কোন তেল কতটা কীভাবে এবং কার জন্য বিশেষভাবে উপকারী

কোন তেল কতটা কীভাবে এবং কার জন্য বিশেষভাবে উপকারী আমাদের রান্নাঘরের দৈনন্দিন জীবনে তেল অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু কোন তেল কতটা, কীভাবে এবং কার জন্য উপকারী, এ বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো যায়। আধুনিক জীবনে হৃদরোগ, আর্থ্রাইটিস, স্থূলতা ও হরমোনজনিত নানা সমস্যার সঙ্গে খাদ্যতেলের ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাই সুস্থ থাকতে রান্নার তেল ও ঘি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত ধারণা থাকা জরুরি। তেল খাবারের স্বাদ বাড়ায়, শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির প্রধান উৎসও। কোষের গঠন ও স্থায়িত্ব বজায় রাখে। হরমোন তৈরিতে ভূমিকাও রাখে। ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলোর শোষণেও তেল অপরিহার্য। তাই আমাদের এমন তেল নির্বাচন করতে হবে, যেখানে মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি এবং পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের ভারসাম্য বজায় থাকে। রাইস ব্রান, সরিষা ও অলিভ অয়েল এ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প। এগুলো হৃদযন্ত্রের জন্য নিরাপদ এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। রান্নার সময় তেলের স্মোক পয়েন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তেল অতিরিক্ত গরম হলে এর ফ্যাটি অ্যাসিড ভেঙে গিয়ে ট্রান্স ফ্যাট ও ফ্রি র‌্যাডিক্যাল তৈরি হয়, যা কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং কোষের ক্ষতি করে। তাই বেশি তাপে রান্নার ক্ষেত্রে অবশ্যই উচ্চ স্মোক পয়েন্টের তেল ব্যবহার করা উচিত। বিভিন্ন তেলের পুষ্টিগুণ বিবেচনা করলে দেখা যায়, অলিভ অয়েল হালকা ভাজা, গ্রিল বা সালাদের জন্য উপযোগী এবং হৃদ?স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল বেশি তাপে ব্যবহার করা ঠিক নয়। সে ক্ষেত্রে লাইট অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যায়। সরিষার তেল বাঙালি রান্নার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটে সমৃদ্ধ এবং ভাজা, ঝাল বা ভর্তা- সব ধরনের রান্নাতেই মানানসই। সানফ্লাওয়ার অয়েল তুলনামূলক হালকা এবং এর স্মোক পয়েন্ট বেশি হওয়ায় ডিপ ফ্রাই, ফাস্ট ফুড কিংবা দৈনন্দিন রান্নার জন্য বেশ উপযোগী। রাইস ব্রান অয়েলের স্মোক পয়েন্ট খুব বেশি। ফলে ভাজাভাজির জন্য এটি আদর্শ এবং কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক। নারকেল তেল মাঝারি তাপে রান্না ও কারি জাতীয় খাবারের জন্য ভালো এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সয়াবিন তেল পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটে সমৃদ্ধ এবং মাঝারি থেকে উচ্চ স্মোক পয়েন্ট থাকায় সাধারণ ভাজা রান্নায় ব্যবহার করা যায়। তবে এতে অতিরিক্ত ওমেগা-৬ থাকায় বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে শরীরে ইনফ্লেমেশন বাড়তে পারে। ঘি আলাদা গুরুত্বের দাবিদার। এতে থাকা বিউটারিক অ্যাসিড অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে, হজমশক্তি বাড়ায় এবং ইমিউন সিস্টেমকে সহায়তা করে। পাশাপাশি এর স্মোক পয়েন্টও তুলনামূলকভাবে বেশি। তেল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন রান্নার জন্য সানফ্লাওয়ার বা রাইস ব্রান তেল ভালো, স্বাদের জন্য সরিষার তেল উপযুক্ত আর হালকা রান্না বা স্বাস্থ্যসচেতনদের জন্য অলিভ অয়েল কার্যকর। কিছু সতর্কতা মনে রাখা জরুরি। একই তেল বারবার গরম করা উচিত নয়, ডিপ ফ্রাইয়ের পরিমাণ কমাতে হবে এবং এক ধরনের তেলের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন তেল পালাক্রমে ব্যবহার করা ভালো। ‘লো ফ্যাট’ খাবারের ধারণার চেয়ে ‘রাইট ফ্যাট’ বা সঠিক চর্বি বেছে নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সবশেষে বলা যায়, তেল কম খাওয়ার চেয়ে বেশি জরুরি হলো, সঠিক তেল সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করা। লেখক : পুষ্টিবিদ, ফারজানা ওয়াহাব আমাদের রান্নাঘরের দৈনন্দিন জীবনে তেল অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু কোন তেল কতটা, কীভাবে এবং কার জন্য উপকারী, এ বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো যায়। আধুনিক জীবনে হৃদরোগ, আর্থ্রাইটিস, স্থূলতা ও হরমোনজনিত নানা সমস্যার সঙ্গে খাদ্যতেলের ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাই সুস্থ থাকতে রান্নার তেল ও ঘি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত ধারণা থাকা জরুরি। তেল খাবারের স্বাদ বাড়ায়, শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির প্রধান উৎসও। কোষের গঠন ও স্থায়িত্ব বজায় রাখে। হরমোন তৈরিতে ভূমিকাও রাখে। ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলোর শোষণেও তেল অপরিহার্য। তাই আমাদের এমন তেল নির্বাচন করতে হবে, যেখানে মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি এবং পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের ভারসাম্য বজায় থাকে। রাইস ব্রান, সরিষা ও অলিভ অয়েল এ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প। এগুলো হৃদযন্ত্রের জন্য নিরাপদ এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। রান্নার সময় তেলের স্মোক পয়েন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তেল অতিরিক্ত গরম হলে এর ফ্যাটি অ্যাসিড ভেঙে গিয়ে ট্রান্স ফ্যাট ও ফ্রি র‌্যাডিক্যাল তৈরি হয়, যা কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং কোষের ক্ষতি করে। তাই বেশি তাপে রান্নার ক্ষেত্রে অবশ্যই উচ্চ স্মোক পয়েন্টের তেল ব্যবহার করা উচিত। বিভিন্ন তেলের পুষ্টিগুণ বিবেচনা করলে দেখা যায়, অলিভ অয়েল হালকা ভাজা, গ্রিল বা সালাদের জন্য উপযোগী এবং হৃদ?স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল বেশি তাপে ব্যবহার করা ঠিক নয়। সে ক্ষেত্রে লাইট অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যায়। সরিষার তেল বাঙালি রান্নার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটে সমৃদ্ধ এবং ভাজা, ঝাল বা ভর্তা- সব ধরনের রান্নাতেই মানানসই। সানফ্লাওয়ার অয়েল তুলনামূলক হালকা এবং এর স্মোক পয়েন্ট বেশি হওয়ায় ডিপ ফ্রাই, ফাস্ট ফুড কিংবা দৈনন্দিন রান্নার জন্য বেশ উপযোগী। রাইস ব্রান অয়েলের স্মোক পয়েন্ট খুব বেশি। ফলে ভাজাভাজির জন্য এটি আদর্শ এবং কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক। নারকেল তেল মাঝারি তাপে রান্না ও কারি জাতীয় খাবারের জন্য ভালো এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সয়াবিন তেল পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটে সমৃদ্ধ এবং মাঝারি থেকে উচ্চ স্মোক পয়েন্ট থাকায় সাধারণ ভাজা রান্নায় ব্যবহার করা যায়। তবে এতে অতিরিক্ত ওমেগা-৬ থাকায় বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে শরীরে ইনফ্লেমেশন বাড়তে পারে। ঘি আলাদা গুরুত্বের দাবিদার। এতে থাকা বিউটারিক অ্যাসিড অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে, হজমশক্তি বাড়ায় এবং ইমিউন সিস্টেমকে সহায়তা করে। পাশাপাশি এর স্মোক পয়েন্টও তুলনামূলকভাবে বেশি। তেল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন রান্নার জন্য সানফ্লাওয়ার বা রাইস ব্রান তেল ভালো, স্বাদের জন্য সরিষার তেল উপযুক্ত আর হালকা রান্না বা স্বাস্থ্যসচেতনদের জন্য অলিভ অয়েল কার্যকর। কিছু সতর্কতা মনে রাখা জরুরি। একই তেল বারবার গরম করা উচিত নয়, ডিপ ফ্রাইয়ের পরিমাণ কমাতে হবে এবং এক ধরনের তেলের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন তেল পালাক্রমে ব্যবহার করা ভালো। ‘লো ফ্যাট’ খাবারের ধারণার চেয়ে ‘রাইট ফ্যাট’ বা সঠিক চর্বি বেছে নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সবশেষে বলা যায়, তেল কম খাওয়ার চেয়ে বেশি জরুরি হলো, সঠিক তেল সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করা। লেখক : পুষ্টিবিদ, ফারজানা ওয়াহাব

রাতে মোজা পরে ঘুমানো উপকারী না ক্ষতিকর

রাতে মোজা পরে ঘুমানো উপকারী না ক্ষতিকর হাড়কাঁপানো এই শীতে রাতের বেলা হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে থাকে। অনেক সময় লেপ-কম্বল গায়ে দিয়ে শুলেও পা গরম হতে চায় না। অনেকেই তাই আরাম পেতে উলের বা সুতির মোজা পরে ঘুমাতে যান। কিন্তু এই অভ্যাসটি শরীরের জন্য কি আদৌ উপকারী? চিকিৎসকদের মতে, মোজা পরে ঘুমানোর যেমন কিছু সুফল রয়েছে, তেমনি অসতর্ক থাকলে শরীরের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে। মোজা পরে ঘুমানোর সুফল দ্রুত ঘুম আসতে সাহায্য করে: গবেষণায় দেখা গেছে, পা গরম থাকলে শরীরের রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়। এটি মস্তিষ্ককে সংকেত দেয় যে এখন ঘুমানোর সময়। ফলে যারা অনিদ্রায় ভোগেন, তাদের দ্রুত ঘুম আসে। পায়ের গোড়ালি ফাটা রোধ: শীতকালে অনেকেরই পা ফাটার সমস্যা বাড়ে। রাতে পায়ে ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে মোজা পরলে পায়ের আর্দ্রতা বজায় থাকে। চামড়াও হয় নরম। রেনল্ডস ডিজিজ প্রতিরোধ: অনেকেরই ঠান্ডায় আঙুল নীল হয়ে যায় বা অবশ লাগে। মোজা পরলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে । ফলে এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি কমে। মোজা পরে ঘুমানোর ঝুঁকি রক্ত সঞ্চালনে বাধা: অতিরিক্ত টাইট বা ইলাস্টিকযুক্ত মোজা পরে ঘুমালে পায়ে রক্ত চলাচলে সমস্যা হতে পারে। এর ফলে পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা বা ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে। সংক্রমণের ঝুঁকি: নোংরা বা সারাদিন পরে থাকা মোজা পরে ঘুমালে ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাক ঘটিত সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়া সিন্থেটিক মোজায় পা অতিরিক্ত ঘেমে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি: শিশুদের ক্ষেত্রে মোজা পরে ঘুমালে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। এটি তাদের শরীরে অস্বস্তি তৈরি করে। নিরাপদ থাকবেন যেভাবে শীতে মোজা পরে ঘুমাতে চাইলে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। যেমন- ঢিলেঢালা মোজা বাছুন: খুব বেশি টাইট এমন মোজা এড়িয়ে চলুন। সাধারণ সুতির বা নরম উলের ঢিলেঢালা মোজা সবচেয়ে ভালো। পরিচ্ছন্নতা: সবসময় পরিষ্কার এবং শুকনো মোজা ব্যবহার করুন। দিনের বেলা যে মোজা পরে বাইরে যান সেটি পরে কখনওই বিছানায় যাওয়া ঠিক নয। পা পরিষ্কার রাখুন: ঘুমানোর আগে পা ভালো করে ধুয়ে ও মুছে শুকিয়ে নিন। পা ভেজা থাকলে মোজা পরা ঠিক নয়। বিকল্প পদ্ধতি: যাদের মোজা পরলে অস্বস্তি হয়, তারা ঘুমানোর আগে কুসুম কুসুম গরম পানিতে পা ধুয়ে নিতে পারেন অথবা বিছানায় গরম পানির ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন।

ব্রেড কাটলেট তৈরির সহজ রেসিপি

ব্রেড কাটলেট তৈরির সহজ রেসিপি শীতের বিকেলে মুখরোচক কিছু খেতে আমাদের সবারই ইচ্ছা করে। তবে বাইরে থেকে কিনে আনা পুরি কিংবা পিঁয়াজু আপনার কল্পনার থেকেও বেশি অস্বাস্থ্যকর হতে পারে। এ ধরনের খাবার যত কম খাওয়া যায়, ততই ভালো। তবে মাঝে মাঝে বাড়িতে তৈরি করে খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কম থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ব্রেড কাটলেট তৈরির সহজ রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে পাউরুটি- ৮ স্লাইস ডিম- ১টি ধনিয়া পাতা কুচি- পরিমাণমতো পেঁয়াজ কুচি- পরিমাণমতো কাঁচা মরিচ কুচি- পরিমাণমতো লবণ- পরিমাণমতো গরম মসলা গুঁড়া- ২ চা চামচ বেসন- সামান্য। যেভাবে তৈরি করবেন পাউরুটির টুকরাগুলোকে পানিতে ভিজিয়ে নরম করে নিন। এরপর পানি খুব ভালোভাবে চিপে ঝরিয়ে নিন। এখন একটি বাটিতে নরম করা পাউরুটির সঙ্গে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ধনিয়া পাতা কুচি দিন। গরম মসলা গুঁড়া ও ডিম ফেটিয়ে দিন। লবণ পরিমাণমতো দিন, সামান্য বেসন দিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। চুলায় প্যান বসিয়ে পরিমাণমতো তেল দিয়ে তাতে মিশ্রণ থেকে কাটলেটের আকৃতি দিয়ে মচমচে করে ভেজে তুলুন সুস্বাদু ব্রেড কাটলেট।

এক টুনা মাছের দাম ৩৯ কোটি টাকা!

এক টুনা মাছের দাম ৩৯ কোটি টাকা! জাপানের রাজধানী টোকিওর তোয়োসু মাছবাজারে একটি বিশাল ব্লুফিন টুনা মাছ ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বছরের প্রথম নিলামেই মাছটি রেকর্ড ৫১০ দশমিক ৩ মিলিয়ন ইয়েন বা ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৯ কোটি টাকায় বিক্রি হয়। ২৪৩ কেজি ওজনের টুনা মাছটি কিনে নিয়েছে কিয়োমুরা করপোরেশন। জনপ্রিয় সুশি চেইন ‘সুশি জানমাই’-এর পরিচালনাকারী এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা জাপানের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত। কোম্পানির প্রেসিডেন্ট কিয়োশি কিমুরা বলেন, “বছরের প্রথম টুনা সৌভাগ্য বয়ে আনে।” স্থানীয় বার্তা সংস্থা কিয়োডোর বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, নববর্ষের এই বার্ষিক নিলামে কিমুরা নিয়মিত মুখ। ‘টুনা কিং’ নামে পরিচিত কিমুরা নববর্ষের নিলামে সর্বোচ্চ দামে ব্লুফিন টুনা কেনার জন্য সুপরিচিত। নিলাম শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ভেবেছিলাম একটু কম দামে কিনতে পারব, কিন্তু বুঝে ওঠার আগেই দাম হু হু করে বেড়ে গেল।” এর আগে ২০১২ সালে তিনি একটি ব্লুফিন টুনার জন্য ৫৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইয়েন এবং ২০১৩ সালে ১৫৫ মিলিয়ন ইয়েন খরচ করে রেকর্ড গড়েছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি ৩৩৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ইয়েন দিয়ে আরেকটি ব্লুফিন টুনা কেনেন, সেটিও রেকর্ডবই তোলপাড় করে। তখন সাংবাদিকদের কিমুরা বলেছিলেন, তিনি হয়তো ‘অতিরিক্তই করে ফেলেছেন’। কিন্তু বছর ছয়েক পরে এসে তিনি নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙলেন। টোকিওর তোয়োসু মাছবাজারে বছরের প্রথম নিলামে সাধারণত রেকর্ড দামে মাছ বিক্রি হয়। গত বছর নিলামের প্রথম টুনাটি ২০৭ মিলিয়ন ইয়েনে কিনে নেয় আরেকটি সুশি চেইন প্রতিষ্ঠান অনোদেরা গ্রুপ। নিলাম শেষ হওয়ার পরপরই মিলিয়ন ডলারের টুনাটি কিমুরার সুশি রেস্তোরাঁগুলোতে গ্রাহকদের পরিবেশন করা হয়। কিমুরার রেস্তোরাঁয় উপস্থিত এক ক্রেতা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বছরের শুরুতে এমন কিছু খেতে পেরে আমার মনে হচ্ছে, বছরটা ভালোভাবেই শুরু হলো।” সূত্র: বিবিসি

শীতে খসখসে হাত ঘরোয়া যত্নেই ফিরুক নরম মসৃণ স্পর্শ

শীতে খসখসে হাত ঘরোয়া যত্নেই ফিরুক নরম মসৃণ স্পর্শ শীত এলেই ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দেয়। মুখের সঙ্গে সঙ্গে হাতের ত্বকও হয়ে ওঠে রুক্ষ ও খসখসে। অনেকের ক্ষেত্রে হাত ফাটা, সাদা সাদা খোসা ওঠা কিংবা জ্বালাপোড়ার সমস্যাও দেখা দেয়। তবে একটু যত্ন নিলেই শীতকালেও হাত রাখা যায় নরম ও সুন্দর। সবচেয়ে ভালো খবর হলো এই যত্নের বেশিরভাগ উপকরণই রয়েছে ঘরের হাতের কাছেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে ত্বকের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। তাই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিংয়ের পাশাপাশি সপ্তাহে এক-দু’দিন স্ক্রাব ও প্যাক ব্যবহার করলে হাতের ত্বক সুস্থ থাকে। জেনে নিন সহজ কিছু ঘরোয়া উপায় ১. চিনি ও অলিভ অয়েলের স্ক্রাব দুই চা-চামচ চিনি ও আধা চা-চামচ অলিভ অয়েল ভালো করে মিশিয়ে নিন। দু’মিনিট হাতে আলতো করে ম্যাসাজ করুন। এটি ডেড স্কিন তুলে ত্বককে মসৃণ করবে। এয়ারটাইট কৌটোয় রেখে এই স্ক্রাব বেশ কয়েকদিন ব্যবহার করা যায়। ২. আলু ও আমন্ড অয়েলের প্যাক একটি ছোট আলু সেদ্ধ করে ঠাণ্ডা হলে থেঁতো করুন। তার সঙ্গে এক চা-চামচ আমন্ড অয়েল মিশিয়ে হাতে লাগান। ১৫ মিনিট রেখে উষ্ণ জলে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক নরম হবে ও ফাটাভাব কমবে। ৩. রাতভর তেলের যত্ন ঘুমানোর আগে হাতে নারকেল তেল, ক্যাস্টর অয়েল বা অলিভ অয়েল লাগিয়ে নিন। এরপর কটন গ্লাভস পরে শুতে গেলে তেল ভালোভাবে শোষিত হবে এবং সকালে হাত থাকবে মসৃণ। ৪. ডিটারজেন্ট থেকে সুরক্ষা বাসন মাজা বা কড়া ডিটারজেন্ট ব্যবহারে হাত বেশি রুক্ষ হয়ে পড়ে। যারা নিয়মিত এসব কাজে যুক্ত, তারা অবশ্যই রাতে শোবার আগে হ্যান্ড ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করবেন। ৫. কলা ও দুধের সর পাকা কলা চটকে তার সঙ্গে সামান্য দুধের সর মিশিয়ে দু’হাতে লাগান। এটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকে উজ্জ্বলতাও বাড়ায়। ৬. হাতেও সানস্ক্রিন জরুরি বাইরে বেরোনোর সময় মুখে সানস্ক্রিন লাগালেও অনেকেই হাতে লাগাতে ভুলে যান। এর ফলে হাত দ্রুত ট্যান হয়ে যায়। মুখ ও ঘাড়ের পাশাপাশি হাতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করাও জরুরি। ৭. নখ ও কিউটিকলের যত্ন পুরনো নেলপালিশ তুলে ফেলুন। সময় পেলে ম্যানিকিওর করাতে পারেন। চাইলে ঘরেই নখের যত্ন নেওয়া যায়। ৮. কিউটিকল পরিষ্কার করার সহজ উপায় গরম পানিতে মাইল্ড শ্যাম্পু মিশিয়ে তাতে কিছুক্ষণ হাত ডুবিয়ে রাখুন। এরপর নরম ব্রাশ দিয়ে কিউটিকল পরিষ্কার করুন। শেষে ভালো করে হ্যান্ড ক্রিম লাগাতে ভুলবেন না। শীত মানেই রুক্ষ হাত নয়। নিয়মিত যত্ন ও ঘরোয়া টোটকায় সহজেই শীতকাল জুড়েই হাত রাখতে পারেন নরম, মসৃণ ও সুন্দর।

ক্রিসপি প্রন ফ্রাই তৈরির রেসিপি জেনে নিন

ক্রিসপি প্রন ফ্রাই তৈরির রেসিপি জেনে নিন বিকেলের নাস্তায় একটু মুখরোচক ক্রিসপি স্বাদের কিছু হলে জমে যায় বেশ। আপনি যদি কম ঝামেলায় সবচেয়ে সুস্বাদু কিছু তৈরি করতে চান তবে বেছে নিতে পারেন ক্রিসপি প্রন ফ্রাই। এটি যেমন ঝটপট তৈরি করা যাবে তেমনই খেতেও দারুণ সুস্বাদু। চলুন জেনে নেওয়া যাক ক্রিসপি প্রন ফ্রাই তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে চিংড়ি- ২৫০ গ্রাম মরিচের গুড়া- স্বাদমতো কর্ন ফ্লাওয়ার- ২ টেবিল চামচ গার্লিক পাউডার- সামান্য লবণ- পরিমাণমতো ময়দা- ৪ টেবিল চামচ ঠান্ডা পানি- প্রয়োজন অনুযায়ী তেল- ভাজার জন্য। যেভাবে তৈরি করবেন চিংড়িগুলো খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে নিন। এবার চিংড়ির সঙ্গে গার্লিক পাউডার, মরিচের গুঁড়া, লবণ দিয়ে মিশিয়ে রাখুন। অন্য একটি পাত্রে ময়দা, কর্নফ্লাওয়ার ও লবণ মিশিয়ে রাখুন। একটি পাত্রে ঠান্ডা পানি নিয়ে নিন। মেরিনেট করা চিংড়িগুলো প্রথমে ময়দার মিশ্রণে গড়িয়ে ঠান্ডা পানিতে ১০ সেকেন্ডের মতো ধরে রাখুন। এরপর তুলে নিয়ে আরও একবার এভাবে কোটিং করুন। সবগুলো তৈরি হয়ে গেলে ডুবো তেলে সোনালি করে ভেজে তুলুন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল সুস্বাদু ক্রিসপি প্রন ফ্রাই।

পুদিনা পাতার ভর্তা তৈরির রেসিপি

পুদিনা পাতার ভর্তা তৈরির রেসিপি পুদিনা পাতার স্বাদ ও গন্ধ অনেকের কাছেই প্রিয়। বিভিন্ন খাবারের স্বাদ ও সুঘ্রাণ বাড়াতে এই পাতা ব্যবহার করা হয়। এর সতেজ গন্ধ খাবারের রুচি বৃদ্ধি করে। আচ্ছা, আপনি কি কখনো পুদিনা পাতার ভর্তা খেয়েছেন? গরম ভাতে এই পাতার ভর্তা হলে জমে যায় বেশ। চলুন জেনে নেওয়া যাক পুদিনা পাতার ভর্তা তৈরির সহজ রেসিপি-তৈরি করতে যা লাগবে পুদিনা পাতা- ২ মুঠি পেঁয়াজ- ২টি কাঁচা মরিচ- স্বাদমতো লেবুর রস- ১ চা চামচ সরিষার তেল- ১ টেবিল চামচ লবণ- স্বাদমতো। যেভাবে তৈরি করবেন : পুদিনা পাতার ডাটা ফেলে শুধু পাতাগুলো নিন। এরপর ভালো করে ধুয়ে নিয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে মাখিয়ে নিতে পারেন। অথবা চাইলে হালকা ভেজে নিয়ে পাটায় বেটে বা ব্লেন্ডও করে নিতে পারেন। এভাবে ঝটপট তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু পুদিনা পাতার ভর্তা।

ত্বক তৈলাক্ত, শুষ্ক না স্পর্শকাতর

ত্বক তৈলাক্ত, শুষ্ক না স্পর্শকাতর রূপচর্চা করতে হয় ত্বকের ধরন অনুযায়ী। আবার ত্বক বুঝেই প্রসাধনী মাখতে হয়। নয়তো যত নামী ব্র্যান্ডের দামি প্রসাধনী মাখেন না কেন, আশানুরূপ কোনো পরিবর্তন চোখে পড়বে না। কালচে দাগ দূর হবে না, ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়বে না। তাই প্রসাধনী কেনার আগে নিজের ত্বকের ধরন জেনে নিন। কিন্তু খালি চোখে দেখে কি ত্বকের ধরন বোঝা সম্ভব? ত্বকের চিকিৎসকরা বলছেন, ত্বকের মোটামুটি পাঁচটি আলাদা আলাদা ধরন হতে পারে। যেমন- তেলতেলে ত্বক, শুষ্ক ত্বক, স্বাভাবিক ত্বক, কম্বিনেশন ত্বক ও সেনসিটিভ ত্বক। বাইরে থেকে বিশেষ কিছু লক্ষণ দেখে ত্বকের ধরন বোঝা সম্ভব। ব্লটিং পেপার টেস্ট ত্বকের ধরন কেমন, তা বোঝার জন্য ব্লটিং পেপার ব্যবহার করতে পারেন। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর ত্বকের বিভিন্ন জায়গায় ব্লটিং পেপার রাখুন। ত্বকের নিজস্ব তেল বা সেবামের পরিমাণ কেমন তা লক্ষ্য করুন। মুখে কাগজ স্পর্শ করানোর সঙ্গে সঙ্গেই যদি তা তেলতেলে হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত। যদি নাক ও তার আশপাশের অংশ থেকে ব্লটিং পেপারে তেল লাগে, তাহলে আপনি কম্বিনেশন ত্বকের অধিকারী। আর মুখের কোনো অংশ থেকে পেপারে বিশেষ তেল না লাগলে, ধরে নিতে পারেন আপনার ত্বক নরমাল। যাদের ত্বক শুষ্ক, তারা মুখে হাত দিয়ে দিয়েই বুঝতে পারবেন। আলাদা করে আর ব্লটিং পেপার ছোঁয়ানোর প্রয়োজন পড়বে না। ত্বকের প্রসাধনী কেনার আগে যদি এই পরীক্ষাটুকু করে নিজের ত্বকের ধরন জেনে নিতে পারেন, তাহলে আর কোনো ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। দাম দিয়ে প্রসাধনী কিনে তা ব্যবহার করতে না পারার আফসোসও থাকবে না।

‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপন শুরু করেছিলেন যে সম্রাট

‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপন শুরু করেছিলেন যে সম্রাট থার্টি ফার্স্ট নাইট হলো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ৩১শে ডিসেম্বরের শেষ রাত। এই রাতে নতুন বছরের প্রথম প্রহরকে স্বাগত জানানো হয়। শুরুটা হয়েছিলো পাশ্চাত্য খ্রিস্টীয় সংস্কৃতিতে, পরবর্তীতে দেশে দেশে শুরু হয় থার্টি ফার্স্ট উদযাপন। এই দিবস পালন প্রথম প্রবর্তন করেন জুলিয়াস সিজার। তিনি ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পরে নববর্ষ পালনের ক্ষণটি নির্দিষ্ট করেন। যদিও বর্তমানে এটি বিশ্বজুড়ে একটি বৈশ্বিক উৎসবের রূপ নিয়েছে, অনেকেই পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেন নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে। এক নজরে জুলিয়াস সিজারের জীবনী জুলিয়াস সিজার ছিলেন রোমান ইতিহাসের এমন এক চরিত্র- যার ব্যক্তিত্বে প্রতিফলিত হতো ভক্তি ও বিদ্বেষ, শ্রদ্ধা, আতঙ্ক—ও ভালোবাসা। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ যাকে উপেক্ষা করা সম্ভব ছিলো না। পরাজিত শত্রুদের তিনি ক্ষমা করতেন, সুযোগ দিতেন, এমনকি বহু শত্রুকেই পরে নিজের প্রশাসনে জায়গা করে দিতেন। কিন্তু এই উদারতা তাকে নিরাপদ করেনি। বরং অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, ‘‘সিজারের ক্ষমাশীলতাই শেষ পর্যন্ত তার হত্যার পথ প্রশস্ত করেছিল—কারণ যাদের তিনি ক্ষমা করেছিলেন, তাদের মধ্য থেকেই অনেকেই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল।’’ সিজারের সৈন্যরা তাকে গভীরভাবে ভালোবাসত ও শ্রদ্ধা করত। তিনি শুধু একজন সেনানায়কই ছিলেন না; তিনি ছিলেন সংগঠক, মনস্তত্ত্ববিদ এবং অনুপ্রেরণার উৎস। রাজনীতি ও সামরিক কৌশলে সিজারের প্রতিভা ছিল অসাধারণ। প্রশাসন পরিচালনা, যুদ্ধ পরিকল্পনা, জনসমর্থন আদায় এবং নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য। আধুনিক অর্থে যাকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলা হয়, সিজার তা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতেন—নিজের লেখা ও ভাষণের মাধ্যমে তিনি নিজেকেই ইতিহাসের নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। ইতিহাসবিদরা বলেন, ‘‘সিজারের মানবিকতাই তার রাজনৈতিক বাস্তবতাবোধকে কখনো কখনো দুর্বল করে তুলেছিল।’’ সাহিত্যিক হিসেবেও সিজার ব্যতিক্রমী। তার লেখা Commentaries on the Gallic War এবং Civil War শুধু ঐতিহাসিক দলিলই নয়, বরং ল্যাটিন সাহিত্যের উৎকৃষ্ট নিদর্শন। ভাষা ছিল সংযত, স্পষ্ট ও শক্তিশালী—অতিরঞ্জনহীন, অথচ গভীরভাবে প্রভাবশালী। যদিও এসব রচনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল, তবুও সাহিত্যগুণে সেগুলো অনন্য। সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল সিজারের অশেষ কর্মশক্তি। শারীরিক ও মানসিক—উভয় দিক থেকেই তিনি ছিলেন অদম্য। যুদ্ধের ময়দান, প্রশাসনিক সভা, দীর্ঘ সফর ও লেখালেখি—সবকিছু তিনি একসঙ্গে সামলাতে পারতেন। যুদ্ধ চলাকালীনও তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তার প্রাণশক্তির প্রকাশ ছিল স্পষ্ট। প্রেমের কারণে তিনি সমালোচিত হয়েছেন, বিশেষ করে মিসরের রানি ক্লিওপেট্রার সঙ্গে তার সম্পর্ক রোমের অভিজাতদের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভ তৈরি করেছিল। এই সম্পর্ক রাজনৈতিকভাবেও তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল। সূত্র: ব্রিটানিকা

দুই সন্তান থাকলে নারীদের মানসিক রোগের ঝুঁকি কমে: গবেষণা

দুই সন্তান থাকলে নারীদের মানসিক রোগের ঝুঁকি কমে: গবেষণা নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দুটি সন্তান থাকা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। চীনের সুচাউ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল যুক্তরাজ্যের ৫৫ হাজারেরও বেশি নারীর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যেসব নারীর সন্তান রয়েছে—বিশেষ করে দুটি সন্তান, তাদের মধ্যে বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও বিষণ্নতার মতো গুরুতর মানসিক রোগের ঝুঁকি সন্তানহীন নারীদের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম। বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘জার্নাল অব অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার্স’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, সন্তানের সংখ্যা শূন্য থেকে দুই পর্যন্ত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক রোগের ঝুঁকি ধাপে ধাপে হ্রাস পায়। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, সন্তানের সংখ্যা দুইয়ের বেশি হলে এই সুরক্ষামূলক প্রভাব আর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে না; বরং তা স্থিতিশীল হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘‘এই মানসিক সুরক্ষার পেছনে রয়েছে জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক—উভয় ধরনের কারণ।গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এসব হরমোন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং আবেগ ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘমেয়াদে এই হরমোনগত পরিবর্তনগুলো মুড ডিসঅর্ডারের বিরুদ্ধে একটি প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে।’’ মা–শিশুর বন্ধন ও মানসিক তৃপ্তি সন্তান জন্মের পর মা ও নবজাতকের মধ্যকার নিবিড় আবেগী বন্ধন এবং শিশুর যত্ন নেওয়ার প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের ‘ডোপামিন রিওয়ার্ড সিস্টেম’কে সক্রিয় করে। এর ফলে মায়ের মধ্যে গভীর মানসিক তৃপ্তি তৈরি হয়, যা বিষণ্নতা ও নেতিবাচক অনুভূতি দূরে রাখতে সহায়ক। দ্বিতীয় সন্তান হলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ‘‘দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে মায়েরা সাধারণত বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকেন। প্রথম সন্তানের সময় যে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা থাকে, তা অনেকটাই কমে যায়। দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায় উদ্বেগ ও মানসিক চাপও তুলনামূলকভাবে কম অনুভূত হয়।’’ বিশ্বজুড়ে যেখানে প্রজনন হার কমছে এবং একই সঙ্গে মানসিক রোগের প্রকোপ বাড়ছে—সেই বাস্তবতায় এই গবেষণার ফলাফল তাৎপর্যপূর্ণ। এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ‘‘১৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের একটি বড় অংশ মাঝারি থেকে মারাত্মক বিষণ্নতায় ভোগেন। এই প্রেক্ষাপটে দুটি সন্তানের মা হওয়া অনেক নারীর মানসিক সুস্থতার জন্য একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে।’’