কুমড়ার বীজ বেশি খেলে শরীরে যা ঘটে

কুমড়ার বীজ বেশি খেলে শরীরে যা ঘটে কুমড়োর বীজ ছোট, মুচমুচে এবং একসঙ্গে অনেক খেলেও অরুচি হয় না, যার ফলে ইচ্ছার চেয়ে বেশি খাওয়া খুব সহজ হয়ে যায়। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থে ভরপুর এই বীজ পরিমিত পরিমাণে খেলে বেশ কিছু উপকারিতা পাওয়া যায়। তবে বেশিরভাগ পুষ্টিকর খাবারের মতো কুমড়ার বীজও একসঙ্গে বেশি খেয়ে ফেললে আমাদের শরীর অস্বস্তি বোধ করতে পারে। অতিরিক্ত কুমড়ার বীজ খাওয়ার ফলে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কুমড়ার বীজ বেশি খেলে কী হয়- ১. পেট ফাঁপা এবং গ্যাস হতে পারে : কুমড়ার বীজে যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা পরিমিত পরিমাণে খেলে হজমে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত ফাইবার অন্ত্রকে চাপে ফেলতে পারে, যার ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং পেটে চাপ তৈরি হয়। জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অফ পাবলিক হেলথের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার গ্রহণকারীদের পেট ফাঁপা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কারণ ফাইবার অন্ত্রে গাঁজন বৃদ্ধি করে এবং উপজাত হিসেবে গ্যাস তৈরি করে। ২. কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া হতে পারে : কুমড়ার বীজ অতিরিক্ত খেলে স্বাভাবিক মলত্যাগ ব্যাহত হতে পারে কারণ এতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের ফাইবার থাকে। অত্যধিক অদ্রবণীয় ফাইবার অপাচ্য পদার্থকে খুব দ্রুত অন্ত্রের মধ্য দিয়ে ঠেলে দিতে পারে, যার ফলে আলগা মল তৈরি হয়। পর্যাপ্ত পানির অভাবে একই ফাইবার বর্জ্য পদার্থকে শক্ত করে কোষ্ঠকাঠিন্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে। ৩. পেটে ক্র্যাম্প এবং বদহজম : কুমড়ার বীজের একটি শক্ত বাইরের স্তর থাকে এবং এতে চর্বি থাকে যা পেট ভেঙে ফেলতে বেশি সময় নেয়। একবারে অনেক বেশি খাওয়ার ফলে পেটে ক্র্যাম্প, ভারী হওয়া বা বদহজম হতে পারে। কুমড়ার বীজ উষ্ণ প্রকৃতির এবং সংবেদনশীল পাচনতন্ত্রের লোকেদের অ্যাসিডিটি বা বদহজম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ৪. বেশি ক্যালোরি গ্রহণ : কুমড়ার বীজ পুষ্টিকর কিন্তু এতে ক্যালোরিও বেশি থাকে। এক কাপ ভাজা কুমড়ার বীজে প্রায় ২৮৫ ক্যালোরি থাকে, যা আপনার দৈনন্দিন চাহিদার চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণের দিকে নিয়ে যায়। যদি অতিরিক্ত খাওয়া অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে এই লুকানো ক্যালোরিগুলো ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে। ৫. সোডিয়াম গ্রহণকে বাড়িয়ে তুলতে পারে : অনেক প্যাকেজ করা কুমড়ার বীজ প্রচুর লবণাক্ত থাকে, যা অপ্রত্যাশিতভাবে উচ্চ সোডিয়াম গ্রহণের দিকে নিয়ে যায়। অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণের ফলে পানি ধরে রাখা, পেটফাঁপা এবং তৃষ্ণার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সাময়িকভাবে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
পেঁয়াজের রসের সঙ্গে কী মেশালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে

পেঁয়াজের রসের সঙ্গে কী মেশালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে চুলের যত্নে পেঁয়াজের ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক আগে থেকে। এতে থাকা সালফার মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। হেয়ার ফলিকল মজবুত করে। এখন শুধু চুলের যত্নেই নয়, রূপচর্চায়ও ব্যবহৃত হচ্ছে এ উপাদান। রূপবিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেঁয়াজের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা, তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে। তবে এর জন্য জানতে হবে পেঁয়াজের সঙ্গে কী মেশালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে এবং বলিরেখা দূর হবে। পেঁয়াজের রস ও মধু : পেঁয়াজের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিন। এই প্যাক মুখে মেখে মিনিট দশেক রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক মাখলে যেমন ত্বকের পোরস পরিষ্কার হবে, তেমনই বাড়বে রক্ত সঞ্চালন। পেঁয়াজের রস ও টক দই : পেঁয়াজের রসের সঙ্গে টক দই মিশিয়ে মুখে মাখলে আলাদা করে এক্সফোলিয়েট করার প্রয়োজন পড়বে না। ত্বকে জমে থাকা মৃত কোষ সহজেই উঠে যাবে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। পেঁয়াজের রস ও লেবুস : দ্রুত ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে পেঁয়াজের রসের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ মুখে মেখে মিনিট দশেক অপেক্ষা করুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। পেঁয়াজের রস ও অ্যালোভেরা : শুষ্ক খসখসে ত্বকে উজ্জ্বলতা বাড়াতে পেঁয়াজের রসের সঙ্গে মিশিয়ে নিন অ্যালোভেরা। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। পেঁয়াজের রস ও বেসন : তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা দূর করতে পেঁয়াজের রসের সঙ্গে বেসন মিশিয়ে নিন। এই প্যাক মুখে মাখুন। ত্বকের অতিরিক্ত সেবাম ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে এই মিশ্রণ। ত্বকের টেক্সচারও ভালো করে।
চুলকানি ত্বকের ঘরোয়া সমাধান

চুলকানি ত্বকের ঘরোয়া সমাধান জীবনে একবারও ত্বকে চুলকানি হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবেনা হয়তো। খুব সাধারণ এই ব্যাপারটি অসহ্যকর একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় যখন ত্বকের চুলকানি বেড়ে যায়। অনেকেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আশ্রয় নেয় নানান মলম বা ক্রিমের যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। চুলকানি থেকে মুক্তি পাওয়ার আছে প্রাকৃতিক কিছু উপায়। ঘরোয়া এই উপায়গুলোতে খুব সহজেই ত্বকের ক্ষতি ছাড়াই চুলকানির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন আপনি। জেনে নিন চুলকানির ঘরোয়া কিছু প্রতিকার সম্পর্কে। লেবু: লেবুর রসে আছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা ত্বকের চুলকানি কমিয়ে দিতে সহায়তা করে। চুলকানির প্রতিকার পাওয়ার জন্য লেবুর রস ব্যবহার করাও খুব সহজ। ত্বকের যে স্থানে চুলকানি অনুভূত হচ্ছে সেখানে লেবুর রস লাগিয়ে শুকিয়ে ফেলুন। চুলকানি কমে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। তুলসী পাতা: তুলসী পাতায় আছে ইউজেনল যা একটি অ্যান্সথেটিক উপাদান। এই উপাদানটি চুলকানি কমিয়ে দিতে সহায়ক। এক মগ ফুটন্ত পানিতে ১৫/২০টি তুলসী পাতা জ্বাল দিয়ে নির্যাস বের করে নিন। এরপর একটি পরিষ্কার টাওয়েলে পানিটি লাগিয়ে হালকা গরম থাকা অবস্থাতেই চুলকানির স্থানে লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ আরাম অনুভূত হবে। পুদিনা পাতা: পুদিনা পাতারও আছে অ্যান্সথেটিক ও ইনফ্লেমেটরি উপাদান। চুলকানির প্রতিষেধক হিসেবে তাই পুদিনা পাতাও অত্যন্ত উপকারী। এক মগ ফুটন্ত পানিতে এক আউন্স পুদিনা পাতা জ্বাল দিয়ে নির্যাস তৈরি করে নিন। এরপর এই পানিটি চুলকানির স্থানে লাগিয়ে রাখুন। চুলকানি কমে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। অ্যালোভেরা: ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা ব্যবহারের কথা তো সবাই জানেন। চুলকানি প্রতিকারেও অ্যালোভেরার জুড়ি নেই। ত্বকের যে স্থানে চুলকানি হচ্ছে সেখানে একটি তাজা অ্যালোভেরা পাতা থেকে রস বের করে লাগিয়ে রাখুন। চুলকানি কমে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। বেকিং সোডা: বেকিং সোডা ত্বকের পিএইচ ভারসাম্যহীনতাকে মোকাবেলা করতে পারে এবং আপনার ত্বকের অ্যালার্জি প্রশমিত করতে প্রদাহ বিরোধী হিসাবে কাজ করে।
ত্বকের বয়স ধরে রাখুন প্রাকৃতিক উপায়ে

ত্বকের বয়স ধরে রাখুন প্রাকৃতিক উপায়ে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে ছাপ পড়ে ত্বকেও। কারণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে কোলাজেন নামক প্রোটিনের ঘাটতি দেখা যায়। যার ফলে স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে ঝুলে পড়ে ত্বক। মুখে দেখা দেয় বলিরেখা ও রিঙ্কেলস। তবে আধুনিক জীবনযাত্রার কারণেও অনেকের অল্প বয়সেই ত্বকে ভাঁজ পড়তে পারে। এ সমস্যা দূর করতে অনেকেই কেমিক্যালযুক্ত ক্রিম বা চিকিৎসার দিকে ঝুঁকে পড়েন। তবে প্রাকৃতিক উপায়েও বলিরেখা প্রতিরোধ ও কমানো সম্ভব। যেমন- নিয়মিত মুখে তেল বা ময়শ্চারাইজার ব্যবহার ত্বককে ময়শ্চারাইজ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, আমন্ড অয়েল বা আর্গন অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এ সব তেল ত্বককে গভীর ভাবে হাইড্রেট করে। এর ফলে ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়ে না । প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন দেহ ও ত্বকের হাইড্রেশন বজায় রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা জরুরি। শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন দূর করে ত্বককে ভিতর থেকে নরম ও উজ্জ্বল রাখে পানি। সেই সঙ্গে পুরনো মৃত কোষ সরিয়ে দেয়। সঠিক খাদ্যাভাস নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি, ই, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার যেমন ফল, শাক-সবজি, বাদাম এবং মাছ রাখুন। এগুলো ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচুন : সরাসরি সূর্যের আলো থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোলাজেন নষ্ট করে। এর ফলে ত্বকে বলিরেখা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ট্রেস কমানো : ত্বক সুন্দর রাখতে পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম প্রয়োজন। স্ট্রেস কমালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। নেই সঙ্গে বলিরেখার প্রবণতা কমে। প্রাকৃতিক ফেস মাস্ক ব্যবহার: মধু, অ্যালোভেরা জেল, নারকেল দুধ অথবা দই দিয়ে ফেস মাস্ক করলে ত্বক নরম ও টানটান থাকে। সপ্তাহে ২-৩ বার এই ধরনের মাস্ক মুখে লাগালে উপকার পাবেন। নিয়মিত ব্যায়াম ও মুখের ব্যায়াম: ব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। যার ফলে ত্বক সতেজ থাকে। এর পাশাপাশি মুখের বিশেষ ব্যায়াম করলে মুখের পেশি টোন করে, বলিরেখা কমে। এছাড়া মুখের ব্যায়াম করলে কোলাজেনের উৎপাদনও বাড়ে। এতে ত্বক থাকে টানটান ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।
সকালে খালি পেটে কালোজিরার ৮ উপকারিতা

সকালে খালি পেটে কালোজিরার ৮ উপকারিতা প্রতিদিন সকালে কালোজিরা খেলে জাদুকরী প্রভাব পড়বে আপনার শরীরে। সকাল সকাল খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যাবে। খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার পর গবেষণায় দেখা গেছে, এটি হজমে সাহায্য করে।এটি হজমকারী এনজাইমের উৎপাদন বাড়াতে পারে। এটি ফোলাভাব এবং গ্যাস কমাতেও সাহায্য করে। তাছাড়া কালোজিরা খাদ্য থেকে পুষ্টির শোষণ উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। আরও কী কী উপকার পেতে পারেন জেনে নিন- ১. রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে কালোজিরা। ২. বাতের ব্যথায় স্বস্তি দিতে সহয়তা করে এটি। ৩. সর্দি-কাশিতে আরাম পেতে কালোজিরা খুব উপকারী। ৪. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে। ৫. কাঁচা কালোজিরা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। ৬. হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। ৭. কাঁচা কালোজিরা খাওয়া পর গবেষণায় দেখা গেছে, তারা কিছু ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে, নির্দিষ্ট ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এবং এমনকি বিষণ্নতা এবং উদ্বেগের লক্ষণগুলিকে উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। ৮. কালোজিরা খনিজ, ভিটামিন এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি দুর্দান্ত উৎস।
গরুর মাংসের স্পাইসি কাবাব তৈরির রেসিপি

গরুর মাংসের স্পাইসি কাবাব তৈরির রেসিপি বিশেষ আয়োজনে কাবাব তো থাকেই। সেই কাবাব গরুর মাংসের হলে যেন কথাই নেই। আপনি যদি একটু মসলাদার কাবাব খেতে পছন্দ করেন তবে আপনার জন্য রয়েছে বিশেষ রেসিপি। গরুর মাংসের স্পাইসি কাবাব হলে যেকোনো আয়োজন-আপ্যায়ন জমে যাবে বেশ। চলুন জেনে নেওয়া যাক সুস্বাদু গরুর মাংসের স্পাইসি কাবাব তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে হাড় ছাড়া গরুর মাংস- আধা কেজি ছোলার ডাল বা বুটের ডাল- ২ কাপ আদা বাটা- ১ টেবিল চামচ রসুন বাটা- ১ টেবিল চামচ পেঁয়াজ কুচি- ২ টেবিল চামচ কাঁচা মরিচ কুচি- ২ টেবিল চামচ শুকনা মরিচ- ৪টি লবণ- পরিমাণমতো গোল মরিচের গুঁড়া- আধা চা চামচ গরম মসলার গুঁড়া- আধা চা চামচ ডিম- ১টি তেল- কাবাব ভাজার জন্য। যেভাবে তৈরি করবেন মাংসের টুকরাগুলো কিমা করে নিন। এবার প্রেশার কুকারে ২ কাপ পানিতে স্বাদ অনুযায়ী লবণ, আদা-রসুন বাটা, শুকনো মরিচ, গরম মশলার গুঁড়া, ছোলার ডাল ও মাংসের কিমা একসাথে দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। পানি শুকিয়ে মাংস ও ডাল নরম হয়ে গেলে ব্লেন্ডার বা শিলপাটায় ভালোভাবে বেটে নিতে হবে। এবার পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ কুচি, গোল মরিচের গুঁড়া, ডিম ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে ভালোভাবে কাবাবের মিশ্রণ বানিয়ে নিন। এবার পছন্দমতো শেইপে কাবাব বানিয়ে নিন। ফ্রায়িং প্যানে তেল গরম করতে দিন। তেল ভালোভাবে গরম হয়ে গেলে কাবাব এপিঠ ওপিঠ করে ভেজে নিন। খুব বেশি জোরে তাপ দিবেন না, এতে কাবাবগুলো পুড়ে যাবে।
ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি হলে নারীর শরীরে যেসব ক্ষতি হয়

ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি হলে নারীর শরীরে যেসব ক্ষতি হয় হাড়ের স্বাস্থ্য এবং শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে সামগ্রিক সুস্থতা বৃদ্ধি পর্যন্ত, ভিটামিন বি১২ নারীদের জন্য পুষ্টির একটি পাওয়ার হাউস। এই ভিটামিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এর ঘাটতি নারীদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমানভাবে প্রচলিত একটি সমস্যা। এটিকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ ক্লান্তি, চাপ বা হরমোনের ওঠানামার ফলাফল হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হয়। অবহেলিত আচরণ এবং সাধারণ সচেতনতার অভাবের ফলে বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যাকে নির্ণয় করা যায় না, যা সম্ভাব্যভাবে গুরুতর দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভিটামিন বি১২ এর অভাবের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলির মধ্যে কেবল দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিই নয় বরং রক্ত ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। এটি চুল এবং ত্বকের গুণমান হ্রাসের মতো শারীরিক সূচকের মাধ্যমেও প্রকাশিত হতে পারে। ভিটামিন বি১২ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের প্রতিবেদন অনুসারে, ভিটামিন বি১২ একটি অপরিহার্য পুষ্টি যা শরীরকে স্নায়ু কোষ এবং লোহিত রক্তকণিকা সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এটি ডিএনএ সংশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিবেচনা করার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানবদেহ নিজে থেকে ভিটামিন বি১২ তৈরি করে না। এর একমাত্র উৎস হলো আপনি যে খাবার এবং পানীয় গ্রহণ করেন, সেগুলো। ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি, ডিএনএ তৈরি এবং সুস্থ স্নায়ুতন্ত্রকে সহায়তা করে শরীরের সঠিকভাবে কার্যকারিতা নিশ্চিত করে। পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১২ শরীরকে অক্সিজেন পরিবহন, স্পষ্টভাবে চিন্তা করতে এবং কোষের ক্ষতি নিরাময়ে সহায়তা করে। ভিটামিন বি১২ এর মাত্রা কম হলে শরীরের এই কার্য সম্পাদনের ক্ষমতা ধীর হয়ে যায়, যার ফলে দৈনন্দিন জীবন এবং সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। কেন নারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন খাদ্যতালিকা, নির্দিষ্ট জৈবিক চাহিদা এবং ভিটামিন শোষণের সমস্যার ফলে নারীরা ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। যে নারীরা প্রাণিজ খাবার গ্রহণ করেন না তাদের ঘাটতির ঝুঁকি বেশি। বিভিন্ন হজমজনিত রোগে ভুগছেন অথবা যারা নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশনের ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ করছেন তারাও এই সমস্যার সম্মুখীন হন। লক্ষণ এবং সতর্কতা ভিটামিন বি১২ এর অভাব বিভিন্ন ধরণের শারীরিক এবং স্নায়বিক লক্ষণ উপস্থাপন করতে পারে, যার তীব্রতা বিভিন্ন রকম হতে পারে। ভিটামিন বি১২ এর অভাবের সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন লক্ষণগুলো জেনে নিন- * দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি এবং ক্রমাগত দুর্বলতা। * চুলের সমস্যা যেমন চুল পাতলা হওয়া, বর্ধিত ঝরে পড়া এবং চুল নিস্তেজ বা ভঙ্গুর। * ফ্যাকাশে রঙ এবং ঘন ঘন শ্বাসকষ্ট। * স্নায়ুসংক্রান্ত সমস্যা, যেমন ঘন ঘন মাথাব্যথা এবং মাথা ঘোরা। * প্যারেস্থেসিয়া, যার মধ্যে রয়েছে বাহু ও পায়ে অসাড়তা বা ঝিনঝিন অনুভূতি। * মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে সমস্যা এবং ভুলে যাওয়া। * জিহ্বার প্রদাহ এবং বারবার মুখের আলসার। চিকিৎসা না করা হলে এই অভাব মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা অস্বাভাবিক, বর্ধিত লোহিত রক্তকণিকা দ্বারা চিহ্নিত। ধীরে ধীরে স্নায়বিক জটিলতা আরও খারাপ হতে পারে; তাই এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শিশুর যে আচরণগুলো অস্বাভাবিক নয়

শিশুর যে আচরণগুলো অস্বাভাবিক নয় প্রতিটি বাবা-মায়েরই উদ্বেগ বোধ হয়, যখন তাদের সন্তান স্বাভাবিক আচরণের বাইরে কিছু করে। এটি মনে একটি বিরক্তিকর প্রশ্ন জাগায় যে – এই আচরণ কি স্বাভাবিক, নাকি আমার উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত? এই যুগে যেখানে তথ্যের ভার বেশি, তখন শৈশবের দৈনন্দিন আচরণ হঠাৎ করেই উদ্বেগজনক মনে হতে পারে। অন্য শিশুকে একটি মাইলফলক স্পর্শ করতে দেখে বা চুপচাপ বসে থাকতে দেখে ভাবা সহজ যে কেন আপনার নিজের সন্তান ঠিক বিপরীত করছে। জেনে নিন শিশুর কোন আচরণগুলো আসলে স্বাভাবিক- ১. নিজের সাথে কথা বলা খেলার সময় শিশুর প্রতিটি পদক্ষেপ বর্ণনা করতে বা কাল্পনিক বন্ধুদের সঙ্গে পূর্ণ কথোপকথন করতে দেখা খুবই সাধারণ। অনেক বাবা-মা চিন্তা করেন যে এটি একাকীত্বের ইঙ্গিত দেয়, কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই বিপরীত। এই স্ব-কথোপকথন শিশুদের চিন্তাভাবনা এবং কর্ম পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে এবং তাদের আত্ব্রে অনুভূতিগুলিকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। মনোবিজ্ঞানীরা স্ব-কথোপকথনকে একটি অত্যাধুনিক হাতিয়ার হিসেবে দেখেন যা ভাষা দক্ষতা তৈরি করে, স্বাধীনভাবে সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করে এবং সুস্থ কল্পনাশক্তি গড়ে তোলে। ২. হঠাৎ মেজাজের পরিবর্তন হঠাৎ মেজাজের পরিবর্তন শিশুদের মধ্যে দেখা যায় এমন আরেকটি সাধারণ বিষয়। এক মিনিটে আপনার শিশু আনন্দে হাসছে এবং পরের মিনিটে বিস্কুট ভেঙে যাওয়ার জন্য মেঝেতে বসে কাঁদছে, এটা খুবই স্বাভাবিক হতে পারে। এই মানসিক পরিবর্তনগুলো সাধারণ এবং শৈশবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আচরণ কারণ তখনও শিশুর মস্তিষ্ক জটিল অনুভূতিগুলো করতে শিখছে। ক্ষুধা, ক্লান্তি, অতিরিক্ত উত্তেজনা, এমনকী ছোটখাটো হতাশা শিশুদের হঠাৎ মেজাজের পরিবর্তনের কিছু সাধারণ কারণ। ৩. মাঝে মাঝে একাকীত্ব পছন্দ করা বাবা-মায়েরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন যখন তারা দেখেন যে তাদের সন্তান একা খেলতে চায়, তারা ভয় পান যে এটি সামাজিকভাবে দূরে থাকা বা দুঃখের লক্ষণ হতে পারে। নির্জনতা সুস্থ সৃজনশীলতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির লক্ষণ। একা সময় কাটানোর অভ্যাস শিশুকে তার নিজস্ব ধারণা অন্বেষণ করতে, কল্পনার জগতে ডুবে থাকতে এবং সামাজিক শক্তি রিচার্জ করতে সাহায্য করে। তবে কখনোই কারও সঙ্গে মিশতে না চাইলে ভিন্ন কথা। ৪. প্রশ্ন বা গল্প পুনরাবৃত্তি শিশুরা পুনরাবৃত্তি করতে এবং বারবার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পছন্দ করে যতক্ষণ না জিনিসগুলো তাদের মনে স্থির হয়ে যায়। বারবার প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করার বা একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার এই অভ্যাস শিশুর স্মৃতিশক্তিকে শক্তিশালী করে এবং নিরাপদ বোধ তৈরি করে। যদিও এটি মা-বাবার জন্য ধৈর্যের পরীক্ষা, তবে এটি একটি স্পষ্ট লক্ষণ যে শিশুটি শিখছে এবং পরিচিতদের মধ্যে সান্ত্বনা খুঁজছে। ৫. খাবার বেছে খাওয়া শিশুর বেছে খাবার খাওয়ার অভ্যাস মা-বাবার জন্য অনেক সময় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বাবা-মায়েরা তখন শিশুর বৃদ্ধি এবং পুষ্টি সম্পর্কে খুব বেশি চিন্তা করেন, তবে এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে মুখের শিশুর স্বাদ এবং সংবেদনশীল ধারণা ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। শিশুরা প্রথমে খাবারের গঠন এবং গন্ধ লক্ষ্য করে। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার শিশু স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে এবং খাবারে কিছুটা বৈচিত্র্য থাকবে, ততক্ষণ দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
ক্যারামেল ক্ষীর তৈরির রেসিপি জেনে নিন

ক্যারামেল ক্ষীর তৈরির রেসিপি জেনে নিন মিষ্টি খাবার খেতে ভালোবাসেন এমন যে কারও কাছে পছন্দের একটি খাবার হলো ক্ষীর। বিশেষ করে অতিথি আপ্যায়নে কিংবা কোনো ভালো খবরে মিষ্টিমুখ করানোর জন্য ক্ষীরের জনপ্রিয়তা সব সময়েই রয়েছে। আপনি কি কখনো ক্যারামেল ক্ষীর খেয়েছেন? এটি তৈরি করা খুবই সহজ। দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু। চলুন জেনে নেওয়া যাক ক্যারামেল ক্ষীর তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে চিনিগুঁড়া চাল- ১/৪ কাপ তরল দুধ- ১ লিটার চিনি- ১/২ কাপ ঘি- ১ টেবিল চামচ কাজুবাদাম- ১০-১২টি কিশমিশ-২ টেবিল চামচ পেস্তাবাদাম-২ টেবিল চামচ কাঠবাদাম- ১ টেবিল চামচ ঘি- ২ টেবিল চামচ। যেভাবে তৈরি করবেন চাল ধুয়ে আধা ঘণ্টার মতো ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ব্লেন্ডারে ভিজিয়ে রাখা চাল দিয়ে ৩-৪ সেকেন্ডের জন্য ব্লেন্ড করে নিন। একদম মসৃণ করবেন না, কিছুটা দানা দানা যেন থাকে। এবার একটি মোটা তলানিযুক্ত পাত্রে দুধ দিয়ে মিডিয়াম হিটে নাড়তে থাকুন। ফুটে ওঠার পর তাতে ব্লেন্ড করে রাখা চাল দিয়ে নাড়তে থাকুন। অন্য একটি প্যানে ঘি গরম করে কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম, কাঠবাদাম ও কিশমিশ দিয়ে ২-৩ মিনিট লো টু মিডিয়াম হিটে ভেজে তুলে রাখুন। এবার সেই প্যানে ১ টেবিল চামচ ঘি ও চিনি দিন। চিনি ক্যারামেলাইজড হয়ে গোল্ডেন ব্রাউন হয়ে গেলে তা ক্ষীরের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। চুলার আঁচ কমিয়ে দ্রুত নাড়তে হবে। ভালোভাবে মিশে গেলে নামিয়ে উপরে কিশমিশ ও বাদাম ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।
ঘুমের আগে যে ৪ অভ্যাসে সন্তান মেধাবী হবে

ঘুমের আগে যে ৪ অভ্যাসে সন্তান মেধাবী হবে শিশুদের বুদ্ধি বাড়াতে অঙ্ক, মাইন্ড গেইম যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। তবে ঘুমানোর আগে সন্তানের সঙ্গে কিছু কাজ নিয়মিত করলেও তার মেধার বিকাশ ঘটে। বিশেষ করে পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটে। আর বয়সের সঙ্গে এই বিকাশ বাড়তে থাকে। তাই ছোট থেকেই শিশুকে এমন কিছু অভ্যাস রপ্ত করান যেন তার বুদ্ধির বিকাশ ঘটে। গল্প বলুন ঘুমের আগে শিশুকে মোবাইল বা ট্যাবে বুঁদ করে রাখবেন না। ব্লু লাইট শিশুর মস্তিষ্ক ও চোখের উপর প্রভাব ফেলে। তাই ডিভাইস নিয়ে বিছানায় যাবেন না। তার বদলে গল্পের বই বেছে নিন। ছোট থেকেই সন্তানকে গল্প শোনান। আড়াই-তিন বছর বয়স থেকেই এ অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। বই পড়ার অভ্যাস সন্তান নিজেই যখন থেকে বই পড়তে পারবে, তখন থেকেই হাতে গল্পের বই তুলে দিন। তখন আপনি আর গল্প শোনাবেন না। বরং, সন্তানকে ঘুমানোর আগে বই পড়ার পরামর্শ দিন। ছোট থেকে এই অভ্যাস গড়ে তুললে ঘুমোনোর সময়ে আর মোবাইল ঘাঁটবে না। একসঙ্গে গল্প করুন ঘুমানোর আগে সন্তানের সঙ্গে গল্প করুন। বিশেষ করে সারাদিন সন্তানের কেমন কাটলো, পরের দিন স্কুলে কী কী কাজ রয়েছে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে গল্প করতে পারেন। দিনের শেষে এই ধরনের আলোচনা আপনাদের সম্পর্ককে আরো মজবুত করবে। মেডিটেশন রাতে ঘুমানোর আগে সন্তানকে মেডিটেশন বা ধ্যান করার অভ্যাস করান। অন্তত ১০ মিনিট মেডিটেশন অনুশীলন করাতে পারেন। এতে মন শান্ত হবে, একাগ্রতা ও মনোযোগ বাড়বে। পড়াশোনায় মন বসবে।