চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সন্দেহজনক হাম রোগী 

Oplus_131072

দেশে গত মার্চ মাসে হঠাৎ করেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে হাম। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত হয়ে মোট ৬০২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রোববার (১২ এপ্রিল) নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৯ জন রোগী।

এদিকে, জেলার ১২১টি নমুনা পরীক্ষায় ৪৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা মোট পরীক্ষার প্রায় ৩৬ শতাংশ।

সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম সাহাবুদ্দীন জানান, ঢাকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সমর্থিত দেশের একমাত্র পরীক্ষাগার—ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরি (এনপিভিএল)—এসব নমুনা পরীক্ষা করছে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ নমুনা আসায় পরীক্ষাগারে চাপ বেড়েছে, ফলে রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হচ্ছে। এদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চলছে।

জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমান বলেন, হাসপাতাল থেকে পাঠানো ৩৫টি নমুনার মধ্যে ১৫টি পজিটিভ এসেছে, যা প্রায় ৪৩ শতাংশ। এছাড়া আরও শতাধিক নমুনা পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৫৮টি গ্রহণ করা হয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে; বাকিগুলো পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, শুরুতে আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু, বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সী ছিল। তবে বর্তমানে অল্পসংখ্যক প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। চলমান টিকাদান কর্মসূচির সুফল পেতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক এবং সংক্রমণ আরও কিছুটা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডা. মশিউর রহমানের মতে, শুধু টিকাদানে ঘাটতি নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ফেসবুকভিত্তিক নেতিবাচক প্রচারণাও টিকাগ্রহণে অনীহা তৈরি করেছে। এর প্রভাব শুধু হাম নয়, এইচপিভি ও কোভিড-১৯ টিকাতেও পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুম নিয়েও চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং বহির্বিভাগে শনাক্ত হয়েছে আরও ১৮ জন। পাশাপাশি ডায়রিয়ার প্রকোপও কিছুটা বেড়েছে; বর্তমানে হাসপাতালে ৬৪ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত জেলায় সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৪ জন শিশু জেলা হাসপাতালে এবং ২ জন শিশু রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। সবগুলো মৃত্যুই ঘটেছে মার্চ মাসে। যদিও আরও কয়েকটি মৃত্যুর বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সন্দেহ থাকলেও সেগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আনুষ্ঠানিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি।

এদিকে, ১১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার তিনটি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৭০ হাজার ৫৯৯ শিশুকে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়েছে।