দেশে অতিভারী বর্ষণ : ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৬৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি

দেশে অতিভারী বর্ষণ : ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৬৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মৌসুমি বৃষ্টির দাপট অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ জেলায় মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণে ভিজেছে প্রকৃতি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের প্রধান ৪৩টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ৬৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের হাতিয়ায় দেশের সর্বোচ্চ ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার ২৯ এপ্রিল রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরে ১০৪ মিলিমিটার এবং নেত্রকোনায় ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ‘অতিভারী’ বৃষ্টির পর্যায়ে পড়ে। এছাড়া ঢাকা বিভাগের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ৮৯ মিলিমিটার, আরিচায় ৫৭ এবং মাদারীপুরে ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৪৫ মিলিমিটার। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলেও বৃষ্টির প্রভাব দেখা গেছে। রাজশাহী বিভাগের বাঘাবাড়ীতে ৮০ মিলিমিটার, পাবনার ঈশ্বরদীতে ৬ মিলিমিটার এবং বগুড়ায় ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। দক্ষিণাঞ্চলের খেপুপাড়ায় ৯৯ মিলিমিটার এবং পটুয়াখালীতে ৫১ মিলিমিটার ভারি বর্ষণ হয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে কেবল সামান্য বৃষ্টির দেখা মিলেছে। এদিকে টানা বৃষ্টির প্রভাবে দেশের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরায়, যা ছিল ৩৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগের নিকলি ও নারায়ণগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া অধিকাংশ বিভাগীয় শহরেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ স্থানে (৭৬-১০০ শতাংশ) বৃষ্টির এই প্রবণতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
৬ লাখ যক্ষ্মার কিট ও শিশুদের জন্য ওষুধ দিলো যুক্তরাষ্ট্র

৬ লাখ যক্ষ্মার কিট ও শিশুদের জন্য ওষুধ দিলো যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত ৬ লাখ জিন এক্সপার্ট যক্ষ্মা পরীক্ষার কিট এবং শিশুদের জন্য ১১ হাজার যক্ষ্মার চিকিৎসা ওষুধের কোর্স দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। আজ ঢাকার একটি যক্ষ্মা হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এই অনুদান তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস বলছে, এই অনুদানটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে এবং দ্বিপাক্ষিক স্বাস্থ্য অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি কাঠামোর অধীনে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করে।
বিএসইসি ও বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রধানের বয়সসীমা থাকছে না, সংসদে বিল পাস

বিএসইসি ও বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রধানের বয়সসীমা থাকছে না, সংসদে বিল পাস পুঁজি বাজারের দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইইডিআরএ) শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা তুলে দিতে দুটি সংশোধনী বিল পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে। আজ ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিল দুটি পাস হয়। জানা যায়, সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিল দুটি উপস্থাপন করেন। প্রথম বিলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বয়সসীমা তুলে ‘বিএসইসি আইন, ১৯৯৩’ এর সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়। অন্যদিকে বিমাখাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে ৬৭ বছর বয়সসীমা সংক্রান্ত ‘অযোগ্যতার বিধান’ বিলুপ্ত করে ‘আইডিআরএ আইন, ২০১০’ সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়। পরে দুটি বিলই কণ্ঠভোটে পাস হয়। এদিকে বিল দুটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়- পুঁজিবাজার ও বিমাখাতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ‘অভিজ্ঞ, দক্ষ ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন’ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে আইনগুলো সময়োপযোগী করা প্রয়োজন। আইডিআরএ সংশোধন বিল, ২০২৬ এ বিদ্যমান আইনের ৭ ধারার উপধারা ৩ সংশোধনের প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। আইডিআরএ আইন, ২০১০ এর ধারা ৭ এ চেয়ারম্যান এবং সদস্য হওয়ার ‘যোগ্যতা ও অযোগ্যতার’ বিধান রয়েছে। বিদ্যমান আইনের ধারা ৭ এর উপধারা ৩ এর দফা ছ-এ বলা আছে, কোনো ব্যক্তির বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হলে তিনি চেয়ারম্যান বা সদস্য হওয়ার যোগ্য থাকবেন না। সংসদে উত্থাপিত বিলে এই ‘ছ দফা’ বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে- ধারা ৭ এর উপধারা ৩ এর দফা ‘ঙ’ এর শেষে থাকা সেমিকোলনের পর ‘বা’ শব্দ বসবে। দফা ‘চ’ এ থাকা ‘; বা ’ এর পরিবর্তে দাঁড়ি বসবে এবং দফা ‘ছ’ বিলুপ্ত হবে। এর ফলে আইডিআরএ-তে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে ৬৭ বছরের বয়সসীমা বিলুপ্ত হবে। এসব বিষয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। তবে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বিল দুটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এ বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, সরকার দল সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তারা চাইলে আইন পাস করতে পারে। তবে যে দুটি বিল পাস হল, তার বিষয়বস্তু নিয়ে যথেষ্ট ব্যাখ্যা হয়নি। এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, বিষয়বস্তু হল যে এই যে, সিকিউরিটিস এক্সচেঞ্জ কমিশনের যে আইনটি এবং এই যে বীমা করপোরেশনের যে আইন দুইটা- আইনের বয়সের যে বাধ্যতাকতা ছিল, সেই বাধ্যতাগুলোকে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিলের ভাষা সংক্ষিপ্ত হওয়ায় দেখে মনে হতে পারে বড় কিছু হচ্ছে না জানিয়ে আখতার বলেন, কিন্তু বাস্তবে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষেত্রে ৬৫ বছরের এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে ৬৭ বছরের বয়সসীমা ছিল, সেটিই তুলে দেওয়া হয়েছে।
ঐক্য ও কার্যকর সংসদের আহ্বান চিফ হুইপের

ঐক্য ও কার্যকর সংসদের আহ্বান চিফ হুইপের জাতীয় ঐক্য, কার্যকর সংসদ এবং গণতন্ত্র রক্ষায় সব দলের সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কেউ মরতে চাই না, সবাই মিলে বাঁচতে চাই— দেশকে বাঁচিয়ে তারপর বাঁচতে চাই,’—এই দর্শন নিয়েই বর্তমান সংসদ এগিয়ে যেতে হবে। আজ সকালের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা-হামলা ও দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা নিয়েই বর্তমান সংসদের অনেক সদস্য এখানে এসেছেন। ‘এ সংসদ মজলুমদের সংসদ,’ উল্লেখ করে তিনি অতীতের দুঃসময়ের কথা স্মরণ করেন। চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশ বারবার সংকট, অস্থিরতা ও রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। দুর্ভিক্ষ, গণতন্ত্রহীনতা ও স্বৈরশাসনের সময় অতিক্রম করে দেশ আজকের অবস্থানে এসেছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে মানুষের স্বপ্ন ছিল গণতন্ত্র, বৈষম্যহীন সমাজ ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়া। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সেই স্বপ্নে উদ্বুদ্ধ হলেও স্বাধীনতার পর নানা দমন-পীড়ন, রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার, দুর্ভিক্ষ ও রাজনৈতিক সংকট দেশকে হতাশার দিকে নিয়ে যায়। বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামোও সীমিত হয়ে পড়ে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান নেতৃত্ব দিয়ে অর্থনীতি পুনর্গঠন ও উৎপাদনমুখী নীতি চালুর মাধ্যমে দেশকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তার মৃত্যুর পর আবার অস্থিরতা তৈরি হলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন জোরদার হয়। চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশ বারবার সংকট, স্বৈরশাসন ও অন্ধকার সময় পার করে এগিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও নির্যাতন, গুম, বিচারহীনতা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বলেন, এসব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন আবার একটি ‘নতুন সূর্যোদয়ের’ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি সব পক্ষকে বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের আহ্বান জানান। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, দল-মত ভিন্ন হলেও একটি ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম ও মানবিক বাংলাদেশ’ গঠনে সবার ঐক্য থাকা উচিত। একইসঙ্গে তিনি বিরোধী দলের বক্তব্যেরও প্রশংসা করে বলেন, কার্যকর সংসদ গঠনে অতীতের সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। সংসদকে প্রাণবন্ত করার আগে কার্যকর করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সংসদ যদি কার্যকর না হয়, তাহলে শুধু প্রাণবন্ত হলেও লাভ নেই।’ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সংসদে এনে যুক্তিসংগত সমাধানের চেষ্টা করার আহ্বান করেন তিনি। চিফ হুইপ আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, জ্বালানি ও গ্যাস ইস্যুতে সংসদে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার ফলে জনমনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তিনি জানান, সরকার ও সংসদ সদস্যরা ব্যক্তিগত সুবিধা ত্যাগ করে জাতীয় স্বার্থে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ‘প্লট নেব না, গাড়ি নেব না— এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, জাতির স্বার্থে’, বলেন তিনি।সংসদের সাম্প্রতিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্বল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক আইন ও অধ্যাদেশ নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আমরা কাজ করেছি, যা একটি রেকর্ড।’ তবে দ্রুততার কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল স্বীকার করে তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিলগুলো আরও যাচাই-বাছাই করে উপস্থাপন করা হবে। চিফ হুইপ তার বক্তব্যে গ্রামীণ জনগণ, শ্রমজীবী মানুষ ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি হবে মানুষের জন্য— যে কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক প্রতিদিন সংগ্রাম করে বাঁচে, তাদের জীবনমান উন্নয়নই গণতন্ত্রের আসল লক্ষ্য।’ তিনি সব দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে— আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
রাজধানীতে আমচাষিদের সমস্যা সমাধানে চার দফা দাবি পেশ

রাজধানীতে আমচাষিদের সমস্যা সমাধানে চার দফা দাবি পেশ রাজধানীতে আমচাষিদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে খামারবাড়ীতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে এ সভা আয়োজন করা হয়। সভায় ঢাকাস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহা. দেলওয়ার হোসেন, আমচাষি ও গণমাধ্যমকর্মী আহসান হাবিব, নওগাঁর সাপাহারের সোহেল রানা, এনামুল হক স্বপনসহ প্রায় ১৫ জন আমচাষি অংশ নেন। আলোচনায় আমচাষিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে চার দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো— সারাদেশে আমের সঠিক ওজন নির্ধারণে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন, সেচ ব্যয় কমাতে সোলার সেচ প্যানেল স্থাপন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম গবেষণা কেন্দ্র পুনঃস্থাপন এবং একটি স্বতন্ত্র আম বোর্ড বা অধিদপ্তর গঠন। কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ মনোযোগ সহকারে দাবিগুলো শোনেন এবং সেগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, আমচাষিদের স্বার্থ রক্ষায় সোলার সেচ প্যানেল সরবরাহ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে ডিজিটাল ওজন পদ্ধতি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পান। এছাড়া আম গবেষণা কেন্দ্র পুনঃস্থাপন এবং একটি আম ব্যবস্থাপনা বোর্ড গঠনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান সচিব। আমের ওজন নির্ধারণে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সভায় আমচাষিরা জানান, দেশের আম উৎপাদন খাত প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ সৃষ্টি করছে। তবে এ খাতের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য এখনো কোনো বিশেষায়িত বোর্ড বা অধিদপ্তর না থাকা দুঃখজনক। এ সময় কৃষকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে কৃষি সচিব বলেন, সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম

বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারে ১৯৫ টাকা থেকে ৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৯ টাকায় বিক্রি হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ভোজ্যতেলের নতুন দাম আজ থেকেই কার্যকর হবে। এছাড়া বোতলজাত তেলের পাশাপাশি খোলা তেলও লিটারে ১৭৫ টাকা থেকে ৪ টাকা বৃদ্ধি করে ১৭৯ টাকায় বিক্রি হবে। আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেলের বাজারমূল্য নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বেই পণ্যের উৎসে মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা আশা করি আমাদের ভোক্তা বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি দেখবেন। এতে বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতিও আগের চেয়ে স্বাভাবিক হবে।
এমপিওভুক্ত হচ্ছে না ১,৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত

এমপিওভুক্ত হচ্ছে না ১,৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত দেশের ১ হাজার ৭১৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের চূড়ান্ত করা তালিকা আপাতত বাস্তবায়ন করছে না বর্তমান সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্বের তালিকা পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হবে এবং একই সঙ্গে নতুন করে আবেদন গ্রহণ করা হবে। এরপর পুরোনো ও নতুন সব আবেদন একত্রে মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, পূর্বের তালিকা বাতিল করা হয়নি; বরং নতুন আবেদনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। তিনি বলেন, নতুন তালিকা চূড়ান্ত করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’-এর আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে আবেদন আহ্বান করা হয়। গত ১৪ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হলে মোট ৩ হাজার ৬১৫টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং স্নাতক (পাস ও সম্মান) পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ডিজিটাল সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় গ্রেডিং করে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির জন্য উপযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এ লক্ষ্যে গত ৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬৭০ কোটি টাকা বরাদ্দও চাওয়া হয়। তবে তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা, জনসংখ্যা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঘনত্ব এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে।
ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৮১৪ নারী : প্রধানমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৮১৪ নারী : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ইতোমধ্যে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। আজ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে নারী ও শিশুরা হবে টেকসই উন্নয়নের সমঅংশীদার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। নারী ও শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং কর্মক্ষম নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: দরিদ্র ও অসচ্ছল নারীদের সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রম, গর্ভবতী মায়ের গর্ভকালীন পুষ্টি এবং শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি, নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি, নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের লক্ষ্যে জয়িতা ফাউন্ডেশন পরিচালনা ইত্যাদি। তিনি বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে বিভিন্ন আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল টোল-ফ্রি হেল্পলাইন, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেল, ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি, ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং নারী, শিশু ও কিশোরীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র রয়েছে। বিদ্যমান মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচিতে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসূচিতে প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা অন্তর্ভুক্ত করা, টিকা ও প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মানসম্মত প্রশিক্ষণ, নগদ সহায়তার সঙ্গে জীবিকা সহায়তা যুক্ত করে শহর ও গ্রামাঞ্চলের জন্য পৃথক গ্রাজুয়েশনভিত্তিক মডেল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। অধিকসংখ্যক নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও নারীদের জন্য বিপণন নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। ইতোমধ্যে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলা ও তিনটি সিটি করপোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের নারী প্রধানকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, শিশুরা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। শিশুর বিকাশ ও কল্যাণে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ, জাতীয় শিশু পুরস্কার, প্রতিযোগিতা আয়োজন, শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ, দরিদ্র ও দুস্থ শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক ও শিশু বিকাশ কর্মসূচি, অটিজম বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ শিশুস্বার্থ সংরক্ষণে নানাবিধ দায়িত্ব পালন করে আসছে। পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় দুটি আবাসিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বর্তমানে ১৫১ জন শিশুকে আবাসন, খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, এ কার্যক্রমের আওতায় নয়টি আউটরিচ স্কুল রয়েছে। কর্মজীবী মায়েদের ৬ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের দেখভালের জন্য মোট ৬৪টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে সুষম খাবার, প্রাক-স্কুল শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং ইনডোর খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। নারীদের কর্মস্থলে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র (ডে-কেয়ার) স্থাপনের পাশাপাশি গার্মেন্টসসহ সব শিল্পকারখানা, অফিস ও আদালতে কর্মরত মায়েদের জন্য ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ স্থাপনের বিষয়ে নির্বাচনি ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষত নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততার ঝুঁকি প্রশমন, অভিযোজন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং জীবিকার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘Gender Responsive Climate Adaptation (GCA)’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ৪৩ হাজার নারীকে জীবিকা সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ১৩ হাজার ৩০৮টি পরিবারভিত্তিক বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হয়েছে এবং উপকারভোগীদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৩ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার আরও ২ হাজার পরিবারভিত্তিক রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া, এ অর্থবছরে আরও ১০ খানাবিশিষ্ট ৬৫৮টি কমিউনিটিভিত্তিক রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে। সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনা জেলার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলার ভয়াবহ নদীভাঙন ঝুঁকি সম্পর্কে সরকার অবগত। দাকোপ উপজেলায় ৬০-এর দশকে নির্মিত বেড়িবাঁধটি নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলাবাসীর জীবন ও সম্পদ রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদীভাঙন রোধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ‘Disaster Risk Management Enhancement Project’-এর আওতায় নদীভাঙন রোধে কাজ চলমান রয়েছে, যা জুন ২০২৭-এ শেষ হবে। এছাড়া, ‘উপকূলীয় পোল্ডার নং ৩১ পুনর্বাসন’ প্রকল্প যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসী নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাবে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষায় সরকার সচেষ্ট রয়েছে এবং ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০৪০ সালের মধ্যে ৫.৫৭ কোটি পর্যটক আকর্ষণ ও ২.১৯ কোটি কর্মসংস্থান

২০৪০ সালের মধ্যে ৫.৫৭ কোটি পর্যটক আকর্ষণ ও ২.১৯ কোটি কর্মসংস্থান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে ৫ কোটি ৫৭ লাখ পর্যটক আকর্ষণ এবং ২ কোটি ১৯ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার একটি পর্যটন মেগা পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আজ সংসদে জামালপুর-২ আসনের সদস্য সরকারি দলের এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবুর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘পর্যটন মেগা পরিকল্পনার আওতায় ২০৪০ সালের মধ্যে ৫৫.৭ মিলিয়ন পর্যটক আকর্ষণ এবং ২.১৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’ তিনি জানান, পর্যটন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ, স্বল্প সুদের ঋণ সুবিধা এবং নীতিগত সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার পর্যটন খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ২০২৬-২০৪০ মেয়াদি ‘ট্যুরিজম মেগা প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হচ্ছে, যেখানে খাতটির জন্য একটি সুস্পষ্ট বিনিয়োগ রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ২০২৫ সালে জাতীয় পর্যটন নীতি হালনাগাদ করে খাতটিকে আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অর্থায়ন সুবিধা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পর্যটন খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। ভবিষ্যতে এ সুবিধা আরও বাড়ানো হবে। পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান। দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত ১ হাজার ৯৪৩ জন ট্যুর অপারেটর, ১ হাজার ২১৫ জন ট্যুর গাইড এবং ১ হাজার ৫২৭ জন স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার ৮৫ জনকে পর্যটন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড ‘ন্যাশনাল ট্যুরিজম হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি (২০২১-২০৩০)’ প্রণয়ন করেছে, যার লক্ষ্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। বর্তমানে পর্যটন খাতে প্রায় ৫১ লাখ ৯০ হাজার মানুষ কর্মরত এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৭২ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। টেকসই পর্যটনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কুয়াকাটা ও উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং ইকো-ট্যুরিজম বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়াবে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে নারী-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। সংস্কৃতি প্রসারে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উৎসব, ঐতিহ্য ও হস্তশিল্প তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা গ্রামীণ পর্যটন বিকাশে সহায়ক হবে। বড় বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)’র মাধ্যমে কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং এলাকায় এক্সক্লুসিভ টুরিস্ট জোন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন-এর মালিকানাধীন কক্সবাজারের জমিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাগদানের পরও ভেঙে যায় বিয়ে, অবশেষে সাতপাকে অভিনেত্রী

বাগদানের পরও ভেঙে যায় বিয়ে, অবশেষে সাতপাকে অভিনেত্রী বড় পর্দায় পা রেখেই নজর কাড়েন ভারতীয় সিনেমার অভিনেত্রী মেহরীন পিরজাদা। ব্যক্তিগত জীবনে রাজনীতিবিদ ভাবিয়া বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এক বছর প্রেম করার পর ২০২১ সালে বাগদান সারেন এই জুটি। কিন্তু বাগদানের চার মাস পর বিয়েটি ভেঙে যায়। গত দুই বছর ধরে মেহরীনের বিয়ে নিয়ে নানা গুঞ্জন উড়েছে। গত বছরের শেষের দিকে নতুন করে গুঞ্জন চাউর হয়—গোপনে বিয়ে করেছেন মেহরীন। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা চলে। কেবল তাই নয়, মেহরীনের গোপন বিয়ে নিয়ে খবর প্রকাশ করে ডিএনএ ইন্ডিয়া। সময়ের সঙ্গে এ অভিনেত্রীর বিয়ের চর্চা যখন জোরালো হয়, তখন নীরবতা ভেঙে এসব গুঞ্জনের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এবার নিজের বিয়ের খবর দিলেন অভিনেত্রী মেহরীন। ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অভিনেত্রী মেহরীন পিরজাদা বিয়ে করেছেন। তার বরের নাম আরশ ওলাখ। রবিবার (২৬ এপ্রিল) হিমাচল প্রদেশে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এই অভিনেত্রী। মেহরীন তার ইনস্টাগ্রামে বিয়ের বেশ কিছু ছবিও পোস্ট করেছেন; যা এখন অন্তর্জালে ভাইরাল। ছবিতে দেখা যায়, মেহরীন পরেছেন সিকুইন কাজ করা ব্লাশ-পিঙ্ক লেহেঙ্গা। এর সঙ্গে লেয়ারড স্টোন নেকলেস, রং মিলিয়ে বেছে নেন কানের দুল। হালকা মেকআপ নিয়েছিলেন মেহরীন। ঘোমটার নিচে তার মাথার চুলগুলো আলগা করে ছেড়ে দেওয়া। অন্যদিকে, তার বর আরশ একই রঙের ব্লাশ-পিঙ্ক পোশাক বেছে নেন। মেহরীন ক্যাপশনে লেখেন—“২৬.০৪.২৬।” এরপর থেকে ভক্ত-অনুরাগী ও সহকর্মীদের শুভেচ্ছা বার্তায় ভাসছেন এই নবদম্পতি। গত বছরের শেষের দিকে গোপন বিয়ের চর্চা শুরুর পর মেহরীন পিরজাদা বলেছিলেন, “আমি অবিবাহিত। আমি কাউকে বিয়ে করিনি। বিশ্বাস করুন, আমি যেদিন সত্যিই বিয়ে করব, সেদিন পুরো দুনিয়াই জানবে—এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি!” মেহরীন তার প্রতিশ্রুতি কিছুটা হলেও রেখেছেন, আগে খবর না দিলেও বিয়ের পর খবর জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। মাত্র ১০ বছর বয়সে র্যাম্পে হাঁটেন মেহরীন। ২০১৩ সালে ‘মিস পারসোনালিটি সাউথ এশিয়া কানাডা’সহ কয়েকটি সুন্দরী প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর মুকুট পরেন। পরবর্তীতে ভারত ও কানাডার বেশ কিছু বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করে পরিচিতি লাভ করেন। এরপর নাম লেখান চলচ্চিত্রে। ২০১৬ সালে তেলেগু ভাষার ‘কৃষ্ণা গাডি ভীরা প্রেমা গাধা’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে মেহরীনের। ২০১৭ সালে ‘ফিল্লোরি’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন তিনি। একই বছর ‘নেনজিল থুনিভিরুন্ডাল’ সিনেমার মাধ্যমে তামিল ভাষার সিনেমায় নাম লেখান মেহরীন। এরপর ‘এফ টু’, ‘এফ থ্রি’, ‘প্যান্থম’ এর মতো ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন মেহরীন। তার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনমো ‘ইন্দ্রা’। এক বছরের বিরতি নিয়ে এ সিনেমার মাধ্যমে গত বছর প্রেক্ষাগৃহে ফিরেন তিনি। বর্তমানে তার হাতে কন্নড় ভাষার একটি সিনেমার কাজ রয়েছে।