গোমস্তাপুরে থানা পুলিশের সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানা পুলিশের আয়োজনে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের নজরপুর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সম্প্রতি রহনপুর–আড্ডা সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রাতের বেলায় সংঘটিত ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে গোমস্তাপুর থানা পুলিশ।

সচেতনতামূলক এই সভায় সভাপতিত্ব করেন গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল বারিক। বক্তব্য দেন গোমস্তাপুর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সাদনান, গোমস্তাপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান তারেক, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুল ইসলাম আজম, পার্বতীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইমাইনুল হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান তারেক বলেন, রহনপুর–আড্ডা ও আড্ডা–বড়দাদপুর সড়কে গোমস্তাপুর থানা পুলিশের তিনটি টিম দায়িত্ব পালন করছে। তবে পুলিশ সদস্য সংখ্যা সীমিত এবং যানবাহনের সমস্যাও রয়েছে। অপরাধীরা সুযোগ নিয়ে সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি ও ছিনতাই করছে। পুলিশ অপরাধীদের ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে, তবে এক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। সড়কে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে দ্রুত পুলিশকে জানালে অপরাধীদের আটক করা সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মেজর সাদনান বলেন, এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এর আগেও এই সড়কে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল, তখন সবাই একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। বর্তমানে পাহারা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও পাহারার দায়িত্ব নিতে হবে। ভয় না পেয়ে ডাকাতদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি সবাইকে উৎসাহিত করেন। তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী নিয়মিত টহলের মাধ্যমে সড়কে নিরাপত্তা জোরদার রাখবে।