জাতীয় পর্যায়ে নাচোলের মুখ উজ্জ্বল করলেন সুমাইয়া আক্তার

লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে নাচোলের মুখ উজ্জ্বল করেছেন সুমাইয়া আক্তার জুঁই। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের সোনাইচন্ডী উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। ২০২৬ সালের লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে তিনি শুধু নিজের গ্রাম বা উপজেলা নয়, পুরো জেলার গর্বের বিষয়ে পরিণত হয়েছেন।
জুঁই ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিভাগীয় পর্যায়ে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ক গ্রুপ থেকে ৮ম স্থান অর্জন করেন। তার এ অর্জন নিয়ে দৈনিক গৌড় বাংলা পত্রিকায় তাকে নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়েছিল। তার সাফল্য ও স্বপ্ন পূরণের প্রতিভা অনেকেই তাচ্ছিল্যের চোখে দেখেছিল। দমে না গিয়ে নিজের লক্ষ্য পূরণে ঠিকই এগিয়ে গিয়েছেন সুমাইয়া। বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের লড়াইয়ে সারাদেশের মেধাবীদের পেছনে ফেলে ‘ক’ বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন সুমাইয়া। গত ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সরকারের শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলনের হাত থেকে ক্রেস্ট, মেডেল, সনদপত্র ও নগদ ৯ হাজার টাকা পুরস্কার গ্রহণ করেন সুমাইয়া। এ সময় তার শিক্ষক তার সাথে ছিলেন। পল্লী গ্রামের একটি সাধারণ কৃষক পরিবারের মেয়ে হয়েও সুমাইয়ার এই অসাধারণ সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার বিদ্যাপীঠ। সোনাইচন্ডী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, “সুমাইয়া জন্মগতভাবেই মেধাবী। তার এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।” শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা আর নিজের একাগ্রতায় সুমাইয়া আজ নাচোলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। যারা একসময় তাচ্ছিল্য করছিল, তারাই আজ সুমাইয়ার সাফল্যে আনন্দিত। সুমাইয়া জানান, তার এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে মা-বাবা, শিক্ষকগণ এবং এলাকার সকল মানুষের স্নেহ, ভালোবাসা ও দোয়া। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই সুমাইয়া আক্তার জুঁই।