বিলুপ্তির মুখে বিরল প্রাণী লেমুর, গোপনে খেয়ে ফেলা হচ্ছে

মাদাগাস্কারের জঙ্গলে লেমুর নামের ছোট প্রাইমেট প্রাণী বহুদিন ধরেই বিপদের মুখে। কিন্তু নতুন গবেষণা আরও ভয়াবহ তথ্য সামনে এনেছে। লেমুর শুধু বনভূমি ধ্বংস বা অবৈধ শিকারের কারণে নয়, ধীরে ধীরে মানুষের পাতে ‘গোপনে’ হারিয়ে যাচ্ছে। গবেষকদের ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে লেমুর হয়তো খেয়ে-খেয়েই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

চার বছর ধরে (২০২২–২০২৫) পরিচালিত এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো মাদাগাস্কারের লুকানো ‘লেমুর মাংস বাণিজ্য’-এর আসল চিত্র উঠে এসেছে। ১৭টি শহরের ২,৬০০ মানুষের সঙ্গে কথা বলে গবেষকেরা দেখেছেন—বছরে প্রায় ১৩ হাজার লেমুর শিকার ও খাওয়া হয়। যেসব শহরে জরিপ হয়েছে, তার এক-তৃতীয়াংশে নিয়মিত লেমুর মাংস খাওয়ার সংস্কৃতি রয়েছে।

গবেষণা বলছে, মোট বেচাকেনার প্রায় ৯৪.৫ শতাংশই হয় গোপনে—শিকারি, সরবরাহকারী ও নির্দিষ্ট ক্রেতাদের মধ্যে। মাত্র ৫.৫ শতাংশ বিক্রি হয় কিছু রেস্টুরেন্টে। এসব রেস্টুরেন্ট সাধারণত দামি, কারণ এ মাংস ধনী ক্রেতাদের কাছে ‘দুর্লভ খাবার’ হিসেবে জনপ্রিয়। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন লেমুর মাংসে বিশেষ স্বাদ আছে এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ‘উপকারী’। যদিও এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

সবচেয়ে বেশি শিকার হওয়া প্রজাতি হলো ব্রাউন লেমুর ও রাফড লেমুর। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও সংরক্ষণ সংঘ ( আইইউসিএন) জানিয়েছে, লেমুরের ১১২টি প্রজাতির মধ্যে ৯০ শতাংশই বিলুপ্তির ঝুঁকিতে।

গবেষকেরা সতর্ক করে বলেন, প্রচলিত সংরক্ষণ পদ্ধতি এই সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, লেমুর রক্ষা করতে হলে শক্তভাবে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগ, লেমুর মাংস খাওয়ার স্বাস্থঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিকারিদের বিকল্প আয়সূত্র তৈরি করতে হবে।
গবেষকদের সতর্কবার্তা, ডেটা-ভিত্তিক (তথ্যনির্ভর) সমাধান ছাড়া পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে লেমুর খুব দ্রুত হারিয়ে যাবে।