চূড়ান্ত হলো ২০২৬-বিশ্বকাপের ১২ দল

চূড়ান্ত হলো ২০২৬-বিশ্বকাপের ১২ দল শেষ হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসর। এক মাসব্যাপী ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম সংস্করণের বিশ্বমঞ্চের লড়াইয়ে শেষ হাসিটা হেসেছে ভারত। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ৭ রানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছে টিম ইন্ডিয়া। আবার ২ বছর পর ২০২৬ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বসবে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বিশ্বকাপের দশম আসর। ১০ম আসরেও খেলবে ২০টি দল। স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে সরাসরি খেলবে ভারত এবং শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানরা সুপার এইটে যেতে না পারলেও স্বাগতিক হওয়ার ফায়দা নিয়ে সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে। এছাড়া সুপার এইটে খেলা আট দলও সরাসরি চলে যাবে বিশ্বকাপে, যার মধ্যে রয়েছে ভারতও। ভারত বাদে বাকি দলগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মোট দল হল ৯টি। এরপর সুপার এইটে উঠতে না পারা দলগুলোর মধ্যে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা ৩ দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাবে। র্যাংকিংয়ের অবস্থা অনুযায়ী সেই তিন দল হচ্ছে- নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান এবং আয়ারল্যান্ড। সর্বশেষ র্যাংকিং অনুযায়ী নিউজিল্যান্ড ছয়ে, পাকিস্তান সাতে এবং আয়ারল্যান্ড রয়েছে ১১ নম্বরে। তিনটিই টেস্ট খেলুড়ে দেশ। সব মিলে হল ১২ দল। বাকি ৮ দল আসবে বাছাইপর্ব পার করে। বাছাইপর্বে নিজ নিজ মহাদেশ অনুযায়ী বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলবে দলগুলো। এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপ মহাদেশের বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেবে ২টি করে মোট ৬টি দল। বাকি দুই দল আসবে আমেরিকা এবং পূর্ব এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় মহাদেশ থেকে। সব মিলে হল ২০টি দল। ফলে পরবর্তী বিশ্বকাপের ১২ দল ইতোমধ্যে নিশ্চিত। এখন বাছাইপর্ব পার করে খেলতে আসবে আরও ৮টি দল। প্রসঙ্গত, এবারই প্রথম ২০ দল নিয়ে বসেছে বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দল বেশি হওয়াতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও হয়েছে বেশি। অনেক বাঘা বাঘা দলকে হারিয়ে দিয়েছে সহযোগী সদস্য অনেক দেশ। সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র তো চলে গেছে সুপার এইটেও। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কার মত দল। সেমিফাইনালে খেলে ইতিহাস গড়েছে আফগানিস্তান। দল বেশি হওয়াতে লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। পরের আসরেও এমন ভালো লড়াই দেখা যাবে বলেই আশা করা যাচ্ছে।
শ্রীলঙ্কায় খেলতে দেশ ছাড়লেন হৃদয়-তাসকিন-মুস্তাফিজ

শ্রীলঙ্কায় খেলতে দেশ ছাড়লেন হৃদয়-তাসকিন-মুস্তাফিজ বিশ্বকাপ থেকে ফেরার একদিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে হচ্ছে তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও তাওহিদ হৃদয়। লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) খেলতে আজ দুপুরে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তারা। এবারের আসরে ডাম্বুলা সিক্সার্সের হয়ে খেলবেন হৃদয় ও মুস্তাফিজ। এছাড়া তাসকিন কলম্বো স্ট্রাইকার্সের হয়ে খেলবেন। গত আসরে জাফনা কিংসের হয়ে এলপিএলে খেলেন হৃদয়। এবারই প্রথম এলপিএল খেলতে চাওয়া তাসকিন দেশ ছাড়ার আগে দোয়া চেয়েছেন। বিমানবন্দরে তার সঙ্গী ছিলেন পরিবারের সদস্যরাও। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ভিন্ন অভিজ্ঞতার স্বাদ পেতে যাচ্ছেন তাসকিন। আগামীকাল সোমবার থেকে থেকে শুরু হবে এবারের এলপিএল। রাত ৮টায় হৃদয়-মুস্তাফিজের ডাম্বুলা সিক্সার্সের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের এলপিএল। তাসকিনের কলম্বো স্ট্রাইকার্সের ম্যাচ একদিন পর। আগামী ২১ জুলাই হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কে কোন পুরস্কার জিতলো

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কে কোন পুরস্কার জিতলো আরও একবার বিশ্বসেরা ভারত। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ১৭ বছর পর। নিজেদের সেরা প্রমাণ করলেন রোহিত শর্মারা। ২০১৩ সালের পর ক্রিকেটের কোনো বিশ্ব আসরে এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় করেছিল দলটা। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে একবার (২০১৭), টি-২০ বিশ্বকাপে একবার (২০১৪) এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপে একবার (২০২৩) ফাইনাল খেলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি ভারত। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও দুবার ফাইনাল খেলে শিরোপাবঞ্চিত হয়েছে। অবশেষে সাফল্য ধরা দিলো রোহিত শর্মাদের হাতে। গতকাল রাতে বার্বাডোজে অনুষ্ঠিত ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ রানে হারিয়েছে ভারত। অন্যদিকে প্রথমবার ফাইনালে এসে রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ফাইনালে ম্যাচ সেরা হয়েছেন গোটা বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে নিষ্প্রভ থাকা বিরাট কোহলি। ৭৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন কোহলি। আর টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছেন জসপ্রিত বুমরাহ। ১৫ উইকেট পেয়েছেন ডানহাতি পেসার। চলুন এক নজরে দেখে নিই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরে কে কোনো পুরস্কার জিতলো… চ্যাম্পিয়ন: ভারত রানার্স-আপ: দক্ষিণ আফ্রিকা টুর্নামেন্ট সেরা: জসপ্রিত বুমরাহ (১৫ উইকেট) ফাইনালে ম্যাচ সেরা: বিরাট কোহলি (৭৬ রান) স্মার্ট ক্যাচ: সূর্যকুমার যাদব সর্বোচ্চ রান: রহমানউল্লাহ গুরবাজ (২৮১), সর্বোচ্চ উইকেট: ফজল হক ফারুকি ও আরশদীপ সিং (১৭ উইকেট), সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর: নিকোলাস পুরান (৯৮, প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান), সেরা বোলিং ফিগার: ফজল হক ফারুকি (৯ রানে ৫ উইকেট; প্রতিপক্ষ উগান্ডা), সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট: শেই হোপ (১৮৭.৭১), সেরা ইকোনোমি: টিম সাউদি (৩.০০), সবচেয়ে বেশি ছক্কা: নিকোলাস পুরান (১৭টি), সবচেয়ে বেশি ৫০+ স্কোর: রোহিত শর্মা ও গুরবাজ (৩টি), সবচেয়ে বেশি ক্যাচ: এইডেন মার্করাম (৮টি), সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ: ২১৮ ওয়েস্ট ইন্ডিজ (প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান), সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ: ৩৯ উগান্ডা (প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।
বিশ্বকাপ জেতার পর কত প্রাইজমানি পেল ভারত?

বিশ্বকাপ জেতার পর কত প্রাইজমানি পেল ভারত? ভারতের শ্রেষ্ঠত্বের মধ্য দিয়ে পর্দা নামলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-২০২৪ এর। শনিবার রাতে বার্বাডোজে অনুষ্ঠিত ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ রানে হারিয়ে ১৭ বছর পর শিরোপা জিতেছে ভারত। অন্যদিকে প্রথমবার ফাইনালে এসে রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এবারের বিশ্বকাপের জন্য মোট ১১.২৫ মিলিয়ন ডলার বা ১৩২ কোটি টাকা প্রাইজমানির ঘোষণা দিয়ে রেখেছে আইসিসি। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক দলই মোটা অঙ্কের অর্থ পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি অর্থ গেছে চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় দলের ঝুলিতে। ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে রোহিত-কোহলিরা প্রাইজমানি হিসেবে নিয়ে গেছেন ২.৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা)। রানার্সআপ হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকাও পেয়েছে মোটা অঙ্কের অর্থ। প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে ৭ রানে হারলেও পাচ্ছে ১২ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা প্রায় ১৫ কোটি ৪ লাখ টাকা। সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তান পাচ্ছে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ ডলার বা প্রায় ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। সুপার এইট থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পাচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। প্রথমবার সুপার এইটে খেলা বাংলাদেশ পেয়েছে এই পরিমাণ অর্থ। সমান অর্থ পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং যুক্তরাষ্ট্রও। নবম থেকে দ্বাদশ এবং ১৩তম থেকে ২০তম স্থানে থাকা দলগুলোও পাচ্ছে দুই কোটি টাকার বেশি।
ফাইনালের দায়িত্বে রোহিতদের ‘অপয়া’ ইংলিশ আম্পায়ার

ফাইনালের দায়িত্বে রোহিতদের ‘অপয়া’ ইংলিশ আম্পায়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে আজ রাতে মাঠে নামবে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্বে থাকবেন রিচার্ড কেটলবরো। তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে ভারত। কারণ, তার দায়িত্বে পরিচালিত হওয়া নক-আউটের ম্যাচগুলোতে কোনো সাফল্য নেই রোহিত-কোহলিদের। তবে অন-ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে নয়। থার্ড আম্পায়ার হিসেবে থাকছেন ভারতের ‘আনলাকি’ আম্পায়ার রিচার্ড কেটলবরো। শুরুটা ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে অনফিল্ড আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন কেটলবরো। হারে ধোনির ইন্ডিয়া। ২০১৫ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের ম্যাচেও কেটলবরো ছিলেন অনফিল্ড আম্পায়ার। ২০১৬ সালে নিজ দেশে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে বিদায় নেয় কোহলিরা। সেবারও কেটলবরো অন-ফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন। এরপর ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল, ২০১৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ২০২৩ সালে ফাইনালে হারে টিম ইন্ডিয়া। প্রত্যেকটি ম্যাচে কেটলবরো দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে এর একটি ম্যাচেও জিততে পারেনি ভারত।
শ্রীলঙ্কা হেড কোচের পদত্যাগ

শ্রীলঙ্কা হেড কোচের পদত্যাগ চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকেই ছিটকে গেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও প্রথম পর্বের গেরো খুলতে পারেনি লঙ্কানরা। এরই মধ্যে এবার শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের হেড কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ক্রিস সিলভারউড। যদিও আচমকা পদত্যাগের জন্য ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছেন তিনি। এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। পদত্যাগের ঘোষণায় সিলভারউড বলেন, ‘আন্তর্জাতিক কোচ হওয়া মানে প্রিয়জনদের থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকা। পরিবারের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর মনে করছি এখনই আমার বাড়ি ফেরার সময় এবং পরিবারের সান্নিধ্যে সময় কাটানো প্রয়োজন।’ আরও যোগ করেন, ‘আমি খেলোয়াড়, কোচ, ব্যাকরুম স্টাফ এবং এসএলসির (শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট) ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। শ্রীলঙ্কায় থাকার সময়ে তাদের সমর্থন ছিল অসাধারণ। সমর্থন ছাড়া, কোনো সাফল্য সম্ভব হতো না।’ ক্রিস সিলভারউডের অধীনে সাম্প্রতিককালে খারাপ সময় কাটলেও বেশ কিছু সাফল্যও এসেছে। শ্রীলঙ্কা জাতীয় দল ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ জিতেছে এবং ২০২৩ সালের ওয়ানডে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে।
প্রোটিয়াদের শাপমোচন নাকি আফগান রূপকথা

প্রোটিয়াদের শাপমোচন নাকি আফগান রূপকথা গ্রুপ পর্বের চার এবং সুপার এইটের তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপে এখনও অপরাজিত তারা। এমন অপরাজিত থেকে প্রোটিয়াদের নকআউট পর্বে পা রাখার ঘটনা বিরল নয়। নজিরবিহীন হলো নক আউট পর্বের শাপমোচন করা। সর্বশেষ নয় বৈশ্বিক আসরের মধ্যে মাত্র একটিতে নক আউট পর্ব পার হতে পেরেছে তারা। কখনও বৃষ্টি কপাল পুড়িয়ে তাদের নিশ্চিত ফাইনাল থেকে বঞ্চিত করেছে। কখনও জেতা ম্যাচ হুট করে হেরে নিজেদের চোকার্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এবারও কী আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে প্রোটিয়ারা চোকিং করবে? নাকি যুবা বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক এইডেন মার্করামের হাত ধরে অভিশাপমুক্ত হয়ে ফাইনালে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা? প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল সকাল পর্যন্ত।বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ছয়টায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওই ম্যাচ জিতলে বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখবে তারা। অন্য দিকে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে প্রথমবার সেমিফাইনালে উঠেছে আফগানিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেনা কন্ডিশনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে পারলেই রূপকথার জন্ম দিয়ে ফাইনালে খেলবে রশিদ খান-গুলবাদিন নাঈবরা। শক্তির বিচারে আফগানদের চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা অনেক এগিয়ে। গ্রুপ পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে তারা। সুপার এইটে ভারত আফগানদের হারিয়েছে বড় ব্যবধানে। বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতেও ঘাম এবং দম ছুটে গেছে রশিদ খানদের। তবে ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়াম বাড়তি আশা দিচ্ছে আফগানদের। সেখানকার উইকেট বেশ স্পিন সহায়ক এবং ধীর। অল্প রানের ম্যাচই দেখা গেছে এখন পর্যন্ত। আফগানরা সেখানে পাপুয়া নিউগিনিকে ৯৫ রানে অলআউট করেছিল। নিউজিল্যান্ডকে ১৪৯ রানের লক্ষ্য দিয়েও জিতেছিল ১৩ রানে।
লিটনের এই হাসি বড্ড বেমানান

লিটনের এই হাসি বড্ড বেমানান সেরা আটে খেলতে নেমে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে অস্ট্রেলিয়া ও পরে ভারতের বিপক্ষে পরাজয় দেখেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। ব্যাটিং ব্যর্থতার চূড়ান্ত সীমায় অবস্থান করে গতকাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে নেমেছিল বাংলাদেশ। এই ম্যাচেও প্রেক্ষাপট তেমন বদলায়নি। সহজ লক্ষ্যও পার করতে পারেনি শান্ত বাহিনী।তবে এই ম্যাচে ব্যতিক্রম ছিলেন লিটন দাস। ৪৯ বলে ৫৪ রানের স্বস্তির এক ইনিংস খেলেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ছিলেন অপরাজিত। দীর্ঘদিন পরে রানে ফিরতে পেরে বেজায় খুশি থাকতে দেখা গেছে লিটনকে। তবে দলের জন্য তার এই রান কতটা কাজে দিয়েছে?বাংলাদেশ হেরেছে ৮ রানে। সেমিফাইনালে যাওয়ার সমীকরণ ছিল ১২.১ ওভারে ১১৬ রান তোলা। পরে কমে সেটি ১১৪ তে দাঁড়ায়। এই সমীকরণ তো মেলাতেই পারেননি লিটন, উলটো ৮ রানে হেরে বসেছেন। জয় তুলে নেওয়ার জন্য খেলেননি। যদি তিনি খেলতেন তাহলে ৪৯ বলে রান ৫৪ হওয়ার কথা ছিল না। আর ৮ রানে হারের বিষয়টিও আসত না। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থেকেছেন। বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়েছেন। তবে আফসোসে ভাসিয়েছেন পুরো দেশকে। চলতি বছরে এটিই লিটনের প্রথম ফিফটি। কিন্তু সেটিতে নিজে তৃপ্তির ঢেকুর তুললেও দলের জন্য সফলতা তুলে আনতে পারেননি।বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় খেলা শুরু হলে দেশের ক্রিকেট সমর্থকরা চোখ রেখেছিলেন টিভি কিংবা মোবাইলের পর্দায়। আফগান বাহিনী নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১৫ রান তুললে ভক্তরা আশায় বুক বাঁধেন। টি-টোয়েন্টি ১২.১ ওভারে এই লক্ষ্য ভেদ করা কঠিন কিছু না। বাংলাদেশের সামনে হারানোর কোনো ভয় ছিল না। তাতে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে এই লক্ষ্য তাড়াই ছিল একমাত্র উদ্দেশ্য। কিন্তু লিটনদের দেখে অন্যরকম কিছু মনে হয়। তারা ১২.১ ওভারে নয়, ২০ ওভারে খেলা শেষ করার কিংবা জয় তুলে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আগাতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে ভক্তরা সামাজিকমাধ্যমে তোলপাড় অবস্থা করে তোলেন।ম্যাচের মাঝে বেশ কয়েক বার বৃষ্টি বাগড়া বাধিয়েছে। এর মধ্যে ১১.৪ ওভারে বন্ধ হয় খেলা। সে সময়ে সেমি নিশ্চিতের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ৩ বলে ৩৩ রান। যা রীতিমতো অসম্ভব বিষয়। অর্থাত্ কোটি কোটি ভক্তের আশা ভেঙে চৌচির অবস্থা। ঠিক তখন লিটন হাসি ও মজায় ব্যস্ত হলেন আফগান ক্রিকেটারদের সঙ্গে। এই ম্যাচ ঘিরে আফগানিস্তানের কোচ জনাথন ট্রট, বোলিং কোচ ডোয়াইন ব্রাভো যেভাবে নিবেদন দেখিয়েছেন, সেটি ক্রিকেটে বিস্ময়কর। ফুটবলে সাধারণত এমনটা দেখা গেলেও ক্রিকেটে সচরাচর কোচদের এমন নিবেদন দেখা যায় না। বাংলাদেশের কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে কেবল শান্ত হয়ে বসে থাকাকে গুরুত্ব দিয়েছেন সেখানে শিষ্যদের কিছু ভুল কিংবা ব্যর্থতায় মাথা চেরার মতো অবস্থা করেছেন প্রতিপক্ষের কোচরা।শুধু কোচ নয়, আফগান ওপেনার ও উইকেটরক্ষক রহমানউল্লাহ গুরবাজ কংক্রিটে নিজের মাথা ঠুকেছেন। জয় তুলে নেওয়ার পরে তো কান্না ছাড়া সেই আনন্দ প্রকাশের ভাষা কেউ খুঁজে পাননি। এমন আনন্দে অঝোরে কেঁদেছেন সকলে। সেই জায়গাতে লিটনের মুখের ঐ হাসি বড্ড বেমানান লেগেছে ভক্তদের কাছে। কেবল লিটন নয়, নাফিস ইকবালের পাশে বসে সাকিব আল হাসানের পা দোলানো আর মুচকি হাসিও পুড়িয়েছে ভক্তদের। সবমিলিয়ে ম্যাচ হারার পাশাপাশি আফগানদের নিবেদনের কাছেও হেরেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে আফগানিস্তানের ইতিহাস

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে আফগানিস্তানের ইতিহাস দ্বাদশ ওভারের প্রথম বল। রশিদ খানের গুগলিটা পাঞ্চ করে লং অনে ঠেলে ১ রান নিলেন তানজিম হাসান সাকিব। স্কোর বোর্ডে ১ রান যোগ হলেও বাংলাদেশ ছিটকে গেল চলমান বিশ্বকাপের বোর্ড থেকে। শেষ হয়ে যায় সেমিফাইনালের আশা। সেখান থেকে ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা থাকলেও সেটা হলো না। বৃষ্টি আইনে ৮ রানে হেরে সুপার এইটেই বিশ্বকাপ মিশনের সমাপ্তি ঘটলো নাজমুল হোসেনের দলের। বাংলাদেশকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার সেমিফাইনালে উঠলো আফগানিস্তান। সেই সঙ্গে নেট রান রেটে পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকেও পেছনে ফেলে ইতিহাস গড়েছে রশিদ খানের দল। আজ মঙ্গলবার (২৫ জুন) সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নেস ভ্যালে স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের বোলিং তোপে ১১৫ রান করতে পারে আফগানিস্তান। সেমিফাইনালে যেতে হলে ১১৬ রানের লক্ষ্য ১২.১ ওভারেই পার হতে হতো বাংলাদেশকে। সেই উদ্দেশ্যে রান তাড়ায় নামলেও লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষমেশ জিততে পারেনি ম্যাচও। ১৭.৫ ওভারে ১০৫ রানেই গুটিয়ে গেছে লাল-সবুজের দল। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ফজল হক ফারুকির গুড লেংথের বল একপাশে সরাতে গিয়ে মিস করেন তানজিদ হাসান তামিম। বল আঘাত করে তার প্যাডে। আঙ্গুল তুলে দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়েও অবশ্য রক্ষা হয়নি। ৩ বলে কোনো রান না করেই ফিরে যান তানজিদ। দ্বিতীয় ওভারে আবারও উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নাভিন-উল-হকের ফুল লেংথের স্লোয়ার বুঝতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। উড়িয়ে দিয়েছিলেন ডিপ স্কয়ার লেগে। অনায়াস ক্যাচ নেন মোহাম্মদ নবী। পরের বলে সাকিব আল হাসানকেও ফেরান নাভিন। নিজের বলেই ক্যাচ নিয়ে সাকিবকে শূন্য রানে বিদায় করেন তিনি। এরপর ক্রিজে আসেন সৌম্য সরকার। একপ্রান্তে ভালো খেলতে থাকা লিটনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন এই বাঁহাতি। এরপরই শুরু হয় বৃষ্টি। বৃষ্টিতে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। পুনরায় খেলা শুরু হলে দলকে নিয়ে এগোতে থাকেন লিটন-সৌম্য। পাওয়ারপ্লে’তে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৬ রান। এরপরই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন সৌম্য সরকার। ১০ বলে ১০ রান করে রশিদের লেগ স্পিনে ধরা খান তিনি। সৌম্যের আউটের পর দুই চারে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তাওহীদ হৃদয়। তবে তাকেও ফিরিয়ে বাংলাদেশকে এক প্রকার খাদে ঠেলে দেন আফগান অধিনায়ক রশিদ। এরপর মাহমুদউল্লাহ ক্রিজে এসে জুটি বাঁধেন লিটনের সঙ্গে। কিন্তু দলের সেমিফাইনালের স্বপ্নের পালে হাওয়া লাগানোর বদলে উল্টো আশার শেষটুকুও নিরাশা করে দেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ৯ বলে ৬ রান করে বিদায় নেন তিনি। সেই সঙ্গে শেষ হয় বাংলাদেশের সেমির আশা। পরের বলে রিশাদ এসে ফেরেন কোনো রান না করেই। তানজিম সাকিবও পারলেন না টিকতে। ৩ রানে তাকে আউট করেন গুলবাদিন। দলের এই বিপর্যয়ের মাঝেই ফিফটি করেন লিটন। একপ্রান্ত আগলে ৪১ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে যান এই ওপেনার। এরপর লিটনকে সঙ্গ দেন তাসকিন। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শেষে মোস্তাফিজকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেই উল্লাসে মেতে ওঠে আফগানরা। এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৮ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। একাদশ ওভারে আফগান শিবিরে প্রথম আঘাত করেন রিশাদ হোসেন। তার লেগ স্পিনে সাজঘরে ফেরান ২৯ বলে ১৮ রান করা ইব্রাহিম জাদরান। এ সময় টানা ১২ ডট বল খেলে আফগানিস্তান। চতুর্দশ ওভারে মিস হয় আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ক্যাচ।
সেরা আটে অস্ট্রেলিয়ার হুমকি, নাকি বাংলাদেশের চমক

সেরা আটে অস্ট্রেলিয়ার হুমকি, নাকি বাংলাদেশের চমক নবম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের খেলা শেষে এখন চলছে সেরা আটের লড়াই। এই পর্বে ওঠার আগেই কয়েকটি বড় দল বাড়ির পথ ধরেছে। শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ডের মতো দলও বিদায় নিয়েছে। আবার প্রথমবারের মতো খেলতে আসা যুক্তরাষ্ট্র জাদু দেখিয়ে জায়গা করে নিয়েছে সেরা আটে। সেখানে রয়েছে লাল-সবুজের বাংলাদেশও। আগামীকাল সকাল সাড়ে ৬টায় স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগার বাহিনী। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরে সেরা আটে খেলেছিল বাংলাদেশ। ২০০৭ সালের পরে এবার দ্বিতীয় বারের মতো সেই পর্বে পা রেখেছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।