এখনো হাসপাতালেই অভিনেতা তিনু করিম, অর্থকষ্টে পরিবার
এখনো হাসপাতালেই অভিনেতা তিনু করিম, অর্থকষ্টে পরিবার অভিনেতা তিনু করিমের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। টানা ২৩ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গত ২৬ ডিসেম্বর তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) তাকে কেবিনে স্থানান্তরের কথা রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতার স্ত্রী হুমায়রা নওশিন। হুমায়রা নওশিন বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। চার দিন আগে লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হয়েছে। গতকাল তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে দেওয়ার হয়েছে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’এদিকে বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছে তিনু করিমের পরিবার। এখন পর্যন্ত ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন ‘অ্যাক্টরস ইকুইটি’ থেকে এক লাখ টাকা এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন তারা। তবে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে আরও অনেক টাকার প্রয়োজন রয়েছে।হুমায়রা নওশিন বলেন, ‘সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অ্যাক্টরস ইকুইটি থেকে আমরা সহায়তা পেয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে বিল এসেছে এবং সামনে যে খরচ আসবে তাতে আরও অনেক টাকার প্রয়োজন।’ গত ৮ নভেম্বর বরিশালে গ্রামের বাড়িতে যান তিনু করিম। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে ২৪ নভেম্বর তাকে ঢাকায় আনা হয়। এরপর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার সাময়িক উন্নতি হলে তাকে কেবিনে নেওয়া হলেও পরে রক্তচাপ ও সুগার লেভেল কমে গিয়ে তিনি জ্ঞান হারান। এরপর পুনরায় আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং ৩ ডিসেম্বর বিকেলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। দুই দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনু করিম। ২০০১ সালে ‘সাক্ষর’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশন নাটকে অভিষেক ঘটে তার। পরে ২০১০ সালে ‘অপেক্ষা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিনয় শুরু করেন। এরপর ‘রাত জাগা ফুল’, ‘আলতা বানু’সহ অসংখ্য নাটক ও বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছেন তিনি।
দাম্পত্য জীবনের ইতি টানলেন সালমা

দাম্পত্য জীবনের ইতি টানলেন সালমা জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ তারকা মৌসুমি আক্তার সালমার দাম্পত্য জীবনে আবারও ছেদ পড়েছে। দীর্ঘ সাত বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে আলাদা হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিচ্ছেদের বিষয়টি জানান তাঁর স্বামী আইনজীবী সানাউল্লাহ নূর সাগর। পরে নিজেও বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সালমা। সালমা জানান, ‘হ্যাঁ, আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছে। গত ২৯ নভেম্বর আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ হয়। বিষয়টি নিয়ে এখন আর কিছু বলতে চাই না।’ বিচ্ছেদের পর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই জনপ্রিয় শিল্পী জানান, ব্যক্তিগত জীবনের অধ্যায় পেছনে ফেলে এখন তিনি পুরোপুরি গানেই মনোযোগ দিতে চান। তাঁর ভাষায়, ‘এখন শুধু গানে মনোযোগ দিতে চাই। বিচ্ছেদ নিয়ে ভাবতে চাই না। ভালো ভালো গান গাইতে চাই।’ অন্যদিকে সানাউল্লাহ নূর সাগর তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে পারস্পরিক মতের অমিল ও মানসিক দূরত্বের কথা উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘কণ্ঠশিল্পী সালমার সঙ্গে আমার দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছি। পারস্পরিক মতের অমিল, চিন্তা ও মানসিকতার দূরত্বই আলাদা হওয়ার কারণ। পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করছি, এ বিষয়ে সবাই নেতিবাচক মন্তব্য থেকে বিরত থাকবেন।’ ‘ক্লোজ-আপ ওয়ান-তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন সালমা খুব অল্প সময়েই সংগীতাঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। লোকগান ও আধুনিক গানের সমান জনপ্রিয় এই শিল্পী ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে শিবলী সাদিককে বিয়ে করেছিলেন। তবে সেই সংসারের বিচ্ছেদ হয় ২০১৬ সালে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আইনজীবী সানাউল্লাহ নূর সাগরের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সালমা। কিন্তু সাত বছরের সাজানো সেই সংসারও শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হলো না।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে যা বললেন শাকিব খান
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে যা বললেন শাকিব খান বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নায়ক শাকিব খান। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক শোকবার্তায় তিনি এই সমবেদনা জানান। খালেদা জিয়ার একটি সাদাকালো ছবি শেয়ার করে শাকিব খান লিখেছেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।’ ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ এই নায়কের পোস্টে মুহূর্তেই হাজার হাজার ভক্ত শোক প্রকাশ করে মন্তব্য করেন। শাকিব খান ছাড়াও বিনোদন জগতের আরও অনেক তারকা বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস, শবনম বুবলী, নুসরাত ফারিয়া, আজমেরী হক বাঁধন, রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা ও চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ। এছাড়া নির্মাতা আশফাক নিপুন ও রেদওয়ান রনিসহ শোবিজ অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সামাজিক মাধ্যমে শোক জানিয়েছেন। গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার ভোরে তার প্রয়াণ ঘটে। ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করা এই মহীয়সী নারী ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিন মেয়াদে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬০ সালে সেনাপ্রধান ও পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ফার্স্ট লেডি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে তার পদচারণা ছিল দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল।
খালেদা জিয়ার বিদায় দীর্ঘ এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি : আরিফিন শুভ
খালেদা জিয়ার বিদায় দীর্ঘ এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি : আরিফিন শুভ বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নায়ক আরিফিন শুভ। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক শোকবার্তায় তিনি এই সমবেদনা জানান। খালেদা জিয়ার একটি ছবি শেয়ার করে আরিফিন শুভ লিখেছেন, ‘দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়, দীর্ঘ এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি। আল্লাহ তাঁকে উত্তম মর্যাদা দান করুন।’ আরিফিন শুভ ছাড়াও বিনোদন জগতের আরো অনেক তারকা বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শাকিব খান, জেমস ,চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস, শবনম বুবলী, নুসরাত ফারিয়া, আজমেরী হক বাঁধন, রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা ও চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ। এছাড়া নির্মাতা আশফাক নিপুন ও রেদওয়ান রনিসহ শোবিজ অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সামাজিক মাধ্যমে শোক জানিয়েছেন। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। চিকিৎসা শেষে ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। সে সময় স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতিও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা এবং মানসিক ধকলের কারণে তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পুনরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে এক মাসের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ ভোরে তিনি চিকিৎসায় সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন এবং চিরবিদায় নেন।
আবারও মা হওয়ার গুঞ্জনে মুখ খুললেন বুবলী
আবারও মা হওয়ার গুঞ্জনে মুখ খুললেন বুবলী ঢাকাই সিনেমার বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। তবে খ্যাতির পাশাপাশি সমালোচনার শিকারও হয়েছেন। এর মধ্যেই নায়িকাকে নিয়ে নতুন খবর চাউর হয়েছে। বুবলী নাকি আবারও মা হচ্ছেন। আর এই সন্তানের বাবাও নাকি বাংলার সুপারস্টার শাকিব খান। নতুন করে বুবলীর মা হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় একাধিক অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়া। যেখানে দাবি করা হচ্ছে, ‘বাংলাদেশের নায়িকা বুবলী ফের মা হতে যাচ্ছেন।’শাকিব খানের দুই স্ত্রী- একজন ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাস। অপরজন শবনম বুবলী। দুজনেই চিত্রনায়কের দুই সন্তানের মা। তবে বহুদিন ধরেই এই তিনজনের মধ্যে চলছে দড়ি টানাটানি। এদিকে শাকিবের দাবি, দুজনই তার প্রাক্তন। কিছুদিন আগে দ্বিতীয় স্ত্রী শবনম বুবলী ও পুত্র বীরকে নিয়ে আমেরিকায় লম্বা ছুটি কাটিয়ে এসেছেন শাকিব খান। ফেসবুকে একান্ত মুহূর্তের সেই সব ছবি ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ারও করেছেন বুবলী। সম্প্রতি দেশের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন চিত্রনায়িকা। সেখানে নৃত্যপরিবেশন করেন অভিনেত্রী। পরনে ছিল ঘাগরা। দর্শকের সঙ্গে বেশকিছু ছবিও তোলেন। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়। এরপরেই নেটিজেনদের একটি অংশ দাবি তোলেন, ‘বুবলী অন্তঃসত্ত্বা’। আর এমন দাবিকেই পুঁজি করে খবর ছেপেছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। তবে এ ধরনের খবরে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন শবনম বুবলী। তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের গুজব রটেছে। এবারের খবরটিও সম্পূর্ণ গুজব। এর কোনো ভিত্তি নেই।’ ২০১৮ সালের ২০ জুলাই শাকিব খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শবনম বুবলী। এরপর ২০২০ সালের ২১ মার্চ সন্তানের বাবা-মা হন তারা। এ ঘটনার বেশকিছুদিন পর দুজনের আইডি থেকে সন্তানের নামসহ ছবি প্রকাশ করেন। জানান, তাদের ছেলের নাম ‘শেহজাদ খান বীর’।প্রথমবার মা হওয়ার আগেও বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়া নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছিল। তখন তিনি স্বামী বা সন্তানের বাবার পরিচয় প্রকাশ করেননি। পরে সন্তানসহ মিডিয়ার সামনে এসে জানান, শাকিব খানই তার স্বামী। এই প্রেক্ষাপটের কারণেই এবারও তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়া নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
কনসার্টে হামলা: আয়োজকদের দায়ী করলেন জেমস

কনসার্টে হামলা: আয়োজকদের দায়ী করলেন জেমস গানের মঞ্চে ওঠার আগেই বদলে গেল উৎসবের চিত্র। উচ্ছ্বাসের বদলে ছড়িয়ে পড়লো আতঙ্ক, করতালির জায়গা দখল করল ইট-পাটকেল। ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বহুল প্রতীক্ষিত জেমসের কনসার্ট এভাবেই ভেস্তে যায় সহিংসতায়। এ ঘটনায় আয়োজক কমিটির আহ্বায়কসহ আহত হন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন। ঘটনার পর প্রথমবার মুখ খুলে দায়ীদের দিকে আঙুল তুললেন জেমস নিজেই। ঘটনাটি নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানালেন জেমস। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, “এটা সম্পূর্ণ আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতা। নিরাপত্তা ও দর্শক ব্যবস্থাপনায় বড় ঘাটতি ছিল।” জেমসের ব্যক্তিগত সহকারী রবিন ঠাকুর পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, “আমরা সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ফরিদপুর পৌঁছাই। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই শুনি সেখানে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। তখন আমরা গেস্ট হাউসেই ছিলাম। রাত সাড়ে দশটার দিকে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে আমাদের জানানো হয় অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। এরপরই ঢাকায় ফিরে আসি।” জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্কুল প্রাঙ্গণে জেমসের সংগীত পরিবেশনের কথা ছিল। তবে অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র নিবন্ধিত প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত থাকায় অনিবন্ধিত কয়েক হাজার বহিরাগত ভেতরে ঢুকতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আয়োজক সূত্রে জানা যায়, বহিরাগতদের জন্য বাইরে দুটি প্রজেক্টরের ব্যবস্থা করা হলেও তারা তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। একপর্যায়ে দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে বাধা দেওয়া হয়। তখনই শুরু হয় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। স্কুল প্রাঙ্গণের দর্শক ও মঞ্চ লক্ষ্য করে ছোড়া ইট-পাটকেলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উত্তেজনা আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির অবনতি দেখে রাত দশটার দিকে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান শামীম মঞ্চ থেকে ঘোষণা দেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে জেমসের কনসার্ট বাতিল করা হয়েছে।
রিয়াজের মৃত্যুর গুঞ্জনে যা জানা গেল

রিয়াজের মৃত্যুর গুঞ্জনে যা জানা গেল আকস্মিকভাবে খবর ছড়িয়েছে, চিত্রনায়ক রিয়াজ মারা গেছেন। আত্মগোপনে থাকা ঢালিউডের এ নায়ককে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা চলছে। তার ভক্তরাও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এ পরিস্থিতিতে নীরবতা ভেঙেছেন রিয়াজের স্ত্রী। তার ভাষ্যএটি সম্পূর্ণ গুজব।”বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রিয়াজের স্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, “অভিনেতা জীবিত আছেন এবং সুস্থ রয়েছেন। এ ধরনের খবর একেবারেই সত্য নয়; যেখানেই আছেন, ভালো আছেন।” গণঅভ্যুত্থানের পর চিত্রনয়ক রিয়াজ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে গেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দুবাই হয়ে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার কথা ছিল তার। আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক কোনো পদে না থাকলেও দীর্ঘদিন দলটির পক্ষে সরব ছিলেন রিয়াজ। তারপর থেকে তাকে ঘিরে ‘পালিয়ে যাওয়ার’ গুঞ্জন ছড়ালেও প্রকাশ্যে আর দেখা মেলেনি। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কারো সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই তার। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকেও রিয়াজের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ১৯৭২ সালের ২৬ অক্টোবর ফরিদপুর জেলা সদরের কমলাপুর মহল্লায় সম্ভ্রান্ত একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রিয়াজ। তার শৈশব কেটেছে ফরিদপুর শহরের সিএনবি স্টাফ কোয়াটারে। দুই ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে রিয়াজ সবার ছোট। এরপর ফরিদপুর থেকে পৈতৃক নিবাস যশোরে চলে যান। তার কলেজ জীবন শুরু হয় যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। সেখান থেকেই এইচএসসি পাস করেন তিনি। এইচএসসি পাস করার পর বুয়েটে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসে কোচিং শুরু করেন রিয়াজ। কিন্তু পরিবারের উৎসাহে যশোরে বিমানবাহিনীতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন। এরই মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএসসি (পাস কোর্স) সম্পন্ন করেন। যথাযথ প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে বৈমানিক হিসেবে যোগদান করেন। বৈমানিক হিসেবে একটি জেট ফাইটারে মোট ৩০০ ঘণ্টা উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন। পরে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ১৯৯৩ সালে বিমানবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন রিয়াজ। ১৯৯৫ সালে চাচাতো বোন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ববিতার হাত ধরে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেন রিয়াজ। অভিনয়ের পাশাপাশি ২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হৃদয়ের কথা’ চলচ্চিত্রটি প্রযোজনাও করেন তিনি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো—প্রাণের চেয়ে প্রিয় (১৯৯৭), স্বপ্নের পুরুষ (১৯৯৯), মিলন হবে কত দিনে, প্রেমের তাজমহল (২০০১), নিঃশ্বাসে তুমি বিঃশ্বাসে তুমি, ও প্রিয়া তুমি কোথায় (২০০২), মাটির ফুল, স্বপ্নের বাসর (২০০৩), রং নাম্বার (২০০৪), মোল্লা বাড়ির বউ (২০০৫), হৃদয়ের কথা (২০০৬), লোভে পাপে পাপে মৃত্যু (২০১৪) প্রভৃতি। জনপ্রিয় কিছু গল্প-উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন রিয়াজ। এগুলো হলো—দুই দুয়ারী (২০০০), হাজার বছর ধরে (২০০৫), দারুচিনি দ্বীপ (২০০৭), মধুমতি (২০১১ প্রভৃতি। এছাড়া রিয়াজ বিকল্প ধারার কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। যেমন: টক ঝাল মিষ্টি (২০০৪), না বোলনা, বকুল ফুলের মালা (২০০৬), মেঘের কোলে রোদ, কি যাদু করিলা, চন্দ্রগ্রহণ (২০০৮), এবাদত (২০০৯), কুসুম কুসুম প্রেম (২০১১) ইত্যাদি। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ রিয়াজ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সেরা চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে তিনবার এই পুরস্কার লাভ করেছেন তিনি।
বড়দিন উপলক্ষে মেহজাবীনের সম্প্রতি বার্তা

বড়দিন উপলক্ষে মেহজাবীনের সম্প্রতি বার্তা খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষে সম্প্রতি বার্তা দিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। একইসঙ্গে নিজেকে নতুন রূপে মেলে ধরেছেন তিনি। সামাজিকমাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করেন মেহজাবীন। ছবিগুলোতে তাকে দেখা যায় পুরোপুরি বড়দিনের উৎসবমুখর সাজে। অভিনেত্রীর পরনে ছিল বড়দিনের চিরচেনা লাল রঙের সোয়েটার। মাথায় সবুজ রঙের ক্রিসমাস হ্যাট। এ সময় মেহজাবীনকে মিষ্টি হাসিতে বেশ প্রাণবন্ত দেখা যায়। আলোকসজ্জায় মোড়ানো ক্রিসমাস ট্রির পাশে দাঁড়িয়ে নানা ভঙ্গিতে পোজ দিতেও দেখা যায় তাকে। উৎসবের এই আমেজে তার মায়াবী হাসি মন ছুঁয়ে যায় ভক্তদের। ছবির ক্যাপশনে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানান মেহজাবীন। তিনি লেখেন, ‘বড়দিন উদযাপনকারী সকল বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা পাঠাচ্ছি।’ অভিনেত্রীর এই আন্তরিক শুভেচ্ছাবার্তাকে ধর্মীয় সম্প্রীতির সুন্দর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন ভক্তরা।
‘পপির জন্য অনেক তো অপেক্ষা করলাম, আর কত’

‘পপির জন্য অনেক তো অপেক্ষা করলাম, আর কত’ তরুণ পরিচালক আরিফুর জামান আরিফ ২০১৮ সালে ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’ শিরোনামে সিনেমা নির্মাণে হাত দেন। সিনেমাটিতে জুটি হওয়ার কথা ছিল ফেরদৌস ও পপির। মাত্র দুদিনের শুটিংয়ের পরই থেমে যায় পুরো প্রজেক্ট—ফেরদৌস রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, আর পপি চলে যান আড়ালে। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সাত বছর। মাস দুয়েক আগে পরিচালক জানান, ফেরদৌসকে সিনেমার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এবার একইভাবে বাদ গেলেন নায়িকা পপিও। তাদের জায়গায় কারা আসছেন—এ বিষয়ে এখনো মুখ খুলছেন না এই নির্মাতা। আরিফুর জামান আরিফ বলেন, “কোনো কুল-কিনারা না পেয়েই তাদেরকে সিনেমা থেকে বাদ দিতে হচ্ছে। অনেক তো অপেক্ষা করলাম আর কত! নতুন শিল্পী কারা—প্রশ্ন উঠতেই পরিচালক বলেন, “এই মুহূর্তে বলতে চাচ্ছি না। পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। খুব শিগগির জানাতে পারব।” নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের (২০২৬) ১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’-এর শুটিং। দিনটি নির্বাচন করা হয়েছে বিশেষ কারণে, এদিন বাংলা সাহিত্যের অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। আরিফ বলেন, “এই দিনটিতেই চূড়ান্ত ঘোষণার মাধ্যমে শুটিং শুরু হবে।” প্রসঙ্গত, শরৎচন্দ্রের জীবনদর্শন অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটিতে তার চরিত্রে অভিনয় করছেন গুণী অভিনেতা গাজী রাকায়েত। বাকি চরিত্র ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা শিগগির প্রকাশ হবে বলে জানা গেছে।
সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের নতুন তারিখ নির্ধারণ

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের নতুন তারিখ নির্ধারণ ঢালিউডের অমর নায়ক সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য প্রায় তিন দশক পরও অমীমাংসিত। গত অক্টোবরে আদালতের রায়ে অপমৃত্যুর মামলা পরিবর্তিত হয়ে হত্যা মামলায় রূপ নেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে রমনা মডেল থানার পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম খন্দকার নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। এজন্য তিনি আদালতের কাছে সময়ের আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আরও ৫ সপ্তাহ সময় বৃদ্ধি করেন। সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ রাখা হয়েছে আগামী ১৩ জানুয়ারি। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জিন্নাত আলী বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। হত্যা মামলার পটভূমি গত ২০ অক্টোবর সালমান শাহর অপমৃত্যু মামলা আদালতের মাধ্যমে হত্যা মামলায় রূপ নেয়। পরদিন ২১ অক্টোবর নায়কের মামা ও চলচ্চিত্র পরিচালক আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় সামিরা হক, খলনায়ক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের তালিকা সামিরা হক ও ডন ছাড়াও আসামি হিসেবে নাম রয়েছে— শিল্পপতি ও সাবেক প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই লতিফা হক লুচি ডেবিড জাভেদ ফারুক মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি আব্দুস ছাত্তার সাজু রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭) এ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।