গুগলের সতর্কবার্তা: ৪০ শতাংশ অ্যান্ড্রয়েড ঝুঁকিতে

গুগলের সতর্কবার্তা: ৪০ শতাংশ অ্যান্ড্রয়েড ঝুঁকিতে বিশ্বজুড়ে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা দিল গুগল। সম্প্রতি প্রকাশিত সংস্থার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সারা বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস এখন গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে। কারণ এই বিপুল সংখ্যক ফোনে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন সফটওয়্যার, যার জন্য আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিকিউরিটি প্যাচ দেওয়া হয় না। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১০০ কোটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস এমন সংস্করণে চলছে, যেগুলোর নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এই ফোনগুলো সহজেইম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার ও অন্যান্য সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে। গত বছর থেকেই গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যান্ড্রয়েড ১২ এবং তার আগের সব সংস্করণের জন্য নিরাপত্তা আপডেট বন্ধ করে দিয়েছে। তবুও বাস্তব চিত্র বলছে অন্য কথা। এখনো সক্রিয় ডিভাইসগুলোর মধ্যে মাত্র ৫৮ শতাংশ ব্যবহারকারী অ্যান্ড্রয়েড ১৩ বা তার পরবর্তী সংস্করণে আপডেট করেছেন। সবচেয়ে নতুন সংস্করণ অ্যান্ড্রয়েড ১৬ বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ৭.৫ শতাংশ ফোনে। যদিও অ্যান্ড্রয়েড ১৪ ও ১৫ ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি, তবুও কোটি কোটি মানুষ এখনো পুরোনো, ঝুঁকিপূর্ণ সংস্করণেই নির্ভর করছেন। আর সেখানেই বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলো এখন সাইবার অপরাধীদের জন্য একেবারে সহজ শিকার। কারণ, অফিসিয়াল সিকিউরিটি প্যাচ না থাকায় ইউজারের অজান্তেই ফোনে আড়ি পাততে পারে হ্যাকাররা। এমনকি ব্যাংকিং তথ্য, ব্যক্তিগত মেসেজ বা আর্থিক লেনদেনের তথ্য হাতিয়ে নেওয়াও কঠিন কিছু নয়। বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে তথাকথিত ‘ব্যাকগ্রাউন্ড স্পাইওয়্যার’ নিয়ে। এই ধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার নীরবে ফোনে সক্রিয় থেকে ব্যক্তিগত চ্যাট, ছবি, কল লগ এমনকি অনলাইন লেনদেনের তথ্য পর্যন্ত নজরে রাখে। এই পরিস্থিতিতে গুগলের স্পষ্ট পরামর্শ, যাদের ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ১৩ বা তার পরবর্তী সংস্করণ নেই, কিংবা যারা আর আপডেট পাচ্ছেন না, তাদের যত দ্রুত সম্ভব নতুন ডিভাইসে আপগ্রেড করা উচিত। পাশাপাশি ফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অটোমেটিক সফটওয়্যার আপডেট চালু রাখার কথাও জোর দিয়ে বলা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতে পুরোনো ও আপডেটহীন অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করা যে বড়সড় ঝুঁকির শামিল, তা নতুন করে মনে করিয়ে দিল গুগলের এই সতর্কবার্তা। এখনই সচেতন না হলে বিপদ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাতের আকাশে দেখা যাবে যেসব চমক !

১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাতের আকাশে দেখা যাবে যেসব চমক ! ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিম আকাশে গ্রহগুলোর আনাগোনা শুরু হয়েছে। রাতের আকাশে এখন দেখা যাচ্ছে বৃহস্পতি, বুধ, নেপচুন, শনি, ইউরেনাস ও শুক্র গ্রহ। বিশেষ করে শুক্র ও বুধ গ্রহ দিগন্তের খুব কাছে, যা সন্ধ্যার পর আকাশে একটি উজ্জ্বল বিন্দুর মতো দেখা যায়। ৯ ফেব্রুয়ারি পূর্ণিমা, যা উত্তর গোলার্ধে ঐতিহ্যবাহীভাবে ‘স্নো মুন’ নামে পরিচিত। এই দিনে চাঁদ পূর্ণ আকারে ঝলমল করবে। তবে চাঁদের উজ্জ্বলতা অন্যান্য গ্রহগুলো দেখার ক্ষেত্রে সাময়িক বিরক্তিকর হতে পারে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়, বিশেষ করে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, চাঁদ বিভিন্ন গ্রহের কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে, যা ‘কনজাংশন’ নামে পরিচিত। এই সময়ে চাঁদ ও মঙ্গলের খুব কাছে আসার দৃশ্য দেখা যাবে, ফলে রাতের আকাশে লাল গ্রহ মঙ্গলের পাশ থেকে চাঁদকে সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। গ্রহগুলো দেখা সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে সূর্যাস্তের পর গোধূলি সময়, যখন আকাশে আলো কিছুটা কম থাকে। বুধ ও শনি গ্রহ দিগন্তের খুব নিচে অবস্থান করে, তাই উঁচু স্থান বা খোলা মাঠ থেকে তাদের দেখা সুবিধাজনক। শহর থেকে দূরে, যেখানে কৃত্রিম আলো কম, সেখানে ছায়াপথসহ গ্রহগুলো আরও স্পষ্ট দেখা যাবে। বৃহস্পতি ও শুক্র গ্রহ খালি চোখে সহজেই দেখা যায়, কিন্তু নেপচুন ও ইউরেনাস দেখার জন্য ভালো মানের বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ দরকার। কারণ এরা অনেক ক্ষীণ আলো ফেলে। এই দুই গ্রহ শনাক্ত করতে স্কাই-ম্যাপ অ্যাপ ব্যবহার করলেই সুবিধা পাওয়া যাবে। ফেব্রুয়ারির এই প্রথমার্ধে আকাশ দেখার জন্য সময় বের করে গ্রহ ও চাঁদের কনজাংশন উপভোগ করুন এবং রাতের আকাশের রোমাঞ্চকর দৃশ্যের সাক্ষী হন।
মেমোরি চিপ সংকটে চীনের দিকে ঝুঁকছে এইচপি, ডেল, এসার ও আসুস

মেমোরি চিপ সংকটে চীনের দিকে ঝুঁকছে এইচপি, ডেল, এসার ও আসুস বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের তীব্র সংকট। বাড়ছে দাম। অনিশ্চয়তায় প্রযুক্তি শিল্প। এই প্রেক্ষাপটে বড় চার পিসি নির্মাতা— এইচপি, ডেল, এসার ও আসুস প্রথমবারের মতো চীনা নির্মাতাদের কাছ থেকে মেমোরি চিপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে নিক্কেই এশিয়া। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি। মেমোরি চিপ এখন স্মার্টফোন থেকে ডেটা সেন্টার সবখানেই অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতি পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলকে চাপে ফেলেছে। ফলে নতুন পণ্য উন্মোচন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। উৎপাদন খরচও বাড়ছে দ্রুত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইচপি ইতিমধ্যে চীনের মেমোরি চিপ নির্মাতা চাংসিন মেমোরি টেকনোলজিস এর পণ্য যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বৈশ্বিক ডিআরএএম সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে তারা। যদি ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকে তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাজারগুলোর জন্য প্রথমবারের মতো সিএক্সএমটির চিপ ব্যবহার শুরু করতে পারে এইচপি। ডেলও একই পথে হাঁটছে বলে জানা গেছে। ২০২৬ জুড়ে মেমোরির দাম বাড়তেই থাকবে— এমন আশঙ্কায় তারা সিএক্সএমটির ডিআরএএম পণ্য যাচাই করছে। এসার জানিয়েছে, তাদের চীনা চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এসব চিপ সংগ্রহ করে তবে তারা তা ব্যবহারে আগ্রহী। অন্যদিকে আসুসও কিছু ল্যাপটপ প্রকল্পের জন্য চীনা উৎপাদন সহযোগীদের মেমোরি চিপ সংগ্রহে সহায়তা করতে বলেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতদিন শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলো মূলত দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠিত সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করত। এখন চাপে পড়ে বিকল্প উৎস খোঁজার প্রবণতা বাড়ছে। তবে চীনা মেমোরি চিপ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকেও সংবেদনশীল হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র–চীন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নজরকাড়া হয়ে উঠতে পারে।
পছন্দমতো পরিবর্তন করা যাবে চ্যাটজিপিটির ব্যক্তিত্ব

পছন্দমতো পরিবর্তন করা যাবে চ্যাটজিপিটির ব্যক্তিত্ব এখন থেকে ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুসারে চ্যাটজিপিটির কথা বলার ধরন নমনীয় করা যাবে। ব্যবহারকারী চাইলে মডেলটিকে আরও বন্ধুসুলভ বা প্রাণবন্ত করে তুলতে পারবেন। চ্যাটবটটিকে পেশাদার রূপ দিতে নতুন ‘জিপিটি-৫.২’ সংস্করণ উন্মোচন করেছে ওপেনএআই। তবে এরইমধ্যে নতুন সংস্করণের কথা বলার ধরন নিয়ে অভিযোগ করেছেন কিছু ব্যবহারকারী। যাদের কাছে চ্যাটজিপিটির বর্তমান আচরণ রুক্ষ বা মেজাজি মনে হচ্ছে তারা চাইলে এখন থেকে নিজের পছন্দমতো চ্যাটবটের ব্যক্তিত্ব নিয়ন্ত্রণ বা বদলে নিতে পারবেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ওপেনএআই বলেছে, এখন থেকে চ্যাটবটের ব্যক্তিত্ব আরও সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। পার্সোনালাইজেশন সেটিংসে ‘ওয়ার্ম’, ‘এনথুজিয়াস্টিক’, ‘হেডার অ্যান্ড লিস্টস’ ও ‘ইমোজি’ নামের নতুন চারটি অপশন যোগ করেছে তারা। এ চারটি অপশনের প্রতিটিতে ‘মোর’, ‘লেস’ বা ‘ডিফল্ট’ নামের তিনটি মোডের যে কোনোটি বেছে নিতে পারবেন ব্যবহারকারী। ফলে চ্যাটজিপিটি ঠিক কতটা আন্তরিক হবে বা কতটা ইমোজি ব্যবহার করবে তা আপনি নিজেই ঠিক করতে পারবেন। এক মাস আগেই ‘জিপিটি-৫.১’ সংস্করণে ‘বেইস স্টাইল অ্যান্ড টোন’ সেটিংসে ‘প্রফেশনাল’, ‘ক্যান্ডিড’ ও ‘কোয়ার্কি’ অপশন যোগ করেছিল ওপেনএআই। এখন নতুন ফিচারগুলো সেই সুবিধাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। এ নতুন কাস্টমাইজেশনের সুযোগ দেওয়ার মূল কারণ সম্ভবত এ বছরের শুরুর দিকে ওপেনএআইকে অপ্রীতিকর এক পরিস্থিতি মুখে পড়ার ঘটনা। তখন ‘জিপিটি-৪ও’-এর বদলে নতুন ‘জিপিটি-৫’ নিয়ে আসার পর ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। ওই সময়ে ব্যবহারকারীদের প্রধান অভিযোগ ছিল, নতুন এ আপডেটটি আগের মতো বন্ধুসুলভ বা আলাপচারিতার উপযোগী নয়। এ প্রতিবাদের মুখে ওপেনএআই ব্যবহারকারীদের জন্য বিভিন্ন মডেল বেছে নেওয়ার সুযোগ ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয় ও ভবিষ্যতে জিপিটি-৫’কে আরও আন্তরিক করে তোলারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
২০৩২ সালে পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে মহাকাশ শিলা, যা বলছেন বিজ্ঞানীরা

২০৩২ সালে পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে মহাকাশ শিলা, যা বলছেন বিজ্ঞানীরা যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুসারে, ‘২০২৪ YR4’ নামের একটি গ্রহাণু ২০৩২ সালে পৃথিবীতে আঘাত হানার ৩.১% সম্ভাবনা রয়েছে। এই হার এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২.৬% থেকে বেড়ে ৩.১%-এ পৌঁছেছে। প্রায় ১৭৭ ফুট চওড়া এই গ্রহাণুটি আকারে একটি বহুতল ভবনের সমান। যদিও এটি মানবসভ্যতা ধ্বংসের মতো বড় নয়, তবে এটি একটি বিশাল শহর নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে বলে জানিয়েছে লাইভসাইন্স (LiveScience)। এ বিষয়ে প্ল্যানেটারি সোসাইটির প্রধান বিজ্ঞানী ব্রুস বেটস বলেন, আমি আতঙ্কিত নই। স্বাভাবিকভাবেই সম্ভাবনা বাড়তে দেখলে ভালো লাগে না, তবে এটি নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, পর্যবেক্ষণের ফলে প্রথমদিকে সম্ভাবনা বাড়তে পারে, তবে পরে তা দ্রুত শূন্যে নেমে আসার সম্ভাবনাই বেশি। একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী একটি সিমুলেশন শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখানো হয়েছে কেমন ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে এই মহাকাশ শিলা। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থ্রিডি অ্যানিমেশন বিশেষজ্ঞ আলভারো গ্রাসিয়া মন্টোয়া এই সিমুলেশন তৈরি করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে, গ্রহাণুটি একটি বড় শহরে আঘাত হেনে বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করছে। ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর ‘২০২৪ YR4’ গ্রহাণুটিকে প্রথম চিলির এল সস অবজারভেটরি শনাক্ত করে। এরপর, আন্তর্জাতিক গ্রহাণু সতর্কীকরণ নেটওয়ার্ক (IAWN) জানুয়ারিতে একটি সতর্কতা জারি করে, যখন এর পৃথিবীতে আঘাত হানার সম্ভাবনা ১% ছাড়িয়ে যায়। তখন থেকে এর সম্ভাবনা ওঠানামা করলেও সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। NASA-এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ YR4 গ্রহাণুটি ২০৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ৯৬.৯% সম্ভাবনা রয়েছে, এটি পৃথিবীকে এড়িয়ে যাবে। LiveScience-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গ্রহাণুটির গতিপথ সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া গেলে এই ঝুঁকি শূন্যে নেমে আসতে পারে। এছাড়াও, একটি ছোট সম্ভাবনা রয়েছে (০.৩%) যে গ্রহাণুটি পৃথিবীর বদলে চাঁদে আঘাত হানতে পারে। গবেষকরা গ্রহাণুটির গতিপথ নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন, যা ভবিষ্যতে আরো নির্ভুল বিশ্লেষণ দিতে পারবে। NASA এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলো এই গ্রহাণুর গতিপথ নিয়ে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঝুঁকি বেশি দেখায়, তবে পরবর্তী বিশ্লেষণে তা কমে আসে। বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৪ YR4-এর পৃথিবীতে আঘাত হানার সম্ভাবনা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে এটি মহাকাশ গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণযোগ্য বস্তু। সূত্র : এনডিটিভি
মাটি খুঁড়ে বের করা হয়েছে ২ হাজার বছর আগের শত শত সমাধি

মাটি খুঁড়ে বের করা হয়েছে ২ হাজার বছর আগের শত শত সমাধি প্রায় প্রতি বছরই মাটি খুঁড়ে প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসের নানা ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করে থাকেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে মানবজাতির হাজার হাজার বছরের অনেক অজানা রহস্য। প্রত্নতাত্ত্বিকরা মাটি খুঁড়ে চলেছেন এ রহস্য জানার আকাঙ্ক্ষা থেকেই। আর মাটি খুড়তে খুড়তেই প্রায়ই বেরিয়ে আসে প্রাচীন নিদর্শন। দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরনো চার শতাধিক সমাধি উদঘাটন করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর চীনের মাটি খনন করে। চীনের উত্তরাঞ্চলের শানসি প্রদেশে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে খনন কাজ চালাচ্ছে প্রাদেশিক প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ ইনস্টিটিউট অব আর্কিওলজি। এই স্থানেই ৪৭৫-২২১ খ্রিস্টপূর্ব সময়কালের ৪৪৫টি সমাধি মাটি খুঁড়ে বের করা হয়েছে। এ সমাধিগুলোর মধ্যদিয়ে দুই হাজার বছর আগেকার মানুষের শেষকৃত্য ও অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। প্রাচীন সমাধিগুলো লিনফেন শহরের জুয়েজুয়াং গ্রামের প্রায় ৫০০ মিটার উত্তরে পাওয়া গেছে। সমাধিগুলো ছোট বা মাঝারি আকারের। এতে ৭০০টিরও বেশি সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ব্রোঞ্জের পাত্র, লোহার পাত্র, মৃৎপাত্র, জেড পাথর ও হাড়ের তৈরি বস্তু রয়েছে বলে জানায় শানসির ইনস্টিটিউট অব আর্কিওলজির একজন গবেষক ডুয়ান শুয়াংলং। ডুয়ানের ধারণা এ সমাধিগুলো কিন রাজবংশ (২২১-২০৭ খ্রিস্টপূর্ব) সময়কালের। এ সমাধিগুলোর মধ্যদিয়ে মানুষ ওই সময়ের সাংস্কৃতিক বিবর্তন সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারবে।
অ্যান্ড্রয়েডে গুগল ড্রাইভের প্রাইভেসি ফিচার

অ্যান্ড্রয়েডে গুগল ড্রাইভের প্রাইভেসি ফিচার অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের নতুন সুরক্ষা ফিচার নিয়ে কাজ করছে গুগল ড্রাইভ। অ্যাপের কোড পরীক্ষার সময় ‘প্রাইভেসি স্ক্রিন’ নামে ফিচারটির সন্ধান পাওয়া গেছে। সাধারণত ডেভেলপার বা প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টরা এ ধরনের কোড বিশ্লেষণ করেন, যেন নতুন বা আসন্ন ফিচার শনাক্ত করা যায়। যা ২০২০ সাল থেকে আইওএসেও রয়েছে। ফিচারটি শিগগিরই অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফরমেও আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অ্যান্ড্রয়েড অথরিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগল ড্রাইভ অ্যাপের জন্য প্রাইভেসি স্ক্রিন নামে একটি নতুন ফিচার তৈরি হচ্ছে। অ্যাপের ২-২৪-৪৬৭-৩ সংস্করণের কোড বিশ্লেষণ করার সময় এ ফিচার খুঁজে পাওয়া গেছে। এটি অন থাকলে অ্যাপে প্রবেশের আগে ব্যবহারকারীদের পরিচয় শনাক্তকরণের (authentication) প্রয়োজন হতে পারে। তবে প্রাইভেসি স্ক্রিন ফিচারের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। কোড বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, এটি চালু থাকলেও শেয়ার করা ডাটা অন্য অ্যাপের ইন্টারনেট ব্রাউজারের মাধ্যমে দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া এটি নোটিফিকেশনসহ অন্যান্য সিস্টেম ফিচারের সুরক্ষা না-ও দিতে পারে।
মেটার ক্যাবল বসবে সমুদ্রের নিচে, দৈর্ঘ্য ৪০ হাজার কিলোমিটার

মেটার ক্যাবল বসবে সমুদ্রের নিচে, দৈর্ঘ্য ৪০ হাজার কিলোমিটার হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত একটি সাবসিয়া কেবল নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। বিশ্বজুড়ে ডেটা ট্রাফিকের বিস্তার বাড়ানোর জন্য সমুদ্রে প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি ক্যাবল স্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। টেকক্রাঞ্চ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেটা একটি ফাইবার-অপটিক কেবল স্থাপন করতে যাচ্ছে যার দৈর্ঘ্য হবে ৪০ হাজার কিলোমিটারের বেশি। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্পটির জন্য প্রায় ২ বিলিয়ন বিনিয়োগ করা হবে। তবে কাজ সম্পন্ন হলে এর চূড়ান্ত খরচ প্রায় ১০ বিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। তবে মেটার মতো একটি বড় কোম্পানির জন্য এটি খুব বেশি খরচ নয়। প্রতিবেদন অনুসারে, প্রকল্পের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। তবে বাজেট নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রকল্পের রুট, ধারণক্ষমতা এবং এর পেছনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ২০২৫ সালের শুরুর দিকে প্রকাশ করবে মেটা। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, কেবলটি পুরোপুরি কার্যকর হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। সাবমেরিন কেবল শিল্পের বিশ্লেষক রানলফ স্কারবরো জানিয়েছেন, বর্তমানে কেবল জাহাজগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং কয়েক বছরের জন্য আগাম কন্ট্রাক করা রয়েছে। যদি এই প্রকল্প সফল হয় তবে এটি মেটাকে বিশ্বব্যাপী ডেটা প্রেরণ এবং গ্রহণের জন্য একটি নির্ধারিত রুট দেবে। ধারণা করা হচ্ছে, কেবলটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল থেকে শুরু হয়ে ভারতের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা, তারপর অস্ট্রেলিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে শেষ হবে। উল্লেখ্য, মেটার মালিকানাধীন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক। এই প্ল্যাটফর্মে রয়েছে কয়েকশে কোটি ব্যবহারকারী। প্রায় সববয়সী মানুষই ব্যবহার করছেন এই প্ল্যাটফর্ম। ছবি, ভিডিও, টেক্স কনটেন্ট স্ট্যাটাস পোস্ট দেন বহু মানুষ।
বিলুপ্তপ্রায় উড়ন্ত লাউডগা সাপের দেখা মিলল

বিলুপ্তপ্রায় উড়ন্ত লাউডগা সাপের দেখা মিলল আড়াই ফুট দৈর্ঘ্যের উড়ন্ত মৃদু বিষধর বিলুপ্তপ্রায় লাউডগা সাপ উদ্ধার করেছেন অ্যানিমেল লাভারস অব পটুয়াখালীর সদস্যরা। শনিবার সন্ধ্যায় লালুয়া ইউনিয়নের চরনিজর গ্রামের একটি বসতবাড়ি থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সাপটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রবিবার সাপটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করার কথা রয়েছে। উজ্জ্বল সবুজ বর্ণের লম্বাটে, নলাকার, নাক লম্বা এবং সুচালো এ লাউডগা সাপের প্রধান খাবার ব্যাঙ ও সরীসৃপজাতীয় প্রাণী। সাপটি উদ্ধারের সময় অ্যানিমেল লাভারস অব পটুয়াখালীর সদস্য ইউসুফ রনি ও আদনান রাকিব উপস্থিত ছিলেন। ইউসুফ রনি বলেন, সন্ধ্যায় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সাপটি উদ্ধার করি। সচরাচর এসব সাপ দেখা যায় না।
নতুন গবেষণায় টাইটানে প্রাণের সম্ভাবনা

নতুন গবেষণায় টাইটানে প্রাণের সম্ভাবনা সৌরজগতের বৃহৎ উপগ্রহগুলোর মধ্যে শনি গ্রহের চাঁদ টাইটানে মিথেন গ্যাস আটকে থাকার সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। সম্প্রতি হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা দল জানিয়েছে, টাইটানের পৃষ্ঠে ৯.৭ কিলোমিটার পুরু একটি স্তরের নিচে মিথেন আটকা থাকতে পারে। এই তথ্য তারা টাইটানের উপরিভাগে থাকা ক্ষুদ্র গভীরতা সম্পন্ন গহ্বর পর্যবেক্ষণ করে পেয়েছেন। এই গহ্বরগুলো অন্যান্য উপগ্রহের তুলনায় অনেক কম গভীর হওয়ায় বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, টাইটানের পৃষ্ঠতলে বিশেষ কিছু প্রক্রিয়ার কারণে এসব গহ্বর দ্রুত অগভীর হয়ে যাচ্ছে। গবেষণার প্রধান বিজ্ঞানী লরেন শুরমায়ার জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আরও বিশদ ধারণা পেতে তারা কম্পিউটার মডেলিং পদ্ধতির সাহায্য নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা পৃষ্ঠের মিথেন ক্ল্যাথ্রেট স্তরটি ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার পুরু বলে ধারণা করেছেন। তাদের তৈরি মডেলে এই স্তরের পুরুত্বের সঙ্গে গহ্বরের গভীরতা বেশ মিলে যায়। মিথেন ক্ল্যাথ্রেট বা ‘মিথেন হাইড্রেট’ হলো একটি কঠিন যৌগ যা বরফের মতো দেখতে হলেও এতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস আটকে থাকে। বিজ্ঞানীদের মতে, টাইটানে এই মিথেন ক্ল্যাথ্রেট নিয়ে গবেষণা করলে এর কার্বন চক্র এবং আবহাওয়ার পরিবর্তন সম্পর্কে আরও জানা যেতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, মিথেনের এই পুরু স্তর টাইটানের অভ্যন্তরকে উষ্ণ রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এ অবস্থায় সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে, কারণ প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় বায়োমার্কারগুলো টাইটানের পৃষ্ঠতলে পৌঁছে যেতে পারে। লরেন শুরমায়ার বলেন, ‘যদি টাইটানের বরফ স্তরের নিচে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব থেকে থাকে, তবে বায়োমার্কারগুলো উপরের স্তর পর্যন্ত উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতের মিশনগুলোর মাধ্যমে শনাক্ত করা যেতে পারে। টাইটান শুধু পৃথিবীই নয়, সৌরজগতের আরেকটি স্থান যেখানে বায়ুমণ্ডল এবং তরল পদার্থের উপস্থিতি দেখা যায়। টাইটানের পৃষ্ঠে মিথেন ও ইথেনের নদী, হ্রদ এবং সাগর রয়েছে। এছাড়া এর নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ঘন বায়ুমণ্ডলের কারণে পৃষ্ঠে চলাফেরা করতে বিশেষ স্যুটের প্রয়োজন হয় না, তবে শ্বাস নিতে অক্সিজেন মাস্ক অবশ্যই দরকার হবে। সূত্র : এনডিটিভি