ক্রিকেটকে ‘ধ্বংস’ করেছে ভারত ,বললেন শোয়েব

ক্রিকেটকে ‘ধ্বংস’ করেছে ভারত ,বললেন শোয়েব টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছে ভারত। এই ফরম্যাটে তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পর ক্রিকেট বিশ্বে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এসেছে পাকিস্তানের সাবেক গতি তারকা শোয়েব আখতারের কাছ থেকে। তার দাবি, ভারতের আধিপত্য নাকি ক্রিকেটকেই ‘ধ্বংস করে দিচ্ছে’। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারত ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় নিউজিলল্যান্ডকে। এই জয়ে তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয় ভারত। বেশিরভাগ ক্রিকেট বিশ্লেষক ভারতের এই জয়ে প্রশংসা করলেও আখতার ভিন্ন সুরে কথা বলেন। পাকিস্তানের একটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম-এর ক্রিকেট টক শো-তে তিনি বলেন, ‘এটা এমন যেন কোনো মহল্লায় এক ধনী ছেলে সব গরিব বাচ্চাদের ডেকে বলে, চলো ক্রিকেট খেলি। আট দলের মধ্যে চারটা রাখে, তারপর সেই চার থেকে আবার তিনটাকে নেয় এবং শেষে বলে, দেখো আমি জিতেছি। ভারত পুরো ক্রিকেটটাই নষ্ট করে ফেলেছে।’ তার এই মন্তব্য দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দেয়। তবে ফাইনালের আগে আখতারের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন ছিল। তিনি তখন স্বীকার করেছিলেন যে ভারতই ফেভারিট, যদিও ‘ক্রিকেটের স্বার্থে’ তিনি নিউজিল্যান্ডকে চ্যাম্পিয়ন দেখতে চেয়েছিলেন। তবে সমালোচনার মাঝেও ভারতের সাফল্যের একটি কারণ স্বীকার করেছেন আখতার। তিনি ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের প্রশংসা করে বলেন, কঠিন সময়েও খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখার কারণে দল বড় টুর্নামেন্টে সফল হয়েছে। এদিকে আখতার একা নন, ভারতের জয়ের পর আরও কয়েকজন পাকিস্তানি সাবেক ক্রিকেটারও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তাদের মধ্যে একজন সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির। একটি টক শোতে তিনি দাবি করেন, ভারতের জয়ের বড় কৃতিত্ব নাকি নিউজিল্যান্ডের বোলারদের। আমিরের মতে, কিউই বোলাররা পর্যাপ্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি, যার ফলে ভারতের ব্যাটাররা সহজেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
ঢাকায় পাকিস্তান ক্রিকেট দল

ঢাকায় পাকিস্তান ক্রিকেট দল পাকিস্তান দলের ৫ কোচিং স্টাফ ঢাকায় চলে এসেছেন শনিবারই। তারা সরাসরি শ্রীলঙ্কা থেকে চলে আসেন। আজ (রোববার) ঢাকায় পা রাখলেন পাকিস্তানের ক্রিকেটার এবং বাকি স্টাফরা। ভোর ৪টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারা। জানা গেছে, সালমান আগা, মোহাম্মদ রিজওয়ান, শাহিন শাহ আফ্রিদিরা বিমাবন্দরেই রমজানের সেহরি করেছেন। তারপর সোনারগাঁ হোটেলে চেক ইন করেছেন তারা। বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে আগামী ৯ মার্চ। পরের দুই ম্যাচ ১১ ও ১৩ মার্চ। সবগুলো ম্যাচই হবে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
ফাইনাল জিতলে মিলবে ৩৬.৫৭ কোটি

ফাইনাল জিতলে মিলবে ৩৬.৫৭ কোটি মঞ্চ তৈরি। মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। আজ (রোববার) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল জয়ী দল শুধু সোনালি ট্রফিই নয়, সঙ্গে নিয়ে যাবে বিশাল অঙ্কের অর্থ। চলতি বিশ্বকাপের জন্য প্রায় ১৬০ কোটি টাকার প্রাইজমানি ঘোষণা করেছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আগের আসরের চেয়ে এবার প্রাইজমানি বেড়েছে ২০ শতাংশ। ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়ন ভারতের সামনে প্রথম দল হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ। আর প্রথমবার ট্রফি জেতার হাতছানি নিউজিল্যান্ডের। ফাইনালে বিজয়ী দল ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা পাবে। রানার্সআপও বেশ মোটা অঙ্কের টাকা দখল করবে। সাড়ে ১৯ কোটি টাকা পাবে ফাইনালের পরাজিত দল। সেমিফাইনালে পরাজিত প্রত্যেক দল ৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা করে পাবে। সুপার এইটে অংশ নেওয়া প্রত্যেক দলের পকেটে ঢুকবে ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা করে। গ্রুপ পর্বে বিদায় নেওয়া দলের প্রত্যেকে পাবে ৩ কোটি টাকা। গতবার আইসিসি বিশ্বকাপ প্রাইজমানির বাইরেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাদের চ্যাম্পিয়ন দলকে ১২৫ কোটি রুপি পুরস্কার দিয়েছিল। এবার ঘরের মাঠে শিরোপা উঁচিয়ে ধরলে হয়তো আরও বড় অঙ্কের পুরস্কার অপেক্ষা করছে সূর্যকুমার যাদবদের জন্য।
সর্বনিম্ন ২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ

সর্বনিম্ন ২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। আসন্ন এই সিরিজের টিকিটির মূল্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। টিকিট কেনার একমাত্র মাধ্যম ওয়েবসাইট। সবচেয়ে কম দামের টিকিট রাখা হয়েছে ইস্টার্ন গ্যালারিতে, যার মূল্য ২০০ টাকা। সবচেয়ে বেশি মূল্যের টিকিট রাখা হয়েছে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে। এই গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে খরচ করতে হবে ২ হাজার টাকা। আগামী ১১ মার্চ মাঠে গড়াবে প্রথম ওয়ানডে। এরপর ১৩ এবং ১৫ মার্চ বাকী দুই ওয়ানডে। সবগুলো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শেরে-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
বৃথা গেল বেথেলের ঝড়ো সেঞ্চুরি, ফাইনালে ভারত

বৃথা গেল বেথেলের ঝড়ো সেঞ্চুরি, ফাইনালে ভারত শেষ রক্ষা হলো না ইংল্যান্ডের। ২৫৪ রানের পাহাড়সম টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সমানতালে খেলেও শেষপর্যন্ত ভারতের কাছে তারা ফাইনালের টিকিট খুইয়েছে।ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে বিশ্বকাপের আয়োজকরা। এবারের ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। আগামী রবিবার (৮ মার্চ) আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে দুই দল। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস হেরে ৭ উইকেটে ২৫৩ রান করেছিল ভারত, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। জবাবে জ্যাকব বেথেলের নয়নাভিরাম সেঞ্চুরির পরও ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে ২৪৬ রানে থেমেছে। ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নামে ভারত। সুবিধা করতে পারেননি ওপেনার অভিষেক শর্মা। মাত্র ৯ রান করে আউট হন তিনি। শুরুতেই উইকেট হারালেও দলকে চাপে পড়তে দেননি স্যাঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষাণ। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৯৭ রান। মাত্র ১৮ বলে ৩৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন ইশান।এরই মধ্যে ফিফটি তুলে নেন স্যামসন। সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন ডানহাতি ব্যাটার। কিন্তু সেঞ্চুরির আক্ষেপটা থেকে যায় তার। উইল জ্যাকসের করা বলে ফিল সল্টের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ৮৯ রান করেন তিনি। মাত্র ৪২ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি আটটি চার এবং সাতটি ছয়ে সাজানো। দ্রুত রান তোলার জন্য শিবম দুবেকে চার নম্বরে ব্যাট করার জন্য পাঠানো হয়। আস্থার প্রতিদান দেন তিনি। মাত্র ২৫ বলে একটি চার ও চারটি ছয়ের সাহায্যে করেন ৪৩ রান। তবে সুবিধা করতে পারেননি দলনেতা সূর্যকুমার যাদব। ৬ বলে ১১ রান করেন তিনি। শেষদিকে ব্যাট হাতে ক্রিজে ঝড় তোলেন হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মা। হার্দিক ১২ বলে ২৭ ও তিলক ৭ বলে ২১ রান করেন। এছাড়া অক্ষর প্যাটেল ২ ও বরুণ চক্রবর্তী শূন্যরানে অপরাজিত থাকেন। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন উইল জ্যাকস ও আদিল রশিদ। জোফরা আর্চার পেয়েছেন একটি করে উইকেট। বিশাল টার্গেট নিয়ে খেলতে নেমে শুরুটাই ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার ফিল সল্ট। হার্দিক পান্ডিয়ার করা বলে অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৫ রান। আর দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট করতে নেমে দলনেতা হ্যারি ব্রুক ফেরেন ৬ বলে ৭ রান। পাওয়ার প্লেতে আরও একটি উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। বরুণ চক্রবর্তীর করা বলে বোল্ড আউট হওয়ার আগে ১৭ বলে ২৫ রান করেন জস বাটলার। ৩ উইকেট হারালেও রানের খাতা ঠিকই সচল রাখে ইংলিশরা। ৬ ওভারে আসে ৬৮ রান। এরপর ব্যাট হাতে মাঠে নেমে তান্ডব শুরু করেন জ্যাকব বেথেল। তাকে সঙ্গ দেন টম ব্যান্টন ও উইল জ্যাকস। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে এই সেঞ্চুরিয়ান একাই টেনে নিয়ে যেতে থাকেন দলকে। তাকে সঙ্গ দেন টম ব্যান্টন ও উইল জ্যাকস। বেথেলকে রেখে সাজঘরে ফেরেন দুজনই। ৫ বলে ১৭ রান করেন টম ব্যান্টন। ৫ বলে ১৭ রান করেন টম ব্যান্টন। আর ২০ বলে ৩৫ রান করেন জ্যাকস। ১৪ বলে ১৮ রান করেন স্যাম কারান। ৪৮ বলে ৮ চার ও ৭ ছক্কায় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন বেথেল।কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না। অবশ্য জাসপ্রিত বুমরাহর শেষ দুই ওভার আর ১৯তম ওভারে এসে ভারতকে হারের ভয় থেকে রেহাই দেন হার্দিক পান্ডিয়া। শেষ ৫ ওভারে যখন ৬৯ রান দরকার, তখন বুহরাহ দুই ওভার বল করে দেন মাত্র ১৪ রান, আর হার্দিক ১ উইকেট নিয়ে দেন ৯ রান। অবশ্য হার্দিককে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে যদি স্যাম কারান ধরা না পড়তেন তাহলে হয়তো ম্যাচের চিত্রই বদলে যেত। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন হার্দিক পান্ডিয়া। আর একটি করে উইকেট নেন চারজন বোলার। সংক্ষিপ্ত স্কোর ভারত: ২০ ওভারে ২৫৩/৭ (স্যামসন ৮৯, দুবে ৪৩, কিষান ৩৯, পান্ডিয়া ২৭; জ্যাকস ২/৪০, আদিল ২/৪১, আর্চার ১/৬১)। ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২৪৬/৭ (বেথেল ১০৫, জ্যাকস ৩৫, বাটলার ২৫; পান্ডিয়া ২/৩৮, বুমরা ১/৩৩, অক্ষর ১/৩৫)। ফল: ভারত ৭ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সঞ্জু স্যামসন (ভারত)।
জাতীয় দলের বিপক্ষে অল স্টারের দল ঘোষণা

জাতীয় দলের বিপক্ষে অল স্টারের দল ঘোষণা গেল মাসের ২৩ তারিখ থেকে মাঠে গড়িয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ওয়ানডে ফরম্যাট। গ্রুপ পর্বের খেলা শেষে গেল মঙ্গলবার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল মিরপুর শেরে-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ফাইনাল শেষে অবশ্য বিশ্রামে থাকতে পারছেন না জাতীয় দলের পাশাপাশি আরো বেশ কিছু ক্রিকেটার। আগামীকাল ৭ মার্চ মিরপুর শেরে-ই বাংলা স্টেডিয়ামে আরেকটি ম্যাচে ক্রিকেটাররা মাঠে নামতে যাচ্ছেন। যেখানে একটি দলের হয়ে লড়বেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। আর অন্য দলে থাকবে বিসিএল দুর্দান্ত পারফর্ম করা ক্রিকেটাররা। বিসিএল অল স্টার দলের হয়ে খেলবেন আকবর আলী, রিপন মণ্ডল, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, রবিউল হক, মাহফিজুল রবিন, নাঈম শেখ, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, সৌম্য সরকার, নাইম হাসান, খালেদ আহমেদ, পারভেজ ইমন, মোসাদ্দেক সৈকত ও জিসান আলমরা। ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে, যা শেষ হওয়ার সময় রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে। এই ম্যাচ শেষেই জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা প্রস্তুতিতে নামবেন পাকিস্তান সিরিজের জন্য। সবকিছু ঠিক থাকলে ১১ মার্চ প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামবে দুই দল। সিরিজের বাকি দুই ম্যাচ হবে ১৩ এবং ১৫ মার্চ। সব ম্যাচ হবে শেরে-ই বাংলায়। বিসিএল অল স্টারস দল: আকবর আলী (অধিনায়ক), নাইম শেখ, সৌম্য সরকার, মাহফিজুল ইসলাম রবিন, পারভেজ ইমন, মাহিদুল অঙ্কন, মোসাদ্দেক সৈকত, তানভীর ইসলাম, রিপন মন্ডল, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, রবিউল হক, রাকিবুল হাসান, জিসান আলম, নাইম হাসান
ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচে নির্ধারিত হতে পারে বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন!

ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচে নির্ধারিত হতে পারে বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন! সর্বশেষ দুই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন (যথাক্রমে) ইংল্যান্ড ও ভারত আবারও সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। আগের দুই আসরেই তারা সেমিফাইনালে লড়েছিল। পরবর্তীতে শিরোপা উৎসব–ও করেছে দুই দলের দ্বৈরথে বিজয়ীরা। আবার ভারত-ইংল্যান্ড উভয়েই তৃতীয়বারের মতো সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মিশনে রয়েছে। ইতোমধ্যে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ফাইনালিস্ট নির্ধারিত হয়েছে। প্রথম সেমিফাইনালে গতকাল (বুধবার) দক্ষিণ আফ্রিকাকে একপেশে লড়াইয়ে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। এখন তারা ফাইনালের প্রতিপক্ষ পাওয়ার অপেক্ষায়। আজ (বৃহস্পতিবার) মুম্বাইয়ের ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে লড়বে ভারত ও ইংল্যান্ড। এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে একপেশে দাপট দেখিয়ে ভারতকে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। যেখানে নির্ধারিত ২০ ওভারে আগে ব্যাট করতে নেমে রোহিত-কোহলিদের ভারত ১৬৮ রান তোলে। লক্ষ্য তাড়ায় মাত্র ১৬ ওভারেই ১০ উইকেট হাতে রেখে জিতেছে জস বাটলারের দল। এরপর ফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ইংল্যান্ড দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে। ২০২৪ আসরে হারের বদলা নেয় ভারত। দুই দলের সেই সেমিফাইনালও হয়েছে একপেশে। ভারতের দেওয়া ১৭২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় মাত্র ১০১ রানে গুটিয়ে যায় ইংলিশরা। এরপর রোমাঞ্চকর ফাইনালে প্রোটিয়াদের হারিয়ে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত।সবমিলিয়ে বিশ্বকাপের ভারত-ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল ঐতিহাসিক ম্যাচে পরিণত হতে যাচ্ছে। যেখানে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সূর্যকুমার যাদবের দল স্পষ্ট ফেভারিট। একইসঙ্গে তারা স্বাগতিক দর্শকদের তুমুল সমর্থনও পাচ্ছে। চলমান আসরে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ বাদে নিজেদের ৮ ম্যাচের সাতটিতেই জিতেছে ভারত। বিপরীতে, এবারের আসরে সবচেয়ে টালমাটাল পথ পাড়ি দিয়ে সেমিতে উঠেছে ইংল্যান্ড। ইতালি-নেপালের কাছে হারতে হারতে বেঁচে যাওয়া দলটিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাদে বাকি ৭ ম্যাচে জয় পায়। এবারের বিশ্বকাপে ভারত-ইংল্যান্ড উভয়েই তাদের স্কোয়াডের অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত ক্রিকেটারদের কাছ থেকে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স পেয়েছে। ভারতের জন্য সাম্প্রতিক উদাহরণ সঞ্জু স্যামসন। রিঙ্কু সিংয়ের পারিবারিক শোকের কারণে তিনি দ্বিতীয় সুযোগ পান। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইডেন গার্ডেন্সে তিনি ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। বিপরীতে, ২০২২ সালে শিরোপা জয়ের সময় স্যাম কারান ছিলেন টুর্নামেন্ট ও ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়। তবে এক বছর আগেও দল থেকে দূরে চলে যান। তিনিই এখন আবার ফিরেছেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার হিসেবে এবং চাপের মুহূর্তে ডেথ ওভারে প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন। এ ছাড়া হ্যারি ব্রুকও তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে এসেছেন টুর্নামেন্টের আগমুহূর্তে তুমুল ফর্মে থেকে বিশ্বকাপে ফ্লপ পরিণত হওয়া জস বাটলার ও ফিল সল্টের সুবাদে। সাত ম্যাচে তাদের ওপেনিং জুটিতে এসেছে মাত্র ৮৪ রান। সেই ঝড় সামাল দেন ব্রুক। একদিকে এটি ইংল্যান্ডের জন্য সুযোগ, কারণ এখান থেকে উন্নতির জায়গা এখনও অনেক। অন্যদিকে এটি ভারতের জন্য স্পষ্ট আক্রমণের সুযোগ। ভারতের বোলিং আক্রমণ এখন দারুণ ছন্দ এবং বৈচিত্র্যে ভরপুর। যা ইংল্যান্ডকে এমন চাপে ফেলতে পারে, যার মুখোমুখি তারা এখনও হয়নি। সেমিফাইনালের মতো মঞ্চে ভারতের প্রধান অস্ত্র অবশ্যই জাসপ্রিত বুমরাহ। তিনি প্রতিপক্ষের আশা ভেঙে দেওয়ায় বিশেষজ্ঞ’র পর্যায়ে বলা চলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১২তম ওভারে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ডানহাতি এই পেসার। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড এবার ভিন্নভাবে ব্যবহার করছে জোফরা আর্চারকে। টানা পাঁচ ম্যাচে তিনি পাওয়ারপ্লেতে তিন ওভার করে বল করেছেন। যেন শুরুতেই চাপ তৈরি করে মাঝের ওভারগুলো স্পিনারদের জন্য সহজ করে দেওয়া যায়। তবে ভারতের ওপেনারদের বিপক্ষে আর্চারের পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে কৌশলে দ্রুত পরিবর্তন আনতে হতে পারে!
ফাইনালে সেরা ক্রিকেট খেলতে চায় নিউজিল্যান্ড

ফাইনালে সেরা ক্রিকেট খেলতে চায় নিউজিল্যান্ড ইডেন গার্ডেন্সে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচের পর কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার জানালেন, আগামী রোববার আহমেদাবাদে ফাইনালেও নিখুঁত ক্রিকেট উপহার দিতে চান তারা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রতিশোধ নিতে পেরেও খুশি তিনি। স্যান্টনার বলেছেন, ‘খুব ভালো হবে যদি ফাইনালেও এরকম নিখুঁত ম্যাচ খেলতে পারি। তবে এটা আলাদা মাঠ ছিল। বিশ্বকাপে আগে এখানে খেলিনি। তা ছাড়া লাল মাটির পিচ না কালো মাটির পিচ, এ রকম অনেক কিছুর ওপর দলগঠন নির্ভর করে। মাঠের আকারও বিভিন্ন ধরনের হয়। আপাতত জয়ে খুব খুশি। আরও দু’দিন আছে হাতে। দেখা যাক কী হয়। আগে বলেছিলাম, নিখুঁত ক্রিকেট খেলতে পারিনি। আজ সব দিক থেকেই দিনটা ভালো গিয়েছে আমাদের কাছে।” এক সময় ৭৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে পৌঁছে গিয়েছিল ১৬৬-তে। তবে স্যান্টনারের কখনোই মনে হয়নি রান তাড়া করতে পারবেন না। বলছিলেন, “মিথ্যা বলব না, মাত্র ১৭০ রান উঠেছে দেখে খুশিই হয়েছিল। যদিও পাওয়ার প্লে-তে পিচ কেমন থাকবে সেটা নিয়ে চিন্তা ছিলই। তবে যেভাবে দুই ওপেনার ক্রিজে নেমে দাপট দেখিয়েছে, তা অসাধারণ লেগেছে। পাওয়ার প্লে-তে ওপেনিং জুটি এরকম খেললে ম্যাচে আপনি বাড়তি সুবিধা পাবেনই।” দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে গ্রুপ পর্বে হেরেছিল নিউজিল্যান্ড। সেমিফাইনালে তার প্রতিশোধ নিতে পেরে খুশি স্যান্টনার। বলেছেন, “হারের মতো জিতলেও অনেক কিছু থেকে শিক্ষা নেওয়ার থাকে। আহমেদাবাদের ওই ম্যাচে আজকের মতো ভালো খেলেছিলাম কি না জানি না। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা অসাধারণ খেলেছিল। আজ চেয়েছিলাম ওদের যতটা সম্ভব চাপে রাখতে। শুরুতে স্পিনারদের এগিয়ে দিয়েছিলাম, যেটা আহমেদাবাদে করিনি।” গত বার ফাইনালে উঠলেও এবার সেমিফাইনালে থেমে গিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার দৌড়। অধিনায়ক এইডেন মার্করাম জানালেন, প্রথমে ব্যাট করার সময় পিচ কঠিন ছিল বলেই প্রত্যাশিত রান তুলতে পারেননি তারা। কৃতিত্ব দিয়েছেন শতরানকারী ফিন অ্যালেনকেও। মার্করাম বলেছেন, “প্রথম দিকে ব্যাট করা সহজ ছিল না। ওরা দারুণ বল করেছে। বল সহজে ব্যাটে আসছিল না। হঠাৎ হঠাৎ থমকে যাচ্ছিল। কিছু কিছু বল নিচু হয়ে যাচ্ছিল। তাই রান তোলা খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল। তা ছাড়া ব্যাট হাতে বিপক্ষের কেউ (অ্যালেন) যদি ও রকম ইনিংস খেলে দেয় তাহলে জেতা খুবই কঠিন।”
অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা ঘরোয়া ক্রিকেটার হলেন লাবুশান

অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা ঘরোয়া ক্রিকেটার হলেন লাবুশান কুইন্সল্যান্ডের হয়ে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানোর পর মার্নাস লাবুশান অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা একদিনের ঘরোয়া খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্যাটসম্যান কার্টিস প্যাটারসনের চেয়ে তিনি এক ভোট পেয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। ৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান একদিনের এক মৌসুমে চারটি সেঞ্চুরি করা মাত্র চতুর্থ ব্যাটসম্যান। বাকি তিন ব্যাটসম্যান হলেন, ফিল জ্যাকস, ব্র্যাড হজ এবং ড্যানিয়েল হিউজেস। লাবুশান মাত্র ছয় ইনিংসে ৪৬৮ রান করে ৪টি সেঞ্চুরি করেছেন। তিনি ৯৬.৪৯ স্ট্রাইক রেট নিয়ে ৭৮ গড়ে ব্যাট করেছেন। ফাইনালিস্ট তাসমানিয়া এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে তিনি সেঞ্চুরি করেছেন। এছাড়াও বোল হাতে তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে ২৬ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন এবং ভিক্টোরিয়া এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও দুটি সেঞ্চুরি করেছেন। ভোটে লাবুশান ২০ ভোট এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের কার্টিস প্যাটারসনের পেয়েছেন ১৯ ভোট। সাত ইনিংসে তিনি তিনটি সেঞ্চুরি এবং দুটি অর্ধশতক করেছেন। তাসমানিয়ার বিউ ওয়েবস্টার ১২টি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন, যেখানে টিম ওয়ার্ড এবং ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার জোয়েল কার্টিস ১০টি করে ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। মাঠের উভয় আম্পায়ারই ভোট দেন, যারা প্রত্যেকে ৩-২-১ ভোট দেন। একজন খেলোয়াড় প্রতি ম্যাচে সর্বোচ্চ ছয়টি ভোট পেতে পারেন, আগের বছরগুলোতে আম্পায়াররা একসঙ্গে ভোট দেওয়ার সময় এর বিপরীতে।
ইডেনে ফাইনালের টিকিট পেতে প্রোটিয়া বনাম কিউই দ্বৈরথ

ইডেনে ফাইনালের টিকিট পেতে প্রোটিয়া বনাম কিউই দ্বৈরথ দেখতে দেখতে শেষের পথে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্ব ও সুপার এইট পর্ব মিলিয়ে ম্যাচ হয়েছে ৫২টি। আসর শেষ হতে বাকি আর মাত্র তিন ম্যাচ। দুটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। প্রথম সেমিফাইনাল আজ ভারতের ইডেন গার্ডেনসে অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে মাঠে নামবে চলতি বিশ্বকাপের একমাত্র অপরাজিত দল দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের প্রতিপক্ষ নিউ জিল্যান্ড। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একবার করে ফাইনাল খেলেছে এই দুই দল। ২০২১ সালে নিউ জিল্যান্ড এবং ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ফাইনাল খেলেছিল। কোনো দলই জিততে পারেনি ফাইনাল। দ্বিতীয়বারের মত ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে দু’দলকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে তিনবার সেমিফাইনাল খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দু’বার হারলেও, একবার জয় পায় প্রোটিয়ারা। চারবার সেমিফাইনাল খেলেছে নিউ জিল্যান্ড। এর মধ্যে মাত্র একবার সেমিফাইনালে জিততে পারে কিউইরা। এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে ১৯ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ১২টিতে এবং নিউ জিল্যান্ড ৭টিতে জিতেছে। গ্রুপ পর্বে দুই দলের দেখা হয়েছিল। আহমেদাবাদে নিউ জিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা মাঠে নেমেছিল। নিউ জিল্যান্ডের ৭ উইকেটে করা ১৭৫ রান দক্ষিণ আফ্রিকা তাড়া করে জিতেছিল ৭ উইকেটে। দক্ষিণ আফ্রিকা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অপরাজিত দল। ৭ ম্যাচের ৭টিতেই তারা জিতেছে। গ্রুপ পর্বে কানাডা, আফগানিস্তান, নিউ জিল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে সেরা দল হিসেবে সুপার এইটে উঠে প্রোটিয়ারা। সুপার এইটে ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার ফের তাদের প্রতিপক্ষ নিউ জিল্যান্ড। নিজেদেরকে ফেভারিট মনে করেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ শুক্রি কনরাড, ‘‘আমরা বিশ্বকাপের ফেভারিট। আমার সবসময়ই মনে হয়, দল হিসেবে ফেভারিট হয়েই খেলতে চায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আন্ডারডগ হওয়া খুব সহজ। বড় কোনো প্রত্যাশা থাকে না। এখন পর্যন্ত যা করছি, এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে অনেক কিছুই সম্ভব। সামনের পথচলায় ভাগ্যের সহায়তাও প্রয়োজন। আশা করি, সামনের ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্স ছেলেরা ধরে রাখতে পারবে এবং দলের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।’’ গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে সুপার এইটে উঠে নিউ জিল্যান্ড। আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কানাডার বিপক্ষে জিতলেও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার মানে কিউইরা। সুপার এইটে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। পরের ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে জয় পায় নিউ জিল্যান্ড। এরপর তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ায় সুপার এইট থেকে ছিটকে যাবার শঙ্কায় পড়ে তারা। কিন্তু ভাগ্যের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় নিউ জিল্যান্ড। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী নিউ জিল্যান্ড কোচ রব ওয়াল্টার। তিনি বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সেরা দল দক্ষিণ আফ্রিকা। খুব ভাল ক্রিকেট খেলছে তারা। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে আমরা খেলেছি। ৭ উইকেটে ঐ ম্যাচ হারি আমরা। এবার আমরা প্রতিশোধ নিতে চাই এবং জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে মুখিয়ে আছে সবাই।’’ বিশ্বকাপের মঞ্চে নিউ জিল্যান্ডের কাছে কখনো হারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। আগের পাঁচবারের মোকাবেলায় সবগুলোতেই জয় পেয়েছে প্রোটিয়ারা। এবার লড়াইটা সেমিফাইনাল। ফাইনাল থেকে দুই দল এক কদম দূরে। ইডেনে আজ কার মুখে ফুটবে হাসি? শেষ ম্যাচে শিশির ম্যাচে বড় প্রভাব রেখেছিল। তাইতো দুই দলের ভাবনাতে আজ টস ভাগ্য পরীক্ষাও কাজ করছে। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ব্যাট-বলের লড়াইয়ে কে ফাইনালের টিকিট পায় সেটাই দেখার।