বাংলাদেশের সামনে বাঁচা-মরার লড়াই, ইতিহাস কার পক্ষে?\

প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দ হারিয়েছে বাংলাদেশ। পেসার নাহিদ রানার গতির ঝলক আর ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান তামিমের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সিরিজের শুরুটা দারুণ করেছিল টাইগাররা। তবে পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষের দাপটে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে স্বাগতিকদের। প্রতিপক্ষের হয়ে ঝোড়ো ব্যাটিং করেন মাজ সাদাকাত। পাশাপাশি তার বাঁহাতি ঘূর্ণি বোলিংয়ের ফাঁদে পড়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ফলে সহজ জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। এই হারের পর তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। ফলে শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছে কার্যত বাঁচা–মরার লড়াইয়ে। যে দল জিতবে, তার হাতেই উঠবে লাল-সবুজে মোড়ানো সিরিজের ট্রফি। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। রবিবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি। পরিসংখ্যান বলছে, এমন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কম নয়। এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচের এক দিনের আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ মোট ৭৯টি। এর মধ্যে ২৫টি সিরিজের ফল নির্ধারিত হয়েছে ২-১ ব্যবধানে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ১২টি সিরিজ, আর ১৩টিতে হেরেছে। এই ২৫ সিরিজের মধ্যে প্রথম দুই ম্যাচ শেষে ১-১ সমতা হয়েছিল ১৬ বার। এর মধ্যে আটবার শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করেছে বাংলাদেশ। বাকি আটবার জয় গেছে প্রতিপক্ষের ঘরে। ১-১ সমতা থেকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের যে আটটি ঘটনা আছে, তার ছয়বারই প্রথম ম্যাচ জয়ের পর দ্বিতীয়টিতে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর শেষ ম্যাচ জিতে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এবারও ঠিক তেমন এক চ্যালেঞ্জের সামনে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১৪ রানে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টিবিঘ্নিত লড়াইয়ে বাংলাদেশও গুটিয়ে যায় ঠিক ১১৪ রানে। তাই শেষ ম্যাচে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সই আবার দেখতে চাইবে স্বাগতিকরা। সাম্প্রতিক সময়েও এমন পরিস্থিতি সামলানোর নজির আছে বাংলাদেশের। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে সিরিজ হারার শঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দলটি। একইভাবে ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কা এবং ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ হারলেও শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার ২০২৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষেও সেই কীর্তি গড়তে পারলে র্যাঙ্কিংয়েও মিলবে সুখবর। সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিততে পারলে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠবে বাংলাদেশ। আর শেষ ম্যাচ হারলে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানেই থাকতে হবে টাইগারদের। তবে অতীতে প্রথম ম্যাচ জয়ের পরও সিরিজ হারার তিক্ত অভিজ্ঞতাও আছে বাংলাদেশের। ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ড এবং ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জয়ের পর বাকি দুটি ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া করেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।