শ্রীলঙ্কা পারলে বাংলাদেশ কেন নয়

360

একবার গেটের বাইরে যান, আবার ঢোকেন। ইতি-উতি তাকান। টিম হোটেলে কী যেন খুঁজছিলেন থিলান সামারাবিরা। দেখা হতেই চেনা হাসি। জানতে চাইলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার স্কোর। আশায় আছেন, পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে খেলবে তার দেশ। তার দেশ শ্রীলঙ্কা হলেও তার দল এখন বাংলাদেশ। সামনে তো আবার ভারত, সেমি-ফাইনাল! বলতেই একটু সংশোধন করিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ, আমার জন্য কিন্তু আবার নয়! আমার জন্য প্রথম! এটা অবশ্য সত্যি। ২০১৫ বিশ্বকাপে মেলবোর্ন, ২০১৬ এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে মিরপুর বা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেঙ্গালুরু- ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াইয়ে বারুদ ছড়ানো ম্যাচগুলোর সময় বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ছিলেন না সামারাবিরা। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ নিয়োগ দেওয়া হয় সামারাবিরাকে। শুরুতে চুক্তি ছিল শুধু আফগানিস্তান সিরিজ ও ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য। পরে বাড়ানো হয় চুক্তি। গত ফেব্রুয়ারিতে হায়দরাবাদ টেস্টে অবশ্য ছিলেন সামারাবিরা। তবে সাদা পোশাকে দুদলের লড়াইয়ে তো সেই উত্তেজনার আগুন নেই। রঙিন পোশাকের আঁচটা তাই এবারই প্রথম পেতে যাচ্ছেন সামারাবিরা। এই ভারতের বিপক্ষে লড়াই কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে, মানছেন ব্যাটিং কোচ। তবে আশা ছড়ছেন না। নিজ দেশকেই মানছেন উদাহরণ। কঠিন তো বটেই। তবে শ্রীলঙ্কা যদি ভারতকে হারাতে পারে, আমরা কেন পারব না! সব কিছুই সম্ভব। শ্রীলঙ্কা উজ্জ্বল উদাহরণ তো বটেই। আর শ্রীলঙ্কার সামারাবিরাই হতে পারে বাংলাদেশের ‘লাকি চার্ম’, প্রথমবারেই ভারত কুপোকাত! এবার একটু লজ্জা পেয়ে গেলেন সামারাবিরা। যেতে যেতে পেছন ফিরে তাকিয়ে বললেন, সেটা হলে তো দারুণ হয়! এমনিতে তার কাজে খুব সন্তুষ্ট নয় দল। শোনা যাচ্ছে, দলের ব্যাটসম্যানরা খুব একটা স্বস্তি পাচ্ছেন না ব্যাটিং কোচকে নিয়ে। এই টুর্নামেন্টের পর তাকে রাখা হবে কিনা, এটা নিয়েও আছে সংশয়। তবে সত্যিই প্রথমবারে দলের সৌভাগ্য বয়ে আনলে সেটি খুব খারাপ কিছু হয় না!