সরবরাহ অনুযায়ী এই মজুতে আগামী ১৮ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের মজুত সক্ষমতা রয়েছে ৬৪ হাজার ১১৮ টন। বর্তমানে দেশে জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৩৬ হাজার ৬৬১ টন। দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৫৪৭ টন চাহিদা অনুযায়ী, এই মজুতে আগামী ২৪ দিন পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে। দেশেই উৎপাদন, তবুও পেট্রোল-অকটেনের সংকট কেন? অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের পাশাপাশি দেশে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদনের একটি অন্যতম প্রধান উৎস হলো কনডেনসেট। প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের সময় উপজাত হিসেবে এই তরল হাইড্রোকার্বন পাওয়া যায়। বিগত অর্থবছরে পেট্রোবাংলা বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে মোট ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৩৭২ টন কনডেনসেট সংগ্রহ ও পরিশোধন করেছে। অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদনের উৎস মূলত দুটি, রিফাইনারি ও কনডেনসেট। এখন খতিয়ে দেখা দরকার কোন উৎস থেকে ঠিক কতটুকু তেল পাওয়া যাচ্ছে। অতীতে এই খাতে কখনো এমন ঘাটতি দেখা যায়নি। তাহলে এখন কেন হচ্ছে? কনডেনসেটের একটি অংশ বেসরকারি কোম্পানিগুলো আমদানি করে থাকে। তারা কোনো সিন্ডিকেট বা বাজার ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করছে কি না, সরকারের তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন ব্ল্ছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে পেট্রোলের মোট চাহিদা ছিল ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন, যার পুরোটিই অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন করা হয়েছে। অপরিশোধিত তেল থেকে ১৬ শতাংশ উৎপাদন করে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরআল)। বাকি ৮৪ শতাংশ বেসরকারি রিফাইনারি থেকে উৎপাদিত হয়। একইভাবে, দেশের চারটি বেসরকারি সিআরইউ প্ল্যান্ট (কনডেনসেট রিফাইনারি ইউনিট) এবং সিলেটের হবিগঞ্জে পেট্রোবাংলার নিজস্ব সিআরইউ প্ল্যান্টে কনডেনসেট পরিশোধনের মাধ্যমে অকটেন উৎপাদন করা হয়। এই শোধনাগারগুলো তাদের উৎপাদিত তেল সরাসরি বিপিসির বিভিন্ন ডিপোতে সরবরাহ করে। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অকটেনের ৪ লাখ ১৫ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন পর্যাপ্ত ছিল না। ফলে অভ্যন্তরীণ ঘাটতি মেটাতে বিপিসিকে বিদেশ থেকে ‘৯৫ রন’ (95 RON) মানের পরিশোধিত অকটেন আমদানি করতে হয়। গত অর্থবছরে মোট ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩ টন এমন অকটেন আমদানি করেছে বিপিসি। দেশে উৎপাদিত পেট্রোল ও অকটেনের এই ঘাটতির প্রধান কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে যাওয়াকে দায়ী করছে বিপিসি। সাধারণত গ্যাস উত্তোলন কমলে উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট উত্তোলনও হ্রাস পায়। ডিপো থেকে পাম্পগুলো চাহিদামাফিক তেল সরবরাহ পাচ্ছে না। পেট্রোল ও অকটেন দেশেই উৎপাদিত পণ্য। তাই এর কৃত্রিম সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই। মূলত আগামী মাসের ১ তারিখে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে, এমন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেসরকারি সিআরইউগুলো (কনডেনসেট রিফাইনারি ইউনিট) বিপিসিকে তেল দিচ্ছে না। ফলে এই সংকট বাড়ছে পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, গত এক বছরে দেশে গ্যাসের সামগ্রিক উৎপাদন প্রতিদিন গড়ে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমেছে। বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি মালিকানাধীন ২২টি গ্যাসফিল্ড থেকে দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এমনকি দেশের বৃহত্তম গ্যাসফিল্ড তিতাসের ২৬টি কূপ থেকে এ বছর দৈনিক ৩১৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, গত বছর যা ছিল ৩৭৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এ ছাড়া পেট্রোল-অকটেনের এই মুহূর্তের সংকটের নেপথ্যে সিন্ডিকেটের কারসাজিকেও দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন বলেন, অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদনের উৎস মূলত দুটি, রিফাইনারি ও কনডেনসেট। এখন খতিয়ে দেখা দরকার কোন উৎস থেকে ঠিক কতটুকু তেল পাওয়া যাচ্ছে। অতীতে এই খাতে কখনো এমন ঘাটতি দেখা যায়নি। তাহলে এখন কেন হচ্ছে? কনডেনসেটের একটি অংশ বেসরকারি কোম্পানিগুলো আমদানি করে

জ্বালানি তেল আছে; ১ মাসের রিজার্ভ বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের

জ্বালানি তেল আছে; ১ মাসের রিজার্ভ বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের দেশে ১ মাসের জ্বালানি তেল আছে। সরকার এই রিজার্ভ আরও বড় করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গনি। আজ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। সন্ধ্যায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, জ্বালানি তেলের সাফিসিয়েন্ট (যথেষ্ট) রিজার্ভ আছে। এক মাসের রিজার্ভ আছে। রিজার্ভ আরও বড় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গভবন এলাকায় যান চলাচলে নির্দেশনা

স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গভবন এলাকায় যান চলাচলে নির্দেশনা মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবন এলাকার সড়কগুলোতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অনুষ্ঠানকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে দুপুর থেকেই রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান হবে। এতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমন্ত্রিত অতিথিদের স্টিকারযুক্ত যানবাহন ছাড়া আবরার ফাহাদ এভিনিউ (জিরোপয়েন্ট থেকে গুলিস্থান চত্বর), ডিআইটি রোডের গুলিস্থান থেকে রাজউক ক্রসিং, দৈনিক বাংলা মোড় থেকে রাজউক ক্রসিং অংশ, ফজলে রাব্বি রোডের শহীদ মতিউর রহমান পার্ক এলাকা থেকে জয়কালী মন্দির ক্রসিং এবং দিলকুশা এলাকার অ্যালিকো, পূবালী ব্যাংক, সিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন সংযোগপথে সকল প্রকার সাধারণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া দুপুর ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জিরোপয়েন্ট ক্রসিংয়ের পূর্ব প্রান্ত, রাজউক ক্রসিংয়ের পূর্ব প্রান্ত, অ্যালিকো গ্যাপের পূর্ব প্রান্ত, জয়কালী মন্দির ক্রসিংয়ের পশ্চিম প্রান্ত, দৈনিক বাংলা মোড়ের দক্ষিণ প্রান্ত, মতিঝিল সিটি সেন্টারের দক্ষিণ প্রান্ত এবং হানিফ ফ্লাইওভারের আউটগোয়িংয়ের বামপাশ (পার্ক সংলগ্ন) পয়েন্টগুলোতে যানবাহন ডাইভারশন কার্যকর থাকবে। আব্দুল গণি রোড, ফুলবাড়িয়া, গোলাপশাহ মাজার, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন দিক থেকে আগত যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এসব যানবাহনকে ইউবিএল ক্রসিং, শাপলা চত্বর, নাইটিঙ্গেল মোড়, রাজমনি, হাইকোর্ট ও তাঁতীবাজার রুট হয়ে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথিদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ নির্ধারণ করা হয়েছে। লাল, সবুজ ও ত্রিভুজ আকৃতির স্টিকারযুক্ত যানবাহন নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করে বঙ্গভবনে প্রবেশ করবে। লাল স্টিকারযুক্ত যানবাহন মেইন গেট, সবুজ স্টিকারযুক্ত যানবাহন পিজিআর (৩ নম্বর) গেট এবং ত্রিভুজ স্টিকারযুক্ত যানবাহন ওয়ার্কশপ (২ নম্বর) গেট দিয়ে প্রবেশ করবে। পার্কিং ব্যবস্থাপনায় বলা হয়েছে, লাল স্টিকারযুক্ত যানবাহন বঙ্গভবনের অভ্যন্তরে নির্ধারিত মাঠ ও খোলা স্থানে রাখা হবে। সবুজ স্টিকারযুক্ত খালি যানবাহন ফজলে রাব্বি রোড ও বঙ্গভবন স্কুল মাঠে পার্কিং করবে। ত্রিভুজ স্টিকারযুক্ত যানবাহন দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় পার্কিং করবে। ভিআইপি নিরাপত্তা যানবাহন রাজউক ক্রসিং থেকে দৈনিক বাংলা অভিমুখে সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হবে। এছাড়া সংবাদপত্র ও মিডিয়ার গাড়ি মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।নগরবাসীর সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এ ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি। একই সঙ্গে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন: প্রধানমন্ত্রী

২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন: প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণসহ প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিতা মা, বোন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সকলকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং সকল শহিদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। দিবসটি উপলক্ষে আজ এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। আসুন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করি। প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস, ৫৫ বছরেও মেলেনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস, ৫৫ বছরেও মেলেনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস। মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত হত্যাযজ্ঞের দিন। একাত্তরের অগ্নিঝরা ২৫ মার্চে বাঙালির জীবনে নেমে আসে নৃশংস, বীভত্স, ভয়ঙ্কর ও বিভীষিকাময় কালরাত্রি। এ রাতে বর্বর পাকবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’র নামে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হিংস্র দানবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। মেতে ওঠে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা, যা কালরাত হিসেবে পরিচিত। ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস পালনের প্রস্তাব : সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় জাতীয় সংসদে ২০১৭ সালের ১১ মার্চ। ঐ দিন থেকেই দিনটি গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে দিবসটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলেনি ৫৫ বছরেও। পাকিস্তানি বাহিনীর যে নির্মমতার শিকার হয়েছিল বাংলার মানুষ, এক মিনিটের জন্য বাতি নিভিয়ে সেই কালরাত স্মরণ করবে বাংলাদেশ। সরকারি এক তথ্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, আজ বুধবার রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত সারা দেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক-আউট’ পালন করা হবে। এ সময় সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও স্থাপনায় কোনো আলোকসজ্জা করা যাবে না। কেপিআই এবং জরুরি স্থাপনাগুলো ব্লাকআউটের আওতামুক্ত থাকবে। দিবসটি উপলক্ষ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বাণীতে বলেন, ২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায়। এই গণহত্যায় পুরো জাতি বাক্রুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় ২৫ মার্চের দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং এর অব্যবহিত পর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তদানীন্তন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে, অসম সাহসী করে তুলে, সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ও প্রাণ উত্সর্গ করতে উজ্জীবিত করে। শুরু হয়ে যায় সশস্ত্র প্রতিরোধ ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস পর লাখ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় গৌরবময় বিজয়। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর বর্বরতা, অন্যদিকে, জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবগাথা ও বীরত্ব সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে হবে। হতে হবে অনুপ্রাণিত। রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বহু বছর পর বহু কাঙ্ক্ষিত ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে। জনরায়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি ও পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে। গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত ও নৃশংসতম গণহত্যার দিন। এ কালরাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে বাংলাদেশের নিরস্ত্র স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও নিরপরাধ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং হত্যা করে। তিনি বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। সুপরিকল্পিত এ হত্যাযজ্ঞ কেন প্রতিরোধ করা গেল না—এ ব্যাপারে তত্কালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা এখনো ইতিহাসের গবেষণার বিষয়। তবে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ‘উই রিভোল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। গণহত্যা প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে যায় দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার মূল্য ও তাত্পর্য বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে ২৫ মার্চের গণহত্যা দিবস সম্পর্কেও জানা জরুরি। আসুন, আমরা সবাই রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি। কী ঘটেছিল সেদিন : উত্তাল দিন শেষে নামে সন্ধ্যা। গভীর হতে শুরু করে রাত। একাত্তর সালের ২৫ মার্চ কৃষ্ণপক্ষের রাত। তখনো কেউ জানে না কী ভয়ঙ্কর, নৃশংস ও বিভীষিকাময় রাত আসছে বাঙালির জীবনে। ব্যস্ত শহর ঢাকা প্রস্তুতি নিচ্ছে ঘুমের। ঘরে ঘরে অনেকে তখন ঘুমিয়েও পড়েছে। হঠাত্ই যেন খুলে গেল নরকের সবকটি দরজা। রাত সাড়ে ১১টায় ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হলো হনন-উদ্যত নরঘাতক কাপুরুষ পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ছড়িয়ে পড়ল শহরময়। ‘অপারেশন সার্চ লাইট’। এ নাম নিয়েই মৃত্যুক্ষুধা নিয়ে জলপাই রঙের ট্যাংক নেমে এলো। চালানো হলো, অত্যাধুনিক রাইফেল, মেশিনগান ও মর্টার। নিরীহ মানুষের আর্তনাদে ভারি হলো রাতের বাতাস। মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণের মাধ্যমে পাকিস্তানি জল্লাদ বাহিনী নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। শুরু হলো বর্বরোচিত নিধনযজ্ঞ আর ধ্বংসের উন্মত্ত তান্ডব। হতচকিত বাঙালি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঢলে পড়ল মৃত্যুর কোলে। মানুষের কান্না ও আর্তচিত্কারে ভারী হয়ে ওঠে শহরের আকাশ। মধ্যরাতে ঢাকা পরিণত হলো লাশের শহরে। ঢাকা শহরের রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে তারা বাঙালি নিধন শুরু করে। আর মানব ইতিহাসের পাতায় রচিত হলো কালিমালিপ্ত আরেকটি অধ্যায়। নিরস্ত্র, ঘুমন্ত মানুষকে বর্বরোচিতভাবে হত্যার ঘটনায় স্তম্ভিত হলো বিশ্ববিবেক। কর্মসূচি : আজ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা দেশে গণহত্যা দিবস পালন করা হবে। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ২৫ মার্চের গণহত্যা ও মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এছাড়া ২৫ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় মিনিপোলসমূহে গণহত্যা বিষয়ক বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যক্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। আজ বাদ জোহর অথবা সুবিধাজনক সময়ে ২৫ মার্চের রাতে নিহতদের স্মরণে সারা দেশে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত ও বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। আজ রাতে কোনো অবস্থাতেই আলোকসজ্জা করা যাবে না। একাত্তরে গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে কাজ করবে সরকার : একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে কাজ করবে সরকার—এমনটাই জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ঈদ-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে বর্তমান সরকার জোরালোভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতি পাওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে চলমান রয়েছে এবং সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি আরো বলেন, ‘একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে সরকার কাজ করবে—এটি অত্যন্ত জরুরি। কারণ আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে এই ইতিহাস গভীরভাবে জড়িত।’

জাতীয় শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে ফুটবল-ক্রিকেটসহ ৭টি ইভেন্ট

জাতীয় শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে ফুটবল-ক্রিকেটসহ ৭টি ইভেন্ট জাতীয় শিক্ষাক্রমে ক্রীড়ার গুরুত্ব আরও বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ফুটবল, ক্রিকেটসহ মোট সাতটি ক্রীড়া ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশটি স্বাক্ষর করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী। এতে বলা হয়েছে, সারা দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রথম সভা গত ১৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। সভায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকে বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে জাতীয় শিক্ষাক্রমে সাতটি ক্রীড়া ইভেন্ট যুক্ত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই ইভেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে বা ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, অ্যাথলেটিকস এবং সাঁতার। অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এসব ইভেন্ট দ্রুত শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং একটি সুস্থ ও সক্রিয় প্রজন্ম গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

৬০ দিনের মধ্যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ

৬০ দিনের মধ্যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেশের সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। আজ কমিশনের সভাকক্ষে ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতে ডিজিটাল সুবিধা সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণায় সহায়তা প্রদান এবং ডিজিটাল বৈষম্য হ্রাসে ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’ চালুর যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তারই অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে দেশের প্রতিটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়ায় ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। আর এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান করবে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন)। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসহ অন্যান্য শিক্ষা ও গবেষণা অবকাঠামোতেও এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে বলেও সভায় জানানো হয়। এসময় ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান, প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, ইউজিসি সচিব ড. ফখরুল ইসলাম, আইসিটি বিভাগের পরিচালক ওমর ফারুখ, হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান এবং বিডিরেনের সিইও মোহাম্মদ তৌরিতসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।