বৈঠকের আগে রাশিয়ার ওপর আরও ‘চাপ’ বাড়ানোর আহ্বান

বৈঠকের আগে রাশিয়ার ওপর আরও ‘চাপ’ বাড়ানোর আহ্বান ইউক্রেনের যুদ্ধের অবসানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণার পর শনিবার রাতে ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার ওপর অধিকতর ‘চাপ’ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। এই চুক্তির ফলে কিয়েভকে কিছু অঞ্চল ছেড়ে দিতে হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পুতিন ও ট্রাম্প এই শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা রাজ্যে এ বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছেন। তিন বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প বলেন যে, ‘উভয় পক্ষের উন্নতির জন্য কিছু অঞ্চল বিনিময় করা হবে। তবে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, শান্তির জন্য ইউক্রেন রাশিয়ার কাছে জমি সমর্পণ করবে না। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, ‘ইউক্রেনীয়রা তাদের জমি দখলদারকে দেবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যে কোনো সিদ্ধান্ত, ইউক্রেন ছাড়া যে কোনো সিদ্ধান্তও শান্তির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত।’ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সঙ্গে এক ফোনালাপে জেলেনস্কি ইউক্রেনের মিত্রদের টেকসই শান্তি অর্জনের জন্য ‘স্পষ্ট পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় নেতারা শনিবার থেকে রোববার রাতে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে বলেছেন যে, ‘সক্রিয় কূটনীতি, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং রাশিয়ান ফেডারেশনের উপর তাদের অবৈধ যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য চাপ সৃষ্টির সমন্বয়ে গঠিত একটি পদ্ধতিই সফল হতে পারে।’ তারা ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তারা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন বজায় রেখে এবং সেইসাথে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও আরোপ করে কূটনৈতিকভাবে সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছেন। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, ব্রিটেন, ফিনল্যান্ড ও ইইউ কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডের লেয়েনের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘বর্তমান যোগাযোগের লাইনটি আলোচনার সূচনা বিন্দু হওয়া উচিত।’ এতে বিস্তারিত আর কিছু বলা হয়নি। তারা আরও বলেছেন, একটি প্রস্তাব ‘ইউক্রেন ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করতে হবে’- যার মধ্যে রয়েছে জোরালো ও বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা গ্যারান্টির প্রয়োজনীয়তা। এই নিরাপত্তা গ্যারান্টি ইউক্রেনকে কার্যকরভাবে তার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে সক্ষম করবে। তারা আরো বলেন, ‘ইউক্রেনের শান্তির পথ ইউক্রেন ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।’ পুতিন-ট্রাম্প শীর্ষ সম্মেলনের আগে কিয়েভের মিত্রদের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা-যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ দেশ ও যুক্তরাজ্য-শনিবার ব্রিটেনে একত্রিত হয়েছেন। জেলেনস্কি, স্টারমার ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সাথে ফোনালাপের পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘ইউক্রেনীয়দের ছাড়া ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যাবে না’ এবং ইউরোপকেও এই আলোচনায় জড়িত থাকতে হবে। শনিবার সন্ধ্যায় তার ভাষণে জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই যুদ্ধের একটি সৎ সমাপ্তি হওয়া উচিত এবং যারা এই যুদ্ধ শুরু করেছিল, সেই রাশিয়ার ওপরেই এটি শেষ করা নির্ভর করছে।’ এই বছর রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে তিন দফা আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করার পর থেকে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, লক্ষ লক্ষ লোককে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হয়েছে।
হারানো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্য শিগগীরই পুরস্কার ঘোষণা : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

হারানো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্য শিগগীরই পুরস্কার ঘোষণা : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্য শিগগীরই পুরস্কার ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান। উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে আমরা একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি। যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো অস্ত্রের সন্ধান দিতে পারবে, তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে। দ্রুত এ সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করা হবে যা পরবর্তীসময়ে মিডিয়ায় জানিয়ে দেয়া হবে। তিনি এ সময় জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুমানিক ৭শ’ অস্ত্র উদ্ধার এখনো বাকি রয়েছে। গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। জাতি হিসেবে আমরা খুব অসহিষ্ণু হয়ে গেছি।৷ আগে সমাজে কোন খারাপ কাজ ঘটলে লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়তো সেটা প্রতিহত করার জন্য৷ কিন্তু আজকাল সেটা খুব কমে গেছে।৷ অপরাধ প্রতিহত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন, সবসময় সবজায়গায় তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকেন না৷ সে সময় উপস্থিত জনতারই প্রাথমিকভাবে অপরাধ প্রতিরোধ বা প্রতিহত করা উচিত। উপদেষ্টা এসময় গাজীপুরের ঘটনায় জড়িতদের বেশিরভাগকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানান। নিউমার্কেট থেকে ১১শ’ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, এসব অস্ত্র যারা তৈরি করেন, তাদেরকে আরো সর্তক হতে হবে। তারা জানে- কারা এসব ব্যবহার করছে। যারা এগুলো করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা হবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সর্বোপরি জনগণ। আশা করি, আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারবো। উপদেষ্টা এসময় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রসহ একজন বাড়তি আনসার সদস্য (গানম্যান) নিয়োজিত থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানান। ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মোঃ খোদা বখস চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

গাজায় যুদ্ধ সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে শনিবার তেল আবিবে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। এর আগের দিনই গাজায় যুদ্ধ সম্প্রসারণে ইসরাইল সরকার গাজা দখলের ঘোষণা দিয়েছে। তেল আবিব থেকে এএফপি এই খবর জানিয়েছে। এসময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ফিলিস্তিনে জিম্মি থাকা ইসরাইলিদের ছবি তুলে ধরে সরকারের কাছে তাদের মুক্তির দাবি জানান। এএফপির সাংবাদিকরা এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কয়েক হাজার বলে অনুমান করেন। তবে জিম্মিদের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী একটি দল জানায়, এতে প্রায় ১ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল। তবে সরকার জনসমাগমে উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত অন্যান্য যুদ্ধবিরোধী সমাবেশগুলোর চেয়ে এটি অনেক বড় ছিল। নিহত এক জিম্মির আত্মীয় শাহার মোর জাহিরো এএফপি’কে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আমরা সরাসরি একটি বার্তা দিতে চাই। তা হলো গাজার কোনো অংশ দখল করার কারণে জিম্মিরা যদি খুন হয় তবে আমরা আপনাকে ছাড়ব না। আমরা শহরের মোড়ে, নির্বাচনী প্রচারণায়, সব জায়গায় আপনার পিছু নেব।’ শুক্রবার নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা শহর দখলের জন্য একটি বড় ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা অনুমোদন করে। যা দেশে বিদেশে সমালোচনার ঝড় তোলে। ইসরাইলের মিত্র কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে এবং গাজায় মানবিক সংকট নিরসন করতে একটি সমঝোতামূলক যুদ্ধবিরতির জন্য নেতানিয়াহুকে চাপ দিচ্ছে। এতো সমালোচনা এবং ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধের গুঞ্জন সত্ত্বেও নেতানিয়াহু তার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, আমরা গাজা দখল করতে যাচ্ছি না, আমরা হামাসের কাছ থেকে গাজাকে মুক্ত করতে যাচ্ছি। গত ২২ মাস ধরে চলমান এই যুদ্ধের সময়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিয়মিত বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। অনেক সমাবেশে সরকার ও হামাসের মধ্যে একটি চুক্তি করার দাবি জানানো হয়। যেমনটা অতীতে জিম্মিদের বিনিময়ে ইসরাইলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে হামাস আক্রমণ চালিয়ে ২৫১ জন ইসরাইলিকে জিম্মি করে, যাদের মধ্যে ৪৯ জন এখনও গাজায় আটক আছেন। সামরিক বাহিনীর মতে, এদের মধ্যে ২৭ জন মারা গেছেন। এদিকে শনিবার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ গাজায় ইসরাইলিদের অভিযান সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকে নিন্দা জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা’য় প্রকাশিত এক বিবৃতি অনুযায়ী, ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, এই পরিকল্পনা একটি ‘নতুন অপরাধ’ এবং এটি অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’ তিনি গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে তার পূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। যে বৈঠকে গাজা শহর দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়, একই বৈঠকে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজায় যুদ্ধ শেষ করার জন্য কিছু নীতিও গ্রহণ করে, যার মধ্যে ছিল একটি নতুন প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, যা হামাসও নয়, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও নয়। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ ইসরাইল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের কিছু অংশে সীমিত শাসন পরিচালনা করে, কিন্তু হামাস শাসিত গাজায় তাদের কোনো উপস্থিতি নেই। ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পক্ষ থেকে শনিবার জারি করা এক বিবৃতিতে আবারও গাজা শহর দখলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়। তারা বলেন, এটি ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করবে, জিম্মিদের জীবনকে বিপন্ন করবে এবং সাধারণ জনগণের ব্যাপক বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াবে। এদিকে রাশিয়াও শনিবার এক বিবৃতিতে গাজা শহর দখলের ইসরাইলি পরিকল্পনাকে নিন্দা জানিয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ইতোমধ্যে ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতিতে রয়েছে। এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে তা আরও খারাপ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া বর্তমান লক্ষণ অনুযায়ী সেখানে একটি মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ইসরাইলি হামলায় এই ভূখণ্ডে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩০ জন বেসামরিক নাগরিক ত্রাণ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এই পরিসংখ্যানকে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে। এএফপির দেওয়া সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরাইলে হামাসের হামলায় ১ হাজার ২১৭ জন নিহত হন, যার ফলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল।
বড়পুকুরিয়ার নতুন ফেজে কয়লা উত্তোলন শুরু

বড়পুকুরিয়ার নতুন ফেজে কয়লা উত্তোলন শুরু দেড় মাস বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির নতুন ফেজ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু করা হয়েছে। আজ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’র খবরে বলা হয়, খনির ১৪০৬ নম্বর নতুন ফেজ থেকে কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৯৪ লাখ টন। আজ রোববার বিকেলে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ আবু তালেব ফারাজি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোববার দুপুর ১২টা থেকে কয়লা খনির নতুন ১৪০৬ নম্বর ফেজ থেকে পুরোদমে কয়লা উত্তোলন শুরু করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে ওই নতুন ফেজ থেকে কয়লা উত্তোলনে ট্রায়ালের কাজ শুরু করা হয়েছিল। আজ দুপুরে ভূগর্ভ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে। আবু তালেব ফারাজি জানান, গত ২৩ জুন কয়লা খনির ১৩০৫ নম্বর পুরোনো ফেজের মজুত কয়লা শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। নতুন ফেজে যন্ত্রপাতি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষন শেষে উত্তোলন পুনরায় শুরু করা হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মাইন অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী খান মো. জাফর সাদিক জানান, শুরুর দিকে প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টন এবং পরবর্তীতে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টন কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তোলিত কয়লা বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করা হচ্ছে।
খসড়া তালিকা প্রকাশ : নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে ৪৫ লাখ ৭১ হাজার

খসড়া তালিকা প্রকাশ : নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে ৪৫ লাখ ৭১ হাজার নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২০২৫ সালের হালনাগাদ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ জনে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪০ লাখ ৬ হাজার ৯১৬ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২১ লাখ ৬২ হাজার ৭৬০ জন। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ রোববার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে ভোটার অন্তর্ভুক্তির হার ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ভোটার বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ। আখতার আহমেদ জানান, গত ২ মার্চ ভোটারের সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪ জন। পরবর্তীতে বাদ পড়া ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ হালনাগাদ কার্যক্রমে নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে ৪৫ লাখ ৭১ হাজার ২১৬ জন। একই সময়ে মৃত ও অযোগ্য ভোটার হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ২১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯০ জনকে। ফলে সম্পূরক তালিকা অনুযায়ী দেশের মোট ভোটার দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ জনে। তিনি আরও বলেন, সম্পূরক খসড়া তালিকা আজ (রোববার) আমাদের সব অফিসে প্রকাশ করা হয়েছে। কোনো তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হলে তা জানাতে হবে এবং প্রাপ্ত সংশোধনী যাচাই করে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইসি সচিব জানান, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে আরও একটি তালিকা প্রকাশ করা হবে। নবীন ভোটারদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা না করানোর জন্য নতুন আইনে এই সুযোগ রাখা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ বছর মোট তিনবার ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে প্রথমটি করা হয়েছে গত ২ মার্চ। দ্বিতীয়টি আগামী ৩১ আগস্ট এবং তৃতীয়টি ৩১ অক্টোবর প্রকাশ করা হবে।
ভারত থেকে পোশাক কেনা স্থগিত করছে মার্কিন কোম্পানি

ভারত থেকে পোশাক কেনা স্থগিত করছে মার্কিন কোম্পানি কোনো কোনো কোম্পানি এরই মধ্যে অর্ডার স্থগিত করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক ব্র্যান্ড গ্যাপ ও কোল’স এ পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পার্ল গ্লোবাল জানিয়েছে, নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর অনেক ক্লায়েন্ট তাদের কল করছেন। তারা বাড়তি খরচ বহন ও উৎপাদন অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া হবে কি না—তা জানতে চাচ্ছেন। পার্ল গ্লোবালের কারখানা রয়েছে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও গুয়াতেমালায়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পল্লব ব্যানার্জি রয়টার্সকে বলেন, সব ক্রেতাই ইতোমধ্যেই আমাকে ফোন করছেন। তারা চাচ্ছেন, আমরা যেন ভারতে না থেকে অন্য দেশে উৎপাদন স্থানান্তর করি। যুক্তরাষ্ট্রের সবশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ভারতের পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ২৫ শতাংশ কার্যকর হয়েছে। আগামী ২৮ আগস্ট থেকে আরও ২৫ শতাংশ কার্যকর হওয়ার কথা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ এবং চীনের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে।রয়টার্স বলছে, কিছু মার্কিন ক্রেতা তাদের অর্ডার স্থগিত রেখেছে, আর কিছু ক্রেতা জোর দিচ্ছে উৎপাদন যেন এমন দেশে সরিয়ে নেওয়া হয় যেখানে শুল্কের হার কম। ভারত থেকে রিচাকো এক্সপোর্টস চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ১১৩ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। তাদের ক্লায়েন্টদের মধ্যে আছে জে. ক্রু গ্রুপ। রপ্তানি হওয়া এই পরিমাণ পোশাক ভারতের বিভিন্ন কারখানায় তৈরি হয়। রিচাকো এক্সপোর্টসের মহাব্যবস্থাপক দিনেশ রহেজা বলেন, এই শিল্পে এখন খরা দেখা দিয়েছে। আমরা নেপালের কাঠমান্ডুতে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছি। ভারতের শীর্ষ পোশাক প্রস্তুতকারক রেমন্ডের অর্থ বিভাগের প্রধান অমিত আগরওয়াল বলেছেন, ইথিওপিয়ায় মার্কিন শুল্ক মাত্র ১০ শতাংশ। তাই তারা সেখানকার একটি কারখানায় উৎপাদন বাড়ানোর কথা চিন্তা করছেন। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই কার্যক্রম শুরু হতে পারে। পোশাক খাতে নানা শঙ্কা : ভারতে নিটওয়্যার রাজধানী হিসেবে পরিচিত তামিল নাড়ুর তিরুপপুর। এখান থেকে মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যোগান দেওয়া হয়। চলতি বছরের শুরুতে এখানকার রপ্তানিকারকরা ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তাদের মাঝে নানা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কটন ব্লসম ইন্ডিয়ার নির্বাহী পরিচালক নবীন মাইকেল জন বলেন, তিরুপপুরের কিছু কারখানাকে ক্রেতারা অর্ডার স্থগিত রাখতে বলেছে। আবার কেউ কেউ ৫০ শতাংশ শুল্ক পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগেই যতটা সম্ভব পণ্য পাঠিয়ে দিতে চাচ্ছেন। তিরুপপুরে তৈরি হওয়া কিছু পোশাক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মাত্র ১ ডলারেও কেনা যায়। আবার নারী-পুরুষদের টি-শার্টের দাম পড়ে সাড়ে তিন থেকে ৫ ডলার।তিরুপপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এন থিরুকুমারন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকতে এসব পোশাকের ওপরও ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে যাচ্ছে।
গাজায় ব্যবহৃত হতে পারে’ এমন সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি বন্ধ করছে জার্মানি

গাজায় ব্যবহৃত হতে পারে’ এমন সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি বন্ধ করছে জার্মানি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ‘গাজা উপত্যকায় ব্যবহৃত হতে পারে’ এমন কোনো সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির অনুমোদন দেবে না জার্মান সরকার। ইসরায়েল গাজায় ‘সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে’ – এ কথা উল্লেখ করে শুক্রবার ৮ আগস্ট চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এ ঘোষণা দেন। ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা আজ ভোরে গাজা শহর দখলে নেওয়ার একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা গণহত্যা যুদ্ধের পর বহির্বিশ্বের তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও এই পদক্ষেপ নিয়েছে নেতানিয়াহুর দখলদার সরকার। মের্জ বলেন, হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি চাওয়া ইসরায়েলের অধিকার। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জার্মান সরকার বিশ্বাস করে যে, গত রাতে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা গাজা উপত্যকায় আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফলে এই লক্ষ্যগুলো কীভাবে অর্জন করা যেতে পারে, তা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।’এই পরিস্থিতিতে, জার্মান সরকার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় ব্যবহৃত হতে পারে এমন কোনো সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির অনুমোদন দেবে না।’ গত জুনে জার্মান পার্লামেন্ট জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ১৩ মে পর্যন্ত ইসরায়েলে ৫৬৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জাপানে ম্যানহোলে পড়ে ৪ শ্রমিকের প্রাণহানি

জাপানে ম্যানহোলে পড়ে ৪ শ্রমিকের প্রাণহানি জাপানে টোকিওর কাছে একটি ম্যানহোলে পড়ে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে রোববার টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। গত জানুয়ারিতে রাজধানীর কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন পাইপের কারণে রাস্তা ধসে পড়ার পর একটি বিশাল গর্তে একজন ট্রাক চালক আটকা পড়েন। এরপরই এই ঘটনাটি ঘটল। এই ঘটনা দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয় দমকল বিভাগ এএফপিকে জানিয়েছে, শনিবার টোকিওর উত্তরে গিয়োদা শহরে পাইপ পরীক্ষা করার সময় একজন শ্রমিকরা ম্যানহোলে পড়ে যান। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে আরো তিন শ্রমিক সেখানে প্রবেশ করেন। এই শ্রমিকদের সকলেই বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। দমকল বিভাগ জানিয়েছে, উদ্ধার কর্মীরা ম্যানহোল থেকে বেরিয়ে আসা উচ্চ ঘনত্বের বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস সনাক্ত করেছেন। তবে শহরের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ম্যানহোলে পড়ার কারণ সম্পর্কে কিছু বলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গিয়োদা শহরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘দুর্ঘটনাটির কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তাই এ সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব নয়’। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, চার শ্রমিককে ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের মৃত বলে ঘোষণা করে। পরিদর্শনের সময় প্রায় ১০ জন শ্রমিক ঘটনাস্থলে ছিলেন, প্রয়োজনে পাইপ থেকে দূষিত পনি ও কাদা পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গত মে মাসে জাপানি উদ্ধারকারীরা ইয়াশিও শহরে রাস্তা ধসে ৭৪ বছর বয়সী ট্রাক চালকের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
এশিয়া কাপের ভেন্যু ঘোষনা

এশিয়া কাপের ভেন্যু ঘোষনা আগামী ৯-২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ এশিয়ান কাপের ভেন্যু ঘোষনা করেছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। বি-গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই হবে আবু ধাবীর জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এ সম্পর্কে এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভি বলেছেন আট দলের এই টুর্ণামেন্ট আরব আমিরাতের দুটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে- দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও আবু ধাবীর জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এর মধ্যে আবু ধাবীতে এশিয়া কাপের আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর সুপার ফোরের একটি ম্যাচ রয়েছে। টুর্নামেন্টের বেশীরভাগ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত বনাম পাকিস্তানের মধ্যকার ব্লকবাস্টার ম্যাচটিসহ ২৮ সেপ্টেম্বর ফাইনাল ম্যাচও এখানেই অনুষ্ঠিত হবে। শুধুমাত্র ১৫ সেপ্টেম্বর আরব আমিরাত বনাম ওমানের ম্যাচটি ছাড়া বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে। এশিয়া কাপের আসন্ন এই টুর্নামেন্ট টি২০ ফর্মেটে অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলংকায় যৌথভাবে আয়োজিত টি২০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এবারের এশিয়া কাপ টি২০ ফর্মেটে আয়োজিত হচ্ছে। মোট আটটি দল দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশ নিচ্ছে। চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ও ভারতের সাথে গ্রুপ-এ’তে আরো রয়েছে স্বাগতিক আরব আমিরাত ও ওমান। গ্রুপ-বি’তে আছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, শ্রীলংকা ও হংকং। ১১ সেপ্টেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে টাইগারদের পরের ম্যাচ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩ সেপ্টেম্বর। আর ১৬ সেপ্টেম্বর নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ৯ সেপ্টেম্বর আবু ধাবীতে হংকং বনাম আফগানিস্তানের ম্যাচ দিয়ে আসরের পর্দা উঠবে। গ্রপ পর্ব শেষে প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সুপার ফোরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। সুপার ফোর শেষে শীর্ষ দুই দল ২৮ সেপ্টেম্বর ফাইনালে মুখোমুখি হবে। এশিয়া কাপের পূর্ণাঙ্গ সূচী : গ্রুপ-এ : পাকিস্তান, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান গ্রুপ-বি : বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান, হংকং ৯ সেপ্টেম্বর : আফগানিস্তান বনাম হংকং, আবু ধাবী ১০ সেপ্টেম্বর : ভারত বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাত, দুবাই ১১ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশ বনাম হংকং, আবু ধাবী ১২ সেপ্টেম্বর : পাকিস্তান বনাম ওমান, দুবাই ১৩ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকা, আবু ধাবী ১৪ সেপ্টেম্বর : ভারত বনাম পাকিস্তান, দুবাই ১৫ সেপ্টেম্বর : সংযুক্ত আরব আমিরাত বনাম ওমান, আবু ধাবী ১৫ সেপ্টেম্বর : শ্রীলংকা বনাম হংকং, দুবাই ১৬ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান, আবু ধাবী ১৭ সেপ্টেম্বর : পাকিস্তান বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাত, দুবাই ১৮ সেপ্টেম্বর : শ্রীলংকা বনাম আফগানিস্তান, আবু ধাবী ১৯ সেপ্টেম্বর : ভারত বনাম ওমান, আবু ধাবী সুপার ফোর পর্ব : ২০ সেপ্টেম্বর : বি১ বনাম বি২, দুবাই ২১ সেপ্টেম্বর : এ১ বনাম এ২, দুবাই ২৩ সেপ্টেম্বর : এ২ বনাম বি১, আবু ধাবী ২৪ সেপ্টেম্বর : এ১ বনাম বি২, দুবাই ২৫ সেপ্টেম্বর : এ২ বনাম বি২, দুবাই ২৬ সেপ্টেম্বর : এ১ বনাম বি১, দুবাই ২৮ সেপ্টেম্বর : ফাইনাল, দুবাই
কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখলো ব্রাজিল

কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখলো ব্রাজিল রোমাঞ্চকর ফাইনালে কলম্বিয়াকে পেনাল্টি শ্যুট আউটে ৫-৪ গোলে পরাজিত করে নারী কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রেখেছে ব্রাজিল। এনিয়ে নবমবারের মত মহাদেশীয় এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতার কৃতিত্ব দেখালো সেলেসাওরা। ইকুয়েডরের এস্তাদিও রডরিগো পাজ ডেলগাডোর ফাইনালে কলম্বিয়া তিনবার লিড নিয়েও তা ধরে রাখতে পারেনি। প্রতিবারই দারুনভাবে ব্রাজিল ম্যাচে ফিরে আসে। ব্রাজিলিয়ান লিজেন্ড মার্তার ইনজুরি টাইমের গোলে ব্রাজিল সমতায় ফিরে। এরপর আবারো ১০৫ মিনিটে মার্তা গোল করে ব্রাজিলকে জয়ের পথে নিয়ে যান। কিন্তু ১১৫ মিনিটে কলম্বিয়ার হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন লেইসি সান্তোস। অতিরিক্ত সময়ের খেলা ৪-৪ গোলে শেষ হলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে পেনাল্টির প্রয়োজন হয়। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড আমান্ডা গুটিয়ারেস ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘আমি মনে করি নারী ফুটবল অনেকটাই এগিয়ে গেছে। প্রতিদিনই এখানে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। আজকেরও ম্যাচটিও তারই প্রমান। সবাই দিনের শেষে এই ধরনের একটি ম্যাচ আশা করে। কলম্বিয়াকেও অভিনন্দন। এই শিরোপা আমাদের জন্য বিশেষ কিছু। আমি বিশ্বাস করি ব্রাজিলের নারী ফুটবল এর মাধ্যমে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। আমরা কখনই ম্যাচ ছেড়ে দেইনি। এটাই ব্রাজিল। এটাই ব্রাজিলের গর্ব করার জায়গা।’ উভয় দলই ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছে। ২৫ মিনিটে কলম্বিয়ার লিন্ডা কেইসেডো লো ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে এ্যাঞ্জেলিনা ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান। ৬৯ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার টারকিয়ানের আত্মঘাতি গোলে কলম্বিয়া আবারো এগিয়ে যায়। ম্যাচ শেষের ১০ মিনিট আগে গুটিয়ারেস ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান। টুর্নামেন্টে এটি তার ষষ্ঠ গোল। আট মিনিট পর দ্রতগতির একটি কাউন্টার এ্যাটাক থেকে মাইরা রামিরেজ কলম্বিয়াকে আবারো লিড এনে দেন। ম্যাচের শেষভাগে বদলী বেঞ্চ থেকে উঠে এসে মার্তা ব্রাজিলকে রক্ষা করেছেন। স্টপেজ টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে তিনি ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান। যে কারনে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। ১০৫ মিনিটে এ্যাঞ্জেলিনার অসাধারণ ক্রসে মার্তা ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন। তবে ম্যাচের নাটকীয়তা তখনো বাকি। সান্তোসের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক কোনাকুনি ভাবে জালে জড়ালে কলম্বিয়ান শিবিরে স্বস্তি ফিরে আসে। এ্যাঞ্জেলিনার শুরুর মিসে কলম্বিয়া পেনাল্টি শ্যুট আউটে লিড পায়। কিন্তু ম্যানুয়েলা পাভি গোল করতে ব্যর্থ হবার পর সান্তোসের শটটি রুকে দেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক লোরেনা। মার্তার সামনে সুযোগ এসেছিল জয় নিশ্চিত করার। কিন্তু তার শটটি রুখে দেন ক্যাথরিন টাপিয়া। সাডেন ডেথে কারাবালির মিসে ব্রাজিলের শিরোপা নিশ্চিত হয়।