সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে ইরান
ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ হঠাৎ করেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। তবে ইরান সরকারের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের উসকানি ও মদত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এদিকে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে ইরান। গ্তকাল দুটি মানবাধিকার সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরান হিউম্যান রাইটস এবং ন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ডেমোক্রেসি ইন ইরান জানিয়েছে, ২৬ বছর বয়সী ইরফান সোলতানি গত সপ্তাহে কারাজ থেকে গ্রেপ্তার হন। সংস্থাগুলো বলেছে, ইরফান সোলতানির পরিবারকে জানানো হয়েছে, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং আগামীকাল তার দণ্ড কার্যকর হবে।
ইরান হিউম্যান রাইটসের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোঘাদ্দাম এক বিবৃতিতে বলেন, ১৯৮০-এর দশকে ইরান সরকার যেভাবে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করত, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার মিল রয়েছে। সেসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। ন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ডেমোক্রেসি ইন ইরান জানায়, সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। তার একমাত্র অপরাধ ছিল ইরানের স্বাধীনতা চাওয়া। তাকে কোনো বিচার প্রক্রিয়ায় আইনজীবী নিয়োগের সুযোগও দেওয়া হয়নি।
সংবাদমাধ্যম ইউএস সান জানিয়েছে, সোলতানির বিরুদ্ধে ‘আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার’ অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ইরানে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ জানিয়েছে, ইরানের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া এবং তা কার্যকর হতে যাওয়ার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সরকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, বিক্ষোভের নামে যারা সরকারি সম্পদের ক্ষতি করেছে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।
এদিকে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের বদলে নির্বিচারে সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। এছাড়াও তারা দেশটির অন্তত অর্ধশতাধিক মসজিদে আগুন দিয়েছে। ধ্বংস করেছে ১৮০ অ্যাম্বুলেন্স। সোমবার তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে মোট ৫৩টি মসজিদ ও ১৮০টি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়া হয়েছে। তার মতে, কোন ইরানি কখনও মসজিদে হামলা চালাতে পারে না। গত সপ্তাহে তেহরানের আবুজার মসজিদের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরা প্রায় এক ডজন ব্যক্তি মসজিদটি তছনছ করছে, বইপত্র মেঝেতে ছুড়ে ফেলছে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, গত ৯ জানুয়ারি মসজিদটিতে আগুন দেওয়া হয়।
সূত্র: রয়টার্স, ফক্স নিউজ, এনডিটিভি