সপ্তাহের বাজারদর : বেড়েছে ছোটবড় প্রায় সকল মাছের দাম

20

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের বাজারে শুক্রবার ছুটির দিনে ক্রেতাদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। তবে বাড়তি ভিড় বাজারে কোনো প্রভাব ফেলেনি। কেননা শীতকালীন কিছু সবজির দাম কমলেও মটরশুটি, শশা ও দেশী করলার দাম বাড়তির দিকে। অন্যদিকে পেঁয়াজ, খোলা সয়াবিন তেল ও খোলা চিনির দামও কিছুটা কমেছে। বেড়েছে আঠাশ চালের দাম। আর আমদানি কম থাকায় ছোটবড় প্রায় সকল মাছের দাম বেড়েছে।
জেলার মুদিবাজারে আদা, রসুন, ডিমসহ প্রায় সকল মুদিপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বিক্রেতা সাদিরুল ইসলাম ও শাহালাল আলী বলেন- এ সপ্তাহে দেশী পেঁয়াজ দাম কমে ৯০-১০০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল দাম কমে ৯৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিনি গত সপ্তাহে ৬৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে দাম কমে ৬২ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আঠাশ চাল গত সপ্তাহে ছিল ৩৮ টাকা। এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি। রসুন ১৫০-১৬০ টাকা কেজি ও আদা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিম ৩২ টাকা হালি।
সবজি বাজারে বিক্রেতা আব্দুল রশিদ ও শহিদুল ইসলাম বলেন, সবজির দাম নি¤œমুখী। কিছু সবজির দাম বাড়লেও শীতকালীন প্রায় সকল সবজির দাম কমেছে। শশা গত সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে দাম বেড়ে ৫০ টাকা কেজি, দেশী করলা ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকা কেজি, মটরশুটি কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৯০ টাকা দরে বিক্রে হচ্ছে। ঘিওন বেগুন ৫০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকা, আলু ২৫ টাকা থেকে কমে ২০-২২ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা থেকে কমে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাঁধাকপি ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে দাম কমে প্রতিটি ২০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি বেশি থাকায় কমেছে টমেটোর দাম। এ সপ্তাহে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে। তারা বলেন, সামনে সবজির দাম কমতে পারে।
অন্যদিকে, মাছবাজার রয়েছে গরম। আমদানি এবং নদীর মাছ কম থাকায় ছোট-বড় সকল মাছের দাম বেশি বলছেন বিক্রেতারা। মাছ বিক্রেতা সাবের আলী বলেন, আমদানি কাম থাকায় কিছু কিছু মাছের দাম কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার এক কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের রুই ২৪০-২৬০ টাকা, কেজির কালবাউস ২৫০ টাকা কেজি, ২ কেজির কাতল ২০০ টাকা কেজি, চিংড়ি মাছ ৬০০ টাকা কেজি, মিরকা ২০০-২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা মাছ বিক্রেতা মমতাজুল আলী বলেন, টাকি মাছ ২৮০ টাকা কেজি, কৈ মাছ ৪৮০ টাকা কেজি, চাষ করা সরলপুঁটি ১৮০ টাকা কেজি, পিয়ালি ৫৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আরেক মাছ বিক্রেতা শুকুর উদ্দীন বলেন, অন্যান্য মাছের দাম স্বাভাবিক থাকলেও নদীর মাছের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০০ টাকা বেশি।
মাছের আড়তদার লতিফুর রহমান বলেন, নদীতে মাছ না থাকার কারণে মাছের আমদানি অনেক কম। তাই নদীর মাছের দাম কেজিপ্রাতি প্রায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি। যেমন, শোল মাছের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি, টাকি ৪১০ টাকা থেকে দাম বেড়ে ৪৪০-৪৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংস বাজারে খাসির মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং গরুর মাংস ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রে হচ্ছে বলে জানান মাংস বিক্রিতা আব্দুল হাকিম, সেলিম ও মোজাফফর। অন্যদিকে, গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে প্যারিস, লাল লেয়ার ও দেশী মুরগির দাম। কমেছে সোনালি মুরগির দাম। দেশী মুরগি কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা বেড়ে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা, প্যারিস কেজি প্রতি ৫ টাকা বেড়ে ১৪৫ টাকা, লাল লেয়ার কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি কেজিপ্রতি ৫ টাকা কমে ১৮০ টাকা, পাকিস্তানি ১৮০ টাকা কেজি, ব্রয়লার ১০৫-১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজহাঁস ১০০০-১২০০, পাতিহাঁস ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতা সেলিম রেজা ও মাসুদ। বিক্রেতারা বলছেন, আমদনি কম থাকার জন্য মুরগির দাম বেশি।
গরুর মাংস কিনতে আসা নুরুজ্জামান বলেন, মাংসের দাম একটু বেশি বলে মনে হচ্ছে। খাসির মাংস কিনতে আসা লিবারন বলেন, দাম স্বাভবিক আছে। তানভির আহাম্মদ সজল বলেন, মুরগির দাম একটু বেশি বলে মনে হচ্ছে। সবজি ক্রেতা মারুফ ও শহিদুল ইসলাম বলেন, সবজির দাম স্বাভাবিক আছে। তবে কিছু সবজির দাম বেশি। মো. দেলয়ার হোসেন বলেন, মাছের দাম স্বাভাবিক আছে।