শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে নতুন তথ্য দিল আবহাওয়া অফিস

শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে নতুন তথ্য দিল আবহাওয়া অফিস আজ আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের দেওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়, দেশের আট জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এসব অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। এ সময় রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামীকাল সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। এ সময় চলমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার পাশাপাশি নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বুধবার ১৪ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও সারা দেশে আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যান্য স্থানে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী ১৫ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। সে সময় রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ১৬ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ ছাড়া আগামী পাঁচ দিনের শেষের দিকে রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

মার্চে জাপান সফরে যাবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

মার্চে জাপান সফরে যাবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে জাপান সফরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবে গতকাল ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা এ কথা জানিয়েছেন। এনকারেজমেন্ট অব সোশ্যাল কন্ট্রিবিউশন (সামাজিক অবদান উৎসাহিতকরণ) ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছেন। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আকি আবে তার প্রয়াত স্বামী শিনজো আবের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার আন্তরিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। সাক্ষাতে তারা পারস্পরিক স্মৃতিচারণ করেন। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সাক্ষাতে আকি আবে আসন্ন নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রধান উপদেষ্টা কীভাবে সময় কাটাবেন, বিশেষ করে তার পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।জবাবে অধ্যাপক ইউনূস জানান, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তিনি মূলত তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রথমত ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করা হবে, যাতে দেশের নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের পরিবারের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য জানতে ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারেন—সে ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। দ্বিতীয়ত, তরুণদের উন্নয়ন ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত থাকবে বলে জানান ড. ইউনূস। তৃতীয়ত, এসডিজি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও তিনি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে জাপান সফরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ড. ইউনূস। সফরকালে সামুদ্রিক গবেষণা ও ওশান রিসার্চসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে।

আজ সন্ধ্যায় ঢাকায় আসছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আজ সন্ধ্যায় ঢাকায় আসছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আজ সন্ধ্যায় ঢাকায় আসছেন। ঢাকায় পৌঁছালে বিমানবন্দ‌রে নতুন রাষ্ট্রদূত‌কে স্বাগত জানা‌বেন মা‌র্কিন দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ের কর্মকর্তারা। সূত্র জানায়, চল‌তি সপ্তা‌হেই পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা মিশন শুরু করবেন ক্রিস্টেনসেন। আগামী দুই দিন পররাষ্ট্রস‌চিব আসাদ আলম সিয়াম ও রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের প্রধান নুরল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করে প‌রিচয়পত্র পে‌শের প্রস্তু‌তি নে‌বেন তিনি। আগামী ১৫ জানুয়া‌রি রাষ্ট্রপ‌তি মো. সাহাবু‌দ্দি‌নের কা‌ছে প‌রিচয়পত্র পেশ কর‌বেন। ঢাকায় আসার আগে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, যে দেশটির সঙ্গে আমি খুব ভালোভাবে পরিচিত, সেই বাংলাদেশে ফিরতে পেরে ভীষণ আনন্দিত। ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে আমেরিকান ও স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী দলের নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে এবং প্রতিদিন নিরলসভাবে কাজ করে আমেরিকাকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করে তুলতে আমি উচ্ছ্বসিত। উল্লেখ্য, ঢাকায় ১৮তম মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দিচ্ছেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি মোতায়েন থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি মোতায়েন থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে সারাদেশের সব ভোটকেন্দ্রে মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ দুপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোট কেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ লক্ষ্যে গত বছরের আগস্ট মাস থেকেই আনসার ও ভিডিপি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫৬ হাজার উপজেলা-থানা কোম্পানি আনসার, ২ লাখ ৫৫ হাজার ভিডিপি সদস্য এবং ৩ হাজারেরও অধিক আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যকে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে প্রায় সাড়ে চার লক্ষাধিক সদস্যকে STDMS সফটওয়্যারের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে ১ হাজার ১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি টিমে ১০ জন করে মোট ১১ হাজার ৯১০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যা সামগ্রিক নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও কার্যকর করবে।

দেশে বন্ধ হয়েছে ৮৮ লাখের বেশি সিম

দেশে বন্ধ হয়েছে ৮৮ লাখের বেশি সিম দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা দিতে গ্রাহকপ্রতি ১০টির বেশি সিমকার্ড বাতিল করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এতে দেশের ৮৮ লাখেরও বেশি সিমকার্ড বন্ধ হয়েছে। আরো ১ লাখ সিম মামলাসংক্রান্ত কারণে আটকে রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মোবাইল ব্যবহারকারী ও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে। কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে গ্রাহক। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিমের সংখ্যা ৫ টিতে নামিয়ে আনা হলে এ খাতে আরো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, দেশের ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে গ্রাহকের কাছে থাকা সিমকার্ড কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নভেম্বর থেকে গ্রাহকের বিপরীতে ১০টির বেশি সিম বন্ধ করে দেয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সিমের সংখ্যা পাঁচটিতে নামিয়ে আনতে বিটিআরসিকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে গ্রাহকদের অসন্তোষ ও আন্দোলনের কারণে তা এখনই বন্ধ করা হবে না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। টেলিযোগাযোগ সংস্থাটির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের নির্দেশনা ছিল গ্রাহকপ্রতি ১০টি সিমে নামিয়ে আনা। এতে প্রায় ৮৯ লাখ অতিরিক্ত সিম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৮৮ লাখের বেশি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাকি এক লাখ সিম ভিআইপিসহ বিভিন্ন মামলা চলমান থাকায় স্থগিত করা হয়েছে। তবে দ্রুতই সেগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা ছিল সিম সংখ্যা পাঁচটিতে নামিয়ে আনার। কিন্তু সামনে যেহেতু নির্বাচন এবং ৬ থেকে ১০টি সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেশি, তাই সেটি আমরা এখনই করছি না। নির্বাচনের পর পাঁচটিতে নামিয়ে আনতে কাজ করব।’ এদিকে সিমের সংখ্যা কমিয়ে আনার ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মোবাইল গ্রাহক ও ইন্টারনেট ব্যবহারে। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু ও সিম বন্ধের ফলে গত ছয় মাসে কমেছে প্রায় ১৮ লাখের বেশি মোবাইল গ্রাহক ও ৬২ দশমিক ৬ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ে দেশের চারটি সিম অপারেটরের বিপরীতে ১৯ কোটি ৪২ লাখ মোবাইল ব্যবহারকারী ছিল। এর এক বছর পর অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সে সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৮৭ লাখ এবং বর্তমানে (নভেম্বর-২৫) সে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৭০ লাখে। গত ছয় মাসে ধারাবাহিকভাবে কমছে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা। দেশে ধারাবাহিকভাবে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের কড়াকড়ি, সিম কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত, মোবাইল ইন্টারনেটের মূল্যবৃদ্ধি ও ব্রডব্যান্ডের সহজলভ্যতা। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সিমকার্ড ১০টিতে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে খুব বেশি প্রভাব পড়ার কথা নয়। তবে পাঁচটিতে নামিয়ে আনলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বাজারের ওপর। তখন রাজস্ব ও অন্যান্য খাতে প্রভাব পড়বে।’

অ্যান্টার্কটিকায় শত শত অস্বাভাবিক ভূমিকম্পের সন্ধান

অ্যান্টার্কটিকায় শত শত অস্বাভাবিক ভূমিকম্পের সন্ধান অ্যান্টার্কটিকার থুইটস গ্লেসিয়ারে, (ডুমসডে গ্লেসিয়ার’ নামে পরিচিত) গত এক দশকের বেশি সময় ধরে শত শত অস্বাভাবিক ভূমিকম্প শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই গ্লেসিয়ারে ঘটে যাওয়া এসব ভূমিকম্প ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স-এ। এতে বলা হয়, এই ভূমিকম্পগুলো সাধারণ ভূমিকম্পের মতো নয়। এগুলো সৃষ্টি হয় যখন লম্বা ও সরু বিশাল বরফখণ্ড গ্লেসিয়ার থেকে ভেঙে সাগরে পড়ে উল্টে যায়। এতে কম-ফ্রিকোয়েন্সির (নিম্ন কম্পাঙ্কের) কম্পন তৈরি হয়, যাকে বলা হয় গ্লেশিয়াল ভূমিকম্প। গবেষণার প্রধান লেখক, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভূ-পদার্থবিদ্যা বিভাগের গবেষক থ্যান-সন ফাম জানান, অ্যান্টার্কটিকায় স্থাপিত ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ব্যবহার করে তিনি থুইটস ও পাইন আইল্যান্ড গ্লেসিয়ারের কাছে মোট ৩৬০টির বেশি গ্লেশিয়াল ভূমিকম্প শনাক্ত করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ২৪৫টি ঘটনা ঘটেছে থুইটস গ্লেসিয়ারের সাগরমুখী প্রান্তে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এসব ভূমিকম্প মূলত বরফখণ্ড উল্টে যাওয়ার ফল। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এসব ভূমিকম্পের সঙ্গে গ্লেসিয়ারের দ্রুতগতির প্রবাহের মিল পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, সাগরের পরিস্থিতি (যেমন উষ্ণ পানি) গ্লেসিয়ারের আচরণে প্রভাব ফেলছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, যদি থুইটস গ্লেসিয়ার পুরোপুরি ধসে পড়ে, তাহলে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় তিন মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তাই এই গ্লেশিয়াল ভূমিকম্পগুলো বোঝা গেলে ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধির ঝুঁকি ও গ্লেসিয়ারের অস্থিতিশীলতা আরও ভালোভাবে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে।

নিউজিল্যান্ডে তিমি ট্র্যাজেডি, সমুদ্র সৈকতে মারা গেল ৬টি

নিউজিল্যান্ডে তিমি ট্র্যাজেডি, সমুদ্র সৈকতে মারা গেল ৬টি নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের এক প্রত্যন্ত উপকূলে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে ফেয়ারওয়েল স্পিট এলাকায় আটকা পড়ে ছয়টি পাইলট তিমির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ওই এলাকায় প্রায় ৫৫টি পাইলট তিমি ভেসে আসে। এর মধ্যে বেশিরভাগ তিমি সমুদ্রে ফিরে যেতে সক্ষম হলেও ১৫টি তিমি সৈকতে আটকে পড়ে। আটকে থাকা তিমিগুলো বর্তমানে সৈকতের প্রায় এক কিলোমিটার (০.৬ মাইল) এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে। আটকে পড়া ওই ১৫টি তিমি জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকর্মীরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিমিগুলোকে আবার সমুদ্রে ফিরিয়ে নিতে। সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের নিয়ে কাজ করা একটি অলাভজনক সংস্থা প্রজেক্ট জোনার একটি ভিডিওতে স্বেচ্ছাসেবকরা তিমিগুলোকে ঠান্ডা রাখার জন্য তাদের ওপর পানি ঢালতে দেখা যায়। প্রজেক্ট জোনার লুইসা হকস বলেন, যখন জোয়ার আসবে, তখন আমাদের এই তিমিগুলোকে একত্রিত করার জন্য খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তারপর তাদের আরো গভীর জলে সরিয়ে নিতে হবে। পাইলট তিমি অত্যন্ত সামাজিক প্রাণী এবং একে অপরের খোঁজখবর নেওয়ার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি তাদের রয়েছে। হকস বলেন, স্বেচ্ছাসেবকরা ১৫টি আটকে পড়া তিমিকে আবার একত্রিত করার আশা করছেন, যাতে তারা একে অপরের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হতে এবং একসঙ্গে সাঁতার কাটতে পারে। দক্ষিণ দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম অংশে ফেয়ারওয়েল স্পিট নামে একটি জায়গায় প্রায়ই অনেক তিমি আটকে পড়ে। সংরক্ষণ বিভাগ বলছে, এটি লম্বা পাখনাযুক্ত তিমিদের চলাচলের পথের মধ্যে পড়ায় জায়গাটি এক ধরনের প্রাকৃতিক ‘তিমি ফাঁদ’। এখানে পানির গভীরতা ধীরে ধীরে কমে যায় এবং হঠাৎ জোয়ার নেমে যায়। তাই তিমিরা সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে আটকে পড়ে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে, এই জায়গায় ৪০০টির বেশি লম্বা পাখনাযুক্ত পাইলট তিমি আটকে পড়েছিল। এটি ছিল গত ১০০ বছরের মধ্যে নিউজিল্যান্ডে সবচেয়ে বড় তিমি আটকে পড়ার ঘটনা। সূত্র : বিবিসি।

খোসাসহ পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা

খোসাসহ পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা পেয়ারা হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় ফলের মধ্যে একটি। টক-মিষ্টি স্বাদের জন্য এটি দিয়ে জুস, জ্যাম, স্মুদি ইত্যাদি তৈরি করা যেতে পারে। সেইসঙ্গে এটি কাঁচাও খাওয়া যায়। পুষ্টিগুণে ভরপুর পেয়ারা একটি সুপারফ্রুট হিসেবে সমাদৃত যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হজমে সহায়তা করে। কিন্তু পেয়ারা খাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় একটি প্রশ্ন জাগে, খোসা সহ খাওয়া উচিত নাকি ছাড়া? পেয়ারার খোসা অতিরিক্ত উপকারিতা যোগ করে নাকি স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করে? বিশেষজ্ঞদের মতে, খোসাসহ পেয়ারা খেলে পটাসিয়াম, জিঙ্ক এবং ভিটামিন সি এর মতো অতিরিক্ত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাওয়া যায়, যা ত্বকের গঠন এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে যদি আপনার উচ্চ কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে খোসা এড়িয়ে চলাই ভালো। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পেয়ারা খোসাসহ খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা এবং লিপিড প্রোফাইল খারাপ হতে পারে। তাই যাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি বা কোলেস্টেরল বেশি, তাদের জন্য খোসা ছাড়া পেয়ারা নিরাপদ। জেনে নিন পেয়ারার কিছু উপকারিতা সম্পর্কে- ১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ পেয়ারা ভিটামিন সি এর অন্যতম সমৃদ্ধ উৎস, এমনকী কমলাকেও ছাড়িয়ে যায়। এই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে, সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং সাধারণ সর্দি-কাশি প্রতিরোধে সাহায্য করে। একটি মাত্র পেয়ারা আপনার প্রতিদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদার চেয়েও বেশি সরবরাহ করতে পারে। ২. উন্নত হজমের জন্য উচ্চ ফাইবার ডায়েটারি ফাইবার সমৃদ্ধ পেয়ারা স্বাস্থ্যকর হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকারীদের জন্য পেয়ারাকে একটি চমৎকার পছন্দ, বিশেষ করে যখন খোসা ছাড়া খাওয়া হয়। ৩. ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পেয়ারায় লাইকোপিন এবং ভিটামিন এ এর ​​মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ফ্রি র‍্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং বার্ধক্য কমিয়ে দেয়। নিয়মিত পেয়ারা খেলে তা ত্বকের গঠন উন্নত করে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা দেয়, যা এটিকে একটি সৌন্দর্য-বান্ধব ফল করে তোলে। ৪. হৃদযন্ত্রের জন্য সহায়ক পেয়ারায় থাকা পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ সুস্থ রাখতে এবং হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত পেয়ারা খেলে তা রক্তচাপ হ্রাস করে এবং লিপিড প্রোফাইল উন্নত করে।

জেনে নিন ফিশ স্ট্রিপস তৈরির রেসিপি 

জেনে নিন ফিশ স্ট্রিপস তৈরির রেসিপি  বাড়িতে থাকা যেকোনো বড় মাছ দিয়ে খুব সহজেই তৈরি করা যায় সুস্বাদু ফিশ স্ট্রিপস। আপনি নিশ্চয়ই এর আগে রেস্টেুরেন্টে গিয়ে এ ধরনের খাবার কিনে খেয়েছেন। তাতে একগাদা পয়সা তো খরচ হয়ই, সেইসঙ্গে অস্বাস্থ্যকর হওয়ারও ভয় থাকে। তাই রেসিপি জেনে নিয়ে বাড়িতে তৈরি করে খাওয়াই উত্তম। চলুন জেনে নেওয়া যাক ফিশ স্ট্রিপস তৈরির সহজ রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে কাঁটা ছাড়া যেকোনো বড় মাছের টুকরা- আধা কেজি ডিম- ১টি কাঁচা মরিচ কুচি- ১ চা চামচ গোল মরিচের গুঁড়া- ১/২ চা চামচ লেবুর রস- ১ চা চামচ রসুন বাটা- ২ চা চামচ টমেটো কেচাপ- ১ চা চামচ লবণ- স্বাদমতো চিলি সস- ১ চা চামচ কর্নফ্লাওয়ার- ২ টেবিল চামচ ব্রেডক্রাম্ব বা টোস্ট বিস্কুটের গুঁড়ো- ১ কাপ তেল- ভাজার জন্য। যেভাবে তৈরি করবেন মাছের ফিলে ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে পছন্দমতো মাপে টুকরা করে নিন। এবার এক এক করে লেবুর রস, চিলি সস, টমেটো কেচাপ, রসুন বাটা, গোল মরিচের গুঁড়া, কাঁচা মরিচ কুচি, সামান্য লবণ একসঙ্গে মিশিয়ে মাছের টুকরাগুলো মেরিনেট করে নিন। ডিম ফেটিয়ে নিয়ে তাতে কর্নফ্লাওয়ার মেশান। এই মিশ্রণে সামান্য লবণও যোগ করুন। কর্নফ্লাওয়ার না থাকলে বেসন ব্যবহার করতে পারেন। একটি প্যানে তেল গরম করতে দিন। তেল গরম হতে হতে মেরিনেটেড ফিশ স্ট্রিপস প্রথমে এগ ওয়াশ করে এরপর ব্রেডক্রাম্ব দিয়ে কোট করুন। ব্রেডক্রাম্ব না থাকলে টোস্ট বিস্কুটের গুঁড়া ব্যবহার করতে পারেন। ডুবো তেলে স্ট্রিপস ভেজে নিন। সোনালি হয়ে এলে নামিয়ে পছন্দসই সসের সঙ্গে দিয়ে পরিবেশন করুন।

বিশ্বকাপের আগে টিকটকারদের দারুণ খবর দিলো ফিফা

বিশ্বকাপের আগে টিকটকারদের দারুণ খবর দিলো ফিফা আগামী ১৯ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে হবে বিশ্বকাপ। ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্ট ঘিরে সরব থাকবে সোশ্যাল মিডিয়া। তবে টিকটক থাকবে একটি বিশেষ অবস্থানে। বিশ্বকাপে সোশ্যাল মিডিয়া পার্টনার হিসেবে এটিকে প্রথম ‘পছন্দসই ভিডিও প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা। এবারের বিশ্বকাপে টিকটকের কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা বিশেষ অ্যাকসেস পাবেন। ফিফা বলেছে, বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বাধিকারীরা টিকটক অ্যাপের ডেডিকেটেড হাবে থাকা ১০৪ ম্যাচের বিভিন্ন অংশ লাইভস্ট্রিম করতে পারবে। টুইটারে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ কোটির বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। ফিফা বলেছে, ‘কন্টেন্ট ক্রিকেটরদের বৃহৎ অংশ ফিফার আর্কাইভাল ফুটেজ ব্যবহার ও নতুন করে তৈরি করতে পারবে।’ ফিফা ভক্তদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এবারের আসরে ভক্তরা পর্দার আড়ালের ও মাঠের ভেতরের এমন দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে বাছাই করা ভক্তদের জন্য টিকটক ইন অ্যাপের পক্ষ থেকে থাকবে কাস্টম স্টিকার, ফিল্টার্স ও গেমিফিকেশন ফিচারস। টিকটক বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ডাউনলোডেড অ্যাপ। যদিও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।