জেলায় সাড়ে ৬ লাখ ছাগল ও ভেড়াকে পিপিআর টিকা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন

জেলায় সাড়ে ৬ লাখ ছাগল ও ভেড়াকে পিপিআর টিকা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন   সারাদেশে সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৪টি পৌরসভা ও ৪৫টি ইউনিয়নে একযোগে ছাগল ও ভেড়াকে বিনামূল্যে পিপিআর রোগের ২য় ডোজ টিকা প্রদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আজ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার চরমোহনপুর এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। রদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইয়ামিন আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে পিপিআর মুক্ত করার লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রপিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের অর্থায়নে এবং জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ১ লাখ ৬০ হাজার, শিবগঞ্জ উপজেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার, গোমস্তাপুর উপজেলায় ১ লাখ ৩৩ হাজার, নাচোল উপজেলায় ৮০ হাজার ও ভোলাহাট উপজেলায় ৪৫ হাজার ছাগল ও ভেড়াকে বিনামূল্যে ২য় ডোজ টিকা প্রদান করা হচ্ছে। আজ থেকে শুরু হয়ে টিকাদান কর্মসূচি চলবে আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। খামারী ও জনসাধারণকে এলাকাভিত্তিক ফ্রি ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে নিজেদের ছাগল ও ভেড়ায় টিকা প্রদানের আহ্ববান জানান তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক দফা দাবিতে নার্সদের কর্মবিরতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক দফা দাবিতে নার্সদের কর্মবিরতি ‘নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পরিচালক এবং বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও রেজিস্ট্রার পদ থেকে সকল ক্যাডার কর্তাকে অপসারণ করে সেই পদগুলোতে নাসিং কর্মকর্তাদের পদায়নের ১ দফা দাবিতে আজ প্রতিকী কর্মবিরতি পালন করেছেন নার্সরা। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল চত্বরে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। এসময় জরুরি বিভাগ ছাড়া অন্যান্য বিভাগে নার্সিং সেবা বন্ধ রাখা হয়। তবে জরুরি বিবেচনায় তারা নার্সিংসেবা প্রদান করেন। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি সংস্কার পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মবিরতিকালে বক্তব্য দেন নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ও নার্সিং ও মিডওয়াইফারি সংস্কার পরিষদ জেলার আহ্বায়ক মমোতাজ বেগম, সহকারী পাবলিক হেলথ নার্স মাসুম বিল্লাহ, নার্সিং সুপার ভাইজার আজিম উদ্দিন ও নার্সিং সুপার ভাইজার আয়েশা খাতুন হাসিসহ অন্যরা। বক্তারা তাদের দাবি মেনে নেয়ার জোর দাবি জানান। আগামীকালও এই কর্মসূচি একই সময়ে পালন করা হবে বলে জানান তারা।

নাচোলে উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সমন্বয় সভা

নাচোলে উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সমন্বয় সভা ‘স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চাই সমতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণ’- এই প্রতিপাদ্যে নাচোলে উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে নাচোল উপজেলার মাস্টারপাড়ায় প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির ইউনিট-১৫ অফিসে সভায় সভাপতিত্ব করেন, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান। সমন্বয় সভায় আলোচনা করেন, বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর শেখ মাসুদুল আলম ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোরশেদ আলম। এসময় উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফোকালপার্সন ও প্রয়াসের কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সহসভাপতি আশীষ কুমার চক্রবর্তী, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান সম্পাদক আব্দুর রহমান মানিক, নুরুল ইসলাম বাবু, যুব সংগঠন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, তথ্যায়ন ও গবেষণা সম্পাদক মজিদুল ইসলাম, সদস্য জয়শ্রী প্রামানিক, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার যুব ফোরামের সাংস্কৃতিক সম্পাদক শ্যামল বর্মন, যুগ্ম সমন্বয়কারী আফিফা খাতুন, সদস্য নায়েমা খাতুন, নাবিউল ইসলাম, প্রয়াসের অফিসার শাহরিয়ার শিমুল, সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইমদাদুল হকসহ অন্যরা। উল্লেখ্য, স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে জনসচেতনতা সৃষ্টি, স্বচ্ছতা তৈরি, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সকল পর্যায়ে জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যসেবা খাতে টেকসই উন্নয়ন সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষে কাজ করছে নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম। এতে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি।  

এখন থেকে উপদেষ্টাদেরও দিতে হবে আয়-সম্পদের হিসাব

এখন থেকে উপদেষ্টাদেরও দিতে হবে আয়-সম্পদের হিসাব ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়েছে। এখন থেকে অন্তর্র্বতী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও আয় ও সম্পদ বিবরণী জমা দিতে হবে। তাদের স্ত্রী বা স্বামীর পৃথক আয় থাকলে তার বিবরণীও জমা দিতে হবে। আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা নীতিমালায় বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি যারা সরকার অথবা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত আছেন, তারা প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের আয় ও সম্পদ বিবরণী জমা দেবেন। তাদের স্ত্রী বা স্বামীর পৃথক আয় থাকলে সেই আয় ও সম্পদ তার বিবরণীও প্রধান উপদেষ্টার কাছে একইসঙ্গে জমা দিতে হবে। এদিকে, দেশের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে (আইন অনুযায়ী সবাই কর্মচারী) প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করার নির্দেশনা আগেই দেয়া হয়েছিল। তবে এ বছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তা দাখিল করতে বলা হয়েছে।  

জেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত

জেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত “কন্যা শিশুর স্বপ্নে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যে, জেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সকালে নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের হল রুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম কবিরের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক শামসুল হক টুকু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল কাদের, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর নেসকো এর নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার সেলিম রেজা এবং নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকগণসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেনির শিক্ষার্থীবৃন্দ। এসময় সভায় উপস্থিত বক্তারা-সহ অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম কবির সভাপতির সমাপনি বক্তব্যে বলেন, ভালো কোনো জায়গায় পৌঁছাতে গেলে আগে নিজের কাছেই নিজেকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে। জন্ম হোক যথা-তথা কর্ম হোক ভালো। অন্যান্য পেশা থাকবে, কিন্তু আমাদের টার্গেট থাকতে হবে, এই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর, লেখক এবং সাংবাদিক। আমি চাই আমার ছাত্র-ছাত্রীরা একজন ভালো মানুষ হবে। ভালো মা হবে, ভালো বোন হবে, ভালো ভাবী হবে, ভালো শাশুড়ী হবে, ভালো ননদ হবে। তিনি আরও বলেন, আজকের এই জাতীয় কন্যাশিশু দিবসে সবার কাছে প্রত্যাশা, বড়দের সম্মান ও শ্রদ্ধা করতে হবে এবং ছোটদের স্নেহ করতে হবে। আমাদেও নিজেদের অধিকার নিজেদের আদায় করে নিতে হবে। আমি নারী বলে কখনও হীনমৌনতায় ভুগবোনা। আমি মানুষ, একজন পুরুষের যে অধিকার আছে, আমারও সেই অধিকার আছে এইটা ভেবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। কম্পিটিশন করে পুরুষকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। নিজ বাবা-মায়ের, নিজ গ্রামের, নিজ প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করতে হবে। নিজেতে এবং নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করে দেশের ভবিষ্যত উজ্জ্বল করার মনোভাব নিজের মধ্যে জাগ্রত করতে হবে। উল্লেখ্য, সভার শুরুতেই কোরআন তেলাওয়াত পাঠ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে তাদের নিজ নিজ ভাবনা তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্য অধিকার যুব ফোরামের সদস্যদের তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণ

যুব ফোরাম সদস্যদের তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণ ‘স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চাই সমতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণ’- এই প্রতিপাদ্যে কাজ করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার যুব ফোরাম। এ দুটি ফোরামের সদস্যদের নিয়ে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ বিষয়ক প্রশিক্ষণ আজ সকালে জেলা শহরের বেলেপুকুরে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির প্রধান কার্যালয়ের নকীব হোসেন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি প্রফেসর সুলতানা রাজিয়া। সভায় সূচনা বক্তব্য দেন- প্রয়াসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হাসিব হোসেন। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর শেখ মাসুদুল আলম ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোরশেদ আলম। এসময় উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফোকালপার্সন ও প্রয়াসের কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ, আরএমটিপি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রিফাত আমিন হিরা, প্রয়াসের অফিসার শাহরিয়ার শিমুল, সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইমদাদুল হক। উল্লেখ্য, স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে জনসচেতনতা সৃষ্টি, স্বচ্ছতা তৈরি, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সকল পর্যায়ে জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যসেবা খাতে টেকসই উন্নয়ন সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষে কাজ করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম এবং যুব ফোরাম। এতে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি।  

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক আদালতে দুজনের কারাদন্ড

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক আদালতে দুজনের কারাদন্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক দুটি আদালতে দুজনকে কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। তাদের মধ্যে অস্ত্র মামলায় মহসেন আলী নামে একজনকে ১০ বছরের এবং পৃথক আরেকটি আদালতে হত্যা মামলায় দেলোয়ার হোসেন নামে একজনকে ১০ বছর কারাদন্ড দেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদ- অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় দেলোয়ার হোসেন পলাতক ছিলেন। আজ দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দায়রা জজ ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মিজানুর রহমান আসামি মহসেনের উপস্থিতিতে এই দন্ডাদেশ প্রদান করেন। অন্যদিকে হত্যা মামলায় অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ এর বিচারক রবিউল ইসলাম আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করেন। দন্ড প্রাপ্ত মহসেন গোমস্তাপুর উপজেলার ভাগলপুর কইমারী গ্রামের মৃত কুড়ান বিশ্বাসের ছেলে। আর দন্ড প্রাপ্ত আসামি দেলোয়ার হোসেন শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি দুবলিভান্ডার গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) নাজমুল আজম জানান, ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাচোল-রহনপুরগামী সড়কের আঝইর নামোপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানকালে র‌্যাবের উপস্থিত টের পেয়ে পালানোর সময় ৩টি ওয়ানশুটার গানসহ মহসেনকে আটক করা হয়। ঘটনার পরদিন র‌্যাবের এসআই মো. ফারুকুল ইসলাম বাদী হয়ে নাচোল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শ্রী লালন কুমার দাস ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর মহাসিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতের বিচারক এই দ-াদেশ প্রদান করেন। অন্যদিকে মামলার বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. রবিউল ইসলাম জানান, ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল শিবগঞ্জের কানসাটে মেয়ে-জামাইয়ের কথাকাটির একপর্যায়ে মেয়েকে লাথি ও কিলঘুসি মারে জামাই দেলোয়ার। এসময় মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে দেলোয়ারের লাথিতে পিয়ারা বেগম আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাড়িতে এবং পরে কানসাটের একটি হাসপাতালে নেয়ার পথে পিয়ারা বেগম মারা যান। এ ব্যাপারে ওই দিন নিহতের স্বামী হাসেন আলী বাদী হয়ে দেলোয়ারের নামে শিবগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আনিছুর রহমান সরদার ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর দেলোয়ারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আইনজীবী রবিউল ইসলাম আরো জানান, মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতের বিচারক দন্ড বিধির ৩০৪ ধারায় দেলোয়ারকে ১০ বছর কারাদন্ড প্রদান করেন।

দাবি আদায়ে পবিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মানববন্ধন

দাবি আদায়ে পবিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্মরত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিভিন্ন দাবিতে সোমবার মানববন্ধন করেছেন। ‘বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক নি¤œমানের বৈদ্যুতিক মালামাল ক্রয় ও সরবরাহ, প্রয়োজনীয় মালামাল ও জনবলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গ্রাহক পর্যায়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে হয়রানি করার প্রতিবাদে এবং গ্রাহকপ্রান্তে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দ্বৈতনীতি পরিহারপূর্বক বিআরইবি-পবিসকে একীভূতকরণসহ অভিন্ন চাকরি বিধি প্রণয়ন ও সকল চুক্তিভিত্তিক/অনিয়মিত কর্মচারীর চাকরি নিয়মিতকরণের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষে শতভাগ গ্রাহক সেবা চালু রেখে সারাদেশে একযোগে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই মানববন্ধন করেন তারা। বেলা ১১টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেনÑ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন, শিবগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম, ভোলাহাট জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. ফখর উদ্দিন, নাচোল জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আব্দুর রহিম, সমিতির সদর-কারিগরি বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. ফিরোজ জামান, মানবসম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. আরিফুর রহমান, মহারাজপুর সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আমিনুর রসূল, শোভন কুমার মহন্ত, সোহেলা রানাসহ অন্যরা। মানববন্ধনে জানানো হয়, দেশের ১৪ কোটি মানুষের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং টেকসই, আধুনিক ও যুগোপযোগী বিতরণ ব্যবস্থা বিনির্মাণের লক্ষে চলতি বছরের শুরু থেকে আরইবি-পবিস একীভূতকরণসহ অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন এবং সকল চুক্তিভিত্তিক/অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের ২ দফা দাবি আদায়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলমান রয়েছে। আন্দোলনের যৌক্তিকতা উপলব্ধি করে সরকার তথা বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক পল্লী বিদ্যুৎ সিস্টেমের সংস্কারসহ অন্যান্য সমস্যার যৌক্তিক সমাধানের জন্য ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু সর্বশেষ গত ২৬ সেপ্টেম্বর কমিটির ৪র্থ সভা অনুষ্ঠিত হলেও আরইবির পক্ষ থেকে রিফর্ম সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব দাখিল করা হয়নি। এছাড়া আর্থিক জটিলতা না থাকা সত্ত্বেও চুক্তিভিত্তিক/অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের বিষয়েও বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তড়িৎ সমাধানে অনীহা পরিলক্ষিত হচ্ছে। মানববন্ধনে আরো বলা হয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির যৌক্তিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। অর্থাৎ সরকারের পক্ষ থেকে সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও নানান বাহানায় কালক্ষেপণ এবং সংস্কারে অস্বীকৃতি জানিয়ে চরম বিপত্তি সৃষ্টি করে বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। তাছাড়া বিগত কয়েক মাস যাবত প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয় ও সরবরাহের ব্যবস্থা না করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। যে কারণে মাঠপর্যায়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো মালামালের অভাবে (মিটার, ট্রান্সফরমার, তার ইত্যাদি) নতুন সংযোগসহ সঠিকভাবে গ্রাহক সেবা প্রদান করতে পারছে না। এ অবস্থায়, অবিলম্বে আরইবি-পবিস বিদ্যমান সংকট নিরসনের লক্ষে সোমবার সারাদেশে একযোগে এই শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এছাড়া পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১ অক্টোবর (আজ) থেকে বাপবি বোর্ডের সাথে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সকল ধরনের যোগাযোগ, তথ্য সরবরাহ (২ দফা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়াদি ব্যতীত) থেকে বিরত থাকার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। মানববন্ধন থেকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বৈষম্য, শোষণ, নির্যাতন ও নিপীড়ন থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মুক্তি এবং দেশের ১৪ কোটি মানুষের নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সেবা প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতের লক্ষে বর্ণিত কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করা হয়।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১ হাজার ১৫২

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১ হাজার ১৫২ সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ১ হাজার ১৫২ জন ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হয়েছেন। আজ স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর ফলে চলতি বছর মশাবাহিত এ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৩ জনে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার ৯৩৮ জন।  

প্রত্যাহার সাইবার আইনের মামলা, গ্রেপ্তারকৃতরা পাচ্ছেন মুক্তি

প্রত্যাহার সাইবার আইনের মামলা, গ্রেপ্তারকৃতরা পাচ্ছেন মুক্তি সাইবার আইনে দায়ের হওয়া ‘স্পিচ অফেন্স’ সম্পর্কিত মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাছাড়া এসব মামলায় কেউ গ্রেফতার থাকলে তিনিও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি পাবেন। আজ দুপুরে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬; ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর অধীনে আগস্ট, ২০২৪ পর্যন্ত দেশের ৮টি সাইবার ট্রাইব্যুনালে মোট ৫৮১৮টি মামলা চলমান রয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তমত প্রকাশের কারণে দায়ের হওয়া মামলাগুলোকে ‘স্পিচ অফেন্স’ এবং কম্পিউটার হ্যাকিং বা অন্যকোনো ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতিকে ‘কম্পিউটার অফেন্স’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।