আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে শাস্তির কবলে ফখর জামান

আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে শাস্তির কবলে ফখর জামান গত মাসের শেষ দিকে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে জরিমানার কবলে পড়েছেন পাকিস্তানের বাঁ-হাতি ব্যাটার ফখর জামান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ওই ফাইনাল ম্যাচে ‘আইসিসি কোড অব কনডাক্টের ২ দশমিক ৮ ধারা’ লঙ্ঘন করেছেন জামান। তারই শাস্তি হিসেবে জামানকে ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা এবং একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসি। গতকাল এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইসিসি। ফাইনালে পাকিস্তান ইনিংসের ১৯তম ওভারে আউট হওয়ার পর মাঠে আম্পায়ারদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন জামান। জামানের শাস্তি নিশ্চিত করেছেন ম্যাচ রেফারি হিসেবে দায়িত্বে থাকা রিয়ন কিং। ফখর জামান অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নেওয়ায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।
পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ তিক্ততার স্বাদ নয়, এবার হাসিমুখেই মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। ৬ বল হাতে রেখে পাকিস্তানকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে মেয়েরা। কক্সবাজারের এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত সংস্করণের দ্বিতীয়টিতে ৮১ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। তাড়া করতে নেমে দলীয় ৪ রানের মাথায় বিদায় নেন অধিনায়ক অরিত্রী মণ্ডল (২)। একে একে আরো তিন সতীর্থকে ড্রেসিংরুমের পথ ধরতে দেখলেন ওপেনার সুমাইয়া আক্তার। তাতে শঙ্কা জেগেছিল প্রথম ম্যাচের মতোই ব্যাটিং ব্যর্থতায় আরেকটি পরাজয় দেখবে কিনা বাংলাদেশ। তবে সেই শঙ্কা দূর করেন সুমাইয়া। দলীয় ৩৬ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে পথ দেখান তিনি। পঞ্চম উইকেটে ফারজানা ইয়াসমিনকে সঙ্গী করে ২৭ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ বের করে আনেন তিনি। জয় নিয়ে অবশ্য মাঠ ছাড়তে পারেননি সুমাইয়া-ইয়াসমিন। দুজনই দলীয় ৬৩ রানে বিদায় নেন। ইয়াসমিনের ১০ রানের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন সুমাইয়া। পরে আরো এক উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে ১৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দিয়েছেন সাদিয়া আক্তার। পাকিস্তানের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন আলিশা মুক্তিয়ার ও মেমোনা খালিদ। এর আগে হাবিব ইসলাম পিংকির পেস তোপে ৮০ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তানের মেয়েরা। অধিনায়ক ইমান নাসেরকে আউট করে শুরুটা অতসী মজুমদার করলেও পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার ধসিয়ে দেন পিংকি। ১৭ রান খরচ করে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান এই পেসার। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন উইকেটরক্ষক কমল খান। তৃতীয় ম্যাচ ৭ ডিসেম্বর, কক্সবাজারেই।
হোপের ব্যাটে শেষদিনে গড়াল ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট

হোপের ব্যাটে শেষদিনে গড়াল ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে জয় পেতে হলে ইতিহাসই নতুন করে লিখতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। কারণ সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লক্ষ্যটা শুধু বড়ই নয়, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে বড় রানতাড়ারও। চ্যালেঞ্জ মোট ৫৩১ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের দৃঢ়তায় অসম্ভবটাকে সম্ভব করার স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে। প্রথম ইনিংসে টসে জিতে নিউ জিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল ক্যারিবীয়রা। কিউইরা থেমেছে ২৩১ রানে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ভুল–ত্রুটিতে ১৬৭ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ফলে ৬৪ রানের লিড তোলে নিউ জিল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে দারুণ আগ্রাসী ছিল ল্যাথামের দল। ৮ উইকেটে ৪৬৬ তুলে ইনিংস বন্ধ ঘোষণা করে তারা। বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন কেমার রোচ। মাত্র ৭৮ রানে পেয়েছেন ৫ উইকেট। তারপরই শুরু হয় অসম্ভব এক যাত্রা। ৫৩১ রানের হিমালয়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে উইকেট হারালেও ধস নামতে দেননি শাই হোপ ও জাস্টিন গ্রিভস। চতুর্থ দিন শেষে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২১২। কঠিন পরিস্থিতিতেও ব্যাট হাতে লড়াইটা বাঁচিয়ে রেখেছেন এ দুজন। অপরাজিত হোপ খেলছেন ১৮৩ বলে ১১৬ রানের ঝলমলে সেঞ্চুরি। পাশে গ্রিভসের ব্যাটও সমান দৃঢ়- ১৪৩ বল থেকে ৫৫ রানের মূল্যবান ইনিংস। শেষ দিনে জিততে হলে দরকার আরও ৩১৯ রান, হাতে আছে ৬ উইকেট। টেস্টে রানতাড়া করে জয়ের সর্বোচ্চ রেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই। ২০০৩ সালে ৪১৮ রান তাড়া করে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল ব্রায়ান লারার সেই দল। এবার সুযোগ আছে সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাওয়ার। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে অবশ্য রানতাড়ার ইতিহাস আছে। গত বছরই এই মাঠে নিউ জিল্যান্ড ২৮৫ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল। তবে এবারকার লক্ষ্য তার প্রায় দ্বিগুণ। তাই চ্যালেঞ্জটাও মহাকাব্যিক। শেষ দিনের সকালই বলে দেবে- এই লড়াই শুধু প্রতিরোধেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ক্রিকেট ইতিহাসে জন্ম নেবে নতুন এক বিস্ময়।
দেশ পুনর্গঠনে ‘৩০ কোটি’ রুপি দিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট

দেশ পুনর্গঠনে ‘৩০ কোটি’ রুপি দিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট সাইক্লোন দিতওয়া’র তাণ্ডবে বিপর্যস্ত দেশকে পুনর্গঠনে সহায়তা করতে সরকার ঘোষিত ‘রিবিল্ডিং শ্রীলঙ্কা’ তহবিলে ৩০ কোটি রুপি অনুদান দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। এসএলসি সভাপতি শাম্মি সিলভা ও নির্বাহী কমিটির নির্দেশনায় নেওয়া এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বোর্ড জানায়, জাতীয়ভাবে মূল্যবান একটি খেলাধুলার অভিভাবক সংস্থা হিসেবে দেশের প্রতি তাদের দায়িত্ব ও অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন এটি। এক বিবৃতিতে এসএলসি জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বিধ্বস্ত অঞ্চলে জরুরি জনসেবামূলক কাঠামো পুনরুদ্ধারে সরকারের উদ্যোগকে সহায়তা করতেই তাদের এই অবদান। এছাড়া যে কোনো দুর্যোগ, পুনর্গঠন বা জাতীয় প্রয়োজনে দেশকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতিও আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। বোর্ডের ভাষ্য- শ্রীলঙ্কার পুনর্জাগরণ ও উন্নয়ন অভিযাত্রায় তারা সব সময় প্রস্তুত।
সেঞ্চুরি করে ৭ বছরের মধ্যে উল্টো পিঠ দেখলেন কোহলি

সেঞ্চুরি করে ৭ বছরের মধ্যে উল্টো পিঠ দেখলেন কোহলি বিরাট কোহলির সেঞ্চুরি মানেই ভারত জয়ের দুয়ারে, এ ধারণা ভেঙে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। রাঁচিতে বুধবার অনুষ্ঠিত ওয়ানডেতে কোহলি টানা দ্বিতীয় শতক তুলে নিয়ে দলকে বড় সংগ্রহে পৌঁছে দিলেও শেষ পর্যন্ত ভারতের জয় অধরাই রইল। কোহলির ১০২ রানের ইনিংসে ভারত তোলে ৩৫৮ রান। তবে দারুণ দৃঢ়তা ও কৌশল প্রদর্শন করে প্রোটিয়ারা সেই বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে জয় পেল চার উইকেট হাতে রেখেই। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো কোহলি সেঞ্চুরি করলে ভারতের টানা সাত বছরের অপরাজেয় রেকর্ড। এর আগে সর্বশেষ ২০১৯ সালের মার্চে রাঁচিতেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোহলির শতকের পর ভারত হেরেছিল। সেবার তিনি করেছিলেন ১২৩ রান। ক্যারিয়ারে কোহলির শতকের পর ভারত মাত্র আটবার হেরেছে। এর সর্বশেষ উদাহরণ বুধবারের রায়পুর ম্যাচ।কোহলির সেঞ্চুরির পরও ভারত যেসব ম্যাচে হেরেছে। ১০৭ বনাম ইংল্যান্ড, ২০১১ (কার্ডিফ) ১২৩ বনাম নিউজিল্যান্ড, ২০১৪ (নেপিয়ার) ১১৭ বনাম অস্ট্রেলিয়া, ২০১৬ (মেলবোর্ন) ১০৬ বনাম অস্ট্রেলিয়া, ২০১৬ (ক্যানবেরা) ১২১ বনাম নিউজিল্যান্ড, ২০১৭ (মুম্বাই) ১০৭ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০১৮ (পুনে) ১২৩ বনাম অস্ট্রেলিয়া, ২০১৯ (রাঁচি) ১০২ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, ২০২৫ (রায়পুর) ২০১৯ সালের পর থেকে মঙ্গলবারের আগের ম্যাচ পর্যন্ত কোহলি আরো ১১টি সেঞ্চুরি করেছেন, যার সবগুলোই ভারতের জয়ে পরিণত হয়েছিল। ৫৩টি ওয়ানডে সেঞ্চুরির মধ্যে ৪৪টি এসেছে জয়ের ম্যাচে।
সিরিজ জয়ের সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে সফলতম বছর কাটাল বাংলাদেশ

সিরিজ জয়ের সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে সফলতম বছর কাটাল বাংলাদেশ রিশাদের মায়াবি গুগলি। সাইফ উদ্দিনের দুর্বোধ্য স্লোয়ার। মোস্তাফিজুর রহমানের বাহারি কাটারের সঙ্গে শরিফুলের গতি ও মেহেদীর স্পিন…টি-টোয়েন্টিতে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে, ঘাবড়ে দিতে আর কি চাই? চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামের ২২ গজ বাংলাদেশের বোলারদের জন্য প্রাপ্তির ডালা সাজিয়ে বসেছিল। আয়ারল্যান্ড সেখানে স্রেফ অসহায়। ঢিলেঢালা ব্যাটিংয়ে গুটিয়ে গেল ১১৭ রানে। সিরিজ নির্ধারণী অঘোষিত ‘ফাইনাল’ ম্যাচ হলো একেবারে নিরুত্তাপ। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৩.৪ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ৮ উইকেটের জয়ে ২-১ ব্যবধানে বাংলাদেশ নিশ্চিত করল বিশতম সিরিজ জয়। চট্টগ্রামে ম্যাচ শুরু হয়েছিল দুপুর ২টায়। এই মাঠে দিনের আলোয় চারটি টি-টোয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ। চারটির তিনটিতেই জয়। দুটি আয়ারল্যান্ড ও একটি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। একমাত্র হার ছিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এবার সেই ভুল করলো না দল। প্রত্যাশিত জয়ে নিশ্চিত হয়েছে সিরিজ। বোলাররা সিরিজ জয়ের মঞ্চ প্রস্তুত করে দেন অতি সহজে, দারুণ বোলিংয়ে। সেই সাজানো ক্যানভাসে তুলির আঁচড় ছড়িয়ে রঙিন করে দেন তানজিদ ও পারভেজ। ওপেনিংয়ে ফিরে সাইফ হাসান ভালো শুরু করেছিলেন। ১২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৯ রান তুলে নেন। এরপর ইয়ংকে এগিয়ে এসে পুল করতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। তিনে নেমে অধিনায়ক লিটন প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি আজ। ৬ বলে ১ চারে ৭ রানে থেমে যায় তার ইনিংস। অফস্পিনার হ্যারি টেক্টরের শর্ট বল পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে ধরা পড়েন ক্যাম্ফারের হাতে। ৪৬ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ৫০ বলে ৭৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তানজিদ ও পারভেজ। ঝড়ো ব্যাটিং করে তানজিদ ৩৬ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৫ রান করেন। পারভেজ ২৬ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কা হাঁকান। দুজনের ব্যাটিংয়ে কেবল আত্মবিশ্বাসই নয়, প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে উঠার টার্গেটও ছিল। তাইতো চোখ ধাঁধানো ছক্কাগুলো বাড়তি নজর কেড়েছে। এর আগে আয়ারল্যান্ড টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটনও টস জিতে ব্যাটিং করার আগ্রহের কথা বলেছিলেন। কিন্তু বোলিংয়ে বোলাররা এতোটা ভালো করবেন তা হয়তো তার প্রত্যাশাতেও ছিল না। মোস্তাফিজ ১১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ছিলেন দলের সেরা। সমান উইকেট পেয়েছেন রিশাদও। লেগ স্পিনার রান দিয়েছেন ২১। মোস্তাফিজ আরেকদিক দিয়েও এগিয়ে। বাঁহাতি পেসার হাত ঘুরিয়েছেন ৩ ওভার। রিশাদ কোটার ৪ ওভারই করেছেন। আয়ারল্যান্ডের হয়ে এদিন ব্যাট হাতে কেবল লড়াই করেন পল স্টার্লিং। আইরিশ অধিনায়ক দুইবার জীবন পাওয়ার পর ২৭ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ রান করেন। বাকিরা কেউ বিশের ঘর পেরোতে পারেননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন জর্জ ডকরেল। রিশাদ কার্টিস ক্যাম্ফারকে গুগলিতে বোল্ড করেন। তা চোখ ধাঁধিয়ে দেয় সবাইকেই। এছাড়া দিনের আলোয় মোস্তাফিজের বলগুলো গ্রিপও হচ্ছিল দারুণভাবে। কন্ডিশনের পুরো ব্যবহার তারা করেছে।
আট নম্বরে বছর শেষ মোস্তাফিজুর রহমানের

আট নম্বরে বছর শেষ মোস্তাফিজুর রহমানের আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে র্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। দশে থাকা মোস্তাফিজুর উঠে এসেছেন আট নম্বরে। এই অবস্থানে থেকে আরেকটি সফল বছর শেষ করলেন মোস্তাফিজুর। যদিও তার ক্যারিয়ারের সেরা র্যাংকিং পাঁচ। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পুরুষ ক্রিকেটারদের র্যাঙ্কিংয়ের সাপ্তাহিক হালনাগাদ করেছে। আয়ারল্যান্ডের সিরিজ জয়ের সঙ্গে একাধিক ক্রিকেটারের র্যাংকিংয়েও উন্নতি হয়েছে। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ২১ ধাপ এগিয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন। প্রথম ম্যাচে রান না পেলেও শেষ দুই ম্যাচে ৪৩ ও ৩৩ রানের ইনিংস আসে তার ব্যাট থেকে। শেষ ম্যাচে ৩৩ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। র্যাংকিংয়ে তার অবস্থান এখন ৩৮ নম্বরে। তানজিদ শেষ ম্যাচে ঝড়ো ফিফটিতে দলকে জেতালেও আগের দুই ম্যাচে রান পাননি। এজন্য এক ধাপ অবনমন হয়ে ১৯ নম্বরে নেমে গেছেন। এছাড়া তাওহীদ হৃদয়ের ৫ ধাপ উন্নতি হয়েছে। ৪২তম স্থানে আছেন তিনি। যৌথভাবে তার সঙ্গে আছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। মোস্তাফিজুর প্রথম দুই ম্যাচে কোনো উইকেট পাননি। তবে, রান দিয়েছেন ২৩ ও ৩৯। শেষ ম্যাচে ১১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তার নিখুঁত বোলিংয়ে আয়ারল্যান্ডকে অল্পতে আটকে রাখতে পেরেছিল বাংলাদেশ। ৩ উইকেট পেয়েছিলেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনও। তিনি এগিয়েছেন ৫ ধাপ। র্যাংকিংয়ে তার অবস্থান ১৫তম। ৩ ধাপ এগিয়েছেন শেখ মাহেদী হাসান। দুই ম্যাচ খেলে কোনো উইকেট না পেলেও ৫ ধাপ এগিয়েছেন নাসুম আহমেদের। বাঁহাতি এই স্পিনার আছেন ২৫তম স্থানে। ওই দুই ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে পেসার তানজিম হাসান দুই ধাপ এগিয়ে ৩৫ নম্বরে। টি-টোয়েন্টি বোলারদের মধ্যে আগের মতোই সবার ওপরে ভারতের বরুণ চক্রবর্তী। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শীর্ষে ভারতের অভিষেক শর্মা।
৩৪ ম্যাচের বিপিএল শুরু ২৬ ডিসেম্বর

৩৪ ম্যাচের বিপিএল শুরু ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর আগে সবগুলো আসরের ম্যাচ শুরু হয়েছিল ঢাকায়। এবার ঢাকার পরিবর্তে সিলেটে পর্দা উঠবে বিপিএলের। ২৬ ডিসেম্বর প্রতিযোগিতা শুরু হবে। ফাইনাল হবে আগামী ২৩ জানুয়ারি ঢাকায়। এবারও তিনটি ভেনু্যতে হবে বিপিএল। সিলেট ও ঢাকার পাশাপাশি ম্যাচ হবে চট্টগ্রামে। রাজশাহী ও বগুড়াতেও ম্যাচ আয়োজনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত হয়নি। ৬ দল নিয়ে অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্বে ম্যাচ হবে ৩০টি। আর প্লেঅফ ও ফাইনাল মিলে আসরে মোট ৩৪টি ম্যাচ মাঠে গড়াবে। ১৯ জানুয়ারি হবে এলিমিনেটর ও প্রথম কোয়ালিফায়ার। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ২১ জানুয়ারি আর ফাইনাল ২৩ তারিখ। এই ম্যাচগুলো সবই হবে ঢাকাতে। এই পর্বের ম্যাচের জন্য রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক পর্বে প্রতিদিন মাঠে গড়াবে দুটি করে ম্যাচ। প্রতি দুই দিন পর রাখা হয়েছে একদিন করে বিরতি। ঢাকা পর্বে প্রাথমিক পর্বের তিনটি ম্যাচ ডের মাঝে নেই কোনো বিরতি। দিনের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে বেলা ১টায়, দ্বিতীয়টি সন্ধ্যা ৬টায়। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার প্রথম ম্যাচ বেলা ২টা ও পরেরটি সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে। ২৬ ডিসেম্বর সিলেট টাইটান্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ম্যাচ দিয়ে বিপিএল শুরু হবে দুপুর ২টায়। সন্ধ্যার ম্যাচে মুখোমুখি হবে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালস। পরের দিন দুপুর ১টায় ঢাকা ক্যাপিটালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স খেলবে। সন্ধ্যার ম্যাচে লড়বে সিলেট টাইটান্স ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
জয় দিয়েই শেষ হলো বাংলাদেশের সেরা টি-টোয়েন্টি বছর

জয় দিয়েই শেষ হলো বাংলাদেশের সেরা টি-টোয়েন্টি বছর দুশ্চিন্তার শুরু ছিল সিরিজের প্রথম ম্যাচেই। তবে শেষ পর্যন্ত হাসিমুখেই বছরটা শেষ করল বাংলাদেশ। আজ চট্টগ্রামে আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটের সহজ জয়ে হারিয়ে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২–১ ব্যবধানে জিতল টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে একটি পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি ১৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জয়ের জাতীয় রেকর্ডও গড়েছে দল। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ১১৭ রানে গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। শুরুটা ভালো করেও শরীফুল, মোস্তাফিজ ও রিশাদের বোলিংঝড়ে ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে অতিথিরা। ধারাবাহিক আক্রমণে আইরিশরা পঞ্চম ওভারের পর টানা ৪১ বল বাউন্ডারি পায়নি। শেষ পর্যন্ত এক বল বাকি থাকতে অলআউট হয় তারা। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন রিশাদ হোসেন। একাদশে ফিরেই নেন ৩ উইকেট। তার গুগলিতেই বোল্ড হন ক্যাম্পার। শরীফুলও তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু, আর মোস্তাফিজ সাফল্য এনে দেন নিয়মিত বিরতিতে। ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়ক নিঃসন্দেহে তানজিদ হাসান। ব্যাট হাতে দারুণ হাফ সেঞ্চুরি (ছক্কায় শেষ করা) করার আগে তিনি গড়েছেন এক অনন্য রেকর্ড, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫টি ক্যাচ! এর আগে কোনো বাংলাদেশি এ কীর্তি গড়তে পারেননি। ব্যাট হাতে তাকে সঙ্গ দেন পারভেজ হোসেন। ওপেনিংয়ে সাইফ হাসানের ছোট ইনিংস ও লিটনের ব্যর্থতা কাটিয়ে চতুর্থ উইকেটে পারভেজ-তানজিদের অবিচ্ছিন্ন ৫০ বলে ৭৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে এনে দেয় জয়ের বন্দরে। এই বছর বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছক্কার মালিক ছিলেন তানজিদ, দ্বিতীয় পারভেজ। আজ তিন ছক্কা হাঁকিয়ে তানজিদের বছরের মোট ছক্কা দাঁড়াল ৪১টি, পারভেজের ৩৪টি।
আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ালেন ম্যাক্সওয়েলও

আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ালেন ম্যাক্সওয়েলও দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে শেষপর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। এক আবেগঘন বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, আইপিএল ২০২৬ নিলামে তিনি নিজের নাম রাখেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত সেই দীর্ঘ পোস্টে ম্যাক্সওয়েল লিখেছেন, আইপিএল তাকে বদলে দিয়েছে ‘একজন ক্রিকেটার হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও।’ প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন বিদেশি ক্রিকেটারদের একজন ছিলেন তিনি। কিন্তু পাঞ্জাব কিংস তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর এ বছর নিলামে নাম তালিকাভূক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী ক্রিকেটার। ম্যাক্সওয়েল লিখেছেন, “আইপিএলে এত বছর অবিস্মরণীয় সময় কাটানোর পর এ বছর নিলামে না ওঠার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লিগটি আমাকে যে সম্মান, ভালোবাসা আর অভিজ্ঞতা দিয়েছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।” তিনি আরও যোগ করেছেন, “আইপিএল আমাকে গড়ে তুলেছে। অসাধারণ সব সতীর্থ পেয়েছি, দুর্দান্ত সব ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছি, আর এমন সব দর্শকের সামনে খেলেছি যাদের আবেগের তুলনা নেই। ভারতের স্মৃতি, চ্যালেঞ্জ আর উন্মাদনা সারাজীবন থেকে যাবে।” শেষে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ম্যাক্সওয়েলের বার্তা, “এত বছর পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আশা করছি আবারও কোথাও দেখা হবে।” এর আগে ফাফ ডু প্লেসিস ও মঈন আলির মতো বড় নামও আইপিএল ২০২৬ মিনি নিলামে না ওঠার ঘোষণা দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় ম্যাক্সওয়েল কি তাদের পথ ধরে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ২০২৬ মৌসুমে নাম লেখান কি না। আইপিএলে ১৪১ ম্যাচে ২,৮১৯ রান করেছেন ম্যাক্সওয়েল। স্ট্রাইক রেট ১৫৫ এরও বেশি। সবচেয়ে বেশি খেলেছেন পাঞ্জাব কিংস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে। পাশাপাশি অল্প সময়ের জন্য মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়েও খেলেছেন তিনি। তবে আইপিএলে তার ক্যারিয়ার ছিল উত্থান-পতনে ভরা। একদিকে বিস্ময়কর সব পারফরম্যান্স, অন্যদিকে অনেক মৌসুমেই হতাশা। একমাত্র আইপিএল শিরোপা জিতেছিলেন ২০১৩ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে, তাও মূল স্কোয়াডে খুব বেশি সুযোগ না পেয়ে। আইপিএল ২০২৫-এ পাঞ্জাব কিংস ৪.২ কোটি রুপিতে তাকে দলে নিলেও চোটে ভরা এক অনুজ্জ্বল মৌসুম শেষে তাকে আর ধরে রাখেনি ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। অর্থমূল্যে আইপিএলের অন্যতম ‘হট প্রপার্টি’ ছিলেন ম্যাক্সওয়েল। তার সবচেয়ে বড় চুক্তি ছিল ২০২১ সালে। সেবার আরসিবি তাকে কিনেছিল ১৪.২৫ কোটি রুপিতে। ২০১৩ সালের নিলামেও তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ মূল্য পাওয়া খেলোয়াড়, যখন মুম্বাই তাকে দলে ভেড়ায়।