অসলো চুক্তির ব্যক্তিত্বরা যুক্ত ছিলেন এপস্টেইন নেটওয়ার্কে
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট নিরসনে ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির মূল স্থপতি নরওয়ের যে কূটনীতিক ছিলেন, তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। নতুন যেসব নথি প্রকাশ পেয়েছে, তাতে টেরজে রড-লারসেন নামের ওই ব্যক্তি প্রয়াত যৌন অপরাধী ও অর্থদাতা জেফরি এপস্টেইনের অভ্যন্তরীণ বৃত্তের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিলেন এমন প্রমাণ মিলেছে। বৃহস্পতিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, ১৯৯০-এর দশকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘শান্তি প্রক্রিয়ার’ একজন কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন টেরজে রড-লারসেন। সদ্য প্রকাশিত মার্কিন বিচার বিভাগের নথি ও নরওয়ের গণমাধ্যমের তদন্তে অবৈধ অর্থ, যৌন পাচারকারী নারীদের জন্য ভিসা জালিয়াতি ও এপস্টেইনের লাখ লাখ ডলার মূল্যের উইলে একটি সুবিধাভোগী হিসেবে তাঁর নাম এসেছে। এসব তথ্য কূটনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। রড-লারসেনের স্ত্রী মোনা জুলও অসলো আলোচনার একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। স্বামীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠার ওপর চলতি মাসে জর্ডান ও ইরাকে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন। তাঁর নিরাপত্তা ছাড়পত্রও বাতিল করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি নেতারা এখন প্রশ্ন তুলছেন, অসলোর দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের মূল চুক্তিগুলো কি ছিল অভিজাত ব্ল্যাকমেইল এবং বিদেশি গোয়েন্দা চাপের ঝুঁকিতে থাকা একজন মধ্যস্থতাকারীর মধ্যস্থতা? ওই চুক্তি অনুযায়ী কার্যত কোনো পদক্ষেপই নেয়নি ইসরায়েল। তারা অব্যাহতভাবে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় হামলা চালিয়ে গেছে। সর্বশেষ তারা ২০২৩ সাল থেকে গাজায় গণহত্যা চালিয়ে ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করে।
এন্ড্রুর প্রাসাদে তল্লাশির আহ্বান ভুক্তভোগীর
জেফ্রি এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার এক নারী যুক্তরাজ্যে বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের নথিপত্র ও ইমেইল তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। জুলিয়েট ব্রায়ান্ট বিবিসিকে বলেন, তিনি এ সপ্তাহে এই বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন, যেখানে ব্রিটেনের রাজা চার্লস বলেছেন, তিনি তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিবেচনার সময় পুলিশকে ‘সহায়তা করতে প্রস্তুত’। ২০০০ সালের দিকে এপস্টেইন তাঁকে নির্যাতন করেছিলেন।
কারাগারে থাকা এপস্টেইনের কাছে পরামর্শ চান সারা
সারা ফার্গুসন জেফরি এপস্টেইনের কাছে ছয় মিলিয়ন পাউন্ড ঋণের বোঝা মোকাবিলা করার জন্য পরামর্শ চেয়েছিলেন। এটা তিনি করেছিলেন যখন এপস্টেইন নাবালিকাদের যৌন নিপীড়নের অপরাধে কারা ভোগ করছেন। বিচার বিভাগ কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত ইমেইলে দেখা যাচ্ছে, সারা তাঁর আর্থিক অবস্থা নিয়ে মরিয়া ছিলেন।