চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তারুণ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও গম্ভীরা অনুষ্ঠিত
ডোপ টেস্টে কেউ পজিটিভ হলে, অর্থাৎ মাদক গ্রহণকারী হিসেবে চিহ্নিত হলে সে কোথাও (ইউনিভার্সিটি ও কলেজে) ভর্তি হতে পারবে না এবং কোথাও চাকরিও পাবে না বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ। আজ সকালে নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তারুণ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ডোপ টেস্ট নীতিমালা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে সরকারি চাকরিতে যেমন ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, ঠিক একইভাবে ইউনিভার্সিটি ও কলেজ লেভেলে ভর্তি হলেও শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হবে।
একই সঙ্গে যানবাহনের চালক ও কলকারখানায় যারা যন্ত্রাংশ পরিচালনা করেন, তাদের সবার জন্যও ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। এটি বাস্তবায়িত হলে আমাদের দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এটি যেমন স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যা তৈরি করছে, তেমনি এখান থেকে মাদকাসক্তি বাড়ছে, মাদকের বিক্রি বাড়ছে এবং তারা বিভিন্নভাবে বখাটেপনা করে শহর ও গ্রামের রাস্তায় সমস্যা সৃষ্টি করছে। এই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, আমরা এখান থেকেই (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) শুরু করতে চাই এবং সামনে আরও সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে যেখানেই মাদকের সংবাদ পাওয়া যাবে, সেখানেই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করতে চাই। এজন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
“মাদকের বিরুদ্ধে হই সচেতন, বাঁচাই প্রজন্ম, বাঁচাই জীবন”—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান-এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. এ. কে. এ. শাহাব উদ্দীন, নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাত।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান, নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম কবীর, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বালুগ্রাম আদর্শ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. গোলাম ফারুক মিথুন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুস্থ জীবনধারার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাদকবিরোধী শপথ পাঠ করানো হয় এবং “মাদককে না বলি” শীর্ষক লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথিবৃন্দকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আলোচনা সভা শেষে ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তারুণ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক গম্ভীরা গান পরিবেশিত হয়। গম্ভীরা পরিবেশন করেন প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট-এর নাট্যকর্মীবৃন্দ।