‘সেঞ্চুরিতে’ সেঞ্চুরির ফুল ফুটিয়ে মুমিনুলের পাশে মুশফিকুর

‘সেঞ্চুরিতে’ সেঞ্চুরির ফুল ফুটিয়ে মুমিনুলের পাশে মুশফিকুর ঘড়ির কাঁটায় সকাল সাড়ে নয়টা থেকেই মিরপুর শের-ই-বাংলার সব ক্যামেরা তাক করা মুশফিকুর রহিমের ওপর। আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছিলেন। সাত সকালেই মুশফিকুর ছুঁয়ে ফেলবেন সেঞ্চুরি এমনটাই আশা করা হচ্ছিল। সেটাও বিশেষ এক উপলক্ষে। মুশফিকুর রহিম নিজের সেঞ্চুরি ম্যাচে করবেন সেঞ্চুরি। টেস্ট ক্রিকেটের প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাসে এর আগে কেবল দশ ব্যাটসম্যানই নিজেদের সেঞ্চুরি ম্যাচে তিন অঙ্ক ছুঁতে পেরেছিলেন। রিকি পন্টিং একটু আলাদা। নিজের সেঞ্চুরির ম্যাচে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি তার। নিজেকে এবং পুরো বাংলাদেশকে অপেক্ষায় রাখলেন না মুশফিকুর। দ্বিতীয় দিনের নবম এবং নিজের খেলা অষ্টম বলে ১ রান নিয়ে ল্যান্ডমার্কে পৌঁছে যান। সেঞ্চুরির টেস্টে সেঞ্চুরি রান ক্রিকেট ইতিহাসের একাদশতম ক্রিকেটার মুশফিকুর। ইতিহাসের অক্ষয় কালিতে নিজের নাম লিখে ফেললেন এমআরফিফটিন। ১৯৬৮ সালে যেই যাত্রা শুরু করেছিলে কলিন কাউড্রে। এরপর জাভেদ মিয়াদাঁদ, গর্ডন গ্রিনিজ, ইনজামাম, আমলা, রুট সহ ওয়ার্নারের নাম আছে। এলিট এই ক্লাবের নবীনতম সদস্য মুশফিকুর। পুরো রাত যেই অপেক্ষায় ছিলেন মু্শফিকুর সেই ১ রান নিশ্চিত করেই ভো দৌড়। মাঝ ক্রিজে দুই হাত উপরে তুলে উদযাপন শুরু হয়ে যায় তার। রান পূর্ণ করার পর একটু রয়েশয়েই উদযাপন করেন। এরপর হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে মুখে চওড়া হাসি নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে এরপর সিজদাতে নিজেকে সপে দেন। সতীর্থ লিটনকে জড়িয়ে ধরার আগে গ্যালারিতে ব্যাট নাড়িয়ে মুশফিকুর সমর্থনদের জবাব দেন। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি পেলেন মুশফিকুর। দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান করা মুশফিকুর এই সেঞ্চুরিতে মুমিনুল হককে ছুঁয়ে ফেললেন। মুমিনুল ১৩ সেঞ্চুরি নিয়ে আগে শীর্ষে ছিলেন। সেঞ্চুরি ম্যাচে সেঞ্চুরির ল্যান্ডমার্ক ছুঁয়ে মুশফিকুর এখন মুমিনুলের পাশে। তবে সেঞ্চুরির পর ইনিংসটি আর লম্বা করতে পারেননি। বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু হামফ্রিজের ছোবল দেওয়া ডেলিভারিতে ব্যাট সরাতে পারেননি। ২১৪ বলে ১০৬ রানে থেমে যায় তার ইনিংস।
মুশফিক-লিটনের জোড়া সেঞ্চুরিতে ৪৭৬ রানে থামল বাংলাদেশ

মুশফিক-লিটনের জোড়া সেঞ্চুরিতে ৪৭৬ রানে থামল বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪৭৬ রানের বড় সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে আইরিশ অফ স্পিনার অ্যান্ডি ম্যাকব্রিনের ঘূর্ণিতে অলআউট হওয়ার আগে বড় স্কোরের শক্ত ভিত পায় স্বাগতিকরা। প্রথম দিনের সাবধানী শুরুর পর দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ইনিংসের মূল চালিকাশক্তি ছিল মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের ব্যাট। বিশেষ করে নিজের শততম টেস্টে ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দিনটি স্মরণীয় করে রাখেন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহিম। লিটন-মুশফিকের দাপট দিনের শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী মেলে ধরেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ২১৪ বল মোকাবিলা করে ১০৬ রানের ধ্রুপদী এক ইনিংস খেলেন মুশফিক। ধৈর্য, সঠিক শট নির্বাচন এবং অভিজ্ঞতার মিশেলে সাজানো তার এই ইনিংসটি থামে হাম্প্রিজের বলে বালবিরনির হাতে ক্যাচ দিয়ে। আউট হওয়ার আগে অবশ্য তিনি গড়েছেন ইতিহাস—বিশ্বের ১১তম ব্যাটার হিসেবে নিজের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। অন্যদিকে, উইকেটে শান্ত অথচ আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন লিটন দাস। অসাধারণ টাইমিংয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়ে ১৯২ বলে ১২৮ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। টপ ও মিডল অর্ডারের অবদান এর আগে, ইনিংসের শুরুতে দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় (৩৪) ও সাদমান ইসলাম (৩৫) ভালো শুরু এনে দিলেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। তবে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন মুমিনুল হক। সাবলীল ব্যাটিংয়ে ১২৮ বলে ৬৩ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ২০২ রানের মাথায় দলীয় স্কোরে তিনি আউট হন। লোয়ার অর্ডারের লড়াই ও মিরাজের আক্ষেপ লিটন-মুশফিকের বিদায়ের পর লোয়ার অর্ডারে দলের রান বাড়ানোর দায়িত্ব নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পরিণত ব্যাটিংয়ে এগোতে থাকলেও ফিফটি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থাকতে গ্রাহাম হিউমের (হোয়ে) শিকার হন তিনি (৪৭)। শেষ দিকে ইবাদত হোসেনের ১৮ ও হাসান মুরাদের ১১ রানের সুবাদে ৪৭৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ম্যাকব্রিনের ৬ উইকেট বাংলাদেশের রান উৎসবেও বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন আয়ারল্যান্ডের অ্যান্ডি ম্যাকব্রিন। একাই ৬ উইকেট শিকার করে তিনি বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ গুড়িয়ে দেন। এছাড়া আইরিশদের হয়ে হাম্প্রিজ ও হিউম (হোয়ে) প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট লাভ করেন।
শততম টেস্টে ফিফটি মুশফিকের

শততম টেস্টে ফিফটি মুশফিকের মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ারে আজ বিশেষ এক দিন। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০তম টেস্ট খেলতে নেমেছেন তিনি। আর এমন দিনে এরই মধ্যে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন ব্যাট হাতে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৯৭ রান। মুশফিক ৫৩ আর মুমিনুল ৬২ রানে অপরাজিত আছেন। এর আগে শেরে বাংলায় টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আরও একবার ওপেনিংয়ে ভালো শুরু করেন সাদমান ইসলাম আর মাহমুদুল হাসান জয়। সিলেটে আগের টেস্টে ওপেনিং জুটিতে ১৬৮ রান তুলেছিলেন দুইজন। এবারও ওপেনিং জুটিতে ভরসা দিয়েছেন জয়-সাদমান। টেস্টের প্রথম দিনে প্রথম ঘণ্টা দারুণভাবে পার করেন তারা। জুটিতে পঞ্চাশও পার করেন। তবে ঘণ্টা পেরোতেই এই জুটিটা ভেঙে দেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন। সাদমানের প্যাডে বল লাগলে শুরুতে আউট দেননি আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে জেতে আয়ারল্যান্ড। ৩৫ করে ফেরেন সাদমান। ৫১ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ম্যাকব্রাইনের দ্বিতীয় শিকার হন আরেক ওপেনার জয়। তিনিও সেট হয়ে আউট হন। মিডঅফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩৪ রান করে। এরপর বেশি দেরি করেননি নাজমুল হোসেন শান্তও। বাংলাদেশ অধিনায়ক ম্যাকব্রাইনকে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। পরের বলেই ব্যাট-প্যাডের বিশাল ফাঁক গলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৮ রান করে। একশর আগে (৯৫ রানে) ৩ উইকেট হারানোর পর মুশফিকুর রহিম আর মুমিনুল হকের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ৩ উইকেটে ১৯২ রান নিয়ে প্রথম দিনের চা-বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। বিরতির পরই ফিফটি তুলে নেন মুশফিক। মুমিনুল আগেই পেয়েছেন হাফসেঞ্চুরি।
বিপিএল থেকে নাম প্রত্যাহার তামিমের

বিপিএল থেকে নাম প্রত্যাহার তামিমের শেষ পর্যন্ত সব গুঞ্জনের অবসান ঘটালেন তামিম ইকবাল নিজেই। এবারকার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) তিনি খেলবেন না। ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তামিম। আগামী ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিপিএল খেলোয়াড় নিলাম (প্লেয়ার্স ড্রাফট) থেকে নিজের নাম তুলে নেওয়ার অনুরোধও তামিম জানিয়ে দিয়েছেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফিসকে। এই প্রসঙ্গে ক্রিকবাজকে তামিম বলেন, হ্যাঁ, আমি বিপিএলে অংশ নিচ্ছি না। ড্রাফট থেকে আমার নাম বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেছি।’ ২০১২ সালে বিপিএল যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতিটি আসরেই মাঠে দেখা গেছে তামিমকে। এমনকি শেষ দুই মৌসুমে ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক হিসেবে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন এবং শিরোপাও জিতিয়েছেন। তবে এবার পরিস্থিতি বদলে গেছে। বোর্ড নির্বাচনের সাম্প্রতিক উত্তাপ, ফিসনেট ইস্যু এবং বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজি না থাকা- সবকিছু মিলিয়ে তার বিপিএলে অংশগ্রহণ ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিলেন, এবারের বিপিএলে তাকে দেখা যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েও শেষ মুহূর্তে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়ান তামিম ইকবাল। সেই ঘটনার পর থেকেই দেশের এই তারকা ওপেনারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিশেষ করে বিপিএলে তার অংশগ্রহণ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
রাজস্থানের কোচ হয়েই আইপিএলে ফিরছেন সাঙ্গাকারা

রাজস্থানের কোচ হয়েই আইপিএলে ফিরছেন সাঙ্গাকারা আবারও রাজস্থান রয়্যালসের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন কুমার সাঙ্গাকারা। তিনি আগের মতোই ক্রিকেট পরিচালকের ভূমিকায়ও কাজ চালিয়ে যাবেন। সোমবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজি। ২০২১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত রয়্যালসের প্রধান কোচ ছিলেন সাঙ্গাকারা। তার অধীনে দল ২০২২ সালে ফাইনালে ওঠে এবং ২০২৪ আইপিএলে পৌঁছেছিল প্লে-অফে। গত মৌসুমে (আইপিএল ২০২৫) প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। সাঙ্গাকারার প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান মালিক মনোজ বাদালে বলেন, ‘এই মুহূর্তে দলের যে ধরনের নেতৃত্ব দরকার, সাঙ্গাকারার অভিজ্ঞতা, স্কোয়াডের সঙ্গে তার পরিচয়, এবং রয়্যালসের সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর বোঝাপড়াই আমাদের জন্য স্থিতি ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে। তিনি সবসময় আমাদের পূর্ণ আস্থার জায়গা ছিলেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘তার স্বচ্ছতা, শান্ত স্বভাব এবং ক্রিকেট–বুদ্ধিমত্তা দলকে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখবে।’ এদিকে, বিক্রম রাঠোরকে পদোন্নতি দিয়ে লিড অ্যাসিস্ট্যান্ট কোচ করা হয়েছে। বোলিং কোচ হিসেবে আগের মতোই দায়িত্বে থাকছেন শেন বন্ড। সহকারী কোচ হিসেবে ফিরছেন ট্রেভর পেনি এবং পারফরম্যান্স কোচ হিসেবে থাকছেন সিদ লাহিড়ি।
‘একশটা টেস্টই যেন শেষ না হয়’

‘একশটা টেস্টই যেন শেষ না হয়’ যে ক্ষণটার জন্য অপেক্ষা ছিল, যে সময়টার জন্য প্রতীক্ষা ছিল তার খুব কাছাকাছি ক্রিকেটাঙ্গন। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম যিনি টেস্ট ক্রিকেটের তিন অঙ্কে পৌঁছতে যাচ্ছেন। ১৯ নভেম্বর ঢাকায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট। এই টেস্টেই শততম টেস্টে মাইলফলক স্পর্শ করবেন মুশফিকুর। সময় তাই যত ঘনিয়ে আসছে ততই মুশফিকুরকে ঘিরে বাড়ছে উচ্ছ্বাস, উন্মাদনা ও রোমাঞ্চ। যা ছুঁয়ে যাচ্ছেন মুশফিকুরের কোচদেরও। যাদের সঙ্গে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময় কাজ করেছেন, তাদের সবার চাওয়া মাইলফলক ছোঁয়া এই সময়টা তিনি উপভোগ করুক প্রাণ খুলে। নিজের আনন্দে খেলুক। শুধু তা-ই নয়, একশ টেস্টেই যেন থমকে না যায় মুশফিকুর ব্যাট। অন্তত এক-দুই বছর তাকে টেস্ট অঙ্গনে দেখতে চান প্রত্যেকে। কোচ, বিসিবির গেম ডেভেলাপমেন্ট বিভাগ ‘‘আমাদের দেশে যারা টেস্ট খেলে তাদের টেস্টের সংখ্যা কম। এটা যদি ইংল্যান্ড হইতো বা অস্ট্রেলিয়াতে হতো বা ভারতেরও হতো, ওর যতদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, এতদিনে দেড়শ টেস্ট খেলে ফেলতো। সেই হিসাবে ইদানিং আমাদের একটু টেস্ট সংখ্যা বেড়েছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কারণে। আগে তো অনেক কম হইতো। সেখান থেকে একশটা টেস্ট খেলা মানে বিশাল কিছু।’’ ‘‘ওর সফরটা দেখেন আপনি। শুধু একশ টেস্ট বলবেন…ও কতদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে। এমন না যে অযথাই খেলছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কিন্তু আপনার পারফর্ম করে খেলতে হয়। আপনি পারফর্ম ছাড়া থাকলে আপনাকে কিন্তু খেলাবে না।’’ ‘‘মুশফিকুরকে তার পারফরম্যান্সটা ধরে রাখতে হয়েছে। আমাদের দেশের প্রথম একজন যে একশ টেস্ট খেলতে যাচ্ছে। এজন্য ও নিজেকে প্রস্তুত রেখেছে। ওই ক্ষুধাটা তার ছিল। ওই জেদটা তার ছিল। আমি আশা করব, যদি দলের চাহিদা থাকে এবং তারও খেলার ইচ্ছা তাহলে যেন আরো খেলা চালিয়ে যায়। আরো বেশিদিন মাঠে থাকে। মানে একশটা টেস্ট যেন শেষ না হয়।’’ মিজানুর রহমান বাবুল কোচ, বিসিবির গেম ডেভেলাপমেন্ট বিভাগ ‘‘মুশফিকুরকে শুভকামনা। একজন পারফেক্ট ব্যাটসম্যান। একজন পারফেক্ট স্পোর্টসম্যান। যাকে আপনি অনুসরণ করলে, যাকে আপনি মেনে চললে, আদর্শ ভাবলে ক্যারিয়ারে উন্নতি করতে পারবেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট যেভাবে চলে, যে ধাঁচে এগিয়ে যায় সেখানে একজনের ক্যারিয়ার শীর্ষ পর্যায়ে ২০ বছর টিকে থাকা মুশকিল। মুশফিকুর প্রমাণ করেছে যদি আপনার নিবেদন থাকে, ভালো করার ইচ্ছা থাকে তাহলে আপনি পারবেন।’’ ‘‘ব্যাটসম্যান মুশফিকুর সব সময়ই বাংলাদেশ দলের সেরা। মিডল অর্ডারে লম্বা সময় বাংলাদেশকে সার্ভ করেছে। দেখুন তাকে চ্যালেঞ্জ করে কেউ তাকে রিপ্লেস করতে পারেনি। পারফর্ম করেই সে টিকে আছে এবং খেলে যাচ্ছে। আমি চাই সে সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখুক। এখনো ফিট আছে। অন্যদের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করছে। খেলার প্রতি ভালোবাসা না থাকলে এটা হয় না।’’ ‘‘শততম টেস্টটায় সেঞ্চুরি লাগবেই, এমনটাই নয়। হলে ভালো। না হলেও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। থামলে হবে না। ওর অভিজ্ঞতাটা এই দলের প্রয়োজন এখন। যতদিন খেলতে মন চায় খেলুক। ও তো পারফর্ম না করে আর খেলবে না। তরুণ একজন ক্রিকেটার যদি তার ডেডিকেশন সম্পর্কে জানতে পারে সেটাই হবে বড় পাওয়া।’’
পাকিস্তানের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে শ্রীলংকা

পাকিস্তানের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে শ্রীলংকা দীর্ঘ ছয় বছর পর পাকিস্তান সফরে রয়েছে শ্রীলংকা ক্রিকেট দল। এই সফরে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলছে শ্রীলংকা। তারই ধারাবাহিকতায় রাওয়ালপিন্ডিতে আজ পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ৩য় ওডিআই ম্যাচটি শুরু হয়েছে বিকেল সাড়ে ৩টায়। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। তবে তাদের বোলাররা শুরুতেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছেন। পাক বোলারদের পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করছেন। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেছে শ্রীলংকা।
টি-টেন লিগে দল পেলেন তাসকিন

টি-টেন লিগে দল পেলেন তাসকিন সাকিব আল হাসান, সাইফ হাসানের পর আবুধাবি টি-টেন লিগে দল পেলেন টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদ। নাহিদ রানাও টি-টেন লিগে দল পেয়েছিলেন, তবে তার খেলা হচ্ছে না। টুর্নামেন্ট শুরুর আগমুহূর্তে রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাসকিনের অংশগ্রহণের ব্যাপারে নিশ্চিত করেছে নর্দান ওয়ারিয়র্স ফ্র্যাঞ্চাইজি। ৮ দলের টুর্নামেন্টের টি-টেন লিগ শুরু হবে ১৮ নভেম্বর। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৩০ নভেম্বর। আবুধাবি টি-টেন লিগে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে যুক্ত হয়েছে রয়্যাল চ্যাম্পস। ১৮ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের ড্রাফটের আগেই সাকিব আল হাসানকে দলে নেয় তারা। এই দলে সাকিব সতীর্থ হিসেবে পাবেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস, জেসন রয়ের মতো তারকাদের। ড্রাফটে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে সাইফ হাসানকে দলে নেয় অ্যাসপিন স্ট্যালিয়ন্স। বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন সাইফ। দলের সঙ্গে দ্রুতই যোগ দেবেন তিনি। ‘সি’ ক্যাটাগরি থেকে দল পেয়েছিলেন নাহিদ রানাও। তবে বিসিবি অনাপত্তিপত্র না দেওয়ায় এ আসরে আর খেলা হচ্ছে না তার।
মিচেলের সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল নিউজিল্যান্ড

মিচেলের সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল নিউজিল্যান্ড ড্যারিল মিচেল দুইবার জীবন পেলেন। রোস্টন চেজ ও জেডেন সিলসের হাত ফসকে নিউজিল্যান্ডও পেয়ে গেল মোমেন্টাম। মিচেলের সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৭০ রানের টার্গেট দেয় নিউজিল্যান্ড। টি-টোয়েন্টি সিরিজের মতো এবারও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। কিন্তু শেষ ওভারে বোলিং প্রান্ত থেকে স্নায়ুচাপ সামলে সফল জ্যাকব ডাফি। ৭ রানে জিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল ব্ল্যাক ক্যাপরা। ক্রাইস্টচার্চে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে সপ্তম ওভারে রাচিন রবীন্দ্র ও উইল ইয়াংকে ফিরিয়ে ম্যাথু ফোর্ড হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান। ২৪ রানেই দুটি উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল নিউজিল্যান্ড। ডেভন কনওয়েকে নিয়ে সেই ধাক্কা ভালোভাবে সামলে নেন মিচেল। এক রানের আক্ষেপ নিয়ে কনওয়ে জাস্টিন গ্রিভসের বলে শাই হোপের ক্যাচ হন কনওয়ে। ৬৭ রানের এই জুটিতে ৪৯ রান করে অবদান রাখেন তিনি। ১৯ ও ৬৭ রানে জীবন পাওয়া মিচেল ষষ্ঠ উইকেটে মাইকেল ব্রেসওয়েলকে (৩৫) নিয়ে ৬৯ রানের জুটি গড়েন। ৬১ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর তিনি ১০৭ বলে সেঞ্চুরি করেন ১২ চার ও ১ ছয়ে। ইনিংসের পাঁচ বল বাকি থাকতে থামেন মিচেল। ১১৮ বলে ১২ চার ও ২ ছয়ে সাজানো ছিল তার ১১৯ রানের ইনিংস। তার আগে জ্যাক ফোকসের (২২) সঙ্গে ৪৩ রান যোগ করেন মিচেল। নিউজিল্যান্ডের সাত উইকেটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তিন উইকেট নেন সিলস। দুটি পান ফোর্ড। লক্ষ্যে নেমে ১০ রানে জন ক্যাম্পবেল (৪) ফিরে যান। কিসি কার্টি ও আলিক আথানেজ ৬০ রানের জুটিতে সেই ধাক্কা কাটান। তবে ১৭ রানের ব্যবধানে দুজনই আউট হলে চাপে পড়ে ক্যারিবিয়ানরা। শেরফানে রাদারফোর্ড ফিফটি গড়ে সফরকারীদের লড়াইয়ে রাখেন। শাই হোপের (৩৭) সঙ্গে ৫১, চেজকে (১৬) নিয়ে ৩১ ও গ্রিভসের সঙ্গে ৪০ রানের জুটি গড়েন তিনি। ৫৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি করা রাদারফোর্ড ৬১ বলে ৫৫ রান করে কাইল জেমিসনের শিকার হন। শেষ দিকে রোমারিও শেফার্ড ও গ্রিভস ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের মনে। তাদের জুটিতে শেষ দুই ওভারে লক্ষ্য কমে দাঁড়ায় ৩২ রানে। ম্যাট হেনরি শেষের আগের ওভারে ১২ রান দেন। শেষ ওভারে দরকার ছিল ২০ রানের। চমৎকার বোলিংয়ে ১২ রান দেন ডাফিও। ২৯ বলে ৫৩ রানের জুটি ছিল শেফার্ড ও গ্রিভসের। ৩৮ রানে গ্রিভস ও শেফার্ড ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ঘরের মাঠে প্রথমবার ব্যর্থ জয়সওয়াল, দুই ইনিংস মিলিয়ে সর্বনিম্ন রান

ঘরের মাঠে প্রথমবার ব্যর্থ জয়সওয়াল, দুই ইনিংস মিলিয়ে সর্বনিম্ন রান দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে শূন্য রানে আউট হওয়ায় থেমে গেল যসশ্বি জয়সওয়ালের অবিশ্বাস্য রানের গতি। রবিবার সফরকারীদের বিপক্ষে কলকাতায় দ্বিতীয় ইনিংসে মাঠের নামার আগের ঘরের মাঠের ২৪ ইনিংসে ৫৭.৪৭ ব্যাটিং গড়ে এক হাজার ৩২২ রান করেছেন বাঁহাতি ব্যাটার। এ সময় তিনটা শতক এবং সাতটি অর্ধশতকের ইনিংস আছে জয়সওয়ালের। ঘরের মাঠে কখনও দুই অঙ্কের কোটায় যাওয়ার আগে আউট হননি। তবে আজ প্রোটিয়াদের বিপক্ষে মাত্র চার বলেই থামলেন জয়সওয়াল। ঘরের মাঠে এটিই জয়সওয়ালের প্রথমবার ব্যর্থ হওয়া। এই টেস্টের প্রথম ইনিংসেও বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি। ১২ রানের পথে মার্কো জ্যানসেন বোল্ড আউট করেন তাকে। দ্বিতীয় ইনিংসেও এই পেসারকে উইকেট দেন জয়সওয়াল। কোনো টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে এটি সর্বনিম্ন রান ২৩ বছর বয়সি ব্যাটারের। এর আগে দুই ইনিংস মিলিয়ে জয়সওয়ালের সর্বনিম্ন রান ছিল ১৩, লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এদিন ১২৪ রানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে লোকেশ রাহুল ফিরেছেন স্রেফ এক রানে। টেস্ট ক্রিকেটে গত এক দশকে কোনো ভারতীয় ওপেনিং জুটি এতো কম রান করেনি।