‘ভয় ও মন্দ কথা বলে যারা বাজার গরম রাখত, তাদের ক্ষতি হয়ে গেল’

অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে তিনি নিয়মিত মতামত প্রকাশ করে থাকেন। সম্প্রতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে উদ্বেগভিত্তিক রাজনীতির সমালোচনা করেছেন এবং সাধারণ মানুষের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, ভয় দেখিয়ে ও হতাশার কথা বলে যারা বাজার গরম রাখার চেষ্টা করছিলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাদের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। এ বিষয়ে আফজাল হোসেন বলেন, “যারা ভয় দেখিয়ে, মন্দ, হতাশ হওয়ার মতো কথা বলে বলে বাজার গরম করে রাখতে পছন্দ করেন, তাদের বেশ ক্ষতি হয়ে গেল। দেশের সব মানুষ রাজনীতি করে না কিন্তু দেশকে ভালোবাসে। দেশের সব মানুষ রাজনীতি না করলেও দেশকে ভালোবাসে। তারা চায় দেশ ও মানুষের ভোগান্তির অবসান হোক, দীর্ঘ কষ্টের পর দেশ একটু স্বস্তি পাক। সাধারণ মানুষ দেশ নিয়ে উচ্চকণ্ঠ না হলেও তাদের মায়া, ভালোবাসা ও উদ্বেগ গভীরে। এ তথ্য উল্লেখ করে আফজাল হোসেন বলেন, “নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় বহুদিন পর মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কিছু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা আশঙ্কা ও নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণী ছড়িয়ে জনমনে উদ্বেগের পাহাড় তৈরি করেছিলেন।

কিন্তু বাস্তবতা সেই আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করেছে; ফলে তাদের মুখে চুনকালি পড়েছে বলে মত অভিনেতার। আশঙ্কার কথা ব্যাখ্যা করে আফজাল হোসেন বলেন, “সাধারণ মানুষকে বারবার শোনানো হয়েছে- তারেক রহমান দেশে ফিরবেন না, তাকে ফিরতে দেওয়া হবে না; এমনকি খালেদা জিয়া না থাকলে তার দল শেষ হয়ে যাবে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, দলটির ইতিবাচক ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে গেছে এবং নির্বাচনই হবে না। এছাড়া নির্বাচন বয়কট হবে, মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে না, দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়বে-এমন নানা আশঙ্কাও ছড়ানো হয়েছিল। এসব ঘোষণাই উল্টোভাবে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বহু মানুষ-যারা দীর্ঘদিন রাজনীতির ওপর আস্থা হারিয়েছিলেন বা ভোট দিতে অনাগ্রহী ছিলেন; তারাও পরিবার-পরিজন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গেছেন বলে মনে করেন এই শিল্পী। রাজনৈতিক দল ও নেতাদের উদ্দেশে আফজাল হোসেন বলেন, “সাধারণ মানুষই মূল চালিকাশক্তি এ কথা মনে রাখা উচিত। মানুষের দেশপ্রেমের কারণেই জয় এসেছে; তাই মানুষ ও দেশের প্রতি সম্মান বজায় রাখলে সেই সম্মান নেতৃত্বকেও মর্যাদাবান রাখবে। যারা সর্বদা নেতিবাচক কথা বলে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চান, তারা সাময়িকভাবে চুপ থাকলেও সুযোগ পেলেই আবার বাজে কথার দোকান খুলে বসবেন।