
বীরকে নিয়ে গাড়ির শোরুমে বুবলী, লিখলেন আমাদের ছেলে ‘গাড়িপ্রেমী’ ঢালিউড নায়িকা শবনম বুবলী সিনেমার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও সমানভাবে সক্রিয়। নানান মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ভালোবাসেন তিনি। এবার ছেলেকে নিয়ে প্রকাশ করা কিছু নতুন ছবিই আবার আলোচনায় এনে দিল তাকে। আজ (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে বুবলী ছেলেকে নিয়ে মার্সিডিজের একটি বিলাসবহুল গাড়ির শোরুমে তোলা কয়েকটি ছবি শেয়ার করেন। ছবিগুলোতে দেখা যায়-শেহজাদ খান বীর লাল, নীলসহ বিভিন্ন রঙের মার্সিডিজ গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে পোজ দিচ্ছে। কখনও গাড়ির ভেতরে বসে, আবার কখনও শোরুমজুড়ে হাঁটাহাঁটি করে গাড়ি দেখে মুগ্ধ হচ্ছে ছোট্ট বীর। ছেলের প্রতি এই গাড়িপ্রেম তুলে ধরে বুবলী ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমাদের গাড়িপ্রেমী ছেলে।’ মুহূর্তেই ছবিগুলো ভক্তদের নজরে আসে এবং অনেকে বীরের আগ্রহ ও স্টাইল দেখে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। ২০১৮ সালে গোপনে বিয়ে করেছিলেন শাকিব খান ও বুবলী। তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় ছেলে শেহজাদ খান বীর। বিয়ের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠলেও এখন দুজনে আলাদা থাকেন; তবে সন্তানের বিষয়ে যোগাযোগ রয়ে গেছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে শেহজাদকে নিয়ে শাকিব-বুবলীকে একসঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায়। সেই ছবি সামনে আসতেই গুঞ্জন ওঠে-তারা কি আবার কাছাকাছি আসছেন? সম্প্রতি এক ইভেন্টে বুবলী জানান, ছেলে বীরের সঙ্গে তার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। হাসতে হাসতে তিনি আরও বলেন, শাকিব নাকি ছেলেকে শিখিয়েছেন-পছন্দের কোনো মেয়েকে সবার আগে মায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে! বাবা-ছেলের এমন খুনসুটি দেখেই নাকি তার মন ভরে যায়।
শুটিং সেটে অগ্নিদগ্ধ চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ

শুটিং সেটে অগ্নিদগ্ধ চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ ঢাকার বাইরে নিভৃত লোকেশনে চুপিসারে ‘মালিক’ সিনেমার শুটিং চলছে। পুরো ইউনিটই বিষয়টি গোপন রেখে কাজ করতে চাইলেও তা আর পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে সিনেমাটির কয়েকটি শুটিং দৃশ্য। এর মধ্যেই নতুন খবর, সিনেমাটির শুটিং করতে গিয়েই আহত হয়েছেন আরিফিন শুভ। অ্যাকশন দৃশ্যের শুট করতে গিয়ে শরীরে আগুন লেগে যায় ঢাকাই সিনেমার এই জনপ্রিয় নায়কের। তবে শুটিং ইউনিটের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অ্যাকশন দৃশ্যে আরিফিন শুভর শরীরের নিচের অংশে নিয়ন্ত্রিত আগুন জ্বলার কথা ছিল। সবকিছু ঠিকভাবেই প্রস্তুত ছিল। কিন্তু ক্যামেরা ঘুরতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়—আগুন হঠাৎ ধরে উঠে শুভর পায়ে। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে শিখা যেন আরো উঁচু হয়ে ওঠে। ইউনিট সূত্রে আরো জানা যায়, আগুন লাগার পর শুভ প্রথমে নিজেই শিখা নিভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন থামছিল না। তীব্র তাপে ভারসাম্য হারিয়ে একসময় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তখনই ইউনিট সদস্যরা এগিয়ে এসে আগুন নেভান। আগুন নিভে গেলেও শুভর পায়ে দগ্ধচিহ্ন পড়ে। দুর্ঘটনার পর পরিচালক সাইফ চন্দন শুট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলেও, শুভ নাকি পিছু হটেননি। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সেদিনের সব শুট শেষ করেন তিনি। সূত্র বলছে, পায়ে ক্ষত নিয়েই এখনো নিয়মিত শুটিং চালিয়ে যাচ্ছেন এই নায়ক। এই দুর্ঘটনা নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে চাননি। আসন্ন ঈদুল ফিতরে মুক্তির প্রস্তুতি চলছে অ্যাকশনধর্মী ‘মালিক’ সিনেমার। যেখানে আরিফিন শুভর বিপরীতে আছেন বিদ্যা সিনহা মিম। চিত্রনাট্য লিখেছেন সিদ্দিক আহমেদ।
সংগীতশিল্পী ইমরান বাবা হলেন

সংগীতশিল্পী ইমরান বাবা হলেন বাবা হলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল। গত সোমবার ১ ডিসেম্বর বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন ইমরানের স্ত্রী মেহের আয়াত জেরিন। এটি এই দম্পতির প্রথম সন্তান। আনন্দের খবরটি জানিয়ে সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল বলেন, “প্রথমবারের মতো বাবা হলাম। আল্লাহ আমাকে একটি সুন্দর সুস্থ কন্যাসন্তান উপহার দিয়েছেন। আমাদের ছোট্ট মেয়ের আগমন আমাদের জীবনকে আরো রঙিন করে দেবে ইন শা আল্লাহ। ২০২৩ সালের ২৪ মে পারিবারিক আয়োজনে মেহের আয়াত জেরিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ইমরান। স্ত্রী-সন্তানের জন্য দোয়া চেয়ে ইমরান মাহমুদুল বলেন, “সবাই দোয়া করবেন আমার স্ত্রী ও মেয়ের জন্য, আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ রাখেন আমিন। প্রিয় শিল্পীর বাবা হওয়ার খবরে আনন্দিত তার ভক্ত ও সহকর্মীরা। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার যেমন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, তেমনি অভিবাদনও জানিয়েছেন। সংগীতশিল্পী কর্ণিায়া লেখেন, “অভিনন্দন নতুন বাবা।” কণ্ঠশিল্পী পুতুল লেখেন, “অভিনন্দন কন্যার বাবা-মাকে। ছোট্ট রাজকন্যাকে অনেক আদর।” এমন অসংখ্য মন্তব্য কমেন্ট বক্সে ভেসে বেড়াচ্ছে। ২০০৮ সালে চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সংগীত ক্যারিয়ার শুরু করেন ইমরান মাহমুদুল। তারপর একক গান ও সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এক যুগের সংগীত ক্যারিয়ারে অনেক শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। প্রাপ্তির ঝুলিতে জমা পড়েছে বেশ কিছু পুরস্কার।
জয়ী না হয়েও জিতেছে বাংলাদেশ : মিথিলা

জয়ী না হয়েও জিতেছে বাংলাদেশ : মিথিলা থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা শেষে দেশে ফিরেছেন মডেল ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এসে পৌঁছেছেন। বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিথিলা। প্রথমে ধ্যনবাদ জানান যারা তাকে সমর্থন দিয়ে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মিস ইউনিভার্সে অংশ নিয়ে আমি কাছ থেকে সব দেখে এসেছি। কীভাবে কি করতে হয়। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, বাংলাদেশ জয়ী না হয়েও জিতেছে। আমার মনে হয়, টপ ৩০ এ যারা উঠেছেন তাদের প্রত্যেকেরই ফিনালে যাওয়ার মতো সম্ভাবনা ও মান আছে। মিস ইউনিভার্সের মুকুট বহন করার ক্ষমতাও রয়েছে তাদের। আমি এই যাত্রায় গর্বিত। এরপর যে এখানে অংশ নিতে যাবে আমি তাকে সর্বোচ্চ সাহায্য করবো।’ গত ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফিনালেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মিথিলা। যদিও তিনি মিস ইউনিভার্সের মুকুট জয় করতে পারেননি তবুও এই প্রতিযোগিতায় এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। পিপলস চয়েসে ১২১ দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে তৃতীয় হয়েছেন এবং সেরা ৩০-এ জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। মডেল তানজিয়া জামান মিথিলা বলিউডের ‘রোহিঙ্গা’ সিনেমায় প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেন। সিনেমাটি পরিচালনা করেন বলিউডের নির্মাতা ও ফটোগ্রাফার হায়দার খান। এটি রোহিঙ্গা এবং হিন্দি দুই ভাষায় নির্মিত হয়েছে। প্রযোজনা করছে লায়ন প্রোডাকশন। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন ‘মিস্টার ভুটান’ স্যাঙ্গে।
বিয়ে করলেন কণ্ঠশিল্পী পূজা

বিয়ে করলেন কণ্ঠশিল্পী পূজা বিয়ে করলেন দেশের এই সময়ের শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাঁধন সরকার পূজা। পাত্রের নাম শুভংকর সেন। সোমবার (২৪ নভেম্বর) তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন গায়িকা নিজে। পূজার স্বামী শুভংকর সেন পেশায় একজন মডেল এবং চাকরিজীবী। পূজা জানান, গত একবছর ধরে তাদের পরিচয়, বন্ধুত্ব। এরপর দুই পরিবারকে জানালে পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়। জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য সবার কাছে আশীর্বাদ চেয়েছেন পূজা। এটি পূজার দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে একটি মিউজিক ভিডিওতে কাজের সুবাদে পরিচয়ের সুবাদে ২০১৭ সালে তিনি মডেল অর্ণব দাস অন্তুকে বিয়ে করেছিলেন। ২০২১ সালের দিকে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। বাঁধন সরকার পূজা দেশের সুপরিচিত কণ্ঠশিল্পী। তার গাওয়া ১০টিরও বেশি গানের ভিউ কোটির ঘর ছাড়িয়েছে। সেই গানের তালিকায় রয়েছে- তুমি দূরে দূরে আর থেকো না, সাত জনম, এত কাছে, চুপি চুপি, একটাই তুমি, তোমার আমার ভালোবাসা, তুমি ছাড়া, কেন বারে বারে, মানে না মন, মিউজিক তোমায় ছেড়ে।
গুরুতর অভিযোগ তুলে মিস ইউনিভার্সের দুই বিচারকের পদত্যাগ

গুরুতর অভিযোগ তুলে মিস ইউনিভার্সের দুই বিচারকের পদত্যাগ ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত আসরের কয়েক দিন আগে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দুই বিচারক। তাদের একজনের অভিযোগ—প্রতিযোগিতাটি সাজানো বা পক্ষপাতদুষ্ট। খবর নিউ ইয়র্ক টাইমসের। মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার আট সদস্যের জুরি বোর্ডের অন্যতম সদস্য লেবানিজ-ফরাসি সংগীতশিল্পী ওমর হারফু। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ইনস্টাগ্রাম পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। তাতে তিনি বলেন, “মিস ইউনিভার্সের চূড়ান্ত আসরের বিচারকের পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা ব্যাখ্যা করা জরুরি মনে করছি।” বিচারক ওমর কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়—“ফাইনালের দুই দিন আগে ১৩৬ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে ৩০ জনকে প্রাক-নির্বাচনের জন্য একটি ‘গোপন ভোট’ নেওয়া হয়। যারা এই ভোট নিয়েছেন তারা জুরি বোর্ডের কোনো সদস্য নন। এখন পর্যন্ত কেউ জানেন না, নির্বাচিত সেই ৩০ জন কারা। একজন ব্যক্তির কাছে সেই তালিকাটি রয়েছে। এই ব্যক্তি অংশগ্রহণকারী একটি দেশের জাতীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত; যা স্পষ্টতই একটি ‘স্বার্থের সংঘাত’।” খানিকটা ব্যাখ্যা করে ওমর বলেন, “আমি জনসমক্ষে বা টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে এমন একটি ভোটকে বৈধতা দেওয়ার ভান করতে পারি না; যে ভোটে আমি অংশই নিইনি। এই প্রক্রিয়ায় যে দেশগুলো বাদ পড়েছে, তাদের মধ্যে কেউ যুদ্ধাবস্থায় থাকতে পারে, বৈষম্যের শিকার হতে পারে, অথবা ভূ-রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হতে পারে। দর্শকরা ধরে নিতেন যে, এই সিদ্ধান্তগুলো জুরি বোর্ড নিয়েছে এবং এমন একটি প্রক্রিয়ার দায় আমি নিতে পারি না, যেটিতে আমি যুক্তই ছিলাম না। এর বিপরীত অবস্থান নেওয়া অসৎ আচরণ হতো।” ওমর এখানেই থেমে যাননি। এরপর আরো বেশ কয়েকটি পোস্ট দিয়েছেন ইনস্টাগ্রামে। মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশনের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের পরিকল্পনা করেছেন। এ বিষয়ে নিউ ইয়র্কের অন্যতম শীর্ষ আইন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পরামর্শ করেছেন বলেও জানান তিনি। ওমরের পদত্যাগের ঘোষণার এক ঘণ্টা পরে ফরাসি ফুটবল ম্যানেজার ক্লদ মাকেলেলে জুরি বোর্ড থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তবে এ বিচারক ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। মিস ইউনিভার্সের ৭৪তম আসর বসেছে থাইল্যান্ডে। এ আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তানজিয়া জামান মিথিলা। আগামী ২১ নভেম্বর এ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হবে।
৩২ নম্বরে বুলডোজার নিয়ে যাওয়া দলকে ‘রাজাকার’ বললেন শাওন

৩২ নম্বরে বুলডোজার নিয়ে যাওয়া দলকে ‘রাজাকার’ বললেন শাওন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফের আনা হয়েছে দুটি বুলডোজার। আজ সোমবার বেলা ১২টার দিকে ট্রাকে করে বুলডোজার দুটি নেওয়া হয়। সে সময় ট্রাকের ওপরে হাতে মাইক নিয়ে কয়েকজন তরুণকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে একজন বলেন ‘রেড জুলাই’ নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সেখানে বুলডোজার দুটি আনা হয়েছে। তবে ৩২ নম্বরে যারা বুলডোজার নিয়ে গেছে তাদের রাজাকার আখ্যা দিয়েছেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। দুটি বুলডোজার ধানমন্ডির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন শিরোনামের বিবিসি বাংলার একটি সংবাদের কার্ড শেয়ার করে শাওন লিখেছেন, ‘মনের ভয়ই আসল ভয় বুঝেছিস গাধার দল! বারবার ভেঙে, বারেবারে আগুন দিয়েও তোদের ভয় যায়নি… এই ভাঙা বাড়ির প্রতিটা ধূলিকণা যে বাংলাদেশের আকাশে বাতাসে মিশে আছে সেটাকে কীভাবে অস্বীকার করবিরে রাজাকার বাহিনী!’ ওই পোস্টে শাওন হ্যাশট্যাগ দিয়েছেন #তুই_রাজাকার ও #ধানমন্ডি_৩২ এর আগে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে’ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘটনার ছয় মাস পূর্তির দিন গত ৫ ফেব্রুয়ারি ‘বুলডোজার মিছিল’ কর্মসূচি থেকে ৩২ নম্বরের বাড়িটি ভাঙা হয়।
যেসব অভিযোগে মেহজাবীনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

যেসব অভিযোগে মেহজাবীনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত। ব্যবসায় অংশীদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২৭ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ করা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার’ অভিযোগে এ পরোয়ানা জারি করা হয়। ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক আফরোজা তানিয়া গত ১০ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার বাদী আমিরুল ইসলাম রোববার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির তথ্য নিশ্চিত করেন। আমিরুল বলেন, গত ১০ নভেম্বর মামলার আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার দিন ঠিক থাকলেও তারা আসেনি। এজন্য আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামি ১৮ ডিসেম্বর দিন ঠিক করেছে আদালত। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আমিরুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থে এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় আমিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে আজকে দিব, কালকে দিবো বলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপন করে। পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকালে পাওনা টাকা চাইতে যান তিনি। তাকে ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা বলেন ‘এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না। তোকে বাসার সামনে পুনরায় দেখলে জানে মেরে ফেলব’। এসব কথা বলে তারা আমিরুলকে জীবননাশের হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করার জন্য পরামর্শ দেয়। এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম গত ২৪ মার্চ বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। এদিকে গ্রেফতারি পরোয়ানার খবর উড়িয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন। অভিনেত্রী তার ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘অনলাইনে আমার নাম ব্যবহার করে কিছু ভিত্তিহীন ‘মামলা’ সংক্রান্ত খবর ছড়িয়ে পড়ছে। আমার সকল সাংবাদিক সহকর্মীদের প্রতি অনুরোধ, দয়া করে কোনো প্রকার যাচাইহীন ও সত্যতা-বিহীন সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকুন।
পরিচালকের বান্ধবী-স্ত্রী হতে চাননি বলেই দেশ ছেড়েছিলেন জয়া

পরিচালকের বান্ধবী-স্ত্রী হতে চাননি বলেই দেশ ছেড়েছিলেন জয়া অভিনয় দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে দুই বাংলায় নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন জয়া আহসান। ঢাকার মেয়ে হয়েও কলকাতার সিনেমায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করছেন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। তবে ঢালিউডে তাকে দেখা যায় তুলনামূলক কম। কেন এমনটা সে প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন সম্প্রতি এক পডকাস্টে। জয়া জানান, দেশে তিনি মনভরা কাজ পাচ্ছিলেন না। তাই শিল্পের প্রতি টান থেকেই কলকাতায় যাওয়া। তার ভাষায়, ‘তখন বাংলাদেশে আমি করতে পারি সে রকম কাজ পাচ্ছিলাম না। সেই কষ্টের জায়গা থেকে এবং শিল্পের প্রতি আমার প্যাশনের কারণেই কলকাতায় গিয়েছি। অভিনয় ছাড়া তো আমি কিছু করিনি বা পারি না। অভিনয় করতেই হতো আমাকে।’ দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে টিকে থাকতে অনেক সময় পরিচালকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকা লাগে এমন ইঙ্গিত দিয়ে জয়া বলেন, ‘যে পরিচালকদের জন্য আমি সব সময় হাজির থেকেছি তারা আমাকে প্রোপারলি ব্যবহার করেননি। বাংলাদেশে একটা সমস্যা, পরিচালকের হয় বান্ধবী থাকে, না হয় স্ত্রী। এটা আমার পক্ষে সম্ভব না। এসবে আমি যাইনি, যাবও না। তাই হয়তো আমাকে কর্নারড হতে হয়েছে। কিন্তু কলকাতায় তেমন হয়নি। সেখানে আউটসাইডার হয়েও তারা আমাকে গুরুত্ব দিয়েছে, আমার জন্য গল্প লিখেছে। আমার জন্য চরিত্র তৈরি করেছে।’ নারীশিল্পীকে কেন্দ্র করে সিনেমা নির্মাণে অনীহার কথাও তুলে ধরেন জয়া আহসান। তিনি বলেন, ‘এখনও বাংলাদেশে নারীকে কেন্দ্র করে কাজ করতে ভয় পান অনেক পরিচালক। করলেও হয় তার বান্ধবীকে নেবেন, না হয় স্ত্রীকে। অথবা কোনো মেগাস্টারকে নেবেন। একজন পিওর আর্টিস্টকে নিয়ে বাজি ধরতে চান না তারা। তবে এর বাইরেও অনেক প্রতিভাবান নির্মাতা আছেন যারা আমার কাছ থেকে বা আরও গুণী শিল্পীদের কাছ থেকে ভালো কাজ বের করতে পারতেন। কিন্তু করেননি।’ সর্বশেষ জয়া আহসান অভিনয় করেছেন বাংলাদেশ ও ইরানের যৌথ প্রযোজনার ‘ফেরেশতে’ সিনেমায়। ইরানি নির্মাতা মুর্তজা অতাশ পরিচালিত ছবিটিতে তার সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, শাহেদ আলী, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুমন ফারুক।
লালনের গান বিশ্বমঞ্চেও ছড়িয়েছেন ফরিদা পারভীন

লালনের গান বিশ্বমঞ্চেও ছড়িয়েছেন ফরিদা পারভীন দিদারুল আলম লালনকন্যা খ্যাত ফরিদা পারভীন, তিনি কেবল বাংলাদেশ নয়, লালনের গান ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বমঞ্চেও। লালনের গানে অসাধারণ গায়কী প্রতিভা ছিল তাঁর। তাইতো তিনি ‘লালন কন্যা’ ও লালনের গানের ‘সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে খ্যাত হন। লালন সাঁইয়ের ‘সত্য বল সুপথে চল’ ‘আমি অপার হয়ে বসে আছি, ‘বাড়ীর কাছে আরশীনগর’, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘জাত গেল জাত গেল বলে’, ‘মিলন হবে কত দিনে’, ‘সময় গেলে সাধন হবে না’, ‘তোমরা ভুলেই গেছো মল্লিকাদির নাম’ সহ অসংখ্য গানকে তিনি তাঁর গায়কী ঢঙ দিয়ে কালজয়ী করেছেন। তাঁর গীত এসব গান শ্রোতাদের দিয়েছে গভীর মগ্নতা। লালনের আধ্যাত্মিক ও মানবতাবাদী দর্শন তাঁর কণ্ঠমাধুর্যে আরো তীব্র ও গভীর হয়ে উঠেছে যা মানবাত্মাকে করেছে সমৃদ্ধ। ফরিদা পারভীন ২০০১ সালে জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লালনের গানকে পরিচিত করে তোলেন। এছাড়া সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি তাঁর কণ্ঠ দিয়ে ছড়িয়েছেন লালনের দর্শন। তাঁর কণ্ঠে লালনের গান কেবল সংগীত নয়, হয়ে উঠেছে এক অনন্য জীবনদর্শন। পরে তিনি গড়ে তোলেন ‘ফরিদা পারভীন ট্রাস্ট’, যার লক্ষ্য ছিল লালনের গান সংরক্ষণ, স্বরলিপি তৈরি এবং বাদ্যযন্ত্রের আর্কাইভ তৈরি। ফরিদা পারভীনের রক্তে ছিল গান। তাঁর দাদি গান করতেন। বাবার ছিল গানের প্রতি অনুরাগ। ১৯৬৮ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে কিশোরী ফরিদা শুরু করেছিলেন পেশাদার সঙ্গীতজীবন। সেই থেকে শুরু, গতকাল অবসান হলো তাঁর ৫৫ বছরের এই বর্ণাঢ্য সঙ্গীতজীবনের। ফরিদা পারভীনের প্রয়াণের মধ্যদিয়ে লালনসঙ্গীতের সুধাময় এক কণ্ঠের পরিসমাপ্তি হলো। তবে তার ধারণকৃত কণ্ঠ বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মনকে প্রশান্তি দেবে অনন্ত কাল। লালনের গান গেয়ে ফরিদা পারভীন নিজেকে গগনস্পর্শী উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সুধীজনের কাছে তিনি লালনসম্রাজ্ঞী। দেশের গানেও ছিল তাঁর অনন্য কণ্ঠ। তাঁর গাওয়া ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’ গানটি আজও বাংলার মানুষকে স্মৃতিকাতর করে। নাটোরের সিংড়ায় জন্ম নেওয়া ফরিদা পারভীন ছোটবেলায় ছিলেন চঞ্চল প্রকৃতির। প্রায় সারাক্ষণ দৌড়ঝাঁপ আর খেলাধুলায় মেতে থাকতেন। দাদা ও নানাবাড়ির মাঝখানে ছিল এক নদ। আত্রাইয়ের সেই শাখানদের নাম ছিল গুর। ওই নদ পার হয়ে তরুণ ফরিদা দাদার বাড়ি থেকে নানার বাড়ি যেতেন। নানার বাড়ির পাশে বিরাট এক বিল ছিল। শৈশবে খেলার সঙ্গী মামাতো ভাইবোনদের সঙ্গে মিলে সেই বিলে শাপলা তুলতে যেতেন। ফরিদার শৈশবের সময়টা তার কেটেছে মাগুরায়। স্কুলজীবনের শুরুটাও সেখানে। সে সময় ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে তাঁর সঙ্গীতে হাতেখড়ি। বাবার চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় থেকেছেন। পড়তে হয়েছে বেশ কয়েকটি স্কুলে। পরে দীর্ঘদিন কুষ্টিয়া শহরে ছিলেন ফরিদা। কুষ্টিয়ার মীর মশাররফ হোসেন বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে কুষ্টিয়া গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসি এবং একই কলেজ থেকে স্নাতক। ওই শহরেই দীর্ঘদিন তিনি চর্চা করেছেন লালনগীতি। শৈশব থেকেই ফরিদা পারভীনের পছন্দ ছিল সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান। ১৯৬৮ সালে ফরিদা পারভীন রাজশাহী বেতারে নজরুলশিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর লালনগীতির সঙ্গে তার আত্মিক বন্ধন তৈরি হয়। তখন তিনি কুষ্টিয়ায়। সেখানে তাদের পারিবারিক বন্ধু ছিলেন মোকছেদ আলী সাঁই। ১৯৭৩ সালে ফরিদা পারভীন তার কাছেই ‘সত্য বল সুপথে চল’ গানটি শিখে লালন সাঁইজির গানের তালিম নেন। মোকছেদ আলী সাঁইয়ের মৃত্যুর পর খোদাবক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের কাছে লালনসঙ্গীত শেখেন তিনি। এরপর পুরোই মগ্ন হন লালনসঙ্গীতে। ফরিদা পারভীনের প্রথম স্বামী প্রখ্যাত গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী আবু জাফর। সেই সংসারে তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। জিহান ফারিয়া, ইমাম নিমেরি উপল, ইমাম নাহিল সুমন ও ইমাম নোমানি রাব্বি। তার দ্বিতীয় স্বামী বাঁশিশিল্পী গাজী আবদুল হাকিম। সঙ্গীতে অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে ফরিদা পারভীন একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে ‘অন্ধ প্রেম’ সিনেমায় ‘নিন্দার কাঁটা’ গানটির জন্য শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তিনি ২০০৮ সালে জাপানের সম্মানসূচক ফুকুওয়াকা পুরস্কার লাভ করেন। প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেন(ইন্নালিল্লাহি….রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্বামী ও চার সন্তান রেখে গেছেন। ফরিদা পারভীনের মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও সংস্কৃতি, মৎস উপদেষ্টাসহ অন্য উপদেষ্টাগণ শোক প্রকাশ করেছেন। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন ফরিদা পারভীন। তাকে সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করাতে হতো। নিয়মিত ডায়ালাইসিসের অংশ হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। তখন ডায়ালাইসিসের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তখন চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। এর পর থেকে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৫৪ সালে ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্ম নেওয়া ফরিদা পারভীন গানে গানে কাটিয়ে দিয়েছেন পুরোটা জীবন। সংগীত জীবনে তাঁকে পার হতে হয় অনেক চড়াই-উৎরাই। নানা ধরনের গান করলেও শিল্পীজীবনে পরিচিতি, জনপ্রিয়তা, অগণিত মানুষের ভালোবাসা মূলত লালন সাঁইয়ের গান গেয়েই। কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন চিরনিদ্রায় শায়িত হচ্ছেন কুষ্টিয়ায়। তাঁর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তারপর তাঁকে নেওয়া হচ্ছে কুষ্টিয়ায়। সেখানে বাদ মাগরিব নামাজে জানাজা শেষে কুষ্টিয়ার পৌর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। ফরিদা পারভীনের ছেলে ইমাম নিমেরি উপল সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাকে আমরা কুষ্টিয়ায় দাফন করব, তাঁর ইচ্ছে অনুযায়ী।’ সূত্র: বাসস