বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাস করছেন, ১১ হাজার বিদেশি নাগরিক

54

বাংলাদেশে ১১ হাজার বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে বসবাস করছেন। ইতোমধ্যে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। সরকারি অর্থে তাদেরকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, ১১ হাজারের মতো বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে আছেন। তারা বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোর নাগরিকই বেশি। নাইজেরিয়া, তানজানিয়া- এসব দেশের নাগরিক বাংলাদেশে বেশি আছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ওরা যে ফেরত যাবে, তাদের কাছে কোনো টাকা-পয়সা নেই। ওদের আমরা কী করব? জেলে দিয়ে কী হবে? এরা যে টাইপের লোক, ওদের সম্বন্ধে তো জানেনই, জেলখানায় গিয়েও ঝামেলা সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, আমরা আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সরকারের টাকায় তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করব কিছু টাকা বরাদ্দ দেয়ার জন্য, যাতে বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী এসব লোককে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো যায়।

মন্ত্রী বলেন, অনেক বিদেশি নাগরিক ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে দেশে যান না, বাংলাদেশে থেকে যান। তারা মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় আছেন। আমাদের গত সভায় সিদ্ধান্ত ছিল, তাদের চিহ্নিত করা হবে। অত্যন্ত সফলতার সাথে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা তাদেরকে চিহ্নিত করেছে। আসলে ভালো নাগরিকরা তো থাকে না, ক্রিমিনাল লোকজনই থেকে যায়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বললেন : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর বক্তব্যের পর এ বিষয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে এখানে অবস্থান করছেন, এরা ঠিকই ভিসা নিয়ে ঢুকেছিলেন। তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কিংবা তারা অবৈধভাবে রয়েছে কিংবা কোনো ক্রাইমে জড়িত হয়েছেন। তারা আমাদের জেলখানায় আছেন। আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘জেলখানায় তাদের মেয়াদ শেষ হলেও দূতাবাসগুলোতে যোগাযোগ করার পরও নিয়ে যাচ্ছে না। যারা অবৈধভাবে আছে তারা ক্রাইমের সঙ্গেও জড়িত হচ্ছে। এরা শুধু যে ক্রাইমের সঙ্গে জড়িত ও কারাগারে আছে, তা নয়। যারা ব্যবসা-বাণিজ‌্য করতে আসে হয়তো তাদের অজান্তেই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, এমন বিদেশিও আছে। এসব মিলে বিদেশির সংখ‌্যা ১১ হাজার।