বিজিবির উদ্যোগে এবার বাংলাদেশী মায়ের মরদেহ দেখার সুযোগ পেলেন মেয়ে

বিজিবির উদ্যোগে এবার বাংলাদেশী মায়ের মরদেহ দেখার সুযোগ পেলেন মেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে এবার ভারতে বসবাসকারী মেয়েকে মায়ের মরদেহ দেখার সুযোগ করে দিল ৫৯ বিজিবির মহানন্দা ব্যাটালিয়ন। গতকাল রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা তারাবানু। আজ সকালে মায়ের মরদেহ ভারতে বিবাহসূত্রে অবস্থানকারী মেয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে দেখার সুযোগ করে দেয়া হয়। মৃত তারাবানু চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর গ্রামের মৃত শামসুল হকের স্ত্রী। ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক গোলাম কিবরিয়া জানান, মায়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ভারতের মালদা জেলার কালিয়া থানার দুশতদিঘী এলাকার বাসিন্দা মৃতার মেয়ে মোছা. মালেকা বেগমসহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজন মরদেহ দেখার জন্য বিএসএফের মাধ্যমে বিজিবির কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানান। মানবিক বিবেচনায় ভারতীয় স্বজনদের মরদেহ দেখানোর জন্য মঙ্গলবার সকালে ১৫ মিনিটের জন্য কিরণগঞ্জ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৭৯/৩এস এর কাছে শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে মরদেহ দেখানো হয়। এ সময় উভয় দেশের মৃত মহিলার স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়লে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মেয়ে মালেকা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, দুটি আলাদা দেশের কারণে এবং আইনগত জটিলতার কারণে মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে খুব কষ্টে ছিলেন। শেষবার মাকে একবার একনজর দেখার জন্য আকুতি ছিল। পরে বিএসএফের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং বিজিবি সাড়া দেয়ায় তিনি তার মায়ের মুখটা শেষবারের মতো দেখতে পেলেন। শেষবারের মতো মরদেহ দেখে এ উদ্যোগের জন্য তিনি বিজিবি এবং বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে ৫৯ বিজিবি মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, “বিজিবি যে কোনো মানবিক কাজে সর্বদা সহানুভূতিশীল।” এর আগেও বাংলাদেশীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে স্বজনদের মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেয়া হয়। প্রসঙ্গত, এর আগে গত মাসের প্রথম সপ্তাহে এবং চলতি মাসের ৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারতে মারা যাওয়া দুজনের মরদেহ বিজিবি-বিএসএফের সহায়তায় দেখানোর সুযোগ করে দেয়া হয় স্বজনদের। তবে এবারই প্রথম ভারতীয় স্বজনরা মরদেহ দেখার আবেদন করে বাংলাদেশের কাছে।
শিবগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১

শিবগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১ শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের বাবুপুর মোড়ে প্রতিপক্ষের হামলায় নয়ন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পরে তার বাড়িতেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। গতকাল রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নয়ন নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের মোড়লপাড়া নয়ালাভাঙ্গা গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় নয়ালাভাঙ্গা বাবুপুর মোড়ে একদল ব্যক্তি নয়নকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। পরে তার ভাইসহ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নয়ন মারা যায়। এছাড়া ঘটনার পর নয়নের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, নিহত নয়ন এলাকায় এককভাবে দাপট খাটাত। আর এ কারণেই তার ওপর হামলা চালানো হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইসারুল ইসলাম তুষার প্রতিপক্ষের হামলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নয়নের মৃত্যুর কারণ বলে প্রাথমিক ধারণা করেন। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, প্রতিপক্ষের হামলায় নয়ন নামে একজন ব্যক্তি মারা গেছেন। আধিপত্য বিস্তার নাকি অন্যকিছুর কারণে হত্যা সেই বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগে নয়নের নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ন কবির জানান, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
সোনামসজিদ স্থলবন্দরে দ্বিতীয় দিনে ১৫ ট্রাকে আমদানী আরও ৪১৯ টন ভারতীয় পেঁয়াজ

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে দ্বিতীয় দিনে ১৫ ট্রাকে আমদানী আরও ৪১৯ টন ভারতীয় পেঁয়াজ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও দেশে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানীর অন্যতম রুট চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দর পথে সোমবার(৮ডিসেম্বর) আরও ১৫টি ট্রাকে বিপরীতে ভারতের মহদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে আরও ৪১৯ মে.টন পেঁয়াজ আমদানী হয়েছে। সোনামসজিদ বন্দর পরিচালনাকারী বেসরকারি অপারেটর প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বন্দর সূত্র জানায়, এর আগে সরকার দেশে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে গত ৬ ডিসেম্বর সীমীত আকারে পেয়াজ আমদানীনর অনুমতির দেবার পর গত রোববার(৭ ডিসেম্বর) সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে প্রায় ৩ মাস পর ২ ট্রাকে ৬০ টন পেয়াজ আমদানী হয়। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর শেষ এ পথে পেঁয়াজ আমদানীর পর আমদানী বন্ধ ছিল। সোনামসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র উপ-পরিচালক্য(ডিডি) কৃুষিবিদ সমীর চন্দ্র ঘোষ বলেন, সোমবার দেশের ৫০ জন আমদানীকারকের প্রত্যেককে ৩০ টন করে দেড় হাজার টন আমদানীর অনুমতি (আইপি বা ইমপোর্ট পামিট) দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে সোনামসজিদের আমদানীকারক রয়েছেন ২৭ জন। গত রোববার প্রথম যে ৫০ জনকে আইপি দেয়া হয় তার ৩০ জন ছিলেন সোনামসজিদের। প্রতিদিন এভাবে ৫০ জনকে দেড় হাজার টন আমদানীর আইপি দেয়া হচ্ছে। যা পরবর্তী নির্দেশণা না দেয়া পর্যন্ত আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত অব্যহত থাকবে। অর্থাৎ ইস্যুকৃত প্রতিটি আইপির মেয়াদ ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এদিকে পেঁয়াজ আমদানীর খবরে জেলার স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দরপতন হয়েছে। গত শনিবার পর্যন্তও যে পেয়াজ মানভেদে ১০০ থেকে -১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে তা সোমবার ৬৫-৭০( বাজারে নতুন উঠতে শুরু করা মুড়িকাটা) থেকে সর্বোচ্চ ৮০-৮৫ টাকা(দেশী সংরক্ষণযোগ্য ভাল মানের ছাঁচি পেঁয়াজ) কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে জেলার বৃহত্তম পাইকারী ও খুচরা বাজার সূত্রে জানা গেছে। অর্থাৎ সোমবার পর্যন্ত ভারতীয় পেঁয়াজ স্থানীয় বাজারে তেমনভাবে বিক্রি শুরু না হলেও বাজারে গত ৩ দিনে পেঁয়াজের দাম মানভেদে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন আমদানী ও মুড়ি কাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে পেঁয়াজের দাম আরও কমতে পারে। তবে আমদানীকারকরা অবাধ পেঁয়াজ আমদানীর দাবী করছেন। জেলার বড় পেঁয়াজ আমদানীকারক মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজের (সোমবার এই আমদানীকারকের পেঁয়াজ আমদানী হয়েছে) স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা বলেন, এভাবে খুচরা আমদানীর স্থলে একসাথে বড় চালান এলসি করা গেলে আমদানী খরচ কম হত। ভোক্তরা আরও কমদামে পেঁয়াজ কিনতে পারত।
সোনামসজিদ বন্দর পথে প্রবেশ করল ২ ট্রাকে ৬০ টন ভারতীয় পেঁয়াজ

সোনামসজিদ বন্দর পথে প্রবেশ করল ২ ট্রাকে ৬০ টন ভারতীয় পেঁয়াজ সরকার দেশে ক্রমবর্ধমান পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানীর অনুমতি দেয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জর সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ২টি ভারতীয় ট্রাকে ৩০ টন করে ৬০ টন পেঁয়াজ আমদানী হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় দু’জন আমদানীকারেকর ওই দুই গাড়ী পেঁয়াজ বন্দরে এসে পৌঁছায় বলে নিশ্চিত করেছেন বন্দর পরিচালনাকারী বেসরকারী অপারেটর প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল খান। আমদানীকারক দুই প্রতিষ্ঠান হল চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওয়েলকাম এন্টারপ্রাইজ ও গৌড় ট্রেডার্স। অপরদিকে সোনামসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র ঘোষ বলেন, গতকাল সরকার আমদানীর অনুমতি বা আইপি ইস্যূর ঘোষণা দেয়ার পর আজ কৃষি মন্ত্রণালয় দেশের ৫০ জন আমদানীকারেকর প্রত্যেককেই ৩০ টন করে ১ হাজার ৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানীর অনুমতি দিয়েছে। এরমধ্যে সোনামসজিদের আমদানীকারক রয়েছেন ৩০ জন। তাঁদের ৯০০ টন আমদানীর অনুমতি দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন এভাবে সারা দেশের সকল বন্দরের জন্য দেড় হাজার টন আমদানীর অনুমতি দেয়া হবে। প্রতিটি আইপি’র মেয়াদ আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত। অর্থাৎ পরবর্তী কোন নির্দেশনা না আসলে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত এভাবে আমদানী অব্যহত থাকবে। গত ৯ সেপ্টেম্বর এই বন্দর দিয়ে শেষবারের মত পেঁয়াজ আমদানী হয় বলেও জানান ডিডি সমীর চন্দ্র ঘোষ। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজ রোববার সর্বনিম্ন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকান ও গ্রামের বাজারে দাম আরও বেশী। জেলার বৃহত্তম পাইকারী ও খুচরা বাজার জেলা শহরের পুরাতন বাজার (তহা বাজার) সূত্র জানিয়েছে, মান ভেদে পেঁয়াজ বিভিন্ন দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ঢুকতে শুরু করা নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ ১০০ ও ভাল ছাঁচি পেয়াজ ১৩০ টাকা কেজি খুচরা বিক্রি হচ্ছে। তবে আমদানী শুরু হওয়ায় দাম কমে আসবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিস্টরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্যতম পেঁয়াজ আমদানীকারক মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ স্বতাধিকারী মাসুদ রানা বলেন, পেঁয়াজ আমদানী অবাধ হলে বাজার নিয়ন্ত্রণ আরও দ্রুত ও সহজ হত। ভোক্তারা আরও কমদামে পেঁয়াজ কিনতে পারত। তিনি বলেন, জানুয়ারীর আগ পর্যন্ত মুড়িকাটা পেঁয়াজ পুরোদমে বাজারে আসবে না।
শিবগঞ্জে উপজেলা প্রশাসন ফুটবল উৎসবের ফাইনাল

শিবগঞ্জে উপজেলা প্রশাসন ফুটবল উৎসবের ফাইনাল তারুণ্যের উৎসব উদযাপন উপলক্ষে শিবগঞ্জে উপজেলা প্রশাসন ফুটবল উৎসব টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বিকেলে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় উপজেলা স্টেডিয়ামে এ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় ৪-০ গোলে গৌড়মতি ফুটবল দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ক্ষীরসাপাত ফুটবল দল। টুর্নামেন্টে মোট চারটি দল অংশ নেয়। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজাহার আলী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আজিজ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহাদৎ হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ডা. নাহিদুজ্জামান সুমন, মাহমুদুর রশীদ তুহিন ও ফারুক হোসেনসহ অন্যরা।
শিবগঞ্জ সীমান্তে চোরাকারবারি ও বাংলাদেশী সহযোগিসহ আটক ৩

শিবগঞ্জ সীমান্তে চোরাকারবারি ও বাংলাদেশী সহযোগিসহ আটক ৩ শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ঠুঠাপাড়া গ্রামে বিজিবির অভিযানে ২ ভারতীয় গরু চোকারবারি ও তাদের এক বাংলাদেশী সহযোগি আটক করা হয়েছে। বিজিবি জানায়, গতকাল গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাসুদপুর বিওপির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান চালিয়ে ওই ৩ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার বৈষ্ণবনগর পারবৈদ্যনাথপুর গ্রামের নয়মুদ্দিন শেখের ছেলে আব্দুল কাদির ও আব্দুর রশিদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন এবং তাদের বাংলাদেশী সহযোগি মনাকষার সাহাপাড়া তারাপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে মারুফ। বিজিবি জানায়, গত ৩ ডিসেম্বর ভোররাতে ভারতীয় দুই গরু চোরকারবারি কাঁটাতারের বেড়াবিহীন শিবগঞ্জের ফতেপুর সীমান্ত দিয়ে ৪টি গরুসহ বাংলাদেশে প্রবেশ করে স্থানীয় চোরকারবারী ফজেলের নিকট হস্তান্তর করে। কিন্তু সকাল হয়ে যাওয়ায় ও বিজিবির টহল জোরদার হওয়ায় তারা আর ভারতে ফিরতে পারেনি। গত ৪ ডিসেম্বর তারা পদ্মা নদীর চরে লুকিয়ে থাকেন। পরে সহযোগি মারুফের সহায়তায় তারা ঠুঠাপাড়া বাজারে তার বাড়িতে আত্মগোপন করেন। গতকাল রাত সোয়া ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আটক ৩ জনের ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বিজিবি-বিএসএফ’র সহযোগিতায় সীমান্তে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা: আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি

বিজিবি-বিএসএফ’র সহযোগিতায় সীমান্তে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা: আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি এবং ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী-বিএসএফ সীমান্তে আবারও মানবিকতার এবং দু’দেশের জনগণের ভ্রাতৃপ্রতিম সংম্পর্ক বজায় রাখতে সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আজ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে প্রায় আধাঘন্টা উভয় বাহিনীর সহযোগিতায় ভারতীয় নাগরিক ফনি বেগমের মরদেহ শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কিরনগঞ্জ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ জমিনপুর সীমান্তের শূণ্য রেখায় তাঁর বাংলাদেশী স্বজনদের শেষবারের মত দেখানো হয়। এ সময় দু’দেশে বসবাসবাসকারী আত্মীয়দের মাঝে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। মৃত ফনি বেগম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার কালিয়াচক থানার হাজীপাড়া দুই ছতরবিঘি গ্রামের কসিমুদ্দিনের স্ত্রী। গতকাল সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাহি রাজিউন)। স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, ফনি বেগমের মারা যাবার খবর পেয়ে তাঁর ছোট ভাই জমিনপুর গ্রামের মৃত ফলিমুদ্দিনের ছেলে আতাউর রহমান(৬০) কিরনগঞ্জ ক্যাম্পের মাধ্যমে বড় বড় বোনের মরদেহ শেষ বারের মত দেখানোর সূযোগ করে দেবার জন্য বিজিবি’র সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেন। রাতে আবেদন পেয়ে বিজিবি তাৎক্ষনিক প্রতিপক্ষ বিএসএফ’র সাথে যোগাযোগ করে। এরপর উভয়পক্ষের সম্মতিতে সকালে মরদেহ কাঁটাতারের বেড়ার গেইট খুলে মেইন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার নং ১৭৯/৩ এস এর শূণ্যরেখায় বাংলাদেশী স্বজনদের দেখানোর আয়োজন করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, বাাংলাদেশী স্বজনদের মরদেহ দেখানোর সময় উভয় বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিজিবি সীমান্তবসাী দু’দেশের জনগণের প্রতি এ ধরনের মানবিক সহযোগিতা অব্যহত রাখবে। এ ঘটনায় মৃতের স্বজনরা বিজিবি-বিএসএফ এর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিস্ট ইউপি চেয়্রাম্যান অধ্যক্ষ রুহুল আমীন বলেন,দুই বাহিনীর এ ধরণের আচরণ প্রশংসনীয়। দু’দেশের জনগণ ও বাহিনীগুলোর মধ্যে এ ধরণের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত। সংম্লিস্ট ওয়ার্ড সদস্য কামাল উদ্দিন বলেন, ফনি বেগমের বাবার বাড়ি বাংলাদেশে।অর্ধশতাধিক বছর পূর্বে বিয়ে হয়ে তিনি ভারতে স্বামীর বাড়ি চলে যান। প্রতিবেশী দুই দেশে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফনি বেগমের বাবা এবং স্বামীর বাড়ি। মাঝে রয়েছে শুধু তাঁরকাটার বেড়া। উল্লেখ্য গত ৮ নভেম্বর শিবগঞ্জের আজমতপুর সীমান্তে সেলিনা বেগম নামে অপর এক ভারতীয় নারীর মরনদেহ একই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশী স্বজনদের দেখার সূযোগ কওে দেয় দুই বাহিনী।
শিবগঞ্জ সীমান্তে জব্দ চকো প্লাস সিরাপ

শিবগঞ্জ সীমান্তে জব্দ চকো প্লাস সিরাপ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় ফেনসিডিলের বিকল্প চকো প্লাস সিরাপ জব্দ করা হয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে। শীত মৌসুমে মাদক চোরাচালানে নতুন সংযোজন হিসেবে এটাকে চিহ্নিত করেছে বিজিবি। গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ৫৯ বিজিরি সোনামসজিদ বিওপির একটি টহল দল সিরাপগুলো জব্দ করে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজিবি জানায়, সোনামসজিদ বিওপির একটি বিশেষ টহল গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সীমান্ত পিলার ১৮৫/১৭-এস হতে আনুমানিক ৪০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে টহল পরিচালনা করছিল। এসময় মালিকবিহীন নেশা-জাতীয় ১৫০ বোতল ভারতীয় চকো প্লাস সিরাপ জব্দ করা হয়। বিজিবি বলছে, শীত মৌসুমে প্রতিবেশী দেশ ভারত হতে ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে চকো প্লাস সিরাপ চোরাচালানে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ৫৯ বিজিবির মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে।
শিবগঞ্জে গাঁজাসহ ১ জনকে আটক করেছে র্যাব

শিবগঞ্জে গাঁজাসহ ১ জনকে আটক করেছে র্যাব শিবগঞ্জ থানার ৩নং দাইপুকুরিয়া ইউপির ৫নং ওয়াডের্র বারিকবাজার থেকে সোনা মসজিদ গামী একটি পাকা রাস্তার উপর থেকে ১ কেজি ৯ গ্রাম অবৈধ গাঁজাসহ ১ জনকে আটক করেছে র্যাব-৫। আটক ব্যক্তি একই উপজেলার নলডুবি গ্রামের আবু সায়ীদের ছেলে ইমন। র্যাবের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, গতকাল রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, ঐ এলাকায় রাস্তার উপরে অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের জন্য একজন ব্যক্তি অবস্থান করছে। এসময় অভিযান চালিয়ে ইমনের হাতে থাকা কাপড়ের বাজার করার ব্যাগের ভিতর রক্ষিত নীল রংয়ের পলিথিনে মোড়ানো গাঁজাগুলো পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত আলামত এবং ইমনকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
শিবগঞ্জ সীমান্তের ওপারে দুই বাংলাদেশী নিখোঁজ

শিবগঞ্জ সীমান্তের ওপারে দুই বাংলাদেশী নিখোঁজ শিবগঞ্জ উপজেলা সীমান্তের ওপারে পদ্মা নদী পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে গরু আনতে গিয়ে দুই বাংলাদেশী নিখোঁজ হবার খবর পাওয়া গেছে। গত ৩০ নভেম্বর দিবাগত রাতের কোন এক সময় ঘটনাটি ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। নিখোঁজরা হলেন- শিবগঞ্জের পাঁকা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের চরপাঁকা গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে মো. মোমিন এবং পাশের শিবগঞ্জের দূর্লভপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের চরহাসানপুর ক্যাম্পপাড়া (চামপাড়া-গাইপাড়া) গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে ইব্রাহীম ওরফে রিংকু। জানা গেছে, চোরাচালানের উদ্দেশ্যে অন্তত: ৪ জনের একদল বাংলাদেশী রঘুনাথপুর-ওয়াহেদপুর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাবার পর দু’জন ফিরলেও অন্য দু’জন মোমিন ও ইব্রাহীম আজ রাত ৮টা পর্যন্ত ফেরেন নি। তাঁরা নিখোঁজ রয়েছেন। সীমান্তবাসীদের অনেকে বলছেন, বিএসএফ তাদের নির্যাতণ করে হত্যা করেছে। কেউ কেউ বলছেন তাঁদের মেরে নদীতে ফেলে বা পাথর বেঁধে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সীমান্তে দু’দিন থেকে দু’জন নিখোঁজের ঘটনাটি শোনা যাচ্ছে। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। দু’জনের পরিবারের সাথে কথা বলা ও যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে পরিবার থেকে কোন অভিযোগ করা হয় নি। এ ছাড়া সীমান্তে কোন গুলির ঘটনা কেউ নিশ্চিত করে নি। অধিনায়ক আরও বলেন, বিপরীতে ৭১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের নিমতিতা ক্যাম্পের সাথে গতকাল ও আজ দু’দিনই যোগাযোগ করা হয়েছে। বিএসএফ এ ব্যাপারে কিছু জানে না বলে জানিয়েছে। এমনকি ৭১ বিএসএফ কম্যান্ডান্টও এ ধরণের কোন ঘটনার কথা জানান নি। বিজিবি সীমান্তের সকল এলাকায় ঘটনাটির অনুসন্ধান অব্যহত রেখেছে। পাঁকা ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য রফিকুল ইসলাম ভারতে গরু আনতে গিয়ে দু’জন নিখোঁজের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গতকাল সকালে ঘটনাটি জানা গেছে। তবে নিহতের ব্যাপারে তিনি কিছু শুনেন নি বলে জানান। দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আজম বলেন, আজ দুপুরে ঘটনা জানা গেছে। দুজনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলেও শোনা গেছে। দূর্লভপুর ৮ নং ওয়ার্ড গ্রাম পুলিশ শাহীন কবির বলেন,বিএসএফ দুজনকে নির্যাতন করে হত্যা করে মরদেহ পাথর বেঁেধ নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে শোনা গেছে।