ইন্দোনেশিয়ায় আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৬

ইন্দোনেশিয়ায় আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৬ ইন্দোনেশিয়ার সিয়াউ দ্বীপে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আজ দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, আকস্মিক বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, নিখোঁজ তিনজনকে উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালাচ্ছে। বন্যায় ২২ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৭০০ গ্রামবাসী বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানান তিনি। আবদুল মুহারি বলেন, ভোর থেকে শুরু হওয়া তীব্র বৃষ্টিতে নদীর পানির প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এই আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়।অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বড় বড় পাথর ও উপড়ে যাওয়া গাছ ভেসে গেছে। বন্যার কারণে কয়েকটি সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বহু বাড়িঘরসহ সরকারি ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে বন্যা দেখা যায়। গত বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যা হয়। ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুমাত্রা দ্বীপে এসব দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ১৭৮ জন নিহত এবং ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যদিও প্রতি বছরই বর্ষায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়, তবে নভেম্বরের সুমাত্রার বন্যা ২০০৪ সালের ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির পর দ্বীপটিতে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
১৪ ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

১৪ ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের ১৪ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ২২ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা, যা কাট-অফ হার হিসেবেও প্রযোজ্য হয়েছে। আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত) মোট ৩৫৪ কোটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা প্রায় ৩ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারের সমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আজ মঙ্গলবার ১৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ২২৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন (২২ কোটি ৩৫ লাখ) মার্কিন ডলার ক্রয় করা হয়েছে। প্রতি ডলারের বিনিময় হার ও কাট-অফ রেট নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২২ দশমিক ৩০ টাকা। এর ফলে নতুন বছরের (২০২৬) জানুয়ারি মাসে মোট ক্রয় দাঁড়িয়েছে ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ক্রয় হয়েছে তিন হাজার ৫৪৬ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আগামী নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না জাতিসংঘ

আগামী নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না জাতিসংঘ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো এখন জাতিসংঘের কাজের অংশ নয় বলেও জানিয়েছে বৈশ্বিক সংস্থাটি। আজ জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, জাতিসংঘ নিজে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায় না, যদি না সাধারণ পরিষদ বা নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো ম্যান্ডেট থাকে। এটি এখন আর আমাদের কাজের অংশ নয়। তবে বাংলাদেশে জাতিসংঘের কার্যালয় নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ডুজারিক বলেন, নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ ধরনের কারিগরি সহায়তা জাতিসংঘ প্রায়ই দিয়ে থাকে। ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৭ বছর পর দেশে ফেরার বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে তার প্রত্যাবর্তন কীভাবে দেখা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, আমি খবরের মূল্যায়ন করি না। সাংবাদিকরাই খবরের মূল্যায়ন করেন। তবে বাংলাদেশের জনগণ যেন নিজেদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অবাধে প্রকাশ করতে পারে, সেই প্রক্রিয়াকে জাতিসংঘ সমর্থন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে স্রিস্টিফেন ডুজারিক বলেন, তার মৃত্যুতে আমরা তার পরিবারের প্রতি এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাচ্ছি।
রোজায় সংকট ঠেকাতে থাইল্যান্ড থেকে আসবে ১ কোটি ৩৫ লাখ লিটার সয়াবিন

রোজায় সংকট ঠেকাতে থাইল্যান্ড থেকে আসবে ১ কোটি ৩৫ লাখ লিটার সয়াবিন আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে থাইল্যান্ড থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) এ তেল কেনা হবে। এজন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গুদাম পর্যন্ত পৌঁছাতে সব ধরনের খরচ ধরে প্রতি লিটারে দাম পড়বে ১৬২ টাকা ৬৩ পয়সা। সয়াবিন তেলের পাশাপাশি টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকিমূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে খরচ হবে ৭১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আজ সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই তেল ও ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ডিপিএমে পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রমজান মাসে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট নিরসন, সরবরাহ বৃদ্ধি ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে জরুরি বিবেচনায় আন্তর্জাতিকভাবে ডিপিএমে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল কেনার জন্য থাইল্যান্ডের প্রাইম কর্প ওয়ার্ল্ড কোম্পানি লিমিটেডের কাছে দরপ্রস্তাব চাওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি তা দাখিল করে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) পরে প্রস্তাবটি পরীক্ষা করে যোগ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এরপর সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির দরাদরির মাধ্যমে সুপারিশ করা প্রাইম কর্প ওয়ার্ল্ড কোম্পানি লিমিটেডের কাছে থেকে উল্লেখিত পরিমাণ তেল ১৭৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৭ টাকায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুই লিটার পেট বোতলে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের মূল্য ধরা হয়েছে ১৩১ টাকা ৪৭ পয়সা। টিসিবির গুদাম পর্যন্ত অন্যান্য খরচসহ এই মূল্য হবে ১৬২ টাকা ৬৩ পয়সা। এই তেল খোলাবাজারে বর্তমানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে এবং কেনা দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করা হবে। এতে সরকারের কোনো ভর্তুকির প্রয়োজন হবে না। এদিকে, বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল (৫০ কেজির বস্তায়) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ৭১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকিমূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে মসুর ডাল কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে পাঁচটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। তার মধ্যে চারটি প্রস্তাব কারিগরি ও আর্থিকভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়। দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে যোগ্য সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের এম/এস পায়েল অটোমেটিক ফুড প্রসেসিং মিলসের কাছ থেকে উল্লেখিত পরিমাণ মসুর ডাল প্রতি কেজি ৭১ টাকা ৮৭ পয়সা হিসেবে মোট ৭১ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঢাকার সোনারগাঁও সিডস ক্রাশিং মিলস লিমিটেড থেকে ১৮০ টাকা ৮৫ পয়সা দরে ১ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার একটি প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। তবে প্রস্তাবটি পরে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
ব্রেড কাটলেট তৈরির সহজ রেসিপি

ব্রেড কাটলেট তৈরির সহজ রেসিপি শীতের বিকেলে মুখরোচক কিছু খেতে আমাদের সবারই ইচ্ছা করে। তবে বাইরে থেকে কিনে আনা পুরি কিংবা পিঁয়াজু আপনার কল্পনার থেকেও বেশি অস্বাস্থ্যকর হতে পারে। এ ধরনের খাবার যত কম খাওয়া যায়, ততই ভালো। তবে মাঝে মাঝে বাড়িতে তৈরি করে খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কম থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ব্রেড কাটলেট তৈরির সহজ রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে পাউরুটি- ৮ স্লাইস ডিম- ১টি ধনিয়া পাতা কুচি- পরিমাণমতো পেঁয়াজ কুচি- পরিমাণমতো কাঁচা মরিচ কুচি- পরিমাণমতো লবণ- পরিমাণমতো গরম মসলা গুঁড়া- ২ চা চামচ বেসন- সামান্য। যেভাবে তৈরি করবেন পাউরুটির টুকরাগুলোকে পানিতে ভিজিয়ে নরম করে নিন। এরপর পানি খুব ভালোভাবে চিপে ঝরিয়ে নিন। এখন একটি বাটিতে নরম করা পাউরুটির সঙ্গে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ধনিয়া পাতা কুচি দিন। গরম মসলা গুঁড়া ও ডিম ফেটিয়ে দিন। লবণ পরিমাণমতো দিন, সামান্য বেসন দিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। চুলায় প্যান বসিয়ে পরিমাণমতো তেল দিয়ে তাতে মিশ্রণ থেকে কাটলেটের আকৃতি দিয়ে মচমচে করে ভেজে তুলুন সুস্বাদু ব্রেড কাটলেট।
এক টুনা মাছের দাম ৩৯ কোটি টাকা!

এক টুনা মাছের দাম ৩৯ কোটি টাকা! জাপানের রাজধানী টোকিওর তোয়োসু মাছবাজারে একটি বিশাল ব্লুফিন টুনা মাছ ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বছরের প্রথম নিলামেই মাছটি রেকর্ড ৫১০ দশমিক ৩ মিলিয়ন ইয়েন বা ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৯ কোটি টাকায় বিক্রি হয়। ২৪৩ কেজি ওজনের টুনা মাছটি কিনে নিয়েছে কিয়োমুরা করপোরেশন। জনপ্রিয় সুশি চেইন ‘সুশি জানমাই’-এর পরিচালনাকারী এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা জাপানের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত। কোম্পানির প্রেসিডেন্ট কিয়োশি কিমুরা বলেন, “বছরের প্রথম টুনা সৌভাগ্য বয়ে আনে।” স্থানীয় বার্তা সংস্থা কিয়োডোর বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, নববর্ষের এই বার্ষিক নিলামে কিমুরা নিয়মিত মুখ। ‘টুনা কিং’ নামে পরিচিত কিমুরা নববর্ষের নিলামে সর্বোচ্চ দামে ব্লুফিন টুনা কেনার জন্য সুপরিচিত। নিলাম শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ভেবেছিলাম একটু কম দামে কিনতে পারব, কিন্তু বুঝে ওঠার আগেই দাম হু হু করে বেড়ে গেল।” এর আগে ২০১২ সালে তিনি একটি ব্লুফিন টুনার জন্য ৫৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইয়েন এবং ২০১৩ সালে ১৫৫ মিলিয়ন ইয়েন খরচ করে রেকর্ড গড়েছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি ৩৩৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ইয়েন দিয়ে আরেকটি ব্লুফিন টুনা কেনেন, সেটিও রেকর্ডবই তোলপাড় করে। তখন সাংবাদিকদের কিমুরা বলেছিলেন, তিনি হয়তো ‘অতিরিক্তই করে ফেলেছেন’। কিন্তু বছর ছয়েক পরে এসে তিনি নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙলেন। টোকিওর তোয়োসু মাছবাজারে বছরের প্রথম নিলামে সাধারণত রেকর্ড দামে মাছ বিক্রি হয়। গত বছর নিলামের প্রথম টুনাটি ২০৭ মিলিয়ন ইয়েনে কিনে নেয় আরেকটি সুশি চেইন প্রতিষ্ঠান অনোদেরা গ্রুপ। নিলাম শেষ হওয়ার পরপরই মিলিয়ন ডলারের টুনাটি কিমুরার সুশি রেস্তোরাঁগুলোতে গ্রাহকদের পরিবেশন করা হয়। কিমুরার রেস্তোরাঁয় উপস্থিত এক ক্রেতা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বছরের শুরুতে এমন কিছু খেতে পেরে আমার মনে হচ্ছে, বছরটা ভালোভাবেই শুরু হলো।” সূত্র: বিবিসি
হ্যাটট্রিক জয়ে শীর্ষে রংপুর রাইডার্স

হ্যাটট্রিক জয়ে শীর্ষে রংপুর রাইডার্স শেষ দিকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও খুশদিল শাহর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দুই দলের লড়াইয়ে ৫ উইকেটের জয় পেয়ে চট্টগ্রামকে সরিয়েই শীর্ষে উঠে গেছে রংপুর। গ্তকাল সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালস ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৬৯ রান। জবাবে রংপুর ৭ বল হাতে রেখে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। চট্টগ্রামের ইনিংসে ওপেনার অ্যাডাম রসিংটন টানা তৃতীয় ম্যাচে ফিফটি করেন। তিনি ৪১ বলে ৫৮ রান করেন। তার সঙ্গে হাসান নাওয়াজের জুটিতে আসে ৬১ বলে ৮২ রান। বিপিএল অভিষেকে নাওয়াজ খেলেন দারুণ এক ইনিংস, ৩৮ বলে ৪৬ রান। শেষদিকে আমির জামাল ১০ বলে ১৯ এবং শেখ মেহেদি হাসান ৭ বলে ১৩ রান যোগ করলে লড়াইয়ের পুঁজি পায় চট্টগ্রাম। রংপুরের রান তাড়া শুরু হয় আগ্রাসী ভঙ্গিতে। কাইল মায়ার্স শুরু থেকেই আক্রমণে যান। তৃতীয় ওভারের পর ফ্লাডলাইট সমস্যায় খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকলেও খেলা শুরু হতেই ভয়ংকর রূপ নেন এই ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। তিনি মাত্র ২৫ বলে ৫০ রান করে দলকে শক্ত ভিত এনে দেন। ডেভিড মালানের সঙ্গে তার জুটিতে ২৭ বলে আসে ৬১ রান। মালান পরে ৩০ বলে ৩০ রান করে আউট হলে ম্যাচে আবার চাপ বাড়ে রংপুরের ওপর। মায়ার্স ও মালান ফিরে যাওয়ার পর শেষ চার ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪১ রান। সেই চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আমির জামালের এক ওভারে তিনটি চার ও একটি ছক্কা মেরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন তিনি। পরের ওভারে খুশদিল শাহ শরিফুল ইসলামকে দুটি চার ও একটি ছক্কা মেরে জয়ের পথ সহজ করে দেন। মাহমুদুল্লাহ ১৯ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন, আর খুশদিল শাহ ১২ বলে ২২ রান করে আউট হন। ততক্ষণে জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে রংপুরের। এই জয়ের ফলে টানা তিন ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল রংপুর রাইডার্স, আর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হেরে শীর্ষস্থান হারাল চট্টগ্রাম রয়্যালস।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রস্তাব পেলেও ভারতে খেলতে নারাজ বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রস্তাব পেলেও ভারতে খেলতে নারাজ বাংলাদেশ আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিসিবি কঠোর অবস্থান নেওয়ায় বিপাকে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। মুস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যকার দ্বৈরথ এখন ভিন্ন মাত্রা নিয়েছে। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রশ্নে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরনের আর্থিক লোকসান পড়তে যাচ্ছে ভারত। কারণ বাংলাদেশ যদি ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যায়, তবে সম্প্রচার স্বত্ব ও টিকিট বিক্রিসহ বিভিন্ন খাত থেকে কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়বে আয়োজক দেশটি। এই সংকট নিরসনে নজিরবিহীন এক প্রস্তাব নিয়ে হাজির হতে যাচ্ছে ভারত। ভারত এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সাধারণত কোনো দেশের সরকারপ্রধানরা যে ধরনের নিচ্ছিদ্র প্রোটোকল ও নিরাপত্তা পান, টাইগারদের জন্য ঠিক সেই স্তরের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে চাইছে ভারত। ভারতের পক্ষ থেকে এমন নজিরবিহীন নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হলেও বিসিবির অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। জানা গেছে, আজই আইসিসির সাথে বিসিবির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে আইসিসির মাধ্যমেই ভারতকে এই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করতে পারে। বিসিসিআই আশা করছে, সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে হয়তো বিসিবি তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে। তবে এখন পর্যন্ত বিসিবি তাদের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে অনড় রয়েছে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের দল ভারতে নিরাপদ বোধ করছে না। আইপিএল থেকে মোস্তাফিজের মতো তারকা ক্রিকেটারকে যেভাবে অসম্মানজনক উপায়ে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাতে ক্রিকেটারদের মানসিক নিরাপত্তা ও সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করছে বোর্ড। এদিকে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধের যে সিদ্ধান্ত তথ্য মন্ত্রণালয় নিয়েছে তাকে পরোক্ষভাবে সমর্থন জানিয়েছে বিসিবি। বোর্ড সভাপতি পরিষ্কার জানিয়েছেন, আইসিসি থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পরই তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। তবে আপাতত ভারতের মাটিতে পা না রাখার বিষয়ে বিসিবির মনোভাব অত্যন্ত কঠোর। এখন দেখার বিষয়- ভারতের দেওয়া এই রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল এর প্রস্তাবে বিসিবির মন গলে কি না, নাকি টাইগারদের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কাতেই সরিয়ে নিতে হয়।
মুস্তাফিজের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে যা বলল আইপিএল কর্তৃপক্ষ

মুস্তাফিজের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে যা বলল আইপিএল কর্তৃপক্ষ আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। তবে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বাংলাদেশি এই পেসারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। চুক্তি বাতিল হলেও কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না মুস্তাফিজ, এর পেছনের কারণ হিসেবে আইপিএলের বিমা নীতির কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মুস্তাফিজের মতো একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, তিনি কোনো ইনজুরি বা শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে জড়িত নন, তিনি কেন পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন; এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ক্রিকেট অঙ্গনে। এ বিষয়ে পিটিআইকে আইপিএল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আইপিএলের সব খেলোয়াড়ের চুক্তি বিমাকৃত থাকলেও সেই বিমার আওতা সীমিত। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি ক্রিকেটাররা সাধারণত টুর্নামেন্ট চলাকালে বা ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর ইনজুরিতে পড়লে বিমা সুবিধা পান। সে ক্ষেত্রে বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে মুস্তাফিজের চুক্তি বাতিল হয়েছে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই এবং সেটিও রাজনৈতিক কারণে। ফলে এটি ইনজুরি বা ক্রিকেটীয় পারফরম্যান্সসংক্রান্ত কোনো বিষয় নয়। এই কারণেই বিমা কোম্পানি কিংবা কেকেআর, কোনো পক্ষেরই মুস্তাফিজকে অর্থ পরিশোধের আইনি বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছে সূত্রটি। আইনি লড়াইয়ের পথ খোলা থাকলেও সেটি অত্যন্ত জটিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, আইপিএল পরিচালিত হয় ভারতীয় আইনের আওতায়।
হেড-স্মিথের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার দাপট

হেড-স্মিথের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার দাপট সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অ্যাশেজের পঞ্চম টেস্টের তৃতীয় দিনে ট্র্যাভিস হেড ও স্টিভ স্মিথের ব্যাটে একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ইংল্যান্ড। জো রুটের ঝলমলে সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ রান করলেও, ২১৮ রানে পিছিয়ে থেকে খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়া দিন শেষে তুলে নেয় ৭ উইকেটে ৫১৮ রান। ফলে চতুর্থ দিনে ১৩৪ রানের লিড নিয়ে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। দিনের শুরুতে ২ উইকেটে ১৬৬ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ট্র্যাভিস হেড নাইটওয়াচম্যান মাইকেল নেসারের সঙ্গে গড়েন ৭২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। নেসার ৯০ বলে করেন ২৪ রান। পরে স্টিভ স্মিথের সঙ্গে দ্বিতীয় সেশনে আরও ৫৪ রান যোগ করেন হেড। ১৬৬ বলে ২৪ চার ও একটি ছক্কায় ১৬৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তিনি আউট হলেও তখন ম্যাচ পুরোপুরি অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণে। ইনিংসের দ্বিতীয় ভাগে দৃঢ়তা ও ধারাবাহিকতার প্রতীক হয়ে ওঠেন স্টিভ স্মিথ। ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে ৭১ এবং বেউ ওয়েবস্টারের সঙ্গে অপরাজিত ৮১ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন তিনি। ২০৫ বলে ১২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন স্মিথ, যা ছিল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩৭তম সেঞ্চুরি। এই ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া গড়েছে সাতটি পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি যা টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। মাঠে ইংল্যান্ডের দিনটি ছিল হতাশার; চারটি ক্যাচ ও একটি রানআউটের সুযোগ নষ্ট করে তারা। ম্যাথু পটস ২৫ ওভারে দেন রেকর্ড ১৪১ রান। ব্যক্তিগত কীর্তির দিক থেকেও দিনটি স্মরণীয় করে রাখেন হেড ও স্মিথ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় ডন ব্র্যাডম্যানের পরেই উঠে এসেছেন স্মিথ। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে অ্যাশেজে তিনটি সেঞ্চুরি করা প্রথম অস্ট্রেলীয় ওপেনার হিসেবে ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটান ট্র্যাভিস হেড। পাশাপাশি, ৯৬ বছর পুরোনো ব্র্যাডম্যানের দ্রুততম দেড়শ রানের একটি রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। সব মিলিয়ে, এসসিজির তৃতীয় দিনটি ছিল পুরোপুরি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটে, রেকর্ডে ও ম্যাচের গতিপথে।