উইন্ডিজের নেতৃত্ব পেলেন কিং

উইন্ডিজের নেতৃত্ব পেলেন কিং মূলত বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য সিরিজটির আয়োজন। কিন্তু বিশ্বকাপ স্কোয়াডের প্রায় অর্ধেক ক্রিকেটারই নেই এখানে। আইপিএলে ব্যস্ত থাকায় কিংবা ফেরার পর বিশ্রাম পাওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে থাকছেন না ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল ও সহ-অধিনায়ক আলজারি জোসেফসহ সাত ক্রিকেটার। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটিতে তাই দলকে নেতৃত্ব দেবেন ব্র্যান্ডন কিং। সম্প্রতি নেপালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের ঐতিহাসিক সফরে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল কিংয়ের। তবে চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে এই ওপেনার ছিটকে গেলে সেই দায়িত্ব পালন করেন অলরাউন্ডার রোস্টন চেইস। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দলে আছেন চেইসও। তবে চোট কাটিয়ে ফিরে নেতৃত্ব পেলেন সেই কিং। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের পাঁচ ক্রিকেটার এই সময়টায় ব্যস্ত থাকবেন আইপিএলের প্লে অফে। অধিনায়ক পাওয়েল ও শিমরন হেটমায়ার আছেন রাজস্থান রয়্যালসে, সহ-অধিনায়ক জোসেফ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে, আন্দ্রে রাসেল ও শেরফেন রাদারফোর্ড কলকাতা নাইট রাইডার্সে। জোসেফ ও রাদারফোর্ডের দল ফাইনালে না উঠলে তারা দেশে ফিরে যোগ দেবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সঙ্গে। অন্য তিনজনের দল্য ফাইনালে না উঠলে তারা পাবেন বিশ্রাম। লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসে খেলা নিকোলাস পুরান ও দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলা শেই হোপ বিশ্রাম পেয়েছেন লম্বা আইপিএল মৌসুম শেষে। বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া শামার জোসেফ আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজটিতে। টেস্ট ক্রিকেটে আবির্ভাবেই ঝড় তোলা ফাস্ট বোলারের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হবে এই সিরিজ দিয়েই। বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়া উল্লেখযোগ্য দুই ক্রিকেট কাইল মেয়ার্স ও ম্যাথু ফোর্ডকে রাখা হয়েছে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সিরিজে। রিজার্ভ হিসেবে বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে থাকার হাতছানি এখনও আছে তাদের সামনে। পারফরম্যান্স দিয়ে সেই দাবি জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন তারা। জ্যামাইকায় সিরিজের তিনটি ম্যাচ হবে আগামী শুক্রবার, রোববার ও সোমবার। এই সিরিজ দিয়ে প্রায় দুই বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হবে স্যাবাইনা পার্কে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল: ব্র্যান্ডন কিং (অধিনায়ক), রোস্টন চেইস, আলিক আথানেজ, জনসন চার্লস, আন্দ্রে ফ্লেচার, ম্যাথু ফোর্ড, জেসন হোল্ডার, আকিল হোসেন, শামার জোসেফ, কাইল মেয়ার্স, ওবেড ম্যাককয়, গুডাকেশ মোটি, রোমারিও শেফার্ড, হেইডেন ওয়ালশ।

দুর্দান্ত গোলে জয় পেল মেসির দল

দুর্দান্ত গোলে জয় পেল মেসির দল চোট কাটিয়ে লিওনেল মেসি ফিরলেন। তবে ইন্টার মায়ামির খেলায় ধার ফিরল না। পুরো ম্যাচ খেলে মেসি রইলেন নিষ্প্রভ হয়ে। তার দল পারল না খুব একটা জ¦লে উঠতে। তবে শেষ সময়ে লিওনার্দো কাম্পানার দারুণ এক গোলে প্রত্যাশিত তিনটি পয়েন্ট তারা ঠিকই আদায় করে নিল। মেজর লিগ সকারের ম্যাচে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে ডি. সি. ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারায় ইন্টার মায়ামি। বদলি হিসেবে মাঠে নামার কয়েক মুহূর্ত পরই জয়ের নায়ক হয়ে যান কাম্পানা। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে দর্শনীয় গোলটি করেন একুয়েডরের তরুণ এই ফরোয়ার্ড। আগের ম্যাচে মেসিকে ছাড়া খেলতে নেমে অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল মায়ামি। সেদিন দারুণ কিছু সেভ করে দলকে রক্ষা করার নায়ক গোলকিপার ড্রেক ক্যালেন্ডার এই ম্যাচেও অন্তত তিন দফায় দলকে উদ্ধার করেন সম্ভাব্য বিপদ থেকে। এই নিয়ে মৌসুমে চার ম্যাচে কোনো গোল হজম করলেন না ক্যালেন্ডার। হাঁটুর চোট কাটিয়ে মেসির ফেরার ম্যাচে বল পায়ে রাখার লড়াইয়ে অনেক ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মায়ামি। ম্যাচের ৬৭ শতাংশ সময় বল ছিল তাদের কাছেই। কিন্তু সেই দাপটের প্রতিফলন পড়েনি আক্রমণে। ধারাল আক্রমণ তারা খুব একটা করতে পারেনি। গোলে শট নেওয়ায় বরং এগিয়ে ছিল ডি. সি. ইউনাইটেডই। ১৫টি শট নেয় তারা গোলে, মায়ামি নিতে পারে ৮টি। চলতি লিগে এখনও পর্যন্ত ১০টি গোল করা ও লিগের সর্বোচ্চ ১২টি অ্যাসিস্ট করা মেসির জন্য এটি ছিল বিরল এক রাত, যেখানে প্রায় পুরোপুরিই আড়ালে পড়ে ছিলেন তিনি। আবহাওয়াও অবশ্য প্রতিকূল ছিল এ দিন। প্রচ- গরমের কারণে প্রথমার্ধে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ দিতে বাধ্য হন রেফারি। পরে তুমুল বৃষ্টির কারণে দুই দলেরই স্বাভাবিক খেলা ব্যাহত হয়। ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত যোগ করা হয় সাত মিনিট। এর তৃতীয় মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল ডি.সি. ইউনাইটেড। কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ান দাহোমির দুর্দান্ত এক শট ঝাঁপিয়ে পড়ে শেষ মুহূর্তে একটুর জন্য বাইরে পাঠাতেপারেন মায়ামির গোলকিপার ক্যালেন্ডার। কাম্পানাকে নামানো হয় যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটেই। পরের মিনিটেই তার সেই গোল। মাঝমাঠ থেকে দূরপাল্লার অসাধারণ এক বল বাড়ান সের্হিও বুসকেতস। বক্সের ঠিক মাথায় বাঁ পায়ে দারুণভাবে বলটি ধরে ডান পায়ের চোখধাঁধানো শটে বল জালে জমান কাম্পানা। এই জয়ে ১৫ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে মেজর লিগ সকারের ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষস্থান ধরে রাখল মায়ামি। তবে তাদেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে সিনসিনাতির। ১৪ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৩০। ডি.সি. ইউনাইটেড নবম স্থানে আছে ১৪ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে।

ইতিহাসের পাতায় ম্যানসিটির নাম

ইতিহাসের পাতায় ম্যানসিটির নাম বছর কয়েক আগেও হয়তো কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি এমনটা। ম্যানচেস্টার সিটিই যে এমন কীর্তি গড়বে সেটা তো আরও ভাবনায় আসার কথা নয়। কিন্তু সব ভাবনা দূরে ঠেলে টানা চতুর্থ লিগ শিরোপা ঘরে তুলেছে ম্যানসিটি। দলটির কোচ পেপ গার্দিওলার ভাবনাতেও এমন অবিশ্বাস্য কিছু ছিল না। ফরোয়ার্ড ফিল ফোডেনও তাই এমন সাফল্যে অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না। গতরাতে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট হামকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা চারটি লিগ শিরোপা জিতে নিয়েছে ম্যানসিটি। জিতলেই চ্যাম্পিয়ন এমন সমীকরণের ম্যাচ বলেই ইতিহাদের গ্যালারিতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। দল বেঁধে ম্যাচজুড়ে দলকে সমর্থন দিয়েছেন ভক্তরা। এমন ম্যাচে জোড়া গোল করে আলো ছড়ানো ফিল ফোডেন তাই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন,’আমরা আজ যেটা করেছি, সেটা ভাষায় প্রকাশ করা ভীষণ কঠিন। কোনো দল কখনই এটা (টানা চার লিগ শিরোপা জয়) পারেনি। ইতিহাসের বইয়ে নিজেদের নাম তুলেছি আমরা।’ গত সাত মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির এটা ষষ্ঠ লিগ শিরোপা। পেপ গার্দিওলা যখন এই ক্লাবে আসেন তখন কেউ যদি তাকে বলতো, সিটি এমন কীর্তি গড়বে গার্দিওলা তাকে ‘পাগল’ বলেই অভিহিত করতেন। কিন্তু কয়েক বছর ঘুরতেই সেটা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। মাঠের লড়াই, খেলোয়াড় দলে টানাসহ সবদিক থেকেই ম্যানসিটি অন্যান্যের চেয়ে এগিয়ে ছিল বলেই এমনটা সম্ভব হয়েছে বলছেন গার্দিওলা,’আমি নিশ্চিত আমাদের সমর্থক, আমাদের দল এখন সেরা। সংখ্যার দিক থেকে কেউই আমাদের চেয়ে ভালো ছিল না। যেমন গোল, পয়েন্ট, টানা চারটি লিগ ট্রফি। আমরা অবিশ্বাস্য কিছু করে ফেলেছি।’