টেপ টেনিস ক্রিকেট থেকে টেস্ট আঙিনায় জয়

23

পথচলা শুরু টেনিস বলে। সেই বলে প্রলেপ পড়ে টেপের। এক সময় হাতে উঠে গোলাকার চর্মের বল। এরপর ধাপে ধাপে এগিয়ে চলা। অনেক পথ, অনেক অলিগলি ঘুরে স্বপ্ন বড় হয়। যুব দলের হয়ে শিরোপা জিতে স্বপ্ন সীমানা ছড়ায়। এরপর সে পথে হাঁটতে হাঁটতে যে বাঁকটিতে এসে দাঁড়িয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়, সেই বাঁকে পৌঁছাতেই তপস্যা করেন অজুত-নিযুত ক্রিকেটার।

নিজের বিভাগীয় শহরে অভিষেকের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন জয়। তাকে সেভাবেই প্রস্তুত করাও হচ্ছিল। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট সাইফ হাসানের ওপর রেখেছিল আস্থা। ঢাকা টেস্টে সাইফ নেই।

ওপেনিংয়ে প্রয়োজন ডানহাতি-বামহাতি কম্বিনেশন। সাদমান ইসলামের সঙ্গী হয়ে ঢাকায় ইনিংস উদ্বোধন করবেন জয়। বাংলাদেশের ৯৯তম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হলো জয়ের। সাকিব আল হাসানের থেকে অভিষিক্ত ক্রিকেটার পেয়েছেন টেস্ট ক্যাপ। সবশেষ টেস্টে অভিষেক হয়েছিল ইয়াসির আলী রাব্বীর। সাকিব আল হাসান দলে ফেরায় সুযোগ হয়নি ইয়াসিরের।

ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে জয়কে চট্টগ্রাম টেস্টে নেওয়া হয়েছিল। যুব বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার বয়সভিত্তিক ও হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের হয়ে দ্যুতি ছড়িয়ে জায়গা করে নেন জাতীয় দলে। সঙ্গে এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগে তার পারফরম্যান্স ছিল ঈর্ষণীয়। ২ সেঞ্চুরি ও ১ হাফ সেঞ্চুরিতে ৩৪৫ রান করেছেন। সর্বোচ্চ রান ১২১, গড় রান ৫৭.৫০। তবে পছন্দের পজিশন তিন ছেড়ে তাকে একধাপ উপরে আনা হচ্ছে।

ক্রিকেটে তার উঠে আসার গল্পটা অনেক সতীর্থর সঙ্গে মিলে যায়। ২০০০ সালের ১৩ নভেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন জয়। পাড়ায় টেপ বলের ক্রিকেট খেলে হাতেখড়ি। এলাকার বড় ভাইয়েরা খেলায় নিতেন কিন্তু ফিল্ডিংয়ের পর আর ব্যাটিং দিতেন না। তবুও মাঠে গিয়ে পড়ে থাকতেন জয়।

ছেলের ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা ও উৎসাহ দেখে ব্যাংকার বাবা আবুল বারেক তাকে ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করান ২০১২ সালে। সেখান থেকে ২০১৪ সালে জয় চলে আসেন বিকেএসপিতে। এরপর কেবল এগিয়ে যাওয়া। বয়সভিত্তিক বিভিন্ন পথ মাড়িয়ে জয় অবশেষে জাতীয় দলের মঞ্চে। যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তার শতরানের রানের ইনিংসে বাংলাদেশ উঠে ফাইনালে। এরপর ইতিহাস যুব ক্রিকেটে।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে সফল ক্রিকেটার এবার বড়দের মঞ্চে। যে প্রত্যাশার পারদ ছড়িয়ে জয় এলেন তা পূরণ করতে পারেন কিনা দেখার বিষয়।