পিএসএল খেলার অনুমতি পেলেন মুস্তাফিজ-শরিফুলরা

পিএসএল খেলার অনুমতি পেলেন মুস্তাফিজ-শরিফুলরা পাকিস্তান সুপার লিগে পিএসএল এবার দল পেয়েছেন বাংলাদেশের পাচ তারকা ক্রিকেটার। আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলতে তারা বিসিবির এনওসি (অনাপত্তি) পাবেন কি না, পেলেও তা কতদিনের জন্য সেই আলোচনা ছিল। অবশেষে জানা গেছে, পাঁচ ক্রিকেটারকেই এনওসি দিয়েছে বিসিবি। তারা লিগটিতে খেলতে পারবেন ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। এবারের পিএসএলে সরাসরি চুক্তিতে বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছিল লাহোর কালান্দার্স। এরপর নিলামে দল পান রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা ও পারভেজ হোসেন ইমন। সবশেষ দিন দুয়েক আগে পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে শরিফুল ইসলামও প্রথমবার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে ডাক পেয়েছেন। সব ঠিক থাকলে নাহিদ রানার সঙ্গে পেশোয়ার জালমিতে দেখা যাবে বাঁহাতি এই পেসারকে।
ইরানের আবেদন প্রত্যাখ্যান ফিফার

ইরানের আবেদন প্রত্যাখ্যান ফিফার নিরাপত্তা ইস্যুতে ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত তাদের বিশ্বকাপের সমস্ত ম্যাচ সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। তবে তেহরানের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে ফিফা। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। সূচি অনুযায়ী ইরানের দুটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের জাতীয় দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন, এমন পরিস্থিতিতে তারা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে আগ্রহী নন। ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ মেক্সিকোতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে আমেরিকায় যাবে না বলে জানান। বিশ্বকাপের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য ফিফা ইরানসহ অংশগ্রহণকারী সকল সদস্য সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। গতকাল এক বিবৃতিতে ফিফা জানিয়েছে, তারা আশা করে সব দেশই আনুষ্ঠানিক ম্যাচসূচি অনুযায়ী প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনকে সমর্থন করার পর বেলারুশ জাতীয় ফুটবল দল হাঙ্গেরিতে তাদের হোম ম্যাচগুলো আয়োজন করেছে, যার মধ্যে জেডটিই এরেনায় স্কটল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের বিপক্ষে একটি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচও ছিল। ক্রিকেটে এ ধরনের সমঝোতা সাধারণ ব্যাপার, যেখানে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল এবং পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল শুধুমাত্র আইসিসি টুর্নামেন্টের সময় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে মুখোমুখি হচ্ছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে নতুন ভূমিকায় মলিনো

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে নতুন ভূমিকায় মলিনো আগামী ১৯ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দল। ১৯ থেকে ২৩ মার্চ সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নস ভেল গ্রাউন্ডে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন সিরিজে চাপ ও চোটো কথা বিবেচনা করে অস্ট্রেলিয়া নারী দলের অধিনায়ক সোফি মলিনো শুধু ব্যাটার হিসেবেই খেলাতে চান নির্বাচকরা। ওয়ানডে এবং টেস্ট ফরম্যাট থেকে অ্যালিসা হিলির অবসর ভেঙে ফেরার পর, গত মাসে ভারতের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টিতে অজিদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কোমরের নিচের অংশের চোট থেকে ফিরে ২৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় সেন্ট ভিনসেন্টে তিনটি টি-টোয়েন্টিতেই খেলবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সেন্ট কিটসে তিনটি ওয়ানডেতে তার অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করা হবে। মলিনোর দীর্ঘ চোটের ইতিহাস এবং তিন মাস পরের আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে, অস্ট্রেলিয়া এই সফরে তাকে শুধুমাত্র একজন ব্যাটার হিসেবে খেলানোর বিকল্পটি খোলা রেখেছে। ইএসপিএনক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মলিনো বলেন, আমি আবার মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে আছি। ওই টেস্টটা দেখা কষ্টকর ছিল, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে শেষ ম্যাচের অংশ হতে না পারাটা। আবার মাঠে ফিরতে পারলে দারুণ হবে। বোলিং না করাটা মলিনোর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে, যিনি ২০১৮ সালে তার স্পিন বোলিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন এবং তারপর থেকে খেলা প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচেই বোলিং করেছেন। তবে, অস্ট্রেলিয়া তাকে দলের পাশে রাখতে আগ্রহী, কারণ ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে মাল্টি-ফরম্যাট সিরিজ শেষে হিলির অবসরের পর এই সফরেই প্রথমবার দলটি পুরোপুরি তার নেতৃত্বে রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মলিনো বলেন, এটা আমাদের সবার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আমাদের হাতে খুব বেশি ম্যাচ নেই। একসঙ্গে খেলা প্রতিটি ম্যাচই খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের লক্ষ্যে ঠিক করতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার এই সুযোগটির জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। ওয়ানডে সিরিজে মলিনো সুযোগ না পেলেও, সহ-অধিনায়ক অ্যাশলে গার্ডনারের পাশাপাশি তাহলিয়া ম্যাকগ্রাকেও দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে। গত মাসে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে ভারতের কাছে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এ বিষয়ে মলিনো বলেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিখুঁত খেলাটা খুব কঠিন। এটা হলো দীর্ঘ সময় ধরে আরও ভালো খেলা এবং যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে এমন মুহূর্তগুলো উপলব্ধি করে সেগুলোতে জয়ী হওয়া। এটা কেবল আমাদের আক্রমণাত্মক খেলার ধরনের ওপর আস্থা রাখা এবং সে সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
এপ্রিলে বাংলাদেশে আসছে নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা

এপ্রিলে বাংলাদেশে আসছে নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা সাদা বলের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে আগামী এপ্রিলে বাংলাদেশে আসছে নিউজিল্যান্ড। সিরিজে ৩টি ওয়ানডে এবং ৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দুদল। ঢাকা এবং চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের ম্যাচগুলো। একই সময়ে সাদা বলের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে শ্রীলঙ্কার মহিলা দল। ১৬ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সিরিজের সূচি চূড়ান্ত করেছে বিসিবি। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ হবে ১৭ এপ্রিল মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। একই ভেন্যুতে পরের ওয়ানডে ম্যাচটি হবে ২০ এপ্রিল। সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে হবে চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ওয়ানডে সিরিজের সবগুলো ম্যাচই শুরু হবে দুপুর দুইটায়। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ ২৭ এপ্রিল হবে চট্টগ্রামে। একই ভেন্যুতে পরের ম্যাচ ২৯ এপ্রিল। মিরপুরে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২ মে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের সব ম্যাচই হবে সন্ধ্যা ৬টায়। পূর্ণাঙ্গ এই সিরিজ খেলতে আগামী ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে নিউজিল্যান্ড দল। দ্বিতীয় ওয়ানডের পর ২১ এপ্রিল ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে যাবে দুদল। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর ৩০ এপ্রিল সেখান থেকে ঢাকায় ফিরবে দুদল। এদিকে শ্রীলঙ্কা মহিলা দল ১৭ এপ্রিল তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য সাদা বলের সফরে বাংলাদেশে আসবে। ২০, ২২ এবং ২৫ এপ্রিল রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ানডে পর্বের পর, উভয় দলই টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য সিলেটে যাবে, যার ম্যাচগুলি ২৮ এপ্রিল, ৩০ এপ্রিল এবং ২ মে অনুষ্ঠিত হবে। শ্রীলঙ্কা মহিলা দলের সাথে থাকবেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ জেমি সিডন্স, যিনি বর্তমানে তাদের প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে আসছে শ্রীলঙ্কার মেয়েরা

বাংলাদেশে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে আসছে শ্রীলঙ্কার মেয়েরা প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে আগামী এপ্রিলে বাংলাদেশ সফরে আসছে শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল। তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের এই সিরিজের সূচি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সূচি অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছাবে শ্রীলঙ্কা নারী দল। সেদিনই তারা রাজশাহীতে যাবে এবং দুই দিন অনুশীলনের পর ২০ এপ্রিল রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম একদিনের ম্যাচ। একই মাঠে ২২ ও ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ। তিনটি ম্যাচই শুরু হবে সকাল সাড়ে ৯টায়। একদিনের সিরিজ শেষে ২৬ এপ্রিল সিলেটে যাবে সফরকারীরা। ২৭ এপ্রিল অনুশীলনের পর ২৮ এপ্রিল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে টি–টোয়েন্টি সিরিজ। পরের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ এপ্রিল ও ২ মে। এই তিনটি ম্যাচই শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়। সিরিজ শেষে ৩ মে দেশে ফিরবে শ্রীলঙ্কা দল। বাংলাদেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কা নারী দলের খেলতে আসা এবারই প্রথম নয়, তবে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এই প্রথম। এর আগে, ২০০৯ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজ, ২০১১ সালে বিশ্বকাপ বাছাই, ২০১৪ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টি এবং ২০২২ সালের এশিয়া কাপেও বাংলাদেশে খেলেছে শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল।
শরিফুলকে বাংলায় স্বাগত জানাল পেশোয়ার জালমি

শরিফুলকে বাংলায় স্বাগত জানাল পেশোয়ার জালমি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে শরিফুল ইসলাম প্রথমবার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে ডাক পেয়েছেন। সব ঠিক থাকলে নাহিদ রানার সঙ্গে পেশোয়ার জালমিতে দেখা যাবে বাঁ–হাতি এই পেসারকে। গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজেদের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছে পিএসএল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। পোস্টে শরিফুলের ছবি দিয়ে তারা লিখেছে, ‘দ্য ইয়োলো (জার্সি) স্টর্ম তোমাকে পেয়ে আরও শক্তিশালী হলো। বাংলাদেশ এক্সপ্রেস এই বাঁ-হাতি পেসার হলুদ জার্সিতে পাকিস্তান সুপার লিগ মাতাতে প্রস্তুত। গতি, স্ট্রাইক ও ঝড়ের শক্তি–তোমাকে জালমি পরিবারে স্বাগতম।’ শরিফুলকে স্বাগত জানানোর অংশটি বাংলায় (ইংরেজি ভাষায়) লিখেছে পেশোয়ার। আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৩ মে পিএসএলের একাদশ আসর অনুষ্ঠিত হবে। মুস্তাফিজের সঙ্গে লাহোরের জার্সি গায়ে জড়াবেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনও। এছাড়া রিশাদ হোসেন রাওয়ালপিন্ডি (পিন্ডিজ) এবং পেশোয়ারের হয়ে খেলবেন শরিফুল ও নাহিদ রানা। ২৬ মার্চ পিএসএলের উদ্বোধনী ম্যাচে লড়বে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্স ও হায়রাবাদ হিউস্টন। অর্থাৎ, আসরের প্রথম দিনেই মাঠে নামার সুযোগ রয়েছে দুই বাংলাদেশি তারকা মুস্তাফিজ-ইমনের। অন্যদিকে, ২৮ মার্চ প্রথম ম্যাচ রয়েছে রিশাদ, রানা ও শরিফুলের। তিনজনই একাদশে থাকলে ওই ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে নামবেন। অর্থাৎ, রানা-শরিফুলের পেশোয়ার জালমি লড়বে রিশাদের রাওয়ালপিন্ডির বিপক্ষে। একইভাবে মুস্তাফিজ-ইমনের লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষেও ম্যাচ রয়েছে পেশোয়ার ও রাওয়ালপিন্ডির। ফলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সতীর্থদের মুখোমুখি লড়তে হতে পারে এবারের পিএসএলে। সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নজর কাড়েন শরিফুল। চট্টগ্রাম রয়্যালসর হয়ে খেলতে নেমে দলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পুরো আসরে ১২ ইনিংসে মাত্র ৫.৮৪ ইকোনমি রেটে ২৬ উইকেট শিকার করেন এই পেসার। এতে তিনি বিপিএলের গত মৌসুমের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন এবং এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও গড়েন।
পাকিস্তানকে হারিয়ে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে ৯ নম্বরে বাংলাদেশ

পাকিস্তানকে হারিয়ে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে ৯ নম্বরে বাংলাদেশ উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের পর সিরিজ জয়ের উল্লাস। কনফেত্তি উড়ল, লাল-সবুজ রঙে রাঙানো ট্রফি নিতে উদযাপন চলল। এই জয়ের আনন্দে বাড়তি উচ্ছ্বাসের উপলক্ষ হয়ে এলো র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ এখন ৯ নম্বরে। আগের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পরও র্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে ছিল বাংলাদেশ। তবে ক্যারিবিয়ানদের সঙ্গে রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান ছিল স্রেফ ১। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতলেও পরের ম্যাচে বাজেভাবে হেরে যান মিরাজরা। শেষ ম্যাচে রোববার রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে ১১ রানের জয়ে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতিও নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে সিরিজ শুরু করে ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর এখন বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ৭৯। দশে নেমে যাওয়া ক্যারিবিয়ানদের পয়েন্ট ৭৭। সিরিজ হারলেও পাকিস্তান রয়ে গেছে চার নম্বরেই। তবে রেটিং পয়েন্ট ১০৫ থেকে কমে হয়েছে তাদের ১০২। আগামী বছরের ৩১ মার্চ তারিখে র্যাঙ্কিংয়ের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত হবে আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা দলগুলির নাম। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া র্যাঙ্কিংয়ের অন্য শীর্ষ ৮ দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে।
সাদাকাত-সালমানের ফিফটিতে পাকিস্তানের লড়াকু সংগ্রহ

সাদাকাত-সালমানের ফিফটিতে পাকিস্তানের লড়াকু সংগ্রহ মাআজ সাদাকাত ও সালমান আলী আগার অর্ধশতকে ভর করে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে লড়াকু সংগ্রহ গড়েছে পাকিস্তান। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। তবে শুরুটা দারুণভাবে কাজে লাগায় পাকিস্তানের ওপেনাররা। সাহিবজাদা ফারহান ও মাআজ সাদাকাত মিলে মাত্র ৭৭ বলে গড়ে তোলেন ১০৩ রানের ঝড়ো উদ্বোধনী জুটি। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র ৪৬ বলে ৭৫ রান করেন সাদাকাত, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ৫টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত মিরাজের বলেই থামে তার ইনিংস। সাদাকাত আউট হওয়ার পর দ্রুতই দুই উইকেট হারায় পাকিস্তান। ৪৬ বলে ৩১ রান করা ফারহান তাসকিন আহমেদের শিকার হন, আর শামিল হোসেন আউট হন নাহিদ রানার বলে। এতে ১৯.৩ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১২২। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে দলকে আবারও শক্ত অবস্থানে নেন সালমান আলি আগা। চতুর্থ উইকেটে তাদের ১০৯ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় পাকিস্তান। তবে এই জুটির সমাপ্তি হয় কিছুটা অদ্ভুতভাবে। নন-স্ট্রাইক প্রান্তে ক্রিজের বাইরে দাঁড়িয়ে বল তুলতে গিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক মিরাজের থ্রোতে রান আউট হন আঘা। সাজঘরে ফেরার আগে ৬২ বলে ৬৪ রান করেন তিনি, ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছক্কা। একই ওভারে বিদায় নেন রিজওয়ানও। ৫৯ বলে ৪৪ রান করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। এরপর হঠাৎই ধস নামে পাকিস্তানের ইনিংসে। শেষ পাঁচ উইকেট মাত্র ৪৩ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে তারা। ফলে ৩০০ রানের সম্ভাবনা জাগলেও শেষ পর্যন্ত ২৭৪ রানেই থামে পাকিস্তানের ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন রিশাদ হোসেন, নেন ৩ উইকেট। এছাড়া মেহেদি হাসান মিরাজ ২টি এবং নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ একটি করে উইকেট শিকার করেন।
বাংলাদেশের সামনে বাঁচা-মরার লড়াই, ইতিহাস কার পক্ষে?

বাংলাদেশের সামনে বাঁচা-মরার লড়াই, ইতিহাস কার পক্ষে?\ প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দ হারিয়েছে বাংলাদেশ। পেসার নাহিদ রানার গতির ঝলক আর ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান তামিমের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সিরিজের শুরুটা দারুণ করেছিল টাইগাররা। তবে পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষের দাপটে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে স্বাগতিকদের। প্রতিপক্ষের হয়ে ঝোড়ো ব্যাটিং করেন মাজ সাদাকাত। পাশাপাশি তার বাঁহাতি ঘূর্ণি বোলিংয়ের ফাঁদে পড়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ফলে সহজ জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। এই হারের পর তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। ফলে শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছে কার্যত বাঁচা–মরার লড়াইয়ে। যে দল জিতবে, তার হাতেই উঠবে লাল-সবুজে মোড়ানো সিরিজের ট্রফি। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। রবিবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি। পরিসংখ্যান বলছে, এমন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কম নয়। এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচের এক দিনের আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ মোট ৭৯টি। এর মধ্যে ২৫টি সিরিজের ফল নির্ধারিত হয়েছে ২-১ ব্যবধানে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ১২টি সিরিজ, আর ১৩টিতে হেরেছে। এই ২৫ সিরিজের মধ্যে প্রথম দুই ম্যাচ শেষে ১-১ সমতা হয়েছিল ১৬ বার। এর মধ্যে আটবার শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করেছে বাংলাদেশ। বাকি আটবার জয় গেছে প্রতিপক্ষের ঘরে। ১-১ সমতা থেকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের যে আটটি ঘটনা আছে, তার ছয়বারই প্রথম ম্যাচ জয়ের পর দ্বিতীয়টিতে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর শেষ ম্যাচ জিতে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এবারও ঠিক তেমন এক চ্যালেঞ্জের সামনে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১৪ রানে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টিবিঘ্নিত লড়াইয়ে বাংলাদেশও গুটিয়ে যায় ঠিক ১১৪ রানে। তাই শেষ ম্যাচে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সই আবার দেখতে চাইবে স্বাগতিকরা। সাম্প্রতিক সময়েও এমন পরিস্থিতি সামলানোর নজির আছে বাংলাদেশের। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে সিরিজ হারার শঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দলটি। একইভাবে ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কা এবং ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ হারলেও শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার ২০২৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষেও সেই কীর্তি গড়তে পারলে র্যাঙ্কিংয়েও মিলবে সুখবর। সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিততে পারলে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠবে বাংলাদেশ। আর শেষ ম্যাচ হারলে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানেই থাকতে হবে টাইগারদের। তবে অতীতে প্রথম ম্যাচ জয়ের পরও সিরিজ হারার তিক্ত অভিজ্ঞতাও আছে বাংলাদেশের। ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ড এবং ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জয়ের পর বাকি দুটি ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া করেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ব্যাটিং ধসে পাকিস্তানের কাছে ১২৮ রানের হার বাংলাদেশের

ব্যাটিং ধসে পাকিস্তানের কাছে ১২৮ রানের হার বাংলাদেশের বৃষ্টি-বিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই ছন্দ হারিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ২৩.৩ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ১২৮ রানে জিতে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরায় পাকিস্তান। মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে পাকিস্তান ৪৭.৩ ওভারে তোলে ২৭৪ রান। পরে বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকায় ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। পাকিস্তানের বড় সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর ঝড়ো বাতাস ও বজ্রপাতের কারণে সাময়িকভাবে খেলা বন্ধ করে দেন আম্পায়াররা। পাকিস্তানের ২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান। ৭ বলে মাত্র ১ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অপর ওপেনার সাইফ হাসানও। মোহাম্মদ ওয়াসিমের অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি। আব্দুল সামাদের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১২ বলে দুই চারে ১২ রান করেন সাইফ। টপ অর্ডারের আরেক ধাক্কা আসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেটে। শাহিনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন শান্ত। ২ বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি তিনি। এই অবস্থায় ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭ রান। লিটন দাসের সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। এর মধ্যেই মাঠে ঝড়ো বাতাস ও আশপাশে বজ্রপাত শুরু হলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে খেলা বন্ধ ঘোষণা করেন দুই আম্পায়ার। রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আবার খেলা শুরু হয়। লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুজন মিলে ৪৮ বলে ৫৮ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। লিটন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ৩৩ বলে ৪১ রান করেন। তবে বাঁহাতি স্পিনার মাজ সাদাকাতের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হলে ভেঙে যায় জুটি। লিটনের বিদায়ের পর দ্রুতই ছন্দ হারায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। আফিফ হোসেন ১৪ বলে ১৫ রান করে আউট হন, মেহেদী হাসান মিরাজ মাত্র ১ রান করে ফিরেন। সাদাকাতের স্পিনে রিশাদ হোসেনও টিকতে পারেননি। এক প্রান্তে কিছুটা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন হৃদয়। কিন্তু হারিস রউফের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৩৮ বলে ২৮ রান করে তার ইনিংস শেষ হলে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাও কার্যত শেষ হয়ে যায়। পরে মোস্তাফিজুর রহমানও রউফের বলে কট বিহাইন্ড হলে বাংলাদেশের নবম উইকেটের পতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দল। তাসকিন আহমেদও বিদায় নেন ১৪ বলে ৫ রান করে। এর আগে পাকিস্তানের দুই ওপেনার মাজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহানের ব্যাটে দারুণ শুরু পেয়েছে সফরকারীরা। শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত রান তুলেছেন সাদাকাত। মাত্র ৩১ বলে ফিফটির ঘরে পৌঁছান তিনি। তাদের শতরানের জুটি ভাঙেন অধিনায়ক মিরাজ। পাকিস্তানের শতরানের আগে বাংলাদেশ কোনো উইকেটের সুযোগ ই পায়নি। নাহিদ রানার ডেলিভারিতে সাহিবজাদা ফারহানের এলবিডব্লিউর আবেদন মেনে আউট দেন আম্পায়ার তানভির আহমেদ। তবে সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন ব্যাটসম্যান। তাতেই বদলে যায় সিদ্ধান্ত। সাদাকাতের বিপক্ষেও কট বিহাইন্ডের আবেদন করে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তাসকিনের বল ব্যাটে লাগেনি, তাই রিভিউ হারাতে হয় স্বাগতিকদের। তবে ১৩তম ওভারের শেষ বলে আর শেষ রক্ষা হয়নি। মিরাজের বলে সহজেই বল তালুবন্দী করেন লিটন দাস। শুরুতে অনেকক্ষণ ক্রিজে থাকলেও সাবলীল ছিলেন না ফারহান। রান তোলার গতি বাড়াতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত উইকেট দেন তিনি। তাসকিন আহমেদের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় ডিপ থার্ড ম্যান অঞ্চলে। সেখানে সহজ ক্যাচ নেন তাওহীদ হৃদয়। ফারহান ৪৬ বলে ৩১ করেন। এরপর কিছুক্ষণ পর আরেকটি সাফল্য পায় বাংলাদেশ। পেসার নাহিদ রানার অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ঠিকঠাক লাগাতে পারেননি শামিল হুসাইন। ক্যাচ নেন মোস্তাফিজুর রহমান। ২২ বলে ৬ রান করে ফেরেন তিনি। সেখান থেকে ইনিংস সামলান মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। দুজন মিলে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। ৩৪তম ওভারে পাকিস্তান স্পর্শ করে দুইশ রানের মাইলফলক। ৫০ বলে ৫০ রান করা সালমান পান ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি। রিজওয়ানের সঙ্গে তার জুটি একশ ছাড়ায় মাত্র ১০৮ বলে। তবে নাটকীয়ভাবে ভাঙে এই জুটি। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ফ্লিক করে রিজওয়ান বল ফেরত দিলে ক্রিজের বাইরে ছিলেন সালমান। দ্রুত বল তুলে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন মিরাজ। ৬২ বলে ৬৪ রান করেন তিনি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিদায় নেন রিজওয়ানও। ৫৯ বলে ৪৪ রান করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। পরের ধাক্কা আসে হুসাইন তালাতের উইকেটে। ১৩ বলে ৯ রান করে বিদায় নেন তালাত। এরপর রান আউটে ফেরেন আব্দুল সামাদ। মিডউইকেটে বল পাঠিয়ে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে বিপদে পড়েন তিনি। অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ওয়াসিম ছিলেন ব্যর্থ। তবে ফাহিম আশরাফ ১৫ বলে ১৪ রানের ক্যামিও উপহার দেন। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ইনিংস থামে ২৭৪ রানে।