চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধুলিঝড়ে আমের ক্ষতি

14

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দীর্ঘদিনের বৃষ্টিহীন আবহাওয়ায় বয়ে যাওয়া মৌসুমের প্রথম শুকনো ধুলিঝড়ে জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আমের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। দাবদাহে শুকনো হয়ে পড়া গাছ থেকে অনেক গুটি আম  ঝরে গেছে। ভেঙ্গেও গেছে অল্প কিছু গাছ ও গাছের ডাল। তবে বড় ধরণের কোন ক্ষতির কোন খবর জেলার কোন স্থান থেকে পাওয়া যায়নি।
রোববার(৪’মার্চ) বিকেল ৩টা থেকে প্রায় ঘন্টাব্যাপী  জেলাব্যাপী ঝড় বয়ে যায়।এর আগে প্রায় ঘন্টাব্যাপী ছিল মেঘের গর্জণ। অনেকেই আকাশের অবস্থা দেখে কাল বৈশাখীর  সাথে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি হবে বলে ধারণা করেন। কিন্তু ধুলো ওড়ানো দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া ছাড়া তেমন কিছু ঘটেনি। ওই সময় কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির পানি পড়লেও তা স্থায়ী হয় নি। কিন্তু ওই দমকা ও ঝোড়ো হাওয়াতে ঝরে গেছে প্রচুর গুটি আম ।
সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহমেদ আবু আল আমিন বলেন, গত প্রায় ৬ মাস থেকে বৃষ্টি হয়নি মোটেই। এখন বৃষ্টি হলে আমের জন্য খুব উপকার হত। আম বড় হত দ্রুত। গাছ পরিস্কার হত। বোঁটা শক্ত হত। রোগ বালাই কম হত। কিন্তু এমন ঝড়ে উল্টো বরং আমের গুটি ঝরে গেছে।
সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন,তারা বেশ কিছুদিন থেকেই চাষীদের সেচ দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। ভূগর্বেও পানির স্তর নীচে নেমে গেছে। দীর্ঘদিনের ক্ষরা আমের উৎপাদনে ক্ষতি করতে পারে। তিনি বলেন, চর ও বরেন্দ্রাঞ্চলে ঝড়ের গতি ছিল কিছু বেশী।
সদর উপজেলার রামকৃষ্টপুর  গ্রামের আমচাষী মন্টু মিয়া(৫৫)  বলেন, গত কার্তিক(অক্টোবর) মাস থেকে ক্ষরা চলছে। একবারের জন্যও বৃষ্টি হয় নি। আ বড় হচ্ছে না। কিছুদিন থেকেই আম ঝরে যাচ্ছে। রোববারের ঝড়েও একসাথে অনেক আম ঝরে গেল।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, আমের রাজধানী এই জেলায় এবার প্রায় ৯৫ শতাংশ গাছে মুকুল  এসেছিল। গুটিও হয়েছে যথেষ্ট। তবে দীর্ঘ অনাবৃষ্টি ফলনে প্রভাব ফেলতে পারে। জেলায় এ মৌসুমে ৩৪ হাজার ৭৩৮ হেক্টর জমিতে আড়াই লক্ষ টন আম উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।