বেতন বন্ধ কর্মস্থলে অনুপস্থিত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা

বেতন বন্ধ কর্মস্থলে অনুপস্থিত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর এখন পর্যন্ত যেসব পুলিশ সদস্য নিজ নিজ কর্মস্থলে ফেরেননি, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম চলছে। জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ১৮৭ পুলিশ সদস্য এখনও পলাতক। তাদের বেতন-ভাতাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নিতে থানায় মামলাও করা হচ্ছে পলাতকদের বিরুদ্ধে। শনিবার (২৩ নভেম্বর) বিকালে পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এনামুল হক সাগর বাংলানিউজকে বলেন, যেসব পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য কর্মস্থলে অনুপস্থিত তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। পুলিশ সদর দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারাও এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পলাতক থাকা সদস্যদের গ্রেপ্তারে আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। তারা যেন বিদেশে পালাতে না পারেন সে জন্য তাদের সব ধরনের পাসপোর্ট বাতিল করা হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে পলাতক ১৮৭ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন- একজন ডিআইজি, সাতজন অতিরিক্ত ডিআইজি, দুজন পুলিশ সুপার, একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পাঁচজন সহকারী পুলিশ সুপার, পাঁচজন পুলিশ পরিদর্শক, ১৪ জন এসআই ও সার্জেন্ট, ৯ জন এএসআই, সাতজন নায়েক ও ১৩৬ জন কনস্টেবল। তাদের মধ্যে দুজন নারী সদস্যও রয়েছেন। এর আগে কাজে যোগদানের জন্য পুলিশ সদস্যদের জন্য সময় বেধে দেওয়া হয়। কিন্তু এসব সদস্যরা সরকারের ডাকে সাড়া দেননি।
অক্টোবরে দুর্ঘটনায় ৫৭৫ মৃত্যু

অক্টোবরে দুর্ঘটনায় ৫৭৫ মৃত্যু দুর্ঘটনার ৩৮ শতাংশের বেশি হয়েছে জাতীয় মহাসড়কে আর এক চতুর্থাংশই মোটরসাইকেল। সারা দেশে গত অক্টোবর মাসে সড়ক, রেল ও নৌ পথে ৫৩৪টি দুর্ঘটনায় ৫৭৫ জন মারা গেছেন; আর ৮৭৫ জন আহত হয়েছেন বলে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। শনিবার বিজ্ঞপ্তিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, এসব দুর্ঘটনার অর্ধেকই গাড়ি চাপা দেওয়া, এক চতুর্থাংশ সংঘর্ষ ও ১৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারানোজনিত কারণে হয়েছে। দুর্ঘটনার ৩৮ শতাংশের বেশি হয়েছে জাতীয় মহাসড়কগুলোতে।আগের মাস অর্থাৎ গত সেপ্টেম্বরে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৫৪৭টি দুর্ঘটনায় ৫৫৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৮ জন আহত হয়েছিলেন। আগের মাসের চেয়ে দুঘর্টনার হার ও আহতের সংখ্যা কমে এলেও অক্টোবরে বেড়েছে মৃতের সংখ্যা। সংস্থার মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “সরকার বদলের পড়ে সব পথের ট্রাফিক পুলিশের প্রয়োজনের চেয়ে কম উপস্থিত থাকার সুযোগে আইন লংঘন করে যানবাহন চলেছে বেশি করে। মূল সড়কেও অবৈধ যানবাহনের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় মৃত্যুর হার বেড়েছে। অবৈধ গাড়িগুলো ছোট হলেও একেকটিতে ৭ থেকে ৯ জন পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করে। দুর্ঘটনার সংখ্যা ও মৃতের হার কামিয়ে আনতে অতি দ্রুত মোটরসাইকেলের সংখ্যা কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মোজাম্মেল হক বলেন, “সারা দেশে ৫০ লাখের বেশি মোটরসাইকেল রয়েছে। এত সংখ্যক মোটরসাইকেল চলাচলের সড়ক নেই আমাদের। অন্যান্য দেশের আয়তনের তুলনায়ও তা অনেক বেশি। আর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শুধু গ্রামে চলাচলের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। নিহতের ৩৪ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার, সংখ্যায় তা ১৬৩ জন। এছাড়া রেলপথে ৬৩ দুর্ঘটনায় ৭৬ জন নিহত ও ২৪ জন আহত হয়েছেন। নৌ পথে ১৯টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত, ৩৬ জন আহত এবং এখনো ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ৬৩১টি যানবাহনের মধ্যে ২৪ দশমিক ৪১ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বাস, ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ স্থানীয় পরিবহণ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাসের পরিচয় পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি দেখতে পেয়েছে, মোট দুর্ঘটনার ৪৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ বিভিন্ন কারনে ও শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ ট্রেনের ধাক্কায় হয়েছে। এছাড়াও গাড়ির চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নিহত হন শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসে ৩৮ দশমিক ২৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৩৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৪ দশমিক ৬২ শতাংশ ফিডার রোডে হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ : সংস্থাটির মতে সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কবাতি না থাকা। অতি বৃষ্টিতে সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। জাতীয়, আঞ্চলিক ও ফিডার রোডে টার্নিং চিহ্ন না থাকার ফলে নতুন চালকরা এসব সড়কে দুর্ঘটনায় পড়েছেন। উল্টোপথে চলাচল, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং অতিরিক্ত সময় ধরে চালকের আসনে একজন থাকায় দুর্ঘটনার সংখ্যা কমছে না। ধীর ও দ্রুতগতির বাহনের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা করতে সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
ছিটকে গেলেন বেন হোয়াইট

ছিটকে গেলেন বেন হোয়াইট মৌসুমের শেষদিকে ইংলিশ ডিফেন্ডারকে পাওয়ার আশা করছেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা। হাঁটুর চোট থেকে রেহাই পেতে শল্যবিদের ছুরিকাঁচির নিচে যেতে হয়েছে বেন হোয়াইটের। তাই আর্সেনাল ডিফেন্ডারের মাঠে ফিরতে এখন করতে হবে দীর্ঘ অপেক্ষা। দলটির কোচ মিকেল আর্তেতা জানিয়েছেন, সেরে উঠতে কয়েক মাস সময় লাগবে এই ইংলিশ ফুটবলারের। গত দুই মৌসুমে আর্সেনালের নিয়মিত সদস্যদের একজন ছিলেন হোয়াইট। চলতি মৌসুমেও চোটে পড়ার আগে ৯টি লিগ ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যার মধ্যে ৭টিতে ছিলেন শুরুর একাদশে। হাঁটুর চোট বেশ কিছুদিন ধরে ভোগাচ্ছিল হোয়াইটকে। তাই গত সপ্তাহে শেষ হওয়া আন্তর্জাতিক বিরতির মাঝে ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলারের অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রিমিয়ার লিগে শনিবার নটিংহ্যাম ফরেস্টের মুখোমুখি হবে আর্সেনাল। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইটের অবস্থার কথা জানান আর্তেতা। দুর্ভাগ্যবশত, বেনকে কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকতে হবে…গত কয়েক সপ্তাহে তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না, তাই আমাদের একটা সিদ্ধান্ত নিতেই হতো। আমরা জানি, বেন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, কিন্তু পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায়, আমাদের খেলোয়াড়কে রক্ষা করতে হতো। আমরা তার অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেই, সে তাতে রাজি হয়। কয়েক মাসের জন্য বাইরে থাকতে হবে তাকে। অস্ত্রোপচারের পরে তার চোটের অবস্থা কতটা দ্রুত সেরে ওঠে, দেখতে হবে। আমার মনে হয় না, (তার পুরোপুরি সেরে উঠতে) অর্ধেক বছর সময় লাগবে; তবে আমি নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না যে মাঠে ফিরতে তার কতদিন লাগবে। আর্সেনালের আরেক ডিফেন্ডার তাকেহিরো তমিয়াসুরও হাঁটুর চোট মাথাচাড়া দিয়েছে। আর্তেতা বললেন, তাকেও হয়তো লম্বা সময়ের জন্য পাওয়া যাবে না।
নতুন রেকর্ড জয়সওয়ালের

নতুন রেকর্ড জয়সওয়ালের প্রথম দিন পড়ল ১৭ উইকেট। সেই একই পিচে দ্বিতীয় দিনে তিনটির বেশি উইকেট পড়েনি। তিনটিই অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার। জবাবে প্রতিপক্ষের কোনো উইকেটই ফেলতে পারেনি স্বাগতিকরা। ওপেনিংয়ে নামা যশস্বী জয়সওয়াল ও লোকেশ রাহুলের অবিচ্ছিন্ন ১৭২ রানের জুটিতে শক্ত অবস্থানে আছে ভারত। যার ফলে ২১৮ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ করেছে সফরকারীরা দাপুটে এই দিনে টেস্টে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়েছেন জয়সওয়াল। চলতি বছর এনিয়ে ৩৪টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। ভাঙেন ১০ বছর আগে গড়া নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার ব্রেন্ডন ম্যাককালামের রেকর্ড। ২০১৪ সালে ৯ ম্যাচ ৩৩ ছক্কা মেরেছেন তিনি। জয়সওয়ালের বছর যদিও এখনো শেষ হয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৩ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৯০ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। অন্যদিকে রাহুল অপরাজিত আছেন ১৫৩ বলে ৪ চারে ৬২ রান নিয়ে। এর আগে ভারতের ১৫০ রানের বিপরীতে প্রথম দিন শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ৬৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া। আজ মিচেল স্টার্কের (২৬) দৃঢ়তায় শেষমেষ ১০০ পেরোতে সক্ষম হয়। যদিও খুব বেশি দূর যেতে পারেনি গুটিয়ে যায় ১০৪ রানেই। ভারতের হয়ে কেবল ৩০ রানে ৫ উইকেট নেন অধিনায়ক জাসপ্রিত বুমরাহ। ক্যারিয়ারে এটি তার ১১তম ফাইফার। এছাড়া অভিষিক্ত হারশিত রানা ৩টি ও মোহাম্মদ সিরাজ নেন দুটি উইকেট। দিনের বাকি গল্পটা জয়সওয়াল ও রাহুলকে নিয়েই। সাবধানী হয়ে ব্যাটিং করে অজি বোলারদের তেমন কোনো সুযোগই দেননি তারা।
ইত্যাদি মঞ্চ নির্মিত বন্দরে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিতে ধারণ করা হলো

ইত্যাদি মঞ্চ নির্মিত বন্দরে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিতে ধারণ করা হলো ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, প্রত্ননিদর্শন, আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে গিয়ে ইত্যাদি ধারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে খানজাহানের অসংখ্য কীর্তিশোভিত, সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসাবে খ্যাত পুরাকীর্তি সমৃদ্ধ নগরী বাগেরহাটে। মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর মোংলা বন্দরে। পশুর নদীর তীরে জাহাজ, নদী এবং বন্দরের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে নির্মিত মঞ্চে ধারণ করা হয় এবারের ইত্যাদি। মোংলা বন্দরে ধারণ হলেও দর্শকরা আসেন বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলাসহ খুলনা এবং নড়াইল থেকেও। অনুষ্ঠানের শুরুতেই রয়েছে বাগেরহাটকে নিয়ে মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় একটি পরিচিতিমূলক গানের সঙ্গে নৃত্য। পরিবেশন করেছেন বাগেরহাটের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক নৃত্যশিল্পী। নাচটির কোরিওগ্রাফি করেছে সোহান, কণ্ঠ দিয়েছেন রাজীব, অয়ন চাকলাদার, তানজিনা রুমা ও এমেলী। গানটির সুর করেছেন হানিফ সংকেত এবং সংগীত আয়োজন করেছেন মেহেদী। এবারে সংগীত পরিবেশন করেছেন বাগেরহাটেরই সন্তান জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নাসির এবং প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পী সানজিদা রিমি। কথা লিখেছেন কবির বকুল। সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন কিশোর দাস। দর্শকপর্বের নিয়ম অনুযায়ী ধারণস্থান বাগেরহাটকে ঘিরে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মাঝখান থেকে ৩ জন দর্শক নির্বাচন করা হয়। ২য় পর্বে নির্বাচিত দর্শকদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন বাগেরহাটের জনপ্রিয় লোক বাদ্যযন্ত্র শিল্পী নিখিল কৃষ্ণ মজুমদার ও তার বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। মঞ্চে তারা দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে সুর তোলেন বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের জনপ্রিয় শিল্পীদের গাওয়া বেশ কয়েকটি শ্রোতাপ্রিয় গানের। শেকড় সন্ধানী ইত্যাদি সবসময়ই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রচার বিমুখ, জনকল্যাণে নিবেদিত মানুষদের তুলে ধরার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের অচেনা-অজানা বিষয় ও তথ্যভিত্তিক শিক্ষামূলক প্রতিবেদন প্রচার করে আসছে। আর সেই ধারাবাহিকতায় এবারের পর্বেও রয়েছে কয়েকটি হৃদয় ছোঁয়া প্রতিবেদন। রয়েছে বাগেরহাটের ওপর একটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। সুন্দরবন, মোংলা সমুদ্র বন্দরসহ বাগেরহাটের বিভিন্ন দর্শনীয়, আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র ও প্রত্নসম্পদ এবং হজরত খানজাহানের অসংখ্য কীর্তিশোভিত স্থান ও স্থাপনার ওপর প্রতিবেদন। এসব প্রতিবেদনের জন্য ইত্যাদির টিম মোংলা থেকে নদীপথে হিরণপয়েন্ট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে গমন করেন। বাগেরহাটের একদল নারী তাদের ব্যতিক্রমী চিন্তা আর কর্মসৃজনে ফেলনার সামগ্রী কাজে লাগিয়ে নানান উপকরণ তৈরি করার পাশাপাশি এখন তৈরি করছেন বিদেশে রপ্তানিযোগ্য মানুষের বসবাসের জন্য বাড়ি। তাদের ওপর রয়েছে একটি প্রতিবেদন। বাগেরহাটের ঢাংমারী গ্রামের অধিকাংশ মানুষেরই জীবিকার প্রধান উৎস সুন্দরবন। তবে মাঝে মাঝে বন সুরক্ষায় মাছ, গোলপাতা, মধুসহ বনজ সম্পদ সংগ্রহে বনবিভাগের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ক্ষুধার তাড়নায় সেই নিষিদ্ধ সময়েও কেউ কেউ সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। আর নানান ধরণের বিপদের সম্মুখীন হন, কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেন। তখন অসহায় হয়ে পড়ে তাদের পরিবার। এ বিষয়েই ইত্যাদির এবারের পর্বে রয়েছে একটি তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। বিদেশি প্রতিবেদন পর্বে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যের উত্তর দিকে অবস্থিত গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ওপর একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন। প্রাকৃতিক যে সব বিস্ময় মানুষকে যুগে যুগে মুগ্ধ করেছে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন তারই একটি। তারিখ ও সময় সংক্রান্ত একটি অবাক করা ব্যতিক্রমধর্মী মনস্তাত্ত্বিক জাদু প্রদর্শন করেন জাদুকর ম্যাজিক রাজিক। চিঠিপত্র বিভাগে বাগেরহাটের এক ব্যতিক্রমী নারী উদ্যোক্তার জীবন সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়। এছাড়াও বাগেরহাটের মঞ্চে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় ও প্রসঙ্গ নিয়ে সামাজিক অসঙ্গতি ও সমাজ সংস্কারের ওপর রয়েছে বেশ কিছু তীক্ষ্ণ ও তীর্যক নাট্যাংশ। আত্মসংস্কার ও জাতিগত উন্নয়ন, মোসাহেবী সাহেব, ঘরে-বাইরে চারিদিকেই প্রেশার, ভাষা দিয়ে পেশা চেনা, ঋণখেলাপি ও আলাপী ভিক্ষুক, ঘুষ কথন, গ্রুপের প্রতি বিরূপ, চাটুকার এখন বিনয়ের অবতার, চোরের মায়ের বড় গলা এবং নানী-নাতিসহ বেশ কয়েকটি নাট্যাংশ। এবারের ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন-সোলায়মান খোকা, বাবুল আহমেদ, আব্দুল আজিজ, আবদুল্লাহ রানা, সুভাশিষ ভৌমিক, শবনম পারভীন, কাজী আসাদ, জিল্লুর রহমান, কামাল বায়েজিদ, জামিল হোসেন, মুকিত জাকারিয়া, আনোয়ার শাহী, আবু হেনা রনি, আনোয়ারুল আলম সজল, আনন্দ খালেদ, আমিন আজাদ, নজরুল ইসলাম, শাহেদ আলী, মামুনুল হক টুটু, ইকবাল হোসেন, জাহিদ শিকদার, বিলু বড়ুয়া, সিলভিয়া কুইয়া, মতিউর রহমান, বেলাল আহমেদ মুরাদ, তারিক স্বপন, সাদিয়া তানজিন, অশোক বড়ুয়া, সাবরিনা নিসা, সুর্বণা মজুমদার, সিয়াম নাসির, শামীম আহমেদ, নিপুসহ আরও অনেকে। বরাবরের মত এবারও ইত্যাদির শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন ইত্যাদির নিয়মিত শিল্প নির্দেশক মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। পরিচালকের সহকারী হিসাবে ছিলেন যথারীতি রানা সরকার ও মোহাম্মদ মামুন। ইত্যাদির এই পর্বটি একযোগে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচারিত হবে আগামী শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন।
যমুনা ফিউচার পার্ক বন্ধ ঘোষণায়

যমুনা ফিউচার পার্ক বন্ধ ঘোষণায় রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের সড়ক অবরোধ করেছেন দোকান মালিক ও কর্মচারীরা। এর ফলে এ সড়কে সৃষ্টি হয় যানজট। অবরোধের আধা ঘণ্টা পরেই তারা সড়ক থেকে সরে যান। শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের সড়ক অবরোধ করেন তারা। ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান জানান, দুপুরে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের সড়ক অবরোধ করেন দোকান মালিক ও শ্রমিকরা। শুধুমাত্র শপিংমলটির সামনের সড়ক অবরোধ করেন তারা। পরে অবরোধকারীদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত ভাটারা থানার এসআই মো. আব্দুল কাদের বাংলানিউজকে জানান, যমুনা ফিউচার পার্কে মোবাইলের শো-রুমে চুরির ঘটনায় মার্কেট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো আশ্বাস না দেওয়ায় ও যমুনা ফিউচার পার্কের মালিক পক্ষ এসে কথা বলার কথা ছিল। কিন্তু মার্কেট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের সঙ্গে কথা বলেনি। পরে দোকান মালিকরা যমুনা ফিউচার পার্কের ভেতরে ঢুকে মিছিল শুরু করেন। সে সময় কর্তৃপক্ষ যমুনা ফিউচার পার্ক বন্ধ ঘোষণা করে। এরপর দোকান মালিক ও শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে তারা সরে যান। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ইউক্রেইনের বসতি দখল করেছে রুশ বাহিনী

ইউক্রেইনের বসতি দখল করেছে রুশ বাহিনী রুশ বাহিনীর দ্রুত অগ্রযাত্রায় নভোদমিত্রিভকা দখলকে সর্বশেষ অর্জন বলে অভিহিত করেছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলুসোভ। পূর্ব ইউক্রেইনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে নভোদমিত্রিভকা বসতি দখল করেছে রুশ বাহিনী। শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রুশ বাহিনীর দ্রুত অগ্রযাত্রায় নভোদমিত্রিভকা দখলকে সর্বশেষ অর্জন বলে অভিহিত করেছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলুসোভ। তবে ইউক্রেইনের সামরিক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ শহর কুরাখোভের উত্তরে অবস্থিত এই গ্রামটি দখলের বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করে জানায়নি। ইউক্রেইনের সামরিক বাহিনীর প্রতিবেদনে গ্রামটির অবস্থান এমন একটি এলাকায় উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে রুশ বাহিনী লড়াই করে গভীরে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্স কোনও পক্ষের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। অনলাইনে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেলুসোভকে বলতে শোনা গেছে, “আমরা এখানে যে কাজটি করেছি তাতে ইউক্রেনীয় ইউনিটগুলিকে ভেঙে ফেলা সক্ষম হয়েছে। এখন আমাদের অগ্রগতি তরান্বিত হয়েছে। আমরা তাদের ২০২৫ সালের গোটা অভিযান পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছি। ইউক্রেইনের জেনারেল স্টাফ বলেছেন, এক হাজার কিলোমিটার (৬০০ মাইল) ফ্রন্টের কুরাখোভ সেক্টরে ব্যাপক সংঘর্ষ হচ্ছে। ওই সেক্টরে ৩৫টি সশস্ত্র সংঘর্ষের মধ্যে ১০টি এখনও চলছে বলে নিশ্চিত করেছে তারা। ওপেন সোর্সের তথ্য অনুসারে, রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেইনের ২০ শতাংশেরও কম অঞ্চল দখল করে রেখেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে খুব দ্রুত সময়ে দোনেৎস্ক অঞ্চলে অগ্রসর হয়েছে রুশ বাহিনী। তারা কুরাখোভ এবং উত্তরে পোকরোভস্ক শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়াটার্স। ইউক্রেইনের ইস্পাত শিল্পকে কোকিং কয়লা সরবরাহ করে এমন একমাত্র কোলিয়ারির অঞ্চল এটি। এমনকি রাশিয়ান সেনাবাহিনী খারকিভ অঞ্চলের উত্তর কুপিয়ানস্কের কাছে একটি রেল হাব এবং লজিস্টিক সেন্টারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
অরুণ চক্রবর্তী লাল পাহাড়ির দেশে র স্রষ্টা আর নেই
অরুণ চক্রবর্তী লাল পাহাড়ির দেশে র স্রষ্টা আর নেই চলে গেলেন বহুল জনপ্রিয় ‘লাল পাহাড়ির দেশে’ শিরোনামের গানের স্রষ্টা ভারতীয় কবি অরুণ চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গের চুঁচুড়ার ফার্ম সাইড রোডে নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই কবি, তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। আনন্দবাজার অরুণ চক্রবর্তীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেছে, শারীরিকভাবে ‘অশক্ত’ এই কবি শুক্রবার কলকাতার মোহরকুঞ্জে জঙ্গলমহল অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই কিছুটা ঠান্ডা লেগেছিল তার। কবির পুত্রবধূ সুদেষ্ণা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তার ফুসফুসে সমস্যা ছিল। সকালে অরুণ চক্রবর্তীর মরদেহ চুঁচুড়া রবীন্দ্র ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মুক্তমঞ্চে মরদেহ রাখা হলে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অনেকে। বহু কবিতা লিখলেও অরুণ চক্রবর্তীকে পরিচিতি এবং খ্যাতি এনে দিয়েছিল তার ‘লাল পাহাড়ির দেশে যা, রাঙা মাটির দেশে যা’ গানটি। তার রচিত এই কবিতা পরে গান হয়ে লোকের মুখে মুখে ফিরেছে। এই গানে সুর দেন ঝুমুর শিল্পী সুভাষ চক্রবর্তী। কলকাতার বাগবাজারে ১৯৪৬ সালে জন্ম হয় অরুণের। পেশায় ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি চাকরি করলেও ছিলেন পুরোদস্তুর কবি। থাকতেন চুঁচুড়ায়। অরুণের চর্চার বিষয় ছিল লোকসংস্কৃতি। কিছুটা বোহেমিয়ান জীবন পছন্দ করা এই কই ঘুরতেন পাহাড়, জঙ্গল ও আদিবাসী এলাকায়। তার পরনে থাকল লাল পোশাক, মাথায় বাঁধতেন রঙিন রুমাল। কবির কাঁধের ঝোলায় থাকত চকলেট। ছোটোদের দেখলে বা নতুন কারো সঙ্গে পরিচিত হলে হাত মিলিয়ে চকোলেট দিতেন।
পিকনিক বাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

পিকনিক বাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু গাজীপুরের শ্রীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি দোতলা পিকনিক বাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ২৩ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের উদয়খালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থী মাহিন (২২) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। মোজাম্মেল হোসেন নাঈম (২৪) ও জোবায়ের আলম সাকিব (২২) কোন বিভাগের শিক্ষার্থী তা জানা যায়নি। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মণ্ডল এসব নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, বিআরটিসি দোতলা চলন্ত বাসটি রাস্তার পাশ দিয়ে রিসোর্টে যাওয়ার সময় বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও ১৭ শিক্ষার্থীকে গুরুতর অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. আরাফাত হোসেন বলেন, আমরা ছয়টি দোতলা বিআরটিসি বাস, তিনটি মাইক্রোবাস নিয়ে ৪৬০ শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের পেলাইদ গ্রামের মাটির মায়া নামক রিসোর্টে রওনা হই। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উদয়খালী এলাকায় পৌঁছামাত্র ঢাকা মেট্টো ব-১৫৭০৩৮ বাসটিতে রাস্তার পাশে থাকা বৈদ্যুতিক সার্ভস তারের সঙ্গে বাসের স্পর্শ হয়। এতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে মাহিন ঘটনাস্থলে মারা যায়। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওরা হলো মোজাম্মেল হোসেন ও জুবায়ের হোসেন শাকিব। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, সংযোগ সড়ক দিয়ে বিআরটিসির দোতলা বাসটি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ তারের সঙ্গে বাসের ছাদ লেগে যায়। এ সময় বাসটি বিদ্যুতায়িত হলে অনেকেই হুড়োহুড়ি করে নেমে যায়। ওই সময় একজনের শরীর বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়। মুখ চোখ নাক পুড়ে গেছে অনেকের। ঘটনাস্থলে একজন মারা যায়। বাকিদের উদ্ধার করে অটোরিকশা দিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করি। ওসি জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিকনিকবাহী বাসে বিদ্যুতায়িত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
খাদ্যসঙ্কটে মহাকাশে সুনীতা-বুচ

খাদ্যসঙ্কটে মহাকাশে সুনীতা-বুচ কয়েক দিন আগে নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামসের সাম্প্রতিক ছবি দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন অনেকে। বলেছিলেন, তার স্বাস্থ্য ভালো নেই। ভেঙে যাওয়া গাল, শীর্ণকায় শরীরের সেই ছবি উদ্বেগ বাড়িয়েছিল অনুরাগীদের। তবে সুনীতা তা অস্বীকার করে জানান, তার ওজন একই আছে। মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণহীনতার জন্য শরীরে তরলের পরিমাণের তারতম্য ঘটেছে। সেই কারণে শীর্ণকায় দেখাচ্ছে। তবু দুশ্চিন্তা কমেনি। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রকাশ করা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) আটকে থাকা সুনীতা এবং তার সফর-সঙ্গী বুচ উইলমোরের ছবি দেখে বিশেষজ্ঞদের অনেকে জানিয়েছেন, সুনীতাদের কাছে ফল, আনাজের মতো তাজা খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই। গত জুন মাসে বোয়িং স্টারলাইনারের তৈরি প্রথম মহাকাশযানের পরীক্ষামূলক উড়ানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গিয়েছিলেন সুনীতা ও বুচ। ঠিক ছিল ৮ দিন মহাকাশে থেকে ফিরে আসবেন তারা। কিন্তু বোয়িংয়ের যানে একাধিক যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে, গ্যাস লিক হওয়া থেকে থার্স্টার অকেজো হয়ে পড়া। বহু চেষ্টাতেও সারানো যায়নি সেসব। ফলে অনির্দিষ্ট কালের জন্য মহাকাশে আটকে পড়েন সুনীতারা। বাধ্য হয়ে পরিকল্পনা বদলাতে হয় নাসাকে। বোয়িং ও নাসাকে ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের দ্বারস্থ হতে হয়। কিছুদিন আগে বোয়িং স্টারলাইনারের মহাকাশযানটিকে যাত্রিবিহীন অবস্থায় পৃথিবীতে ফেরানো হয়েছে। সুনীতারা ফিরবেন স্পেসএক্সের মহাকাশযান ক্রু-৯ মিশনে। স্পেসএক্সের যানটি নিয়ে গিয়েছেন নাসার নিক হেগ ও রুশ কসমোনট আলেকজান্দের গর্বোনভ। সামনের বছর ফেব্রুয়ারি মাসে সুনীতাদের নিয়ে ফিরবেন তারা। আমেরিকার একটি প্রথম সারির দৈনিকে দাবি করা হয়েছে, মহাকাশে সুনীতাদের খাবার-দাবার ও রসদ ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে। যদিও নাসার আশ্বাস, কোনও খাদ্য সঙ্কট হয়নি। স্টারলাইনারের সঙ্গে যুক্ত এক বিশেষজ্ঞ সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, মহাকাশচারীদের ভান্ডারে দুই ধরনের খাবার থাকে। শুকনো খাবার— যেমন গুঁড়ো দুধ, প্রাতরাশের শস্যজাতীয় খাবার, পিৎজা, চিকেন রোস্ট, টুনা ইত্যাদি। ওই বিশেষজ্ঞের মতে, সুনীতাদের কাছে এই ধরনের খাবার পর্যাপ্ত রয়েছে। তবে তাজা ফল, আনাজের ভান্ডার কমে আসছে। পৃথিবী থেকে তিন মাস অন্তর আইএসএস-এ খাবার পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ‘‘প্রথমে ওদের কাছে টাটকা ফল, আনাজ অনেকটাই ছিল। কিন্তু গত তিন মাসে কমে এসেছে। নাসা জানিয়েছে, তিন মাস অন্তর যে খাবার পাঠানো হয়, সেগুলো মূলত রান্না করা খাবার, গরম করে খাওয়া যায়। মহাকাশচারীরা যাতে ঠিক মতো খেতে পারেন, তার জন্য চৌম্বকীয় প্লেট ও ধাতব চামচ-কাঁটা ব্যবহার করা হয়। নাসার আশ্বাস, সব ব্যবস্থা রয়েছে। পৃথিবী থেকে চিকিৎসকেরা সুনীতাদের স্বাস্থ্যের উপরে কড়া নজর রাখছেন।