যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় দেশটির তেল শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, নতুন এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হলো তেল পরিবহন পরিকাঠামো। এর আওতায় পেট্রোলিয়াম শিপিং টাইকুন মোহাম্মদ হোসেন শামখানির নেটওয়ার্কের মধ্যে পরিচালিত দুই ডজনেরও বেশি ব্যক্তি, কোম্পানি এবং জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ট্রেজারি ‘ইকোনমিক ফিউরি’র মাধ্যমে আগ্রাসী পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মাধ্যমে শামখানি পরিবারের মতো শাসকগোষ্ঠীর সেইসব অভিজাতদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যারা ইরানি জনগণের স্বার্থের বিনিময়ে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করে।তিনি ইরানের বিরুদ্ধে একটি আর্থিক চাপ প্রয়োগের অভিযানের ইঙ্গিত দেন।
শামখানি হলেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি শামখানির ছেলে। যিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির উপদেষ্টা ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার প্রথম দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের দুজনকেই হত্যা করা হয় এবং সেদিনই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একটি পৃথক বিবৃতিতে বলেছে, হরমুজ প্রণালীকে জিম্মি করে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাজস্ব আয়ের ক্ষমতাকে চূড়ান্তভাবে সীমিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে আত্মরক্ষার্থে প্রতিশোধ হিসেবে ইরান তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, তারা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মওকুফের মেয়াদ বাড়াবে না, যার ফলে সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল বিক্রি করা সম্ভব হয়েছিল। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার ওপর চাপ কমানোর জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সক্রিয় শামখানি নেটওয়ার্কটি আপাতদৃষ্টিতে বৈধ বলে মনে হওয়া একদল পরামর্শক ও জাহাজ কোম্পানির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলে, যারা নেটওয়ার্কটির নৌবহর পরিচালনা করে।গত বছর যুক্তরাষ্ট্র এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট আরও ঘোষণা করেছে যে, তারা সৈয়দ নাইমাঈ বদরুদ্দিন মুসাভি নামের এক ইরানি ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, যাকে তারা ইরান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অর্থদাতা হিসেবে বর্ণনা করেছে। এছাড়া ভেনেজুয়েলার র্স্বণেল বিনিময়ে ইরানি তেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি জটিল অর্থপাচার প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত তিনটি কোম্পানির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।