ভোলাহাটে মধ্যরাতে তেল পাচারের সময় তেলবাহী গাড়ি জব্দ

ভোলাহাট উপজেলায় মধ্যরাতে জ্বালানি তেল পাচারের সময় পুলিশ তেলবাহী গাড়ি ট্রলি ও তেলের ড্রাম জব্দ করেছে| গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে জ্বালানি পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোলাহাট থানা পুলিশ উপজেলার সোনাজল বিল এলাকায় অবস্থিত হিরো ইটভাটায় অভিযান চালায়| পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোলাহাট ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে একটি তেলবাহী গাড়ি ইটভাটার ভেতরে প্রবেশ করে| সেখানে ড্রামের মাধ্যমে তেল খালাস করে ট্রলিতে তুলে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল| খবর পেয়ে এসআই শাখাওয়াত হোসেন, কামাল হোসেন, শাহীন আলম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পাচার চক্রের সদস্যরা গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়| পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তেলবাহী গাড়ি, পাচারে ব্যবহৃত ট্রলি ও ভুটভুটিসহ মোট আটটি গাড়ি এবং তেলের ড্রাম জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়| স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি এলাকায় কৃত্রিম জ্বালানি সংকট ˆতরি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা জ্বালানি তেল বেশি দামে বিক্রি করছে| তারা মেসার্স ভোলাহাট ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগও তোলেন| তাদের দাবি, পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের বঞ্চিত করে ট্রলি ও ট্রাক্টর মালিকদের কাছে বেশি দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে| মেসার্স ভোলাহাট ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুল লতিফ বলেন, যে তেল জব্দ করা হয়েছে সেটা আমাদের ফিলিং স্টেশনের তেল না| যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড থেকে আমার ফিলিং স্টেশনের নামে তেল বরাদ্দ করা হয়েছে ২৮ তারিখের জন্য| অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) মোঃ হাসান তারেক জানান, তেল পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোলাহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পাচার চক্র পালিয়ে যায়| তেলবাহী গাড়ি ও পাচারে ব্যবহৃত গাড়ি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে| তবে তেল গুলো কোন ফিলিং স্টেশনের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল সে তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি| ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান| ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে| স্থানীয়রা এ ধরনের তেল পাচার বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন| এছাড়াও পাচার চক্রকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান|