দেশজুড়ে ১৩৩ সিনেমা হলে চলছে ‘প্রিন্স’

দেশজুড়ে ১৩৩ সিনেমা হলে চলছে ‘প্রিন্স’ ঢাকাই চলচ্চিত্রের দর্শকদের কাছে ঈদ মানেই রূপালি পর্দায় শাকিব খানের নতুন চমক। চিরচেনা সেই আমেজ নিয়ে এবারের ঈদুল ফিতরে দেশজুড়ে মুক্তি পেয়েছে মেগা সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত চলচ্চিত্র ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মাঝে উন্মাদনা তুঙ্গে। পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ নির্মিত এই ছবিটি দেশের মোট ১৩৩টি সিনেমা হলে একযোগে প্রদর্শিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাকিব খান নিজেই এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন। নব্বই দশকের ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁপানো আলোচিত নাম কালা জাহাঙ্গীর। সেই কুখ্যাত গ্যাংস্টারের জীবনের ছায়া অবলম্বনেই তৈরি হয়েছে ‘প্রিন্স’-এর মূল গল্প। শাকিব খান তার পোস্টে লেখেন, ‘পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন সবাইকে নিয়ে উৎসবের এই মহাআনন্দে ‘প্রিন্স’ দেখুন। দেশজুড়ে ১৩৩টি সিনেমা হলে একযোগে মহাসমারোহে চলছে। শুধু সংখ্যা নয়, এ তো তুখোড় চাহিদা। আধিপত্য? না এটা তো আমাদের অভ্যেস।’ মেজবাহ উদ্দিন সুমনের চিত্রনাট্যে শাকিব খান এই চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি কেবল মারকাটারি অ্যাকশন সিনেমা নয়, বরং তৎকালীন ঢাকার রাজনীতি ও অপরাধ জগতের এক গভীর আখ্যান। শিরিন সুলতানা প্রযোজিত এই সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে প্রথমবার দেখা যাচ্ছে তসনিয়া ফারিণকে। সেই সঙ্গে ওপার বাংলার জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু যোগ করেছেন ভিন্ন মাত্রা। এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইন্তেখাব দিনার, রাশেদ মামুন অপু এবং ড. এজাজের মতো শক্তিশালী অভিনেতারা। এবারের ঈদে ‘প্রিন্স’ ছাড়াও মুক্তি পেয়েছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’ ও ‘প্রেশার কুকার’। তবে হল সংখ্যা এবং অগ্রিম টিকিট বিক্রির দৌড়ে এখন পর্যন্ত সবার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে রয়েছে শাকিবের ‘প্রিন্স’।
যুদ্ধের জেরে তীব্র পানিসংকটের ঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধের জেরে তীব্র পানিসংকটের ঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তৎক্ষণাৎ পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে তেহরান। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। এই যুদ্ধের মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পানিসংকটের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কেননা, মরুপ্রধান এই অঞ্চলের টিকে থাকার প্রধান অবলম্বন ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট (পানির লবণাক্ততাদূরীকরণ কেন্দ্রগুলো) এখন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। গত রবিবার বাহরাইনের একটি পানি শোধনগার ইরানি ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মাত্র একদিন আগে ইরান জানিয়েছিল, তাদের কেশম দ্বীপের একটি পানি শোধনগারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট কী? ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট মূলত সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে লবণ ও দূষণ অপসারণ করে পানযোগ্য পানি তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত দুটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়— তাপ প্রয়োগ করে পানি বাষ্পে পরিণত করে পরে তরলে রূপান্তর এবং মেমব্রেন প্রযুক্তি, বিশেষ করে ‘রিভার্স অসমোসিস’, যা লবণ ও অন্যান্য উপাদান আলাদা করে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশ এই রিভার্স অসমোসিস প্রযুক্তি ব্যবহার করে। মধ্যপ্রাচ্যে এর গুরুত্ব মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত শুষ্ক। বৃষ্টিপাত কম এবং মিঠা পানির উৎস সীমিত। ফলে এই অঞ্চলের দেশগুলো পানির বড় অংশই পায় সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধ করে। আরব সেন্টার ওয়াশিংটন ডিসির তথ্যমতে, বিশ্বে মোট ডিস্যালাইনেশন সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি সদস্য দেশগুলো। বিশ্বের মোট পরিশুদ্ধ সমুদ্রের পানির প্রায় ৪০ শতাংশ এখানেই উৎপাদিত হয়। দেশভেদে পানির নির্ভরতার হারও অনেক বেশি। যেমন- কুয়েতে সুপেয় পানির প্রায় ৯০ শতাংশ, ওমানে ৮৬ শতাংশ, সৌদি আরবে প্রায় ৭০ শতাংশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪২ শতাংশ পানি ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্টের ওপর নির্ভরশীল। এসব দেশে চার শতাশিক ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট রয়েছে। হামলার সম্ভাব্য প্রভাব বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব স্থাপনায় হামলা হলে শুধু পানি সরবরাহই নয়, পুরো অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অতীতে ১৯৯০–৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাক কুয়েতের বেশিরভাগ ডিস্যালাইনেশন স্থাপনা ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে দেশটির পানি সরবরাহে বড় সংকট তৈরি হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে- শহরগুলোর পানির সরবরাহ দ্রুত কমে যেতে পারে, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে চাপ তৈরি হতে পারে, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে কোন দেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট উপসাগরীয় দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে- যেমন: বাহরাইন, কুয়েত ও কাতার। কারণ এসব দেশের বিকল্প পানি উৎস খুবই সীমিত এবং কৌশলগত পানির মজুতও তুলনামূলক কম। তবে বড় দেশগুলো কিছুটা প্রস্তুতি রেখেছে। উদাহরণ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৪৫ দিনের পানির মজুত ধরে রাখার পরিকল্পনা করেছে। সমাধানের পথ বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোকে পানি নিরাপত্তাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- যৌথ আঞ্চলিক পানির মজুত গড়ে তোলা, সমন্বিত ডিস্যালাইনেশন নেটওয়ার্ক তৈরি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিচালিত ছোট প্ল্যান্ট বাড়ানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘ হলে এবং জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোর মতো পানির স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে মানবিক এই সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
রাজশাহীর বাগমারা থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

রাজশাহীর বাগমারা থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে র্যাব-৫। তবে এই ঘটনায় কেউ আটক হননি। র্যাব জানায়, গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাগমারা থানার বইকুড়ি সরদারপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের মোট ৫৬টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৬টি ছুরি, ৪টি চাপাতি, ৪টি হাসুয়া এবং ৩২টি কুঠার সদৃশ টাঙ্গি। র্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাগমারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র্যাব-৫-এর গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেবে বলেও জানানো হয়।
৬ কোটি ৪৪ লাখ রুপিতে লাহোর কালান্দার্সে মোস্তাফিজ

৬ কোটি ৪৪ লাখ রুপিতে লাহোর কালান্দার্সে মোস্তাফিজ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ পড়ার পর থেকে মোস্তাফিজুর রহমান ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তার বাদ পড়া, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কট করা, পাকিস্তানের ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করা, আইসিসির আর্থিক ক্ষতি কতো কিছু হয়ে গেল। সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর। আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর মোস্তাফিজুরকে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) যুক্ত করা হয়। রাখা হয় নিলাম তালিকায়। কিন্তু নিলামের আগেই তাকে দলে ভিড়িয়েছে পিএসএলের দল লাহোর কালান্দার্স। ৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে দল পেয়েছেন মোস্তাফিজুর। গতবার এই দলে খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান, রিশাদ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তারা এখনও দল পাননি। নিলামের তালিকায় আছেন। সময়ের অন্যতম সেরা পেসার মোস্তাফিজুর নিলামের আগেই দলভুক্ত হবে তা বোঝা যাচ্ছিল। কেননা একাধিক দল তাকে নিয়ে আলোচনা করছিল। বৃহস্পতিবার লাহোর কালান্দার্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বার্তায় জানিয়েছে, এবারের আসরের জন্য বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করেছে তারা। পিএসএলে খেলার সুবাদে প্রায় ৩ কোটি বাংলাদেশি টাকা পাবেন মোস্তাফিজুর। ২০১৮ সালের পর তিনি পিএসএলে খেলার অপেক্ষায়। সেবার পাঁচটি ম্যাচ খেলেছিলেন লাহোর কালান্দার্সের হয়ে। উইকেট নিয়েছিলেন চারটি। ৮ বছর পর মোস্তাফিজুর পিএসএলে ফিরলেন পুরোনো দলে। আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজুরকে দলে ভিড়িয়েছিল। ২ কোটি ভিত্তিমূল্য থেকে তিন দলের কাড়াকাড়ির পর নিলাম থেকে মোস্তাফিজুরকে কিনে নিয়েছিল মেগা স্টার শাহরুখ খানের দল। এজন্য হিন্দুত্ববাদীদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন বলিউড বাদশা ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিক শাহরুখ খান। এ নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনার মধ্যে আইপিএল কর্তৃপক্ষ মোস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারপর ক্ষোভ দেখা যায় বাংলাদেশেও। বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে যাবে না বাংলাদেশ। যেখানে মোস্তাফিজুরকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি ভারত, সেখানে বাংলাদেশের পুরো দলকে নিরাপত্তা দেবে সেই প্রশ্ন তোলা হয়। আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে আইপিএল। পিএসএল শুরু হবে তার তিন দিন আগে। এবার ৬ দল থেকে বাড়িয়ে ৮ দলের টুর্নামেন্ট করা হয়েছে।
নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে নতুন সেবা চালু

নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে নতুন সেবা চালু আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সঠিক, নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় এটুআইয়ের ন্যাশনাল হেল্পলাইন ৩৩৩-এর মাধ্যমে বিশেষ তথ্যসেবা চালু করা হয়েছে। ইসির সহযোগিতায় এটুআই-এর ন্যাশনাল হেল্পলাইন ৩৩৩-এর মাধ্যমে এই সেবা দেওয়া হচ্ছে। মূলত নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও নাগরিকবান্ধব করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে সম্পূর্ণ টোল-ফ্রি নম্বর ৩৩৩-এ কল করে ৯ চাপলে নাগরিকরা নির্বাচনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পাবেন। এই সেবার আওতায় ভোটাররা ভোট প্রদানের নিয়ম ও পদ্ধতি, নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রের অবস্থান এবং জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন আচরণবিধি, প্রবাসী ভোটারদের ভোট প্রদানের নিয়ম এবং প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও নারী ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধাসংক্রান্ত তথ্যও এখানে মিলবে। এ ছাড়া, জরুরি নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বর এবং নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ও পোস্টাল ভোটিং অ্যাপ ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হচ্ছে। গত ১৬ জানুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট আকারে) চালু হওয়া এই বিশেষ সেবার মাধ্যমে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৬৪৩ জন নাগরিক প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা নিয়েছেন। এই হেল্পলাইনটি শুধু তথ্যসেবাই নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য গ্রহণ এবং সম্ভাব্য অস্থিরতা আগাম শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করার একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবেও কাজ করবে। তবে এটি সরাসরি পুলিশ কন্ট্রোলরুম হিসেবে কাজ করবে না; বরং একটি ‘ইনফরমেশন ইনটেক, আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং সিস্টেম’ হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
মায়ের শাড়িতে তাসনিয়া ফারিণ, ফেরালেন শৈশবের স্মৃতি
মায়ের শাড়িতে তাসনিয়া ফারিণ, ফেরালেন শৈশবের স্মৃতি ছোট পর্দার অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। সম্প্রতি শাড়ি পরা একগুচ্ছ ছবি সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন মায়ের শাড়ির প্রতি তার ভালোবাসার কথা। পোস্টের ক্যাপশনে ফারিণ শৈশবের স্মৃতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘প্রত্যেকটা মেয়ের শাড়ি পরার শখ জন্মায় মাকে দেখে। ছোটবেলা থেকে আম্মুর আলমারি ভর্তি শাড়ি দেখতাম আর ভাবতাম কবে বড় হব। কবে বড়দের মতো শাড়ি পরে বিয়ে খেতে যাবো।’ মায়ের প্রতি গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, ‘এখনও আম্মু কোনো শাড়ি কিনলে আম্মুর আগে আমারই পরা হয়। কিছু শাড়ি তো আমার মা কখনও পরেই নাই, আমি নিয়ে রেখে দিছি।’ সবশেষ ফারিণ লেখেন, ‘আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শাড়ি হচ্ছে আমার মায়ের শাড়িগুলা। আমার তো মনে হয় আম্মু আসলে কিছু শাড়ি আমার পরার জন্য ইচ্ছা করে কিনে আলমারিতে উঠায় রাখে। মায়েরা হয়ত এমনি। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ‘আমরা আবার ফিরবো কবে’ নাটকে অভিনয় দিয়ে ছোট পর্দায় তাসনিয়া ফারিণের অভিষেক হয়। ২০১৮ সালে ফারিণ অভিনীত ভালোবাসা দিবসে ‘এক্স বয়ফ্রেন্ড’ নাটকটি বেশ পরিচিতি এনে দেয় তাকে। এরপর আর পেছন ফিরে তাঁকাতে হয়নি তাকে।
গৃহযুদ্ধের মধ্যেই মিয়ানমারে বিতর্কিত নির্বাচন শুরু

গৃহযুদ্ধের মধ্যেই মিয়ানমারে বিতর্কিত নির্বাচন শুরু পাঁচ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রবল সংশয়ের মধ্যেই মিয়ানমারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আজ রবিবার থেকে দেশটিতে এই প্রথম নির্বাচন শুরু হলো। খবর রয়টার্সের। মিয়ানমার শাসনকারী জান্তা সরকার বলছে, এই নির্বাচন দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটির জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি নতুন শুরুর সুযোগ। তবে জাতিসংঘ, কিছু পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীসহ সমালোচকরা এই নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, জান্তা-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অংশ না নেওয়ায় এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু বা গ্রহণযোগ্য নয়। ২০২০ সালের নির্বাচনে ভূমিধস জয় পাওয়া ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির নেত্রী এবং নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি এখনও বন্দি রয়েছেন। সামরিক অভ্যুত্থানের কয়েক মাস পর তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং তার নেতৃত্বাধীন দলটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই ইয়াঙ্গুন এবং মান্দালয়ের মতো বড় শহরগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যায়। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং বেসামরিক পোশাকে রাজধানী নেপিদোতে ভোট দেন। জান্তা সমর্থিত ‘পপুলার নিউজ জার্নাল’-এ প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, তিনি হাসিমুখে তার কালি মাখানো আঙুল উঁচিয়ে ধরেছেন। উল্লেখ্য, একাধিকবার ভোট দান রোধ করতে ভোটারদের আঙুলে অমোচনীয় কালি ব্যবহার করা হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী তিনি নিজেই দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে চান কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা নন। তিনি আরও বলেন, “যখন পার্লামেন্টের অধিবেশন বসবে, তখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।” এগিয়ে আছে সামরিক বাহিনী সমর্থিত দল ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অস্থিতিশীলতার মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার। ওই সময় সামরিক বাহিনী নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপরই দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। এই বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনাবাহিনী নিপীড়ন শুরু করলে অনেক বিক্ষোভকারী অস্ত্র তুলে নেয়, যা পরবর্তীতে জান্তা-বিরোধী এক দেশব্যাপী বিদ্রোহে রূপ নেয়। থাইল্যান্ডের কাসেতসার্ট ইউনিভার্সিটির মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ ললিতা হানওং-এর মতে, এই নির্বাচনে সামরিক বাহিনী ঘনিষ্ঠ ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)’ পুনরায় ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে। কারণ মোট প্রার্থীদের এক-পঞ্চমাংশই এই দলের এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তিনি বলেন, “জান্তার এই নির্বাচন মূলত জনগণের ওপর সামরিক শাসন দীর্ঘায়িত করার জন্য নকশা করা হয়েছে। ইউএসডিপি এবং সামরিক বাহিনীর মিত্র অন্যান্য দলগুলো একজোট হয়ে পরবর্তী সরকার গঠন করবে।” রবিবার প্রথম দফার পর ১১ জানুয়ারি এবং ২৫ জানুয়ারি আরো দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মিয়ানমারের ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ২৬৫টিতে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও অভ্যুত্থানের পর থেকে চলমান যুদ্ধের কারণে সব এলাকার ওপর জান্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে ভোট গণনা বা ফলাফল ঘোষণার তারিখ এখনও জানানো হয়নি। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক গত সপ্তাহে বলেছেন, দেশজুড়ে সংঘাত চলতে থাকায় এই নির্বাচন সহিংসতা ও দমনের পরিবেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বড় শহরগুলোর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগের নির্বাচনগুলোর মতো এবার কোনো উৎসাহ-উদ্দীপনা নেই। তবে ভোট দেওয়ার জন্য সামরিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো জোরজবরদস্তির খবর পাওয়া যায়নি। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাশিয়া, চীন, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, নিকারাগুয়া এবং ভারত থেকে পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এসেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, চলমান যুদ্ধের মধ্যে একটি স্থিতিশীল প্রশাসন গঠনের জান্তার এই চেষ্টা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, বেসামরিক লেবাস পরলেও সামরিক নিয়ন্ত্রিত এই সরকার আন্তর্জাতিক মহলের স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। জান্তার মুখপাত্র জউ মিন তুন স্বীকার করেছেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেকেই এই নির্বাচনের সমালোচনা করবেন। নেপিদোতে ভোট দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “তা সত্ত্বেও, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে। আমরা বিশ্বাস করি একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।”
মাংসপেশির ক্ষয়রোগ সম্পর্কে জেনে রাখুন

মাংসপেশির ক্ষয়রোগ সম্পর্কে জেনে রাখুন সারকোপেনিয়া বা মাংসপেশির ক্ষয়রোগ হলো বয়সজনিত এমন এক অবস্থা, যেখানে ধীরে ধীরে পেশির ভর, শক্তি ও কার্যক্ষমতা কমে যায়। সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের পর থেকে এ ক্ষয় শুরু হয় এবং বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্রতাও বাড়তে থাকে। সারকোপেনিয়ার প্রধান কারণ হলো বার্ধক্য। তবে এর সঙ্গে আরও কিছু বিষয় জড়িত। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের অভাব, অর্থাৎ শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এ রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। পুষ্টিহীনতা, বিশেষ করে প্রোটিন ও ভিটামিন-ডি’র ঘাটতি সারকোপেনিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া হরমোনজনিত পরিবর্তন, যেমন- টেস্টোস্টেরন, গ্রোথ হরমোন ও ইনসুলিনের মাত্রা হ্রাস এ রোগের জন্য দায়ী হতে পারে। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি বা ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, দীর্ঘদিন স্টেরয়েড বা কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন এবং শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ থাকলেও সারকোপেনিয়া দেখা দিতে পারে। সারকোপেনিয়া ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। সাধারণত পেশিশক্তি কমে যাওয়া, শরীরের ওজন হ্রাস পাওয়া, বিশেষ করে মাংসপেশি শুকিয়ে যাওয়া, হাঁটার গতি ধীর হয়ে যাওয়া, অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়া এবং দৈনন্দিন কাজে অসুবিধা হওয়া এর প্রধান লক্ষণ। চেয়ার থেকে উঠতে, সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হওয়া, ভারসাম্য হারানো বা বারবার পড়ে যাওয়ার ঘটনাও এ রোগের লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়। সারকোপেনিয়ার নির্দিষ্ট কোনো একক ওষুধ নেই। তবে সঠিক জীবনযাপন ও চিকিৎসার সমন্বয়ের মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং পেশিক্ষয় কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ব্যায়াম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্ট্রেংথ ট্রেনিং ও রেজিস্ট্যান্স ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর। ওয়েট ট্রেনিং, রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড এক্সারসাইজ, স্কোয়াট, লাঞ্জ, পুশ-আপ, নিয়মিত হাঁটা ও হালকা দৌড় পেশিশক্তি বাড়াতে সহায়ক। পুষ্টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন- মাছ, মুরগি, ডিম, ডাল ও দুধজাত খাবার নিয়মিত খেতে হবে। পাশাপাশি ভিটামিন-ডি, ক্যালসিয়াম, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত ক্যালরি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী ভিটামিন-ডি, ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী হরমোন থেরাপি উপকারী হতে পারে। মাংসপেশির শক্তি বৃদ্ধির জন্য ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশন থেরাপি ও বিভিন্ন থেরাপিউটিক এক্সারসাইজও কার্যকর ভূমিকা রাখে। সারকোপেনিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন অত্যন্ত প্রয়োজন। ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করতে হবে, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়মিত শরীরচর্চা ও সক্রিয় জীবনযাপন বজায় রাখতে হবে। প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ৪০ বছর বয়স পার হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত ব্যায়াম শুরু করা উচিত। প্রতিদিন শরীরের ওজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত প্রোটিন (প্রতি কেজি ওজনে ১-১.২ গ্রাম) গ্রহণ করা প্রয়োজন। হাড় ও পেশি শক্ত রাখতে ভিটামিন-ডি এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতি যেন না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলো সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং ফিজিওথেরাপিতে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডা. এম. ইয়াছিন আলী লেখক : বাতব্যথা ও প্যারালাইসিস রোগে ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল
উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হবে

উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হবে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে কাতারের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে আজ মধ্যরাতের পরে বা কাল ভোরে বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হবে। সেখানে একটি হাসপাতালের সঙ্গে এরইমধ্যে যোগাযোগও হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এভারকেয়ার হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জাহিদ আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা আশাবাদি। তিনি আবারও ফেরত আসবেন সবার মাঝে। লন্ডনে যাত্রাপথে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য তার সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা থাকবেন।
বড় ব্যবধানে হারিয়ে ভারতকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দিল দক্ষিণ আফ্রিকা

বড় ব্যবধানে হারিয়ে ভারতকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দিল দক্ষিণ আফ্রিকা পরাজয়ের সম্ভাবনা চতুর্থ দিন শেষ বিকেলেই ফুটে উঠেছিল। কিন্তু পঞ্চম দেখার বাকি ছিল বাকি শক্তি নিয়ে কতদূর লড়াই করতে পারে ভারত এবং ব্যবধান কত কমিয়ে আনতে পারে! কিন্তু না, ন্যুনত লড়াইও করতে পারেনি ভারতীয় ব্যাটাররা। অলআট হয়ে গেলো মাত্র ১৪০ রানে। যার ফলে ৪০৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয় বরণ করলো ভারত। সে সঙ্গে হোয়াইটওয়াশ হলো ২-০ ব্যবধানে। গুয়াহাটির যে উইকেটটি তৈরি করা হয়েছিল ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য, উল্টো সেখানে রাজত্ব করলো দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার এবং স্পিনাররা। প্রথম ইনিংসে প্রোটিয়ারা তুলেছিল ৪৮৯ রান। জবাব দিতে নেমে প্রথম ইনিংসে মাত্র ২০১ রানে অলআউট ভারত। ২৮৮ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নেমে ২৬০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে ৫৪৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নামতে হয় ভারতীয়দের। এতবড় রানের দিকে তাকিয়েই হয়তো পিলে চমকে যাওয়ার মত অবস্থা হয়েছে রিশাভ পান্তদের। যে কারণে নিজেদের স্পিনারদের জন্য তৈরি করা স্পিনিং ট্র্যাকে রাজত্ব করলো প্রোটিয়া স্পিানররা। সাইমন হারমার আর কেশভ মাহারাজদের তোপের মুখে থরথর করে কেঁপেছে ভারতের তথাকথিত বিখ্যাত ব্যাটিং লাইনআপ। এক রবিন্দ্র জাদেজা যদি ৫৪ রানের ইনিংসটি না খেলতেন, তাহলে ১০০’র আগেই অলআউট হওয়া লাগতো স্বাগতিকদের। সাইমন হারমার একাই নেন ৬ উইকেট। কেশভ মাহারাজ ২টি, সেনুরান মুথুসামি ও মার্কো ইয়ানসেন নেন ১টি করে উইকেট। অর্থ্যাৎ, ৯টি উইকেটই নিয়েছে স্পিনাররা। একবছরের ব্যবধানে ঘরের মাঠে দ্বিতীয়বার হোয়াইটওয়াশ হলো ভারত। গতবছর অক্টোবর-নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল ভারতীয় দল। ঠিক এক বছরের ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হলো তারা। দুইটি হোয়াইটওয়াশের ঘটনা ঘটলো গৌতম গম্ভীরের অধীনে। ইডেন গার্ডেন্সে প্রথম টেস্টে প্রোটিয়াদের বধ করার জন্য পুরোপুরি স্পিনিং ট্র্যাক বানিয়েছিল ভারত। সেই ট্র্যাকে উল্টো গর্তে পড়লো তারা। লো স্কোরিং ম্যাচ শেষ হয়েছিল আড়াই দিনে। জয়ের জন্য চতুর্থ ইনিংসে ১২৪ রানও করতে পারেনি ভারত। অলআউট হয়েছিল মাত্র ৯৩ রানে। এরপর গুয়াহাটিতে তৈরি করলো ব্যাটিং উইকেট। যেখানে রাজত্ব করলো দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতীয় দল এখানেও ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ। আগের দিনের ২ উইকেটে ২৭ রান নিয়ে পঞ্চম দিন ব্যাট করতে নেমেছিল ভারত। সাই সুদর্শন ও কুলদিপ যাদব দ্রুত আউট হয়ে যান। ১৪ রান করে সাই সুদর্শন। ৫ রান করেন কুলদিপ যাদব। ধ্রুব জুরেল আউট হন মাত্র ২ রান করে। অধিনায়ক রিশাভ পান্ত ১৩ রান করে ফিরে যান সাজঘরে। প্রতিরোধ গড়ে দাঁড়ান রবিন্দ্র জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দর। ৩৫ রানের জুটি গড়েন তারা। ওয়াশিংটন ১৬ রান করে আউট হন। ৫৪ রান করেন রবিন্দ্র জাদেজা। শেষ দিকে নিতিশ কুমার রেড্ডি ও মোহাম্মদ সিরাজ শূন্য রানে আউট হতেই শেষ হয়ে যায় ভারতীয়দের ব্যাটিং।