বিদায়ী সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

বিদায়ী সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসসহ সকল উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তদন্ত ও দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম এই নোটিশ পাঠান। ক্যাবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য সচিবদের কাছে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই লিগ্যাল নোটিশটি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আজ সোমবার রেজিস্ট্রি ডাক যোগে পাঠানো হয়েছে। সারা দেশে আকস্মাৎ বিলুপ্ত রোগ হাম-এর মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অগণিত শিশু ও সাধারণ নাগরিক হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। হামের মতো টিকাকরণের ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে প্রাইভেট খাতে দেওয়ার অশুভ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের স্বার্থে জড়িত থাকায় এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক তদন্তের দাবি জানিয়ে এবং ড. মুহাম্মদ ইউনুস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূর জাহান বেগম, বিগ্রেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ সকল উপদেষ্টা, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস-সচিব শফিকুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট সকল সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সরকারের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম।

প্রাথমিকে অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা নেই- ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিকে অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা নেই – ববি হাজ্জাজ দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব এবং জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখা বা অনলাইন ক্লাসে যাওয়ার বিষয়ে এই মুহূর্তে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অনলাইন ক্লাসের পথে হাঁটবে না, বরং সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার পক্ষেই অবস্থান করছে। স্কুল বন্ধের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতেই মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী জুন-জুলাই মাস নাগাদ শিক্ষা ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন ও যুগোপকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। মূলত সেই নতুন পদক্ষেপগুলোর মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি এবং বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতেই এই ঝটিকা পরিদর্শনে নেমেছেন তিনি।

বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা

বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের জন্য সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। সোমবার সচিবালয়ে ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী’ প্রতিপাদ্যে আগামী ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’ পালন করা হবে। দেশের ইলিশ সমৃদ্ধ ২০টি জেলায় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন করা হবে। জাটকা আহরণ, ক্রয়-বিক্রি ও মজুদ করা থেকে জনসাধারণ বিরত থাকার আহ্বান জানান। বলেন, সবাইকে সচেতন হতে হবে। জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ চলাকালে সাগর থেকে বাজার পর্যন্ত নজরদারি চলবে। প্রজনন মৌসুমে জাটকা ধরা, পরিবহন ও বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আরো জানান, বৈশাখে ভারতে ইলিশ রপ্তানির বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে সিদ্ধান্ত হবে।

নতুন সময়ে অফিস ও ব্যাংক লেনদেন

নতুন সময়ে অফিস ও ব্যাংক লেনদেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কর্মঘণ্টা কমানোসহ নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন এ সময়সূচি অনুযায়ী আজ থেকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিস চলবে। গতকাল এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিস চলবে। এ ছাড়া শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে এবং জরুরি পরিষেবা এ সময়সূচির বাইরে থাকবে।        

ভবিষ্যতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে অর্থমন্ত্রী

ভবিষ্যতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে অর্থমন্ত্রী জ্বালানি ও সামগ্রিক সংকট প্রসঙ্গ টেনে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি শুধু জ্বালানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি বহুমাত্রিক সংকট। এতে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর প্রভাব পড়ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। আজ সকালে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উদ্যোগে এ পরামর্শসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

৩ মে থেকে সারা দেশে মিলবে হামের টিকা বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৩ মে থেকে সারা দেশে মিলবে হামের টিকা বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় আগামী ৩ মে থেকে সারা দেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এর আগে আগামী রবিবার থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দুই সিটি ও দুই জেলায় এ কার্যক্রম চালু করা হবে। আজ ঢাকার নবাবগঞ্জে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী রবিবার থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও বরিশাল জেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে তা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, ৩ মে থেকে বাকি জেলা ও উপজেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে টিকা দেওয়া হবে, যেন শিশুরা ঝুঁকিতে না থাকে।

এখন থেকে নববর্ষে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’: সংস্কৃতিমন্ত্রী

এখন থেকে নববর্ষে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’: সংস্কৃতিমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে প্রতিবছর বাংলা নববর্ষে যে শোভাযাত্রা হয়, সেটি এখন থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। এর আগে, গত বছর পহেলা বৈশাখে চারুকলা থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রার নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। তার আগে এটি ছিল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম নিয়ে যে বিতর্ক, আমরা তার অবসান চাই। এখন থেকে নববর্ষের শোভাযাত্রা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণসহ অন্যান্য সকল আয়োজন থাকবে। চারুকলা থেকে যে শোভাযাত্রা বের হয়, তার যে যে বৈশিষ্ট্য আছে, সবই থাকবে।

 ভর্তুকি না পেলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের শঙ্কা!

ভর্তুকি না পেলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের শঙ্কা! আগামী গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, সময়মতো এই অর্থ না পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটবে এবং দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বিশাল ব্যবধানের কারণে সরকারকে প্রতি বছর বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় ১২ টাকা ১৫ পয়সা। অথচ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিক্রি করছে মাত্র ৭ টাকা ৪ পয়সায়। ফলে প্রতি ইউনিটে সরকারকে ৫ টাকা ২৭ পয়সা লোকসান গুণতে হচ্ছে, যা ভর্তুকি হিসেবে সমন্বয় করা হয়। ভর্তুকির এই বিশাল চাহিদার পেছনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ভুল পরিকল্পনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির সিংহভাগই চলে যায় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা কেন্দ্র ভাড়া প্রদানে। বিগত সরকারের আমলে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। রেন্টাল ও কুইক রেন্টালসহ এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের অধিকাংশ সারাবছর অলস বসে থাকে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী, বিদ্যুৎ না কিনলেও সরকারকে আগামী গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০,১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, সময়মতো এই অর্থ না পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের বিশাল ফারাকের কারণেই এই বিপুল ভর্তুকির প্রয়োজন হচ্ছে বাধ্যতামূলকভাবে বিপুল পরিমাণ টাকা কেন্দ্র ভাড়া হিসেবে দিতে হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি (৫.০২ টাকা থেকে ১৫.৫০ টাকা) এবং চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। ভর্তুকির এই বিশাল চাহিদার পেছনে বিগত সরকারের ভুল পরিকল্পনা ও ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা কেন্দ্র ভাড়ার বড় ভূমিকা রয়েছে। বিগত ১৫ বছরে অলস বসে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে শুধুমাত্র ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণেও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে । ভর্তুকির অর্থ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি আসন্ন সেচ ও গ্রীষ্মের পিক মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে এবং গ্রিডে নতুন যুক্ত হওয়া ৩টি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে গত ১৬ মার্চ বিদ্যুৎ বিভাগ অর্থ বিভাগে ভর্তুকির এই চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে। মার্চ থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ের জন্য এই অর্থ চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়, জাতীয় গ্রিডে নতুন যুক্ত হওয়া তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতেই বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। এগুলো হলো— শ্রীপুর ১৬০ মেগাওয়াট এইচএফও ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মাতারবাড়ি আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। শুধুমাত্র এই তিনটি কেন্দ্রের জন্য মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন।এছাড়া, ভারত থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানির বিল মেটাতে ৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা এবং সরকারি কোম্পানি ও বিপিডিবির নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৩ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা ভর্তুকি লাগবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এদিকে, বাংলাদেশকে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর চাপ দিয়ে আসছে। আইএমএফের ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার চলতি বছরের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। গ্রিডে নতুন যুক্ত হওয়া তিনটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র (শ্রীপুর, পটুয়াখালী ও মাতারবাড়ি) চালু রাখতেই মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮,২৪৪ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন। এছাড়া, ভারত থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানির বিল মেটাতে ৮,২৭৫ কোটি টাকা এবং সরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য ৩,৬১৭ কোটি টাকা ভর্তুকি লাগবে। অর্থ বিভাগ থেকে এখনও ইতিবাচক সাড়া না মেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভর্তুকির বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব (উন্নয়ন-১) মো. সোলায়মান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ভর্তুকি চেয়ে চিঠি পাঠানোর পর অর্থ বিভাগ থেকে এখনও কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আলোচনা চলছে। তবে, এই অর্থ ছাড় না পেলে বিদ্যুৎ সরবরাহে নিশ্চিতভাবেই প্রভাব পড়বে। এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে এই ভর্তুকি সামলানো প্রায় অসম্ভব। সরকার এখনই দাম বাড়াতে চায় না, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে দাম বৃদ্ধি আবশ্যক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেইন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রাক্তন অধ্যাপক ইজাজ হোসেইন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে এই বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির দায় মূলত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল পরিকল্পনার। তারা পরিকল্পনা করেছিল তিন-চার মাস পরপর দাম বাড়িয়ে চলতি বছরের মধ্যেই ভর্তুকি সমন্বয় করবে। কিন্তু বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি। এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে এই ভর্তুকি সামলানো প্রায় অসম্ভব। সরকার এখনই দাম বাড়াতে চায় না, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে দাম বৃদ্ধি আবশ্যক।

আগামীকাল থেকে কমবে গরম জানাল আবহাওয়া অফিস

আগামীকাল থেকে কমবে গরম জানাল আবহাওয়া অফিস ঢাকাসহ সারা দেশেই বেড়েছে গরমের দাপট। গত কয়েক দিন ধরে তীব্র গরমের ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বেশি অস্বস্তিতে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাপমাত্রা নিয়ে সুখবর দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামীকাল রবিবার থেকে সারা দেশেই কমবে গরমের দাপট। সেই সঙ্গে যেসব জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা কিছু কিছু জায়গায় কমতে পারে।  শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে আগামী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামীকাল রবিবার সকাল ৯টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমক হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সংস্থাটি জানায়, আজ ঢাকা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, রাঙামাটি, চাঁদপুর, বরিশাল এবং পটুয়াখালী জেলাসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, আগামীকাল রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সেই সঙ্গে বিরাজমান তাপপ্রবাহ কিছু কিছু জায়গা থেকে প্রশমিত হতে পারে। আগামী সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬১৯, আহত ১৫৪৮

মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬১৯, আহত ১৫৪৮ বিদায়ী মার্চে ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত ও ১ হাজার ৫৪৮ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৪৫টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত ও ২২৯ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৬৭০টি দুর্ঘটনায় ৬৮২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৭৯৬ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো মার্চ মাসের দুর্ঘটনা প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।  সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সংবাদপত্রে স্থান না পাওয়ায় তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে। সেখানে ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৫৭ জন চালক, ৯০ জন পথচারী, ১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৬৮ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক, ৭৮ জন নারী, ৮৬ জন শিশু, ৩ জন চিকিৎসক, ৪ জন সাংবাদিক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১ জন আইনজীবী, ৩ জন প্রকৌশলী এবং ১৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— ৫ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন আনসার সদস্য, ১ জন বিজিবি সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ১ জন চিকিৎসক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৫০ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৮৪ জন পথচারী, ৭৪ জন নারী, ৮২ জন শিশু, ৬৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ১৪ জন শিক্ষক, ১ জন আইনজীবী, ৩ জন প্রকৌশলী এবং ৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে— সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল; জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং এবং সড়কবাতির অভাব; রেলক্রসিংয়ে হঠাৎ বাস উঠে আসা; সড়কের মিডিয়ানে ডিভাইডার না থাকা; অন্ধবাঁকে গাছপালার কারণে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা; মহাসড়কের নির্মাণত্রুটি; যানবাহনের বিভিন্ন ত্রুটি; ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা; উল্টো পথে যান চলাচল; সড়কে চাঁদাবাজি; পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন; অদক্ষ চালক; ফিটনেসবিহীন যানবাহন; অতিরিক্ত যাত্রী বহন; বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং চালকদের অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়ি চালানো। এ ছাড়া ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের কারণে বাসের ছাদে, খোলা ট্রাক ও পিকআপে, ট্রেনের ছাদে এবং বাসের ইঞ্জিন বোনেটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতকেও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ভাড়া আদায়ে স্মার্ট পদ্ধতি চালু করা; মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ করা; জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতের বেলায় আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা; দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে যানবাহনের ফিটনেস প্রদান; বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলের সরকার নির্ধারিত ৬০ ঘণ্টার ইনক্লুসিভ প্রশিক্ষণ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করা। এ ছাড়া পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মালিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন নির্মাণ, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, রোড সাইন ও মার্কিং স্থাপন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত, নিয়মিত রোড সেফটি অডিট পরিচালনা এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট চালুর কথাও বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঈদযাত্রায় বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানোও জরুরি।