চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফটোসেশনে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফটোসেশনে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে বাংলাদেশ প্রথমে উড়াল দিবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে। শুক্রবার ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ দেশ ছাড়বে টাইগাররা। এর আগে আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে অফিশিয়াল ফটোসেশনে অংশ নেয় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। আইসিসির বৈশ্বিক আসর গুলোর আগে, যে কোন দলের ফটোসেশন একটা আনুষ্ঠানিকতার অংশ। তবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সেই চর্চার ধারাবাহিকতা ছিল না। এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্লেন ধরার আগে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়েই ফটোসেশন পর্ব সারল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ১৯ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান-নিউ জিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ফাইনাল হবে ৯ মার্চ করাচিতে, ভারত ফাইনালে গেলে দুবাইয়ে। বাংলাদেশ মাঠে নামবে টুর্নামেন্ট শুরুর দ্বিতীয় দিনে। বাংলাদেশ খেলবে ‘এ’ গ্রুপে। ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে লড়বে ভারতের বিপক্ষে, দুবাইয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচ ২৪ ফেব্রুয়ারি, লাহোরে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। বাংলাদেশ দল: নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম, তাওহীদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, জাকের আলী অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, পারভেজ হোসেন ইমন, নাসুম আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব ও নাহিদ রানা।
এআই খাতে প্রতিবছর ১০ হাজার দক্ষ কর্মী তৈরি করবে দ. কোরিয়া

এআই খাতে প্রতিবছর ১০ হাজার দক্ষ কর্মী তৈরি করবে দ. কোরিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিল্পের উন্নয়নের জন্য আজ নতুন কৌশল ঘোষণা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। সরকারের এই নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য হলো—প্রতিবছর ১০ হাজার দক্ষ এআই বিশেষজ্ঞ তৈরি করা। এর পাশাপাশি আধুনিক এআই প্রযুক্তিনির্ভর শহর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটির সরকার, যেখানে কাজ, জীবনযাপন এবং বিনোদন একসঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ থাকবে। সিওল শহরের দক্ষিণে কেওএক্স কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এআই সম্মেলনে এই কৌশলগুলোর ঘোষণা দেন মেয়র ও সেও-হুন। এআই প্রযুক্তি শক্তিশালীকরণের জন্য সাতটি মূল উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—প্রতিভা তৈরি, পরিকাঠামো নির্মাণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা এবং বিশ্বায়ন। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়াকে বিশ্বের দ্বিতীয় শ্রেণির এআই দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বোস্টন কনসালটিং গ্রুপ। যেখানে কানাডা, চীন, সিঙ্গাপুর, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে কোরিয়ায় একটি সংকটের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। সিউল শহর সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা প্রতিবছর ১০ হাজার এআই প্রযুক্তি দক্ষ কর্মী তৈরি করবে, যার মধ্যে ৪ হাজার জন সিউল সফটওয়্যার একাডেমি থেকে এবং ৬ হাজার জন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষণ নেবেন। এআই-সম্পর্কিত মাস্টার্স ডিগ্রি প্রোগ্রাম সম্পন্ন করার জন্য আগামী বছর থেকে সরকার ৬০ জনকে ৬০০ মিলিয়ন ওন (৪ লাখ ১৩ হাজার ডলার) মূল্যমানের নতুন বৃত্তি চালু করবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে দক্ষিণ সিউলের ইয়াংজায়ে এআই উদ্ভাবন তথাকথিত ‘সিউল এআই টেক সিটি’ তৈরি করা হবে। এই প্রযুক্তি শহরের নির্মাণকাজ শুরু হবে ২০২৮ সালে এবং এখানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট স্কুল, বিশ্বমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক ও আবাসিক স্থান থাকবে। এ ছাড়া, এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আগামী বছর ৫০০ বিলিয়ন ওন মূল্যের একটি এআই তহবিল গঠন করা হবে।
বরখাস্ত হলেন ইউএসএআইডির মহাপরিদর্শক

বরখাস্ত হলেন ইউএসএআইডির মহাপরিদর্শক যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির মহাপরিদর্শক পল মার্টিনকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ইউএসএআইডির এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, পল মার্টিনকে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি জানিয়ে তাকে একটি ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। বরখাস্ত করার কোনো কারণ জানানো হয়নি। ইউএসএআইডির মহাপরিদর্শক দপ্তর ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের এক দিন পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নানা পদক্ষেপ ইউএসএআইডির কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে এবং সংস্থাটি প্রায় ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের অব্যয়িত সহায়তার সঠিক তদারকি করতে পারছে না। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় বসেই ইউএসএআইডির ওপর চড়াও হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বন্ধ করে দেন বিভিন্ন দেশে ইউএসআইডির পক্ষে দেওয়া সহায়তা। পাশাপাশি কর্মীদের বরখাস্ত করে ভেঙে দিতে চান সংস্থাটি। পল মার্টিন ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দায়িত্ব পালনের প্রথম সপ্তাহে এক ডজনেরও বেশি ফেডারেল সংস্থার মহাপরিদর্শকদের বরখাস্ত করলেও ইউএসএআইডির পদে পলের নিয়োগ বহাল ছিল। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ইউএসএআইডি মহাপরিদর্শকের অফিসের কর্মীদেরও জানানো হয়েছে, তাদের আর অফিসে প্রবেশাধিকার নেই। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ইউএসএআইডকে ‘অযোগ্য এবং দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে অভিহিত করেন ট্রাম্প। সেসময় তিনি সংস্থাটির বিস্তৃতি কমিয়ে আনার দায়িত্ব দেন ধনকুবের ইলন মাস্ককে। বিশ্ব জুড়ে ইউএসএআইডির ১০ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছে। ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ৬০০ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আয়নাঘরের বিভিন্ন ভার্সন দেশজুড়ে রয়েছে: প্রধান উপদেষ্টা

আয়নাঘরের বিভিন্ন ভার্সন দেশজুড়ে রয়েছে: প্রধান উপদেষ্টা শুধু ঢাকাতে নয়, আয়নাঘরের মতো টর্চার সেলের বিভিন্ন ভার্সন দেশজুড়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আজ দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও, কচুক্ষেত ও উত্তরা এলাকায় তিনটি স্থান পরিদর্শন করেন সরকারপ্রধান। সেই নির্যাতন থেকে বেঁচে ফিরে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী আর সাংবাদিকরা এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন। আয়নাঘর পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের অধ্যাপক ইউনূস সাংবাদিকদের বলেন, “বীভৎস দৃশ্য। নৃশংস জিনিস হয়েছে এখানে।’ তিনি বলেন, ‘যতটাই শুনি মনে হয়, অবিশ্বাস্য, এটা কি আমাদেরই জগৎ, আমাদের সমাজ? যাঁরা নিগৃহীত হয়েছেন, তাঁরাও আমাদের সমাজেই আছেন। তাঁদের মুখ থেকে শুনলাম। কী হয়েছে, কোনো ব্যাখ্যা নেই।” তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের বিনা কারণে, বিনা দোষে উঠিয়ে আনা হতো। সন্ত্রাসী বা জঙ্গি বলে এখানে ঢুকিয়ে রাখা হতো। তিনি বলেন, ‘এই রকম টর্চার সেল (নির্যাতনকেন্দ্র) সারা দেশে আছে। ধারণা ছিল, এখানে কয়েকটা আছে। এখন শুনছি বিভিন্ন ভার্সনে (সংস্করণে) দেশজুড়ে আছে। সংখ্যাও নিরূপণ করা যায়নি।” আয়নাঘরের সংখ্যার বিষয়ে তিনি বলেন, “কেউ বলে ৭০০, কেউ বলে ৮০০। সংখ্যা নিরূপণ করা যায়নি, যে কতটা আছে। কতটা জানা আছে, কতটা অজানা রয়ে গেছে। গত সরকার আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের নমুনা সৃষ্টি করে গেছে সর্বক্ষেত্রে। এটা তার একটা নমুনা। যারা এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের সবার বিচার করা হবে।” এ সময় তিনি গুম সম্পর্কিত তদন্ত কমিশনকে ধন্যবাদ দেন সঠিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করার জন্য। তিনি জানান, মানুষের সামান্যতম অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে কমিশনের প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে। জাতির জন্য যা চূড়ান্ত রকমের ডকুমেন্ট হবে। সাড়ে ১৭০০ প্লাস এমন ভূক্তভোগি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “অজানা কতজন রয়েছে তার ঠিক নেই। কিছু মানুষ উধাও হয়ে গেছে।” গুমের শিকার বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ক্ষতিপূরণের হিসাব আমরা দেখিনি। আমার দেখছি তার ন্যায়বিচারটা যাতে হয়। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা থেকে সে যেন মুক্তি পায়। তারপর দেখা যাবে কী করা যেতে পারে।” প্রধান উপদেষ্টার প্রেস অফিস থেকে জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টাকে ঢাকার আগারগাঁওয়ের একটি নির্যাতনকেন্দ্রে ব্যবহৃত একটি বৈদ্যুতিক চেয়ার দেখানো হয়। একজন গুমের শিকার ব্যক্তি কচুক্ষেত এলাকায় প্রধান উপদেষ্টাকে নির্যাতন সেলের দেয়াল দেখান। প্রধান উপদেষ্টা গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ‘গুমের’ ঘটনা তদন্তে গত ২৭ অগাস্ট অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এ কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ১৪ ডিসেম্বর কমিশন অন্তর্বর্তী একটি প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়। পরদিন এ প্রতিবেদনের কিছু অংশ প্রকাশও করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৪০০ জনেরও বেশি মানুষ হত্যা করা হয়েছে: জাতিসংঘ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৪০০ জনেরও বেশি মানুষ হত্যা করা হয়েছে: জাতিসংঘ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এতে বলা হয়েছে, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১৪০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ সময় আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। আহতরা বাংলাদেশের নিরাপত্তাবাহিনীসমূহের দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর সংখ্যা জানিয়েছে জাতিসংঘ। আজ জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত অফিসে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১২-১৩ শতাংশ ছিল শিশু। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে যে, তাদের ৪৪ জন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।প্রতিবেদনে জাতিসংঘ আরো বলেছে, বাংলাদেশের সাবেক সরকার এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গত বছর ছাত্রদের বিক্ষোভের দমনে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। বিক্ষোভ দমনে নৃশংসতা, পদ্ধতিগত নিপীড়নের তথ্য এবং গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের আহ্বানো হয়েছে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, “এই নৃশংস প্রতিক্রিয়া ছিল সাবেক সরকারের একটি পরিকল্পিত এবং সমন্বিত কৌশল, যা জনতার বিরোধিতার মুখে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিল।বিক্ষোভ দমনের কৌশলের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জ্ঞাতসারে নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক এবং নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “আমরা যে সাক্ষ্য এবং প্রমাণ সংগ্রহ করেছি তা ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সহিংসতা এবং লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর এবং যা আন্তর্জাতিক অপরাধও গঠন করতে পারে। জাতীয় নিরাময় এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য দায়বদ্ধতা এবং ন্যায়বিচার অপরিহার্য।”
আগামী সংসদ নির্বাচনে ২৮০০ কোটি টাকা চায় ইসি

আগামী সংসদ নির্বাচনে ২৮০০ কোটি টাকা চায় ইসি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ও আইন শৃঙ্খলা খাতে ব্যয় প্রায় ২৮০০ কোটি চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ ইসির অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে ২৭৯৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা চেয়েছি সংসদ নির্বাচনের জন্য। আমাদের এটা প্রাথমিক চাহিদা থাকলেও তা যাচাই-বাছাই করা হবে এবং ইসি সচিবালয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর পূর্ণাঙ্গ একটা পরিমাণ চূড়ান্ত হবে। ইসির অতিরিক্ত সচিব বলেন, জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য আরও খাত রয়েছে। জানা গেছে, নির্বাচন খাতে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন জন্য ৫ হাজার ৯২১ কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার টাকা সরকারের কাছে চেয়েছে ইসি। ভোটার লিস্ট প্রস্তুত, জাতীয় পরিচয়পত্র মুদ্রণ ও বিতরণের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬৯ কোটি ২৫ লাখ ০৫ হাজার টাকা, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭০ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৭৩ কোটি ৪৪ লাখ ১৬ হাজার টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭০ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩৩ কোটি ৫৮ লক্ষ ৭১ হাজার এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৪০ কোটি ৭৯ লাখ ৪৭ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। আগের নির্বাচনগুলোতো যত ব্যয়- ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ২৭৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০০ কোটি টাকা, ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে প্রায় ২৬৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম সংসদ নির্বাচনে দ ১৬৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। এছাড়া অষ্টম সংসদ নির্বাচনে মোট ব্যয় হয়েছে ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা, সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ১১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার মতো, ষষ্ঠ জাতীয় নির্বাচনে ৩৭ কোটি, পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা, দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যয় হয় ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা ও প্রথম সংসদ নির্বাচনে ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিল।
জুলাই অভ্যুত্থানের নৃশংসতা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন আগামীকাল

জুলাই অভ্যুত্থানের নৃশংসতা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন আগামীকাল জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান চলাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন আগামীকাল তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। আজ জেনেভার জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জেনেভার জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় এর আগে সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছিল আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। তবে মঙ্গলবার পুনরায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করে একদিন এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত আন্দোলনের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর গত ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ককে গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে তদন্ত করার জন্য একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন পাঠানোর অনুরোধ করে বাংলাদেশ সরকার। গত বছরের আগস্টে জাতিসংঘের প্রাক-তদন্ত দল ঢাকা আসে। আর সেপ্টেম্বরে মূল তদন্ত কাজ শুরু হয়। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন গত ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করেছে। বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় এ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
শাকিব খানের পরিশ্রম অনুপ্রেরণা দিয়েছে: প্রভা

শাকিব খানের পরিশ্রম অনুপ্রেরণা দিয়েছে: প্রভা ‘‘আমি শাকিব খানের সঙ্গে একটা ফটোশুট করেছিলাম। উনি এত গুড লুকিং সামনাসামনি দেখতে! আমি তাকে বলেছিলাম ‘আপনি অনেক সুন্দর।’’-কথাগুলো বলেছেন আলোচিত অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এসেছেন প্রভা। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন তিনি। এই আয়োজনের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এই অভিনেত্রী। সেখানে তিনি ঢালিউড সুপারস্টারকে নিয়ে কথা বলেন। শাকিব খানের কাজ সেভাবে না দেখলেও সম্প্রতি পরপর তিনটি সিনেমা দেখেছেন প্রভা। বিষয়টি জানিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি পরপর তিনবার তার সিনেমা দেখেছি। এরপর আমি উনার ভক্ত হয়ে গেছি। কারণ তার পরিশ্রমটা আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। তুফান অবশ্যই, রাজকুমার দেখে মনে হয়েছে প্রচুর পরিশ্রম করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই ছোট পর্দায় অভিনয় করছেন প্রভা। তার সমসাময়িক অনেকেই সিনেমায় কাজ করেছেন। এতদিনেও বড় পর্দায় কাজ না করার কারণ জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, সত্যি কথা বলতে আমার মনে হয়- সিনেমায় আমার ভাগ্য সহায় হয় না। যখন ব্যাটে-বলে মিলে যায় তারপর কেন জানি কাজটা আর হয় না। এভাবেই আমার পুরো জীবনটা গেছে। এখন আর তাই বলি না সিনেমা করব, যদি করি তখন তখন বলব। অভিনয়ের পাশাপাশি মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন প্রভা। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ‘দ্য মেকআপ একাডেমি’ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজও করছেন তিনি। তবে অভিনয়কে জীবনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান তিনি। প্রভা বলেন, আমার ফার্স্ট ভালোবাসা অবশ্যই অভিনয়। যে কোনও ক্রিয়েটিভ কিছু আমার পছন্দ। আমি মেকআপ আর্টিস্ট এই মুহূর্তে। যে কোন মানুষকে দেখলে কথা বলার সময় তার স্ক্রিন দেখতে থাকি, কেমন। তার কোন সেডটা ভালো সেটা সারাক্ষণ মাথার মধ্যে ঘুরে। পর্দায় তারকাদের ঝলমলে জীবন উঠে আসলেও, ক্যামেরার পেছনে কষ্ট কম নয়। বিষয়টি তুলে ধরে প্রভা বলেন, আমি আমাদের কাজটাকে বলি, ‘নাইন টু ফরএভার জব’। কারণ নয়টার সময় শুটিংয়ে গেলে কখন বাসায় আসবেন তার গ্যারান্টি নাই। যারা বাইরে থেকে দেখে তারা ভাবে- এটা বিলাসবহুল জীবন! কোন কষ্ট নাই, শুধু মেকআপ দাও আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কিছু একটা কার্যক্রম করো। কিন্তু এটা অনেক কষ্টের এবং ধৈর্যের একটা কাজ। যখনই কষ্টের মূল্যায়ন করা হয় তখন আর একটু অনুপ্রাণিত হওয়া যায়। চলছে ভ্যালেন্টাইন উইক। এ কারণে ভালোবাসা নিয়েও কথা বলেন প্রভা। তার মতে ভালোবাসার সংজ্ঞা, যে মানুষটাকে আমি ভালোবাসবো তার প্রতি যথেষ্ট পরিমাণ সম্মান আর বিশ্বাস থাকবে।
জীবন মৃত্যু’র সন্ধিক্ষণে ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের শিল্পী

জীবন মৃত্যু’র সন্ধিক্ষণে ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের শিল্পী জীবন মৃত্যু’র সন্ধিক্ষণে ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়, বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সংগীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। বর্তমানে হাসপাতালে ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিটে (আইটিইউ) চিকিৎসা চলছে তার। গেল কয়েক সপ্তাহ ধরেই এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ‘আমি বাংলায় গান গাই’র স্রষ্টা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্ত্রের অপারেশনের পর হার্ট অ্যাটাক হয় গায়ক প্রতুলের। পরে দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এসএসকেএম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অবচেতন অবস্থায় আছেন এ গায়ক। নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। আর সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তার খোঁজ নেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার নির্দেশে রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও ইন্দ্রনীল সেন হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নেন। ইতোমধ্যেই প্রতুলের চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড থেকে সোমবার রাতেও জানানো হয়েছে, আইটিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রখ্যাত গায়ক। কয়েকদিন আগেও হাসপাতালের বিছানা থেকে চিকিৎসকদের ‘আমি বাংলার গান গাই’ গেয়ে শোনান প্রতুল। সপ্তাহখানেক আগে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, হার্ট অ্যাটাকও হয়। পরে কার্ডিওলজি বিভাগে স্থানান্তর করা হয় তাকে। এ সময় ফুসফুসের সমস্যা শনাক্ত হয়। সেই সংক্রমণ ব্যাকটেরিয়া না ভাইরাস থেকে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। প্রসঙ্গত, ১৯৪২ সালের ২৫ জুন অবিভক্ত বাংলার বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন প্রতুল। বাবা প্রভাতচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। দেশভাগের সময় পরিবারের সবাই ভারতে পাড়ি জমান। শৈশব কাটিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চুঁচুড়ায়। ছোটবেলা থেকেই নিজের লেখা গান সুর করতেন। তার অনেক অনবদ্য সৃষ্টির মধ্যে বিশেষভাবে সমাদৃত ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানটি।
গুয়াতেমালায় বাস খাদে পড়ে নিহত ৫১

গুয়াতেমালায় বাস খাদে পড়ে নিহত ৫১ লাতিন আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালার রাজধানী গুয়াতেমালা সিটিতে গতকাল সেতুর রেলিং ভেঙে বাস খাদে পড়ে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন অনেকে। বাসটিতে মোট ৭৫ জন যাত্রী ছিলেন। উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি এখানকার ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর একটি। স্থানীয় সময় ভোরের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। বাসটি পুয়েন্তে দে বেলিসে সেতু থেকে ছিটকে পড়ে রাজধানীর উত্তর প্রবেশপথে এক নদীতে গিয়ে পড়ে, যা দূষিত বর্জ্যে ভরা ছিল।