চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে আলোচনা সভা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে করণীয় নির্ধারণ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন এই সভার আয়োজন করে। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আনম বজলুর রশীদ।
সভায় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা ক্রয় করার জন্য ২ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ। এসময় তিনি বলেন, শুক্রবার প্রয়োজনে ডাক্তারদের ছুটি বাতিল করবেন। কোনোভাবেই চিকিৎসা সেবা ব্যবহত না হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপরও জোর দেন তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন— রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ।
এসময় পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান। জেলার হাম বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দেন সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দীন, জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান। জেলার হামের সার্বিক চিত্র মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিবুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আনম বজলুর রশীদ বলেন, হাম আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদানের পাশাপাশি ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সকল শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, সে লক্ষে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে দিকনির্দেশনা এবং প্রতিটি হাসপাতালে হাম চিকিৎসা কর্নার স্থাপনের জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে পরামর্শ দেন দিনি।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন— অর্থের অভাব নেই। যেখানে যতটুকু দরকার আপনারা আমাদের জানান, সরকার ব্যবস্থা করবে। অর্থ নেই বলে কোনো অজুহাত শোনা হবে না। ডাক্তার ও নার্সের ঘাটতি আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ইতোমধ্যে নিজের ব্যবস্থাপনায় কয়েকজন ডাক্তার দিয়েছেন, আমি অনুরোধ করব তিনি নার্সেরও ব্যবস্থা করে দেবেন।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও হামের রোগী যেতে পারে, তাদেরকেও হামের জন্য আলাদা কর্নার করার জন্য সিভিল সার্জনকে নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিদের্শনা প্রদান করেন বিভাগীয় কমিশনার। তিনি বলেন, আমাদের জেলা পরিষদের প্রশাসক মহোদয়ের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে, ২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালকে একটি মডেল হাসপাতাল করার। আমাদের অনেক যন্ত্রপাতিও আছে কিন্তু জনবলের অভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। হাম প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিভাগীয় কমিশনার। সভায় জানানো হয়, আগামী রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া হামের টিকাদান কর্মসূচির আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ৮৭০ জন শিশুকে হামের টিকা দেয়া হবে। আরো জানানো হয়, এখন পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ জন শিশু মারা গেছে। তবে তাদের মধ্যে স্যাম্পল সংগ্রহের আগেই মারা গেছে ৫ জন এবং একজনের স্যাম্পল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছিল কিন্তু পরীক্ষায় রেজাল্ট এসেছে নেগেটিভ। সভায় সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সকল উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অফিসারসহ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।