জিসান-সাইফউদ্দিনের চার-ছক্কায় হংকংয়ে বাংলাদেশের রেকর্ড

জিসান-সাইফউদ্দিনের চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে হংকংয়ে বাংলাদেশের রেকর্ড ৬ ওভারের খেলায় চার-ছক্কার ফুলঝুরিই ছুটবে এটাই স্বাভাবিক। তবে হংকংয়ে জিসান আলম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ব্যাটে এমন ঝড় তুলেছেন তাতে হংকং সিক্সেসে আজ রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। ওমানের বিপক্ষে ১৪৭ রানের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। এর আগে সর্বোচ্চ রান ছিল পাকিস্তানের। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিপক্ষে ১২৮ রান করে তাড়া। বাংলাদেশের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১৩ রানে অলআউট হয় ওমান। এতে করে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৩৪ রানের জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে অধিনায়ক সাইফউদ্দিনের দল। রেকর্ড গড়ার ম্যাচে ঝড়টা তুলেছেন জিসান আলম ও ইয়াসির আলি রাব্বি। বিশেষ করে জিসান। মাত্র ১২ বলে ৫৫ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলেন এই ওপেনার। ৮ ছক্কা ও ১ চারের তা-ব চালানোর পর অবশ্য টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী থামতে হয় তাকে। কোনো ব্যাটার ফিফটি করার পর আর ব্যাটিং করতে পারবে না। রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। তিনে নেমে একইভাবে মাঠ ছেড়েছেন সাইফউদ্দিনও।

ইনিংস ও ২৭৩ রানে হেরে ধবলধোলাই বাংলাদেশ

ইনিংস ও ২৭৩ রানে হেরে ধবলধোলাই বাংলাদেশ চট্টগ্রাম টেস্টে যেভাবে উইকেটের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা তাতে হার নিশ্চিতই ছিল। দেখার বিষয় ছিল, ব্যবধানটা কতটুকু কমাতে পারবেন মুশফিকুর রহিম-নাজমুল হোসেন শান্তরা। ব্যবধানটা শেষ পর্যন্ত থেমেছে ইনিংস ও ২৭৩ রানে। ধবলধোলাই হওয়ার ম্যাচে এতটাই বাজে খেলেছে বাংলাদেশ দুই ইনিংস মিলিয়েও দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ফলো-অন এড়াতে পারেনি। ফলো-অন এড়াতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৩৭৬ রান। বাংলাদেশ দুই ইনিংস মিলে করেছে মোট ৩০২ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দেড় শ রান পার করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে সেটিও করতে পারেনি। ১৫৯ রানের বিপরীতে টেস্টের তৃতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট ১৪৩ রানে। প্রথম ইনিংসে ৮ জন ব্যাটারের বিপরীতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেনি। ঘরের মাঠে স্বাগতিকদের ধসিয়ে দিল প্রোটিয়ারা। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশকে অল্পতে অলআউট করতে শুরুটা করেছেন সেনুরান মুতুসামি। ৪ উইকেট নিয়ে বাঁহাতি স্পিনার শুরুটা করলেও শেষটা করেছেন আরেক বাঁহাতি স্পিনার কেশব মহারাজ। ৫৯ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেছেন ১০ নম্বর ব্যাটার হাসান মাহমুদ। ইনিংস ও ২৭৩ রানের হারে বিব্রতকর রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের পরাজয় টেস্টে। আগের সর্বোচ্চেও বাংলাদেশের নাম। প্রতিপক্ষের মাঠ ব্লুমফন্টেইনে ২০১৭ সালে ইনিংস ও ২৫৪ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ।  প্রোটিয়াদের বিপক্ষে বড় ব্যবধানের হারটাই সব মিলিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় পরাজয়। ২০০২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকায় ইনিংস ও ৩১০ রানের সর্বোচ্চ হারটি হেরেছিল বাংলাদেশ। এ জয়ে একটা অপেক্ষা ঘুচেছে দক্ষিণ আফ্রিকার। ২০১৪ সালের পর এশিয়ার মাটিতে সিরিজ জিতেছে প্রোটিয়ারা। সিরিজ হিসেবে ৫ সিরিজ পর। ১৭৭ রানের ইনিংস খেলা টনি ডি জর্জির ম্যাচসেরার বিপরীতে সিরিজে ১৪ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা হয়েছেন কাগিসো রাবাদা।

চরম অস্বস্তি নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করলো বাংলাদেশ

চরম অস্বস্তি নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করলো বাংলাদেশ চট্টগ্রাম টেস্টে চরম অস্বস্তি নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। আলোক স্বল্পতার কারণে এই দিনের খেলা শেষ হয়েছে আগেভাগেই। তার আগেই মাত্র ৩৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। উইকেটে আছেন মমিনুল হক (৬) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (৪)। এর আগে ৬ উইকেটে ৫৭৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে ৫৩৭ রানে।  ইনিংসে প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে ওপেনার সাদমান ইসলামকে তুলে নেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদা। ডাউন লেগের বলে উইকেটরক্ষক কাইল ভেরেইনের হাতে ধরা পড়েন বাঁহাতি ব্যাটার। ৬ বলে ০ রানে বিদায় নেন সাদমান। সর্বশেষ ৩ ইনিংসে দুইবারই ডাক মারলেন সাদমান। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪ বলে খেলে ০ রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। ওই টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ বলে মাত্র ১ রান করেন সাদমান। টিকতে পারেননি জাকির হাসানও। তিনিও হন রাবাদার শিকার। ৮ বলে মাত্র ২ রান করে বিহাইন্ড দ্য উইকেটে ভেরেইনের হাতে ধরা পড়েন বাঁহাতি ব্যাটার। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে ডেন পিটারসনের চতুর্থ বলে কভার ড্রাইভে চার হাঁকান ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। পরের বলেই দ্বিতীয় স্লিপে এইডেন মার্করামের হাতে ধরা পড়েন এই ডানহাতি। এরপর নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে হাসান মাহমুদকে নামায় বাংলাদেশ। পরের ওভারে আউট হয়ে যান হাসানও। কেশব মহারাজের ঘূর্ণিতে খেই হারানোর আগে ৭ বলে ৩ রান করেন ডানহাতি ব্যাটার। এর আগে ৩ সেঞ্চুরি আর ২ ফিফিটিতে ৫৭৭ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। উইয়ান মুলদার টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর তাদেরকে ডেকে নেন অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। মুলদারের সঙ্গে ৭০ রানে অপরাজিত ছিলেন সেনুসান মুথুসামি। ১৪৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তাইজু্ল ইসলামকে ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুলদার। ষষ্ঠ উইকেটে ১৫০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি করেন মুলদার ও মুথুসামি। এই ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকানো বাকি দুই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার হলেন টনি ডি জর্জি (১৭৭) ও ত্রিস্টান স্টাবস (১০৬। মুথুসামির সঙ্গে ফিফটি করা অন্য ব্যাটার হলেন ডেভিড বেডিংহাম (৫৯)। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম একাই নেন বাকি ৫ উইকেট। এ নিয়ে ১৪তম বার টেস্টের এক ইনিংসে ৫ উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার। বাকি এক উইকেট নেন পেসার নাহিদ রানা।

চট্টগ্রাম টেস্টে দুই উইকেট বাংলাদেশের, জর্জি-স্টাবসের সেঞ্চুরি

চট্টগ্রাম টেস্টে দুই উইকেট বাংলাদেশের, জর্জি-স্টাবসের সেঞ্চুরি চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম দিনে শেষে চালকের আসনে দক্ষিণ আফ্রিকা। পুরো তিন সেশনে মাত্র দুই উইকেটের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন দুই প্রোটিয়া ব্যাটার টনি ডি জর্জি ও ট্রিস্টান স্টাবস। এই দুই ব্যাটারের সেঞ্চুরিতে ২ উইকেট হারিয়ে ৩০৭ রান সংগ্রহ করেন প্রথম দিন শেষ করেছে সফরকারীরা। আজ চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। টাইগার বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন তারা। ৬৯ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটার। ইনিংসের ১৮তম ওভারে প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ। ৫৫ বলে ৩৩ রান করা মার্করামকে সাজঘরে ফেরান স্পিনার তাইজুল ইসলাম। মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফিরে ১৪৬ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন ডি জর্জি। এটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। চা বিরতির পর পর সেঞ্চুরি তুলে নেন স্টাবস। ১৯৪ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ৮১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৩০৭ রান সংগ্রহ করে প্রথম দিনের খেলা শেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জর্জি ১৯৮ বলে ১৪১ ও বেলিংহাম ২৫ বলে ১৮ রানে অপরাজিত আছেন।

ডি জর্জির সেঞ্চুরি, আরও এক হতাশার সেশন বাংলাদেশের

ডি জর্জির সেঞ্চুরি, আরও এক হতাশার সেশন বাংলাদেশের প্রথম সেশনও ছিল হতাশার। তবুও সেখানে প্রাপ্তি ছিল তাইজুল ইসলামের এনে দেওয়া একটি উইকেট। কিন্তু সেটিই প্রাপ্তি হয়ে থাকলো দ্বিতীয় সেশনের পরও। কারণ মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থেকে চা বিরতি অবধি সময়টাতে কোনো উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। এর মাঝে দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন প্রোটিয়া ওপেনার টনি ডি জর্জি। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দিনের চা বিরতি অবধি এক উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান করেছে প্রোটিয়ারা।  বাংলাদেশ এদিন শুরু করে দুই পেসার নাহিদ রানা ও হাসান মাহমুদকে দিয়ে। প্রথম ম্যাচে এক পেসার নিয়ে খেলার পর এ ম্যাচের একাদশে ফেরানো হয় নাহিদকে। এছাড়া আরও দুটি বদল আনতে হয়; জাকের আলি ও লিটন দাসের অসুস্থতায় সুযোগ পান মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও জাকির হাসান।  সকালের শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। অবশ্য পেসারদের প্রথম স্পেল থেকেই উইকেট পেতে পারতো বাংলাদেশ। কিন্তু সপ্তম ওভারে টনি ডি জর্জির ক্যাচ ছেড়ে দেন উইকেটরক্ষক অঙ্কন। অভিষিক্ত অঙ্কনের জন্য অবশ্য সুযোগটা ছিল বেশ কঠিন। বাঁদিকে অনেকটা ঝাঁপিয়েও ক্যাচ নিতে পারেননি তিনি।  এরপর পুরো প্রথম ঘণ্টায় কোনো সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। ১৬তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজকেও বোলিংয়ে নিয়ে আসেন শান্ত। তিনি উইকেট না পেলেও সাফল্যের দেখা পান আরেক স্পিনার তাইজুল। তার বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে আলগা শটে মিড অনে দাঁড়ানো মুমিনুলের হাতে ক্যাচ দেন এইডেন মার্করাম। ৫৫ বলে ৩৩ রান করেছিলেন তিনি।  একরকম উপহার হিসেবে পাওয়া মার্করামের উইকেট নিয়েই বাকি সেশন সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে। প্রথম সেশনে এমন হতাশার পর দ্বিতীয়টিতে ভালো কিছু করা জরুরি ছিল স্বাগতিকদের। কিন্তু উল্টো হতাশা বেড়েছে আরও। এই সেশনে স্টাবস হাফ সেঞ্চুরি ও জর্জি পেয়েছেন শতকের দেখা। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন উদ্বোধনী ব্যাটার জর্জি। পঞ্চম টেস্টে দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি ছিল স্টাবসের। এই সেশনে বাংলাদেশ উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা জাগাতে পেরেছিল একবারই। তাইজুল ইসলামের বল ক্রিস্তিয়ান স্টাবসের ব্যাটের একদম পাশ দিয়ে যায়। তখন তাইজুলের মনে হয়েছিল, বল লেগেছে ব্যাটারের ব্যাটে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও তার ওপর ভরসা করে রিভিউ নেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, ব্যাটে লাগেনি বল। ৫০ ওভারের মধ্যে দ্বিতীয় রিভিউ নষ্ট করে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে দ্বিতীয় সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়ে প্রোটিয়ারা ৯৪ রান তুলেছে।

অধিনায়কত্ব নিতে পুরোটাই তৈরি আছি: তাইজুল

অধিনায়কত্ব নিতে পুরোটাই তৈরি আছি: তাইজুল অধিনায়কত্ব ছাড়তে চান নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশ দল চট্টগ্রামের বিমান ধরার আগে এমন খবরে আবারও ক্রিকেটাঙ্গন আলোচনার তুঙ্গে। সেই আলোচনা আরও বেগবান করলেন তাইজুল ইসলাম। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগের দিন সোমবার (২৮ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে আসেন তাইজুল। যেখানে আসার কথা অধিনায়ক কিংবা কোচের মধ্য থেকে। প্রথা ভেঙে তাইজুলের আসাটা কিছুটা ব্যতিক্রমও বটে। স্বভাবতই তাইজুলের সংবাদ সম্মেলন হয়ে উঠলো শান্তময়। ঘুরে ফিরে আসে একই প্রশ্ন। না বোধক উত্তরে বারবার এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন এসে পড়ে তার কাঁধে। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, অধিনায়কত্ব নিতে প্রস্তুত কি না? বাঁহাতি এই স্পিনারের সংক্ষিপ্ত কিন্তু আত্মবিশ্বাসী উত্তর, ‘যেহেতু ১০ বছর ধরে খেলেছি, অধিনায়কত্ব নিতে পুরোটাই তৈরি।’  সাকিব আল হাসান না থাকায় প্রথম টেস্ট থেকে আলোচনায় আছেন তাইজুল। প্রথম ইনিংসে দ্রুততম দুই’শ উইকেটের কীর্তি গড়ার পর সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল জানিয়েছিলেন, ‘তাইজুল তার প্রাপ্য সম্মান পান না।’ তামিমের মূল কথা ছিল, তাইজুল যে ধরণের পারফরম্যান্স করেন সে অনুযায়ী ফোকাসে থাকেন না। এদিন সংবাদ সম্মেলনে আসাটা তাইজুল যে দলে আলাদা গুরত্ব পাচ্ছে সেটার প্রমাণ বহন করে। সাকিব-তামিম ছাড়া তাইজুল এখন দলে বিবেচিত হচ্ছেন সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে। সেই হিসেবে দলের পরিকল্পনায় তার যুক্ত থাকার সময় হয়েছে কি না?  এমন প্রশ্নে তাইজুলের উত্তর, ‘যদি ব্যক্তিগতভাবে বলেন, ইম্প্লিমেন্ট করতে পারি। কিন্তু আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, আপনি কতটুকু নিচ্ছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ; সেটা টিমমেট হোক আর সেটা আমার দেশের জনগন হোক।’  ‘আমার কাছে মনে হয় অনেক ক্ষেত্রে মাঠে যখন বিভিন্ন পরিস্থিতি আসে, আমি যখন বল করি বা একটা স্পিনার যখন বল করে অনেক সময় ফিল্ড পজেশন বলেন বা একটা ব্যাটারকে কীভাবে সেট আপ করবো; এই হেল্পগুলো আমি কখন কখনও করে থাকি। অধিনায়ক আমাকে জিজ্ঞেস করে। এই সুযোগগুলো আসে, আমি চেষ্টা করি’ -আরও যোগ করেন তাইজুল।  ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিংস্টনে ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে যাত্রা শুরু হয়েছিল তাইজুলের। এখন পর্যন্ত ১০ বছরে খেলেছেন ৪৮টি টেস্ট। সাকিবের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে তিনি ২০০ উইকেটের মাইলফলক অর্জন করেন।  প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে ৭ উইকেটে হেরে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামীকাল থেকে।

‘এক যুগ’ পর ভারতের সিরিজ হার, নিউজিল্যান্ডের ইতিহাস

‘এক যুগ’ পর ভারতের সিরিজ হার, নিউজিল্যান্ডের ইতিহাস তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ভারতকে ৮ উইকেটে হারায় নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয়টিতেও লড়াই করে তারা। জয় পায় ১১৩ রানে। ফলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় সফরকারীরা। সঙ্গে গড়ে ইতিহাসও। ভারতের মাটিতে এটি তাদের প্রথম সিরিজজয়। অপরদিকে ১২ বছর পর সিরিজ হারার তিক্ত স্বাদ পেল ভারত।  পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৫৯ রান যোগ করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ১৫৬ রানেই গুটিয়ে যায় ভারত। পরে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ২৫৫ রান যোগ করে কিউইরা। ফলে ভারতের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৫৯ রান। কিন্তু তৃতীয় দিনে সেই রান তুলতে পারেনি স্বাগতিকরা। গুটিয়ে যায় ২৪৫ রানেই। তৃতীয় দিনের শুরুতেই দ্বিতীয় ইনিংস খেলা নিউজিল্যান্ড নিজেদের দলীয় সংগ্রহ দুইশ পার করে। এরপর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে তারা। শুরুটা হয় টম ব্লান্ডেলকে দিয়ে। জাদেজার বলে বোল্ড হয়ে তিনি ফেরেন ৪১ রানে। বাকি ২৪ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। কেবল অপরাজিত থাকেন গ্লেন ফিলিপস। ৮২ বলে ৪৮ রান করেন তিনি।   বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই রোহিত শর্মাকে হারায় ভারত। স্যান্টনারের বলে তিনি ক্যাচ দেন উইল ইয়ংকে। ফেরেন ৮ রান করে। এই বোলারের দারুণ বোলিংয়ে অবশ্য বাকিরাও ঠিকঠাক দাঁড়াতে পারছিলেন না। কেবল ইয়াশাসবি জায়সাওয়াল মারকুটে থেকে রান বাড়াচ্ছিলেন। অপরপ্রান্তে শুভমান গিল এসে ২৩ রান করে বিদায় নেন। টিকতে পারেননি বিরাট কোহলিও। ৪০ বলে ১৭ রান করে উইকেট হারান তিনি। রিশভ পন্থ অবশ্য রানের খাতা খোলার আগেই রান আউট হয়ে বিদায় নেন। ৪১ বলে ৫০ স্পর্শ করা জায়সাওয়াল আশা জাগালেও তাকে টিকতে দেননি স্যান্টনার। তার বল ড্যারিল মিচেলের হাতে তুলে দিয়ে বিদায় নেন ভারতীয় ওপেনার। খেলে যান ৬৫ বলে ৭৭ রানের ইনিংস। এরপর বাকিরা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। যদিও শেষদিকে লড়েন রবীন্দ্র জাদেজা। তিনি টিকে থাকেন শেষ পর্যন্ত। তবে আজাজ প্যাটেলের কাছে পেরে ওঠেননি। ৮৪ বলে তার ৪২ রানের ইনিংস শেষ হলে ইতিহাস গড়া হয় নিউজিল্যান্ডের। দলটির হয়ে একাই ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন স্যান্টনার। আজাজ দুটি ও গ্লেন ফিলিপস পান একটি উইকেট।

বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব ছাড়তে চান শান্ত!

বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব ছাড়তে চান শান্ত! দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষে তিন ফরম্যাটের নেতৃত্ব ছাড়তে পারেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজ’র প্রতিবেদনে এসেছে এমন খবর। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শান্তকে তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তার নেতৃত্বেই খেলতে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। তবে শান্ত নাকি এরই মধ্যে বোর্ডকে জানিয়ে দিয়েছেন নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা। বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ অনুমোদন দিলেই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়বেন শান্ত। ক্রিকবাজকে বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘হ্যাঁ, সে আমাদের জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর অধিনায়কত্ব করতে প্রস্তুত নয়।’ শান্ত ক্রিকবাজকে এ বিষয়ে বলেন, ‘দেখা যাক কী হয় (নেতৃত্ব ইস্যুতে)। আমি সভাপতির (বিসিবি) কাছ থেকে জবাব শোনার অপেক্ষায়।’ বিসিবির একজন পরিচালক নাকি শান্তকে অনুরোধ করেছিলেন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে। তবে সেটার সম্ভাবনা কম। কেননা জানা গেছে, শান্ত ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরই টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন। পরে তিনি তিন ফরম্যাটেরই নেতৃত্ব ছাড়ার কথা ভাবেন। সাম্প্রতিকসময়ে শান্তর নেতৃত্ব নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। তার অনেক সিদ্ধান্তই আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে। সেইসঙ্গে ব্যাট হাতে ব্যর্থতা তো আছেই। যদিও অধিনায়ক হিসেবে পরিসংখ্যান খুব একটা খারাপ না শান্তর। দলকে নয়টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনটিতে জয় এবং ছয়টি হার। পাকিস্তানের মাটিতে তাদের প্রথমবারের মতো হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্বও আছে। ওয়ানডেতে ৯ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জিতিয়েছেন তিনটিতে, হার ছয়টি। টি-টোয়েন্টিতে শান্তর অধীনে ২৪ ম্যাচ খেলে ১০টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এদিকে বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত যদি শান্ত অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন, তবে ওয়ানডে এবং টেস্টে মেহেদী হাসান মিরাজ ও টি-টোয়েন্টিতে তাওহিদ হৃদয়কে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছেন তারা।

উইকেট বুঝতে ভুল করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট!

উইকেট বুঝতে ভুল করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট! মিরপুর টেস্টে দুই দলের মোট ৩৩ উইকেট পড়েছিল। এর মধ্যে ১৬টিই পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ও বাংলাদেশ দলের পেসাররা। প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদা দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট (৩+৬) দখল করে বাংলাদেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছেন। কাইল ভেরেইনের শতক আর অলরাউন্ডার উইয়ান মুলদারের হাফসেঞ্চুরি দক্ষিণ আফ্রিকার ভিত শক্ত করে দিয়েছিল। এরপর জয়ের পথে আসল পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন রাবাদা। ডানহাতি এই পেসারের বিধ্বংসী বোলিংয়ের কাছেই হেরে গেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসকে তুলে নিয়ে বাংলাদেশের লড়াকু পুঁজি গড়ার পথ বন্ধ করেন রাবাদা। দ্বিতীয় ইনিংসে একাই নাজমুল হোসেন শান্তর দলের ‘বারোটা’ বাজিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার প্রথম স্পেলে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে ফিরিয়ে টপঅর্ডারে ভাঙন ধরান রাবাদা। মাঝে যে দুইজন নতুন করে ইনিংস সাজানোর চেষ্টা করছিলেন, সেই মাহমুদুল হাসান জয় ও মুশফিকুর ফিরিয়ে আবার বাংলাদেশকে বিপদে ফেলেন রাবাদা। আজ বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে প্রথমে নাইম হাসান, পরে মেহেদী হাসান মিরাজকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের সব আশা ভঙ্গ করেন রাবাদা। তৃতীয় দিনের শেষ দিকে অষ্টম উইকেটে ৩৩ রানের জুটি করে আশা জাগান মিরাজ ও নাইম। অনেকেরই আশা ছিল, এই জুটি আরও ঘণ্টা খেললে বাংলাদেশ ১৬০-১৭০ রানের রানে লিড নিতে পারবে। তখন হয়তো লড়াই জমে উঠবে। কিন্তু চতুর্থ দিন সকালে নতুন বল হাতে সংহারমূর্তি ধরে টাইগার সমর্থকদের আশা ভেঙে চুরমার করেন রাবাদা। এটা দিবালোকের মত পরিষ্কার যে, দুই ব্যাটার ভেরেইনে ও মুলদারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শক্ত ভীত গড়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে পেসার রাবাদার দুর্দান্ত বোলিংয়েই।  কিন্তু যে পিচে রাবাদা ম্যাচের ভাগ্য লিখে দিলেন, শেরে বাংলার সেই উইকেটে স্বাগতিক বাংলাদেশ মাঠে নামলো একমাত্র পেসার হাসান মাহমুদকে নিয়ে!  শুরুর ওই ভুলেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। তারপর ৮ ব্যাটার নিয়ে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানে অলআউট হওয়ায় ঘটেছে সর্বনাশ।সেখান থেকে আর উঠে আসা সম্ভব ছিল না। সম্ভব হয়নিও।  প্রশ্ন উঠেছে, কেন বাংলাদেশ ৮ ব্যাটার ও ৪ স্পিনারের সঙ্গে মাত্র একজন পেসার নিয়ে দল সাজিয়েছিল? তবে কি বাংলাদেশের ধারণা ছিল, শেরে বাংলার পিচ হবে ব্যাটারদের স্বর্গ? একটা সময় গিয়ে স্পিনারদের সাহায্য করবে; পেসারদের করার কিছুই থাকবে না!  ম্যাচ শেষে মেহেদী হাসান মিরাজের কথা শুনে মনে হলো সেটাই। ডানহাতি অলরাউন্ডা স্বীকার করলেন, বাংলাদেশ ম্যানেজমেন্ট উইকেট চিনতে ভুল করেছিল।  সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা উঠলো এভাবে যে, বাংলাদেশের পরিকল্পনা কী ছিল? এক পেসার নিয়ে খেলাটা টেকনিক্যাল ব্লান্ডার ছিল? উত্তরে মিরাজ বোঝানোর চেষ্টা করলেন, তাদের ধারণা ছিল মিরপুরের উইকেট হবে টার্নিং। মিরাজ বলেন, ‘আমরা যেমন আশা করেছিলাম মিরপুরের উইকেটে টার্নিং হবে। আমরা স্পিনাররা ডমিনেট করবো। এখানে মিরপুরে স্পিনাররা ডমিনেট করে। কিন্তু কন্ডিশনটা অন্যরকম হয়ে গিয়েছিল। ওরাও ভালো বল করেছে। আমাদের হাসান মাহমুদও ভালো বল করেছে। আমরা স্পিনাররা ভালো করলে, আমি আর নাইম ভালো বল করলে এই প্রশ্ন আসতো না। বিশেষ করে আমার কাছে দল চায় ৫-৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জেতাবো, সেটা করতে পারিনি। ওখান থেকে ব্যাকফুটে পড়ে গিয়েছি।’

‘বাংলাদেশের জন্য অনেক অর্জন করেছেন, সবার সাকিব ভাইয়ের পাশে থাকা উচিত’

‘বাংলাদেশের জন্য অনেক অর্জন করেছেন, সবার সাকিব ভাইয়ের পাশে থাকা উচিত’ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে খেলে ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণকে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তাকে নিয়ে স্কোয়াডও ঘোষণা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাজনিত কারণে আসতে পারেননি। টেস্ট শুরুর আগে তার আসা না আসার বিষয়টি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।  মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিন বাংলাদেশের হারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ম্যাচ। টেস্ট শেষেও আলোচনায় ছিলেন সাকিব। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটে জিতে এগিয়ে যায় প্রোটিয়া শিবির। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মলেনে সাকিবের কাছে তার বিদায়ী টেস্ট নিয়ে মেহেদি হাসান মিরাজের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। সাকিব বাংলাদেশের জন্য অনেক অর্জন করেছে মন্তব্য করে মিরাজ আহ্বান করেছেন সাকিবের পাশে থাকার জন্য, ‘সাকিব ভাইয়ের ইস্যুটা তো আমরা সবাই জানি। তিনি কেন আসেননি বা খেলতে পারেনি এটা আমার মনে হয় না কারো কাছে অজানা। অবশ্যই সাকিব ভাই একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়।’ ‘তিনি বাংলাদেশের জন্য অনেক অর্জন করেছে। আমরা সবাই এটা জানি। এটা অস্বীকার করতে পারব না। যেহেতু সে একটা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। আমার কাছে মনে হয়, সবাই তার পাশে থাকা উচিত’-আরও যোগ করেন মিরাজ। ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের আগে সাকিব জানিয়েছিলেন দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলতে চান। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে ফিরবেন দেশে। স্কোয়াড ঘোষণার পর সাকিব যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিলেন। কিন্তু দুবাই আসার পর তাকে সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা দেশে আসার জন্য নিরুৎসাহিত করেন। সাকিব আর আসেননি, তার পরিবর্তে হাসান মুরাদকে নেওয়া হয়। এই নিয়ে আন্দোলনের ঘটনাও ঘটেছে। সাকিব বিরোধী-সাকিব ভক্তদের মধ্যে হয়েছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সবশেষে হোম অব ক্রিকেটকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে ফেলা হয়।  সাকিবের অবরর্তমানে তার জায়গায় সবচেয়ে বেশি এসেছে মিরাজের নাম। বাংলাদেশ অধিনায়কও বলেছিলেন, মিরাজের উপর তাদের ভরসা আছে। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ব্যাট হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৭ রানের ইনিংস খেলে মিরাজ প্রমাণও দিয়েছেন হাতেনাতে। কিন্তু মিরাজ কী নিজেকে সাকিবের বিকল্প হিসেবে ভাবছেন?  ‘আপনারা সবাই এই কথাটা বলেন যে—সাকিব ভাইয়ের জায়গায় আমি! তিনি বাংলাদেশের অনেক বড় অর্জন করেছেন, ১৭ বছর ধরে দেশের হয়ে খেলছেন। একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার। আমি মাত্র ১-২ বছর হলো রান করা শুরু করেছি, আর উনি শুরু থেকেই রান করেছেন।’ ‘সাকিব ভাইয়ের জায়গায় সাকিব ভাই, আমার জায়গায় আমি। এক খেলোয়াড়কে আরেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে তুলনা না করাই বেস্ট। আর আমি ব্যাট করি সাত-আট নম্বরে। আর উনি ব্যাট করতেন টপ অর্ডারে। তো আমার যখন সময় আসবে আমি চেষ্টা করব দলের প্রয়োজনে ভালো ক্রিকেট খেলার।’