চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টিতে আম ও ধানের ক্ষতির শংকা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আঘাত হেনেছে মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টি| আজ সকাল থেকে রোদজ্জল থাকার পর বিকেল ৩টার পর থেকে মেঘডাকা শুরু হয়| কালো হয়ে ওঠে আকাশ| বিকাল ৪টার পর থেকেই হালকা বৃষ্টি শুরু হয়| এরপরই প্রথমে হালকা শিল পড়তে শুরু করে| সোয়া ৪টা নাগাদ মাঝারি শিলাবৃষ্টি শুরু হয় যা ক্রমাš^য়ে কোথাও কোথাও মাঝারি বৃষ্টির সাথে কয়েক মিনিটের ভারী শিলাবৃষ্টিতে রুপ নেয়| শিল পড়ে সাদা চাদও হয়ে যায় মাটি| সাড়ে ৪টার পর শিলাবৃষ্টি কমতে থাকে এবং পৌনে ৫টা নাগাদ বৃষ্টি ও সাথে শিলপড়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়|
এলাকা ভেদে জেলায় প্রায় ১৫ থেকে প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত হালকা থেকে ভারী শিল পড়েছে| এদিকে শিলাবৃষ্টির পর জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম এবং মাঠে শিষ ফুটতে থাকা বোরো-ইরি ধান এবং জমিতে থাকা অল্প গম,বুট,যব.মসুর,খেসারীর মত রবিশষ্য নিয়ে ক্ষতির শংকা করছেন কৃষকরা| শিলাবৃষ্টির সময়ই ঝরে গেছে অনেক আমের গুটি| গাছের নীচে বিছিয়ে আছে গুটিগুলো| আনেক গুটি ফেটে গেছে|
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াসিন আলী বলেন,মাঠ থেকে পুরো খবর আসার পরই ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ও করণীয় বলা যাবে| সমগ্র জেলাজুড়ে পাঁচ উপজেলাতেই শিলাবৃষ্টি হয়েছে| বেশি হয়েছে শিবগঞ্জ এবং কম হয়েছে ভোলাহাট উপজেলায়| সদরের চরাঞ্চলে শিলাবৃষ্টি তেমন হয় নি| বিছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি শিল পড়ায় তেমন ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয় না| তবে মাঠ থেকে রিপোর্ট আসলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে| তবে আমে কিছু ক্ষতি হতে পারে| যে সব গমে পানি পড়েছে সেগুলো বীজের জন্য রাখা যাবে না| তিনি আরও বলেন, তবে শুধু বৃষ্টি সকল ফসলের জন্য উপকারী হবে|
সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, আম ও ধানে দ্রুত ছত্রাকনাশক দিয়ে ক্ষতি কমানো যায়| তবে তা সবস্থানে এর প্রয়োজন নাও হতে পারে| আমে কিছু ক্ষতি হবে বলে তিনি ¯^ীকার করেন| সদরের বিদিরপুর গ্রামের আমচাষী বিষু মিয়া বলেন, এবার আমের গুটি মুকুলের তুলনায় কম| এর উপরে শিলাবৃষ্টিতে গুটি আমের ক্ষতি হবে| কয়েকদিনে ঝরে যাবে বেশিরভাগ আঘাতপ্রাপ্ত আম| আমে দাগ হবে| ফলন কমবে| সদরের রামকৃষ্টপুর গ্রামের আমচাসী মন্টু হাজী বলেন, আমের গুটি ছোট থাকায় ক্ষতি কিছু কম হবে| জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়,জেলায় ৪৭ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে| আম উৎপাদন এলাকা হল ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর| গম চাষ হয়েছে ৩১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে যার ৮০ শতাংশ কাটা সম্পন্ন হয়েছে|