১৬ লাখ মার্কিন ডলার পাচ্ছেন প্যাট কামিন্সরা

১৬ লাখ মার্কিন ডলার পাচ্ছেন প্যাট কামিন্সরা  ঐতিহ্যের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে ৪–১ ব্যবধানে হারানো অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের জন্য অপেক্ষা করছে মোটা অঙ্কের বোনাস। ঘরের মাঠে এই সিরিজে আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও দ্রুতই ক্রিকেটারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য আর্থিক পুরস্কার দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। স্টিভ স্মিথের নেতৃত্বে সিরিজে ১১ দিনেই ৩–০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ২০১৭ সাল থেকে অ্যাশেজের ‘ছাইদানি’ নিজেদের কাছে রেখেছে অজিরা। ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে ‘ব্যাগি গ্রিনস’রা মোট ১৬ লাখ মার্কিন ডলার বোনাস ভাগ করে নেবেন। সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য অজি পেসার মাইকেল নেসার ও অভিষিক্ত ব্যাটার জেক ওয়েদারাল্ডও ব্যক্তিগতভাবে বড় অঙ্কের অর্থ পেতে যাচ্ছেন। নেসার পুরো সিরিজে ১৫ উইকেট নেন ১৯.৯৩ ইকোনমিতে, আর ওয়েদারাল্ড নিজের প্রথম অ্যাশেজেই নজর কাড়েন দারুণ ব্যাটিংয়ে। এই দুই ক্রিকেটারের রাজ্য দলের চুক্তির আয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) ন্যূনতম কেন্দ্রীয় চুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। যার পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। রাজ্য চুক্তিতে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫ হাজার ডলার পাওয়া যায়। ফলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্টভিত্তিক বেতন কাঠামোর শর্ত পূরণ করায় নেসার ও ওয়েদারাল্ড আরও প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ডলার অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। ওয়েদারাল্ড সিরিজ শেষ করেন ২০১ রান নিয়ে, গড় ছিল ২২.৩৩। অবশ্য শেষ তিনটি টেস্টে ভুগতে দেখা গেছে তাকে। গ্যাবায় নিজের প্রথম টেস্টে ২১ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটার। অ্যাশেজে দাপুটে জয়ের সুবাদে আইসিসির বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ র‍্যাংকিংয়েও শীর্ষে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। টপকে গেছে নিউজিল্যান্ডকে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড নেমে গেছে সপ্তম স্থানে। তবে সিরিজের এই সাফল্যের মাঝেই বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্ন ও পার্থ টেস্ট সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় সংস্থাটির আয় কমেছে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ ভবিষ্যতে উইকেট প্রস্তুতির দিকে আরও সতর্ক থাকার ইঙ্গিত দেন। গ্রিনবার্গ বলেছিলেন, ‘সংক্ষিপ্ত টেস্ট ব্যবসার জন্য ভালো নয়। এর চেয়ে স্পষ্ট করে বলার কিছু নেই। ব্যাট ও বলের মধ্যে আরও ভারসাম্য থাকা দরকার।’

ওয়াসিম-শান্তের ব্যাটে রাজশাহীর সহজ জয়

ওয়াসিম-শান্তের ব্যাটে রাজশাহীর সহজ জয় বিপিএলের সপ্তম ম্যাচে অনায়াস জয় পেয়েছে রাজশাহী ওয়োরিয়র্স। রবিবার (১১ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সের দেওয়া ১৭৯ রানের লক্ষ্য রাজশাহী ১৯.১ ওভারে পৌঁছে যায়। জয় এসেছে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মুহাম্মদ ওয়াসিম ও ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেন শান্তের অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে। রান তাড়া শুরু করে মাত্র ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় রাজশাহী, তানজিদ হাসান তামিম আউট হন। এরপর ওয়াসিম ও শান্ত ১৪২ রানের দৃঢ় জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথ দেখান। শান্ত ৪২ বল খেলে ৬টি চার ও ৪ ছক্কায় ৭৬ রান করে আউট হন। অপরদিকে ওয়াসিম ৫৯ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় অপরাজিত ৮৭ রানে দলের জয় নিশ্চিত করেন। রংপুরের হয়ে আকিভ জাভেদ দুই উইকেট নেন, চার ওভারে খরচ করেন ৪৩ রান। মোস্তাফিজুর রহমান এক উইকেট নেন, ৪ ওভারে ৩৪ রান খরচ করেন। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন নাজমুল হোসেন শান্ত। রংপুরের ব্যাটিংয়ে হৃতিক হৃদয় ৫৬ বল খেলে ৮টি চার ও ৬ ছক্কায় অপরাজিত ৯৭ রান করেন। মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে তিনি নিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন। শেষ দিকে খুশদীলও ঝড় তোলেন, ২৯ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৪ রান যোগ করেন। লিটন দাস ১১ ও ইফতিখার আহমেদ ৮ রান করেন। এর ফলে রংপুরের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৮ রান। রাজশাহীর হয়ে বল হাতে তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মন্ডল, জিমি নিসাম ও সন্দিপ লামিচানে একটি করে উইকেট নেন। এই জয়ে ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে রাজশাহী। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে রংপুর তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে।

বাংলাদেশ ইস্যুতে নীরবতা ভাঙলো ভারতীয় বোর্ড

বাংলাদেশ ইস্যুতে নীরবতা ভাঙলো ভারতীয় বোর্ড দরজায় কড়া নাড়ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। হাতে নেই এক মাসও। অংশ নিতে যাওয়া দলগুলো ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে। তবে বাংলাদেশ দল রয়েছে আসন্ন আসরে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তায়। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে আইসিসিতে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এতদিন এই ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করলেও অবশেষে নীরবতা ভেঙেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। গতকাল বিসিসিআইয়ের বৈঠক হয় মুম্বাইয়ে। বৈঠক শেষে বিসিসিআই সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়ার কাছে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিল, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরাতে আইসিসির কাছে বাংলাদেশের অনুরোধ নিয়ে। দেবাজিৎ বলেন, ‘এই বৈঠক মূলত সেন্টার অব এক্সিলেন্স ও অন্যান্য ক্রিকেটবিষয়ক আলোচনার জন্য ছিল। (বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে কি না) এটি আমাদের আলোচনার বিষয় নয়।’

ডাম্বুলায় বৃষ্টির দাপটে পরিত্যক্ত পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ

ডাম্বুলায় বৃষ্টির দাপটে পরিত্যক্ত পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের ৩ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে। শুক্রবার ডাম্বুলায় অনবরত বৃষ্টিতে টসও হতে পারেনি। টানা বৃষ্টির কারণে একাধিকবার সময় নির্ধারণ করেও খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে দুই দলেরই এখন সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচের দিকে মনোযোগ। এর আগে, বুধবার সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ডাম্বুলার এই রাঙ্গিরি ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটে জয় পেয়ে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে পাকিস্তান। ওই ম্যাচে ১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ২০ বল হাতে রেখেই ছয় উইকেটে জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি আগামী রোববার একই মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

রিশাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শীর্ষস্থান পাকাপোক্ত করল হোবার্ট

রিশাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শীর্ষস্থান পাকাপোক্ত করল হোবার্ট প্রথমবার বিগ ব্যাশ খেলতে নেমে স্পিন জাদু দেখিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশি তারকা রিশাদ হোসেন। আরও একবার তার দুর্দান্ত স্পেলে টানা পঞ্চম জয় পেয়েছে হোবার্ট হারিকেন্স। এই লেগস্পিনার ৪ ওভারে ২৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট শিকার করেছেন। যার সুবাদে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সকে ৩৭ রানে হারিয়েছে হোবার্ট। ১২ পয়েন্ট নিয়ে রিশাদের দলটি বিগ ব্যাশের শীর্ষে রয়েছে। আজ নিজেদের মাঠ বেলেরাইভ ওভালে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে হোবার্ট হারিকেন্স। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তারা ১৭৮ রান সংগ্রহ করে। এদিন ব্যাটিংয়ে নামা হয়নি রিশাদের। তবে তার সতীর্থ মিচেল ওয়েন ৯ বলে সর্বোচ্চ ৩৩ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন। তার ইনিংসটি সাজিয়েছেন ২টি চার ও ৪ ছক্কায়। হোবার্টের হয়ে কেউই বেশিক্ষণ ক্রিজে থিতু হতে পারেননি। তবে বেশ কয়েকজন ক্যামিও ইনিংস খেলায় তারা চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়ে যায়। রেহান আহমেদ ১৭ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ২৯, ম্যাথু ওয়েড ১৯ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় ২৭ এবং নিখিল চৌধুরী ২৩ রান করেছেন। বিপরীতে অ্যাডিলেডের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন লুক উড ও জেমি ওভারটন। ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই বড় বিপর্যয়ে পড়ে অ্যাডিলেড। ৮ রানেই তারা ৪ উইকেট হারায়। এর মধ্যে হোবার্টের অধিনায়ক নাথান এলিস ও রাইলি মেরেডিথের ভাগে গেছে ২টি করে। এর পরের ম্যাজিক রিশাদের। তিনি ৩ উইকেট নিয়ে অ্যাডিলেডের মেরুদণ্ড আরও ভেঙে দেন। যদিও একপ্রান্তে অটল ছিলেন লিয়াম স্কট। তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ক্রিজ ছেড়েছেন। দল জিতলে ৫৮ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৯১ রান করা স্কট হতে পারতেন অ্যাডিলেডের নায়ক। তবে আর কেউই তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। স্কট ছাড়া অ্যাডিলেডের হয়ে দুই অঙ্কের (১১) ঘরে যেতে পেরেছেন কেবল লুক উড। এ ছাড়া দলটির আর কেউই ‍দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পারেননি। ফলে স্কটের ৯১ রানের বাইরে বাকিরা মিলে করেছেন ৫০ রান। হোবার্টের হয়ে রিশাদ সর্বোচ্চ ৩ এবং মেরেডিথ ও এলিস ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর রাজশাহীকে শেষ বলে হারাল চট্টগ্রাম

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর রাজশাহীকে শেষ বলে হারাল চট্টগ্রাম রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে লো স্কোরিং ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জিতেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। রাজশাহীর দেওয়া ১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ফল এসেছে একেবারে শেষ বলে। ১ বলে যখন আর দরকার ২ রান, ম্যাচটি সুপার ওভারে গড়ায় কি না সেই প্রশ্নও জেগেছিল। তবে মাথা ঠান্ডা রেখে হাসান নেওয়াজ ২ রান নিয়ে ২ উইকেটে চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত করেন। এ নিয়ে সাত ম্যাচে পঞ্চম জয় পেল টেবিল টপাররা। চলমান বিপিএলে চট্টগ্রাম পর্বের বদলে সেখানকার ম্যাচগুলো সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে হচ্ছে। সেখানে আজ দিনের প্রথম ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপর্যয়ে পড়ে রাজশাহী। যার শুরুটা হয়েছিল শুরু থেকেই। দলীয় ২১ রানে ১৪ বলে ১৯ রান করা ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিমকে বোল্ড করে দেন চট্টগ্রামের স্পিনার তানভীর ইসলাম। এরপর রাজশাহী আর কোনো বড় জুটি গড়তে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে শেষ পর্যন্ত উইকেটের মিছিল চলমান ছিল। নাজমুল হোসেন শান্ত এবং তানজিদ হাসান তামিম উভয়েই দুই অঙ্কের ঘরে ছুঁতে ব্যর্থ। ওয়াসিম এবং এস মেহরবের করা সমান ১৯ রানই রাজশাহীর পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস। এ ছাড়া আকবর আলি ১৭, মুশফিকুর রহিম ১৫ ও তানজিম হাসান সাকিব ১৪ রান করেন। ফলে খুব একটা চ্যালেঞ্জিং দলীয় সংগ্রহ পায়নি রাজশাহী। চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন আমির জামাল। এ ছাড়া শরিফুল ইসলাম ও তানভীর ২টি করে শিকার ধরেন। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমে চট্টগ্রামও যথারীতি শুরু থেকে বিপর্যয়ে পড়ে। তবে টেস্ট মেজাজে হাসান নেওয়াজ একপ্রান্ত আগলে রাখাটা তাদের জন্য কাজে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি ৩৬ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ ছাড়া অধিনায়ক শেখ মেহেদী ২৫ বলে ২৮, আসিফ আলি ২৫ বলে ২৭ এবং অ্যাডাম রসিংটন ১৭ রান করেছেন। শেষ ওভারে চট্টগ্রামের যখন ১০ রান প্রয়োজন, তখন রাজশাহীর পেসারদের বোলিং কোটা শেষ। ফলে আক্রমণে আনা হয় স্পিন অলরাউন্ডার মেহরবকে। ২০তম ওভারের প্রথম ৩ বলে মেহরব এক বাউন্ডারিসহ ৮ রান দেওয়ার পরের দুই ডেলিভারি ডট করেছেন। তিনি অবশ্য একটি রানআউট মিস না করলে ভিন্ন কিছুও হতে পারত। তবে জমে ওঠে লো স্কোরিং ম্যাচটি। শেষ বলে হাসান ২ রান নিয়ে জয় বাগিয়ে নেন চট্টগ্রামের পক্ষে। রাজশাহীর পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন বিনুরা ফার্নান্দো। মেহরব নেন ২ উইকেট। এ নিয়ে ৭ ম্যাচে পঞ্চম জয় নিয়ে ১০ পয়েন্টে শীর্ষস্থান আরও পাকাপোক্ত করল চট্টগ্রাম। ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে রাজশাহী চার নম্বরে রয়েছে। যথাক্রমে দুই-তিনে থাকা রংপুর রাইডার্স ও সিলেট টাইটান্সের পয়েন্টও সমান ৮। তবে রংপুর ৫ এবং সিলেট ৮ ম্যাচ খেলেছে ইতোমধ্যে।

নাটকীয়তার শেষে মুখ থুবড়ে পড়ল রাজশাহী

নাটকীয়তার শেষে মুখ থুবড়ে পড়ল রাজশাহী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসরের ১৯তম ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বোলিং তোপে মুখ থুবড়ে পড়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম। ব্যাট হাতে নেমে রাজশাহী নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে মাত্র ১২৮ রান। পুরো ইনিংসে রাজশাহীর কোনো ব্যাটারই ২০ রানের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন মোহাম্মদ ওয়াসিম ও এস এম মেহরব। মুশফিকুর রহিম ও রায়ান বার্ল দুই অঙ্কে পৌঁছালেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া আকবর আলী ১৬ বলে করেন ১৭ রান। শেষদিকে তানজিম হাসান সাকিব ১৪ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।

চার-ছক্কার বৃষ্টিতে রাজশাহীর নায়ক ওয়াসিম, নোয়াখালীর ষষ্ঠ হার

চার-ছক্কার বৃষ্টিতে রাজশাহীর নায়ক ওয়াসিম, নোয়াখালীর ষষ্ঠ হার হারতে হারতে ক্লান্ত নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে আরো একটি পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ দিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নোয়াখালীকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে রাজশাহী। তাদের জয়ের নায়ক সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোহাম্মদ ওয়াসিম। চার-ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে দারুণ ব‌্যাটিং করেছেন ওয়াসিম। ৩৫ বলে ৪টি করে চার ও ছক্কায় ৬০ রান করেন তিনি। বিপিএলে এর আগে চট্টগ্রাম চ‌্যালেঞ্জার্সের হয়ে ১ ম‌্যাচ খেলেছিলেন তিনি। রান করেছিলেন ১। আজ রাজশাহীর জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নেমে বাজিমাত করলেন ওয়াসিম। তার বিস্ফোরক ইনিংসে রাজশাহী ৬ বল হাতে রেখে নোয়াখালীর দেওয়া ১৫২ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে অতি সহজে। ৫ ম‌্যাচে এটি রাজশাহীর চতুর্থ জয়। চট্টগ্রাম ও রংপুরের মতো তাদেরও পয়েন্ট ৮। টস হেরে ব‌্যাটিং করতে নেমে নোয়াখালীর ইনিংস এগিয়েছে ধীর গতিতে। পাওয়ার প্লে’তে দুই ওপেনার শাহাদাত ও সৌম‌্য ৪১ রান জমা করতে পারেন। তবে আশার বিষয় এদিন শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েনি দলটি। এর আগে ওপেনিংয়ে তাদের সর্বোচ্চ রান হয়েছিল ২৪। সৌম‌্য ও শাহাদাত ৭.৫ ওভারে জমা করে ৫৭ রান। শাহাদাতকে (৩০) আউট করে রিপন মন্ডল ভাঙেন এই জুটি। তিনে নামা মাজ সাদাকাত সুবিধা করতে পারেননি। ১৩ বলে ৭ রান করে শান্তর শিকার হন। আরেক প্রান্তে সৌম‌্য এগিয়ে যান নিজের মতো করে। আগ্রাসী ব‌্যাটিং করতে পারেননি। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী দলের দাবি মিটিয়েছেন। মোহাম্মদ নবীর সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৪০ রানের জুটি গড়ার পথে সৌম‌্য তুলে নেন টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি। ৪০ বলে মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। এজন্য ৬ চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান। ফিফটির পর আরেকটি ছয় আসে তার ব‌্যাট থেকে। কিন্তু থেমে যান ওই ছক্কাতেই। হাসান মুরাদের শর্ট বল উড়াতে গিয়ে মিড উইকেটে ধরা পড়েন সৌম‌্য। ৪৩ বলে ৫৯ রানে আউট হন তিনি। সেখান থেকে নবীর ৩৫ এবং মাহিদুলের ১০ রানে নোয়াখালী বলার মতো ১৫১ রানের পুঁজি পায়। রাজশাহীর হয়ে বল হাতে ২৭ রানে ২ উইকেট নেন রিপন মন্ডল। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন বিনুরা ফার্নান্দো, শান্ত ও হাসান। জবাব দিতে নেমে ৫ ওভারে ৪৭ রান তুলে নেয় রাজশাহী। পেসার মেহেদী হাসান রানা তানজিদকে ফিরিয়ে ভাঙেন জুটি। কিন্তু আরেক প্রান্তে ওয়াসিম অনায়েস ব‌্যাটিংয়ে রান তুলতে থাকেন। নোয়াখালীর বোলাররা তার সামনে খুব কার্যকর হতে পারেননি। চার-ছক্কার স্রোত ছিল তার ব‌্যাটে। ২৯ বলে ফিফটি তুলে নিতে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কা হাঁকান ডানহাতি হার্ডহিটার। মাইলফলক ছোঁয়ার পর এগিয়ে যায় ব‌্যাট। কিন্তু তার ইনিংসটি কাটা পড়ে রান আউটে। দৌড়ে ২ রান নেওয়ার চেষ্টায় ব‌্যর্থ হন। অবশ‌্য প্রান্ত বদলের সময় বোলারের সঙ্গে তার প্রায় সংঘর্ষ হয়ে যাচ্ছিল। তাতে নষ্ট হয় তার ছন্দ। ওয়াসিম ফেরার পর মুশফিকুর রহিমের ১৯ ও রায়ান বার্লের অপরাজিত ১৯ রানে রাজশাহীর জয় চলে আসে অতি সহজে। বোলিংয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রানা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় তার একার লড়াই বৃথা যায়।

‘খালেদ অবাক করে দিয়েছিলেন সবাইকে’

‘খালেদ অবাক করে দিয়েছিলেন সবাইকে’ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার চট্টগ্রাম রয়্যালসের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য থেকে ১৪ রান দূরে থামে সিলেট টাইটান্স। তবে শেষ ওভারেও কিছুটা হলেও জয়ের সম্ভাবনা ছিল সিলেটের৷ মূলত দুর্দান্ত এক ক্যামিওতে প্রায় মিরাকল ঘটিয়ে দিচ্ছিলেন সিলেটের খালেদ। তার এমন ব্যাটিংয়ে অবাক হয়েছেন চট্টগ্রামের মাহমুদুল হাসান জয়। ১৮তম ওভারে খালেদ যখন ১১ নম্বর ব্যাটার হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামেন তখনও ১৩ বলে ৪২ রান প্রয়োজন সিলেটের। ১৯তম ওভারে শরিফুল ইসলামকে প্রথম দুই বলে মারেন টানা দুই ছক্কা। ওই ওভারে আরও এক চারে আসে ১৭ রান। শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ২৫ রানের। শেষ ওভার করতে তানভীর ইসলামকেও প্রথম বলে ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে চতুর্থ বলে আউট হয়ে যান খালেদ। তার ব্যাট থেকে আসে ৯ বলে ২৫ রান। খালেদের এমন ব্যাটিং নিয়ে জয় বলেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই। খালেদ ভাই একটু সারপ্রাইজ করেই দিয়েছিল সবাইকে। আমাদের মেইন বোলার শরিফুল-তানভীর। ওদের কয়েকটা ভালো ছয় মেরে দিয়েছিল। একটু তো সারপ্রাইজ সবাই হয়ে গেছিল।’ বুধবার চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ২১ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন জয়। প্রায় ২১০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালিয়েছেন জাতীয় দলের এই ব্যাটার। নিজের ইনিংস নিয়ে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচসেরা জয় বলেন, ‘আমি যখন ব্যাটিংয়ে যাই তখন মনে হয়েছিল উইকেট খুবই ভালো। মারলে হয়তোবা লাগবে। তাই আমি চেষ্টা করেছি।’

বিপিএলের উপস্থাপনা প্যানেল থেকে বাদ পড়লেন ভারতীয় উপস্থাপক

বিপিএলের উপস্থাপনা প্যানেল থেকে বাদ পড়লেন ভারতীয় উপস্থাপক চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) উপস্থাপনা প্যানেল থেকে বাদ পড়েছেন ভারতীয় উপস্থাপক রিধিমা পাঠক। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে তাকে উপস্থাপক প্যানেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবারের বিপিএলে উপস্থাপনা ও ধারাভাষ্য প্যানেলে ভিন্নতা এনেছিল বিসিবি। উপস্থাপক হিসেবে পাকিস্তানের জয়নব আব্বাসের সঙ্গে ছিলেন ভারতের রিধিমা পাঠক। পাশাপাশি ধারাভাষ্যকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান রমিজ রাজা এবং ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার ড্যারেন গফকে। তবে সাম্প্রতিক বাংলাদেশ-ভারত রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রিধিমার বিপিএল যাত্রার সমাপ্তি ঘটে। গত ৩ জানুয়ারি ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর জরুরি সভা ডাকে বিসিবি। এরপর নিরাপত্তা ইস্যুতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে অপারগতার কথা জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয় বিসিবি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু ভারত থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবিও জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার দেশীয় অপারেটরদের মাধ্যমে আইপিএল সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এসব ঘটনার মধ্যেই বিপিএলের উপস্থাপনা প্যানেল থেকে রিধিমা পাঠককে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।