বিশ্বকাপ বর্জনের গুঞ্জনের মধ্যেই দল ঘোষণা পাকিস্তানের

বিশ্বকাপ বর্জনের গুঞ্জনের মধ্যেই দল ঘোষণা পাকিস্তানের বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের আলোচনা চলমান। পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি আসন্ন টুর্নামেন্টে নিজেদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন করে ভাবার কথা জানিয়েছিলেন। তার একদিন পর অবশ্য টুর্নামেন্টে খেলার জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ঘোষিত দলে বড় চমক হিসেবে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অলরাউন্ডার সালমান আলি আগাকে। সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম থাকলেও অভিজ্ঞ উইকেটকিপার ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান বাদ পড়েছেন। রিজওয়ানের অনুপস্থিতিতে উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে দেখা যাবে তরুণ খাজা নাফেকে। কোচ মাইক হেসন ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্যাটিং অর্ডারে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন কৌশলে এগোতে চাইছে পাকিস্তান। পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি আগেই জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারের ওপর নির্ভর করছে। এদিকে বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তান এই টুর্নামেন্ট বর্জনের হুমকি দিয়ে আসছিল। ভারতীয় মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান অংশ না নিলে আইসিসি তাদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে দল ঘোষণা করাকে পিসিবির ‘কৌশলগত অবস্থান’ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। পাকিস্তান স্কোয়াড: সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, খাজা নাফে (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নেওয়াজ, সালমান মির্জা, নাসিম শাহ, শাহিন শাহ আফ্রিদি, সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, শাদাব খান, উসমান খান ও উসমান তারিক।
যে রিপোর্টের কারণে ভারতে দল পাঠায়নি বাংলাদেশ

যে রিপোর্টের কারণে ভারতে দল পাঠায়নি বাংলাদেশ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ চেয়েছিল ভেন্যু পরিবর্তন করে ভারতের পরিবর্তে শ্রীলংকায় গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সাবেক সচিব ও বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সভাপতি জয় শাহর নেতৃত্বাধীন বোর্ড। নিরপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ করে দিয়েছে আইসিসি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘরে বাইরে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। এব্যাপারে বিসিবির বর্তমান পরিচালক ও জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী আসিফ আকবর জানিয়েছেন, গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিসিবি পরিচালক বলেন, ‘গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের নিজস্ব প্রশ্ন ছিল এখানে। তাদের একটা গোয়েন্দা প্রতিবেদন থাকে যে আমাদের ক্রিকেটার, সাংবাদিক, দর্শক বা ট্যাকটিকাল লোকজন যাবে, তাদের নিরাপত্তা ইস্যু ও সেখানে যে ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে, সেগুলোকে মাথায় রেখেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মুহূর্তে যদি কোনো নাশকতামূলক ঘটনাও ঘটে, সেটার দায়দায়িত্ব আমরা নিতে পারি না। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। বিসিবি পরিচালক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বকাপে যাচ্ছে না নিরাপত্তার হুমকির কারণে। সরকারের সঙ্গে যখন সরকারের আলোচনা হয়, সবার আগে নিরাপত্তা দেখা হয়। ক্যাবিনেটে রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিরাপত্তার কারণে যাব না। সেখানে অনেক কিছু ঘটতে পারে। আইসিসি একটি সংস্থা, বিসিবিও সংস্থা। তবে তারা রাষ্ট্র না। একটা রাষ্ট্র যখন নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলে, তখন সব দিক বিবেচনা করেই কথা বলে। আমাদের সরকার নিরাপত্তাঝুঁকির কথা জানানোর পর তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া, আইন এই চার মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভায় বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আমরা ঝুঁকি নেব না।
চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করলো রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। শুরুতে নেমে ২০ ওভারে ১৭৪ রান করে রাজশাহী। জবাবে ১১১ রানে থামে চট্টগ্রামের ইনিংস। এটা রাজশাহীর দ্বিতীয় বিপিএল শিরোপা। এর আগে বিপিএলের ২০১৯-২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস নামে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এদিকে, বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তিনবার শিরোপা জিতেছে ঢাকা। রাজশাহীর সমান দুবার করে চ্যাম্পিয়ন হয় বরিশাল। আর একবার শিরোপা জিতেছে রংপুর রাইডার্স। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় রাজশাহী। তানজিদের ঝড় ও সাহিবজাদার ধৈর্য্যশীল ব্যাটিংয়ে ওপেনিং জুটিতে আসে ৮৩ রান। ৩০ বলে ৩০ রান করে আউট হন ফারহান। দ্বিতীয় উইকেটে খেলতে নামা কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে ৪৭ রানের জুটি গড়েন তানজিদ। শরিফুল ইসলামের বলে আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে ২৪ রান করেন উইলিয়ামসন। এদিকে আপনতালে খেলতে থাকেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ফিফটির পূরণের পর সেঞ্চুরিও তুলে নেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। বিপিএলের এবারের আসরে এটা চতুর্থ সেঞ্চুরি। আর বিপিএলের ফাইনালে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন তানজিদ। এর আগে ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছিলেন ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত তানজিদের ইনিংস থামে ১০০ রানে। মাত্র ৬২ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি ছয়টি চার ও সাতটি ছয়ে সাজানো। আর দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। এদিকে ৭ রানে অপরাজিত থাকেন জিমি নিশাম। চট্টগ্রাম রয়্যালসের সফল বোলার শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম। দুজনই দুটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস। দলীয় ১৮ রানের মাথায় সাজঘরের ফেরেন দুই ব্যাটার। ১০ বলে ৯ রান করেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ। আর ২ বল খেলে রানের খাতায় খুলতে পারেননি মাহমুদুল হাসান জয়। এরদিকে হাসান নেওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে ১১ রান। চতুর্থ উইকেটে ব্যাট করতে নামেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার জাহিদুজ্জামান। তাকে নিয়ে কিছুক্ষণ লড়াই চালিয়ে মির্জা বেগ। কিন্তু দুজনের ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে ম্যাচটি চট্টগ্রামের হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। ১৩ বলে ১১ রান করে আউট হন জাহিদুজ্জামান। আর আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ৩৯ রান করেন মির্জা বেগ।
আপিল বাতিল: বিসিবির সামনে এখন যে পথ খোলা
আপিল বাতিল: বিসিবির সামনে এখন যে পথ খোলা বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তন চেয়ে আইসিসির ডিসপিউট রেজ্যুলেশন কমিটি বা বিবাদ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) কাছে করা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আপিল বাতিল হয়ে গেছে। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই এমন তথ্যই জানিয়েছে। বিসিবি অবশ্য শুধু আইসিসির দিকেই তাকিয়ে নেই। তারা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাওয়ার কথাও ভাবছে। বিসিবির এক কর্তা সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘বিসিবি আইসিসির ডিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমরা বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা এবং পথগুলি খোলা রাখতে চাইছি। ডিআরসিও বিসিবির বিরুদ্ধে রায় দিলে আমাদের সামনে একটিই পথ থাকবে। আমরা সুইজারল্যান্ডের কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসের (সিএএস) সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি।’’ আইসিসির সংবিধান অনুযায়ী, বিসিবি ডিআরসির কাছে আবেদন করতে পারে। কিন্তু আইসিসি বোর্ডের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুনানির এখতিয়ার নেই ইংল্যান্ডের মাইকেল বেলের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির। ডিআরসির শর্তাবলীর ১.৩ ধারা অনুযায়ী, তারা আইসিসির সিদ্ধান্ত বা আইসিসির বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করতে পারে না। ডিআরসি আইসিসির কোনও নিয়ম বা বিধি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোনও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কমিটি হিসাবেও কাজ করবে না। ডিআরসি একটি স্বাধীন সালিশি সংস্থা, যা আইসিসির সদস্য বোর্ড, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তি করে থাকে। সাধারণত অভ্যন্তরীণ সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলে এই কমিটি হস্তক্ষেপ করে। বাংলাদেশের টি ২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলংকায় সরানোর অনুরোধ নিয়ে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে চলমান অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ডিআরসির কথা সামনে এসেছে। সরকার নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ভারতে টি ২০ বিশ্বকাপে খেলতে চায় না। আইসিসি ভোটাভুটির মাধ্যমে বাংলাদেশের দাবি নাকচ করে দিয়েছে। ১৫ সদস্যের মধ্যে একমাত্র পাকিস্তান ছাড়া আর কেউ বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয়নি। এরপর আর আইসিসির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
সুপার সিক্সে উঠতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০০ রান

সুপার সিক্সে উঠতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০০ রান সুপার সিক্সে উঠতে হলে আজ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জয়ের কোনো বিকল্প নেই। হারারের তাকাশিঙ্গা স্পোর্টস ক্লাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে আজিজুল হাকিম তামিমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সেরে ফেলেছে অর্ধেক কাজ। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্কোরবোর্ডে ২০০ রানও তুলতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। বুলাওয়েতে ১৭ জানুয়ারি ভারতের বিপক্ষে হাতের নাগালে থাকা ম্যাচ ডাকওয়ার্থ লুইস ও স্টার্ন (ডিএলএস) মেথডে ১৮ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। একই মাঠে ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ খেলতে নেমেছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। তবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়ে গেলে পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়ে যায়। দুই ম্যাচে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র উভয়েরই পয়েন্ট ১। যেখানে তিনে থাকা বাংলাদেশের নেট রানরেট -০.৬২১ ও -৩.১৪৪ নেট রানরেট নিয়ে চারে যুক্তরাষ্ট্র। আজ যুক্তরাষ্ট্রকে হারালে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সুপার এইটে উঠবে বাংলাদেশ। তামিমের দলকে ২০০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম। আগে ব্যাটিং পাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ২.৫ ওভারে ২ উইকেটে ৬ রানে পরিণত হয় যুক্তরাষ্ট্র। টপ অর্ডারের দুই ব্যাটার অমরিন্দর গিল, অর্জুন মহেশ দুজনেই ১ রান করে আউট হয়েছেন। তৃতীয় উইকেটে ৯০ বলে ৫১ রানের জুটি গড়েন উৎকর্ষ শ্রীবাস্তব ও সাহিল গার্গ। ১৮তম ওভারের পঞ্চম বলে সাহিলকে (৩৫) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন শাহরিয়ার আহমেদ। সাহিলের ফেরার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র একপর্যায়ে ৩৯.৪ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৮ রানে পরিণত হয়। ১৫০ রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা যখন কাজ করছিল, তখন আদনিত ঝাম্ব ও আদিত কাপ্পা প্রতিরোধ গড়েন। ঝাম্ব-কাপ্পা অষ্টম উইকেটে ৯০ বলে ৫১ রানের জুটি গড়েন। যদিও পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করে ২০০ রান স্কোরবোর্ডে জমা করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। সব উইকেট হারিয়ে করেছে ১৯৯ রান। ইনিংস সর্বোচ্চ ৬৮ রান করে অপরাজিত থাকেন ঝাম্ব। ৭ নম্বরে নেমে ৬৯ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৬৮ রান।
বল হাতে উজ্জ্বল রিশাদ, তবুও হারলো হোবার্ট

বল হাতে উজ্জ্বল রিশাদ, তবুও হারলো হোবার্ট বিগ ব্যাশের চ্যালেঞ্জার ম্যাচে সিডনি সিক্সার্সের হেরেছে রিশাদ হোসেনের হোবার্ট হারিকেন্স। ৫৭ রানের জয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনালে উঠেছে সিডনি সিক্সার্স। দল হারলেও বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন রিশাদ। ২ উইকেট শিকার করেন এই টাইগার লেগ স্পিনার। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন হোবার্টের অধিনায়ক বেন ম্যাকডারমোট। আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়ে ১৯৮ রান করে সিডনি সিক্সার্স। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৫ রানের ইনিংসটি খেলেন স্টিভেন স্মিথ। জোয়েল ডেভিস করেন ২৭ রান। এছাড়া ড্যানিয়াল হিউজ ১৩, জশ ফিলিপস ১৫, মোজেস হেনরিকস ১৯ ও জ্যাক এডওয়াডর্স ১৫ রান করেন। হোবার্টের হয়ে তিনটি উইকেট নেন রিলে মেরেডিথ। এছাড়া ৪ ওভার বোলিং করে ৩৩ রান খরচায় ২ উইকেট নেন রিশাদ। রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে হোবার্ট। উইকেটের ধারা থামাতে পারেনি দলটি। এতে করে ১৭ ওভার ২ বলে ১৪১ রানেই গুটিয়ে যায় হোবার্ট। ব্যাট হাতে ৮ বলে ১১ রান করেন রিশাদ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক ম্যাকডারমোট।
বিপিএলের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী

বিপিএলের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী আজ ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামছে বিপিএলের দ্বাদশ আসরের। আজ শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী ওওয়ারিয়র্স। এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক মেহেদী হাসান। এর আগে, বিকেল সাড়ে ৪টার পর হেলিকপ্টারে করে ট্রফি নিয়ে মাঠে নামেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতুন ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক অধিনায়ক আকবর আলি। পরে মাঠের মাঝে নির্ধারিত জায়গায় নিয়ে রাখেন তারা।
নামিবিয়াকে হারিয়ে সুপার সিক্সে বাংলাদেশ

নামিবিয়াকে হারিয়ে সুপার সিক্সে বাংলাদেশ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নামিবিয়াকে ৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সুপার সিক্স পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। সুপার সিক্সের শীর্ষ চারে থাকলে জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আসরে খেলার সুযোগ নিশ্চিত হবে নিগার সুলতানার নেতৃত্বাধীন দলটির। আজ বৃহস্পতিবার নেপালের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১৪৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে নামিবিয়া ১৭.৫ ওভারে ৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। তিন স্পিনারের শক্তিশালী বোলিংয়ে সহজে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পাঁচ দলের গ্রুপে আগের দুই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ও পাপুয়া নিউগিনি হারিয়েছে। তৃতীয় ম্যাচে নামিবিয়া টসে জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। বাংলাদেশের ইনিংস শুরুতে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস আউট হলেও দিলারা আক্তার ও শারমিন আক্তারের দ্বিতীয় উইকেট জুটি দলের স্কোর বাড়ায়। চার ওভারে বাংলাদেশ ৩৪ রান সংগ্রহ করে। এরপর দুইজন ব্যাটসম্যান দ্রুত আউট হলেও চতুর্থ উইকেটে সোবহানা মোস্তারি ও নিগার সুলতানা ৪৬ রানের জুটি গড়ে দলের ইনিংসকে শক্তিশালী করেন। মোস্তারি ২৩ বলে ২৭ এবং নিগার ২৯ বলে ২১ রান করেন। পরে স্বর্ণা আক্তারের ১৮ বলে ২৩ রানের ইনিংসে বাংলাদেশ ১৩০ রানের গণ্ডি পার হয়। নামিবিয়ার ইনিংস শুরু হয় হতাশাজনকভাবে। প্রথম তিন ওভারে তারা মাত্র ২০ রান করে। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই রাবেয়া খান প্রথম উইকেট তুলে নেন, যা দলের ইনিংসে বড় ধাক্কা দেয়। নামিবিয়া ২ উইকেটে ৩১ রান করার পর পরবর্তী ৩৩ রানে তাদের ৮ উইকেট হারাতে হয়। রাবেয়া খান ৪ ওভারে ৫ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন। ফাহিমা খাতুনও ৩.৫ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন। তবে সবথেকে সফল স্পিনার ছিলেন সানজিদা আক্তার। ৪ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করে তিনি ম্যাচের মূল নায়ক হন। এ গ্রুপে তিন ম্যাচে তিন জয় পেয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ড ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ৩ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ হবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, ২৪ জানুয়ারি।
বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে বাংলাদেশকে

বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে বাংলাদেশকে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) করা আবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বুধবার অনুষ্ঠিত জরুরি বোর্ড সভায় আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপ আয়োজন হবে ভারতেই এবং বাংলাদেশকে সেই নির্ধারিত ভেন্যুতেই খেলতে হবে। বিসিবি বারবার ভারতের মাটিতে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও আইসিসি তা গ্রহণ করেনি। সভায় আইসিসি জানায়, স্বাধীন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে কোনো ধরনের বড় ঝুঁকি নেই। ১৬ সদস্যের বোর্ড সভার ১৪ জনই ভারতের পক্ষে মত দেন। ফলে ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার বা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ বদলানোর কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইসিসি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, টুর্নামেন্টের সফল আয়োজনের স্বার্থে তারা কোনো বিশেষ দেশের জন্য পুরো সূচি ওলটপালট করবে না। বিসিবিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা যদি ভারতের মাটিতে খেলতে না যায়, তবে তাদের জায়গায় বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে যুক্ত করা হবে। অর্থাৎ, বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে ভারতের মাটিতেই পা রাখতে হবে শান্ত-হৃদয়দের। আইসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিকবার মূল্যায়ন করা হয়েছে। স্বাধীন নিরাপত্তা পর্যালোচনাসহ সব প্রতিবেদনে ভারতের কোনো ভেন্যুতেই বাংলাদেশের জন্য বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আইসিসি মনে করছে, টুর্নামেন্টের এত কাছাকাছি সময়ে সূচি পরিবর্তন বাস্তবসম্মত নয়। পাশাপাশি, কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি না থাকা সত্ত্বেও সূচি বদল করলে ভবিষ্যতের আইসিসি ইভেন্টগুলোর জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ নজির তৈরি হতে পারে। যা বৈশ্বিক সংস্থা হিসেবে আইসিসির নিরপেক্ষতা ও ইভেন্টের মান ক্ষুণ্ন করতে পারে। আইসিসির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বিষয়টি সমাধানের জন্য বিসিবির সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। এ সময় ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বিভিন্ন স্তরভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য বিসিবিকে দেওয়া হয়। আইসিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ভেন্যু ও সূচি নির্ধারণে সব দলের জন্য একই নীতি প্রযোজ্য। নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে ঝুঁকি প্রমাণিত না হলে ভেন্যু বদলের সুযোগ নেই। এতে অন্য দল ও বিশ্বজুড়ে থাকা দর্শকদের জন্য বড় ধরনের লজিস্টিক জটিলতা তৈরি হবে এবং আইসিসির নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। আইসিসির এই অনড় অবস্থানের পর বল এখন বিসিবির কোর্টে। তবে ভারতের মাটিতে দল পাঠানোর বিষয়টি এখন কূটনৈতিক ও সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিসিবিকে চূড়ান্তভাবে জানাতে হবে তারা আইসিসির এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ভারতের বিমানে উঠবে কি না।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর কথিত সহিংসতার অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দিল্লির হাইকোর্ট। খবর এনডিটিভি’র। বুধবার (২১ জানুয়ারি) আদালত এই জনস্বার্থ মামলাটি শুনতে অস্বীকৃতি জানান এবং এই ধরণের আবেদনকে ‘আদালতের সময় নষ্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন। দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ পিটিশনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। আদালত সাফ জানিয়ে দেন যে, কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক কেমন হবে বা বৈদেশিক নীতি কী হবে, তা সরকারের নির্বাহী বিভাগের বিষয়। এই ধরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার আদালতের নেই। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ভারতীয় সংবিধানের ২২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো আদালত বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা কিংবা অন্য কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর নির্দেশ জারি করতে পারে না। মামলাটিতে শুধু ভারত সরকার নয়, বরং আইসিসি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং এমনকি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকেও পক্ষভুক্ত করা হয়েছিল। এতে বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত বলেন, ভারতীয় আদালতের কোনো রিট এক্তিয়ার বিদেশি কোনো ক্রিকেট বোর্ডের ওপর কাজ করে না। এই ধরণের মামলাকে জনস্বার্থ মামলার অপব্যবহার বলেও সতর্ক করেন আদালত। শুনানি চলাকালীন ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)-এর পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আবেদনে ভিত্তিহীনভাবে বিদেশি বোর্ডগুলোকে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। আবেদনকারী জনৈক ল’স্টুডেন্ট (আইন শিক্ষার্থী) তার সপক্ষে পাকিস্তানের একটি আদালতের রায়ের উদাহরণ টানলে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সাংবিধানিক আদালতগুলো পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা বা আইনশাস্ত্র অনুসরণ করে না।’ আদালত আবেদনকারীকে সতর্ক করে বলেন যে, বিচারিক সময় নষ্ট করার জন্য বড় অংকের জরিমানা করা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আবেদনকারী মামলাটি প্রত্যাহারের অনুমতি চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তবে আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে আদালত পরামর্শ দেন, ‘এই ধরণের অবাস্তব পিটিশন দাখিল না করে গঠনমূলক কাজে মন দেওয়া উচিত। ’