রবিবারের মধ্যে আদানির বন্ধ ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে

রবিবারের মধ্যে আদানির বন্ধ ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা বলেছেন, আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ হওয়া ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। আজ সচিবালয়ে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। উম্মে রেহানা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। যে কারণে চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও গ্যাসের অভাবে উৎপাদন হচ্ছে অর্ধেকের মতো। বুধবার দেশে বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো। ঘাটতি ছিল ২ হাজার মেগাওয়াট। এর আগে, চালুর ১১ দিনের মাথায় গতকাল বুধবার দুপুরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আবারও ওই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এদিন দুই ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ১৪৯৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। তবে দুপুর ২টার দিকে উৎপাদন এক লাফে কমে প্রায় সাড়ে ৭০০ মেগাওয়াটে নেমে আসে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও আদানির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর ভারতে আদানির পাওয়ারসের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটের বিয়ারিং থেকে সতর্কসংকেত পাওয়া যায়। সাউন্ড শুনে এটি শনাক্ত করেন কেন্দ্রটির প্রকৌশলীরা। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানির একটি ইউনিট থেকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। মেরামতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে। ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। এ পরিমাণ বিদ্যুৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর হয়ে দেশে আসে। ২০২৩ সালের মার্চে প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে যুক্ত হয়। তবে, দুটি ইউনিটের একটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ১১ এপ্রিল চালু হয়েছিল।

সৌদি আরব পৌঁছেছেন ২৫ হাজার ৩৯৬ হজযাত্রী, ২ জনের মৃত্যু

সৌদি আরব পৌঁছেছেন ২৫ হাজার ৩৯৬ হজযাত্রী, ২ জনের মৃত্যু চলতি বছর হজের জন্য বাংলাদেশ থেকে আজ পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২৫ হাজার ৩৯৬ জন হজযাত্রী। একই সময়ে সেখানে ২ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আজ হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বুলেটিন অনুযায়ী, সৌদি আরবে পৌঁছানো হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ২ হাজার ৮৭০ জন এবং বেসরকারিভাবে গেছেন ২২ হাজার ৫২৬ জন। এ পর্যন্ত মোট ৬৩টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ২৪টি ফ্লাইট, সৌদি এয়ারলাইনস ২৩টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ১৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে গেছেন ৯ হাজার ৯৫১ জন, সৌদি এয়ারলাইনসে ৮ হাজার ৫৮০ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসে ৬ হাজার ৮৬৫ জন হজযাত্রী। বুলেটিনে আরও জানানো হয়, বুধবার মক্কায় একজন হজযাত্রী মারা গেছেন। এ নিয়ে সৌদি আরবে গিয়ে মোট দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হলো। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনকে হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং বাকি ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাচ্ছেন।

বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড, ২৭ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ

বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড, ২৭ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ চলতি বছর প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। গতকাল রাজশাহীতে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সেই সঙ্গে খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ মোট ২৭ জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম-এর দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সংস্থাটি জানায়, দেশের রাজশাহী জেলার উপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের অবশিষ্টাংশ ও খুলনা বিভাগসহ ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, দিনাজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। শুক্রবার ২৪ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং বিরাজমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। শনিবার ২৫ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সংস্থাটি আরও জানায়, আগামী পাঁচদিনের মধ্যে উত্তরপূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং দেশের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মিলবে ১ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ

মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মিলবে ১ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই ১ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা| আজ সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান| উম্মে রেহানা বলেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ১ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে| এতে মানুষের যে সংকট চলছে, তা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে| তিনি আরও জানান, খাদ্য নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সেচকাজ এবং কলকারখানাকে বিদ্যুৎ সরবরাহে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে| কারণ, ফসল ও উৎপাদন ব্যাহত হলে সামগ্রিক ক্ষতি আরও বড় হয়ে যাবে| একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সবার প্রতি আহ্বান জানান যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা| তিনি এয়ার কন্ডিশনার বা এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির নিচে না রাখার আহ্বান জানান

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকা থেকে জরুরি সহায়তা যাচ্ছে ইরানে

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকা থেকে জরুরি সহায়তা যাচ্ছে ইরানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের কাছে ইরানে পাঠানোর জন্য জরুরি চিকিৎসা সহায়তা সামগ্রী হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, এই সহায়তা বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে।

প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঢাকা এবং চট্টগ্রামের মধ্যে দূরপাল্লার গাড়িতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১১ পয়সা এবং আন্তঃজেলার প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সা। অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে বাসভাড়া কিলোমিটারে ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা। আজ সচিবালয়ে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে শ্রমিক মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে দূরপাল্লার গাড়িতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া আন্তঃজেলার প্রতি কিলোমিটারেও বাড়ানো হবে ১১ পয়সা। ভাড়া বাড়নোর সিদ্ধান্ত আজ থেকেই কার্যকর হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ডিজেল চালিত বাসের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সিএনজিচালিত বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচিত হবে না। জ্বালানি তেলের দাম কমে গেলে বাস ভাড়া আবার কমবে। তবে রেল ও নৌ পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

জুলাইয়ে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা: মাহদী আমিন

জুলাইয়ে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা: মাহদী আমিন আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পাটজাত ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এ উদ্যোগটি প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসব ব্যাগ ও ড্রেস বিতরণ করা হবে। প্রথম মাসেই প্রায় এক লাখের বেশি শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় আসবে। আজ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বস্ত্র এবং পাট মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জুলাইয়ের শুরু থেকে প্রাথমিকভাবে দুটি করে উপজেলায় প্রতি মাসে এবং প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু হবে। আমরা সব ছাত্রছাত্রীর কাছে পাটের তৈরি ব্যাগ এবং স্কুল ড্রেস পৌঁছে দেব। মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা চাই আমাদের দেশে উৎপাদিত পণ্য যে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগান আমরা সারা বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দিতে চাই। তার অংশ হিসেবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে এগুলো পৌঁছে দেওয়া হবে। যার মূল উদ্দেশ্য হবে সারাদেশে আমরা যে সবসময় বলি, সমতা নিশ্চিত করা। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে ফেয়ারনেস থাকবে, যেখানে ন্যায্যতা থাকবে। আমরা নিশ্চিত করতে পারব যে ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যে যে পার্থক্য সেটি যেন কমে আসে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ একদম তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রান্তিক এলাকায় আমরা ধাপে ধাপে এই একই ধরনের পোশাক, একই ধরনের ব্যাগ এবং দেশে উৎপাদিত পণ্য পৌঁছে দেব। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর যে দীর্ঘদিনের একটা ভিশন ছিল বাংলাদেশে আমাদের নিজেদের উৎপাদিত যেকোনো পণ্য, সারা বাংলাদেশে আমরা ছড়িয়ে দিতে পারবো। তিনি আরো বলেন, আরেকটা বিষয় হচ্ছে এই যে পাটের ব্যাগটা আমরা দিচ্ছি এটাও একটা বিষয় এই যে, পরিবেশের সঙ্গে যেন এটা আমাদের কোমলমতি শিশুদের একটা লার্নিং শুরু হয়। এখান থেকে এই পাটজাত পণ্য দ্রব্যগুলো ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করা। আমাদের হারানো ঐতিহ্য, গৌরবকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা এটা আমাদের কোমলমতি শিশুদের মধ্যে দিয়ে এটা একটা সিগনাল দিচ্ছি, আমরা এই পলিথিন বা এই ব্যাপারে যে আমরা পরিবেশ নষ্ট করে এটার বিরুদ্ধে, এটাকে চেঞ্জ করে আমরা এই পাটজাত পণ্যের দিকে মানুষকে ধাবিত করা, উৎসাহিত করা।

এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ, পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই

এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ, পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হবে। আজ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল এ তথ্য জানান। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র থাকলেও সাধারণ বোর্ডগুলোতে আলাদা আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা হতো।

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ৃগত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ২২৯ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ২৭ হাজার ১৬৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১২৯ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা তিন হাজার ৯৩৪ জন। ১৫ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৯৯৮ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৪ হাজার ৮৯২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি, তবে ১৫ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ১৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য বহুমুখীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’-এর উদ্বোধন করা হয়। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ১০টি ভিন্ন ধরনের সেবা সরাসরি পাবেন। আজ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির পরিমাণ হ্রাস এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষিখাত নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কৃষক কার্ড ১৪ উদ্বোধন করা হয়। কার্ডের মাধ্যমে ১০টি সেবা, যথা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বীমা সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য প্রাপ্তিসহ ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ প্রদান, ইত্যাদি কৃষকগণের নিকট পৌঁছে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কৃষককে এ কার্ড প্রদান করা হবে। এছাড়াও কৃষির উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যা নিম্নরূপ: প্রথমত, কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য সরকার উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ, সুষম সার ব্যবহারের পাশাপাশি আধুনিক সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এজন্য ইতোমধ্যে ২০ হাজার কি. মি. খাল খননের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি প্রদান করে ট্রাক্টর, হারভেস্টার, রিপারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, পতিত জমি আবাদের আওতায় আনা এবং জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য “ক্রপ জোনিং” পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চলের মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশের উপযোগী ফসল নির্ধারণ করা হয়। ফলে জমির অপচয় কমে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। একই সাথে পতিত জমি চিহ্নিত করে সেগুলো আবাদের আওতায় আনার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যেমন খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে পতিত জমি কৃষির আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, সিলেট অঞ্চলে পতিত জমিসহ চরাঞ্চলের পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনার জন্য বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তৃতীয়ত, কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এক সময় ধান নির্ভর কৃষি ব্যবস্থা এখন ধীরে ধীরে ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা, ফুল চাষ খাতে সম্প্রসারণ করার জন্য সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। চতুর্থত, কৃষকদের জন্য প্রণোদনা ও সহায়তা কার্যক্রম স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বীজ, সার, কৃষিযন্ত্র ক্রয়সহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি প্রদান করা হবে। তাছাড়া, কৃষকদের জন্য স্বল্প সুদের কৃষিঋণ এবং ফসল বীমা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্যও বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশের ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিদের কল্যাণে প্রতি অর্থবছর কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেটের ‘কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা’ খাতে অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতে ৭ শত কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। উক্ত বরাদ্দ হতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ বাবদ ৪ শত ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ছাড় করা হয়েছে। এতে ২৫ লক্ষ ২২ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয়েছেন। পঞ্চমত, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া ফল ও সবজি সংরক্ষণের জন্য মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষিপণ্য রপ্তানির লক্ষ্যে, উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং ক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ষষ্ঠত, কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনে সরকার ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান যেমন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) এর মাধ্যমে অধিক ফলনশীল, রোগ প্রতিরোধী এবং স্বল্পমেয়াদি নতুন জাতের ফসল উদ্ভাবনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু সহনশীল ফসল উদ্ভাবনে জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে পরিবর্তিত পরিবেশেও কৃষি উৎপাদন বজায় থাকে। সপ্তমত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় “ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি” বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। লবণাক্ততা, খরা ও বন্যা সহনশীল ফসল চাষ, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং টেকসই কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকে পরিবেশবান্ধব করা; কম সেচ, কম রাসায়নিক সার ও কম কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন; প্রি-পেইড মিটার স্থাপন এবং সেচের Alternate Wetting and Drying (AWD) পদ্ধতি প্রয়োগ করে খরাপ্রবণ অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা; মোবাইল অ্যাপ যেমন: “খামারি এ্যাপস” ব্যবহার করে স্থানভিত্তিক উপযুক্ত ফসল চাষ করে সেচ, সারসহ অন্যান্য উপকরণের সর্বোত্তম ব্যবহার; প্রিসিশন এগ্রিকালচার ইত্যাদির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।